Home অপেক্ষা সিজন ২ অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৭

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৭

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৭
Maha Aarat

দেশে আসার পর আইরার সাথে আরহামের দীর্ঘ আলাপের সুযোগ হয়নি বলে সন্ধ্যার পরপরই নামাজ থেকে ফিরে সোজা আইরার রুমের উদ্দেশ্য আসলেন।ভাইকে দেখে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে অনুমতি গ্রহন করে সে।আরহাম খাবারের প্যাকেট নিয়ে আসছেন।এর মধ্যে কি আইরা জানে না।আরহাম নিজেই আহত হলেন বোনের মলিন হাসিতে।অন্যসময় হলে ছোবল মেরে প্যাকেট ছিনিয়ে নিতো সে।টুকটাক বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন আরহাম।পুরো সময়টুকু সে মনোযোগ দিয়ে শুনলো।আরহাম এটা সেটা জিজ্ঞেস করতে করতে ভাইয়ের সাথে কিছুটা সহজ হয়ে এলো সে।এই সুযোগে আরহাম জিজ্ঞেস করে বসলেন, ‘মাহেরের সাথে তোমার ঝগড়া হ’য়েছে।’
যেহেতু সম্পূর্ণ বিষয় ভাইয়ের সাথে আলোচনা করতেই হবে তাই কিছু লুকালো না আইরা।মাথা নিচু করে চুপচাপ উত্তর দিলো, ‘হুমম।’

‘আইরা,আমরা সবাই জানি ও একটু ব্যতিক্রম।আর এজন্য তাঁর সাথে তোমার বন্ডিং ভালো হতে সময় লাগবে।তুমি একটু সময় নাও দেখো….
ভাইয়ের কথা সম্পূর্ণ শোনার ধৈর্য হলো না তাঁর।অসহিষ্ণু হয়ে বলল, ‘সময় নিয়েছি।উনি আমাকে সবসময় অবহেলা করেন,কোনো কেয়ার নেই,কোনো টান নেই এরকম তো থাকা যায়না।’
আরহামও ধীরে ধীরে বুঝাতে লাগলেন, ‘মাহের তোমাকে পছন্দ করে কিন্তু বুঝাতে পারে না।’
‘করেন না আমি জানি।এগুলো শুধু দায়বদ্ধতা থেকে নিতে আসেন।’
‘আচ্ছা?তাহলে শিওর হই।তারপর তুমি সিদ্ধান্ত নিবে।’
আইরা উৎসুক দৃষ্টিতে তাকায়।জিজ্ঞেস করে, ‘কীভাবে?’
‘জানিনা।তবে তাকে জেলাস করার জন্য হলেও একটু হাসিখুশি থেকো তারপর বুঝতে পারবে।’
‘আচ্ছা।’

আরহাম বোনের হাত ধরে বুঝানোর সুরে বললেন, ‘আইরা,তুমি আমার একমাত্র আদরের।তোমার জন্য আব্বু সুপাত্র এনেছিলেন,তাকে অপছন্দ করার কোনো রিজন ছিলো না।কিন্তু তুমি কাঁদছিলে মাহেরের জন্য।তোমার বাবা ভাই কি একটাবারও তোমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েছেন বলো?আমরাও মেনে নিয়েছি কারন মাহের আমার বোনের সুখ।এখন তুমি বিচ্ছেদ চাইছো?এগুলো এতো ঠুনকো বিষয় নয়।একটু বড় হও বুঝবে।ভুল করেও এসব চিন্তা করবে না,আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন।আর মাহেরের শাস্তি বাকি রইলো আমার বোনকে কষ্ট দেওয়ার।সেটা সে এখন হারে হারে পেয়ে যাচ্ছে,ওকে?মন ফ্রেশ করো।আম্মু তোমার টেনশনে অস্থির।তুমি ঠিকমতো কথাও বলছো না উনার সাথে।আব্বু বিজি একাজ-ওকাজে।হাসিখুশি থাকো নয়তো আব্বুর চোখে তোমার মন খারাপ ধরা পড়লে বুঝতেই তো পারছো কি হবে।’
ভাইয়ের কথায় যেনো তার বুকের ওপর থেকে ভারী পাথর সরে গেলো।ভাইয়া কি জাদু জানেন?একজন ব্যাক্তির মুখের ভাষা তাঁর হৃদয়ের পরিচয় দেয়।আইরা একটু হাসলো।তার ভাবিরা কত্তো হ্যাপি।ভাইয়া কতো কেয়ারিং।সারাদিন ব্যস্ত থেকে ক্লান্তি নিয়ে বাসায় আসার পরও সবার মন ভালো করার মেডিসিন তিনি।
আরহাম স্বস্তির শ্বাস ফেললেন বোনের মুখে হাসি দেখে।আরেকটু গল্পগুজব করে ফিরে আসার সময় কান মলে দিয়ে বললেন, ‘কাবার্ড,ড্রয়ার,এখান ওখান থেকে থ্রীলার বইগুলো এক করেছি।কাগজওয়ালা আসলে বেঁচে দিবো।’
ভাইয়া চলে গেলে দ্রুত নিজের গুপ্তধন খুঁজতে লাগলো।সত্যি কি সেগুলোর ইন্না-লিল্লাহ হয়ে গেছে চেক করতে গিয়ে দেখলো না আছে এখনো।মনে মনে মুচকি হেসে সেগুলোর জন্য একটা সেইফপ্লেস খুঁজতে লাগলো।

