৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৫
সারা চৌধুরী
শুভ্রর মনের ভিতর কেমন জানি ব্যাথা হয়ে উঠে তাড়াহুড়ো করে নিচে লেবে সোফার পাশে আসতে যাবে ঠিক তখনই শুভ্রর চোখ পড়লো আনিতা বেগমের কোলে মাথা রাখা নিস্তব্ধ সারার দিকে।শুভ্রর বুকের ভিতর মুচড়ে উঠলো।শুভ্র ছুটে গিয়ে সারার সামনে গিয়ে বসে পড়লো,, দিক বেদিক না ভেবে ডাক্তার কে ফোন করে হসপিটালে নিতে চাইলো তবে আনিতা বেগম নিষেধ করলেন বললেন ডাক্তার বাসাই এসে চেক আপ করুক পরে নিয়ে যাবো হসপিটালে।
আনিতা বেগমের কথা শুনে শুভ্র সারাকে নিয়ে উপরে চলে এলো নিজের রুমে নিয়ে যেতে চাইলে আনিতা বেগম বাধা দিয়ে ফাতিহার রুমে নিয়ে যায়।বেশ কিছুক্ষন পর ডাক্তার এসে সারাকে চেক আপ করে বিপদ মুক্ত বলে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেয় সাথে স্যালাইন দিয়ে দেই।
বর্তমানে___
আনিস ও ফারুক তালুকদার আগামী কাল দেশে ফিরবে।কিন্তু আজ বাড়ির এই অবস্থা শুনে ফারুক তালুকদার এর মাথা খারাপ হয়ে গেছে।আরো যখন শুনেছে সারা অসুস্থ তখন তার রাগ বেড়ে গেছে।সারাকে নিজের মেয়ের মতো দেখেন তিনি সারা যখন তাকে বাবাই বলে ডাক দেই ফারুক তালুকদার এর মনে শান্তির বন্যা বয়ে যায়।
বাড়ির এ অবস্থার কথা শুনে আজকেই দেশে বিরতে চাইলো ফারুক তালুকদার তবে।আনিস তালুকদার তাকে বুজালেন যে যাওয়া মানে যাওয়া না সব জিনিস পত্র গোছাতেও আর এক ঝামেলা পোহাতে হবে তাকে।ফারুক তালুকদার আনিসের কথা বুজে নিশ্চুপ রইলেন।বাড়িতে কথা বলেও শান্তি লাগছে না।ফারুক তালুকদার অহনার বিষয় টা জেনে আরো বেশি চিন্তিত।
আরও গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন
এতোদিন পর হটাৎ অহনাকে সামনা সামনি দেখে শ্রাবনের মনে অনুশোচনা জাগে।যে মানুষটাকে হারানোর জন্য শুভ্রর কাছ থেকে সারাকে কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করলো সেই মানুষটাই তার সামনে।শ্রাবন আর অহনা দুজনেই খুবই ভালোবাসতো একে অপর কে।কিছু জিনিসে ভুল বুজা বুঝিতে আলাদা হয়ে যায় তারা।পরবর্তীতে জানতে পারে শুভ্র অহনা বিয়ে করেছে আর অহনা প্রেগনেন্ট সেখান থেকেই শ্রাবন এর রাগ শুভ্রর উপর।শ্রাবন যখন জানতে পারে অহনা আর নেই শুভ্র নতুন বিয়ে করেছে তখন থেকেই সেই মেয়েটাকে কেড়ে নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা যাগে শ্রাবন এর মাঝে।তবে সারাকে যেদিন দেখে সেদিন নিজের অজান্তেই খুব মায়া লাগে তবে শ্রাবন জানতো এ মায়া খনিকের।
