অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬৫
Maha Aarat
ইফতারের পর লম্বা ঘুম দিয়ে উঠলো আইরা।সারাদিনের ক্লান্তির শেষে এই ঘুমটা যেনো আলাদা শান্তি।ইদানীং একা একা তাঁর খুব একটা ভয় লাগে না।মানুষ একা থাকতে থাকতেই বাঁচতে শিখে যায়।যে জিনিস গুলোর সাথে অভ্যস্ততা নেই সেগুলোও একসময় পরিপক্বতা পেয়ে যায় কেবল বাঁচার তাগিদে।সকালে উঠে পড়তে বসে সে।আর মাহের অফিসে যান।দূপুর ঢুকলেই শাওয়ার নিয়ে নামাজ তিলাওয়াত শেষে ছাদে একটু ঘোরাঘুরি বা কোনোদিন ঘুমেই কাবু।আসরের সালাতের আগেই ইফতারের কাজকর্ম কিছু গুছিয়ে রাখে।কারন আসর-মাগরিবের মধ্যবর্তী সময় বারাকাহপূর্ণ,আর দোয়া কবুলের উত্তম সময়।এ সময়টা সে অবহেলা আর ব্যস্ততায় কাটাতে চায় না।মাহের বিকেলে ফিরেন।লোকটার ক্লান্ত মুখশ্রী তাঁকে দূর্বল করে দেয়।উনি ফিরতেই এলোমেলো সবকিছু গুছিয়ে রাখে সে।মাহের শাওয়ার নিয়ে শুয়ে থাকেন।সে আস্তে করে দরজা ভিড়িয়ে কিচেনে চলে আসে।একা একা সবকিছু গুছাতে খারাপ লাগে না তাঁর।মাঝে মাঝে মাহের সাহায্য করেন।
ইফতারের আগ মুহুর্ত।মিনিট বিশেক সময় বাকি এরই মধ্যে তিনি আসলেন।আইরা টেবিলে সার্ভ করছিল তিনি সাহায্য করতে চাইলে বাঁধা দেয় সে।সে পাক্কা রাঁধুনির মতো সবকিছু সামলে নিচ্ছে আর মাহের তাকে দেখছেন।সার্ভ করা শেষে সেও মুখোমুখি বসলো।তার মনে হলো লোকটা এখনো তার দিকেই তাকিয়ে আছেন।চোখে চোখ রাখার মতো সাহস হলো না তাঁর।এমন অস্বস্তিকর নীরবতা কাটানো প্রয়োজন।নয়তো তাঁর উসখুস লাগছে।কথা শুরু করতে সে আচমকা বলে বসলো, ‘কি করছেন?’
প্রশ্ন করে সে নিজেই বেক্কল বনে গেলো।জিভ কেটে শুধরে নেওয়ার আগেই মাহের উত্তর দিলেন , ‘বসে আছি।’
নাহ।এ লোকটা সত্যি অদ্ভুত।তাঁর যে অস্বস্তি হচ্ছে তিনি কি বুঝতে পারছেন না?পেটের ভেতর কথা আটকাতে পারলো না আর সে।বলে বসলো, ‘আপনি এমনভাবে তাকাবেন না আমার অস্বস্তি হয়।’
‘আমি তোমাকে দেখছি না।জানালা দিয়ে বাহির দেখছি।’
ইসসস।লজ্জ্বায় তাঁর কোথায় লুকানো উচিত।সে অসহায় চোখে তাকালো।মুখের ওপর এভাবে বলে দেওয়া যায় কাউকে?
‘আর ইউ হ্যাপি ওর নট?’
