আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৪৭+৪৮+৪৯
ফারজানা মনি
আরিফের কন্ঠ কর্ণ কুহুরে পৌঁছাতেই মিম কিছুটা অবাক হয়ে গেল। আবছা আলোয় মিলন ঘটল দুই জোড়া চোখের। আরিফ এখনো মিমের মুখে হাত চেপে আছে। আরিফ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করছে যে মিমের ওষ্ঠাদর তীর তীর করে কাঁপছে।
আরিফ মিমের ঠোঁটে এক আঙ্গুল ছুঁয়ে বলল: শিসসস…
এভাবে কাঁপছো কেন? আমি কি তোমায় কিছু করেছি।
মিম কাঁপাকাঁপির কারণে নিজেকে স্থির রাখতে পারছে না। নিজের ব্যালেন্স কন্ট্রোল না রাখতে পেরে খামছে ধরল আরিফের শার্ট। আরিফ কিছুটা বাঁকা হাসলো।
আরিফ তো এটাই চায় তার প্রিয়সি সর্বক্ষণ সকল কাজে তার উপর ভরসা করুক। তার মনে যে এক সুখের মহাপ্রলয় বইছে তা সে এই মেয়েকে কি করে বোঝাবে। আজ তো আরিফের ব্যাকুল হৃদয় শান্ত হওয়ার দিন।
কি..কি…কি করছেন? ছাড়ুন আমায়। মিমের কাপা কন্ঠে ধ্যান ভাঙল আরিফের। আরিফ নেশাতুর দৃষ্টিতে মিমের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখ দুটো মিমের সারা মুখে যেন বিচরণ করছে। হঠাৎই আরিফ মিমের মুখের দিকে কিছুটা ঝুঁকে আসলো।
মিম ভয়ে লজ্জায় চোখ খিচে বন্ধ করে রেখেছে। আরিফ মিমের ললাটে একটা চুমু দিলো । তারপর কানের সামনে ঠোঁট নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল:
♥️ I love you jaan ♥️
♥️I can’t think without you ♥️
♥️I can’t live without you ♥️
♥️Trust me, I can handle any situation♥️. just hold my hand until my last breath♥️. I say again, you are only mine…♥️♥️♥️
আরিফের নেশাতুর কণ্ঠে এতগুলো গোটা ইংরেজি শব্দ শোনার পর মিম আস্তে আস্তে চোখ খুলল। চোখ মিলল আরিফের চোখে.. মিম এবার ভায়ার্ত কন্ঠে বলল: ছাড়ুন আমায়… কেউ চলে আসবে…
আরিফ এবার খানিকটা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে মিমের দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল: চলে যাচ্ছ??
মিম: হুম..
আরিফ: আবার কবে দেখা হবে?
মিম: জানিনা..
আরিফ: বাড়িতে গেলে কি আর আমার কথা মনে থাকবে?
মিমের সহজ স্বীকারোক্তি: জানিনা..
আরিফ এবার খানিকটা ভ্রু কুঁচকে বলল: তাহলে কি জানেন ম্যাডাম??
মিম লজ্জায় মাথা নুইয়ে বলল : তাও জানিনা।
আরিফ বুকের পাশে এক হাত রেখে খানিকটা ব্যথাতুর সুরে বলল: ইসসস… আপনার কণ্ঠ ভান্ডারে কি জানিনা ছাড়া আর কোন শব্দ নেই?
মিম কোন কিছুই না বলে মাথা নুইয়ে রাখলো। আরিফ তার পুরুষালী হাতে মিমের মুখের সামনে উড়ে আসা ছোট ছোট চুলগুলোকে সরিয়ে দিল। আরিফের আলতো ছোঁয়ায় যেন মীম কেঁপে কেঁপে উঠছে।
মিম.. এই মিম.. কোথায় তুই..
বাহির থেকে আইরিনের গলা ফাটানো শব্দ শুনে মিম আরিফের কাছ থেকে ছুটে বেরিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই আরিফ মিমের এক হাত চেপে ধরল। হাতে একটা মুঠো ফোন ধরিয়ে দিয়ে বলল: এটা সযত্নে লুকিয়ে রাখবে। প্রতি রাতে আমায় কল করবে, বাড়িতে গিয়ে যদি আমাকে ভুলে যাও। তাহলে লেখাপড়ার জন্য আর সময় দিব না, ডিরেক্ট বিয়ে করে নিয়ে আসবো আমার কাছে । তখন দেখবো কোথায় পালাও..
