Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২৩

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২৩

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২৩
Maha Aarat

সবসময় চুপচাপ থাকা হাফসার খুশি যেনো একেবারে কাছে থেকে প্রত্যক্ষ করছেন আরহাম।দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখছেন,সে আম্মু আইরা বা মাইমুনার থেকে জলদি বিদায় নিচ্ছে।যেনো ফ্লাইট মিস করবে এমন অবস্থা।আসার আগে আইরা তাকে ফিসফিস করে বলল, ‘ভাবিপু তাড়াতাড়ি চলে আসবেন কিন্তু।আপনি তো জানেন না,ভাইয়া আপনাকে ছাড়া থাকতে পারেন না।যদিও প্রকাশ করেন না,তবে আমি বুঝি।’
হাফসা নিরুত্তর আসতে আসতে ভাবলো,বিয়ের পর প্রথম বাবার বাড়ি যাওয়া তাঁর।পরিণয় হওয়ার পর এর আগে তো লোকটাকে ছাড়া কোথাও থাকেনি সে।তাহলে থাকতে পারবেন না মানে?মেয়েটা গুছিয়ে কথা বলতেও পারে না!
গাড়ি চলতে শুরু করলো।পাশাপাশি বসলেও দূজনের মধ্যে বেশ দূরত্ব।আরহামের দিকে তাঁর কোনো খেয়াল নেই।সে বাইরের খোলাহল দেখতে ব্যস্ত।মেইন রোডে এসে আরহাম গ্লাস তুলে নিতেই মলিন দৃষ্টিতে তাকালো।

‘এখানে জ্যাম ছাড়া কিছু দেখার নেই।’
এ উত্তর যেনো মোটেও পছন্দ হলো না হাফসার।চট করে চোখ সরিয়ে চুপচাপ বসে রইলো।আরহাম মনে মনে ভাবলেন, এতটুকুন মেয়ের রাগও আছে আবার!
আসল কারন বলেই ফেললেন, ‘কেউ আপনার চোখ দেখুক এটা আমি চাই না।আর চোখের পর্দা ফেললে গরম লাগবে।সেভাবে দেখাও সম্ভব নয়।’
হাফসা আর প্রত্যুত্তর করলো না।আরহাম তাকে হেডফোনের একটা আইকন এগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘শোনবেন?’
হাফসা ভ্রু কুঁচকে তাকালো।
আরহাম উত্তর দিলেন, ‘কুরআন রিসাইটেশন।’
হাফসা কেবল হাত বাড়াচ্ছিলো ইয়ার ফোনের আইকন টা নিতে।আরহাম হুট করে সরিয়ে নিজের কানে গুজে বললেন, ‘থাক!দরকার নেই।তিলাওয়াত সুন্দর।কন্ঠ পছন্দ হয়ে যাবে পরে।’
হাফসা নিকাবের আড়ালে মুচকি হাসলো।এতো গায়রত!
ঘন্টা খানিক পেরিয়েছে।বসে থাকতে থাকতে একঘেয়েমি লাগছে হাফসার।এখনো প্রায় দীর্ঘসময়ের রাস্তা।তাঁর চোখ লেগে আসছিলো কখন নিজেই বুঝতে পারেনি।চোখের পর্দা সরিয়ে আড়মোড়া ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে তাকালো লোকটার দিকে।

