নূর ই মহব্বত পর্ব ১৪
তাবাসসুম তাজ্বওয়ারী
– কি ব্যাপার ডক্টর আযলান আজ হঠাৎ আমার ডাক পড়লো আপনার কেবিনে? তাও আবার আপনিই ডাকলেন! অষ্টম আশ্চর্য!!
আহিলের কেবিনে ঢুকতে ঢুকতে বললো সামিয়া। আজ সকালেই এসে শুনেছে ডিউটি শেষেই যেন আযলানের কেবিনে যেন যায়। আযলান তাকে ডেকেছে। সামিয়া অবাক হলেও অবাককে পাত্তা না দিয়ে মনে মনে খুশি হলো। আযলানের সবকিছুই তো তার ভালো লাগে। ও রাগ বিরক্তি দেখালেও তার মনে হয় সারাক্ষণ যেন সব শুনে। আজকে আযলান ডেকেছে শুনে মনটা উড়ু উড়ু করছে। কাজে মন বসাতে পারছে না আর না পারছে তক্ষুণি ছুটে যেতে। এসিট্যান্টকে কড়া ভাষায় বলে দিয়েছে যেন আজকে কম রোগীর এপয়েন্টমেন্ট নেয় তার স্পেশাল কাজ আছে। সেই থেকে মনটা ছটফট করছে আর ভাবছে হয়তো আযলান তাকে বুঝতে পারছে! কোনোরকম ডিউটি দ্রুত শেষ করে ছুটে গেল আযলানের কেবিনে।
আযলান তখন বসে আছে গম্ভীর মুখে। একটু আগেই ডিউটি শেষ করলো। সে অনেক আগেই বেরিয়ে যেতো কারণ সে বাসায় গিয়ে মাকে নিয়ে বেরোবে নওমির বাসার উদ্দেশ্যে। মাকে এখনো বলেনি ওদের কথা তবে বলেছে একটা জায়গায় যাবে। এসব ভাবতে ভাবতে শোনা গেল সামিয়ার কণ্ঠস্বর। সে মাথা তুলে তাকাল। মুখাবয়ব শক্ত হয়ে গেল তার। চোখে যেন আ’গুনের ফুলকি দেখা যাচ্ছে। তবুও স্বাভাবিক কণ্ঠে বললো,
– আয়। আমিই ডেকেছি।
সামিয়া খুশি খুশি মনে হেসে এসে বসলো। সামিয়ার মনে কি চলছে ভেবে মনে মনে হেসে নিলো আযলান। হাসাহাসি শেষে নিজের উপর বিরক্ত হলো সে। নিজের এতবছরের ব্যক্তিত্ব থেকে বেরিয়ে সে মনে মনে হাসছে? পরক্ষণেই ভাবলো নওমি আর আদনানের প্রভাব মনে হয়! ওদের পেয়েই সে আবার আগের মতো হচ্ছে? এটা ভেবে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। এদিকে আযলানের হাসি দেখে সামিয়ার মনে আকডুম বাকডুম হচ্ছে। সে হাসি আরো জোরালো করে বললো,
– হ্যাঁ বল কেন ডেকেছিস? হঠাৎ?
আযলান টেবিলের ওপর রাখা একটা ফাইলের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল। তার বসার ভঙ্গিটা অত্যন্ত শান্ত কিন্তু সেই শান্ত ভাবের আড়ালে যে একটা প্রলয়ংকরী ঝড় লুকিয়ে আছে, তা সামিয়া টেরই পেল না। আযলান ধীরে সুস্থে ফাইলটা বন্ধ করল, তারপর চেয়ারের হেলান দিয়ে বসে ঠান্ডা চোখে সামিয়ার দিকে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক ম্লান, রহস্যময় হাসি। সে বললো,
– অবাক হয়েছিস? নাকি ভয় পেয়েছিস?
সামিয়া না বুঝে জবাবে বললো,
– ভয় কেন পাবো? অবাকই হয়েছি তবে খুশিও হয়েছি!
– তাই?
আযলানের এমন হাসিখুশি কথায় সামিয়া এক প্রকার অস্থির হয়ে গেল খুশিতে। আযলান! সত্যিই আযলান এমন ভাবে কথা বলছে?
আযলান পাশ থেকে কফি মগটা হাতে নিয়ে একটু চুমুক দিল। সামিয়ার এই অস্থিরতা, তার চোখের চাতক পাখির মতো চাউনি সবই আযলান খুব ধীরেসুস্থে অবলোকন করছে। বাঘ যেমন শি’কার করার আগে কিছুক্ষণ শি’কারকে নিয়ে খেলা করে, আযলানের মনোভাবও ঠিক তেমন। সে একটু হেসে বললো,
– খুশি হওয়াটাই স্বাভাবিক, সামিয়া। নিজের মনের আশা পূরণ হলে কার না ভালো লাগে তাই না?