সারাকে খুবই বাচ্চা লেগেছে শ্রাবনের কাছে নিজের হৃদয়ে যায়গা না দিলেও মনে দিয়েছে।স্রাবনের খুব কষ্ট হচ্ছে অহনা কে এতো কাছ থেকে দেখে বুকের ভিতরে এক চিন চিনে ব্যাথার অনুভুতি টের পাচ্ছে শ্রাবন।তবে শ্রাবনের মন আবারো খারাপ হয়ে যায়,, অহনা শুভ্রর বউ আর তাদের একটা মেয়েও আছে। তাহলে সারার কি হবে..?মেয়েটা কি এসব সহ্য করতে পারবে..?শ্রাবন এসব ভাবতে ভাবতেই পকেট থেকে সিগারেট বের করে লাইটার দিয়ে আগুন জালিয়ে বারান্দায় চলে গেলো।
ফাতিহা এই ধরে আট বার রিহানের নাম্বারে ফোন দিয়েছে প্রতি বারই সুইচড অফ বলছে।ফাতিহার মাথা চিন্তা ঢুকে যায়। কি হলো রিহানের কল ধরছে না কেন ফোন অফ কেন। ফাতিহার ভাবনার মাঝেই ফাতিহার হাতে থাকা ফোনটা কেপে উঠে ফাতিহা ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে রিহানের হাস্যজল একটা ছবি ভাসছে।হ্যা এটা ফাতিহা সেভ করেছিলো কিছুদিন আগে।
ফাতিহা তাড়াহুড়ো করে কল রিসিভ করে কানে দিতেই ওপাশ থেকে রিহান করুন সুরে বলে উঠলো…
-“প্লিজ রাগ করিও না জান,,ফোনের চার্জ ছিলো না মাত্র চার্জ এ বসিয়ে চালু করতেই তোমার এতো গুলো কল দেখে সাথে সাথে ব্যাক করেছি।
এদিকে রিহানের কন্ঠ শুনে ফাতিহা নিজের চোখের পানি ছেড়ে দেই। বাম হাতুর তালু দিয়ে চোখ মুছে কান্না ভেজা কন্ঠে বলে উঠে…
-“আমার কত চিন্তা হয়েছিলো জানেন আপনি..?
-“তুমি কি কাদছো…?
ফাতিহা নাক টেনে বলে উঠে…
-“চিন্তায় ফেলে বলে তুমি কি চিন্তিত..আর কাদিয়ে বলে উঠে কাদছো কেন..?
রিহান বুঝলো ফাতিহা কান্না করছে সাথে অভিমান ও জমেছে তাই রিহান ঠান্ডা কন্ঠে বলে উঠলো…
-“ফাতু’হহহহ..!
রিহানের মুখে এই ডাক টা শুনে ফাতিহার ভিতরে ঠান্ডা একটা স্রোত বয়ে গেলো। ফাতিহা কিছু বলার আগেই রিহান বললো….
-“জান কেদো না প্লিজ আমি খুব সরি আমি এবার থেকে সব সময় ফোনে চার্জ রাখবো প্রমিচ।
-“আপনি জানেন আমার কত টুকু চিন্তা হয়েছিলো…?
-“আরে পাগলী সরি তো আর হবে।
-“হতে হবে না বাই…?
-“আরে শুনো তো একটা জরুরি কথা..?
ফাতিহা কল কেটে দিতে যেয়েও রিহানের কথা শুনে আবার ফোন কানে নিয়ে বলে উঠে…
-“বলেন কি বলবেন..?
-“বলবো না যাও রাগ করছি তুমি কল কেটে দিতে যাচ্ছিলা।
-“বলবেন কি না..?
