Home বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৫

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৫

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৫
Muntaha jahan

–আ..আপনি?
–উমম!!চুপ কথা বলো না,ঘুমাতে দাও,কালকে সারারাত জার্নি করেছি!
–তো আপনি আপনার রুমে গিয়ে ঘুমান।এখানে কি? আর আমার রুমে আসলেন ই বা কি করে? সরুন,উফ! কি ভার আপনি!
এ পর্যায়ে এ্যাশ মাথা তুলে ভ্রু কুঁচকে তাহার দিকে তাকালো। নিজের ভর পুরোপুরি তাহার উপর দেয় নি। কিন্তু এখন তাহার কথায় উঠে গিয়ে আবার ও পুরো ভর তাহার উপর ছেড়ে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ওর গলায় মুখ গুঁজে শুয়ে পড়লো। তাহা আবার ও এ্যাশকে সরানোর চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না। তপ্ত শ্বাস ফেলে সেভাবেই শুয়ে রইলো। বেড সাইড টেবিল থেকে ফোনটা নিয়ে সময় দেখলো ৬ টা বাজে।

কিছু সময় পেরিয়ে গেলো দু’জনের মধ্যে কারো মুখেই কথা নেই। এ্যাশের ঘন ঘন নিঃশ্বাসের শব্দ শুনা যাচ্ছে। গরম নিঃশ্বাস তাহার গলায় পড়ায় বার হাসফাস করে উঠছে। তাহা মুখ নামিয়ে এ্যাশের দিকে তাকালো। চোখের পাতা মৃদু কাঁপছে এ্যাশের। তাহা ঢান হাত তুলে ছুঁতে গিয়ে ও হাত নামিয়ে নিলো ছুলো না। চোখ সরিয়ে জানালার দিকে তাকালো।পর্দার ফাঁক দিয়ে হালকা রোদ রুমের ভিতর এসে পড়ছে। তাহা সেদিকেই তাকিয়ে রইলো ধ্যান ধরে। এদিকে যে গাল ভিজে যাচ্ছে তার দিকে কোনো খবর নেই।।
সময় গড়িয়ে ঘড়ির কাটা ৮ টায় পড়তেই তাহা আর শান্ত থাকলো না,এ্যাশকে আবার ও ধাক্কাতে শুরু করলো। এক পর্যায়ে এ্যাশ বিরক্ত হয়ে ঘুৃম ঘুম চোখেই তাহার হাত বেডের সাথে চেপে ধরলো। ওর মুখের উপর ঝুঁকে চোখ খুলে ওর দিকে তাকালো। তাহা বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে। এ্যাশ তাহার মুখের উপর পড়ে থাকা বেবি হেয়ার গুলো ফু দিয়ে সরিয়ে দিয়ে ঘুম ঘুম কন্ঠে বললো

–কি হয়েছে আরিশা?এরকম কেনো করছো? ক্লান্ত আমি ঘুমাতে দাও প্লিজ।
ছেলেদের ঘুম ঘুম কন্ঠে একটা নেশা মেশানো থাকে।যা একটা মেয়েকে ঘায়েল করার জন্য যথেষ্ট।এই মুহুর্তে তাহা ও সেই নেশার মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। এ্যাশের ঘুম ঘুম কন্ঠের বিপরীতে কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না। মন চাইছে আবার ও সেই মাতাল করা কন্ঠটা শুনতে। তাহার মনের অবস্থা হয়তো বুঝলো এ্যাশ,আবার ও বললো
–কালকে থেকে কিছু খাইনি। বউয়ের হাতে বাঙালি খাবার খেতে ইচ্ছে করছে। ঝটপট আমার জন্য কিছু রান্না করে নিয়ো আসোতো বউ।
–পারবো না সরুন।
–দেখো আমি তোমার স্বামী হই স্বামীর সব কথা স্ত্রীকে শুনতে হয়। যাও খাবার বানিয়ে নিয়ে আসো। নয়তো এক চড় দিবো বিয়ের দিনের মতো।

