Home দাহশয্যা দাহশয্যা পর্ব ৯৫ (২)

দাহশয্যা পর্ব ৯৫ (২)

দাহশয্যা পর্ব ৯৫ (২)
Raiha Zubair Ripti

ভুঁইয়া বাড়ির মস্ত বড় উঠানে দাঁড়িয়ে আছে সোলেমান, ইব্রাহিম, ইয়াসিন, আর এ বাড়ির মোতালেব ভুঁইয়া, ইমন,সানজিদা বেগম,অনিক,বাতাসি। সুলতান বাড়ি থেকে তারা এসেছিল মেহরিন কে নিতে। কিন্তু মেহরিন রুম থেকেই বের হয় নি। দরজা লাগিয়ে রেখেছিল ভেতর থেকে। তাকে ডাকা হলে সে কেবল একটাই কথা বলেছে,সে কোনো খুনির সাথে সংসার করবে না। সোলেমান কে যেন চলে যেতে বলা হয়।
মোতালেব ভুঁইয়ার তখন চোখ মুখে বিস্ময়ের ছাপ ফুটে উঠে। কিসের খুনি? কে খুনি? সোলেমান? সোলেমান কাকে খু’ন করেছে?
মোতালেব ভুঁইয়া দরজায় শব্দ করে কড়া নেড়ে মেয়েকে জিজ্ঞেস করতে থাকে-

“ মেহরিন, মা আমার। দরজা খুলো। কাকে খুনি বললা তুমি,কে খুন করছে? সোলেমান? কাকে খুন করছে? ”
তখন মেহরিন চিৎকার করতে করতে বলে উঠে-
“ আমার নরম হৃদয় টাকে খুন করছে,আমার সন্তান টাকে খুন করছে আব্বু। আমি সন্তানহারা হয়েছি। আমার আজকের এই অবস্থার জন্য কেবল দায়ী ঐ লোক। উনাকে চলে যেতে বলো। আমি উনার উপস্থিতি টাকেও ঘৃণা করি। ”
মোতালেব ভুঁইয়ার আরো জোরে দরজা ধাক্কালো।
“ দরজা খোলো মেহরিন। সামনা-সামনি কথা বলো মা। আব্বুকে বলো সবটা। ”
ইমনও এগিয়ে আসলো। মোতালেব ভুঁইয়ার পাশে দাঁড়িয়ে বলল-
“ মেহরিন দরজা খোলো। তোমার সন্তান খুন করেছে মানে? আমি তো জানতাম নওয়াজ সোলেমান সুলতান কেবল বাহিরের লোকদেরকেই খু’ন করতে জানে। নিজের রক্ত নিজের সন্তান কেও সে খু’ন করবে,এটা কখনো ভাবি নি! তুমি দরজা খোলো মেহরিন। আঙ্কেল কে আমাদের কে সবটা খুলে বলো। কে বা কারা তোমাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল? ”

মোতালেব ভুঁইয়া তাকালেন ইমনের দিকে। কি বলছে কি ইমন? মেহরিন দরজা খুলে দিলো। রুমের ভেতর ঢুকলো মোতালেব ভুঁইয়া আর ইমন। নিচ থেকে সোলেমান খবর পেয়েছে মেহরিন দরজা খুলেছে। সেজন্য দোতলায় মেহরিনের রুমের দিকে আসতে চায়।
ইমন রুমে ঢুকেই মেহরিনের মুখের দিকে তাকালো। রক্ত শূন্য ফ্যাকাসে শুকিয়ে যাওয়া ফুলো চোখ মুখ। কেঁদেছে মেয়েটা? এখন চোখে জল নেই। দরজা খোলার আগে জল মুছেছিল?
“ আব্বুকে সবটা খুলে বলো মা। আর ইমন তুমি কি বললা তখন? তুমিও জানতা? ”
মোতালেব ভুঁইয়া মাথায় হাত রাখতেই মেহরিন তার পানে তাকায়। মেয়ের এমন বিধ্বস্ত চেহারা দেখে বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে উঠলো। এমন চেহারা সে আগে কখনো দেখে নি বিয়ের আগে। কত যত্নেই না রেখেছিল। মোতালেব ভুঁইয়া কষ্ট পাবে বলে মশাও হয়তো মেহরিনের শরীরে বসতে দ্বিধা করতো। সেই মেয়ের জীবন আজ কালো মেঘে ঢাকা।
ইমন তপ্ত শ্বাস ফেলে বলল-