আরহাম সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজে আছেন।এদিকে কানে হেডফোন গোজা।তিনি কি চোখ বন্ধ করে তিলাওয়াত শুনছেন না ঘুমাচ্ছেন বুঝতে পারছে না সে।বেশ কিছুক্ষণ একদৃষ্টে তাকাতে বুঝলো লোকটা ঘুমে।সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকলো লোকটাকে।লোকটার ঘন ভ্র’র সাথে জোড় ভ্রুও কখনো খেয়াল ও করেনি সে।লাল গালে খোঁচা দাঁড়ি।টুপিটা সামনের দিক থেকে সরে পড়ে যাবার মতো অবস্থা।চুলগুলো ভাঁজ পড়ে কপালে পড়ায় চমৎকার লাগছিল দেখতে।যেনো নূরে চকচক করা চেহারা।হাতটা বুক ভাঁজ করে রেখেছেন।সাদা জুব্বায় লোকটাকে দারুণ মানায়।।আরহামের দিকে দূদন্ড তাকিয়ে থাকলে প্রেমে পড়ার সাধ জাগবে যে-কোনো নারীর।এমন সুন্দর একটা মানুষের অর্ধাঙ্গিনী সে।এমন গায়রত ওয়ালা মানুষটার অর্ধাঙ্গিনী ভাবতে ভালো লাগছিলো তাঁর কিন্তু তাঁর চিন্তার সমাপ্তি দিয়ে বেশ শব্দ করে আরহামের ফোনটা বেজে উঠলো।বুকপকেটে রাখা ফোনটা।রিংটোনের শব্দে ঘুমের মধ্যে কপাল কুঁজিত করলেন তিনি।হাফসার একটুও ইচ্ছে হলো না এই মুহুর্তে লোকটার ঘুম ভাঙ্গাতে।ফোনটা বুকপকেটে না থাকলে সে সাইলেন্ট করে রেখে দিতো।রিংটোন আবারও বাজতে শুরু করলো।হাফসা আর কিছু না ভেবে এগোলো ফোনটা আলগোছে বের করতে।ফোনে কেবল হাত দিলো অমনি আরহাম নড়েচড়ে উঠলেন।তড়িৎ গতিতে হাত সরাতে গিয়ে উনার বুকে হালকা আঘাত লাগতেই তিনি চোক খুলে তাকিয়ে রইলেন।হাফসার নিজের প্রতি রাগ হলো ভীষণ।এমন চোরের মতো ধরা পড়ে যাবে সে ভাবেনি।আরহাম ঘুম ছেড়ে ফোনটা বের করে দেখলেন মাহেরের কল।হাফসার দিকে এগিয়ে দিলে সে মাথা দিয়ে অসম্মতি বুঝালো।

‘মাহেরকে মেসেজ করবেন?করে নিন।’
হাফসা কীভাবে বুঝাবে কথা বলার জন্য নয় বরং লোকটার ঘুম না ভাঙ্গানোর জন্য ফোনটা নিচ্ছিলো সে।আরেকবার জোর করলেও সে নিলো না।আরহাম কল ব্যাক করতেই সালাম বিনিময় শেষে মাহের জিজ্ঞেস করলেন, ‘কোথায় আসছো?’
আরহাম আশপাশে তাকিয়ে বললেন, ‘আর ঘন্টার মতো।’
‘হাফসা কি ঘুমোচ্ছে?জার্নি করলে তো ও ঘুমায়।’
আরহাম হাফসার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘উহু।’
‘আচ্ছা।সেইফলি আসো।’
‘ইন শা আল্লাহ।’
আরহাম ফোনটা পকেটে ডুকাতে ডুকাতে নিচুস্বরে বললেন, ‘বাড়ি পৌঁছেই আপনাকে একটা চুমু দিব।’
কথাটা বুঝতে সময় লাগছিলো তাঁর।তড়িৎ একবার তাকালো আরহামের দিকে।আরহাম ঠোঁট কামড়ে হেসে বললেন, ‘ঘুমানোর আগে অনেকক্ষণ ধরে খেয়াল করছিলাম আপনার চোখ।আর অপেক্ষা করছিলাম কখন বাড়ি পৌঁছবো।’

বাড়ি পৌঁছে যোহরের সালাত আদায় করেই দূপুরের খাবারের প্রস্ততি শুরু হলো।মাহের চাইছিলেন, আয়না শেখ আর আরহাম একই সময় না বসুক।কারন আরহামের প্রতি মনে মনে এমনিই ক্রোধান্বিত তিনি।কিন্তু পরিস্থিতি একদম উল্টো হয়ে গেলো।আরহাম, হাফসাকে নিয়ে তিনি খাবারে বসেছেন অমন সময় আয়না শেখ আসলেন।আরহাম কাছে থাকায় মাহের কোনো মত বিনিময় না করে নিজেই সার্ভ করে দিচ্ছিলেন তবে ফিসফিস সুরে এটাও বলেছিলেন, ‘দয়া করে খাবার টেবিলে এমন কিছু বলবেন না যাতে আমার রাগ কন্ট্রোলের বাইরে চলে যায়।’
উনার মুখ কালো হয়ে গেলো মুহূর্তেই।সামনে বসা সুন্দর যুবকের দিকে তাকালেন একবার।ঘোলাটে চোখে দেখলেন, উনার সামনে একজন সুপুরুষ চৌকষ পুরুষ।তবুও উনার পছন্দ হলো না তাকে।উনার নাতি কোনদিকে কম ছিলো হাফসার জন্য!