মাহের হঠাৎ এমন প্রশ্ন করে বসলেন।কেন সে হ্যাপি আর কেনই বা না।তিনি কিসের কথা বলছেন বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করে বসলো, ‘বুঝতে পারিনি।’
‘আমার সাথে।এই সম্পর্কে তুমি হ্যাপি না,আই থিংক।’
আইরা দ্বিধায় পড়ে গেলো এবার।ইফতারের সময় সন্নিকটে।মাহের আর উত্তরের অপেক্ষা করলেন না।পকেট থেকে মাথায় টুপি গুজে দিয়ে মোনাজাতে হাত তুললেন।
কিছু কিছু সম্পর্ক দূরত্বের ব্যবধানে ঝরে পড়ে।ক্লান্ত ,পরিশ্রান্ত আর প্রেসারে ডুবে থাকা এলোমেলো মস্তিষ্ক নিয়ে ঘরে ফিরেই যখন অপর পাশের মানুষের অবহেলা পাওয়া যায় তখন মনে হয়,সুখ আসলে ধরাছোঁয়ার অনেক বাইরে।ছেলেমেয়ের সামনে হাসিমুখে থাকার অভিনয় টা বহু পুরনো।আহনাফ তাজওয়ারের মনে হয়,আফসানার সাথে উনার সম্পর্কটা বেঁচে আছেই কেবল সন্তানদের জন্য। দীর্ঘ সময় প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন তিনি।তাঁর প্রাপ্য সময় দিতে পারেননি তবে স্ত্রীর অসম্মতিতে একসাথে থাকার সুযোগও হয়নি।
দেশে আসার পরপরই মেয়েকে নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছিলেন।কিন্তু এখন একা লাগে।ভীষণ একা লাগে।সন্ধ্যের পর অসার দেহটা বারান্দার সোফায় ছেড়ে দিতেই ঘুমে চোখ বুজে এলো।এই সময় এক কাপ কড়া লিকারের চা পেলে বোধহয় এক নিমিষেই কেটে যেতো ক্লান্তি।হাফসা নিয়ম করে ঠিক পৌঁছে দিতো,তবে আজ ইচ্ছে করেই মানা করে দিয়েছেন।সারাদিন খাটাখাটুনির পর কারোরই মন চাইবে না কিচেনের গরম আঁচে দাঁড়িয়ে থাকতে।
দরজায় হালকা শব্দে নক হয়। হয়তো আরহাম এসেছেন।অথচ চা’য়ের কাপ হাতে মিসেস আফসানাকে দেখে অবাক হলেন তিনি।
একদম উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন।ঠান্ডাস্বরে বললেন , ‘ধন্যবাদ।কিন্তু প্রয়োজন ছিলো না।’
আহনাফ তাজওয়ার ভেবেছিলেন মিসেস চলে যাবেন।তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বসার কথা বলতেই বোঝা গেল,এই অপেক্ষায় বোধহয় ছিলেন তিনি।
চা’য়ে চুমুক দিতেই পুরনো স্বাদ যেনো জেগে উঠলো অমৃতের মতো।চুপেচাপে চুমুক দিতে থাকলেন তিনি।
নীরবতা মাড়িয়ে কথা জেগে উঠলো।
‘দূ:খিত আমি তখন ফোনে কথা বলছিলাম কিন্তু পরে দেখলাম ছেলেদের সাথে কথা বলছেন আপনি,তাই আর কথা বলার সুযোগ হয়নি।’
‘ওকে।’
‘আপনি হার্ট হয়েছেন? ‘
‘হলে?’
‘ক্ষমা চাচ্ছি।পানিশমেন্ট দিন।’
আহনাফ তাজওয়ার মুচকি হাসলেন।কিছু হাসি কেবল আনন্দ প্রকাশের জন্য নয়,দূ:খ লুকানোর কিছু হাসি আছে,উনার হাসিটা হয়তো এরকমজিজ্ঞেস করলেন, ‘পানিশমেন্ট?’
