Home প্রণয় ব্যাকুলতা প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৬৯

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৬৯

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৬৯
ইনান হাওলাদার

পায়েস রান্না করেছে আহি। জীবনে প্রথমবারের মতো কোনো রকমের অঘটন ছাড়াই রান্না সম্পন্ন করেছে সে। যার কারণে বেজায় খুশি মেয়েটা। রান্না করেই বাড়ির প্রতিটি সদস্যের জন্যে আলাদা আলাদা পিরিজে উঠিয়ে রেখেছে। যখন যে বাড়িতে ফিরছে তখন তাকে নিজ হাতে পরিবেশন করছে। আশ্চর্যজনক ভাবে খেতেও খুবই সুস্বাদু হয়েছে।ফলস্বরূপ মাটিতে পা পড়ছে না তার। মোটামুটি সবারই টেস্ট করা শেষ ,এখন বাকি রয়েছে তূর্য। ও একটা পিরিচ হাতে হেলে-দুলে গেল তার কাছে।ল্যাপটপে মুভি চলছে , তূর্যের মনোযোগ সেদিকে। আহি সামান্য দূরত্ব রেখে ওর পাশে গিয়ে বসল। মেয়েটার উপস্থিতি টের পেয়ে তূর্য বলল,

” কখন ডেকেছিলাম তোকে? ”
” একটু ব্যস্ত ছিলাম।আপনি কাল রাত থেকে ল্যাপটপে কি করছেন?”
বলে পিরিচ হতে এক চামচ পায়েস তুলে নিজের মুখে দিল আহি। যতটা না মজা হয়েছে তার থেকে বেশি ঢং করলো।গালে দিয়েই চোখ বন্ধ করে নিল। মুখে শব্দ করলো ‘ উমমমম ‘। অতিরিক্ত অভিনয় করতে গিয়ে চামচ থেকে সামান্য রস গড়িয়ে ওর জামার উপরে পড়লো।যদিও সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই। তূর্য ওর কান্ড মনোযোগ সহকারে দেখল। অতঃপর ভ্রু কুঁচকে বলল,
” ড্রেসে পড়ছে ”
কোলের উপরে পড়ে থাকা রসটুকু আঙুলের ডগা দিয়ে মুছে গালে দিল আহি।বলল,
” অনেক মজা তূর্য ভাই ”
এত প্রশংসা শুনে তূর্যের আর বুঝতে বাকি রইলো না রান্না মহারানী নিজেই করেছেন। তবুও জিজ্ঞেস করলো,
” তুই রান্না করেছিস ? ”
” ইয়াহ । খাবেন? ”

তূর্য ‘ হ্যাঁ ‘ বা ‘ না ‘ কিছু বলল না ।হাত বাড়ালো পিরিচের দিকে। সাথে সাথে পিরিচটা অন্যদিকে সরিয়ে নিল আহি। তূর্য কপাল কুঁচকে বলল,
” চিনিও দিয়েছিস ? ”
” উঁহু ” বলে আরেক চামচ মুখে পুরলো সে।
একই কায়দায় তাকিয়ে থেকে জিজ্ঞেস করলো তূর্য,
” তাহলে? ”
” আমি প্লেটে খাবার তুলে দিলেই কেউ খায় না।আর আমার রান্না খাবে?” বলে অবাক হওয়ার ভান করে মুখে হাত দিল আহি। এবারে সবটা পরিষ্কার হলো তূর্যের কাছে। এখন ওকে কে বলবে দুইদিন আগে তার রান্না করা মাছ শান্ত বা প্রান্ত কেউই খায়নি।সে নিজে খেয়েছে। তবে বছর খানেক আগে যে আধ রান্না মাছ খেয়েছিল সেটা তো সবাই জানে। সে উল্টে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল আহিকে,
” অর্ধেক সিদ্ধ মাছ খেতে পেরেছি। এ আর এমন কি !”
” সেটা তো আপনার পছন্দের মাছ বলে। কাঁচা দিলেও খেয়ে নিতে পারতেন ”
” আজকেও অর্ধেক সিদ্ধ চালের পায়েস খেয়ে নিতে পারবো ”
বিরোধিতা করলো আহি,

