প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৩৩
বন্যা সিকদার
মেহের মাত্রই পরীক্ষা শেষ করে ক্লাসরুম থেকে বের হলো। তার মনটা বড্ড খারাপ হয়ে আছে একমাত্র মৌ’য়ের জন্য। পরীক্ষার হলে দুজনের বসার দূরত্ব অনেক বেশি থাকায় মেহের মৌ’কে বিন্দুমাত্র হেল্প করতে পারেনি। তাছাড়া মৌ মাত্র দেড় ঘণ্টা লিখে খাতা জমা দিয়ে চলে গেছে‚ এত কম সময়ে লিখে সে কত নম্বরই বা পাবে। তবে মেহেরে’র মনে মৌ’য়ের প্রতি এইটুকু গভীর বিশ্বাস আছে যে‚ মেয়েটার মাথা যতই ত্যাঁড়ো হোক না কেন‚ সে ঠিকই মোটামুটি একটা মার্কস পেয়ে পাস করে যাবে অন্তত। মেহের ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে পুরো কলেজ ক্যাম্পাসের চারদিকে ভালো করে তাকাল কিন্তু কোথাও মৌ’য়ের দেখা মিলল না। মুহূর্তের মধ্যেই একরাশ বিষণ্ণতা এসে ভর করল তার মনে। মেয়েটা হঠাৎ কোথায় চলে গেল‚ সে কিছুই বুঝতে পারছে না। মেহের’কে না বলে মৌ সাধারণত কোথাও এক পা-ও নড়ে না‚ সেখানে আজ তাকে একা ফেলে রেখে নিখোঁজ। মেহের প্রায় আধ ঘণ্টা সময় নিয়ে একা একাই পুরো কলেজ চক্কর দিল কিন্তু তবুও মৌ’য়ের কোনো সন্ধান পাওয়া গেল না। মৌ’য়ের জন্য টেনশনে মেহেরের ফর্সা কপালে এবার বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে উঠতে শুরু করল। শুধু মৌ নয়‚ কলেজের চত্বরে সে আজ উজান’কে কোথাও দেখতে পেল না।
অতঃপর একরাশ ক্লান্তি আর বিরক্তি নিয়ে মেহের যখন কলেজ গেটের সামনে এসে দাঁড়াল‚ ঠিক তখনই আচমকা ঘটে গেল এক অভাবনীয় কাণ্ড। কিছু বুঝে ওঠার আগেই‚ কেউ একজন চিল পাখির মতো এসে মেহের‚কে এক হেঁচকা টানে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেট কারের ভেতরে টেনে নিয়ে নিলো এবং সাথে সাথে গাড়ির দরজা লক হয়ে গেল। হুট করে এমন আকস্মিক ও ভীতিজনক কাণ্ড ঘটায় মেহের প্রচণ্ড আতঙ্কে নিজের চোখ-মুখ খিঁচে শক্ত করে বন্ধ করে নিল। তার পুরো শরীর তখন ভয়ে থরথর করে কাঁপছে।
