৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৩
রুপান্জলি
রাত ১ টা ২৮ মিনিট
,,, সকালে হসপিটাল থেকে ফিরে সন্ধা পর্যন্ত টানা ঘুমের মধ্যে ছিলো অর্পনা তারপর ঘুম থেকে উঠে রাত্রিকে দেখতে গেলো। ওকে দেখে ফিরে এসে খাওয়া দাওয়া করে আবারও ঘুম। সে ঘুমাতে না চাইলেও একটা অদ্ভুত লোক টেনে টুনে চেপে ধরে ঘুম পারিয়েছে। মুখে একটা কথা বলবেনা অথচ গায়ের জোর দেখাবে। কি খেয়ে এতো জোর বানিয়েছো আল্লাহ মালুম। সামান্য হাত ধরলেই ছুটা যায়না চেপে ধরলে তো জান বেড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এইতো এখনো চেপে ধরে শরীরের বেশিভাগ ভার তার উপর দিয়ে রেখেছে। একটুখানি নড়াচড়া করার মতো ফুসরত রাখেনি। একটা মানুষ কিভাবে এতো ঘুমাতে পারে? বিয়ের পর থেকে দেখছে, এই লোক ঘুমানোর পর ঘুমায় তারপর আরও ঘুমায়। উনাকে ঘুমানোর প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিলে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করবে নিশ্চিৎ। অর্পনা নড়াচড়া করতে চাইলো,, দ্বীপের থেকে ছাড়া পেতে ধীরে ধীরে ওকে উপর থেকে সরানোর চেষ্টা করলো তবে সফল হলো না। অর্পনার নড়াচড়ায় বড্ড বিরক্ত হলো দ্বীপ,, চোখ বন্ধ রেখেই ঘুমু ঘুমু কন্ঠে বললো — কি হয়েছে? জেগে থাকতে তো শান্তি দেও ই না ঘুমানোর সময় ও একটু শান্তি পাবো না? এতো নড়াচড়া করে কি বুঝাতে চাও? আমি তোমায় জোর করে আটকে রেখেছি। হুম!! যা বুঝাতে চেয়েছো সবটাই সঠিক। এবার ঘুমাও।
,,, দ্বীপকে সজাগ দেখে অর্পনা হালকা বিরক্তি ভরা কন্ঠে বললো — আপনার কি বিছানায় জায়গার অভাব পরেছে? আপনি আমার উপরে কেন চলে আসেন ভাই?
,,, ভাই ডাক শুনে তেতে উঠলো দ্বীপ, গতদিনের রাগ ভুলে ধমকের স্বরে বললো — এই মেয়ে ভাই ডাকবে না। তোমার স্বভাব অত্যন্ত খারাপ। কথার ফাকে ফাকে ভাই ডাকো আর জ্বর এলেতো ,, বেয়াদব মেয়ে!!
,,, জ্বর এলে কি?
,,, বাদ দেও!! আর কখনো এসব ডাকবে না, আল্লাহ গুনাহ দিবেন।
,,, ছাড়ুন, আমি ঘুমাবো না। সকাল থেকে ঘুমাচ্ছি এখনো শুয়ে আছি,, পুরো শরীর ম্যাজ ম্যাজ করছে।
,,, দ্বীপ অর্পনার চোখে চোখ রেখে বললো — মাসাজ করে দিবো?
,,, অবাক চোখে তাকালো অর্পনা, লোকটা কি? ছিহ!! দ্বীপ কথাটা ইচ্ছা করে বললেও এখন না জানার ভান ধরে নিশ্পাপ কন্ঠে বললো —- হাত পায়ের কথা বলেছি, মাসাজ করে দেই।
,,, অর্পনা দাতে দাত চেপে দ্বীপের বুক ঠেলে বললো — নাহ!! লাগবেনা। ধন্যবাদ, এবার আমায় একটু ছাড়ুন। রেহাই দিন।
,,, দ্বীপ ধীরে সুস্থে ছেড়ে দিলো অর্পনাকে। অর্পনা উঠে বসে হাফ ছাড়লো। শুয়ে থাকতে থাকতে গা, হাত, পা ব্যাথা হয়ে গিয়েছে এই মুহুর্তে একটু এক্সারসাইজ করতে পারলে ভালো লাগতো কিন্তু রুমে তো দ্বীপ আছে। অর্পনা সরাসরি তাকিয়ে দ্বীপকে দেখে নিলো,, দ্বীপ ওপাশ ফিরে ঘুমিয়েপরলো। অর্পনা রুম থেকে বেরিয়ে বারান্দায় গিয়ে দুপা ভাজ করে ইয়্যোগা স্টাইলে বসে নাক টেনে ধীরে ধীরে শ্বাস নিলো। এখন কিছুটা রিলিফ লাগছে,, পরপর মেঝেতে শুয়ে শব্দ হীন পুস আপ করলো কয়েকটা,, হাত পা ঠিক করতে কয়েকটা শব্দ হীন বেয়াম করলো। বেয়াম শেষ করে পিছনে তাকাতেই দেখলো দ্বীপ বারান্দার দরজায় হেলান দিয়ে বুকে হাত বেধে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। তপ্ত শ্বাস ফেললো অর্পনা, বিরক্তিকর কন্ঠে বললো — আপনি এখানে কেনো?
