Home নূর ই মহব্বত নূর ই মহব্বত শেষ পর্ব

নূর ই মহব্বত শেষ পর্ব

নূর ই মহব্বত শেষ পর্ব
তাবাসসুম তাজ্বওয়ারী

নওমির শরীর খারাপ লাগছে তাই দুপুরে একটু শুয়েছিল। এক রকম গভীর ঘুমেই আচ্ছন্ন সে। আহিল হাসপাতালে গিয়েছে সকালে, এই অব্দি কল করেনি অবশ্য বলে গিয়েছে আজ নাকি খুব ব্যস্ত থাকবে তাই ওকে বারবার করে ইন্সট্রাকশন দিয়ে গিয়েছে। ঘুম একটু হালকা হতেই নওমি নড়েচড়ে উঠলো। আদনান তো ওর সাথেই ঘুমিয়েছিল কোথায় গেল! নওমি উঠে বসার চেষ্টা করল বর্তমানে নড়তে চড়তে তার ভীষণ বেগ পেতে হয়। স্বাভাবিকের তুলনায় একটু বেশি মোটা হয়েছে সে তবে এই নিয়ে খুব একটা চিন্তার কিছু নেই বলে ওরা আর মাথা ঘামায়নি। দিনদিন সে নিজেকে অলস বলে দাবি করছে আর এই দাবি রক্ষার্থে সে ওভাবে শুয়েই ঘাড় বাঁকিয়ে তাকিয়ে দেখল আদনান কোথায়। আদনান কখন যেন ঘুম থেকে উঠে ওর থেকে একটু দূরে বিছানায় বসে আছে, উল্টো ঘুরে গাড়ি নিয়ে খেলছে। নওমি হালকা হাসলো,

– আব্বু উঠে গেছো তুমি?
মায়ের গলার আওয়াজ শুনে আদনান পেছন ফিরে তাকালো। খেলা ফেলে উঠে গিয়ে কোল ঘেঁষে বসে পড়লো। হেসে বললো,
– হ্যাঁ! মাও উঠে গেচে
নওমি হেসে বললো,
– হ্যাঁ! তুমি একা বসে আছো কেন উঠে? দাদুর কাছে যাওনি?
আদনান মাথা নাড়ল অর্থাৎ যায়নি।
– কেন? একা একা খেলছিলে?
– হু। বাবা বলেছে মাকে ছেড়ে কোথাও না যেতে মা অসুস্ত।
ছেলের মুখে এমন কথা শুনে নওমির কেমন একটা অনুভূতি হলো। আহিল নিজে হাসপাতালে এত ব্যস্ত থাকার মাঝেও ছোট ছেলেটার মাথায় এই দায়িত্ববোধটা ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে! সে হেসে একটু উঠে বসলো। এক হাত বাড়িয়ে আদনানকে টেনে নিলো।
– তাই বুঝি? বাবা তোমাকে পাহারা দিতে বলেছে?
আদনান মাথা ওপর-নিচ করে সায় দিল। ওর গোলগোল চোখ দুটো বড় বড় করে বলল,
– বাবা বলেছে পুচকু আর মা ঘুমালে একদম চিল্লাচিল্লি করা যাবে না। আমি গুড বয় না মা? আমি একটুও চিল্লাইনি!
নওমি হেসে ফেলে আদনানকে নিজের বুকের সাথে লেপ্টে ধরল। ওর কপালে একটা লম্বা চুমু খেয়ে বলল,

– হ্যাঁ বাবা, তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে গুড বয়! আমার সোনা বাবা একটা।
মায়ের বুকে মুখ গুঁজে আদনান দুহাতে নওমির গোল পেটটা জড়িয়ে ধরল। তিন বছরের আদনানের ছোট্ট অবুঝ মনটা হয়তো ঠিকঠাক সব বোঝে না কিন্তু বাবা আর সকলের কেয়ারিং দেখে এইটুকু বুঝে মাকে ভালো রাখতে হবে!
আদনানের পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতেই কেমন আনমনা হয়ে উঠলো সে। হারিয়ে গেল অতীতের সেই স্মৃতিতে! চোখের সামনে ভেসে উঠল কয়েক বছর আগের কিছু ঝাপসা আর বুকের ভেতর গভীরভাবে দাগ কেটে যাওয়া পুরোনো স্মৃতি।
যখন ও প্রথমবার মা হতে চলেছিল তখনকার দিনগুলো তো এমন ছিল না! একটা মেয়ের জীবনের সবচেয়ে বড় আর সুন্দর অনুভূতি যখন প্রথমবার আসে, তখন চারপাশ থেকে সবাই কত যত্ন নেয়, কত আহ্লাদে আগলে রাখে। কিন্তু নওমির কপালে তো সেই সুখটুকু তখন জোটেনি। আদনান যখন দুনিয়ার আলো দেখে নি তখন ওর মাথার ওপর এমন কোনো বিশ্বস্ত ছাদ ছিল না, যাকে ও নিজের বলতে পারে। ছিল না কোনো ভালোবাসার মানুষের চওড়া বুক, যেখানে মাথা রেখে ও নিজের সমস্ত ক্লান্তি আর ভয় নিমেষে ভুলে যেতে পারে। তখন ওর পাশে আহিল ছিল না। ছিলো না এত যত্ন, এত শত নিয়মের কড়াকড়ি, কিংবা চোখের এক ফোঁটা জলের জন্য একটা পুরুষের পুরো বুক ওলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো তীব্র ভালোবাসার অনুভূতি… তার কিছুই তখন নওমির চেনা ছিল না।
আদনান যখন এই পৃথিবীতে আসার প্রহর গুনছিল তখন পুরোটা সময় জুড়ে নওমি একাকী আর বড্ড অসহায় এক লড়াই লড়েছে। সেই কঠিন আর অন্ধকার দিনগুলোতে নিজের বলতে শুধু দুজনকে পাশে পেয়েছিল সে, ওর ভাই আবরার আর তার ভালোবাসার মানুষ তুহি! তুহি আর আবরার না থাকলে নওমি হয়তো সেই ঝোড়ো দিনগুলো পার করতেই পারত না। ঝড়ের কবলেই হয়তো নিঃশেষ হয়ে যেতো নওমি নামক অস্তিত্ব!

