রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৫২
সিমরান মিমি
রং তুলিতে আকা ছোট্ট ক্যানভাসের মতো সুন্দর একটা বিকেল। পাখির সুরেলা কিচিরমিচির শব্দ। সঙ্গে কাচা আমের মিষ্টি সুবাস। উঠোনের দখিন পাশে পুকুরঘাটে বসে আছেন তিনজন পুরুষ। আমজাদ শিকদার, আলতাফ শিকদার এবং পাভেল। তিনজনের মুখেই গম্ভীরতা বিরাজমান। তবে পাভেলকে দেখে একটু চিন্তিতও মনে হলো। তার রাখা প্রস্তাব শুনে বাবা-চাচার অভিব্যক্তি কেমন হতে পারে, সেটা ভেবেই হয়তো। নিস্তব্ধ বিকেলে শুকনো পাতায় পা ফেললে যেমন মড়মড় শব্দ হয়ে ওঠে। ঠিক তেমনভাবেই বিকেলের এই নিস্তব্ধতাকে ভেঙে পাভেল গড়গড় করে বললো,
– আমি বিয়ে করতে চাই আব্বু। আর্শিয়াকেই করবো। তোমরা ব্যবস্থা করো। খুব বড় আয়োজনের দরকার নেই। অল্পতে দু-তিন দিনের মধ্যে সেরে ফেলতে চাই।
শীতের আকাশে হঠাৎ মেঘ দেখলে মানবকুল যেমন চমকে ওঠে, স্তব্ধ হয়ে যায়, তেমনই নিস্তব্ধ হয়ে গেলেন দুই ভাই। একে অন্যের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো পাভেলকে। বললো,
– তুমি তো আর্শিকে পছন্দ করো না। তাহলে?
পাভেল নিরেট গলায় বললো,
– পছন্দ করি না এটা ভুল কথা। শুধু আম্মু যেভাবে ভেবেছিলো, আমাদের মধ্যে তেমন কিছু ছিলো না। এখনো কোনো সম্পর্ক নেই। যা ভবিষ্যতে হবে, তা সামাজিক ভাবে— পারিবারিক মতে।
আলতাফ শিকদার পাভেলের মত পেয়ে উৎফুল্ল হলেন। অবশেষে মেয়েটা তাদের ঘরে আসবে। বছরের পর বছর কেস, মামলা-মোকদ্দমা করেও যা সম্ভব হয় নি, তা আপোষে করা যাবে। তিনি বড় ভাইয়ের হাত ধরলেন। তৃপ্তি নিয়ে বললেন,
– আর কোনো প্রশ্ন নয় ভাইজান। আমি চাই তুমি রাজী হয়ে যাও। আর্শিকে শিকদার বাড়িতে এনে, তবেই আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। আমরা কালই ও বাড়িতে যাবো।
– আসবো?
ভর সন্ধ্যায় রুমের দুয়ারে স্পর্শীয়াকে দেখে পাভেল বিস্মিত হলো। এক পলক তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিয়ে আবারো ফোনের দিকে মনোযোগ দিলো। বললো,
-আয়।
ভেতরে প্রবেশ করলো স্পর্শি। তবে বসলো না। পাভেলের থেকে দুহাত দূরে দাঁড়িয়ে গম্ভীর কন্ঠে বললো,
– আমি তোকে ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।
পাভেল মৃদু হাসলো। বললো,
– আমাকে বুঝতে চাওয়ার দরকারই বা কি? ভাইয়াকে বোঝ।
স্পর্শী নিরব রইলো। পাভেল হঠাৎ করে আর্শিকে বিয়ে করতে চাইছে। বিষয়টা বড্ড ভাবাচ্ছে তাকে। আগামীকাল সকালে ওই বাড়িতে যাবে সবাই — প্রস্তাব নিয়ে। এসব ভেবে এক দন্ড শান্তি পাচ্ছে না সে। তাই তো বোঝানোর উদ্দেশ্যে ছুটে এলো।
– আমি তোকে গোড়া থেকে চিনি। তোর লাইফ নিয়ে তুই যা খুশি করতে পারিস, কিন্তু এতে আমার বোনকে জড়াবি না। আমি সাবধান করছি। যদি আর্শিয়াকে ভালোবেসে বিয়ে করতে পারিস, তবেই করবি। কিন্তু আমার বিকল্প হিসেবে ওকে কখনোই নিজের জীবনে জড়াবি না।
পাভেল শব্দ করে হেঁসে উঠলো। বললো,
– আশ্চর্য! তুই আমার ফ্রেন্ডস! আর আর্শি হবে আমার বউ। এখানে বিকল্পের প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?