“ জ্বি চাচা জানতাম। বাতাসির ভাই ফাহাদ কে চিনেন না? যাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির বলে আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগের ছেলেরা পিটিয়ে হত্যা করেছিল গত বছর। সেই নিরপরাধ ফাহাদের মৃত্যুর পেছনে এই সুলতান রাই দায়ী। সোলেমান সাহেবের চাচা বাশার সুলতানের হুকুমেই হয়েছিল এই খু’ন। আর সোলেমান সাহেব সেটা জানত। জানার পরও তার চাচাকে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে, শাস্তি না দিয়ে চাচাকে বাঁচিয়েছে। ফাহাদের খুনের বিষয়টা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বাতাসি কে মোটা অংকের টাকা দিয়েছে স্কলারশিপের নাম করে। আর বাতাসি তো বোকা,অসহায়। রাজনীতির মারপ্যাঁচ বুঝে না। তাকে যা বোঝানো হয়েছে যা জানানো হয়েছে তাই বিশ্বাস করেছে। স্কলারশিপের নামে বাতাসির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল তার নিরপরাধ ভাইয়ের জীবনের মূল্য টাকার দরদাম করে । আমি সবটাই জেনেছিলাম। জানার পরই আমি তাদের বাড়িতে করা ড্রাইভারের চাকরি টা ছেড়ে দেই। প্রমাণ ও খুঁজেছিলাম ফাহাদের বন্ধুদের সাথে করে সুলতান দের বিরুদ্ধে । কিন্তু কোনো প্রমাণ রাখা হয় নি। সোলেমান সুলতান তার রাজনীতি ক্যারিয়ারের সাথে কোনো কিছু নিয়ে আপোষ করে না। এতে নিরপরাধ মানুষ মরে যাক। ”
সোলেমানের পা থেমে যায় ইমনের কথা গুলো কানে আসতেই। পেছন পেছন আসতে থাকা বাতাসিরও। কি বললো কি ওটা ইমন? যাকে বড় ভাইয়ের জায়গায় বসিয়েছিল,যেই স্বামীর কটুবাক্য অপমান,তুচ্ছতাচ্ছিল্য সহ্য করেছিল সেই তারাই তার ভাইয়ের আসল খুনি! তাকে স্কলারশিপের নামে যেই টাকা দেওয়া হয়েছে সেটা তার ভাইয়ের জীবনের মূল্য ছিলো! সেই টাকা গুলোই খরচ করে বাতাসি চলছিল এতদিন ধরে!

পায়ের ভারসাম্য নড়বড়ে হয়ে আসলো। চোখে নেমে আসলো বাঁধ ভাঙা জল। স্মৃতিতে ভেসে উঠলো তার ভাইয়ের শেষ বিদায়ের চেহারাটা। ভাইয়ের আসনে বসানো সোলেমান, স্বামীর নামে ভাইয়ের খুনি ইয়াসিন, সবার চেহারা ভাসলো। তার নিরপরাধ ভাইটাকে এই মানুষ রূপী অমানুষ গুলো মেরেছিল! হৃদয় টা ভেঙে চুরমার হতে লাগলো। টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যেতে নিলে দুটো শক্ত হাত এসে তাকে ধরে ফেলে। বাতাসি ঘাড় বেঁকিয়ে ধরে রাখা মানুষটাকে দেখতেই সাথে সাথে দূরে সরে আসলো। ঐ ছোঁয়া টায় শরীরে আগুন জ্বলে উঠছে। পরিচিত মুখ অপরিচিত ঠেকছে। কেমন চেহারায় লেখা ভাসছে ফাহাদ মোস্তাফার খুনি।
ইয়াসিন এগিয়ে আসতে চাইলে বাতাসি আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না। দৌড়ে পালিয়ে যায়। ইয়াসিন পরে আসায় ইমনের কথা গুলো শুনতে পায় নি। সেও হাঁটা ধরে বাতাসির পেছন পেছন।

মেহরিন চমকেছিল ইমনের কথা গুলো যখন তার কর্নপাত হচ্ছিলো। সে ফাহাদের সম্পর্কে জানতো। এটাও জানতো তার স্বামীর দলের লোকেরই হাত ছিলো। কত কষ্ট দিয়েই না মারা হয়েছিল। বাংলাদেশ তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর পর বাতাসির জীবন কেমন দূর্বিষহ হয়ে গিয়েছিল,কত কষ্ট, মার,ভাতের ক্ষুধা, গায়ের রং নিয়ে কটুবাক্য,একটু খানি আশ্রয়ের জন্য এর ওর হাতে পায়ে ধরতে হয়েছে। সব জানে মেহরিন সব। সেজন্যই তো মেয়েটাকে সে খুব স্নেহ করতো। কিন্তু সেই ফাহাদের খুনের পেছনে তার স্বামীর হাত আছে এটা কখনো ভাবে নি। আজ জানার পর চমকালেও সেটা অল্প সময়েরই ছিলো। সোলেমান এসে দরজার বাহিরে দাঁড়াতেই তার ঘৃণা বেড়ে গেলো। ইমনের এই কথাটা ছিলো আগুনে আরো ঘি ঢালার মতো। সোলেমান নামের লোকটা সব পারে,সব। অবিশ্বাস করলো না মেহরিন ইমনের একটি কথাও। ইমন কে সে চিনে। সোলেমানের থেকেও বেশি চিনে। ইমন ভাই কখনো মেহরিন কে মিথ্যা বলবে না।