,,, দ্বীপ তখন অর্পনাকে বিভ্রান্ত হতে দেখে আবারো বিভ্রান্ত করতে মাদকিয়ো কন্ঠে বললো — বাহ!! তুমি তো ভালোই পুস আপ করতে পারো। গুড!!, আ’ম ইম্প্রেস্ড। তাহলে চলো একটা প্রতিযোগিতা করি, কে কার থেকে বেশি পুশ আপ করতে পারে।
,,, দ্বীপের টোনে অন্যকিছু থাকলেও এবার অর্পনা বিভ্রান্ত হলোনা। সে ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবে নিয়ে বললো,– নাহ!! এতো রাতে এসব না। আর এমনিতেও আমার অনেক এনার্জি লস হয়ে গিয়েছে। এই মুহুর্তে শুরু করলে হাড়বো নিশ্চিত।
,,, হাড়ার ভয় পাচ্ছো?
,,, আপাতত!!
,,, তাহলে কখন পাবেনা?
,,, নেক্সট একটা টাইম সিলেক্ট করুন যখন দুজনার এনার্জি থাকবে।
,,, দ্বীপ আবারো দুষ্ট হেসে বললো — এমন ভাবে বলছো যেনো পুস আপ না, অন্য কিছু করার জন্য প্রিমিয়ার হচ্ছো।
,,, অর্পনা দাঁতে দাঁত চেপে উঠে দাড়ালো, দ্বীপকে ঠেলে দরজা থেকে সরিয়ে রুমে যেতে যেতে বললো– আপনি মানুষ হিসেবে ভালো হলেও হাসবেন্ড হিসেবে অত্যন্ত অভদ্র।
,,, দ্বীপ অর্পনার পিছু পিছু এসে ওর উড়নার দুপাশ ধরে আচমকা টান দিয়ে ওকে কাছে নিয়ে এলো। অতর্কিত হামলায় দ্বীপের বুকে হুমরি খেয়ে পরলো অর্পনা,, এরকম টানে গলায় বড্ড ব্যাথা পেলো। গলায় হাত দ্বারা মাসাজ করতে করতে দাতে দাত চেপে বললো — মেরে ফেলবেন?
,,, দ্বীপ অর্পনার গলা থেকে ওর হাত সরিয়ে কতোটা আঘাত লেগেছে চেক করতে করতে আচমকা হালকা করে গলা টিপে ধরে বললো– চলো মেরে ফেলি।
,,, গলা টিপে ধরার পরেও ভাবাবেগ হলোনা তার, সে ফের বিরক্তিকর কন্ঠে বললো– এই!! আপনি রাত বিরেতে আমায় জ্বালাচ্ছেন কেনো বলুন তো? আপনি না আমার সাথে রাগ করেছেন? এখন কি রাগ হাওয়া হয়ে গিয়েছে? সরুন!!
,,,দ্বীপ গলা ছেড়ে দিয়ে উড়নাটা নিজের হাতে নিয়ে পেচাতে পেচাতে বললো — বউকে তো রাতেই জ্বালাতে হয়, জানো না?
,,, অর্পনা কিছু বললো না। উড়না নেওয়ার প্রয়াস ও করলো না। এমনিতেও সে উড়নার ধার ধারেনা তার উপর এই লোকের সামনে এভাবে থাকাটা অনেক আগেই অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। অর্পনা দ্বীপকে ইগনর করে স্টাডি টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলো উদ্দেশ্য বই পড়া। দ্বীপের সহ্য হলো না সেটা। সে এগিয়ে গিয়ে অর্পনার হাত টেনে নিজের দিকে ঘুড়িয়ে বললো —
,,, ঘুরতে যাবে?
,,, এই রাতে?
,,, রাতের পাখিরা রাতেই ঘুরে বেরায়।
,,, তারমানে বলতে চাচ্ছেন আপনি একটা প্যাঁচা?
,,, আমি ভাম্পায়ের কথা বলেছি।
,, ভাম্পায়ার পাখি হলো কবে থেকে?
,,, আমার মনে হচ্ছে,, আমরা হাসবেন্ড ওয়াইফের মতো ঝগড়া করছি।
,,, তো আমরা কি ভাই বোন?
,,, অর্পনাকে পর পর ত্যাড়ামি করতে দেখে দ্বীপ চোখ মুখ শক্ত করে বললো — আমি টিপিক্যাল হাসবেন্ড ওয়াইফের কথা বলছি।
,,, দ্বীপের শক্ত চোখ মুখ দেখে অন্যদিকে তাকিয়ে হেসে ফেললো অর্পনা ,, অন্যদিকে ফিরলেও ব্যাপারটা ধরে ফেললো দ্বীপ। হুট করেই সব কঠিনতা হাওয়া হয়ে গেলো। সে মাথা নামিয়ে অর্পনার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললো– চলো লং ড্রাইভে যাই,, তুমি, আমি আর বাইক,, রাতের আধারে অনেকটা কাছাকাছি, অনেকটা আদরে ,,,
,,, অর্পনা দ্বীপের বুকে ধাক্কা মেরে বললো — অসভ্য মির্জা!!