পরদিন দূপুর~
‘তুমি বিজি?’
আসার পর থেকেই আরহামের ব্যস্ততা লক্ষ্য করছেন মাহের।একসময় অসহিষ্ণু হয়ে প্রশ্নটা করে উঠতেই আরহাম দম ছেড়ে ক্লান্তি নিয়ে বললেন, ‘হু অনেক।আর বলো না বোনকে আজ দেখতে আসছেন আর হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাকে।’
মাহের যেনো কথার ভাবার্থ বুঝে উঠতে পারলেন না সহজে।জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার তো আর বোন নেই না?’
আরহামও সহসা সম্মতি দিয়ে বললেন, ‘একপিস’ই তো।’
‘তাহলে?একটু আগে যে বললে তাকে দেখতে আসছে।’
‘হুম বললাম।’
মাহের ভ্রু কুঁচকে সন্দিহান হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কারা আসছে?কেন আসছে?’
‘এসব ব্যাপার বুঝো না?’
‘বুঝছি না বুঝিয়ে বলো।উনাকে কে, কেন দেখতে আসবে?’
আরহাম ভেতরে ভেতরে হাসি আটকে বেশ সিরিয়াস হয়ে বললেন, ‘সহজ ব্যাপারটা বুঝতে পারছো না?আইরা তো বলে দিয়েছেই সে তোমার সাথে থাকতে চাইছে না।এজন্য আর দেরি করছি না।ভালো পাত্র পেয়ে গেলেই…
মাহের চোখ সরু করে তাকালেন।আরহামের শার্টের কলার ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, ‘তাহলে আমি কে?’
‘আমার বোনের প্রাক্তন বর।’

‘আমার বোনকেও তাহলে বিয়ে দিয়ে দিই?’
আরহাম কিছুটা ব্যাঙ্গ করে বললেন, ‘এ্যাহহহহহ বিয়ে দিয়ে দিই!’
‘আমার বউকে তুমি বিয়ে দিয়ে দিচ্ছো।আমিই জানি না?আমার বউয়ের বিয়ে হবে কেন?তাঁর বিয়ে তো আমার সাথে হয়েছে।কিসব বলছো আরহাম।হাজব্যান্ড ওয়াইফের মধ্যে একটু মান অভিমান হতেই তো পারে।’
‘পারে।কিন্তু তুমি তো পারোনি তাকে রাখতে।এজন্যই তো চলে এলো আমরা বলেছি না কি?’
‘মাথা গরম করো না আরহাম।উনাকে বলো আসতে এখনি বাসায় যাবো।যে কোনো ভাবে ড্রয়িং পর্যন্ত নিয়ে আসো।তারপর আসতে না চাইলে আমি বুঝবো।’
‘লাভ নেই।সে রাজি বিয়েতে।’
মাহের কিছুটা রাগত স্বরে বললেন, ‘তুমি নিয়ে আসবে?’
আরহাম মাথা নাড়িয়ে চুপচাপ প্রস্থান করতেই মাহের সোজটা ফ্লোরের সাথে শক্ত করে চেপে ধরলেন।এ মেয়েটা এতো জেদী!চট করে বিয়ের পিড়িতে বসতে বিবেকে বাঁধলো না।হাতের নাগালে একবার পাই…
কিছুক্ষণ পর আরহাম আইরাকে নিয়ে হাজির।তাঁর পরনে একটু গর্জিয়াস গাউন দেখে সন্দেহের পারদ আকাশ ছুঁলো মাহেরের।