মোতালেব ভুঁইয়ার নিঃশ্বাসের গতি বেড়ে গেলো। কি শুনছে কি সে এসব! ফাহাদের মৃত্যুর খবরটা কে না জানে? তার নিজেরও কত খারাপ লাগছিলো। সেই ফাহাদের মৃত্যুর পেছনে কি না তার মেয়ের জামাইয়ের হাত আছে!
মোতালেব ভুঁইয়া মেয়ের মাথায় রাখা হাত গড়িয়ে গালে রাখলো। মেহরিন ফ্লোরের দিকে তাকালো। তার বাবার অধিকার আছে জানার সবটা। সে দীর্ঘ একটা শ্বাস ফেলে সবটা বলতে শুরু করলো। সবটা শোনার পর মোতালেব ভুঁইয়ার শরীর হিম হয়ে গেলো। বসে পরলো ফ্লোরে। কপালে হাত ঠেকিয়ে নিজেকে ধিক্কার জানাতে লাগলো। এমন এক অমানুষের হাতে সে তুলে দিয়েছিল তার মেয়েটাকে! ছেলের স্থানে বসিয়েছিল সোলেমান কে। একটুও বুঝতে পারে নি ভদ্র চেহরার পেছনে এই লুকিয়ে ছিল। হায় খোদা,বাপ হয়ে সে মেয়ের জীবন টা জাহান্নাম বানিয়ে দিলো! এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত সে করবে কি দিয়ে? সে আর এই অমানুষের সাথে মেয়েকে যেতে দিবে না। কিছুতেই না। এই ছেলের নামে সে কেইস করবে। জেলের ঘানি টানাবে। ওর কোনো অধিকার নেই তার মেয়ের সাথে থাকার।
সোলেমানের আর সাহস হলো না পা বাড়ানোর। মোতালেব ভুঁইয়া ঘর থেকে বের হয়ে সোলেমানের শার্টের কলার ধরে ভুঁইয়া বাড়ির আঙিনা থেকে বের করে দিয়ে বলল-

“ তুমি একজন ক্রিমিনাল, খুনি। ভালোর মুখোশ পড়ে থাকা এক পাপ। তোমার সাজা হওয়া উচিত। কোনো বাপই চায় না তার মেয়ে কোনো খুনির সাথে থাকুক। তোমার কাছে আমি আর আমার মেয়েকে পাঠাবো না। তোমার নামে আমি মামলা করবো। আইনের দোরগোড়ায় ঘুরবো। আমার মাইয়ারে কষ্ট দিছ। তারে আমি জীবনে ফুলের টোকাও লাগতে দেই নাই। আমি বাপ হইয়া কেমনে সব জেনেও চুপ থাকবো? যাও যাও, যাও তুমি। আর আসবে না আমার বাড়ির আঙিনায়। ”
সোলেমান অসহায় চাহনি নিয়ে তাকালো। ইব্রাহিম কিছু বলার জন্য এগিয়ে আসলেও সোলেমান তাকে থামিয়ে দিলো। সে কেবল বলল-

“ মেহরিন কি চায়? করবে না সংসার আমার সাথে? যাবে না আর কখনো? ”
“ না না যাবে না। করবে না তোমার সংসার। ”
সোলেমান এবার মেহরিনের নাম ধরে ডাকতে লাগলো-
“ মেহরিন, মেহরিন। যাবে না আমার সাথে সত্যি? ”
কোনো জবাব আসলো না। মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিলো মোতালেব ভুঁইয়া। তার শরীর খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে। সোলেমান হাঁটু গেঁড়ে বসে পরলো। সে নিঃস্ব,কাঙাল। তার কেউ রইলো না সাথে। সে দু হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বিরবির করে উঠলো-
“তোদের পাপের বোঝা আমার জন্য অনেক ভারী রে ভাই। আমি আর এখন সইতে পারছি না এই বোঝা। আমার বুক, পিঠ, কাঁধ সব অসার হয়ে আসছে। আমার সব হারিয়ে যাচ্ছে রে,সব। সব হারাতে হারাতে এখন আমি নিঃস্ব হওয়ার পথে। এই পাপের খেলা বন্ধ কর তোরা, বন্ধ কর। আমাকে একটু বাঁচতে দে রে। আমি বাঁচতে চাই। অনেক দিন বাঁচতে চাই। সুন্দর ভাবে বাঁচতে চাই। আমাকে একটু বাঁচতে দিস রে তোরা। আমি কোনোদিন সুন্দর ভাবে বাঁচতে পারি নি রে। এই টুকু ছাড় তোরা আমাকে দে। ”
ইব্রাহিম কাঁধে হাত রাখলো। সোলেমান তাকালো। বাহু ধরে তাকে উঠে দাঁড় করিয়ে বলল-