সামিয়া মনের ইচ্ছে বলতে কি বুঝলো কে জানে সে আরো বেশি উৎফুল্ল হয়ে গেল।
– আহিল খোলামেলা বল তো কি বলছিস? আমি বুঝতে পারছি না!
– আমি বুঝাচ্ছি যে মানুষের মন তো সবসময় একরকম থাকে না। সময়ের সাথে সাথে অনেক ধারণাই বদলে যায়। আমি রিয়ালাইজ করছি এই দীর্ঘ সময়টা একা কাটাতে কাটাতে মানুষ যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন সে পেছন ফিরে তাকায়। ভাবে, কার জন্য সে সব হারাল, আর কে তার এই একাকীত্বে সবসময় ছায়ার মতো পাশে ছিল।
বাকি সব বাদ দিয়ে আযলানের মুখে ‘পাশে ছিল’ শব্দ দুটো শুনে সামিয়ার চোখ দুটো চকচক করে উঠল। সে ভাবল, এতদিনে বুঝি তার সাধনা সফল হতে চলেছে! নওমি চলে যাওয়ার পর আযলানের জীবনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, সেখানে আজ নিজের জায়গাটা পাকা দেখতে পেল সে। এর জন্যই তো এতো বছর চেষ্টা করছিলো সে। সে আবেগ মেশানো গলায় বললো,
– আমি তো সবসময় তোর পাশেই থাকতে চেয়েছি আহিল। তুইই দূরে দূরে থাকতি! কিন্তু আমি কোনোদিন তোর ভালো চাওয়া বন্ধ করিনি। তোর এই একাকীত্ব, এই কষ্ট আমি প্রতিদিন দূর থেকে দেখেছি।
আযলান মনে মনে এক চরম বিতৃষ্ণা অনুভব করল। যে মেয়েটা একটা সাজানো সংসারকে নিজের হাতে বানিয়ে ধ্বং’স করে দিল, সে আজ কত সহজে সহানুভূতির নাটক করছে! কিন্তু উপরে উপরে এমন ভাব করলো যেন সে খুশি।
– তুই খুব বুদ্ধিমান। আর ঠিক এই কারণেই আজ তোকে এখানে ডেকেছি। আসলে একটা খটকা আমার মনে ইদানীং খুব বেশি কাজ করছে। আমি একটা নিখুঁত অঙ্কের হিসেব মেলাতে পারছি না। ভাবলাম, তুই ছাড়া এই হিসেব আর কেউ মেলাতে পারবে না।
মনে মনে ডান্স দেওয়া শুরু করে দিয়েছে সামিয়া। “আযলান আমার প্রশংসা করছে! আমাকে সাহায্যের জন্য খুঁজছে? আহা আল্লাহ তুমি আমাকে কি দিন দিয়ে দিলে! এত খুশি লাগতেছে”
মনে মনে এগুলো বলে হেসে মুখে বললো,
– বল। কিসের হিসেব? তোকে সমাধান দিতে আমি হাজির।
আযলান সময় নিয়ে বললো,
– এই যে তিনবছর আগে নওমি চলে গেল হঠাৎ। কোথায় গেল কেন গেল কিছু বুঝতেই পারছি না।
আযলানের মুখে নওমির কথা শুনে মুখের হাসি উবে গেল সামিয়ার। অপ্রস্তুত হলো ভালোই। সামিয়া কোনোমতে নিজের ভেতরের অস্বস্তিটুকু চেপে রাখার চেষ্টা করল। এই মুহূর্তে আযলানের মুখে নওমির নাম শোনার জন্য সে একদমই প্রস্তুত ছিল না। তবে নিজেকে সামলে নিয়ে একটু হালকা সুরে হাসার চেষ্টা করে বলল,
– এতবছর পর আবার এগুলো ভাবছিস কেন? ও তো সেই কবেই তোকে ভুল বুঝে, রাগ করে নিজের মতো চলে গেছে। এখন আর ওসব ভেবে নিজের মাথা খারাপ করার কী দরকার?
– মাথা খারাপ করছি না। কাল একটা ফাইল দেখতে গিয়ে মনে আসলো ওর কথা। নওমি মেয়েটা ছিলো সহজ সরল। ওর হুট করে চলে যাওয়ার কথা মাথায় আসলো কিভাবে?
– এত বছর পর এসব কথা কেন তুলছিস বল তো আহিল?
– কারণ মনে হচ্ছে নওমির মতো মেয়েকে আড়াল থেকে উসকে দিয়ে চলে যেতে কেউ সাহায্য করেছে।
আযলানের এই ঠান্ডা মাথার অনুমান শুনে সামিয়ার বুকের ভেতরটা যেন একটা বড়সড় ধাক্কা খেল। সে আমতা আমতা করে বললো,
– কে উসকে দেবে আহিল? তুই তো জানিস ও কতটা একগুঁয়ে আর জেদি ছিল। আর যে নিজে চাই ওকে কারো উসকে দেওয়া লাগে না বুঝেছিস?