” মোটেও অর্ধের সিদ্ধ না । খুব মজা হয়েছে ।এটা আমি না সবাই বলেছে ” শেষ বাক্যটা খুব গর্বের সাথে বলল সে।
” আমি অন্যের কথা বিশ্বাস করবো কেন? তাছাড়া নিজের প্রশংসা করলে কেউ কম করে না ”
” সত্যিই মজা হয়েছে ।পারলে খেয়ে দেখুন ”
বলে চামচে পায়েস তুলে তূর্যের মুখের সামনে ধরলো আহি। তূর্য নাক সিঁটকে বলল,
” খাবো? পরে আবার বমি করতে হবে না তো ? ”
” খাওয়া লাগবে না। যান তো ” বলে তূর্যের মুখের কাছ থেকে চামচ সরিয়ে আনলো আহি। তূর্যের চোখে মুখে দুষ্টুমি। সে দুই ভ্রু টানটান করে উপরে তুললো ।প্রশ্ন করল,
” আচ্ছা? ‘ জান ‘? ”
ওর হেঁয়ালি বুঝলো না আহি। বিরক্ত ভঙ্গিতে বলল,
” কি ‘যান?’ কি বলছেন? ”
” এটা কোন ‘ যান ‘ ? ‘ যান ‘ ? নাকি ‘ জা’ন ‘ ? ” জটিলতা ভাঙলো তূর্য।ওর ইঙ্গিত বুঝতে পেরে লজ্জায় পড়লো আহি। এদিক-ওদিক দৃষ্টি ফেলে নরম গলায় বলল,

” আপনি খাবেন ? নাকি নিয়ে যাব? ”
” এই কথাটা ‘ তুমি ‘ করে বলতো কেমন শোনা যায় দেখি ”
তূর্যের এহেন কথায় মেয়েটার মাথায় যেন আসমান ভেঙে পড়ল।
‘ ভাই ‘ বলা ছাড়ার জন্যে কি পরিমাণে কষ্ট হচ্ছে সেটা একমাত্র সে-ই জানে।এখন আবার নতুন বায়না নিয়ে হাজির হয়েছে। নিজে তো মনের আনন্দে ‘ তুই ‘ বলে ডেকে যাচ্ছে।
সে কখনো শুনতে চায় ‘ তুমি ‘ ডাক ? তাহলে এই লোকের এত শখ কোথা থেকে আসে? ওর ভাবনার মাঝে তাঁড়া দিল তূর্য,

” কি হলো? বল ! ”
মেয়েটা ঠোঁট উল্টে বলল,
” আপনি এমন কেন করছেন? আমি …..”
” বলবি কিনা সেটা বল ”
” আমি তো কখনো বলি না ‘ তুমি ‘ ডাকতে তাহলে আপনি কেন ….”
” বল তুই ‘ তুমি ‘ ডাকতে ,ডাকছি আমি ” মেয়েটাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই বলে উঠলো তূর্য।
” এত শর্ত না রেখে সোজাসুজি বলে দেন খেয়ে চান না ”
” তুই ‘ তুমি ‘ বলবি কিনা ? ইয়েস অর নো ”
তূর্য বোধহয় রেগে গেল। আহি আমতা আমতা করে বলল,
” বলছি ”
” হু ,বল ”
” তু…” এটুকু বলে থেমে গেল মেয়েটা। গলা কাপছে রীতিমতো। শরীর দিয়ে দরদর করে ঘাম বের হতে আরম্ভ করেছে। তূর্য খানিকটা এগিয়ে গেল ওর দিকে। নাকের ডগার ঘাম মুছে দিয়ে হাস্কি স্বরে বলল,
” বলো ”
এবারে পুরো দুনিয়া ধরে ঘুরতে আরম্ভ করলো মেয়েটার। মাথার ভিতর ভনভন করছে। তূর্য ওর অস্বাভাবিক হাবভাব লক্ষ্য করে বলতে নিল,

” ওকে,ফাইন।বলতে হবে না ” তবে তার কথা শেষ হওয়ার আগেই ওপাশ থেকে গুলির বেগে বাক্য ভেসে এলো,
” তু.. তু..তুমি খাবেন? নাকি নিয়ে যাব? ”
শব্দ করে হেসে ফেলল তূর্য।সে আহির কথা রিপিট করলো,
” তুমি খাবেন? ”
” না ,না ! আ..আপনি খাবে? ধুর,ধুর! ত…তুমি খা..খাবে? ”
” অফ কোর্স জা’ন। ” মেয়েটার মুখের উপর ঝুঁকে হাস্কি স্বরে বলল তূর্য। গলা শুকিয়ে এলো আহির।পালাতে চাইল এই পরিস্থিতি থেকে,
” তাহলে খান। আমি আসি ” দ্রুত গতিতে কথাটা বলে পিরিচটা কোনো রকম তূর্যের হাতে ধরিয়ে দিয়ে ঝড়ের বেগে রুম থেকে বেরিয়ে গেল মেয়েটা। তূর্য সেদিকে চেয়ে ঠোঁট টিপে হাসলো। কি মহা মুছিবত! না নিজে ‘ তুমি ‘ বলতে পারে ।আর না ‘ তুমি ‘ ডাক সহ্য করতে পারে ।