তুহি বোনের মতো, মায়ের মতো করে ওর খেয়াল রাখত আর আবরার নিজের সবটুকু দিয়ে আগলে রাখত ওর এই বোনটাকে। হসপিটালে নিয়ে যাওয়া, ডাক্তার দেখানো, মাঝরাতে নওমির শরীর খারাপ হলে তুহির সেই বিনিদ্র রাত জাগা! শুধু তাই কি? আদনান হওয়ার পর থেকে নওমি প্রায় সময় অসুস্থ থাকতো কিন্তু আদনানের কোনোরকম অসুবিধে হয় নি এতেও! তুহি হতে দিয়েছিল নাকি? একটা দিনের জন্যও ওর যত্নে কোনো খামতি হতে দেয়নি। নিজের পড়াশোনা, ঘুম, খাওয়া সব একপাশে সরিয়ে রেখে তুহি রাত জেগে আদনানের দেখভাল করত। আদনানকে বোধহয় মায়ের মতো তুহিই বেশি ভালবেসেছিলো। হয়তো নওমির চেয়েও বেশি! আদনান আর নওমির সবটা জুড়েই ছিল শুধু ওরা দুজন, আবরার আর তুহি!
ভাবতেই নওমির চোখের কোণ বেয়ে এক ফোঁটা নোনা জল গড়িয়ে পড়ল।
আজ সময় কতটা বদলে গেছে! আজ সে আর একা কিংবা অসহায় নয়। আজ ওর পুরোটা আকাশ জুড়ে আছে আহিল। মাঝে মাঝেই টের পায় নওমি মানুষটা ওকে হারানোর ভয়ে মাঝরাতে তাহাজ্জুদে দাঁড়িয়ে রবের কাছে চোখের জল ফেলে ভিখারির মতো ওর আর অনাগত সন্তানের দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করে। যে মানুষটা নিজে শত ব্যস্ততার মাঝেও বাচ্চা ছেলের মাথায় পর্যন্ত মায়ের প্রতি ভালোবাসার আর দায়িত্ববোধের এক অমোঘ মন্ত্র বুনে দিয়ে যায়। কিন্তু এত কিছুর মাঝে তুহিকে ভুলে গেলে হবে? এই ভেবে ফোনের জন্য এদিক ওদিক তাকালো। একটু দূরেই টেবিলে ফোন পড়ে আছে দেখে ও আদনানকে ডাকলো,

– আব্বু?
আদনান ওভাবেই মুখ গুঁজে বললো,
– হু মা!
– মাকে ফোনটা এনে দিবে আব্বু? মা উঠতে পারছি না।
বলতে দেরি আদনানের ছুট লাগাতে দেরি হয় নি! ঝুলে ঝুলে নেমে গেল বিছানা থেকে। টেবিলটা ওর নাগালের চেয়ে সামান্য উঁচুতে হওয়ায় ও পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে, শরীরটাকে যতটা সম্ভব টানটান করে ফোনটা ধরার চেষ্টা করল। ছোট ছোট দুটো হাত দিয়ে ফোনটা শক্ত করে খপ করে ধরে ও এক গাল হেসে ফেলল। আবারও দৌঁড়ে বিছানার কাছে এসে ছোট ছোট হাত পা দিয়ে বিছানায় উঠল বহু কসরত করে। নওমি যতবার ওর বিছানার উঠার চেষ্টা দেখে ততবার হেসে ফেলে এত্ত কিউট লাগে তখন!