–তো আমি কি বসে থাকবো?আমি ও দিবো সেদিনের মতো একটা।
–দেখো বেয়াদবি করবা না। স্বামীর সাথে বেয়াদবি করলে পাপ হয়।
–আর খুন খারাপি করলে পাপ হয় না?সেটাতে কি সওয়াব মিলে?
এ্যাশ একটা ভিলেন মার্কা হাসি দিয়ে তাহার শুকনো ঠোঁটে টুক করে একটা চুমু খেয়ে বললো
–তুমি বললে সেটা ছেড়ে দিবো।
–তাহলে আমি বলছি ছেড়ে দিন।
–আগে স্বীকার করো তুমি আমার বউ।
–আচ্ছা স্বীকার করলাম।
–কি স্বীকার করলে?
–আপনি যেটা বললেন সেটা।

–মুখে বলো। আমি আরিশা ইসলাম তাহা”আশতিয়াক খান এ্যাশের বউ” এরকম করে বলো
–আমি আরিশা ইসলাম তাহা আশতিয়াক খান এ্যাশের বউ।।
কথাটা বলতেই এ্যাশের ঠোঁটের হাসি আরো চওড়া হলো। তাহার হাত দুটো আরো শক্ত করে চেপে ধরে বললো
–তাহলে আগে বাসর করি তারপর খুন খারাপি ছাড়বো।
এ্যাশের কথাটা কানে শুনতেই গা জ্বলে উঠলো তাহার। এ লোক যে এতক্ষণ তার সাথে ফাজলামি করেছে ব্যাপারাটা চট করে বুঝে গেলো। শরীলের সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা দিলো ওকে। বেড থেকে নামতে নামতে চেচিয়ে বললো

–আপনার মতো ধান্দাবাজ লোক আমি আর দুটো দেখি নি। মিচকা শয়তান আপনি বের হন আমার রুম থেকে। অসভ্য পুরুষ।
এ্যাশের ওপাশে গিয়ে এ্যাশকে টেনে তুললো তাহা। এ্যাশ নিজের থেকেই উঠলো। বউ তার রোগা-সোগা তাকে টেনে তুলতে গেলে শক্তির অভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলবে যেটা এ্যাশ মোটেও সহ্য করতে পারবে নাহ। তাই অগত্যা নিজে উঠে গেলো। দরজা পর্যন্ত গিয়ে আবার ও ফিরে আসলো তাহার দিকে। তাহা ওয়াশরুমের উদ্দেশ্য পা বাড়িয়েছিলো এ্যাশকে আবার দেখে ভ্রু কুঁচকালো। জিজ্ঞেস করলো
–কি?আপ..
কথাটা শেষ করা হলো না তাহার,এ্যাশ নিজের কাজ শেষ করে ঝড়ের গতিতে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। তাহা ঠোঁটে হাত দিয়ে রাগি চোখে তাকিয়ে আছে। এ্যাশ দাঁড়িয়ে থাকলে আজকে ওর গালে আরেকটা চড় বসিয়ে দিতো নিশ্চিত। তাহা বিড়বিড় করে “অসভ্য লোক” বলে ওয়াশরুমে চলে গেলো!!

এই নিয়ে ৭ বার ফাহাদকে চা দিলো আরাবি। এবার ৮ নাম্বার বার ওর রুমের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। ঘুম থেকে উঠে ফাহাদকে দেখে চমকে ছিলো আরাবি। প্রথমে বিশ্বাস না করে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে ছিলো। তারপর যখন নিজের ভাইকে দেখলো তখন বিশ্বাস করলো।
এখন সময় ৯ টা সেই সাড়ে ৮ টা থেকে চা নিয়ে বার বার আসছে যাচ্ছে। বিরক্ত হচ্ছে এখন। মানুষ এতো চা কি করে খায়? চা প্রেমী মানুষ ও কি এতো চা খায়?আশ্চর্য। চা খেলে কি হয়?কই সে তো চা খায় না। খেতে ও পারে না। তাহলে এই লোক এতো চা কি করে খাচ্ছে আজ?রাক্ষসে ধরছে নাকি?
বিরক্ত নিয়ে দরজায় নক করলো। সাথে সাথেই খুলে গেলো দরজাটা জেনো দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে তারজন্য ই অপেক্ষা করছিলো। আরাবী ফাহাদের দিকে না তাকিয়ে চায়ের কাপটা বাড়িয়ে দিলো-