– আমি কারও ওপর দোষ চাপাচ্ছি না সামিয়া, আমি জাস্ট লজিক্যালি ভাবছি। নওমিকে আমি বিয়ে করেছিলাম, ওর রাগ-অভিমান সবটা আমার চেনা। ও আর যাই হোক, এতটা শক্ত মনের মেয়ে ছিল না যে এতো বড় কাজ করবে, এতদিন রাগের বশে পাত্তা না দিলেও এটা এখন মনে পড়ছে বুঝলি? ও একা কখনো বেরোতোই না! কোনো কিছু আমার কাছ থেকে লুকাতো না সেখানে কেউ ওকে নিশ্চয়ই জোর করেছে চুপ থাকার জন্য?
সামিয়া একটা শুকনো ঢোক গিলল। এসি-র বাতাসেও তার কপাল বেয়ে এক ফোঁটা ঘাম নেমে এলো। সে একটু বিরক্ত হওয়ার ভান করে বলল,
– তোর এই লজিকের কোনো মাথা-মুণ্ডু নেই আহিল। যে নিজের ইচ্ছায় চলে যায়, সে নিজেকে লুকিয়ে রাখতেই পারে। এর মধ্যে অন্য লোক আসবে কোত্থেকে? আর তুই আমাকেই বা এসব কেন জিজ্ঞেস করছিস? ওসবের আমি কী জানি? আর ও তোকে কিছু লুকাতো না বললি যে ও না লুকোলে অন্য কারো সাথে চলে যেতো নাকি? তোর ঘাড়ের উপর বসে অন্যের সাথে….
আর বলতে পারলো না তার আগেই টেবিলে উচ্চ শব্দে কড়া’ঘাত পড়লো। সামিয়া চমকে উঠল। মুখের বাকি কথাটুকু গলার কাছেই আটকে রইল।
আযলান চেয়ার ছেড়ে ধীরপায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। এতক্ষণ তার মুখে যে ম্লান, কৃত্রিম হাসিটা ছিল তা এক নিমেষে কর্পূরের মতো উড়ে গেছে। সেখানে এখন ভর করেছে এক ভয়ঙ্কর, থমথমে অন্ধকার। চোখ দুটো কুঁচকে সে সামিয়ার দিকে তাকাল। সেই দৃষ্টি এতই প্রখর আর বি’ষাক্ত যে সামিয়ার মনে হলো, আযলান চোখ গিয়ে আ’গুনে ঝলসে দিবে!
সে আঙুল তুলে হিসহিসিয়ে বললো,
– মুখ সামলে সামিয়া! তোর ওই নোংরা জিব দিয়ে নওমির নামে আর একটা শব্দও উচ্চারণ করবি না। ও কী করতে পারত আর কী পারত না, তা আমার চেয়ে ভালো এ দুনিয়ায় কেউ জানে না। আর তুই বলছিস যে আমি বলছি ও লুকাতে পারত না? এটা ভুল? হ্যাঁ, পারত না। কারণ ও তোর মতো এতটা সস্তা, নোংরা আর নিচ মানসিকতার মেয়ে ছিল না!
সামিয়া এবার পুরোপুরি ভড়কে গেল। সে কাঁপাকাঁপা গলায় নিজেকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করে বলল,
– আ… আহিল তুই ভুল বুঝছিস। আমি জাস্ট বলছিলাম যে ও যদি তোকে ভালোই বাসত, তবে ওভাবে চলে গেল কেন? তুই কেন আমাকে দোষ দিচ্ছিস? আমি কি করেছি?
আহিল তাচ্ছিল্যের সাথে বললো,
– তুই কি করেছিস আমায় জিজ্ঞেস করছিস? তুই নাটক করছিস আমার সাথে?
এইটুকু বলে থামলো সে। আবার বলতে শুরু করলো। তার ভেতরের পুঞ্জীভূত সব রাগ আর ঘৃণা যেন একেকটা শব্দের মাধ্যমে ঠিকরে বেরোচ্ছিল,
– আমি তো তোকে এখনো দোষ দিইনি সামিয়া। আমি তো জাস্ট একটা সাধারণ হিসেব মেলাচ্ছিলাম। কিন্তু চো’রের মন যে সবসময় পুলিশ পুলিশ করে, তা তুই নিজের মুখে তোর কথা দিয়ে প্রমাণ করে দিলি। আমি কি একবারও বলেছি নওমি অন্য কারও সাথে গেছে? তাহলে তুই জানিস কিভাবে? আমি বলেছি ওকে কেউ উসকে দিয়েছে, কেউ ওকে চুপ থাকতে বাধ্য করেছে। কিন্তু তুই নিজে থেকেই নওমির চরিত্রের ওপর কাদা ছেটাতে শুরু করলি কেন বল তো? যা তোকে বলা হয় নি সেসবও তুই কিভাবে নিজে নিজে সঠিক বলে ফেললি? কারণ ঠিক তিন বছর আগে এই নোংরা নাটকটা তুই নিজেই সাজিয়েছিলি!