– নাও তোমার মুবাইল।
নওমি হেসে ফোনটা নিয়ে বললো,
– থ্যাংক ইউ আব্বু! বসো। তুহি খালামণির সাথে কথা বলবে?
তুহির নাম শুনলেই আদনানের পুরো চেহারার ভোল বদলে যায় আজও ব্যতিক্রম হলো না, তুহির কথা শুনে আদনানের চোখ চকচক করে উঠলো। তড়িঘড়ি করে বলল,
– হ্যাঁ কতা বলব।
নওমি তুহির নম্বর ডায়াল করে লাউডস্পিকার দিতেই রিং হলো। দুই বার রিং হতেই ওপাশ থেকে ফোনটা রিসিভ হলো।
– কী রে নওমি? এই অসময়ে হুট করে ফোনের কথা মনে পড়ল যে? ডক্টর আযলান বুঝি আজ হাসপাতালে? উনি পাশে নেই দেখেই আমার কথা মনে পড়েছে, হ্যাঁ?
নওমি হাসলো কিন্তু কিছু বলার আগেই আদনান চিল্লিয়ে বললো,
– টুয়ি…!
আদনানের স্বর শুনে ওপাশ থেকে তুহি যেন খুশিতে লাফিয়ে উঠল। ওর গলার আওয়াজ আরও এক ধাপ উপরে চড়ে গেল,

– ওরে আমার কলিজার টুকরা রে! আমার আদনান সোনা! তুমি বলছো বাবা? কেমন আছো আমার জানটা?
আদনান বেশ পাকনামি করে নওমির পেটের ওপর একটা হাত রেখে বড়দের মতো করে বলল,
– আমি ভাল। মা ভাল নাই ব্যতা! উটতে পারে না আমি মুবাইল এনে দিচি আমি অনেক গুড বয়!
তুহি খিলখিল করে হেসে উঠে বললো,
– তাই নাকি? আমার আব্বুটা এত বড় দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে? মায়ের খেয়াল রাখছে? দাঁড়াও, আমি আজকেই তোমার জন্য অনেকগুলো চকলেট আর নতুন গাড়ি নিয়ে আসব। আর তোমার মাকে একটা বকা দেব, কেন আমার বাবাকে এত খাটায়!
আদনান চকলেট আর গাড়ির কথা শুনেই খুশিতে নওমির কোলের ওপর ছোট ছোট পা দুটো তুলে দিয়ে দুলাতে লাগল। নওমি এবার ফোনটা নিজের মুখের কাছে এনে কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে বলল,
– হ্যাঁ তুমি তো শুধু এগুলোই দেখবে আমাকে তো দেখবে না তুহি আপু!
– তোর জামাই সাথে থাকলে তো আমাকে কল দিস না আমি কেন তোকে দেখবো হু?
তুহির এই স্বভাবসুলভ অভিমানী গলার ধমক শুনে নওমি শব্দ করে হেসে ফেলল। মাথাটা আরেকটু এলিয়ে দিয়ে বললো,

– বাহ রে! ওনার আজ হাসপাতালে ডিউটি, বড্ড ব্যস্ত আছেন। তাই বলে তুমি আমাকে এভাবে খোঁটা দিবে? আমার তো সবসময় মনে পড়ে তোমাদের কথা! কিন্তু কি করি বলো তো যেতে তো পারি না! দিনদিন অলস হচ্ছি বুঝলে! একটু হাঁটলেই হাপিয়ে উঠি। তোমরাও আসো না ব্যস্ত থাকো।
– হাঁপিয়ে তো উঠবিই রে নওমি। তোর এখন যে স্পেশাল কেয়ারের প্রয়োজন, সেটা তুই নিজে অলসতা বলে উড়িয়ে দিলেও আমি কিন্তু উড়িয়ে দিচ্ছি না। তবে আহিল ভাইয়ের সাথে আমি কথা বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু বুঝতে পারছি না বলবো কি না উনি আমাদের থেকে ভালো জানবে!
নওমি মুচকি হেসে বললো,
– দরকার নেই আপু। যা হবে দেখা যাবে!
– ধুর! ভাইয়া কি কিছুই বলেনি এই নিয়ে?
– নাহ!
– ডক্টররা তোকে নরমাল রিপোর্ট দেখে ছেড়ে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমার কেন যেন মন বলছে ভেতরে অন্য কোনো কেস আছে। তোর কি মনে হয়? তুই তো ভালো বুঝবি।
নওমি হাসলো।
– তোমার মতো সন্দেহ আমারও হয় কিন্তু আহিল ডক্টর হয়েই যেহেতু শান্ত আছে তাই আমি আর ঘাটালাম না।
তুহি একটু চুপ থাকলো। একটু পর গলার স্বর পরিবর্তন হলো। এমন পরিবর্তনে নওমি নড়েচড়ে বসলো।