-“নাহ।।
রিহানের কথা শেষ হতেই ফাতিহা কল কেটে দিলো।ফাতিহার হটাৎ কেন জানি রাগ হলো নিজেও বুজলো না।হটাৎ মনে হতে লাগলো সে কোনো নাটকের শিকার নাতো।সে কোনো ভুল করছেনা তো। এদিকে রিহান ভেবেছিলো ফাতিহার রাগ ভাঙাবে তাই একটু মজা করলো আসলে বিকালে ফাতিহাকে কফি শপে দেখা করতে বলতে চেয়েছিলো সে।
তবে রিহানের আশায় এক বালতি ঠান্ডা পানি ঢেলে দিয়ে ফাতিহা কল কেটে দিয়েছে।রিহান তালুকদার বাড়ির কোনো ঘটনায় জানেনা।শুধু জানে অহনা যেহেতু এসেছে সেহেতু কিছু একটা ঝামেলা বাধবেই। তবে কি তার ধারনা নেই।রিহান ফোন্টা চার্জ এ ঠিক মতো দিয়ে শিস দিতে দিতে সাদের সিড়ির দিকে পা বাড়ালো।
অহনা এখোনো বসে আছে চুপচাপ।ফারুক তালুকদার এর আদেশ এর জন্য শুভ্র অহনাকে কিছু বলে নাই।শুভ্র ফুসছে।আনিতা আর সুমনা রান্না ঘরে চলে গেছে,,,আনিশা কে দিয়ে অহনাকে নিচের একটা রুমে পাঠিয়েছে অহনাকে থাকতে দেওয়ার জন্য। ফারুক তালুকদার এসে মিমাংসা করবে নয়তো অহনা যদি পুলিশ কেস করে তখন বিপদ বাড়বে বই কমবে না।তাই ফারুক তালুকদার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি বাড়ি এসে সব কিছু বিচার বিবেচনা করে দেখবেন।আর এখন আপাতত অহনা বাড়ির গেস্ট রুমে থাকতে দিতে।
আনিশা অহনাকে নিয়ে এসে সিড়ির পাশে একটা বেশ গোছালো রুমে নিয়ে গেলো অহনাকে।আনিশা অহনাকে দেখেছে।সেহেতু চিনতে কষ্ট হচ্ছে না।তবে সারার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে তার।বইয়ের পাতায় পড়েছে…
-“পুরুষ জাতি দ্বিতীয় বার ঘর বাধে প্রথম নারীকে মনে করেই।তবে প্রথম নারী যখন আবার ফিরে আসে তখন দ্বিতীয় নারীকে ছুড়ে মারে কোনো পরিত্যাক্ত ধ্বংসস্তুপ এ।
আনিশা জানে সারা এত টুকু সহ্য করতে না পেরে সেন্স হারিয়েছে।আর যখন অহনার সাথে সংসার করবে অরুকে সারার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে অহনার কাছে দিবে।অরু যখন অহনাকে আম্মু বলে ডাকবে তখন এই ছোট্ট সারা কিভাবে থাকবে।দুমড়ে মুচড়ে যাবে না তো।আনিশা অহনাকে রুমে দিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাইরে বেরিয়ে এসে রান্না ঘরের দিকে হাটা দেই।
রুম থেকে সবাই চলে যেতেই অর্ক শুভ্রমে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে…
-“শুভ্র শোন…?
শুভ্র তখন মাথায় হাত দিয়ে দৃষ্টি৷ মাটিতে রেখে ঝিমুচ্ছে।অর্কের কথা কানে যেতেই নিজের লাল লাল চোখ নিয়ে মাথা অল্প উচু করে অর্কের দিকে না তাকিয়েই বলে উঠে….
-“হুম বল কি বলবি..?
অর্ক বেশ ভেবে সারার দিকে তাকিয়ে আবার শুভ্রর দিকে দৃষ্টি রেখে বলে…
-“আগে বল সত্যি বলবি…?
অর্কের এমন কথা শুনে শুভ্র মাথা উচিয়ে অর্কের দিকে তাকায়।অর্ক শুভ্রর দিকেই চেয়ে ছিলো।শুভ্রর রক্ত বর্ন চোখ দেখে অর্ক শুকনো ঢোক।শুভ্র বেশ শান্ত কন্ঠেই বকে উঠে…
৪ বছরের চুক্তির মা পর্ব ৩৪
-“তোদের সাথে আমাকে মিথ্যা কথা বলতে শুনেছিস কখোনো।
-“না তা নই,, আচ্ছা তুই ঠিক আছিস তো চোখ লাল কেন এনো।
অর্কের কথা শুনে শুভ্র প্রসঙ্গ বদলাতে বলে উঠে… -“কি জিগাবি তাই বল আমার মাথা বেথা করছে তাই চোখ লাল।
অর্ক বেশ কিছুক্ষন পর বলে উঠলো…
-“আচ্ছা শুভ্র সারার বাড়ি কোথাই।। না মানে ওর বাবার বাড়ি কই।
শুভ্র অর্কের দিকে না তাকিয়েই বলে উঠে…
-“কেন কি দরকার…?
অর্ক সারার ঘুমনত স্যালাইন চলিত দুর্বল মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো…
-“না মানে আমার কেন জানি মনে হচ্ছে সারার…..