“ নিজের সুন্দর জীবন, সুন্দর সংসার কেউ এভাবে নষ্ট করে সোলেমান? আর কতকাল অন্যের দোষ নিজের ঘাড়ে নিয়ে বয়ে বেড়াবি? তুই পাপ করলেও এতটা জঘন্য নোস সোলেমান। একটু স্বার্থপর হ এবার। নিজের কথাটা ভাব। অন্যের জন্য আর কত নিজের জীবন নিলামে তুলবি? হাঁপিয়ে যাস না? থেমে যা এবার। ”
সোলেমান শুনে হাসলো কিঞ্চিৎ এই কথার বিপরীতে। হাহ্! সোলেমানের জীবন অথচ এই জীবন বয়ে বেড়ায় অন্যদের পাপের বোঝা! সোলেমানের আজ একটা বাপ নেই,মা নেই বলে জীবন টা এমন হলো! আহারে! যদি বাপটা বেঁচে থাকতো,মা টা বেঁচে থাকতো তাহলে তারা নিশ্চয়ই সোলেমান কে পাপের জগতে আসতে দিত না। মাথার উপর শক্ত একটা ছায়া ছিলো না বলে সবাই ব্যবহার করে গেলো তাকে! সে তাকালো একবার ভুঁইয়া বাড়ির দোতলা দালানটার দিকে। মেহরিনের রুমের জানালা টা খোলা আছে। ঐ টুকু একটা মেয়ের চোখ মুখে তাকে নিয়ে কি জঘন্য ঘৃণা!

“ চাচা আমাকে খারাপ বানিয়ে ছাড়লো মেহরিন । নইলে আমি নওয়াজ সোলেমান সুলতান একজন সন্তান,একজন ভাই,একজন স্বামী, একজন পিতা, আর সর্বশেষ একজন মানুষ হিসেবে খুব একটা মন্দ ছিলাম না । অনায়াসে পাড়ি দেওয়া যেত একটা জীবন আমার সাথে। অথচ আমার দূর্ভাগ্যকে দেখ তুমি। এমন এক জগৎে ঢুকেছি, এখন না পারবো সেখানে থাকতে আর না পারবো সেখান থেকে কখনো বের হয়ে একটা সুন্দর জীবন উপভোগ করতে। আমার জীবনের কোনো কূল নেই। সব কূলের কিনারা আজ বিলীন হয়ে গেছে। এই জগৎে থাকলেও আমার মরণ, আর না থাকলে আমার মরণ, আমি আমার পাপ কে ছাড়তে চাইলেও পাপ আমাকে ছাড়বে না। অক্টোপাসের মতো চারিদিক থেকে চেপে ধরে আমাকে কেবল গোগ্রাসে গিলতে থাকবে। আমার দুদিকেই মরণ এখন। আমার বাবা সমতূল্য চাচার জন্য আমাকে সব হারাতে হচ্ছে সব। পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম শাসক আমি । যে কি না অন্যের বেলায় বিচারক হতে পারলেও নিজের বেলায়,নিজের উপর হওয়া অন্যায়ের সুবিচার কখনো করতে পারে নি। ”
ইয়াসিন বাতাসির পেছন পেছন এসে দেখে মেয়েটা রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। দরজায় কড়া নাড়লো। ডাকলো। কিন্তু শুনলো না। মোতালেব ভুঁইয়া ভেতরে এসে ইয়াসিন কে এখনো বাড়ির ভেতরে দেখে সেটাকেও বাড়ি থেকে বের করে দিলো। ইয়াসিন তো যাবেই না। সে বাতাসির সাথে কথা বলবে। কিন্তু মোতালেব ভুঁইয়া থাকতে দিলেন না।

রুমের ভেতর বাতাসি তার শরীরে চেপে খামচে ধরে কাঁদছে। তার শরীর পুড়ছে। ভাইয়ের জীবনের মূল্যের বিনিময়ে পাওয়া সেই টাকা তার শরীরের চামড়া টাকে পুড়িয়ে দিচ্ছে। সে চিৎকার করে তার ভাইকে ডাকছে। এত গুলো দিন সে তার ভাইয়ের খুনিদের সাথে থেকেছিল,তাদের টা খেয়েছিল,তাদের টা পড়েছিল! সব বিষ হয়ে বের হচ্ছে শরীর দিয়ে। কি অসহ্য যন্ত্রণা খোদা! বাতাসি মেয়েটা জীবনে কি দুঃখ একটুও কমবে না?
বাতাসি কাঁদতে কাঁদতে ফ্লোরে আছড়ে পড়ে বলতে লাগলো-
“ ভাইয়ারে আমারে ক্ষমা করে দাও। আমি বুঝি নাই ঐ টাকা তোমার মৃত্যুর টাকা ছিলো। ভাইয়া রে আমি যে তোমার খুনি দের আপন ভেবে ফেলছিলাম। সোলেমান ভাই কে তোমার আসনে বসাইছিলাম,ইয়াসিন রে স্বামী হিসেবে কবুল করছিলাম। আমি পাপ করে ফেলছি,অনেক বড় পাপ করে ফেলছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও। ”