খাপছাড়া কথায় মিম কিছুটা হাঁসফাঁস করে উঠলো। বাহির থেকে আইরিন এর আবারো ডাক ভেসে আসায় এবার আরিফ মিমের হাতটা ছেড়ে দিল। মিম ছুটে পালালো।
সময় যাচ্ছে সময়ের গতিতে। সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা, তারপর গোটা একটা দিন, তারপর সপ্তাহ, তারপর মাস। সময়ের কাটা তার নিজস্ব গতিতে চলছে।
মেঘের এখন ৭ মাস..
পেটটা বেশ উঁচু হয়েছে। আবির তো মাঝে মাঝেই মেঘের পেটে মাথা রেখে বেবির সাথে কথা বলে। আবিরের পাগলামো দেখে মেঘ শুধুই হাসে..
একেক সময়ে একেকটা খাবার নিয়ে আসে। এসে মেঘের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে, এ খাবার কিন্তু তোমার জন্য না। মেঘ যদি প্রশ্ন করে, কার? আবির সুন্দর মসৃণ হেসে জবাব দেয়, আমার আহিয়ার। যদিও খাবারটা এখন তোমাকেই খেতে হবে কারণ তোমার মাধ্যমেই তো আহিয়া খাবে।
আবিরের এই অদ্ভুত পাগলামো গুলো বিগত কয়েক মাস ধরে মেঘ দেখে আসছে। বারবার ই মুখে বলে সকল খাবার আহিয়ার। কিন্তু তা আবার যত্ন সহকারে মেঘ কেই খাইয়ে দেয়।
মেঘ তখন বাধা দিয়ে বলে , আমি খাব না তোমার মেয়ের খাবার। আবির তখন আবারও হেসে জবাব দেয়: আমি তো তোমাকে খাওয়াচ্ছি না.. তোমার মাধ্যমে আমার মামুনিকে খাওয়াচ্ছি। মেঘ তখন আবারো হতাশ চোখে আবিরের দিকে তাকায়।
সময়ের তালে তালে আরিফ আর মিমের ভালোবাসাটাও যেন মনের গভীর থেকে গভীরে ছুঁয়ে যাচ্ছে। রোজ রাত জেগে কথা হয় দুজনের। মাঝে মাঝে আরিফ তো মিমের কলেজের সামনে এসেও দেখা করে।
আরিফ আজকাল চেষ্টা করছে বাবার ছোটখাটো বিজনেসটাকে আরেকটু বড় করার। বড় ভাই আসিফের কখনোই ব্যবসায় মনোযোগ ছিল না। তাই সে চাকরি জীবনটাকেই বেছে নিয়েছে। কিন্তু আরিফ মূলত ব্যবসায় ই নিজের ক্যারিয়ার টাকে গোছাতে যায়। তাছাড়া মিমের জন্য যোগ্য হওয়াটাও অতি জরুরী।
এদিকে বন্যা আর তানভীর খুব সুখে শান্তিতেই দিন কাটাচ্ছে। সারাদিন পর অফিস থেকে এসে তানভীর যখন বন্যার হাসি মুখটা দেখে। তখন তার মনে হয় সারা রাজ্যের সুখ শান্তি যেন তার ঘরে উকি দিয়েছে। এই মেয়েটা তানভীরের সকল প্রশান্তির কারণ। তানভীর বন্যাকে ছেড়ে এক রাতও থাকতে নারাজ। তাই বন্যা ও তেমন একটা বাপের বাড়িতে যায় না। মাঝে মাঝে তানভীর বন্যাকে নিয়ে যায় এবং সাথে করেই নিয়ে আসে।
কিন্তু এত সুখ শান্তির মাঝেই হঠাৎ ঘটে গেল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যা এলোমেলো করে দিল খান বাড়ির সকল সুখ।
আজ মেঘের সাত মাসের সাধের অনুষ্ঠান ছিল। বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠরা অনুষ্ঠানের কোথাও কমতি রাখেনি। তাছাড়া আবিরতো আছেই.. পুরুষদের কাজগুলো যথাসম্ভব সে নিজেই দায়িত্ব নিয়ে করেছে। সাথে ছিল তানভীর, আরিফ ,রাকিব, রাসেল, সাকিব সহ আরো অনেক ছেলেরা।
আবির এত মহাব্যস্ততার মাঝেও মেঘের খেয়াল রাখতে একটুও ভুলেনি। কিন্তু মেঘ সে কি শান্ত হয়ে এক জায়গায় বসার মত মেয়ে। সারাক্ষণ নিচতলা উপর তলা করে বেরিয়েছে। ভাড়ি শরীর নিয়েও সে দৌড়াদৌড়ি থেকে একটুও পিছু পা হয়নি। সবার এত সাবধানতার পরেও কে শোনে কার কথা..