কয়েক সেকেন্ড পর সে ধীরে চোখ পিটপিট করে মেলে তাকাল এবং সামনে বসা চালকের আসনের মানুষটিকে পরখ করল। সামনে ইফাত’কে চওড়া হাসিতে বসে থাকতে দেখে মেহেরে’র বুকের ভেতর এতক্ষণ ধরে জমতে থাকা ভয়ের মেঘটা কেটে গিয়ে এক চিলতে স্বস্তি ফিরে এলো। তবে ভয়টা সে সত্যিই মাত্রাতিরিক্ত পেয়েছিল। রাগে‚ ক্ষোভে আর অভিমানে মেহের আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে ওমনি নিজের দুই হাত বাড়িয়ে ইফাতে’র চওড়া বুকে ধুমধাম থাপ্পড় মারতে শুরু করল।
ইফাত বিন্দুমাত্র বিরক্ত হলো না‚ বরং সে শব্দ করে হাসল। এই প্রথম মেয়েটি নিজের থেকে‚ নিজের অধিকার খাটিয়ে তাকে স্পর্শ করেছে! মেহেরে’র এই মিষ্টি মারের সামনে সে নিজেকে সমর্পণ করে দিয়ে চুপচাপ বসে রইল‚ বিন্দুমাত্র বাঁধাও দিল না। বেশ কিছুক্ষণ ধরে মারার পর মেহের ক্লান্ত হয়ে নিজের হাত থামাল এবং চোখ রাঙিয়ে ফুঁসতে ফুঁসতে লাগলো।
”এভাবে কেউ বুনো পশুর মতো টান দেয়‚ হ্যাঁ? আপনি জানেন আমি কতটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম? আমার তো বুক ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কোন না কোন অন্য পুরুষ আমাকে টাচ করেছে।
মেহেরে’র মুখ থেকে ‘অন্য কেউ টাচ করেছে’ কথাটি শোনামাত্রই ইফাতে’র মুখের সেই চওড়া হাসি এক নিমেষে উধাও হয়ে গেল। তার চোখের মণি দুটো রাগে লালচে বর্ণ ধারণ করল। সে এক তীব্র হুংকার দিয়ে বজ্রকঠিন কণ্ঠে বলে উঠল‚
“জিহ্বা টেনে একদম ছিঁড়ে ফেলব সেই শকুনে‚ যে আমার এই মিষ্টি ফুলকন্যাকে স্পর্শ করার দুঃসাহস দেখাবে। মনে রাখবে ফুলকন্যা তুমি অনলি ওয়ান অ্যান্ড অনলি এই ইফাত চৌধুরীর। এই ইফাত চৌধুরী ব্যতীত দুনিয়ার অন্য কোনো পুরুষ তোমাকে ছোঁওয়া তো দূর‚’ছায়ার পাশে দাঁড়ানোর যোগ্যতাও রাখে না। জাস্ট মাইন্ড ইট।
ইফাতে’র এই তীব্র অধিকারবোধ আর চরম পাগলামি দেখে মেহের এক দৃষ্টিতে অপলক হয়ে কিছু সময় তার দিকে তাকিয়ে রইল। তার বড় বড় চোখ দুটোর কোণে এবার জল চিকচিক করে উঠল। মানুষটা তাকে সত্যিই বড্ড বেশি ভালোবাসে। তবে এই আকাশসম ভালোবাসা কি আদৌ চিরকাল স্থায়ী হবে‚ নাকি সময়ের স্রোতে একসময় ক্ষণস্থায়ী রূপ নিয়ে মিলিয়ে যাবে? মেহের নিজের মনের ভেতরের জমাট বাঁধা ভয় থেকে আনমনেই ফিসফিস করে বলে উঠল‚
”আমাকে আপনি ব্যতীত অন্য কোনো পুরুষ টাচ করলে আপনার সত্যিই এতটা খারাপ লাগে?