– কি হয়েছে আপু?
– তোকে আমি এমনিও ফোন করতাম আজকে। একটা কথা ছিলো।
এমন সিরিয়াস গলার স্বর শুনে নওমি বললো,
– কিছু হয়েছে? এমন লাগছে কেন তোমার গলা?
– আল্লাহ্ বুঝি এবার সেই শূন্য হাতটা ভরিয়ে দেওয়ার ইশারা করেছেন! আমাদের অপেক্ষার বোধহয় অবসান ঘটল!
নওমির বুঝতে সময় লাগলেও বুঝার পর খুশি হতে সময় লাগে নি!
– আল্লাহ! আপু কি বলছো!! সত্যি!?
– হু একদম!
বিয়ের পর থেকে একটা ফুটফুটে সন্তানের মুখ দেখার জন্য আবরার আর তুহি কতটা ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছিল, তা নওমির চেয়ে ভালো আর কে জানে! বহু রাত তুহির চোখের জল আড়ালে মুছতে দেখেছে সে, আর আজ সেই শূন্য কোলে ওপরওয়ালার রহমত নেমে এসেছে! এই কারণেই হয়তো আদনানের প্রতি তাদের ভালোবাসাও বেশি ছিলো! আবরার ভাই তো প্রায় বলতো, “কেউ কেউ খুঁজেও পায় না আর কেউ কেউ সহজে পেয়ে কদর করে না!”
খুশির অতিশয্যে নওমি নিজের শরীরের সমস্ত ব্যথা ভুলে সোজা হয়ে বসলো সে। ও ফোনের স্পিকারে মুখ প্রায় ঠেকিয়ে বলল,

– আলহামদুলিল্লাহ্‌! আল্লাহ্‌র দরবারে কোটি কোটি শুকরিয়া, আপু! সত্যি বলছো তো? কোনো ভুল হচ্ছে না তো? ডাক্তার দেখালে কবে? আবরার ভাইয়া জানে?
– হুম, সত্যি রে নওমি। গত কয়েকদিন ধরেই শরীরটা কেমন যেন লাগছিল। আজকেই জানলাম!
নওমি তো খুশিতে পরে না লাফিয়ে উঠতে। একেকটা ভালো খবর মনটা ভালো করে দিচ্ছে। এত সুখ এত খুশি ও রাখবে কোথায়?

– আমি আবরার ভাইয়ের বাসায় যাব! আমাকে নিয়ে যান না প্লিজ!
আহিল ফিরেছে পর্যন্ত এই এক আবদার জুড়ে বসেছে নওমি। আহিল বারবার মানা করার পরও একই কথা! আহিল ধমকের সুরে বললো,
– কোনো দরকার নেই এই শরীর নিয়ে বাইরে যাওয়ার।
নওমি কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,
– না আমি যাব! প্লিজ! আপনি নিয়ে যাবেন তো কিছু হবে না।
– না বলেছি মানে না! জেদ করবে না নওমি!
ভালোই জোরে বলেছে কথাটা। আহিলের এমন কড়া ধমক শুনে নওমি মুহূর্তেই চুপসে গেল। অভিমানী চোখ দুটো পলকে টলমল করে উঠল নোনা জলে। এই কয়েকটা মাস আহিল তাকে এতটুকু কড়া কথা বলেনি, সারাক্ষণ যেন চোখের মণি করে আগলে রেখেছে। আর আজ এই আনন্দের দিনে এত জোরে বকে দিল? নওমি আর একটা কথাও বলল না সোজা রুমে এসে বিছানায় উল্টো ঘুরে শুয়ে পড়লো।
কিছুক্ষণ পর রুমে ফিরলো আহিল। নওমিকে অসময়ে শুয়ে থাকতে দেখে ভ্রু গোটালো। এই মেয়েকে ধরে বেঁধেও রেস্ট নেওয়ানো যায় না আর আজ কি হলো? সে হাতের ফাইলগুলো ডেস্কে রেখে পেছন ফিরতেই ভাবলো কি হয়েছে। পরক্ষণেই একটু আগের কথা মনে পড়লো। নওমির দিকে তাকিয়ে নিজের ভুলটা বুঝতে পারল। সারাদিন হাসপাতালের ছোটাছোটি আর জটিল সব রোগী সামলে ওর মেজাজটা কিছুটা খিটখিটে হয়েছিল, তার ওপর নওমির এই অবুঝ জেদ দেখে ও নিজেকে সামলাতে পারেনি। ও লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীর পায়ে এগিয়ে গেল বিছানার দিকে। বিছানায় বসে নওমির কনুইয়ে হাত রেখে ডাকলো,