স্পর্শী বিস্মিত হলো। তাকে আরেক ধাপ অবাক করে দিতে পাভেল পুণরায় বললো,
– দেখ চড়ুই, তুই শুধু আমার ফ্রেন্ডস। তবে যা করেছি সেটা শুধুই মজা। আমি জাস্ট এমনিই তোকে রাগানোর জন্য ওসব বলেছিলাম। ভুলে যা না।
স্পর্শী নিগুঢ় দৃষ্টিতে পাভেলকে দেখলো। সে জানে পাভেল মিথ্যা বলছে। সমস্তটা ভুলে থাকার অবাঞ্ছিত চেষ্টা করছে। বিষয়টা বেশ ভালো। স্পর্শী আর ঘাটালো না। মৃদু হেঁসে বললো,
– মজা হলে আমার থেকে খুশি কেউ হবে না। যাই হোক, কংগ্রাচুলেশনস!
– থ্যাংকস!
স্পর্শী বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। পাভেল যেনো দীর্ঘদিন পর একটা সস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো। ভীষণ লজ্জা লাগছে তার। এখন প্রতিটা পদে পদে স্পর্শীকে বোঝাতে হবে পাভেল তাকে কখনোই ভালোবাসেনি। তবেই শান্তি।
সে রাতে শিকদার বাড়িতে বেশ তোড়জোড় চললো। পরদিন সকালবেলা সরদার বাড়িতে যেতে হবে। যত ঝামেলাই হোক না কেনো বিষয়টা সামলাতে হবে। কারোর সম্মতির প্রয়োজন নেই। শুধু আর্শি ঠিক থাকলেই হোলো। সিদ্ধান্ত হলো আগামীকাল পিয়াশা, নাজনীন( আলতাফের স্ত্রী), পাভেল এবং আলতাফ এবং পরশ যাবে। সঙ্গে স্পর্শীয়াও থাকবে। তারা এনগেজমেন্টের আংটিও ঠিক করে রাখলো।
স্পর্শীয়া অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে। নির্জীব হয়ে আয়োজন দেখতে ব্যস্ত। বাড়ির সকলে এখনো তার সঙ্গে ঠিক করে কথা বলে না। তাই সেধে সেধে পারিবারিক আলোচনায় জড়াতে মন সায় দিলো না। আবার রুমেও থাকতে ইচ্ছে করছে না। সে জন্যই ড্রয়িংরুমে ডাইনিং টেবিলের সাথে হেলান দিয়ে ফোন স্ক্রল করছে। অথচ তার মনোযোগ সকলের আলোচনাতেই।
পিয়াশা হঠাৎ স্পর্শীর দিকে তাকাতে তাকাতে থমকে গেলেন। মেয়েটা একদম সাদামাটা হয়ে আছে। কোথাও নেই কোনো অলংকার। কানে একজোড়া ক্ষুদ্র স্টোনের দুল ছাড়া কিচ্ছু নেই। যে কেউ দেখলে বিড়ম্বনায় পড়বে। এই মেয়ে যে বউ, তার কোনো হেলদোল আছে? বিয়ের কোনো চিহ্ন আছে গায়ে? বাবা মাও বা কেমন! যত যাই হোক, একটু বুঝিয়ে – শুনিয়ে তো দেবে! নাহ, তা করেনি। পিয়াশা পরশের দিকে তাকালেন। হঠাৎ সকলকে অবাক করে দিয়ে ধমক মারলেন ছেলেকে। বললেন,
– নাচতে নাচতে বিয়ে করেছেন। অথচ বউকে যে মিনিমাম একটা নাকফুল দেওয়া দরকার তারও কোনো হুশ নেই। হাত,পা, গলা, নাক, কান সব খালি। এভাবে দেখতে কেমন দেখায়?
কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভড়কে গেলো স্পর্শী। তার কোনো অলংকার পড়তে ভালো লাগে না। মা যা দিয়েছে তা ঢাকায় রেখে এসেছে। পিরোজপুরে আসার পর শামসুল এক সঙ্গে তার জন্য বারো লাখ টাকার গয়না কিনেছেন। হেসে বলেছেন, এগুলো তোমার বিয়ের জন্য। সবগুলো স্পর্শীর কাছেই আছে। তবে তা সরদার বাড়িতে।
পিয়াশা সোফা থেকে উঠে নিজের রুমে গেলেন। প্রায় দশ মিনিট পর পরশকে ডেকে বললেন,
– তোর বউকে ঘরে পাঠা।
ইশারা দিয়ে যাওয়ার নির্দেশ করলো পরশ। খানিকটা অসস্তি নিয়ে ছোটো ছোট কদম ফেলে শাশুড়ীর পেছনে দাঁড়াল। পিয়াশা গয়না বেছে বিছানার উপর রাখছে। অনেক বাছাই করার পর একটা একজোড়া সোনার চুরি, ঝুমকো দুল এবং মোটা চেইন হাতে দিয়ে বললো,
– এগুলো পড়ে থাকো। আর স্বামীকে বলিও নাকফুল এনে দিতে। আমার কাছে আধুনিক ডিজাইনের কোনো নাক ফুল নেই। যা আছে, তা আমার শাশুড়ীর। অনেক পুরোনো। তোমার পছন্দ হবে না।
স্পর্শী ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলো। কি বলবে বুঝে উঠতে পারলো না। গয়নাগুলো নিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো,
– জি!