বৃষ্টি নামার পূর্বে প্রকৃতি খুব সুন্দর রূপে সাজে।আর এখনকার সময়ের বৃষ্টির সাথে উল্লো-গুল্লো বাতাস থাকা আবশ্যক। একটু আগেও কি কড়া রোদ ছিল। ছাদ ফেটে রুমে ঢুকে পড়ছিল সূর্যের তাপ।এসিতেও এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর ঠেকছিল।আর এখন কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে গিয়েছে। বাতাসের তালে নিত্য করছে গাছ-গাছালি।সাথে মেঘের গর্জন তো আছেই। প্রকৃতির এই হঠাৎ রূপ বদল তূর্যের খুব পছন্দের। তাই সে ঘর থেকে বেরিয়ে তড়িঘড়ি করে ছাদে এসেছে।বৃষ্টির ফোঁটা পড়ার আগেই আবার নেমে পড়বে। বাতাসের তোপে গায়ে জড়ানো ছায় রঙের পোলো শার্টটা এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে। বস্তুটা পারলে বাতাসের সাথেই উড়ে যায়। যত দূর বাতাস যেত ওরাও তত দূর যেত। তার সাথে আবার পাল্লা দিয়ে এলোমেলো হচ্ছে মেসি হেয়ারগুলো। এরকম অশান্ত পরিবেশে শান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে লোকটা। চোখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে প্রকৃতির তান্ডব দেখছে। হঠাৎ কানে হৈচৈ,চেঁচামেচির আওয়াজ ভেসে এলো ওর। শব্দের উৎস বাগান। ছাদের দক্ষিণ দিকটা থেকে পুরো বাগান স্পষ্ট দেখা যায়। ও এগিয়ে গেল সেদিকে। রেলিং ধরে কিছুটা ঝুকলো। আহি,শান্ত ,প্রান্ত বাগানে ছোটাছুটি করছে। তাহি নেই। না থাকার অবশ্য কারণও আছে। ঐ মেয়েটার ছোট থেকে ঠান্ডার সমস্যা। ওরা দুই ভাই-বোন পারভিন বেগমের থেকে জেনেটিকালি পেয়েছে এই রোগ।
বাগানের তিনটার হাতেই একটা করে বড় সাইজের শপিং ব্যাগ। তূর্য কিছুক্ষণ ওদের দিকে মনোযোগ দিয়ে বুঝতে পারলো আম কুঁড়াচ্ছে ওরা। বিরক্ত হলো খুব। কোনো ভ’য়-ডর নেই নাকি? একটা আম যদি মাথায় এসে পড়ে কি অবস্থা হবে? বা যদি শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে?ও জোরে ডাক ছাড়লো,

” ওই? বাড়িতে ঢোক সবগুলো । শান্ত ? ”
ওরা আছে ওদের ধান্ধায়।কে কোথা থেকে গলা ফাঁড়ছে এসব দেখার টাইম তাদের আছে নাকি? তূর্য পুনরায় ডাকলো ওদের।এবারে গলার আওয়াজ আরো খানিকটা বাড়ালো,
” প্রান্ত? শুনতে পাচ্ছিস? শান্ত ? এই আহি ? ”
এবারে সবগুলো একসাথে ছাদে নজর দিল। উপরে তূর্যকে দাঁড়িয়ে থেকে বুঝতে পারলো নিশ্চয়ই বাড়ির ভেতরে যেতে বলছে লোকটা।শান্ত উঁচু কন্ঠে বলল,
” ভাইয়া একটু পর যাচ্ছি ”
” এক্ষুনি বাড়িতে ঢোক ” কড়া গলায় বলল তূর্য।
প্রান্তও কিছু একটা বলতে চাইছিল হয়তো।কিন্তু বলল না।ছোট করে আহি ওকে কিছু বলল ।কি বলল তূর্যের এখান থেকে স্পষ্ট নয়। মুখ আর হাত নাড়ানো দেখে শুধু ধারণা করলো সে।আহির উদ্দেশ্যে ও বলল,
” এই লিডার তুই আগে বাড়িতে ঢোক ”