– নওমি? রাগ করেছ জান?
নওমি নড়ল না, ওভাবেই উল্টো ঘুরে শুয়ে রইল বরং হাত ঝাড়া দিয়ে ফেলে দিলো। আহিল হাসলো একটু। ও এবার আরেকটু ঝুঁকে ওর ঘাড়ের ওপর মুখ নামিয়ে বলল,
– আই অ্যাম সরি তো বাবা! একটু জোরে বলে ফেলেছি। কিন্তু তুমিই বলো এই শরীর নিয়ে এই রাতে বেরোনোর কথা বলা বাচ্ছামি না? ওরা তো পালিয়ে যাচ্ছে না তাই না? জাস্ট থিংক অ্যাবাউট ইওর হেলথ!
নওমি একইরকম চুপ। আহিল আবার বলল,
– আচ্ছা আমি কালকেই তুহিকে আনানোর ব্যবস্থা করবো হ্যাঁ?
নওমি খেঁকিয়ে উঠলো,
– আমি এই শরীর নিয়ে বের হতে পারবো না তুহি কিভাবে বের হবে?
– তুমি আর তুহি ডিফারেন্স আছে নওমি! তুমি ভালো করেই জানো! আর আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিবো পারফেক্টলি যেন ওদের নিয়ে আসে…
নওমি ওভাবে শুয়েই বললো,

– আপনি আমার কোনো কথাই বোঝেন না, শুধু ধমক দিতে পারেন।
– আমি বুঝি না? তাহলে একটা জিনিস দেখাবো ভাবছিলাম সেটা থাক! যেহেতু আমি বুঝি না।
নওমির কৌতূহল হলো এইবার। কি দেখাবে এই নিয়ে ভাবনায় পরে গেল সে। উঠে বসে মুখ ভার করে বলল,
– কি দেখাবেন দেখান?
আহিল মিটিমিটি হেসে বলল,
– আমি তো বুঝি না তাই থাক…!
নওমির সবরকম অনুভুতির সাথে এই কৌতূহল যে কত প্রখর হয়েছে সেটা আহিল জানে। নওমি এবার রেগে গিয়ে আহিলের চওড়া বাহুতে একটা কিল বসিয়ে দিল। চোখ বড় বড় করে বলল,
– এই যে, বেশি নাটক করবেন না তো! কী দেখাবেন দেখান বলছি। এমনিতেই দুপুরের পর থেকে মনটা কেমন ছটফট করছে। এখন যদি আপনিও এমন শুরু করেন, আমি কিন্তু সত্যি সত্যি কান্না করে দেব!
আহিল আর নিজের হাসি চেপে রাখতে পারল না। ও শব্দ করে হেসে উঠে নওমির ফোলা গাল দুটো একটু টেনে দিয়ে উঠে গেল। একটা সাদা খাম আর সাথে একটা নতুন আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টের ফাইল বের করল, যা ও আজ সকালেই হাসপাতাল থেকে রি-চেক করিয়ে এনেছে। ফাইলটা নওমির কোলের ওপর রেখে আহিল বলল,

– নাও দেখো
নওমি ভ্রু গুটিয়ে বলল,
– কি এটা?
তোমার সন্দেহটা কিন্তু মোটেও ভুল ছিল না, নওমি।
নওমি অবাক হয়ে সুধাল,
–মানে?
– ডক্টররা নরমাল সিঙ্গেল প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে ফাইল ক্লোজ করলেও, তোমার পজিশন আর এই ক্যুইক গ্রোথ দেখে আমার খটকা লেগেছিল। তাই আজ স্পেশালিস্টকে দিয়ে আমি নিজে স্ক্যানটা আবার করালাম। আল্লাহ্‌ আমাদের কোল জুড়ে একসাথে দুটো প্রাণ পাঠাচ্ছেন। টুইনস আসছে আমাদের ঘরে!
আহিলের কথাটা যেন বিশ্বাস করতে পারছে না! চোখ দুটো চড়কগাছ হয়ে গেল। কোলের ওপর রাখা ফাইলটার দিকে তাকাল, যেখানে স্পষ্ট করে দুটো ছোট্ট হার্টবিটের গ্রাফ আঁকা। ও পাথর হয়ে আহিলের দিকে তাকিয়ে রইল, ঠোঁট দুটো কাঁপছে কিন্তু কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। আহিল নওমির এই স্তব্ধতা দেখে মৃদু হাসল। ও নওমির অবশ হয়ে যাওয়া শরীরটাকে টেনে নিয়ে নিজের চওড়া বুকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। গভীর ভালোবাসায় ওর কপালে একটা দীর্ঘ চুমু খেয়ে বলল,

– তুমি ঠিকই শুনেছ। একসাথে দুজন আসছে। এবার বলো, একজন ডাক্তার স্বামী হিসেবে তোমার আর আমাদের এই অনাগত দুই সন্তানের সুরক্ষার জন্য আমার কি একটু কড়া হওয়া সাজে না? এখনও কি বলবে আমি তোমার কথা বুঝি না?