ঊর্মি ভাইয়ের মুখে সবটা শোনার পর একদম নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। যদিও এই সবে ইব্রাহিমের নাম একবারও উঠে নি। তারপরও ইব্রাহিম তো ওদেরই কাছের মানুষ। ও যে এসবের সাথে জড়িত নেই এর কি গ্যারান্টি? সে যাবে না আর ঢাকা। কিন্তু ইব্রাহিম রাখলোও না তাকে নওগাঁ। এক প্রকার জোর করেই ভয় দেখিয়ে ঊর্মি কে ঢাকা নিয়ে গেলো। ইমন বাধা দিতে চাইলে ইব্রাহিম জানালো, ঊর্মি তার ওয়াইফ। তার নিয়ে যাওয়ার পুরো অধিকার আছে। পুলিশও আটকাতে পারবে না। তাই বাঁধা দিলে হিতে বিপরীত হবে তাদের জন্য। ঊর্মি চলে যেতে বাধ্য হলো। ঘৃণা বাড়লো। এই লোকটাকে কি না বাড়ির বিরুদ্ধে গিয়ে ভালোবাসছিল! কর্মের ফল বোধহয় এটাই পাওনা ছিলো তার।
ঢাকা ফিরে সোলেমান সুলতান নিবাসে আসে নি। ছিলো ক্লাবে। মিডিয়া জগৎ টাও তোলপাড়। নওয়াজ সোলেমান সুলতান তো জেলে ছিলো। তারপর মৃত্যুর নিউজ আসলো। এখন আবার জীবিত! সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে সবার। সাংবাদিক রা সোলেমানের সাথে সরাসরি কথা বলতে চাচ্ছে। সোলেমান রাজি হচ্ছে না। তার মনের অবস্থা ভালো না। সে এসবের ভাবনায় নেই। তার রাগ বাড়ছে তরতর করে। চাচার সাথে বোঝাপড়া করতে হবে তার। নিজেকে ধাতস্থ করলো। ড্রয়ার থেকে ধারালো ছুরি টা বের করে প্যান্টের পকেটে গুঁজে সুলতান নিবাসের দিকে হাঁটা ধরলো।

বাশার সুলতান তখন বসার ঘরে বসে ছিলো। সোলেমান আসতেই সে নড়েচড়ে বসলো। সোলেমান তার সামনা-সামনি বসলো। বাশার সুলতান কিছুটা থতমত খেয়ে গেলো। সোলেমান চাচার অসহায় চাহনির দিকে তাকিয়ে বলল-
“ শুনেছো সব? শুনেছো আমার সন্তান টা আর এই পৃথিবীতে নেই। মেরে ফেলছে ওরা। ওর কি দেষ ছিলো বলো চাচা? ও তো নিষ্পাপ ছিলো। এই সব কিছুর দায়ভার এখন আমি কার উপর চাপাবো? কে প্রকৃতপক্ষে দোষী? ওরা নাকি তুমি? না তোমার লোকজন মেহরিন কে তুলে আনতো আর না শেখররা মেহরিন অব্দি যেত। আর না আমি আমার সন্তানটাকে হারাতাম। ”
বাশার সুলতান বলল-
“ ওটা একটা মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিলো। আমি কেনো আমার বাড়ির বউকে তুলে আনবো? ”
সোলেমান সে কথা শুনে চোটে গেলো।
“ কিসের মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং? তোমার বাল পাকে নি,আমার ঘাড়ে বসে কাঁঠাল খেতে খেতে? ভেবেছো আরে সোলেমান তো সোলেমান। ওর নিজের কোনো জীবন আছে নাকি। আমি মানুষ করেছি। ওর জীবন কন্ট্রোল করবো আমি। তাই না? ”