এরপর ঠায় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। পিয়াশা গয়না গুছিয়ে রেখে রুম থেকে বেরিয়ে আসার পর স্পর্শীও তার পিছু পিছু বেরিয়ে এলো। এবার আর সে ড্রয়িংরুমে গেলো না। সোজা ঢুকে গেলো নিজের রুমে। কিছুক্ষণ পর যখন পরশ রুমে এলো, তখন স্পর্শী উত্তেজিত হয়ে তার বুকে হামলে পড়লো। এক এক করে গয়না দেখিয়ে উৎফুল্ল কন্ঠে বললো,
– আপনার মা এগুলো দিয়েছে আমায়। এইই শুনুন না, উনি যেহেতু গয়না দিয়েছেন – তাহলে তো সে আমায় মেনে নিয়েছে। তাই না?
পরশ মৃদু হাসলো। স্পর্শীর কপালে চুমু দিয়ে বললো,
– উহু! উনি নয়, মা বলে ডাকবে। আমার মা অনেক নরম স্বভাবের। কেউ একটু তাকে মান্য করলে, কথা শুনে চললে, তার কেয়ার করলে একদম মাথায় তুলে রাখবে। আমি জানি, তুমি তা পারবে। আমার মায়ের না খুব বেশি চাহিদা নেই স্পর্শীয়া। তুমি যদি একদিন হুট করে তার পছন্দের একটা রান্না করে বলো, ‘ মা, এটা তোমার জন্য বানিয়েছি। ‘ বিশ্বাস করো, মা তখন আমার চেয়ে তোমায় বেশি ভালোবাসবে।
স্পর্শী ওভাবেই পরশের বুকে ঘাপটি মেরে রইলো। বললো,
– আচ্ছা করবো। কিন্তু আগে জানতে হবে মায়ের কি কি পছন্দ!
ছবির মতো সুন্দর এক সকাল। ঠিক যেনো শিল্পীর হাতে আঁকা। আকাশের কোথাও মেঘের ছিটেফোঁটা নেই। চমৎকার এক সূর্য উঠেছে। সরদার বাড়ির ড্রয়িংরুম একেবারে থমথমে। মাত্র’ই আর্শির বিয়ের ব্যাপারে প্রস্তাব রেখেছে পিয়াশা। সামনেই শামসুল সরদার সহ এ বাড়ির বাকি সদস্যরা বসে। তবে উপস্থিত নেই সোভাম। স্পর্শীয়া এসেছে দেখে ছাদে গিয়ে দরজা আটকে দিয়েছে।
ড্রয়িংরুম জুড়ে একটা চাপা উত্তেজনা। কি উত্তর হয়, সেটা জানার জন্যই সকলে উদগ্রীব হয়ে আছে। শামসুল সরদার নিরব। তার উপস্থিতি এখানে থাকলেও সেটা সৌজন্যস্বরুপ। একদমই মন নেই এখানে। তবে খলিলুর সরদার বেশিক্ষণ চুপ রইলো না। তিনি গর্জে উঠলেন।
– আপনার বড় ছেলে এক সপ্তাহও হয়নি আমার বাড়ির মেয়েকে ফাঁসিয়ে বিয়ে করেছে। তারপরেও এমন পরিস্থিতিতে কি করে আবার এই প্রস্তাব রাখেন?