এশা বারান্দায় পায়চারি করছে।লোকটা এতো দেরি কেন করছে সে বুঝতে পারছে না।আচমকা হর্ন বাজতেই নিচে দেখলো লোকটা হাজির।মুখে নিকাব বেঁধে দ্রুতপায়ে নিচে নামলো সে।
বিয়ে হচ্ছে পবিএ সম্পর্ক।আর এরকম একটা সিরিয়াস বিষয়ে সে লজ্জ্বিত কাজ করেছে,পালিয়ে আসা।লোকটার সামনে এসে দাঁড়াতেই অপরাধবোধ কাজ করলো ওর মধ্যে।রায়ান সামনে এসে দাঁড়ালেন।ওর নার্ভাসনেস বুঝে আচমকা হেসে বললেন, ‘সিরিয়াসলি!বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে মেয়েরা বান্ধবীর বাসায় উঠে?বয়ফ্রেন্ডের এতো অভাব?’
এশা চোখ রাঙ্গিয়ে তাকায়।লোকটা তো জানে,তাঁর এমন কেউ নই।তবুও খোঁচা দিচ্ছে।
রায়ান তাঁর রাগ বুঝে সরি হয়ে বললেন, ‘সরি,মজা করলাম।’
‘আপনি কাজটা করেছেন?’
‘হু।হয়ে গেছে।’
‘কীভাবে ধন্যবাদ দিবো বুঝতে পারছি না।সেই আপনার থেকে পালিয়ে আপনার কাছেই সাহায্য চাইতে হলো।’
রায়ান তাকে নতুন ফ্ল্যাটের চাবি টা ধরিয়ে শান্ত কন্ঠে বললেন, ‘আমাকে না হয় পছন্দ নয়।পরিবারের চাপাচাপি তে প্রথমে রাজি হয়েছিলেন,শেষ পর্যন্ত আমার হতে চাইলেন না।এখন বলুন,যে মানুষটার জন্য এমন করলেন, সে একটা বার খোঁজ নিয়েছে আপনার?’

‘আমি জানতাম কখনো নিবেনও না।’
‘তবুও?’
এশা আর উত্তর দিলো না।রায়ান বুঝতে পারলেন,এ বিষয়ে কথা বলতে সে আগ্রহী নয়।ভিন্ন প্রসঙ্গে গিয়ে বললেন, ‘কতদিন পরিবার ছাড়া থাকবেন?এমনকি এভাবে থাকা সেইফ ও নয়।ভাগ্যিস আপনার ওয়ার্কপ্লেসের কাছাকাছি বাসা ম্যানেজ হয়েছে।নয়তো আরো রিস্ক থাকতো।’
“কিসের রিস্ক?’
‘নিরাপত্তার।’
এশা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘আমাকে নিয়ে এতো ভাবার প্রয়োজন নেই।যে সাহায্যটুকু করেছেন ঋণ শোধ করতে পারবো না।তবে কখনো আপনার উপকার করার সুযোগের অপেক্ষায় থাকবো।আমাদের আর দেখা না হউক।’
এশা চলে যাচ্ছিলো।গেইটে ঢুকার আগে রায়ানের কন্ঠ শুনলো, ‘কখনো যদি ইচ্ছে হয় আমার ঋণ শোধ করার, তবে আমার জীবনে এসেই সেটা শোধ করবেন।ততদিন অপেক্ষায় থাকবো।’
এশা ঘুরে ফিচেল হেসে বলে, ‘ফিরবো না জেনেও এই অপেক্ষা করা বোকামি।’
‘একটু বোকামি করি।’
‘জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না।’
‘আমি না হয় একটু থামিয়ে রাখলাম আপনার জন্য।’

আরহাম আর মাহের একেবারে ফিরলেন সন্ধ্যার পর।বিকেলে তাঁরা বেরিয়েছেন,মা বাবার কবর জিয়ারতের জন্য।এরপর কোথায় গিয়েছেন হাফসার জানা নেই।যেখানেই যান,হাফসার জানার ইচ্ছেও নেই।সে শুধু লোকটার থেকে আড়ালে থাকতে চাইছে।গাড়িতে বলা লোকটার কথা শোনার পর লোকটার দিকে তাকাতেও পারেনি সে।লোকটা তাঁর কাছাকাছি থাকার কোনো সুযোগ ও দেয়নি এ পর্যন্ত।
সন্ধ্যার পর নাস্তা নিয়ে রুমে ঢুকলে লোকটা যদি কোনো এক্সিডেন্ট ঘটিয়ে ফেলেন সেজন্য তোহফাকে বাইরে অপেক্ষায় রেখেছিলো।বাইরে কেউ অপেক্ষা করছে তাঁর জন্য এই ভেবে আরহামও আর ঘাটেন নি।যদিও তিনি বুঝতে পারছেন হাফসার এসব লুকোচুরির কারন।মনে মনে হেসে ভাবলেন, আর কত লুকোচুরি!একটা সময় তো তাকে একা পাওয়া যাবেই!
খাবার শেষে মাইমুনাকে কল দিলেন।কয়েকবার রিং হতেই ফোন তুললো।সালাম বিনিময়ের পরপরই আরহাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘সন্ধ্যার মেডিসিন নেওয়া হয়েছে?’