–এই নিন আপনার চা।
–Thanks। আর শুনেন?
চায়ের কাপটা ফাহাদ হাতে নিতে আরাবী পা বাড়িয়েছিলো যাওয়ার জন্য। ফাহাদ ডাকাতেই আবার দাঁড়িয়ে পড়লো।সেভাবেই জিজ্ঞেস করলো।
–কিহ?
–রুমটা একটু পরিষ্কার করে দিন।
আরাবী ভ্রু কুঁচকে ফাহাদের দিকে তাকালো। ফাহাদ নিচের দিকে তাকিয়ে আয়েশ করে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে।
–রুমতো পরিষ্কার করা ই।
ফাহাদ চোখ তুলে সরাসরি তাকালো আরাবী চোখের দিকে। এক মুহুর্তের জন্য থমকে গেলো আরাবী। মিনিট খানিক একধ্যানে ফাহাদের চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে রইলো। ফাহাদ সামান্য হাসলো ঠোঁট বাঁকিয়ে। চায়ের কাপে আরেকটা চুমুক দিয়ে বললো
–রুমটা একটু অপরিষ্কার যেটা আমার পছন্দ না। আপনি একটু পরিষ্কার করে দিয়ে যান।
ফাহাদের কথায় ধ্যান ভাঙে আরাবীর। চোখ নামিয়ে আশেপাশে তাকায়। এই লোক আগের বার কি করেছিলো মনে নেই?তারপর নির্লজ্জের মতো এরদিকে তাকিয়ে আছি আমি? নিজের কপালে আলতো হাতে চাপড় দিয়ে বললো

–আমি কাজের লোক পাঠিয়ে দিচ্ছি।
–আমার কাজ কাজের লোক করবে এটা আমার পছন্দ না আরা। আপনি করে দিয়ে যান। মেহমানের আপ্যায়ন করতে জানেন না আপনি?
ফাহাদের কথায় আর কিছু বললো না আরাবী। রাগে ফোঁস ফোঁস করে ফাহাদকে পাশ কাটিয়ে রুমে ডুকে গেলো। ফাহাদ বাঁকা হেসে রুমের দরজাটা হালকা চাপিয়ে নিজেও গেলো রুমের ভিতর।
ফাহাদরা সকালে আসছে। এ্যাশকে নিজের রুম দিলেও ফাহাদকে গেস্ট রুমে পাঠানো হয়েছে। সেই রুম পরিষ্কার। সেখানে ময়লা থাকার কথা না।সেখানে ফাহাদ কি করে ময়লা পাচ্ছে এটা ভেবেই বিরক্ত আরাবী। রুমে এসে তাকাতেই দেখলো রুম একদম ফকফকে পরিষ্কার কোথাও কোনো ময়লা নেই। আরাবী রাগ নিয়ে ফাহাদের দিকে তাকাতেই জমে গেলো। কেননা ফাহাদ একদম ওর কাছে দাঁড়িয়ে আছে। আরাবী ফাহাদের দিকে তাকিয়ে পিছনের দিকে সরে গেলো। ফাহাদকে পাশ কাটিয়ে যেতে চাইলেই আবার পথ আটকালো ফাহাদ। আরাবী ফাহাদের দিকে তাকিয়ে ভয়ে ভয়ে ঢোক গিললো। কাঁপা কন্ঠে বললো