নাজনীন চায়ের কাপ হাতে নিলেন। চুমুক দিয়ে শান্ত স্বরে বললেন,
– এসব অনর্থক কথা কেনো বলছেন ভাইসাহেব? আর্শিয়ার জন্য এই প্রস্তাব আরো দেড় মাস আগে রাখা হয়েছে। মাঝখানে পরশের এক্সিডেন্টের কারনে কথা এগোয় নি। তাই এখন এসেছি। আর তাছাড়াও, যেখানে ছেলেমেয়ের মত আছে। সেখানে আপনারা তো বাধা দিতে পারেন না। শেষে দেখা যাবে, আবারো পরশ-স্পর্শীর মতো নিজেরা গিয়ে বিয়ে করে নিলো।
স্পর্শীয়া আজ বেশ সুন্দর একটা শাড়ি পড়েছে। শাড়িটার রঙ জারুল ফুলের মতো। বেনারসী শাড়ি। সঙ্গে শাশুড়ীর দেওয়া সোনার গয়না। দেখে ঠিক নতুন বউয়ের মতোই লাগছে। সে খুব একটা সাজে না। তবে আজ পড়েছে। শাড়ি, কানে বড় দুটো ঝুমকো, হাতে চুড়ি, গলায় মোটা চেইন। আজ যেনো সমস্ত রুপ চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে। পিপাসা অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন মেয়ের দিকে। নাকের ডায়মন্ড নোসপিন টা বেশি নজর কাড়ছে। এটা পরশের এনে দেওয়া। ফর্সা মুখে নতুন নোস পিন একদম চমকে চমকে উঠছে। পিপাসা সহসা চোখ সরিয়ে নেয়। ইশশ! নজর লেগে গেলো না তো আবার? সে এগিয়ে আসে মেয়ের দিকে। চাপা আওয়াজে বলে,
– গয়না গুলো কার?
– আমার শাশুড়ী দিয়েছে।
পিপাসা ক্ষানিক চমকায়। কৌতূহলী কন্ঠে জানতে চায়,
– তোকে মেনে নিয়েছে?
মায়ের বিস্মিত মুখ দেখে স্পর্শী হাসলো। বললো,
– আধা আধি।
হঠাৎ অদ্ভুত এক ভালোলাগা কাজ করলো পিপাসার মধ্যে। সে পরশের দিকে তাকিয়ে আবারো স্পর্শীকে দেখলো। দুজনকে মন্দ মানায়নি। ঠিক যেনো জোড়াশালিক। সকলের অগোচরে চোখ থেকে সামান্য কাজল আঙুলে নিলো। এরপর আচমকা সেটা লেপে দিলেন স্পর্শীর কানের গোড়ায়। ডান হাত টেনে কনুই আঙুলটাতে আলতো কামড় দিয়ে বললো,
– কাজল পড়বি। তোর আবার একটু সাজলেই অসুস্থ হওয়ার রোগ আছে।
স্পর্শীয়া মিটিমিটি হাসলো। বললো,
– কেনো, বেশি সুন্দর লাগছে?
উত্তর দিলো না তৃষ্ণা। চলে গেলেন সেখান থেকে।
রুমের মধ্যে থাকার নির্দেশ দিলেও এতোক্ষণে নিচে নেমে এলো আর্শি। সকলের মধ্যে পাভেলকে দেখে চোয়াল শক্ত করলো। সে জানে, আজ এখানে আসার কারন। তাকে দেখে আলতাফ এগিয়ে এলো। মাথায় হাত বুলিয়ে আদুরে কন্ঠে বললো,
– মামুনি, একদম ভয় পাবে না। আমরা তো আছি। এসো।
আর্শি মামার হাত ছাড়িয়ে দিলো। ধীর পায়ে সকলের সামনে এসে দৃঢ় কন্ঠে বললো,
– আপনারা ভুল ভাবছেন মামা। পাভেল ভাইয়ার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। ওনাকে পছন্দও করি না। প্লিজ, এরকম প্রস্তাব আর রাখবেন না।
স্পর্শী হতবাক হয়ে তাকালো। সে বুঝতে পারলো না আর্শি মিথ্যে কেনো বললো! গতবার যখন প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়েছিলো, তখন তো বেশ উদ্বেগ দেখিয়েছিলো। তবে আজ কি হলো!
উপস্থিত সকলে নির্বাক। একে অপরের দিকে চাওয়া-চাওয়ি করে আর্শির অসম্মতির কারন বুঝতে চাইলো। তবে অবাক হয়নি পাভেল। সে মাথা নিচু করে হাসলো। সেদিনের কথাগুলো আর্শির আত্মসম্মানে লেগেছে। কষ্ট পেয়েছে। সেজন্যই মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। পাভেল মাথা তুলে বললো,
– আমি একটু আর্শির সাথে আলাদা করে কথা বলতে চাই।
কথাটুকু বলে নিআশ্বাস নিতে পারলো না । এর পূর্বেই গর্জে ওঠে আর্শি। সকলের সামনে অপমান করে বলে,
– আপনার সাথে এই ব্যাপারে কথা বলতেই আমি ইচ্ছুক নই, আলাদা করে বলা তো দূরে থাক।
শামসুলের চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। সে অবশেষে মাথা তুললো। সোফা ছেড়ে দাঁড়িয়ে আর্শির হাত শক্ত করে ধরলো। গাম্ভীর্য নিয়ে বললো,
– তো, আশা করি আপনারা উত্তর পেয়ে গেছেন। এবার প্লিজ……
“আসুন’ শব্দটা বলতে গিয়েও আটকে গেলেন। তাকালেন স্পর্শীয়ার দিকে। অতঃপর অন্যদিকে তাকিয়ে শুধরে বললেন,
– এবার প্লিজ এ ধরণের প্রস্তাব আর রাখবেন না।
এরপর আর্শির হাত ধরে চলে গেলেন দোতলায়। সকলকে অবজ্ঞা করে।
অপমানে মুখ থমথমে করে ইতোমধ্যেই বেরিয়ে গেছে পরশ। একে একে বাকিরাও চলে গেলো। স্পর্শী পড়লো দোটানায়। চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই পিপাসা আটকালো। বললো,
– চলে যাবি?