বাশার সুলতান রফিক কে ডেকে এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি দিতে বলল। রফিক এসে দিয়ে গেলো। বাশার সুলতান সেটা সোলেমানের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল-
“ আগে ঠান্ডা পানি খা। মাথা ঠান্ডা কর। তারপর কথা বলছি। হ্যাঁ স্বীকার করছি আমার ছেলেরা মেহরিন কে ভুলে তুলে না আনলে আজ এসব হতো না। তুই এরজন্য আমাকে যা শাস্তি দিবি আমি মাথা পেত নিব সোলেমান। কিন্তু বিশ্বাস কর বাপ। আমি জেনেশুনে কখনো তোর ক্ষতি চাই নি। ”
সোলেমানের মুখে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটলো।
“ অজান্তেই এত ক্ষতি করেছো চাচা,জেনে করলে তো না জানি আরো কি কি করে বসতে। ”
বাশার সুলতান পানির গ্লাস টা এগিয়ে দিলেন। সোলেমানেরও তেষ্টায় গলা শুকিয়ে গিয়েছিল। পানি পুরোটা খেয়ে শেষ করলো। কেমন যেন হৃদয় টা সাথে সাথে শান্ত হয়ে গেলো। শরীরে জমে থাকা রাগ তেজ সব হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। সে যে চাচা কে মারতে আসার প্ল্যান করেছিল সেটাই ভুলে গেলো। ভুলে গেলো কি নিয়ে তারা কথাবার্তা বলছিলো। বাশার সুলতান কেবল বললেন-

“ রুমে গিয়ে রেস্ট নে। অনেক ধকল গেছে শরীরের উপর দিয়ে। ”
সোলেমান বাধ্য ছেলের মতো রুমে চলে গেলো রেস্ট নিতে। বাশার সুলতান তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে বলল-
“ দুঃখিত ভাইস্তা। এ ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিলো না। ”
এজওয়ান আজকে তার বেপরোয়া পোশাক পরিবর্তন করে সভ্য সাহেবিয়ানা কালো রঙের স্যুটব্যুট পড়ে সেজেছে। কারন আজ প্রধানমন্ত্রীর নাতির এনগেজমেন্টের পার্টি। আর তাকে ইনভাইট করা হয়েছে। যাওয়া টা আবশ্যক। সে আরো আধঘন্টা আগে রেডি হয়ে নিচে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে মাহির।
মাহি আজকে অফ হোয়াইট কালারের লং ওয়েস্টার্ন গ্রাউন পড়েছে। যারা হাত স্লিভলেস। পুরো পিঠটা দেখা যাচ্ছে কোমড় অব্দি। চুল গুলো খোপার মতো করে বাঁধা। এজওয়ান গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে বারবার হাত ঘড়িতে সময় দেখছিলো। মেয়েদের সাজতে এত দেরি লাগে! বিরক্ত হচ্ছিল রীতিমত। কিন্তু তার বিরক্তের উপর এক পশলা ঠাণ্ডা ড্রিংকস ফেলে দিয়ে পুরো শরীর টায় তীব্র উত্তেজনা ধরিয়ে দিয়ে তার দিলকা রাণী মিসেস সুলতান এসে দাঁড়ালো তার সামনে। তড়িঘড়ি করে বলল-

“ চলুন, চলুন। ”
এজওয়ান যেন মুগ্ধ হয়ে দেখতে লাগলো। চোখের পলক ফেলতে ভুলে গেলো। আপাদমস্তক তার বউটাকে দেখে বলল-
“ একটু পেছন ফিরো তো। ”
মাহি বুঝলো না কিজন্য তাকে পেছন ফিরতে বললো। সে এজওয়ানের কথা শুনে পেছন ফিরতেই এজওয়ান হাতের ইশারায় 👌 এটা দেখিয়ে বলল-
“ যাই বলো না কেনো..তোমার ফ্রন্ট পার্ট থেকে ব্যাক পার্ট টা কিন্তু একটু বেশিই জোশ তরিকুলের বেটি। ”
কথাটা কান অব্দি আসতেই মাহি হাতে থাকা ব্যাগ টা দিয়ে এজওয়ান কে মা’রতে মারতে লাগলো। আর মুখে বলতে লাগলো-
“ লম্পট কোথাকার । ”
এজওয়ান ব্যাগটা কেঁড়ে নিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দিলো।
“ অনেকক্ষন অপেক্ষা করিয়েছো। এবার চলো। দেরি করে গেলে নামি-দামি খাবার জুটবে না কপালে। ”
গাড়িটা শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে ধীরে ধীরে ঢুকে পড়লো অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার এক অভিজাত এলাকায়। প্রধানমন্ত্রী পরিবারের ব্যক্তিগত বাসভবনটি পাহাড়ঘেরা নিরিবিলি অঞ্চলে অবস্থিত। সাদা পাথরের দেয়াল, বিশাল কাঁচের জানালা, চারপাশে নিখুঁতভাবে ছাঁটা সবুজ ঘাস আর রঙিন ফুলের বাগান জায়গাটাকে স্বপ্নের মতো করে তুলেছিল। প্রবেশপথে ঝুলছিল অসংখ্য উষ্ণ সোনালি আলো। দূর থেকে ভেসে আসছিল পিয়ানোর সুর।
গাড়ি থামতেই নিরাপত্তারক্ষীরা এগিয়ে এলো।এজওয়ান আর মাহি নামতেই একজন ভদ্রলোক হাসিমুখে এগিয়ে এসে বললেন-