,,, রাইডিং ড্রেস পড়ে রেডি হয়ে নিচে নেমে এলো দ্বীপ আর অর্পনা। দুজনের পরনেই ব্লাক জ্যাকেট, ব্লাক পেন্ট, ব্লাক হেন্ড গ্লাব্স, ড্রাইভিং স্যুজ। পার্কিং লটের সামনে এসে মেধা আর বিহানকে একই সাজে দেখে কপাল কুচকে নিলো দুজনেই। মেধা পার্কিং লটের সামনে দাড়িয়ে আছে আর বিহান বাইক নিয়ে বের হচ্ছে। অর্পনা একবার বিহানের দিকে তাকিয়ে চোখ বাকালো যেনো বিহানকে ওর সহ্যই হচ্ছে না। পরপর মেধার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করতে নিলে পাশ থেকে ধেয়ে এলো দ্বীপের কণ্ঠস্বর।
,,, তরা এখানে কি করছিস?
,,, মেধা বলার জন্য মুখ খুলতেই বিহান বললো — সারাদিন ঘুমিয়ে এখন শরীর ম্যাজ ম্যাজ করছে,,তাই আমরা লং ড্রাইভে যাচ্ছি। বাট তরা এই বেশে এখানে কেনো? এখন বলিস না, তরাও লং ড্রাইভে যাবি!!
,,, অর্পনা ত্যারা কন্ঠে বললো — কেনো? গেলে কি পাপ হবে?
,,, বিহান হাসি হাসি মুখ করে ঠান্ডা মাথায় খোচা দিয়ে বললো — আসলে তোমাদের সাথে এসব যায়না,, লং ড্রাইভে যায় কাপলরা বাট তোমরা তো প্রতিদ্বন্দ্বী। তোমাদের মাঝে ভালোবাসার ছিটাফোঁটাও নেই। তোমরা বরং আলাদা আলাদা বাইকে যাও,, প্রতিযোগিতা করো। ভালোবাসা তোমাদের জন্য নয়।
,,,, অর্পনা নাক মুখ কুচকে বললো — ভালোবেসে বিশ্বকাপ জয় করে ফেলেছেন? ইতিহাসে নাম উঠেছে? নাকি “”বিহানের ভালোবাসা”” নামক কোনো উপন্যাস রচনা হয়েছে? হলে বলুন,, একটু পড়ি, পড়ে শিখি,, শিখে নাহয় আপনার ভাইকে ভালোবাসলাম।
,,,অর্পনার কথায় চমকে উঠার ভান করলো বিহান, যেনো ইম্পর্ট্যান্ট কোনোকিছু পেয়ে গিয়েছে। মুখে সিরিয়াস ভাব এনে বললো— ইসস!! ভালো কথা মনে করালে। এবার মনে হচ্ছে আমার ভালোবাসা নিয়ে একটা উপন্যাস লিখেই ফেলতে হবে। প্রকাশনীতে ছাপাতেও হবে তারপর তুমি নাহয় প্রি অর্ডার দিয়ে কিনে নিও। আসলে আমার ভালোবাসা এতেটাই তিব্র যে প্রকাশ হওয়ার আগেই পাঠক পাঠিকারা বই নিয়ে কাড়াকাড়ি শুরু করে দিবে। প্রি অর্ডার ছাড়া বই পাওয়া অসম্ভব!! বুঝলে? আমার ভালোবাসায় একটা ব্যাপার আছে বস!! ( পরনের জ্যাকেটের কলার উচিয়ে)
,,,দ্বীপ চোখ মুখ শক্ত করে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে আর মেধা বুকে হাত বেধে দুইজনার ঝগড়া দেখছে। এটা নতুন কিছু নয়। এরা দুজন খাবার টেবিল, ছাদ, বসার ঘর, বাগান, রাস্তাঘাট, যেখানেই দেখা হবে সেখানেই এরকম একে অপরকে পিন্চ মেরে কথা বলবে। এখনো তাই করে যাচ্ছে। অর্পনা তীব্র অনিহা প্রকাশ করে বললো– ফালতু ব্যাপার সেপার। যান তো, নিজেদের রাস্তা মাপেন। আর আমাদেরকে আমাদের মতো ছেড়ে দিন।
,,,, বিহান ও সমান তালে অনিহা প্রকাশ করে বললো — ছেড়ে দিলে কি হবে? সেই তো ঝগড়াই করবে। তার চেয়ে ব্যাটার চলো ভালোবাসা আর অ-ভালোবাসার মাঝে একটা প্রতিযোগিতা হয়ে যাক। দেখি কে জিতে।
,,, সিরিয়াস?
,,, মজা মনে হচ্ছে?
,,, অর্পনা হাত মুঠ করে এগিয়ে দিয়ে বললো — ওকে ডান!!