– এই মুহুর্তে আমার যাওয়া উচিত মা। পরে নাহয় আসবো।
তিনি আর আটকালেন না। শুধু বললেন,
– তোর বাবা নাকি তোকে গয়না দিয়েছিলো। সেগুলো নিয়ে যেতে বলেছে। আর ঢাকায় যেগুলো আছে সেগুলোও নাহয় আমি নিয়ে আসবো।
স্পর্শী এক পলক বাবার রুমের দিকে তাকালো। এরপর মৃদু হেসে বললো,
– গয়নাগুলো যিনি গড়িয়ে দিয়েছে, তিনিই যেনো হাতে তুলে দেয়। সব আমার রুমেই আছে। আসছি।
আমজাদ শিকদার সমস্ত ঘটনা শুনে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বসে রইলেন। এসব কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না। দুই ভাইয়ের দৃঢ় মতামত। আর্শিয়া নিজে থেকে কিছুই বলেনি। সবটা তাকে বলতে বাধ্য করা হয়েছে। ভয় দেখানো হয়েছে। আর এসব করেছে শামসুল সরদার।
আর চুপ থাকতে পারলো না স্পর্শী। শান্ত কন্ঠে বললো,
– এটা আপনাদের ভুল ধারণা। আর্শি যা বলেছে তা আব্বুর ভয়ে বলেনি। গতবার বারবার বোঝানোর পরেও ও এই বিয়েতে রাজি ছিলো। গোটা বাড়ির সকলে বুঝিয়েও সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেনি। কিন্তু এইবার বদলেছে। তবে তা ভয়ে নয়। যা বলেছে তা ওর নিজের সিদ্ধান্তে। না বলার হয়তো অন্য কোনো কারন আছে। আর আমার মনে হয়, পাভেল নিজেই সেই কারন জানে।
স্পর্শীর আন্দাজ মিথ্যে হলো না। সর্বসম্মুখে পাভেল নিজেই স্বীকার করলো। বললো,
– আমি সেদিন ওকে বলেছিলাম বিয়ে করবো না। হয়তো সেটাই গায়ে লেগেছে। আর সবটা ফিরিয়েও দিয়েছে।
থেমে,
চিন্তা করো না। আমি সামলে নেবো।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলো। তবুও ঘুম ভাঙলো না পাভেলের। চোখ ই মেলতে পারছে না। কিছুক্ষণ পূর্বে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়েছে। সেই আরামের রেশ’ই কাটিয়ে তুলতে পারছে না। অবশেষে অনেক কষ্টে চোখ মেললো। ফোন হাতড়ে অন করে দেখলো সাতটা বাজে। নাহ, লম্বা সময় সে ঘুমিয়েছে। এবার আর বসে থাকা যাবে না। আর্শিকে তার দরকার। একটু নাহয় অভিমান করেছে। কিন্তু সেটা ভাঙার দায়িত্বও পাভেলের। সে তৎক্ষণাৎ কল করলো। এতোটা সময় দেওয়ার কারন অভিমান। যখন তখন কল করলে ফোনে খ্যাচখ্যাচ করতেও পারতো। তবে এখন হয়তো একটু হলেও রাগ পাতলা হয়েছে।
স্ক্রিনের উপরে পাভেলের নামটা জ্বলজ্বল করছে। আর্শি দেখেও দেখলো না। চোয়াল শক্ত করে পড়তে লাগলো। কিন্তু এভাবে আর কতক্ষণ? মন চাইছে রিসিভড করতে। কি বলতে চায় সেটা শুনতে। প্রয়োজন হলে আর্শিও কিছু কঠোর কথা শুনিয়ে দেবে।
অবশেষে কল রিসিভড করে কানে ধরলো। কন্ঠে গাম্ভীর্য রেখে বললো,
– কি সমস্যা আপনার? বার বার কল করছেন কেনো?