সন্ধ্যার একটু পর মেঘকে টুকটুকে একটা লাল শাড়ি পরিয়ে বন্যা নিচে নিয়ে আসলো। বসিয়ে দিল সকলের দোয়া নেওয়ার জন্য। তারপর তার পছন্দের সকল খবারও তাকে খাওয়ানো হলো।
সাধের আনুষ্ঠানিকতার পর্ব শেষ হতেই মেঘের কি মনে পরল কে জানে সে ছুটে চলল তার রুমের দিকে। হালিমা খান পিছন থেকে বারবার ডেকে বলল: মেঘ আস্তে যা..
কিন্তু মেঘ কি সে কথা শোনার পাত্রী।
কিছু দূর সিঁড়ি বেয়ে ওঠার পরেই পায়ের সাথে শাড়ি পেচিয়ে মেঘ হোঁচট খেয়ে পড়ল। ঠিক তখনই নিজের রুম থেকে নিচে আসছিল আবির। মেঘের অনাকাঙ্ক্ষিত পড়ে যাওয়া দেখেই আবির ছুটে এসে মেঘকে ধরল। কিন্তু এতক্ষণে মেঘ সিঁড়িতে বসে পড়েছে। হয়তো আবির আসতে আরেকটু দেরী হলে মেঘ সিঁড়ি থেকে নিচেই পড়ে যেত।
কিন্তু সৌভাগ্যবশত আবির এসে মেঘকে আঁকড়ে ধরে। নিচের থেকে সবাই এই ঘটনা দেখে ভয়ে দৌড়ে আসলো মেঘের দিকে।
আবির তৎক্ষণাৎ মেঘকে পাজা কোলে তোলে নিজের রুমে নিয়ে শুইয়ে দিল। মেঘকে বারবার চেক করে জিজ্ঞাসা করছে কোথায় কোথায় ব্যথা পেয়েছে। কিন্তু মেঘ জানালো সে কোথাও ব্যথা পায়নি। শুধু কোমরে একটু ঝাকুনি লেগেছে।
আবির একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। এতক্ষণে বাড়ির সকলেই জমা হয়ে গেছে, মেঘের রুমে। তানভীর বন্যা সহ বাড়ির সকলেই বারবার জিজ্ঞাসা করছে যে ডক্টর ডাকবে কিনা, মেঘ কোথায় ব্যথা পেয়েছে।
কিন্তু মেঘের বারবার একই জবাব সে ঠিক আছে। আবির গম্ভীর মুখে পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।
কিছুক্ষণ পর সকলে চলে যেতেই আবির খাটের অন্যদিকে ফিরে শুয়ে পড়লো। মেঘ বুঝতে পারলো আবিরের এত বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও মেঘের এত অবাধ্য চলাফেরার কারণেই আবির রাগ করেছে। মেঘ আর কিছুই বলল না। সে নিজেও চুপচাপ শুয়ে পড়লো। কোমর টা হালকা চিনচিন ব্যথা করছে। ঘুমিয়ে যাওয়াটাই শ্রেয়।
কিন্তু বিপত্তি ঘটল মধ্য রাতের দিকে…
মেঘ আর আবির দুজনেই ঘুমিয়ে আছে। হঠাৎই মেঘ পেট ও কোমরের হালকা চিনচিন ব্যথায় হালকা নড়েচড়ে উঠলো। এক পাশ হয়ে শুয়ে থাকা অবস্থায় কোমরে ব্যথা করছে। হয়তো সেটা ভেবেই মেঘ ঘুমের মধ্যে খানিকটা সোজা হলো। কিন্তু সেই সময়েই ঘটলো এক অপার্থিব ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
মেঘ খানিকটা সোজা হওয়ার পরেই বুঝতে পারলো মেঘের গর্ভ পথ থেকে তরল কিছু গড়িয়ে পড়ছে। মুহূর্তের মধ্যেই তরল পদার্থটার পরিমাণ যেন বাড়ছে।
মেঘ ঘুমের মধ্যেই খানিকটা ভ্রু কুঁচকে খাটের পাশে থাকা ল্যাম্প লাইট টি জ্বালিয়ে উঠে বসলো।
বিছানায় তরল কিছুর অবস্থান চোখে পড়তেই মেঘ খানিকটা ভয়ে বিছানা থেকে নেমে রুমের লাইট জ্বালিয়ে রুমটাকে আলোকিত করল। একি… মেঘের চোখ তো আশ্চর্যে কোঠা থেকে বেরিয়ে আসছে। মুখের বাক শক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছে। মেঘ কিছু বুঝতে না পেরে তাড়াহুড়া করে আবির কে ডাকলো।
আবির ঘুমো ঘুমো চোখে মেঘ থেকে জানতে চাইলো কি হয়েছে? কিন্তু মেঘ যেন কথা বলার শক্তি হারিয়েছে। আঙ্গুল দিয়ে বিছানার দিকে দেখালো। মেঘের আঙ্গুলের ইশারা বুঝতে পেরে আবির ও বিছানার দিকে লক্ষ্য করল।
আবির মুহূর্তেই ঘুম ছেড়ে সোজা হয়ে বসলো। মেঘের কাছে গিয়ে বলল : তুমি ঠিক আছো? মেঘ কাঁদো কাঁদো হয়ে উত্তর দিল: হুম কিন্তু হঠাৎ করে এত ব্লাড কেন বের হলো? আমাদের বেবি ঠিক আছে তো?