,,, বিহান মুঠ করা হাতে পান্চ মেরে বললো– ওকে!!
*****
,,রমনা থানার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে দুটো বাইক। “Ducati Superleggera V4” এবং “Kawasaki Ninja H2R” । প্রথমটাতে দ্বীপ আর অর্পনা বসে আছে আর দ্বিতীয়টাতে বিহান আর মেধা। মেধা দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছে বিহানকে তার ঠোঁটে আত্মবিশ্বাসের হাসি। বিহান এক হাতে হেলমেটের গ্লাস নামিয়ে মেধার হাতে হাত রেখে বললো — আর ইউ রেডি মাই কুইন??
,,,, মেধা বিহানের পিঠে চুমু একে বললো — ইয়্যাপ হাসবেন্ড!!
,,, বউয়ের সাহারা পেয়ে বিজয়ী হাসলো বিহান,, তার বউটা এত্তো কিউট না। সবার সামনেই কি সুন্দর পিঠে একটা কিউট চুমু খেয়ে ভরসা দিয়ে দিলো। যদিও এই চুমুটা চাইলে বিহানের ঠোঁটেও দিতে পারতো। সমস্যা নেই,, রেইসটা শেষ করে নাহয় বউয়ের থেকে একটা টাইট চুমু নিয়ে নিবে। অপরদিকে অর্পনা নিশ্চিত দ্বীপ জিতবে। জেতার হলে দ্বীপ ই জিতবে নয়তো কেউ নয়। তার বিয়ে করা হাসবেন্ড হয়ে, তার শত্রুর মতো ভাইয়ের কাছে হেড়ে যাবে তা হতেই পারেনা। বেয়াদব বিহানটা সারাক্ষণ তাকে খোচায়। যেনো ভালোবেসে এভারেস্ট জয় করে ফেলেছে আর অর্পনা কিছুই করতে পারেনি। অর্পনা আর দ্বীপকে দূরে দূরে বসতে দেখে বিহান শব্দ করে একটা গা জ্বালানো হাসি দিয়ে বললো — ওপ্স রানি!! আমাদের সুখে কারোর নজর না লেগে যায়।
,,, অর্পনা হেলমেট মাথায় রেখেই কটমট করে তাকালো। কিছু বলতে মুখটা নিসপিস করলো। বলতে নিতেই তার আগে দ্বীপ বললো — নাও ইয়্যুর টার্ন বিহান। তুই আগে যা,, আমি আসছি।
,,দ্বীপের কথায় হতবিহ্বল হয়ে তাকালো অর্পনা, দ্বীপ কি ওদের ছাড় দিতে চাচ্ছে যেনো জিতে যায়? পরোক্ষনেই কথার মার প্যাচে দ্বীপের নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠায় মনে মনে গর্বিত হলো। বিহান ও লুফে নিলো সেই সুযোগ। একদিন কোনো একটা কারনে বড়ো আব্বু বলেছিলেন “জীবনে আসা প্রতিটি সুযোগকে গুরুত্ব দাও; কারণ অনেক সময় ছোট একটি সুযোগ হতো পারে বড় কোনো সাফল্যের সূচনা” বিহান অক্ষরে অক্ষরে মানে সেই কথাটা।আজো মানলো,, সহাস্যে দ্বীপের দিকে হাত বাড়িয়ে দিতেই দ্বীপ হাত বাড়িয়ে পাঞ্চ মারলো। পরপর ইন্জিনে ঘর্ষন তুলে সামনের দিকে ছুটে গেলো তারা। ওরা চলে যেতেই ঘাড় বাকিয়ে অর্পণার দিকে তাকালো দ্বীপ,, ওকে তাকাতে দেখে অর্পনা ভ্রু উচালো যা হেলমেটের ফাকে স্পষ্ট বুঝা গেলো। দ্বীপ ক্ষানিক্ষন তাকিয়ে থেকে বললো — সামনে আসো।
,,,হোয়াই?
,,, উত্তর করলো না দ্বীপ, বাইক থেকে একটা পা নামিয়ে অনুমতি ব্যাতিতই অর্পনার কোমর জড়িয়ে ওকে সামনে নিয়ে এলো। অর্পনা বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করলো — কি হলো এটা?