সামিয়ার মাথায় এখন বা’জ পড়লো। তার হাত-পা কাঁপতে শুরু করেছে, কপাল বেয়ে ঘামের ফোঁটা পড়ছে। গলা শুকিয়ে এসেছে।
– এসব…. এসব তুই বানিয়ে বলছিস আহিল। তোর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। আমি কেন এসব করতে যাব? আমি তোর ফ্রেন্ড!
– ফ্রেন্ড?
আযলান একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল,
– ফ্রেন্ডের মুখোশ পরে তুই আমার পিঠে ছু’রি মে’রেছিস সামিয়া। আমার একটা হাসিখুশি সংসার তুই জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিলি। তুই ভেবেছিলি তুই নওমিকে ভুল বুঝিয়ে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিবি, আর আমি সারাজীবন অন্ধ হয়ে থাকব? কিছু জানতে পারবো না? তুই জানতিস না, পাপের ঘড়া একদিন না একদিন পূর্ণ হয়?
থেমে আবার বললো,
– তবে তুই একদিকে সফল! আমাদের মধ্যকার সম্পর্ককে খু ন করতে সফল! আমার মনে নওমির আর নওমির মনে আমার সম্পর্কে বি’ষিয়ে দেওয়ায় তুই সফল! আমাদের জীবন থেকে তিনটা বছর কেড়ে নিয়ে ন’রক বানিয়ে ফেলায় তুই সফল!
সামিয়া কিছু বলার আগেই দরজা খুলে গেল। সেদিকে তাকিয়ে দেখলো তুহি দাঁড়িয়ে আছে। সামিয়া বুঝল না নওমি এখানে কেন। আহিল হেসে বললো,
– বোস সামিয়া। আজকে তোকে স্পেশাল ট্রিটমেন্ট জান্নাত দিবে।
– মা… মানে?
তুহি এগিয়ে এসে বললো,
– আমার বোনের সাথে যা করেছেন তার জন্য আপনার পাওনা আছে না? সেটা আমাকেই দিতে হবে।
সামিয়ার বুঝতে বাকি রইলো না কিন্তু বোন শুনে সে যেন আকাশ থেকে পড়লো। অবাক হয়ে বললো,
– বো…. বোন মানে?
– অতো মানে তোর বোঝা লাগবে না। ভালোভাবে বলছি স্বীকার কর! কে কে মিলে কি কি করেছিস!
সামিয়া এখনো মুখ খুলছে না। সে জেদ দেখিয়ে চিল্লিয়ে বললো,
– আমি কি করব! আমি কিছুই করিনি! শুধু শুধু আমাকে দোষারোপ করছিস! কার না কার কথা শুনে এসেছিস, কে বলেছে তোকে? ওই চরিত্রহী…
বলার আগে মনে হলো গালের ডান পাশটা বোধহয় ছিঁ’ড়েই গেল! মাথা ঘুরে উঠলো। ঝাপসা চোখে তাকাতেই দেখলো তুহি অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। সে তাকাতেই ফুঁসতে ফুঁসতে বললো,
– খবরদার! নওমির নামে যদি আরেকটা বাজে কথা বলেছেন! জিভ টেনে ছিড়ে ফেলব একদম!
সামিয়া অবাক না হয়ে পারল না। একটা টেকনোলজিস্ট তার মতো ডক্টরকে থাপ্পড় মে’রেছে! সে রাগে গজগজ করতে করতে চিল্লিয়ে উঠতে গেল,
নূর ই মহব্বত পর্ব ১৩
– তুমি….
আহিল গর্জে উঠলো।
– চুউউপ! আর একটা কথা বললে ব্যাপারটা ভালো হবে না সামিয়া! এখন তো তুহি মা’রলো। তুই মেয়ে বলে আমি ছাড় দিয়েছি কিন্তু এখন আরেকটা বাজে কথা বললে আমি ছেড়ে দেবো না আর সেটা তুহির মতো এত নরমও হবে না! বুঝতেই পারছিস! ভালোই ভালোই মুখ খোল। আমাকে রাগাস না!
আহিলের বাঘের মতো গর্জনে সামিয়া বিড়ালের মতো চুপসে গেল। আর কিছু বলতে পারলো না। তুহি মে’রেই মাথাটা ভন ভন করে উঠেছে সেখানে আহিল মা’রলে তো…