আবির চিন্তিত মুখ নিয়ে মালিহা খানের দরজায় গিয়ে টোকা দিল। মালিহা খান
এত রাতে আবিরকে দরজার বাইরে দেখে চিন্তিত মুখে শুধালো: কি হয়েছে?
আবিরের মুখে মেঘের কথা শুনেই মালিহা খান হালিমা খানকে ডেকে নিয়ে উপরে মেঘের রুমে চলে গেল।
মালিহা খান ও হালিমা খান মেঘ আবিরের রুমে ঢুকে দেখলো মেঘ যুবু থুবু হয়ে ফ্লোরে বসে আছে। দুজনেই চিন্তিত মুখ নিয়ে মেঘের নিকটে পৌঁছালো।
মালিহা খান চিন্তিত মুখে শুধালো: কি হয়েছে মেঘ তোর? কেমন লাগছে আমাকে একটু খুলে বলতো… মেঘ কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে আম্মু আর বড় আম্মুর দিকে তাকিয়ে আছে। পাশেই চিন্তিত ও অসহায় মুখে দাঁড়িয়ে আছে আবির।
হালিমা খান তো চিন্তায় হাউমাউ করে কেঁদেই দিল। আর কাঁদবে নাইবা কেন… কি হচ্ছে তার ছোট্ট মেয়েটার সাথে।
আল্লাহ না করুক, যেভাবে ব্লাড গিয়েছে বাচ্চাটার যদি কিছু হয় তাহলে মেয়েকে কিভাবে সামলাবে সে।
মায়ের কান্না দেখে এবার মেঘ ও হাউ মাউ করে কেঁদে দিল।
মালিহা খান হালিমা খানের উদ্দেশ্যে বলল: হালিমা.. কি করছিস তুই? তুই যদি এভাবে কান্নাকাটি করিস তাহলে মেঘকে কিভাবে সামলাবো।
এবার হালিমা খান মনে হয় কিছু বুঝলো.. চুপ করে মেঘের পানে তাকিয়ে আছে।
মালিহা খান মেঘকে ফ্লোর থেকে তুলে একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসিয়ে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি এগিয়ে দিল। বলল: এটা খা ভালো লাগবে..
ভয়ে মেঘের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে। পানির গ্লাসটা সামনে পেয়েই মেঘ সাথে সাথে সেটা নিয়ে এক চুমুকে পুরো গ্লাসের পানি খেয়ে নিল।
এবার আবির ও রুমের বাইরে চলে গেল। হয়তো প্রাইভেসি দিল মামুনি ও আম্মুকে। চিন্তায় তার মাথার ভিতরে ধব ধব করছে। মনে মনে আল্লাহকে হাজার বার বলছে মেঘের যেন কিছু না হয়।
মেঘ.. তোর শরীরে কি কোন অস্বস্তি বা দুর্বলতা লাগছে? মালিহা খানের প্রশ্নে মাথা তুলে তাকালো মেঘ। কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে আওরালো: না বর আম্মু..
মালিহা খান: পেটেও ব্যথা করছে না?
মেঘ: না ..
মালিহা খান: শরীরে কি কোন অসুস্থতা লাগছে না?
মেঘের এবারও শান্ত জবাব: না.. আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি.. শুধু সন্ধ্যায় কোমরে ব্যথা পেয়েছি বলে কোমরে হালকা চিনচিনে একটু ব্যথা আছে..