–র..রুম তো পরিষ্কার আ..আছে। সরু..ন আমি যাই।
–বাইরে যাওয়ার এতো তাড়া কেনো?এখানে একটু দাঁড়ান একটু দেখি আপনাকে।
কথাটা বলতে বলতেই এগুতে লাগলো ফাহাদ আর আরাবী পিছাতে। পিছাতে পিছাতে একদম দেয়ালে লাগতেই ফাহাদ দুপাশে হাত দিয়ে আরাবীকে আটকালো। আরাবী বারবার ঢোক গিলছে। চোখ খিঁচে হাত শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছে।ফাহাদের দিকে তাকানোর সাহস পাচ্ছে নাহ। কিছুক্ষণের মধ্যে নিজের গাড়ের উপর তপ্ত শ্বাস পড়তেই আরো জমে গেলো আরাবী। হাত দিয়ে ফাহাদকে ধাক্কা দেওয়ার আগেই ফাহাদ মাথা তুলে নিলো। আরাবীকে দিকে তাকিয়ে শব্দ করে হেঁসে ফেললো। সেই হাসির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আরাবী। ফাহাদ হাসলে ওর দুই গালে ঢোল পড়ে। ফাহাদকে এর আগে নিজের বিয়ের সময় দেখেছিলো তখন এভাবে হাসে নি। এই প্রথম ওকে হাসতে দেখলো আরাবী। কখন যে নিজের ঠোঁটে ও হাসি ফুটলো টের পেলো না।
ফাহাদ হাসি থামিয়ে বললো

–আপনি ভয় পেলে আপনাকে মারাত্মক সুন্দর লাগে মিস। আপনি কিন্তু মারাত্মক সুন্দর।
ফাহাদের কথায় সামান্য লজ্জা পেলো আরাবী নিচের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরলো। ফাহাদের এর আগের ঘটনাটা বেমালুম ভুলে গেলো। হঠাৎ বাইরে থেকে নিজের ভাইয়ের গলা শুনতেই থমকে গেলো আরাবী। চোখ বড় বড় করে ফাহাদের দিকে তাকালো। অথচ ফাহাদ নিলিপ্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে।
–আপনি সরে দাঁড়ান ভাইয়া আসছে।
–তো?
–তো মানে?এভাবে আমাদের দেখলে কি ভাববে ভাইয়া?
–কি ভাববে?
তাদের কথার মধ্যেই রুমে ডুকলো এ্যাশ
–ফাহাদ শুন নি…
ফাহাদের রুমে আরাবিকে দেখে মুখের কথা গিলে ফেললো এ্যাশ। ফাহাদ এ্যাশের দিকে তাকালো। এ্যাশের মুখ দেখে বুঝার উপায় নেই রেগে গেছে কি না। এ্যাশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে গম্ভীর কন্ঠে বললো

–আরু যা এখান থেকে। ফাহাদ ওকে যেতে দাও।
এ্যাশের কথা শুনতেই সরে দাঁড়ালো ফাহাদ। আরাবী এ্যাশ আসার পর থেকেই নিচের দিকে তাকিয়ে। ফাহাদ সরতেই মাথা নিচু রেখেই বড় বড় পা ফেলে বাহিরে চলে গেলো। এ্যাশ ফাহাদের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো
–নিলরা একটু পর এয়ারপোর্টে আসবে। আমাদের সেখানে যেতে হবে। সেখান থেকেই ওর সাথে ওর বাড়ি যাবো। তাই তৈরি হয়ে থেকো।