,,, দ্বীপ অর্পনার দিকে ঝুকে গলার কাছে নাক নিয়ে লম্বা শ্বাস টেনে বললো– আমার নাসারন্ধ্রে যতক্ষন না তর গায়ের ঘ্রাণ পৌছাবে,, ততক্ষণ নিজেকে উইক মনে হবে। আর তুই তো আমার ক্লাস মেইট নয় যে তকে পিছনে নিয়ে ঘুরবো, তুই আমার রুম মেইট,, রুম মেইটরা পিছনে নয় বুকে থাকে। ঠিক এইখানে। ( বুকের দিকে ইশারা করে)
,,,অর্পনার কায়া শিরশির করে উঠলো,, কিছুটা বিভোর হয়ে দ্বীপের বুকের দিকে তাকিয়ে রইলো,, ওটা তার জায়গা? আর সে দ্বীপের রুম মেইট? আর কতো কি যে শুনতে হবে জীবনে!! কতো রং করলো এই লোক। আরও না জানি কতো রং করেন। এসব কথা ভেবে নিজেকে ঠিক রাখতে চেয়েও পারলো না, মিয়িয়ে গেলো মেয়েটা। ভিতরটা হাসফাস করে উঠলো। এই প্রথম নিজেকে খুব লো-কোয়ালিটির গেইমার মনে হলো। নিজের কাছে নিজে হেড়ে যাবে নাতো? অর্পনার মিয়িয়ে যাওয়া মুখটা দ্বীপের নজরে পরলো না তবে ওর হৃদয়ের অস্বাভাবিক তোলপাড় ঠাওর করে নিলো দ্বীপ। সহসা হাত বাড়িয়ে অর্পনার মাথা থেকে হেলমেট টা খুলে দিয়ে আকরে ধরলো অর্পনার কোমল উষ্ঠ। দ্বীপের এই হুটহাট করা কাজগুলোতে বড্ড বিভ্রান্ত হয় অর্পনা,, নিজের তৈরি করা শক্ত আবরণ ভেঙে আসতে চায়। সে তো বাচ্চা নয়, যথেষ্ট প্রাপ্ত বয়স্ক। হুট হাট এরকম করাটা খুবি বিরক্তিকর নয় কি? অনেকটা সময় পর অর্পনাকে রয়ে সয়ে ছাড়লো দ্বীপ। কুন্ঠায় মিয়িয়ে আসা অর্পনার গাল আকরে বললো–
,,, এটুকু না হলে জিতা অসম্ভব। শক্ত করে ধর,, যেনো প্রতিটি নিঃশ্বাসে আমি তর ঘ্রাণ অনুভব করতে পারি।
,,, অর্পনা ধরবে নাকি ধরবেনা তার মতামত দেওয়ার ও ফুসরত পেলো না,, তার আগেই গিয়ার চাপলো দ্বীপ। বাতাসের বেগে ছুটে গেলো রমনার পথ ধরে। শুরুতে ১০০,,১৫০,,২০০,, ২৫০ গিয়ার তুলে এগিয়ে গেলো সামনে। ধীরে ধীরে তা ৩২০ ছাড়ালো । বাতাসের তোপে দ্বীপের পরনের খোলা জ্যাকেট উড়ছে ,,শক্ত পোক্ত বুকটাতে মিশে যাচ্ছে গায়ের টিশার্ট। স্ট্রিট লাইটের আলোয় মন্থর হয়ে দ্বীপের রুপ দেখছে অর্পনা। হুস হাড়িয়ে, দ্বীপের খোলা জ্যাকেটের ভিতরে হাত গলিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। দ্বীপের ঠোঁটে তৃপ্তির হাসি,, গিয়ার আরও এক ধাপ বেড়ে ৩৪০ এ পৌছালো।
,,, বাতাসের তোপে মেধার বেনি করা চুলগুলো থেকে বেড়িয়ে আসা ছোট ছোট চুলগুলো উড়ছে,, মেয়েটা সর্বোশক্তি দিয়ে আঁকড়ে ধরেছে তার স্বামিকে। নিজেকে আকাশে উড়ন্ত ঘুড়ি মনে হচ্ছে। যতবার সে রাতে বিহানের সাথে বের হয়েছে ততোবার নিজেকে সর্ব সুখি মনে হয়েছে। এই রাতের আকাশটাও তাকে সাদরে গ্রহন করেছে,, কখনো কোনো অবজ্ঞা দেয়নি। তারা গুলো ওর দিকে তাকিয়ে আফসোস করেনি। মায়া মায়া কথা বার্তা বলে তাকে অসহায় প্রমান করেনি। বুঝতে দেয়নি তার মাঝে এক আকাশ পরিমান ক্ষুত রয়েছে,, সে বিহানের যোগ্য নয়। এই রাতের আকাশটাকে মেধা খুব ভালোবাসে। নিজেকে নিরাপদ মনে হয়। ভাবতে ভাবতে মেধা বিহানের কাধ ধরে উঠে দাড়ালো, খুব ইচ্ছা করলো দুদিকে হাত ছড়িয়ে নিজেকে পাখির মতো স্বাধীন করে দিতে। মেধাকে এমন করতে দেখে বিহান ভিত কন্ঠে বললো– এমন করেনা রানী ,, পড়ে যাবেতো।
,,, মেধা কানে নিলো না সেসব,, পিছন ফিরে একবার অর্পনাদের খোজার চেষ্টা করে বললো — ওরা আসছে না কেনো? এভাবে রেসিং এ ম,,
,,, কথা শেষ করার আগেই হাওয়ার বেগে একটা বাইক এসে ওদের বাইক ক্রস করে গেলো। যাবার সময় অর্পনা ওদের দিকে ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে টাটা দিয়ে চলে গেলো। বিষয়টা মানতে পারলো না মেধা,, কিছু বলতে নিবে তখনি অতর্কিত হামলায় বিহানের পিঠের উপর আছড়ে পরলো। বাইকের স্পিড বেড়ে দ্বীগুন হলো। মেধা সেভাবেই পরে রইলো,, খামচে ধরলো বিহানের প্রসস্থ বুক । স্পিডের তারনায় বাইক বাকা হয়ে এলো,, অতি দ্রুতই ধরে ফেললো দ্বীপদের। মেধা এক হাতে বিহানের কাধ ধরে অন্য হাতে অর্পনাকে হাই জানালো। এই মুহুর্তে দুটো বাইক সমান্তরালে চলছে,, কখনো বিহানের টা আগে,, আবার কখনো দ্বীপের টা। ছুটতে ছুটতে মাঝে গলি পরায় স্পিডের মাত্রা কমতি- বার্তির তারতম্যে বিহান অনেকটা দূরে চলে গেলো,, আর দ্বীপ পিছিয়ে গেলো অনেকটা। বিষয়টা ভালো লাগলো না অর্পনার, ঠোঁট নাড়িয়ে বললো — সিট!! চলে গেলো তো।
,,, দ্বীপ অর্পনার দিকে তাকিয়ে বললো — চার্জিং পাওয়ার কমে গিয়েছে!”