“মিস্টার অ্যান্ড মিসেস সুলতান, ওয়েলকাম। আমরা আপনাদের অপেক্ষাতেই ছিলাম।”
মাহি মুগ্ধ চোখে চারপাশ দেখতে লাগলো। ভেতরে ঢুকতেই তাদের হাতে পরিবেশন করা হলো ঠাণ্ডা পানীয়। অতিথিদের জন্য আলাদা রিসেপশন টিম দাঁড়িয়ে ছিল। কেউ কোট নিচ্ছে, কেউ অতিথিদের নির্দিষ্ট টেবিলে পৌঁছে দিচ্ছে। ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি, সাদা-সোনালি থিমের সাজসজ্জা, গোলাপ আর অর্কিড ফুলে ভরা হলরুম। মঞ্চের মাঝখানে বিশাল এনগেজমেন্ট আর্চ।
মাহি কিছু বলার আগেই তার দৃষ্টি গিয়ে থামলো এক পরিচিত মুখে। মাহি প্রথমে খেয়ালই করেনি।
কিন্তু কয়েকজন বিদেশি অতিথির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটাকে দেখে তার পা যেন থমকে গেল। বুকের ভেতরটা হঠাৎ ধক করে উঠলো। অতীতের অনেক স্মৃতি এক ঝলকে চোখের সামনে ভেসে উঠলেও মাহি দ্রুত নিজেকে সামলে নিল অজানা এক আশঙ্কায় । কিন্তু তার চেয়ে আগে ব্যাপারটা লক্ষ্য করলো এজওয়ান।
তার চোখ দুটো সরু হয়ে এলো। বিরক্তির ভাব ফুটে উঠলো। এই ফিটকারী নাতি ডাব্বাওয়ালা দেখছি এজওয়ানের জীবনের পিছু ছাড়ছে না। যেখানে যাচ্ছে সেখানেই দেখতে পাচ্ছে। ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে গিয়ে বলল-

” আরেহ্ বাহ! আপনি তো দেখি এখানেও হাজির। বিনা দাওয়াতে চলে আসার অভ্যাসটা এখনো যায়নি?”
সাফওয়ান ভ্রু তুললো। সে নিজেও এজওয়ান কে এক্সপেক্ট করে নি এখানে।
“ আমাকে উদ্দেশ্য করে বলছেন?”
“এখানে আর দ্বিতীয় কোনো সাফওয়ান আছে বলে তো মনে হচ্ছে না।”
“সবাই আপনার মতো না। ”
“মানে?”
“ আপনার মতো বিনা আমন্ত্রণে যার তার জীবনে জোর করে ঢুকে পড়ার মতো লোক আমি নই। ”
এজওয়ান হাই তুলতে তুলতে বলল-
“ সেজন্য আপনার জীবনে আজ মাহি নেই। তা আপনাকে কিভাবে ইনভাইট করা হলো? ”
“গত বছর আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের যে যৌথ অভিযানে বাংলাদেশ সহযোগিতা করেছিল। সেই টিমের প্রতিনিধিদের কয়েকজনকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমি সেই টিমের একজন।”
এজওয়ানের মুখটা আরো শক্ত হয়ে গেল।

“ বাহ! বেশ সম্মানিত ব্যক্তিদের তালিকায় আছেন তো!”
“ নিঃসন্দেহে ”
“ অযথা বেশি খুশি হওয়ার কিছু নেই। আমি আপনাকে পাম দিয়েছি। নাথিং এলস। ”
সাফওয়ান এবার মাহির দিকে তাকালো।
“কেমন আছো? শরীরের অবস্থা এখন কেমন? ”
মাহি উত্তর দেওয়ার আগেই এজওয়ান বললো-
“আমার স্ত্রী খুব ভালো আছে। ”
মাহি এজওয়ানের কবজি ধরে বললো,
“চলুন।”
“ আরেহ আমি এখনো কথা শেষ করিনি তোমার এক্সের সাথে।”
“কিন্তু আমি করেছি।”