‘জ্বি।’
‘ভালো আছেন?’
‘আলহামদুলিল্লাহ।আপনি কি করছেন?’
‘কিছুনা।’
‘হাফসা পাশে?’
‘না।’
‘ও কি সেখানেও আপনার থেকে দূরে দূরে থাকে?না আসে?’
‘আগের মতোই।’
‘আপনিও তো কথা বলেন না।ওর সাথে সময় কাটান,গল্প করুন, এমনিই ও ভীতু…
‘আপনার কথা বলুন।’
‘একটা গুড নিউজ আছে।’
‘কি?’
‘আব্বু আসছেন।’
আরহাম অবাক হয়ে বললেন, ‘রিয়েলি?’
‘হুম।কাউকে বলবেন না আবার।আব্বু মানা করেছেন বলতে কিন্তু আমি তো বলে দিলাম।’
আরহাম হেসে বললেন, ‘আচ্ছা আমি ভুলে গেলাম।’

‘কেমন সময় কাটছে?’
‘আলহামদুলিল্লাহ।’
‘হাফসা পাশে আছে?ওকে দিন কথা বলি?’
‘পাশে নেই।’
‘আপনাকে মিস করছিলাম শাহ।’
‘চলে আসবো।’
‘উহু,থেকে আসবেন।’
‘আপনাকে ছাড়া কীভাবে থাকবো?’
‘আমি তো আছিই।চলে যাচ্ছি না তো।’
‘ভালোবাসি হানি!’
‘আপনাকেও।’

ডিনারে কাকামণি,আরহাম মাহের একসাথে ডিনার করলেন।তাদের খাওয়ার পর তোহফা,খালা আর হাফসা আলাদা ডিনার করলো।খাবার শেষে খালাকে কিচেনের কাজ গোছাতে সাহায্য করছিলো।অমনি মাহের এসে বললেন, ‘তোমাকে কিছু করতে হবে না।রুমে যাও।’
হাফসা ইশারায় বুঝালো, হাতের কাজ সেরেই সে চলে যাবে।মাহের বাঁধা দিয়ে বললেন, ‘কোনো প্রয়োজন নেই।আরহাম একা বসে আছে।’
ভাইয়ের দিকে ঠোঁট উল্টে তাকালো সে।লোকটা যদি তাকে ও কথা না বলতেন,তাহলে তো সে এমন লুকোচুরি করে না।

কিছুক্ষণ পর কিচেন থেকে ফিরে ঘরে উঁকি মারলো সে।লোকটা ঘুমিয়ে গেলেই সে বাঁচে।কিন্তু আরহামকে সোফায় বসে মনোযোগ সহকারে সিরাতের একটা বইয়ে ডুবে থাকতে দেখে তাঁর গলাটা শুকিয়ে এলো।বড়ো বড়ো শ্বাস নিয়ে বুকে ফু দিয়ে পর্দা সরিয়ে ধীরে ধীরে ঘরে প্রবেশ করে।আরহাম একবার চোখ তুলে তাকিয়ে আবার পড়ায় মনোযোগী হলেন।হাফসা ভাবলো দ্রুত অযু করে এসে সে ঘুমিয়ে পড়বে লোকটা আসার আগেই।কিন্তু ওয়াশরুম থেকে ফিরে দেখে তিনি উঠে গিয়েছেন।
হাফসা নার্ভাসনেস লুকিয়ে তোয়ালে হাত মুখ মুছে বিছানা গোছাতে লাগলো।লোকটা এত চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন কেন সে বুঝতে পারছে না।
‘পাশেই তো গেস্টরুম।আজকেও কি আলাদা ঘুমাতে চান?’
হাফসা নিচুমুখে না বোধক উত্তর দিলো।গেস্টরুমের পাশের রুমে খালা থাকছেন।কোনোভাবে যদি বুঝতে পারেন, নবদম্পতি আলাদা থাকছে, সকালের মধ্যে সেটা এলাকার ব্রেকিং নিউজ হয়ে যাবে।
‘এখানে ঘুমাবো?’