মেহেরে’র প্রশ্নের জবাবে ইফাত আর কোনো কথা বলল না। সে শুধু নিজের স্থির ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মেহেরে’র চোখের ওপর নিক্ষেপ করল। তারপর পকেট থেকে একটা রুমাল বের করে অত্যন্ত যত্ন ও পরম মমতায় মেহেরে’র কপালে আর মুখে লেগে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘামগুলো আলতো করে মুছে দিতে লাগল। ঘাম মোছা শেষ করে ইফাত নিজের অজান্তেই মেহেরে’র নরম হাতের ভাঁজে নিজের উষ্ণ ঠোঁটের এক গভীর স্পর্শ এঁকে দিল এবং অত্যন্ত মৃদু মাদকতাময় স্বরে আওড়াল‚
“তুমি শুধু আমারই ফুলকন্যা। মেহের…কেবলই আমার। এই ইফাত চৌধুরী নিজের ব্যবহৃত একটা সামান্য সুতোও কখনো কারো সাথে শেয়ার করতে পছন্দ করে না‚ সেখানে তোমাকে অন্য কারো সাথে কল্পনা করা তো আমার ভাবনারও অতীত। যদি কোনোদিন এমন পরিস্থিতি আসে‚ তবে ইফাত চৌধুরী শুধু খারাপ লাগা নিয়ে বসে হাত কামড়াবে না‚ সে দরকার হলে সেই পুরুষকে নিজ হাতে খুন করে মাটিতে পুঁতে ফেলবে।
কথাটা যেন এক বজ্রপাতের মতো মেহেরে’র বুকে গিয়ে বিঁধল। তার দু-চোখ বেয়ে অবাধ্য অশ্রুর ধারা গড়িয়ে পড়তে লাগল। সে ইফাতে’র চোখের দিকে নিজের কাঁপতে থাকা চোখ দুটো স্থির রেখে এক বুক কাঁপানো প্রশ্ন করে বসল।
”য য য যদি কখনো আপনি শোনেন যে‚ আমাকে আপনি ব্যতীত অতীতে অন্য কেউ অনিচ্ছাসত্ত্বেও স্পর্শ করেছে…কিংবা কোনো কলঙ্কের ছোঁয়া আমার গায়ে লেগেছে‚ তখন কি আপনি আমাকে এই মাঝনদীতে একলা ফেলে চিরতরে চলে যাবেন? নাকি সেদিনও আমাকে নিজের ঘরের বৈধ বউ করে বুকে টেনে নেবেন?
মেহেরে’র এই আকস্মিক ও রহস্যময় প্রশ্ন শুনে ইফাত এক মুহূর্তের জন্য সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেল। মেয়েটার অতীত জীবন সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই‚:তবে মেয়েটার চোখের সেই তীব্র আকুতি আর মনের ভেতরের লুকানো ক্ষতটা সে আজ ঠিকই বুঝতে পারল। ইফাত আর কোনো প্রশ্ন করে মেহের’কে ছোট করল না। সে এক ঝটকায় মেহের’কে নিজের কাছে টেনে নিয়ে তার মাথাটা নিজের চওড়া ও শক্ত বুকের মাঝে শক্ত করে চেপে ধরল। সে মেহেরে’র চুলে নিজের চিবুক ঠেকিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলল‚
“ইফাত চৌধুরী কখনো ফাঁকা মুখে বড় বড় কথা বলে না ফুলকন্যা। সময় এলে সে নিজের ভালোবাসা হাতে-কলমে প্রমাণ করে দেখিয়ে দেবে। আমার বুকে তোমার ঠাঁই আজীবন ছিল‚ আর আজীবন থাকবে। ইফাত চৌধুরী কখনো কলঙ্কের ভয় পায় না‚ সে তোমার সাথে থাকার জন্য পৃথিবীর সকল কলঙ্ক নিজের গায়ে মাখতে রাজি।
মেহের নিজের চোখ দুটো বুজে পরম শান্তিতে ইফাতে’র বুকের ভেতরের দ্রুত চলতে থাকা হৃদস্পন্দন শুনতে লাগল। সে নিজের দুই হাত দিয়ে ইফাতে’র শার্টটা শক্ত করে খামচে ধরল। এই মানুষটাকে সে এখন নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভরসা করে। মেহের মনে মনে ভাবল‚ ইফাত নিশ্চয়ই তার অতীতের সব অনিচ্ছাকৃত ভুল আর ক্ষতগুলোকে নিজের গভীর ভালোবাসা দিয়ে মাফ করে দেবে‚ তাকে কোনোদিনও মাঝপথে ফেলে চলে যাবে না। হঠাৎই সে ধরফরিয়ে বলে উঠে‚
“আমার মৌ কোথায়? গাড়ি থামান প্লিজ। আমার মৌ….