সময়ের চাকা তো আর এক জায়গায় থমকে থাকে না। ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো একের পর এক উল্টে যেতে লাগল। এদিকে নওমির দিনগুলো কেটেছে চরম সতর্কতা আর আদরের ঘেরাটোপে। দেখতে দেখতে কেটে গেল দীর্ঘ কয়েকটা মাস। ঘনিয়ে এল সেই কাঙ্ক্ষিত ক্ষণ। পুরোটা সময় আহিল নিজের সমস্ত ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে রেখে চব্বিশটা ঘণ্টা নওমিকে চোখে চোখে রেখেছে। কিন্তু বিধি বাম! ঠিক যে দিনটায় নওমির ডেলিভারির ডেট কাছাকাছি, সেদিনই ভোররাতে হাসপাতাল থেকে একটা ইমার্জেন্সি কল আসে। ইমার্জেন্সি হওয়ায় আহিলকে যেতেই হয়। নওমিকে ঘুমন্ত অবস্থায় কপালে একটা চুমু খেয়ে, মায়ের জিম্মায় রেখে ও দ্রুত হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিল।

তখন ভোর আনুমানিক চারটে। চারপাশটা এখনো ঘুটঘুটে অন্ধকার। পাখির কিচিরমিচির শব্দও ঠিকঠাক শুরু হয়নি। হঠাৎ করেই নওমির ঘুমের ঘোরটা কেটে গেল। তলপেটে তীব্র এক মোচড়ানি দিয়ে ওঠা ব্যথায় ওর পুরো শরীর শিরশির করে উঠল। প্রথমে ভেবেছিল সাধারণ কোনো ব্যথা, কিন্তু কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ব্যথার তীব্রতা এত বাড়ল যে নওমির ঘুম এক নিমেষে উরে গেল। কপাল বেয়ে টপটপ করে ঘাম ঝরতে লাগল। ও বিছানার চাদরটা হাত দিয়ে খপ করে খামচে ধরল। ব্যথার চোটে মুখ দিয়ে কোনো আওয়াজ পর্যন্ত বের হচ্ছিল না। ও কোনোমতে পাশে হাতড়ে আহিলকে খোঁজার চেষ্টা করল কিন্তু বিছানার ওপাশটা শূন্য দেখে ওর বুকের ভেতরটা ভয়ে কেঁপে উঠল।
– আ…আহিল…..!
বড্ড ক্ষীণ শোনাল নওমির কণ্ঠস্বর। ব্যথার একটা বড় ঢেউ আসতেই ও আর নিজেকে সামলাতে পারল না, আর্তনাদ করে উঠল,
– আম্মুউউউউউ

ওর ডাকে অন্য পাশে শুয়ে থাকা আহিলের মায়ের ঘুম ভেঙ্গে গেল। তড়িঘড়ি করে উঠে বসলেন। নওমির এই অবস্থা দেখে ওনার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার জোগাড়।
ওদিকে হাসপাতালের ব্যস্ততা কেটে ঠিক পাঁচ মিনিট আগে ছুটি পেয়েছে আহিল। সারারাত একটা জটিল সার্জারি শেষ করে ও বড্ড ক্লান্ত। ও যখন নিজের কেবিনে এসে ফোনটা হাতে নিল, তখনই দেখল মায়ের নম্বর থেকে অনেকগুলো মিসডকল। বুকটা ধক করে উঠল ওর। কোনো অশুভ আশঙ্কায় ও দ্রুত কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে মায়ের কান্নাকাটি আর নওমির গোঙানির আওয়াজ ভেসে এল,
– আহিল! আহিল কই তুই বাবা? নওমি যে যন্ত্রণায় ছটফট করছে। ও বড্ড কষ্ট পাচ্ছে!
ফোনের ওপার থেকে মায়ের কথা আর নওমির আর্তনাদ ভেসে আসছে। মাথাটা বুঝি হ্যাং হয়ে এলো! আজ নিজের স্ত্রীর এই সময়ে ও পাশে নেই, এই অপরাধবোধ আর ভয় ওকে গ্রাস করে নিল। কোনোরকম উচ্চারণ করলো,