অথচ ওর কথায় কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। ওরা আবার ব্যস্ত হলো আম কুঁড়াতে।তবুও ছাদ থেকে বারবার হাঁক-ডাক ছাড়ছে তূর্য। ইতোমধ্যে বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে শুরু করেছে। এদিকে আবার নিচ থেকে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে তাহি এলো।একদম তূর্যের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।চিকন কন্ঠে চেঁচিয়ে বলল,
” ভাবিপু তুমি যে আম পাবে তার অর্ধেক কিন্তু আমার ”
” ওকেই, ডান। এখন তুই তূর্য ভা.. ” মুহূর্তেই নিজেকে শুধরে নিল আহি।বলল,
” মানে তোর ভাইয়াকে নিয়ে নিচে নাম।বৃষ্টি পড়া শুরু করেছে । দুইটার-ই ঠান্ডা লেগে যাবে ”
” হ্যাঁ,ভাইয়া চল ” বলে তূর্যের হাত ধরে উল্টো দিকে টানতে আরম্ভ করলো তাহি।
” দাঁড়া ভাইয়া। ওদের একটু ব’কা দেই নাহলে কথা শুনবে না ”
” কিন্তু জোরে বৃষ্টি নেমে গেল তো ”

খাটের হেড বোর্ডে পিঠ ঠেকিয়ে গোমড়া মুখে বসে আছে আহি। পা জোড়া সুপারি গাছের মতো টানটান করে মেলে আছে। বাম পায়ের নিচে আবার দুইটা বালিশ দেওয়া।ওর পায়ের কাছে বসে আছে তূর্য। একবার পা মোচকে বসে থাকা প্রেয়সীর পায়ের দিকে তাকাচ্ছে আর আরেকবার মুখের দিকে।আহি ভুলেও তাকাচ্ছে না তার দিকে।বিকাল থেকে একাধারে কথা শুনতে শুনতে ক্লান্ত সে। এমন ভাব যেন জেনে-বুঝে পা মচকেছে সে। মাটি পিচ্ছিল হলে সে কি করবে? এত কষ্ট করে খোটা আমগুলোও চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে গেল। তূর্যের হাতে একটা সরিষার তেলের বাটি— যার মধ্যে কয়েকটি রসুনের কোয়া দিয়ে গরম করেছেন মারুফা বেগম।এই তেল দিয়ে টানলে নাকি ব্যথা কমবে।এসব কবিরাজি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই তার। এই বাড়ির গিন্নিরা মোটামুটি ভালোই কবিরাজি জানেন। বলা বাহুল্য কাজও হয় তাতে।এজন্যই মূলত বাটিটা এনেছে তূর্য। যদিও মারুফা বেগম নিয়ে আসছিলেন ।তবে তূর্য বাঁধা দিয়ে নিজে নিয়ে এসেছে। ও সেই তেল হতে একটু হাত ভিজিয়ে নিল। আহির পায়ে ডলা দিতেই ব্যথায় চাপা আর্তনাদ করে উঠল মেয়েটা। তূর্য দ্রুত হাত সরালো। উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

” বেশি লাগলো ? ”
মেয়েটা ‘ না ‘ বোধক মাথা নাড়লো।তূর্য যথাসম্ভব আলতো করে ম্যাসাজ করতে করতে বলল,
” ব্যবসায় বিরাট লস হয়ে গেল না ? ”
আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
” কার ?”
” কার আবার ?তোর! কি স্ট্রাগল করে আম কুঁড়ালি বাজারে নিয়ে বিক্রি করার আগেই পা মচকে বসে আছিস ”
” তখন থেকে খোঁচা মা’রছেন। আপনার জন্যই তো হলো। ”
মুখ ‘ হা ‘ হয়ে গেল তূর্যের।অবিশ্বাস্য গলায় বলল,
” আমি কি করলাম ? ”
” আপনি ওভাবে বাগানে না আসলে আমি দৌঁড়াতামও না আর পড়তামও না ”
” আমি তোকে বলেছিলাম দৌঁড়াতে? ”
এবারে আর কিছু বলার উত্তর পেল না আহি। ফলস্বরূপ চুপ করে রইলো।তূর্য অসহায় কন্ঠে বলল,