“রিলাক্স ফুলকন্যা। ভাবি বাসায় চলে গিয়েছে সো ভয় পেয়ো না। আমি আছি।
মেহের তার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো। তার মৌ ঠিক আছে এটাই জানার ছিল। এখন বুকের ভারটা কম মনে হচ্ছে। তাছাড়া উজান যেখানে আছে সেখানে মৌ’য়ের কোনো ক্ষতি হবে না।
চৌধুরী বাড়ির সদর দরজা দিয়ে ঝড়ের গতিতে পাগলের মতো ছুটে ভেতরে এলো উজান। ঢাকা থেকে এত দূর পথ সে কীভাবে যে বাইক চালিয়ে এসেছে‚ তা কেবল ওই ওপর ওয়ালাই জানেন। হন্তদন্ত হয়ে আসায় তার পুরো শরীর ঘেমে একাকার হয়ে গেছে‚ গায়ের সাদা ফরমাল শার্টটি ঘামে ভিজে শরীরের সাথে লেপ্টে আছে। যার ফলে তার সুগঠিত শরীরের প্রতিটি ভাঁজ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ভেতরে তাড়াহুড়ো করে ঢুকে আসার সময় উজান দরজার চৌকাঠে বারকয়েক হোঁচটও খেল কিন্তু নিজের শরীরের সেই ব্যথার দিকে বিন্দুমাত্র পরোয়া করল না সে। হাঁপাতে হাঁপাতে সে পরখ করল পুরো বাড়িটা কেমন যেন নিস্তব্ধ‚ স্তব্ধ হয়ে আছে। অথচ এই মৌ একাই পুরো বাড়ি নিজের চঞ্চলতায় মাতিয়ে রাখে। উজান ড্রয়িংরুমের মাঝখানে দাঁড়িয়েই নিজের সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করে উঠল।
“আম্মু আমার বউ কই? ও আম্মু আম্মু আমার বউ কোথায় গেল?
উজানে’র এমন মেঘনাদ সদৃশ চড়া কণ্ঠস্বর পেয়ে ওপর থেকে আরিফুর চৌধুরী‚ মৌসুমি চৌধুরী এবং তুবা তড়িঘড়ি করে ড্রয়িংরুমে হাজির হলেন। আর ঠিক তখনই বাহির থেকে ইফাত ও মেহেরও হন্তদন্ত হয়ে ভেতরে প্রবেশ করল। কিন্তু উজান এই মুহূর্তে কারো দিকে তাকাল না‚:কোনো কিছু দেখার মানসিকতাও তার নেই। সে সোজা নিজের বাবার সামনে গিয়ে রক্তচক্ষু নিয়ে দাঁড়াল।
“ড্যাড আমার বউ কোথায়? তুমি ওকে কেন ওর বাপের বাড়ি পাঠাচ্ছো‚ হ্যাঁ? আমি ওর লিগ্যাল হাসবেন্ড। তুমি কি পারমিশন আমার থেকে নিয়েছো? নাওনি তো। তাহলে কোন অধিকারে আমার বউ’কে এভাবে বাড়ি থেকে ওর বাপের বাড়ি যেতে দিচ্ছো?
আরিফুর চৌধুরী ছেলের এই তর্জন-গর্জন ও রুদ্রমূর্তির দিকে বিন্দুমাত্র পাত্তা দিলেন না। তিনি অত্যন্ত আয়েশ করে সোফায় গিয়ে আরাম করে বসলেন এবং খবরের কাগজটায় চোখ বোলাতে লাগলেন। উজানও দাপট দেখিয়ে তার পিছু নিল। নিজের বাবার এমন চরম শান্ত আর ‘ডোন্ট কেয়ার’ ভঙ্গি দেখে উজানে’র সারা শরীর এবার রাগে কাঁপতে লাগল। এমনিতেই এক পিচ্চি‚ ত্যাঁড়োমুখো বউ’কে সামলাতে দিনরাত তার হিমশিম খেতে হয়। আর এখন তার ওপর জুটেছে এই ‘বাবা’ নামক এক মির্জাফর। উজান এবার বাজখাঁই মেজাজে গর্জে উঠে বলল‚
“ড্যাড কথা বলছ না কেন তুমি? আমার বউ কই?