নিলের বোন নিলার বিয়ে কালকে। এ্যাশ ভেবেছিলো আসবে না। কিন্তু তাহার সেদিনের কান্না আর অনেকদিন দেখে নি। দেশে কোনদিন আসবে না আসবে সেজন্য চলে আসলো। এ্যাশ ফাহাদ সিঙ্গাপুর থেকে সোজা এখানে এসেছে। আর ফাহাদরা এ্যাশের বাড়ি থেকে সোজা দেশে আসবে তাই আলাদা আলাদা সবাই।
১১ টা বাজতেই এ্যাশ ফাহাদ চলে গেছে এয়ারপোর্টে। আর এখানে আসবে না বলে গেছে। এ্যাশ নিজের বাবার সাথে বা এই বাড়ির আর কারো সাথে দেখা করে নি।বাড়ি আসার পর নিজের রুমেই ছিলো সারাক্ষণ।
এ্যাশ যখন বাড়ি থেকে বের হয় তখন এক পলক দেখেছিলেন মিনাল খান। তাও শুধু চোখ। কারণে পড়নে ছিলো কালো একটা অভার কোট মুখটা মাক্সে ঢাকা ছিলো তাই তিনি ওর মুখটা দেখতে পারেন নি। ছেলে যে তার উপর অভিমান করেছে এটা তিনি বেশ ভালো করেই বুঝতে পারছেন। কিন্তু তার কিছু করার নেই। এ্যাশ যা চায় তা তিনি কখনোই দিতে পারবেন না। এ্যাশ কখনোই সেটার যোগ্য নয়।সে জিনিস পেতে হলে ওকে অবশ্যই যোগ্য হতে হবে। ওর এমন বেপরোয়া জীবনের সাথে কখনোই এমন একটা নিঃশ্বাপাপ জীবন বাঁধবেন না।
কথাটা ভাবতেই ভাবতেই আরাবীর রুমের সামনে এসে দাঁড়ালেন তিনি। তাহাকে রেডি করছে আরাবী। নিচে তার বন্ধু আর বন্ধুর ছেলে বসে। এ্যাশ যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তাড়া এসেছে।
মিনাল খান দরজায় ধাক্কা দিয়ে বললেন

–আরু?তাহাকে নিয়ে আয়। বাইরে ওরা অপেক্ষা করছে।
–আসছি আর ৫ মিনিট যাও তুমি।
মিনাল খান উওর পেয়ে আবার ও তাড়াতাড়ি আসতে বলে চলে গেলেন।
আরাবী রেগেমেগে আগুন হয়ে তাহাকে সাজাচ্ছে। আর তাহা আরাবীর রাগান্বিত মুখের দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। যেটা আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজে লাগছে।
তাহার হাসিটা আরাবীর কাছে বিষের মতো মনে হচ্ছে। আরাবী রেগে জোরে জোরে তাহার ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে দূরে সরে দাড়িয়ে বললো
–যা তোকে ভূতনি সাজানো শেষ। একদম ভূতনি লাগছে ওই বেডা পালাবে সিওর আমি। যা যা।
তাহা নড়লো না। হাসিমুখে তখনো আরাবীর দিকে তাকিয়ে। দুই পা এগিয়ে হঠাৎই জরিয়ে ধরলো আরাবী। ওর গালে নাক ঘষলো। আরাবী ওকে টেলে দূরে সরাতে সরাতে বললো
–আলগা পিরিত দেখাতে হবে না। সর সর।
টেনে দূরে সরিয়ে দিলো আরাবী। তাহা মিটিমিটি হেসে আবার ও ধরবে তখনি ওর নজর গেলো আরাবীর গলার দিকে। তাহা এগিয়ে গিয়ে সেটা হাতে তুলে বললো
–চেইনটা তো অনেক সুন্দর। কবে নিলি?

চেইনের কথা শুনতেই ভ্রু কুঁচকে তাকালো আরাবী। তাকাতেই কুঁচকানো ভ্রু জোরা আরো কুঁচকে গেলো। ওর গলায় তো কোনো চেইন ছিলো না।তাহলে এটা কোথা থেকে এলো? ভাবতে ভাবতে তখন ফাহাদের গাড়ের উপর আসার কথা মনে পরতেই বুঝলো হয়তো কিছু। চেইনটা হাতে নিয়ে দেখলো। ডায়মন্ডের চেইন। তাহা তখনো ও আরাবীর উওরের আসায় ওর দিকে তাকিয়ে। আরাবী চেইন গলার ওড়নার ভিতর নিয়ে তাহাকে তাড়া দিয়ে তোতলানো কন্ঠে আমতা আমতা করে বললো
–আব..আসলে অনেক আগেই নিয়েছি ঘরে ছিলো পড়ি নি আজকে পড়লাম। তুই যা দেরী হচ্ছে তোর।
তাহাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আরাবী ওকে টেনে নিয়ে আসলো। কিছু করার নেই বাবার কথা রাখতে ওকে পাএ পক্ষেের সামনে বসাতেই হবে নয়তো বাবার সম্মান নষ্ট হবে। আর আরাবী সেটা কখনো চায় না। বাবার অসম্মান হোক সে কখনোই চায় না। আর পাএ পক্ষের সামনে গিয়ে শুধু বসবে। বিয়ে তো আর হয়ে যাবে নাহ।