–কো…কোথায় তোমরা?
– আমরা জুবায়েরকে(ড্রাইভার) নিয়ে হাসপাতালের দিকে রওনা দিয়েছি। আবরার আর তুহি ও আছে সাথে।
আহিল মাথা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করে বললো,
– ওকে তোমরা দ্রুত আসো আমি এদিকে সব ব্যবস্থা করছি চিন্তা করবে না। নওমির কানে ফোন দাও।
আহিলের মা নওমির কানে ফোন লাগিয়ে দিতেই নওমির কান্নাভেজা কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো,
– আ…আহিল কোথায় আপনি? আমি….আমি পারছি না। ম-রে যাচ্ছি মনে হচ্ছে।
আহিলের বুক ফে’টে গেলেও সে নিজেকে সামলে বলল,
– নওমি….নওমি শান্ত থাকার চেষ্টা করো কিছু হবে না। নওমি, জান আমার! তোমার কিচ্ছু হবে না। আমি আছি তো! এই তো তোমার খুব কাছাকাছি! আর কয়েকটা মিনিট, তুমি আমার কাছেই আসছ।
নওমি ওপাশ থেকে শুধু একটা যন্ত্রণার গোঙানি তুলল।
– তুমি খুব স্ট্রং একটা মেয়ে, নওমি। অতীতে তুমি একলা কত কঠিন ঝড় সামলেছ, আর আজ তো তুমি একা নও। তোমার সাথে আমি আছি, আমরা আছি! আর একটু সহ্য করো নূর! আমি ওটি একদম রেডি করে রাখছি। আমি নিজে তোমার পাশে থাকব পুরোটা সময়। কোনো ভয় নেই। জোরে জোরে শ্বাস নাও আর আল্লাহকে ডাকো কিছু হবে না ইনশাআল্লাহ্! জাস্ট হোল্ড অন ফর মি, জান!
আহিলের এই অভয়বাণী আর ভালোবাসার চাদরে জড়ানো কথাগুলো শুনে নওমির চোখ থেকে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ল। তবে এবার ভয়ের চেয়ে ওর মনের ভেতর এক অদ্ভুত ভরসা দানা বেঁধে উঠল।
বেশ কিছুক্ষণের মধ্যে নওমিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলো। নওমিকে নিয়ে ওটিতে যাওয়ার আগে বাকিদের বললো,

– আবরার, তুমি আম্মুদের আর তুহিকে নিয়ে ওয়েটিং রুমে বসো। প্যানিক কোরো না কেউ। আমি ভেতরে যাচ্ছি।
ওটিতে কাউকে এলাও না করলেও ও ডক্টর হওয়ায় ওকে এলাও করলো। ও ভেতরে গেলেই ওটি-র লাল আলোটা জ্বলে উঠল। পুরোটা সময় নওমির হাত ছাড়েনি আহিল। বারবার ভরসা দিয়ে গেছে। নওমির আর্তনাদে কঠিন আহিলের চোখ বেয়েও অনবরত পানি ঝরেছে!
কিছুক্ষণ পর… ওটির নীরবতা ভেঙে পরপর দুটো তীব্র ও তীক্ষ্ণ কান্নার আওয়াজ চারপাশ কাঁপিয়ে তুলল। আহিল জ্ঞানহীন নওমির কপালে চুমু খেয়ে ওটি থেকে বেরিয়ে গেল। একটা ছেলে এবং একটা মেয়েকে কোলে নিয়ে আহিল বেরিয়ে এলো বাইরে। সকলের চোখে মুখে উৎকণ্ঠা!
মাস্কটা টেনে নামিয়ে এক গাল হেসে বলল,
– আলহামদুলিল্লাহ্‌! মা আর বাচ্চারা দুজনই একদম সুস্থ আছে। আমার একটা মা আর আরো একটা বাবা এসেছে!
সকলের অপেক্ষার যেন অবসান ঘটলো। একে একে বাচ্চাদের কোলে নিয়ে আদর করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই নওমিকে ওটি থেকে পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে শিফট করা হলো। আহিল আবরারের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলল,
– আবরার, তুহিকে নিয়ে কেবিনে যাও। নওমিকে কিছুক্ষণ পর কেবিনে দেওয়া হবে। আর হ্যাঁ, তুহির কিন্তু এখন একদম বেশি স্ট্রেস নেওয়া চলবে না, ওর নিজেরও এখন স্পেশাল কেয়ার দরকার। ওকে না আনলেও পারতে।

– মেয়েটা মানলে তো?
আহিল মৃদু হাসলো। কেবিনে নওমি আর আহিল বাচ্চাদের নিয়ে বসে ছিলো।
– আচ্ছা ওদের নাম কি দেওয়া যায়?
নওমি না ভেবেই বলে দিলো,
– আহিয়ান আজওয়াদ আর মেহেরুজান আজওয়াদ!
– আহিয়ান তো বুঝলাম কিন্তু মেহেরুজান?
নওমি হেসে বলল,
– অত্যন্ত ভালোবাসার পাত্রী! আদনান ও আহিয়ানের এক মাত্র আদরের বোন এবং আমাদের এক মাত্র আদরের মেয়ে!

ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে চার-চারটি বছর কীভাবে যেন খসে গেল। সময়ের চাকা ঘুরে আজ আদনান সাত বছরে পা দিয়েছে আর আদনানের যমজ ভাই-বোন আহিয়ান আর মেহরুজানের বয়স এখন চার বছর।
চার বছর আগের সেই দিনগুলোর কথা ভাবলে নওমি আর আহিলের এখনো হাসি পায়, আবার কখনো বুকের ভেতর কেমন একটা হয়ে ওঠে। আহিয়ান আর মেহরুজান যখন একদম ছোট, তখন মায়ের কোলে কিংবা বাবার চওড়া বুকে নতুন দুটো বাচ্চাকে দেখলেই আদনানের ঠোঁট দুটো উল্টে আসতো। ও কোণঠাসা হয়ে দাঁড়িয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতো। ওর অবুজ মনে তখন এক হিংসে আর অভিমান দানা বাঁধতো। ও ভাবতো এই পুচকু দুটো আসার পর বুঝি মা বাবা ওকে আর আগের মতো ভালোবাসে না, ওর আদর বুঝি ভাগ হয়ে গেছে!