মালিহা খান কিছুক্ষণ ভেবে তারপর জবাব দিল, যেহেতু এখনো পেটে ব্যথা বা কোন সমস্যা দেখা দেয়নি তার মানে ইনশাল্লাহ বেবি হয়ত ভালো আছে তুই চিন্তা করিস না। রুমের বেডশীট টা চেঞ্জ করে দিয়ে যাচ্ছি তুইও চেঞ্জ করে নে..
মেঘ: কিন্তু বড় আম্মু..
মেঘের কথা শেষ না হতেই বাদ সাধলো মালিহা খান। আর কোন কথা না যেহেতু শরীর সুস্থ আছে সেহেতু শুয়ে পর .. আর আগামীকাল সকালে তোকে নিয়ে ডক্টরের কাছে যাব চেকআপ করাতে।
মেঘ মালিহা খানের দুহাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল: বড় আম্মু.. আমার বেবি টার কিছু হবে না তো?
মালিহা খান: আমার এত বছরের অভিজ্ঞতা বলছে কিছুই হবে না হয়তো। তাও আগামীকাল ডক্টরের কাছে গিয়ে চেকআপ করিয়ে নিব।
মেঘ আর হালিমা খান এবার যেন একটু স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললো। দুই জা মিলে মেঘের বিছানা পরিবর্তন করে মেঘকে চেঞ্জ করিয়ে তারপর বিছানায় শুয়ে দিয়ে গেল।
মালিহা খান হালিমা খান রুম থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে আবির রুমে ঢুকলো। মেঘ আবিরের পানে তাকিয়ে হঠাৎ যেন থমকে গেল, কি বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে তার আবির ভাইকে। এলোমেলো কতগুলো চুল ঘামে মাখা কপালে পড়ে আছে। অসহনীয় চিন্তার কারণে আবিরকে আজকে মেঘে দুই নয়নে অনেক এলোমেলো লাগছে। সব সময় গুছিয়ে থাকা ছেলেটা ও আজ নিজের ভালোবাসার মানুষের চিন্তায় অগোছালো হয়ে গেছে।
মেঘ আবিরের অতিরিক্ত চিন্তা বুঝতে পেরে ইশারা দিয়ে আবিরকে তার সামনে র ডাকলো। আবিরও ছুটে গিয়ে ছোট বাচ্চাদের মত মেঘকে জাপটে ধরল। মেঘ আবিরের মাথার আবিরের চুলের ফাঁকে তার চিকন চিকন আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে বলল: এমন বাচ্চাদের মত কেন করছেন বলুন তো.. এইতো আমি ঠিক আছি।
আবির এবার মেঘকে আরো শক্ত করে ধরল মনে হচ্ছে সে ছেড়ে দিলেই বুঝি কেউ নিয়ে যাবে।
মেঘ বুঝিয়ে শুনিয়ে আবিরকে শান্ত করল কিন্তু আবিরের মন যেন কিছুতেই মানছে না তাই বারবার জিজ্ঞাসা করছে সব ঠিক আছে কিনা..
অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেঘ মুচকি হাসলো। জানালো সে সুস্থ আছে তার পরেও আগামীকাল সকালে ডাক্তারের কাছে গিয়ে চেকআপ করিয়ে নিবে। আর এটাও বলল মালিহা খান যে বলেছে বাচ্চার ক্ষতি হওয়ার মতো কোনো সম্ভাবনা এই মুহূর্তে দেখছে না। ইনশাল্লাহ বাচ্চা হয়তো ভালো আছে।
আবির একটু স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলল। মেঘকে বুকে নিয়ে শুয়ে পড়ল।
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ২ পর্ব ৪৪+৪৫+৪৬
আবিরের বুকে মাথা রেখেও অন্ধকারে মেঘ তাকিয়ে আছে। তার দু চোখে কিছুতেই ঘুম আসছে না। কেন জানি মনে হচ্ছে কিছু যেন ঠিক নেই। মনটা বারবার কূ ডাকছে। তখন আবিরকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য অনেক কিছুই তো বলল মেঘ। কিন্তু এখন সে নিজেকে বোঝাতেই অক্ষম।
দু চোখের পাতা আজ কিছুতেই এক হচ্ছে না। কেন জানি মেঘের বারবার মনে হচ্ছে এই রাত ই কি আবির ভাইয়ের সাথে আমার শেষ রাত। কথা টা ভাবতেই যেন সারা শরীর কাটা দিয়ে উঠলো।