– কথা বলতে।
– আপনার সাথে আমার কোনো কথা থাকতে পারে না।
কিশোরী রাগ দেখাচ্ছে। যা শুনতে বেশ ভালো লাগছে পাভেলের। সে বললো,
– কিন্তু আমার কথা আছে।
আর্শি নাকের পাটাতন ফুলিয়ে রাখলো। অপমান করে এখন আসছে আহ্লাদীপনা দেখাতে। তার মন কিছুতেই গলবে না এখন। যা হওয়ার হয়ে গেছে। সে চুপ করে রইলো। পাভেল তার নিরবতা পেয়ে হঠাৎ সময় নিয়ে বললো,
– সরি!
শব্দটা কয়েকবার আর্শির কানে প্রতিধ্বনিত হলো। তবুও সে কিচ্ছু বললো না। শেষমেশ পাভেলই আবার বলে উঠলো।
– আমি বুঝতে পারি নি আমার কথাগুলো তোমার এতো খারাপ লাগবে। তবে বিশ্বাস করো, আমি মিথ্যে কিছু বলিনি। তোমার প্রতি আলাদা করে আমি কখনোই কিছু ফিল করিনি। কিন্তু তোমায় রাগাতে ভীষণ ভালো লাগতো। এজন্যই ঘন ঘন কথা বলা। যার কারনে মায়ের মনে সন্দেহ জেগেছে, আর প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলো।
আর্শি চোখমুখ খিঁচিয়ে বন্ধ করে নিলো। আবারো সেই একই কথা, একই উত্তর। সে জানে পাভেল তার জন্য কিছু ফিল করে না। তাকে ভালোবাসে না। কিন্তু সেই কথাটা কতবার বলতে হবে? সে কি বুঝতে পারছে না এগুলো শুনতে আর্শির কষ্ট হয়!
– হ্যাঁ বুঝতে পেরেছি আমি। আপনার উপর সম্পর্ক টা চাপানো হচ্ছে। সেজন্যই তো ভেঙে দিয়েছি। ফিরিয়ে দিয়েছি প্রস্তাব। তবে আবার কি চান?
আর্শির চেচিয়ে বলা কথাগুলো শুনতে পাভেলের ভালো লাগছে। বললো,
– নাহ, তুমি বোঝো নি। আর্শি, সব সম্পর্কে কি শুরুর পূর্বে প্রেম থাকতে হয়? কিছু সম্পর্ক তো বিয়ের পরেও গড়ে ওঠে।আমাদের মধ্যে কোনো প্রেম, ভালোবাসার সম্পর্ক নেই ঠিকই, কিন্তু বিয়ের পরেও যে হবে না এটা কে বলেছে?
থেমে স্নিগ্ধ কন্ঠে,
আমাকে কেউ বাধ্য করছে না আর্শি। আমি আজ নিজের ইচ্ছায় সবাইকে রাজি করিয়ে গিয়েছিলাম। কারন তোমাকে আমার প্রয়োজন। একটু বেশিই প্রয়োজন। হয়তো তুমি না এলে আমি হারিয়ে যাবো। বরাবরের মতো অস্তিত্বহীন হয়ে যাবো।
আর্শি হতভম্ব হয়ে গেলো এসব শুনে। এগুলো নেওয়া যাচ্ছে না আর! সে আবার দূর্বল হয়ে পড়বে এসব দেখে। তার চেয়ে দূরে থাকাই শ্রেয়। কেটে দিলো ফোন। এরপর মাথা হেলিয়ে রাখলো বইয়ের উপর। কথাগুলো মাথার মধ্যে ভনভন করছে। ভোলা যাচ্ছে না কিছুতেই।
“ভাইয়া,আমাকে সরদার বাড়িতে যেতে দিচ্ছে না। ”
অপরিচিত নম্বর দেখে সোভাম কল রিসিভড করেছিলো। কানে তুলতেই ওপাশ থেকে স্পর্শীয়ার কন্ঠ ভেসে আসলো। সে ফুপিয়ে বললো কথাটা। সোভাম কপাল কুঁচকে বিস্ময়ের সুরে বললো,
– চড়ুই, আমি বুঝিনি তোর কথা।
স্পর্শী আরো জোরে হু হু করে কেঁদে উঠলো। অস্ফুটস্বরে বললো,
– ও আমার গায়ে হাত তুলেছে। কাল ও বাড়ি থেকে অপমান করার পর থেকেই রেগে আছে। বলছে, আর্শিকে নাকি আব্বু ভয় দেখিয়েছে। ওরা সবাই মিলে আমায় শাসিয়েছেও। বলেছে – আমি যেনো আব্বুকে বলি রাজনীতি ছেড়ে দিতে। ভাইয়া, আমি এখানে আর থাকবো না। পরশ আমায় যেতে দিচ্ছে না। তুই প্লিজ আমায় এসে নিয়ে যা।
স্তব্ধ হয়ে গেলো সোভাম। স্পর্শীর কান্না শুনে তার কলিজা মোচড় দিয়ে উঠেছে। সে ডাকলো বোনকে। বললো,
– চড়ুই, পরশ তোর গা.. গায়ে হাত তুলেছে? তুই আমায় বল…
আর কোনো আওয়াজ পাওয়া গেলো না। কল কেটে গেলো। ফোনটা পাশে রেখে খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো স্পর্শী। পরশের কোলে বসে আছে সে।
– তুমি অত্যন্ত পাজি! এভাবে কাউকে ভয় দেখায়? হিতে বিপরীত হয় যদি?