তাহাকে কালো সুতির একটা শাড়ি পড়িয়েছে আরাবী একহাতে কালো একমুঠ কাঁচের চুড়ি। অন্য হাত খালি। গলায় হালকার মধ্যে একটা সোনার চেইন। মাথায় ঘোমটা দিয়ে ওকে নিয়ে পাএ পক্ষের সামনে বসলো ও।
আরেক পাশের সোফায় বসে আছে মিনাল খান পাএ পাএের বাবা আর মা।
আরাবি এক পলক চোখ তুলে তাকালো পাএের দিকে। খারাপ না ভালই তবে নিজের ভাইয়ের থেকে না। এই ছেলেটার দৃষ্টি কেমন ধারালো। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ছেলেটা তাহার দিকেই তাকিয়ে। আরাবী ছেলেটাকে গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষন করছিলো ছেলেটা আচমকা তাহার থেকে চোখ সরিয়ে ওর দিকে তাকালো। ভড়কে গেলো আরাবী। মাথা নিচু করে তাহার দিকে তাকালো ছেলেটার চোখের মনি নিল দৃষ্টি ধারালো। চোখের চাহনীতে মানুষের হৃদয় খুন করতে সক্ষম।
তাহা এখনো ছেলেটাকে দেখেনি হাতের দিকে তাকিয়ে। মনের ভেতরটা কেমন ধুকপুক করছে। অজানা কোনো বিপদ সংকেতে মনটা কু ডাকছে। সকালে সেই যে এ্যাশ বের হয়েছিলো আর ওর রুমে যায় নি। যাওয়ার আগে ওর সাথে দেখা ও করে নি। তাতে সামান্য মন খারাপ লাগলো ওর। সকালে কি সুন্দর বউ করলো আর এখন কি না বউকে ভুলে না বলেই চলে গেলো?

ধুর কি ভাবছি আমি? বলে গেলেই কি না গেলেই কি?আমি শপথ করেছি আর কখনো তাকে নিয়ে ভাববো না,ভুলে যানো একদম। আমি তার উপযুক্ত না।আর না আমাকে তার পাশে মানায়। আচ্ছা ভুলে যাবো বললেই কি ভুলা যায়?এই এক বছরে কি কম চেষ্টা করেছি?তাও কি ভুলতে পেরেছি? হয়তো ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আচমকা আবার ও চলে আসায় হয়তো খানিকটা বেসামাল হয়ে গেছি। না আমাকে নিজেকে সামলাতে হবে। এই বিয়ে ও আটকাতে হবে। সে কিছুতেই বিয়ে করবে না। সারাজীবন একা থাকবে অনেক দূরে চলে যাবে সে।
কথা গুলো নিজের মনে ভাবতে ভাবতেই পাএ মায়ের কন্ঠ কানে আসলো তাহার। তিনি মিনাল খানের উদ্দেশ্য বলছেন

–মেয়ে আমাদের আগেই পছন্দ হয়েছে। এবার আমার মনে হয় তাদের আলাদা করে কথা বলতে দেওয়া উচিত।
তাহার ভাবলো ছেলেটার সাথে আলাদা কথা বলে বিয়েটা ভেঙে দিবে। তাই রাজি হয়ে গেলো। মিনাল খানের দিকে তাকাতেই মিনাল খান তাহাকে ওর রুমে নিয়ে যেতে বললেন। তাহা গুটিগুটি পায়ে উঠে দাড়িয়ে ছেলেটাকে নিয়ে নিজের রুমে আসলো।
মাথা তুলে না তাকিয়েই বললো
–দেখুন এই বিয়ে আমি কর..
–আমাকে চিনতে পারলে না ডালিং?
কন্ঠটা কানে পৌঁছাতেই চট করে মাথা তুললো তাহা। তাকাতেই মাথায় জেনো আকাশ ভেঙে পড়লো। দুই পা পিছিয়ে গেলো ও। ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে কাঁপা কন্ঠে বললো