মাহের কঠিন চাহনী অথচ একেবারে স্বাভাবিকস্বরে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি বিয়ে করতে চান,মিস আইরা?’
আইরা চোখমুখ কুঁচকে অন্যদিকে তাকালো।ভাই ভাবির প্ল্যানের চক্করে মাঝ থেকে সে না ভর্তা হয়ে যায়।
হাফসা থমথমে মুখে নিচুস্বরে বলল, ‘ভাইয়া শেষ আলাপ কিছু থাকলে সেরে নাও।মেহমান এসে পড়বে।’
মাহের যেনো দিশেহারা।একটু আধটু ঘামতেও শুরু করে দিয়েছেন।এতক্ষণে এটা শিওর তিনি,যে এটা ফান নয়।সত্যিই।নাহলে হাফসাও একথা বলতো না?’
আরহামের দিকে একপলক তাকাতে বুঝলেন আরহাম নিজেও দূ:খিত।উনার মুখটাও মলিন।প্রাণের বন্ধু সাহায্যের বদলে চোখের পলকেই ঘোর শত্রু হয়ে না হওয়া সুখের সংসারটাই ভেঙ্গে দিচ্ছে।ভাবা যায়?
মাহেরও ধীরেসুস্থে জবাব দিলেন, ‘আচ্ছা।সেরে নিই।’
আরহাম হাফসা চলে গেলে মাহের গলা কেশে অন্যদিকে মুখ করে রাখা আইরার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘ব্ বলছিলাম তোমার যে চকলেট আর খেলনাপাতি রেখে এসেছো সেগুলো আনবে না?’
আইরা জবাব দিলো না।এপাশ ওপাশ তাকিয়ে নখ খুঁটতে থাকলো।তাকে দেখে মনে হলো না কারো কথার শোনার মনোযোগ বা সময় কোনোটা আছে তাঁর।মাহের বারকয়েক জিজ্ঞাসা করে ব্যর্থ হলেন।এরই মধ্যে আম্মু আসলেন।মাহেরের সাথে আলাপ শেষ করতে করতে আইরা চলে যায়।মাহের অস্থিরতা লুকিয়ে জিজ্ঞেস করে বসলেন, ‘আজকে বাসায় কি মেহমান আসছেন,আম্মু?’
‘হুমম আমার বোনেরা।তুমি যাবে না কিন্তু।’
‘জ্বি?’

‘তোমার সাথে মিট করিয়ে দিবো।স্পেশিয়ালি আইরার জন্যই আসছে তারা।গতবার আসছিলো ওর পরিক্ষা ছিলো তো।তুমি যেও না।কেমন?’
মাহেরও বাধ্যের মতো মাথা নাড়াতে নাড়াতে দোতলায় নজর দিলেন।আরহাম দূ পকেটে হাত গুজে মুচকি মুচকি হাসছেন।মাহেরও একটু আগের ধাক্কাটা হজম করে তেঁতো মুচকি হেসে ইশারায় বললেন নিচে আসতে।একবার আসলে এই মন ভাঙ্গার শোধটা খুব যত্নে নিবেন উনি।অথচ আরহাম তাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বললেন, ‘আমি বোকা?তোমার সামনে আসি আর তুমি আমার পিঠে কিল বসাও।বউয়ের সামনে ইজ্জ্বত থাকবে না বুঝো না?আড়ালে নাহয় পানিশমেন্ট দিও।’