স্পর্শী স্বামীর কথায় পাত্তা দিলো না। গলা জড়িয়ে ধরে বললো,
– উহু!! কিছুই হবে না। ও আমার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলো না? এবার নিজে থেকে ছুটে আসবে। এই ছাড়ো, আমি নিচে যাই। ভাইয়ার আসতে বড়জোর পনেরো মিনিট লাগবে।
সোভাম আসবে! শুনে থমকে গেলো প্রেমা। এক ছুটে চলে গেলো নিজের রুমে। এতোগুলো দিন পরে দেখা। সে কি সামনে যাবে? গেলেও কি সোভাম তাকে চেয়ে দেখবে? প্রেমার মন খারাপ হলো ভীষণ। যা পরিস্থিতি, তাতে নিশ্চয়ই খুব একটা আপ্যায়ন হবে না। হলেও তার সঙ্গে কথা বলার মতো সম্পর্ক নেই।
প্রেমা উদাস হয়ে শুয়ে পড়লো। তার অনুভূতি এভাবেই কি এককোণে বসে হা-হুতাশ করবে। কখনো জানতে পারবে না কেউ? একসময় তার মনের মধ্যে একটা বুদ্ধি খেলে যায়।
গুপ্ত অনুভূতি সোভামকে জানানোর জন্য ফন্দি আটলো। নাম বিহীন দুটো চিরকুট লিখে ভাঁজ দিয়ে হাতের মুঠোয় গুঁজলো। বোকার ন্যায় একটাতে লিখলো,
– সোভাম স্যার, আপনাকে আমার ভীষণ ভাল্লাগে।
অন্যটাতে লিখলো,
– আর্শি আমার থেকেও সতেরো দিনের ছোটো। ওরও বিয়ের কথা চলছে, অথচ আমায় কেউ দেখছেই না।
সোফার উপর পা দুলিয়ে বসে আছে স্পর্শী। কিছুক্ষণ পর পর সময় দেখছে। অলরেডি তেরো মিনিট হয়ে গেছে প্রায়। এইতো আর একটু, আর একটু। ঘড়ির কাঁটা টিকটিক টিকটিক করছে। স্পর্শী শরীর হেলিয়ে দিলো পেছনে। এরমধ্যেই চমকে উঠে দাঁড়ালো। গেটে লাথি মারার শব্দ আসছে। সঙ্গে সোভামের চিৎকার। স্পর্শী জিভে কামড় মেরে দ্রুত বাইরে ছুটলো। ইতোমধ্যে সদর দরজার সামনে এগিয়ে এসেছে সে। স্পর্শী ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো। সোভাম কিছু বলার পূর্বেই বললো,
– আরে আস্তে। এভাবে ডাকাতের মতো চেচাচ্ছিস কেনো? এটা আমার শশুরবাড়ি।
সোভাম বোনকে ছাড়িয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হাত ধরলো। টানতে টানতে বাড়ির ভেতরে এনে বললো,
– কোথায় মেরেছে? আমায় দেখা।
সোভাম হাত মুখে আঘাত খুঁজতে লাগলো। নেমে এলো পরশ। তাকে দেখে সোভাম ক্ষিপ্ত বাঘের মতো ছুটে যেতে লাগলো। এরইমধ্যে কোমড় ঝাপটে ধরলো স্পর্শী। দ্রুত কন্ঠে বললো,
– আরে মজা করেছি আমি। তোকে দেখতে ইচ্ছে করছিলো তাই।
পরশ আয়েশ করে সোফায় বসলো। বাড়িতে বাবা-চাচা কেউ উপস্থিত নেই। থাকলে ব্যাপারটা নিয়ে নিশ্চিত ঝামেলা হতো। সে সোভামকে বসতে বললো।
– আরে বসো বসো। তোমার যা বোন! গায়ে হাত দিতে গেলে আমার হাত অক্ষত থাকবে?