হাফসা মাথা নাড়তেই তিনি দরজা আটকে আসলেন।গরম লাগছে ঘরের মধ্যে।জানালা খুলে থাকায় শীতল বাতাস এতক্ষণ ঘরটা ঠান্ডা করে রেখেছিলো।বন্ধ করতেই যেনো ভ্যপসা গরম আশ্রয় নিলো।কাবার্ড থেকে কাঁথা বের করলো সে।খুব করে চাইছে, রাতটা দ্রুতগতিতে কেটে যাক।এই লোকের সামনে সে এক সেকেন্ড থাকতে পারে না।আস্ত একটা রাত কীভাবে থাকবে।
আরহাম একপাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওর আবোলতাবোল সব কাজকর্ম দেখছেন।এই গরমেও কাঁথা কেন প্রয়োজন।বা এতো গরমেও সে হিজাব সহ ঘুমাবে কেন।
আরহামের সাথে চোখাচোখি হতেই অস্বস্তি আরো ঘিরে ধরলো।ইশারায় বললো,ঘুমান।
আরহাম ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে আচমকা তার দূগালে হাত রাখলেন।লোকটার থেকে আসা আঁতরের খুশবু তাঁর নাকে ঝাপটা দিয়ে গেলো।আরহাম তাঁর নতমুখ তুলে বলতে লাগলেন, ‘আমাকে নিয়ে এত যে সাইনেস,এত যে ভয় আমি সেটা কীভাবে ভাঙ্গাবো বলুন তো!
তুলতুলে পশমের মতো গাল যেনো তার।তার নড়াচড়া বুঝিয়ে দিচ্ছে আরহামের থেকে ছাড় পেতে চাচ্ছে সে।
‘এনিওয়ে,একটা জিনিস বাকি।’

বলতে বলতে তিনি আলতো স্পর্শ এঁকে দিলেন গালে।হাফসা লজ্জ্বায় গলে যাচ্ছিলো একদম।আরহাম তাকে ছেড়ে হেসে বললেন, ‘সারাদিন তো পালালেন।রাতে তো ঠিকই আসতে হলো।এতো লজ্জ্বা কেন?’
হাফসার গালগুলো লাল হয়ে গেলো।ইসসসস কি দারুন লাগছে তাকে দেখতে।আরহাম তাকে আরো লজ্জ্বায় ফেলে হাফসার কাঁধে মাথা রাখলেন।তাকে বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বললেন, ‘ঠিক এইভাবে ঘুমাবো।ছটফট করলে আরো লজ্জ্বায় ফেলবো।”
ঘন্টাখানেক পেরিয়েছে।হুতুম পেঁচার মতো গোল গোল চক্ষুদ্বয় খুলে তাকিয়ে আছে সে।লোকটা তাকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছেন।সরে যাওয়ার চেষ্টা যে সে করেনি এমনটা নয়।প্রথমবার সরে আসতে চাইলেই আরো জোরে জড়িয়ে ধরেছেন।আর দ্বিতীয়বার গালে চুমু দিয়ে ফেলেছেন।তৃতীয়বারের চেষ্টা সে করতে চায় না।এ মুহুর্তে তার মনে হচ্ছিলো,সিঙ্গেল লাইফের মতো বেস্ট লাইফ আর হয় না।

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২২

কিছুক্ষণ মনকে বুঝিয়ে শুনিয়ে মনকে শক্ত করে।এত কাঁপা-কাঁপি নিয়ে সে থাকতে পারবে না।লোকটা তো পর কেউ নয়,বরং তারই হাফ বেটার।তাহলে এত জড়তার কি।
মুখ উঁচিয়ে দেখলো লোকটা ঘুমে।কিন্তু নড়াচড়া পেলে জেগে যাবেন নিশ্চিত।দ্বিতীয়বারের মতো আরহামের দিকে তাকালো সে।এত সুন্দর যার অবয়ব,আচরণে এতো স্নেহ, সেই মানুষটাকে দিনের পর দিন কীভাবে ইগনোর করছে সে।তিনি তো তাকে অস্বস্তিতে পড়বে এমন কোনো পরিস্থিতিতে ফেলেন নি।তাকে স্বাভাবিক করতে তিনি নিজেই যেখানে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন সেখানে গুটিয়ে যাওয়া মানে লোকটাকে একপ্রকার ইনসাল্ট করা।এতো খারাপ ওয়াইফ তো সে নয় ভাবতে ভাবতেই আরহামের চুলের মুষ্ঠিতে আলতো করে আঙ্গুল চালিয়ে দিলো।কিছু টা হালকা লাগছে এখন!

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ২৪