তখন মেহরুজান আর আহিয়ান খুব ছোট, ওরা ভাইয়ার এই কান্না বা অভিমান কিছুই বুঝত না। আদনান দূর থেকে রাগ করে তাকালে ওরাও ওভাবেই গুটিসুটি মেরে চেয়ে থাকত।
কিন্তু আহিল আর নওমি আদনানকে সবসময় বোঝাতো। আহিল প্রতিদিন হাসপাতাল থেকে ফিরে আগে আদনানকে কোলে তুলে নিত, ওকে বুকে জড়িয়ে বলতো, “আব্বু, ওরা তো বড্ড ছোট, নিজেরা চলতেও পারে না। তুমি না ওদের বড় ভাইয়া? তুমি ওদের পাহারা না দিলে ওরা কীভাবে বড় হবে বলো?”
নওমিও শত ক্লান্তির মাঝেও আদনানকে বুকে টেনে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বোঝাত, গল্প শোনাত। আস্তে আস্তে, আদর আর ভালোবাসার গভীরতায় আদনানের সেই অবুঝ ভুল ভাঙল। ও বুঝতে শিখল, আদর কমেনি, বরং ও এখন একজোড়া ফুটফুটে ভাই বোনের বড় ভাইয়া হয়েছে!
আর এখন? পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো! সেই আদনান এখন দুই ভাই বোনের জন্য জা’ন দিতে রাজি। সাত বছরের আদনান এখন বেশ দায়িত্বশীল। মেহরুজান আর আহিয়ানের পুরো পৃথিবীটাই যেন জুড়েই এখন ওদের আদনান ভাইয়া। ভাইয়া স্কুল থেকে কখন ফিরবে, সেই অপেক্ষায় দুজন ড্রয়িংরুমের দরজার সামনে চাতক পাখির মতো বসে থাকে। আদনান ভাইয়া বলতে ওরা দুজন এক্কেবারে পা’গল!
আদনান হোমওয়ার্ক করছিল তখন ধুপধাপ পায়ে মেহরুজান কাঁদতে কাঁদতে আদনানের রুমে এসে ঢুকল। ওর ফর্সা গাল দুটো রাগে-কান্নায় একদম লাল হয়ে গেছে, বড় বড় চোখ দুটো বেয়ে টপটপ করে জল পড়ছে।

– আদনান বাইয়াআআ আমাকে মাচ্চে!
– কে মেরেছে তোকে?
– আহিয়ান বাইয়া।
আদনান উঠে ড্রইং রুমে গেল। বড়দের মতো গম্ভীর কণ্ঠে বললো,
– আহিয়ান? তুই মেহরুকে মে’রেছিস কেন?
– আমি মালিনি।
– মেহেরু তো মিথ্যে বলে না!
আহিয়ান ঠোঁট উল্টে কেঁদে উঠল। ওর কান্নার আওয়াজে রান্নাঘর থেকে নওমি আর রুম থেকে আহিল বেরিয়ে এলো।
– কি হয়েছে?
– আদনান ভাইয়া আমাকে বকচে।
নওমি হাতের খুন্তি নাড়িয়ে রেগে বলল,
– একেকদিন একেকটার এত অভিযোগ আর ভালো লাগে না। নিজেরা দুষ্টুমি করবে আর এসে আমাকে বলবে। আমার রাগ উঠলে কিন্তু সবার মা-র পড়বে বলে দিলাম!
আহিল বললো,

– আহ নওমি! বকতে হবে না। আর মা-রার কথাও বলবে না!
– হ্যাঁ আপনিই ওদের উষ্কে দিয়ে মাথায় তুলেছেন এবার সামলান! আমাকে টানবেন না এখানে একদম!
নওমির ঝাঁঝালো ধমক শুনে তিন ভাইবোনই চুপ! মেহরুজান আদনানের হাত শক্ত করে ধরে দাড়িয়ে আছে।
আহিল হেসে বললো,

নূর ই মহব্বত পর্ব ৩৬

– আচ্ছা বাবা, সব দোষ আমার! এবার শান্ত হও নূর?
আহিল এমনভাবে বলল যে নওমি না হেসে পারলো না।
– হয়েছে আপনার আর নাটক করতে হবে না! আমার মাথা খেয়ে ফেলবে সবাই মিলে! ওদের সামলান!
আহিল এবার নিজের স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে বললো,
– কী আর করার! #নূর_ই_মহব্বত হয়ে একটা মহব্বতের সংসার হয়ে গেল আমার!

সমাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here