সোভাম স্পর্শীর দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙালো। সবটা মিথ্যা! তাকে ভুলভাল বুঝিয়ে এতোদুর টেনে আনলো। ইচ্ছে করছে ঠাস করে একটা থাপ্পড় মারতে। সোভাম যদি স্পর্শীর কথার উপর ভিত্তি করে পুলিশ আনতো? তাহলে! এতোটা বোকামো কি করে করলো স্পর্শীয়া?
সে দুহাত দিয়ে সরিয়ে দিলো বোনকে। ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললো,
– আজকের পর থেকে তোর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমায় পাগল ভেবেছিস? মজা নিচ্ছিলি সবাই মিলে? যখন যা ইচ্ছা তাই করবি, আর আমি মেনে নেবো? কক্ষনো না। সবাই তোকে মানলেও আমি মানবো না। যেদিন ওকে ছাড়বি, সেদিনই ভাইয়ের কাছে আসবি।
স্পর্শী রেগে গেলো। সোভাম চলে যাচ্ছে। তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বললো,
আমি কাউকে ছাড়বো না। তুই কথা বলবি না তো? বেশ! আমিও আর চেষ্টা করবো না।
রাগে সারা শরীর গিজগিজ করছে। সোভাম বড় বড় পা ফেলে গেটের দিকে এগিয়ে গেলো। বাইকের দিকে এগিয়ে যেতেই ভ্রু কুঁচকালো। প্রেমা দাঁড়িয়ে আছে বাইকের পাশে। চোরের মতো দুটো কাগজ লুকানোর চেষ্টা করছে। খপ করে হাত চেপে ধরলো সে। কাগজ দুটো টেনে এনে তাতে চোখ বুলিয়ে চোখ গরম করে তাকালো। ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললো,
– এতোটা অভদ্র কেনো তুমি? পুরো বংশেরই দেখছি চরিত্রে সমস্যা। লজ্জা করে না এমন অসভ্যতা করতে?
প্রেমা শিউরে উঠলো। ছলছল করে উঠলো চোখ। কেউ দেখে না ফেলে এই ভয়ে হাত মোচড়াতে লাগলো ছাড়ানোর জন্য। কিন্তু আদৌ কি সে মুক্তি পাবে।
পরশ এসেছিলো সোভামকে বোঝাতে। এ কদিনে সে এতোটুকু বুঝে গেছে যে স্পর্শীয়া ভাইকে ভীষণ ভালোবাসে। ইনফ্যাক্ট আজকের ঘটনায় সোভামের বোনের প্রতি ভালোবাসার ব্যাপারেও প্রমাণ পেয়ে গেছে। তাইতো সে এগিয়ে এসেছিলো। কিন্তু এসেই দেখলো সোভাম প্রেমার হাত ধরে আছে এবং শাসাচ্ছে। মুহুর্তেই মাথায় দপ করে আগুন জ্বলে উঠলো। গর্জে উঠে বললো,
– এসব কি হচ্ছে? তুমি ওর হাত ধরেছো কেনো?
সোভাম এক ঝলক হাতের দিকে তাকিয়ে ছেড়ে দিলো প্রেমাকে। চিরকুট দুটো হাতে নিয়ে এগিয়ে এলো পরশের দিকে। হেঁসে বললো,
– ওহ! এসে পড়েছো! তাহলে তোমার বোনের কাজকর্মও দেখে নাও। যত যাই হোক, তোমারই তো বোন।
পরশ অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে প্রেমার দিকে তাকালো। হাতের চিরকূট টা পড়ে চোয়াল শক্ত করতেই কেঁদে দিলো প্রেমা। ভয়ে জড়সড় হয়ে দৌঁড় দিলো বাড়ির ভেতরে। পরশ সেদিকে তাকিয়ে হাতের মুঠোয় দুমড়ে মুচড়ে ফেললো কাগজ দুটো। সোভাম আর দাঁড়ালো না। হেঁটে গেলো বাইকের কাছে। হঠাৎ কিছু একটা ভেবে থমকে দাঁড়ালো। ক্রুর হেঁসে পরশের দিকে তাকিয়ে বললো,
রাজনীতির রংমহল ৩ পর্ব ৫১
– বোনের হাত ধরেছি বলে তুমি জ্বলছো নাকি, পরশ শিকদার?
পরশ উত্তর দিলো না। চোয়াল শক্ত করে চলে গেলো বাড়ির ভেতরে। সোভাম অদ্ভুত একটা শান্তি পেলো। স্পর্শীয়ার বিয়ের পর এই প্রথম তৃপ্তি পেলো সে।