” আমার একটা কথা শুনবি না তুই।এখন কষ্ট কার হচ্ছে ?”
” সেটাই ! কষ্ট আমার হচ্ছে আপনার তো আর হচ্ছে না।তাহলে এবার চুপ করুন ” থমথমে কন্ঠে বলল আহি ।
” আমার তো খারাপ লাগে না ? ”
” না,লাগে না। আমার সৎ জামাই যে আপনি ”
” সৎ জামাই হয় স্টু’পিড? ”
” আচ্ছা তাহলে আমি আপনার সৎ বউ।এইবার ঠিক আছে না?”
বলেই খিলখিল করে হেসে উঠলো আহি। প্রেয়সীর দুষ্টুমিতে তূর্যও হাসলো । এগিয়ে এসে নাকের মাথা ধরে টেনে দিয়ে আদুরে গলায় বলল,
” স্টু’পিড ”
” আরেহ! আপনি দাঁত বের করেও হাসতে জানেন ? ” কপট আশ্চর্য হওয়ার নাটক করে বলল সে।তূর্য ওর পিঠের নিচ থেকে বালিশ সরিয়ে আলতো করে শুইয়ে দিল বিছানায়। লাইট অফ করে নিজেও শুলো।চোখের উপর হাত রেখে বলল,

” ঘুমা ”
” ঘুম আসছে না ” বলে সাবধানে তূর্যের দিক ফিরলো আহি।তূর্যও ওর দিকে পাশ ফিরে মাথার নিচে এক হাত দিয়ে শুলো।অতঃপর বলল,
” চোখ বন্ধ করে রাখ এসে পড়বে ”
” আসবে না ”
” এত কথা না বলে ঘুমা।আর আজকের ওয়েদার দেখ। এই ওয়েদারে পা মচকে বসে আছিস ”
” কেন ? পা না মচকালে কি হতো ? ” ভাবুক হয়ে জিজ্ঞেস করলো মেয়েটা।
” অনেক কিছু হতো ”
” আমার এতটাও ব্যথা লাগছে না।আপনি একটু বেশি বেশি করছেন।একটু আগেও হেঁটেছি ”
” সত্যিই বেশি ব্যথা না? ” প্রশ্ন করলো তূর্য।
” মিথ্যা কেন বলবো? ” আশ্চর্য হলো মেয়েটা।
” বুঝে বলছিস তো ? ” সতর্ক কন্ঠে বলল ও।
” আজব ! এত জেরা কেন করছে… ” বাক্যটা সম্পূর্ণ করার আগেই আহি কিছু বুঝলো।মিনমিন করে বলল,
” একটু ব্যথা তো আছেই।তবে কোনো সমস্যা নেই।কিন্তু …”
হতাশ হলো তূর্য।অসহায় কন্ঠে বলল,

” আবার ‘ কিন্তু ‘ কেন? ”
” আপনি সুন্দর গান করেন। কখনো আমাকে শুনাননি ”
” ঐযে একদিন শুয়েছিলাম না ? ”
” কবে?”
” সন্ধ্যায় ঘুরতে বেরিয়েছিলাম আমরা ”
মনে পড়লো আহির।বলল,
” ওটা তো সবাইকে শুনিয়েছেন ।আমাকে আলাদা ভাবে তো কখনো শুনাননি ”
” আচ্ছা, কাল গাইবো ” বলে কাছে টেনে নিল প্রেয়সীকে। আহি হালকা মুচড়ে উঠে বলল,
” না,এখনই।আগে গান শুনাবেন।তারপর যা খুশি করুন। ”
প্রেয়সীর ব্যস্ত ওষ্ঠে চু’মু বসলো তূর্য। গলায় নাক ঘষে ঘোর লাগা গলায় বলল,

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৬৮ (২)

” দ্যাট মিন’স কন্ডিশন রাখছিস তুই? আগে গান গাইবো তারপর তোর কাছে যাব, এটা ? ”
” আপনি যদি এমনটা ভেবে থাকেন তাহলে সেটাই ”
আহির এক রোখা কন্ঠে হার মানলো তূর্য। মাথা উঠিয়ে চোখে চোখ রেখে আফসোস করতে করতে বলল,
” আদর খাবি তুই আর শর্ত মানতে হচ্ছে আমার।আল্লাহ! ”

প্রণয় ব্যাকুলতা পর্ব ৬৯ (২)