বলেই সে প্রায় টেনে নিয়ে গেল এজওয়ানকে।
কিছুক্ষণ পর শুরু হলো মূল অনুষ্ঠান। আংটি বদলের পর একটু নাচ-গানের অনুষ্ঠান শুরু হলো। দম্পতিরা একে একে নাচের ফ্লোরে নামতে শুরু করলো। মাহি কিছু বুঝে ওঠার আগেই এজওয়ান তাকে ফ্লোরে নিয়ে গেলো। কোমরে হাত দিয়ে ফিসফিস করে বলল- “ নাচ মেরি ল্যায়লা। ”
সুরের তালে তালে ধীরে ধীরে ডুয়েট নাচতে শুরু করলো। কালো স্যুট পরা এজওয়ানকে আজ অন্যরকম লাগছিল। স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ভদ্র জেন্টলম্যান।
নাচতে নাচতে একসময় মাহি গিয়ে পড়লো সাফওয়ানের সামনে।
সাফওয়ান কেও টেনে আনা হয়েছিল। সবার পার্টনার বদলে গেছে। বিদেশি অতিথিদের কাছে এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। সুরের তালে তালে নির্দিষ্ট সময় পরপর সঙ্গী বদল হবে, আবার ঘুরে ঘুরে নিজের সঙ্গীর কাছেই ফিরে আসবে সবাই।

কিন্তু এজওয়ানের কাছে ব্যাপারটা মোটেও স্বাভাবিক লাগছিল না।
বিশেষ করে যখন সে দেখলো মাহি ধীরে ধীরে ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে দাঁড়ালো সাফওয়ানের সামনে।সময়টা যেন কয়েক সেকেন্ডের জন্য থেমে গেল।সাফওয়ানও স্থির হয়ে তাকিয়ে রইলো। অফ হোয়াইট গাউনে আজ মাহিকে অবিশ্বাস্য সুন্দর লাগছে। একসময় যে মেয়েটাকে নিজের ভবিষ্যৎ ভেবেছিল, আজ সে অন্য কারো স্ত্রী হয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ভাগ্য কতো নিষ্ঠুরভাবে মানুষের গল্প বদলে দেয়!
সাফওয়ান নিজের অনুভূতি গোপন করে ভদ্রভাবে হাত বাড়িয়ে দিল। মাহি অস্বস্তিতে পড়ে গেল।চারপাশে শত শত মানুষ। না বলাটাও অভদ্রতা।
তাই দ্বিধা নিয়েই হাতটা বাড়িয়ে দিল সে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই,একটা শক্ত হাত এসে মাহির কবজি চেপে ধরলো।পরের সেকেন্ডে মাহি নিজেকে আবিষ্কার করলো এজওয়ানের বুকের সামনে। সে এমন জোরে টেনে এনেছে যে মাহি ভারসাম্য হারিয়ে প্রায় তার গায়ের উপর এসে পড়েছে। চারপাশের কয়েকজন অতিথি অবাক হয়ে তাকালো। আর যেই স্বর্ণকেশী মেয়েটি এজওয়ানের নতুন পার্টনার হওয়ার জন্য এগিয়ে আসছিল, সে হঠাৎ দিক পরিবর্তনের কারণে ভারসাম্য হারিয়ে ধপাস করে মেঝেতে বসে পড়লো। চারপাশে কয়েকজন চমকে উঠলো।

“ওহ মাই গড!”
মেয়েটি লজ্জায় লাল হয়ে গেল। এজওয়ান একবারও তার দিকে তাকালো না। মাহিকে নিজের পাশে এনে দাঁড় করিয়ে বললো-
“ আমার স্ত্রী আমার সাথেই নাচবে। কোনো পর পুরুষের সাথে নয়। ”
মাহি ফিসফিস করে বলল-
“ আপনি জেনেশুনেই নিয়ে আসছেন এখানে আমাকে। ”
“ আমার জানা ছিলো না তোমার আশিক এখানেও আসবে। জানলে আসতাম না। আর আপনি মিস্টার সাফওয়ান এখনো কি অন্যের স্ত্রীকে নিজের অতীত ভেবে বসে আছেন? সেজন্য সামনে আসা মাত্রই আপনি প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলার মতো চাহনি দেন। ”
মুহূর্তেই পরিবেশ জমে বরফ। অপমানে চোখ মুখ লাল হয়ে গেলো। একজন এগিয়ে এসে এজওয়ান কে বলল-

দাহশয্যা পর্ব ৯৫

“ এত হাইপার হওয়ার কি আছে? সামান্য ডান্সই তো। ”
এজওয়ান সেই লোকের দিকে রাগী চাহনি নিক্ষেপ করে বলল-
“ আপনি নিজের চরকায় গিয়ে তেল দিন,আমাকে জ্ঞান না দিয়ে। আর সাফওয়ান আপনাকে বলছি,আমার স্ত্রীর থেকে দূরে থাকবেন। আমি মানুষটা কিন্তু মোটেও ভালো না। কখন আপনার কি করে বসি বলা যায় না। সো বি কেয়ার ফুল ম্যান। ”
সাফওয়ান কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে চাইলে মাহি সাথে সাথে এজওয়ান কে নিয়ে সেই জায়গা থেকে প্রস্থান করে। এরা দুটে এক জায়গায় থাকলেই ঝগড়া করবে। তারচেয়ে দূরে থাকাই শ্রেয়।

দাহশয্যা পর্ব ৯৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here