আরিফুর চৌধুরী আবারও এমন একটা ভাব নিয়ে বসে রইলেন যেন কিছুই হয়নি। তার সামনে কোনো মানুষ নয় বরং একটা মাছি ভনভন করছে। উজান এবার ধৈর্যের শেষ বাঁধটুকুও চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। সে রাগের মাথায় এক ঝটকায় ডাইনিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে কড়কড় শব্দে টেবিলের ওপর থাকা গ্লাস‚ প্লেট ও পানির জগসহ সমস্ত জিনিসপত্র মেঝেতে আছাড় মেরে উল্টে ফেলে দিল। কাঁচ ভাঙার তীব্র শব্দের মাঝেই সে সিংহের মতো রাগান্বিত কণ্ঠে হুংকার তুলল।
“এই ড্যাডের বাচ্চা ড্যাড। বিয়ে করিয়ে দিয়ে আমার বউ’কে আবার শ্বশুর বাড়ি কেন পাঠাচ্ছো? আমি এখন বউ ছাড়া কিভাবে থাকবো? আমার বউ চাই বউ দাও তাড়াতাড়ি। আল্লাহ গো আমার বউ কই?
ছেলের মুখে ‘ড্যাডের বাচ্চা ড্যাড’ এবং এই নজিরবিহীন পাগলামি দেখে আরিফুর চৌধুরী এবার একটু মনোযোগ দিলেন। তিনি নিজের খবরের কাগজটা পাশে রেখে‚ গলার গম্ভীর ভাবটা বজায় রেখে উত্তর দিলেন।
“দেখ উজান তোর সাথে এই ফালতু বিষয়ে আমি অযথা সময় নষ্ট করতে চাই না। তুই তো আমার মামনীকে নিজের বউ বলে মানিসই না। তবে এখন হঠাৎ এত ‘বউ বউ’ করে কেন চিল্লাচ্ছিস‚ হোয়াই? আমি ওকে ওর নিজের ভালোর জন্যই বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।
“ভালো? কিসের ভালো‚ হ্যাঁ? তুমি যাকে মামনী বলছো সে আমার বিবাহিতা বউ। আমার পারমিশন ছাড়া ওর ভালো চাওয়ার অধিকার তোমাকে কে দিয়েছে‚ ড্যাড? আমার বউ ভালো থাকবে না মন্দে থাকবে‚ তা আমি নিজে দেখে নেবো। তুমি কেন মাঝখান থেকে ওকে বাপের বাড়ি পাঠাবে? বউ কই আমার‚ তাড়াতাড়ি বলো?
ঠিক সেই মুহূর্তেই ওপরের সিঁড়ির দিকে সবার নজর গেল। দেখা গেল মৌ এবং তার বাবা সিঁড়ি দিয়ে একটি ট্রলি ব্যাগ হাতে নিয়ে ধীর পায়ে নিচে নেমে আসছেন। মৌ’য়ের গায়ে জড়ানো এক অপরূপ লাল টুকটুকে বেনারসি শাড়ি‚ ঠিক যেন এক নতুন বউয়ের সাজে সে চিরতরে এই চৌধুরী বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে।
প্রফেসর উজান চৌধুরী পর্ব ৩২
মৌ’কে লাল শাড়িতে দেখেই উজানে’র বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। সে বিদ্যুৎ গতিতে মৌ’য়ের দিকে এগিয়ে যেতে চাইল। কিন্তু মৌ ওমনি উজানে’র উপস্থিতি টের পেয়ে এক ঝটকায় অন্যদিকে সরে গেল। তাড়াহুড়ো করে এগোতে গিয়ে উজান সোফার কোণে পায়ের বুড়ো আঙুলে খানিকটা তীব্র ব্যথা পেলেও‚ মুখ ফুটে কোনো শব্দ করল না। মৌ এবার নিজের চোখের জল আড়াল করে‚ এক বুক অভিমান আর বাজখাঁই মেজাজ নিয়ে উজানে’র দিকে না তাকিয়েই চেঁচিয়ে বলে উঠল‚
”আপনাকে বলেছি না‚ আসবেন না আমার কাছে। তবুও কিসের অধিকারে আসেন? আব্বু চলো‚ এনার একটা কথাও শুনবো না আমি।