,,, দ্বীপের কথায় অবাক চোখে তাকালো অর্পনা,, বাইকে আবার চার্জিং পাওয়ার থাকে? বাইক আবার চার্জে চলা শুরু করলো কবে থেকে? কি আবোল তাবোল বকছে এই লোক? অবাক হয়ে মুখ উঁচুতে তুলতেই দ্বীপ টুপ করে চুমু খেলো অর্পনার ঠোটে। বিষয়টা আর বিষয়ের মিনিংটা বুঝতে পেরে লজ্জায় দ্বীপের বুকে মুখ লুকালো অর্পনা। সাথে সাথে স্পিড বেড়ে গেলো। সেকেন্ডের গতিতে আবারও বিহানদের ক্রস করে গেলো তারা। বাতাসের ফুরফুরে হাওয়ায় অর্পনার খোপা করা চুলগুলো খুলে গেলো, মাথায় হেলমেট না থাকায় লম্বা চুল অবাধে ছড়িয়ে গেলো চারিপাশ । অর্পনা দ্বীপকে ছেড়ে সেই চুলগুলো সামলে নিয়ে কাধের একপাশ দিয়ে সামনে এনে রাখলো। এতে যেনো খুশি হলো দ্বীপ,, মুখ নামিয়ে লম্বা শ্বাস টেনে চুলের ঘ্রাণ নিলো। অর্পনা হকচকিয়ে গিয়ে সতর্ক কন্ঠে বললো — হেই!! এক্সিডেন্ট হবে তো।
,,, দ্বীপ মাদকিয় স্বরে বললো– গলা জড়িয়ে ধরো।
,,, অর্পনা কথা শুনলো, জড়িয়ে ধরলো দ্বীপের গলা,, দ্বীপ অর্পনার কাধের যেই পাশটায় চুল রাখা সেখানে থুতনি রেখে এগিয়ে গেলো। এতোক্ষণ গিয়ারের চাপ মাইনাসে থাকায় আবারও বিহানদের থেকে পিছিয়ে গিয়েছে তারা। গিয়ারের চাপ প্লাসে টানতেই দুটো বাইক সমান সমান হলো। ধীরে ধীরে দুটো বাইকের গিয়ার মাইনাসে কনভার্ট হলো। জোহান-বিহান বাইক এক হাতে হেন্ডেল করে অন্য হাত বাড়িয়ে পাঞ্চ করলো। যার ফলে দুটো বাইক কিছুটা বেকে এলো। অর্পনা হাত বাড়িয়ে দিলো মেধার দিকে, মেধা বিহানের কাধে এক হাত রেখে উঠে দাড়িয়ে অর্পনার সাথে হাই ফাইভ করলো। পরপর আবারও পুরো দমে ছুটলো দুটো বাইক। ছুটতে ছুটতে হঠাৎ অপর পাশ থেকে একটা ট্রাক ধেয়ে এলো,, মেধা এবার কিছুটা ভয় পেলো। মনে হলো এই ট্রাকটা এসে তার বাকি সৌন্দর্যটুকু কেড়ে নিবে,, আবারো বন্দি করে দিবে চার দেয়ালের মাঝে। ওর ভয়টা বুঝলো হয়তো বিহান। তবে দমে গেলো না। গিয়ার আরেকটু প্লাসে নিয়ে ট্রাকের এক পাশ কাটিয়ে চলে গেলো। মেধার মনে জমে থাকা ভয়গুলো যেনো দানা বেধে পালালো। বিহানের এই ওভারটেক করাটা যেনো তাকে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিলো, বিহানের ভালোবাসা তাকে এরকম হাজার বিপদ ওভারকাম করার শক্তি যোগাবে। অনুরুপ ভাবে ট্রাকের অপর পাশ কাটালো দ্বীপ। আবারও বাইক দুটো সমান সমান হলো। খুশিতে ডগমগ হয়ে গেলো অর্পনা। আজকের মতো অভাবনীয় রাত তার জীবনে কখনো আসেনি। অর্পনা খুশিতে দ্বীপের গলা থেকে হাত সরিয়ে দুদিকে দুহাত মেলে চিৎকার করে বললো—
,,,, আ’ম সু হেপ্পি ইইইই!!