সারাদিন গেলো ব্যস্ততায়।বিকেলে বাইরে গিয়েছিলেন আরহাম।সন্ধ্যার পর বাসায় ফিরে দেখলেন ড্রয়িং রুমে সবাই উপস্থিত, উমায়ের ছাড়া।মাইমুনার সাথে চোখে চোখে মিষ্টি আলাপ শেষে আরহাম নিজের রুমে গেলেন।মাথায় প্রচন্ড প্রেশার,সাথে অস্থিরতা এই দূই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হচ্ছে শাওয়ার নেয়া।
শীতের দাপট এখনো রয়ে গেছে।আরহাম তবুও গরম পানি এভোয়েড করলেন।লম্বা সময় নিয়ে শাওয়ার নিলেন।
ভেজা চুলগুলো ঝাড়তে ঝাড়তে হাফসার রুমে এসে ঢুকলেন আরহাম।সেদিনের পর থেকে সে আরও গুটিয়ে গেছে।আগে প্রয়োজনেও অন্তত কথা বলতেন,সামনে আসতেন এখন সেটাও বাদ।যেমন আজকে নাস্তার টেবিলে আরহামের সাথে বসেনি আব্বুকে চা দেওয়ার অজুহাতে।অথচ আব্বু তখনো বাইরে হাঁটতে।আরহাম সবকিছু টের পেলেও চুপচাপ হজম করলেন।
হাফসা ঘুমোচ্ছে।এই অসময়ে তাঁর ঘুম বলে দিচ্ছে তাঁর ব্রেক*টাইম চলছে।আরহাম নিজেও কমফোর্টার এর ভেতরে ঢুকে পড়লেন।হাফসার মুখোমুখি শুয়ে তাঁর গাল চিপে ধরে নাকে টুক্কুস করে একটা চুমু খেলেন।মৃদু ব্যাথায় বোধহয় তাঁর ঘুম ভাঙ্গলো।ছোট ছোট চোখে পিটপিট করে তাকাতেই আরহাম অসহায় ফেইস করে বললেন, ‘সরি বউজান।’
হাফসা ভ্রু কুঁচকালো।নাহ,এই লোকটা তাঁর সাথে এতো কোমল গলায় কথা বলার লোক নয়।সেটা অন্তত ওইদিন ভালো বোঝা হয়ে গেছে তাঁর।
হাফসা তবুও তাকালো।বাচ্চাদের মতো মুখ ফুলিয়ে আছেন আরহাম।তাঁর ভালো লাগছে দেখতে।হাফসার একদৃষ্টিতে তাকানোর মধ্যে ব্যঘাত ঘটে যখন আরহাম চোখ মারলেন।হুষ ফিরতেই দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই আরহাম মুচকি হেসে বললেন, ‘আপনার সাইনেস ব্রেইক করার একটা কোর্সের খোঁজ পেয়েছি।এটা সম্পূর্ণ করতে পারলে, সাইনেস উইল বি গোন।’

হাফসার সব রাগ অভিমান যেনো নিমিষেই ভেঙে গেলো।লোকটা এক মুহুর্তে তাঁর মন ভালো করে দিতে সফল।হাফসার হাত বুকে জড়িয়ে ধরে আরহাম আরও গল্পসল্প করলেন।হাফসা মনোযোগ দিয়ে সব শুনলো।একসময় আরহাম গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘আপনি কি ক্ষমা করেছেন উমায়ের?আমি ইচ্ছে করে আপনাকে হার্ট করিনি।তখন আমার মাথায় শুধু রাগ ছিলো রাগ।আমি নিজের নিয়ন্ত্রণেই ছিলাম না।ক্ষমা করেছেন তো?’
‘হু।’
‘বাইরে হালকা বৃষ্টি হচ্ছে।চলুন আজকে ঘুরে আসি?’
হাফসা তৎক্ষনাৎ হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ালো।পরক্ষনেই তাৎক্ষণিক ভাবে না বোধক মাথা নাড়িয়ে বলল, ‘আপনি টায়ার্ড রেস্ট করুন।ছুটির দিনে যাবো।’
আরহাম তাকে আদূরে সুরে বললেন, ‘আমার শান্তি তো আমার সামনেই।শান্তি দেখেই ক্লান্তি কেটে গেছে।’
হাফসা হাসলো।ছোট্ট দাঁতের লাজুক হাসি।তবুও জিজ্ঞেস করলো, ‘আপুকেও সাথে নিই?একসাথে যাবেন?’
‘আপনার আপুর সাথে অন্যদিন।’
‘তাহলে আমি তৈরী হয়ে নিবো?’
‘আমি কি পাবো?’

হাফসা ভাবতে লাগলো।দাঁত খুঁটতে খুঁটতে বেশ কিছুক্ষণ পেরোতেই আচমকা তাঁর চোখমুখ চকচক করে উঠে।দূর্বোধ্য কিছু পেয়ে গিয়েছে এমন উচ্ছ্বাস নিয়ে বলল, ‘আমি আমি আপনার পছন্দের কিছু রান্না করে খাওয়াবো।’
আরহাম হতাশ!যতটুকু আশা নিয়ে তাঁর উত্তরের অপেক্ষা করছিলেন ততটুকু নিরাশ হয়েও সমানতালে হেসে বললেন, ‘বেশ!’
হাফসা তৈরী হতে চললো।আরহাম এই ফাঁকে মাইমুনার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলে আসলেন।ফোন চার্জে দিতে গিয়ে দেখলেন মাহেরের টেক্সট।

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৬

‘আমাকে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে আরহাম?’
‘তার আগে বলো রোমান্টিক হওয়ার কোনো ওষুধ আছে?’
‘কেন?’
‘আমি একজনের জন্য নিবো।’
‘থাকলে সেটা আমিই নিতাম আগে।’

অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৫৮

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here