–তত..তু..তুই?
–চিনতে পেরেছো তাহলে। আব কি জেনো বলছিলে?বিয়ে কি?হু?হু?
ভয়ে শরীল কাঁপছে তাহার। পুরো শরীল ইতিমধ্যে ঘেমে একাকার। চোখ বেয়ে না চাইতে ও টুপ টুপ করে পানি পড়ছে। চোখের সামনে ভেসে উঠছে এক বছর আগের ভয়ংকর সেই রাতটা। বুকফাটা আর্তনাত।
তাহা হাত দিয়ে গাল মুছে নিলো গলা দিয়ে আওয়াজ বের হচ্ছে না।তবুও কোনো রকমে তুতলিয়ে তুতলিয়ে বললো
–তততুই আআবার কককেনো এসসেছি?
আহান বাঁকা হেঁসে তাহা পা থেকে মাথা অব্দি পরক করলো। ব্রিশি ভাবে হাসতে হাসতে এগিয়ে গেলো ওর দিকে। তাহা কাঁপতে কাঁপতেই পিছিয়ে গেলো। ভয়ে অন্তর আত্মা অব্দি কাঁপছে। আজকেও কি সেদিনের মতো হবে?নিজেকে কি আজকে ও বাঁচাতে পারবে না? কথাটা ভাবতে ভাবতেই শব্দ করে কেঁদে উঠলো তাহা। দুই হাত দিয়ে ওকে ঠেকাতে ঠেকাতে মিনতির স্বরে বললো

–প..প্লিজ দূরে যা সর। এগুছিস কে..কেন?সর প্লিজ।
আহান থামলো। হাত বাড়ানোর তাহার হাত ধরে টান দিয়ে নিজের কাছে ঘুরিয়ে আনলো।গাড়ে থুতনি টেকিয়ে অন্য হাতে বন্দুক বের করে সেটা তাহার সামনে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখেতে দেখতে বললো
–বিয়েতে না করতে চাচ্চিস?ডালিং?আচ্ছা না করে দে। তুই গিয়ে না কর আর আমিও বরং তোর খালুকে উপরের টিকিট ধরিয়ে দেই। বয়স হয়ে গেছে বেঁচে থেকে কি হবে বল?
বন্দুকটা পকেটে ভরে দরজা দিকে দুই পা এগুলো আহান তখনি হন্তদন্ত তাহা এগিয়ে গিয়ে ওর সামনে দাঁড়ালো পায়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো
–তুই আমাকে মেরে ফেল তাও খালুকে কিছু করিস না। প্লিজ।
–তোকে মারবো কেন?তোকে তো ভালো বাসবো। আরে পাগলী তুই তো আমার ভালো বাসা। কি করছিস সোনা? উঠ উঠ।

তাহার বাহু ধরে ওকে তুলে দাঁড় করালো আহান। চোখের পানি মুছিয়ে দিতে দিতে কথাটা বললো।
আহানের প্রত্যেকটা স্পর্শে নিজের শরীলের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হচ্ছে তাহার। নিজেকে শেষ করে দেওয়ার প্রবল ইচ্ছে জাগছে। যদি আরাবীর কাছে প্রতিজ্ঞাবন্দি না হতো তাহলে হয়তো আজকেই নিজেকে শেষ করে দিতো।
তাহা চেয়েও আহানের হাতটা ঝাড়া মেরে ফেলতে পারলো না। আহান তাহার গাল চেপে ধরে বললো

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৪

–তোকে মারতে আসি নি। বিয়ে করতে এসেছি। তুই বিয়ে করবি আমাকে তাও এই মুহুর্তে। যদি সেটা না করিস তাহলে তো জানিস…ই?
কথা শান্ত স্বরেই বললো আহান। তাহা ঢোক গিললো একটা। সে কি করে এখন বিয়ে করবে?সে তো বিবাহিত। অন্যের বিয়ে করা বউ হয়ে সে আরেকটা বিয়ে করে করতে পারে?

বিষাক্ত প্রেমের অনুভূতি পর্ব ১৫ (২)

1 COMMENT

Comments are closed.