,,, পরপর আবার গলা জড়িয়ে ধরে টুপ করে দ্বীপের গালে চুমু খেলো। সাথে সাথে বাইকের গিয়ার কমে এলো। দ্বীপের বুকের কম্পন বেড়ে চারগুণ হলো। তীব্র বাতাসেও তার শরীর ঘেমে আসার জোগাড়। বহুদিন পর অর্পনার সুক্ষ ছোয়া তাকে টালমাটাল করে দিচ্ছে। আগে তো মাঝেসাঝেই ঘুমের মাঝে চুমু খেতো অর্পনা,, প্রথম দিকের গুলো মনে না থাকলেও যখন ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছিলো তখনকার গুলো মনে আছে। চোখ বুঝলেই অনুভব করতে পারতো সেই ছোয়া। আজ বহুদিন পর সুস্থ অবস্থায় সেই কোমল ঠোঁটের নরম স্পর্শ তাকে ভিতর থেকে কাতর করে তুলছে। অর্পনার সেসবে খেয়াল নেই,, সে নিজের মতো প্রতিযোগিতাটা উপভোগ করতে লাগলো। হঠাৎ বাইকের গতি কমে যাওয়ায় তিতিবিরক্ত হয়ে বললো — আল্লাহ!! কি করছেন? হেড়ে যাবো তো।
,,,দ্বীপের কোনো ভাবান্তর হলো না, বাইকের গতি আরও কমে এলো। তৎক্ষনাৎ অর্পনা হুসে এলো,, কি করেছে বুঝতে পেরে লজ্জা সংকোচে মিয়িয়ে গেলো। হাসফাস করে সরে যেতে চাইলে দ্বীপ এক হাতে আটকে দিলো। এভাবেই চললো কিছুটা পথ। বিহানরা অনেক দূরে এগিয়ে গিয়েছে। অর্পনা সংকোচ নিয়ে দ্বীপের গলা থেকে মুখ তুলে দ্বীপের মুখের দিকে তাকাতেই দেখলো লোকটা চোখ মুখ শক্ত করে বসে আছে,, মুখ দেখে বুকের ভিতরে চলা তোলপাড় বোঝার ক্ষমতা নেই,, অর্পনারো তাই। বুকের বামপাশে থাকা হৃদপিন্ডটা থেমে থেমে বিট করছে। শ্বাস নিতে গেলে বুকের বাম পাশে কেমন ব্যাথা ব্যাথা অনুভব হচ্ছে। দুটো শক্ত শ্রেণীর ব্যাক্তি গভীর ভাবে দুজন দুজনাতে মত্ত থাকলেও তাদের মধ্যেকার শক্ত খোলস সেই মত্ততা বাহিরে আনতে নারাজ। অর্পনা পরিস্থিতি কাটাতে সোজা রাস্তার দিকে ঘাড় বাকিয়ে তাকাতেই সামনে দুটো গলি দেখতে পেলো,, বিহান ডানদিকে মোড় নিলো তবে অর্পনাকে অবাক করে দিয়ে দ্বীপ গতি বাড়িয়ে বাম দিকে মোড় নিলো। বিষয়টাতে হতচকিত হয়ে গেলো অর্পনা। কিছু বলতে চাইলো কিন্তু বাইকের স্পিডের তোপে বলতে পারছেনা। চারদিকে তাকিয়ে রাস্তা চেনার উপায় নেই। বাইকের গতি এতোটাই তীব্র যে চোখে ধোয়াসা ব্যাতিত কিছুই দেখা যাচ্ছেনা।
এসবে অভ্যস্ত অর্পনা। জীবনে বহুবার সেইম স্পিডে বাইক চালানো হয়েছে। আদ্রিয়ানের সাথে অগনিতবার রেইস করা হয়েছে। আদি বেশিভাগ সময় অর্পনাদের ফ্লাটে থাকতো বিদায় হুটহাট রাতে এসে চ্যালেন্জ ছুড়ে দিতো,, অর্পনাও সেই চ্যালেন্জ এক্সেপ্ট করে নিতো। কখনো অর্পনা জিতেছে আবার কখনো আদি। সেসব এখন অতিত,, আর কখনো হওয়ার নয়। একটা সময় ছিলো অর্পনা আদিকে এভোয়েট করার পাশাপাশি খুব প্রশ্রয় দিয়েছিলো। আর এটা ছিলো একটা গেইম,, অর্পনার তৈরি করা সাইলেন্স গেইম। যেই গেইমটা সে খেলবে অথচ অপর পাশের ব্যাক্তিটা ধরতেই পারবেনা। গেইমের প্রসেসটা কি রকম? প্রসেসটা হচ্ছে,, আমি তোমায় কাছেও টানবো না আবার ছেড়েও দিবোনা। তোমায় এমন একটা জায়গায় ঝুলিয়ে রাখবো যে,, তুমিও আমার কাছে আসতে পারবে না আবার আমাকে ছেড়েও যেতে পারবে না। ঝুলে থাকতে থাকতে তুমি আমার প্রতি এমন ভাবে আকৃষ্ট হবে যে,, আমার এক মুহুর্তের শুন্যতা তোমায় জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দিবে। অতঃপর এমন পর্যায়ে এসে আমি তোমায় একেবারে ছেড়ে যাবো। তারপর? তারপর তুমি পাগল হয়ে যাবে,, মরে যেতে মন চাইবে,, ডেস্ট্রয় হয়ে যাবে তোমার জীবন। মরার জন্য তরপাবে তবে মরতে পারবেনা। তুমি আমায় কিছু দিবে আমি যদি সেটা তোমায় সুধ সমেত ফিরিয়ে না দেই তাহলে সেটা বেইমানি হয়ে যাবেনা? যাবেই তো। তুমি আমায় যত্ন দিবে, আমি তোমায় ভালোবাসা দিবো। তুমি আমায় ভালোবাসা দিবে, আমি তোমায় আমাকে দিবো। তুমি আমায় তোমাকে দিবে,, আমি তোমার জন্য জীবন দিবো। তুমি আমার জন্য জীবন দিবে,, আমি পরজনমে আল্লাহ এর কাছে তোমার সঙ্গ পাওয়ার আর্জি জানাবো। আর তুমি যদি আমায় অপমান, অবহেলা, কষ্ট দাও তাহলে তোমার জীবনটা আমি ঠান্ডা মাথায় নষ্ট করে দিবো। ইট্স নট রিভেঞ্জ, ইট্স দ্য রিপেমেন্ট অব অ্যা ডেট উইথ ইন্টারেস্ট। ভাবতে ভাবতে দ্বীপের গলা জড়িয়ে ধরলো অর্পনা,,ঠোঁটে অল্প হাসি ফুটিয়ে বললো–
,,, আমরা কোথায় যাচ্ছি?
,,, উদ্দেশ্যহীন!!
,,, ফিরবোনা?
,,,ফিরাটা খুব প্রয়োজন?
,,, হাড়িয়ে গেলে?
,,, আমি আছিতো।
,,, একা হাড়িয়ে গেলে?
,,, সুযোগ পাবেনা।
,,, যদি ছেড়ে যাই?
,,, মেরে ফেলবো।
,,, একেবারে?
,,, কোনো সন্দেহ?
,,, আপনি আমাকে মারতে পারবেন?
,,, মারার অনেক প্রন্থা থাকে,, আমি আনহেলদিটা চুজ করবো।
,,, মিন্স হোয়াট?
,,, ব্রেইন খাটাও।
,,, ইউ আর সু বেড দ্বীপ,, আই হেইট ইউ।
,,, আই হেইট ইউর ব্রেইন!!
,,, হোয়াই? আই ওয়াস রং?
,, নো!!
,, সু?
,,, সব কথা খুব দ্রুত ক্যাচ করে নেয়!!
,,, ইট্স ট্যালেন্ট ব্রো!!
,, আবারও ভাই ডাকছো?
,, আরে এটা এমনি হয়ে যায়। অরুন পল্লবকে বলতে বলতে কথায় মিশে গিয়েছে।
,,, চেন্জ করবে।
,,, আপনার কথায়?
,,, তো কার কথায়?
,,, একটা গান শুনবেন?
,,, পৃথা জামান শুনাতে চাইলে আপত্তি নেই।
,,, অর্পনাতে এতো আপত্তি কেনো?
,,, অর্পনা তো আমার ওয়্যাইফ,, ভাবছি একটু পরকিয়া করবো। পৃথা জামান কি পরকিয়া করতে রাজি হবে?
,,,কতো রং করলেন!!
,,, স্টার্ট করো।
,,, অর্পনা ঠোঁট বাকিয়ে রহস্যময় হাসলো, গানের মাধ্যমে কিছু প্রকাশ করতে চাইলো বোধয়।
, কারো একদিন হবো,, কারো এক রাত হবো,,
,, এর বেশি কারো রুচি হবে না!!
,,,আমার এই বাজে স্বভাব কোনোদিন যাবেনা।
আমার এই বাজে স্বভাব কোনোদিন যাবেনা।,,
৩৭ পৃষ্ঠার ডায়েরি পর্ব ৪৩
,, কথা হবে, দেখা হবে,, প্রেমে প্রেমে মেলা হবে
কাছে আসা আসি আর হবে না।
,, চোখে চোখে কথা হবে,, ঠোঁটে ঠোটে নাড়া দেবে,,
ভালোবাসা বাসি আর হবে না!
,, আমার এই বাজে স্বভাব কোনোদিন যাবেনা।
আমার এই বাজে স্বভাব কোনোদিন যাবেনা।,,,