মিসেস আফসানার চোখেমুখে সম্মতি।
‘আমার সময় ফিরিয়ে দিন।যেগুলো আপনি অবহেলায় বিলীন করে দিয়েছেন।’
‘আপনিও দিন।যে সময়গুলো আমি একা ছিলাম।তাদেরকে একহাতে বড় করেছি।যে সময় আপনাকে পাশে চাইতাম কিন্তু পাইনি,ওগুলো আর কখনো ফিরিয়ে দিতে পারবেন?পারবেন না।’
‘আমি কেনো দূরে ছিলাম?বাবার ব্যবসা লোকসানের পর কেমন ছিল আমাদের অবস্থা আপনি ভুলে যাননি নিশ্চয়ই।আপনাকে আর ছেলে-মেয়েদের ছাড়া ভালো সময় যাচ্ছিল আমার?’
‘পরে কেন ফিরেননি?’
এবার আহনাফ তাজওয়ার নিশ্চুপ।এর গভীরে তিনি যেতে চান না।কাঁটাতার দিয়ে মুড়ানো দূ:খগুলো জেগে উঠলে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ সামলানোর মতো মানসিক শক্তি উনার নেই।
‘বলুন?’
‘আপনি একটা হাই স্ট্যাটাস পরিবার থেকে বিলং করেছিলেন তাই আপনাকে সেই অবস্থানে রাখার জন্য আমি হার্ডওয়ার্ক করতাম।’
মিসেস আফসানার চোখ ঝাপসা হলো এবার।অনুগ্রহে নয়,বরং ফেলে আসা সময়গুলো পীড়া দিচ্ছে,শোকে মোড়কে ঘুনে ধরেছে অনেক আগেই।
‘আমি কখনো এমন জীবন চাইনি।’
‘আপনিও আমার কাছে আসতে চাননি।’
পরিবেশ নীরব।চায়ের কাপে আরধোঁয়া উড়ছে না।ঠান্ডা হয়ে আছে।কারো মুখে কথা নেই।আহনাফ তাজওয়ারের কাছে কথা নেই,আর অজুহাত নেই মিসেস আফসানার।
নীরবতা মাড়িয়ে এক কথায়’ই এ বিষয়ের ইতি টানলেন ভদ্রলোক।
‘আপনি আমাকে ইগনোর করেন,আমি বুঝতে পারি।আমার কাছে থাকা লাগবে না,কথা বলা লাগবে না,কিন্তু ইগনোর করবেন না।অন্তত দেশে যে কয়টা দিন আছি।’
মিসেস আফসানা নিজের ক্ষোভ হজম করতে যেয়েও আটকে গেলেন।ভেতরে এলোপাতাড়ি ঘুরতে থাকা প্রশ্নটা চেপে থাকা যেনো দূ:সাধ্য এখন।
‘এখন তো হাই স্ট্যাটাস এ আছেন।এখন কী অজুহাত দিবেন বিদেশ যাওয়ার?’
‘আপনার অবহেলার চেয়ে দূরে পরে থাকাই ভালো।’
ইশার আজান হয়েছে একটু আগেই।কিছুক্ষণের মধ্যে সালাত শুরু হবে।আহনাফ তাজওয়ার প্রস্থান করতেই মিসেস আফসানা চেপে রাখা দীর্ঘশ্বাসগুলো মুক্ত করেন।সেন্টার টেবিলে পড়ে থাকা হ্যাংকারচিফ টা হাতে তুললেন।এই ঘ্রাণ উনার পরিচিত,অতি পরিচিত ,অথচ কাছে থেকেও যেনো খুব দূরে।
হাফসার চুলে তেল লাগিয়ে দিচ্ছেন মাইমুনা।এর মাঝেই কতশত আলাপ হয়ে যাচ্ছে তাদের।তার লম্বা চুলগুলো হাতের নাগালে রাখা মাইমুনার জন্য কিছুটা কষ্টসাধ্য।হাফসার হাতে কুল,সাথে মরিচগুঁড়া।
রুমের মধ্যে তাদের উপস্থিতি ছাড়া কেউ নেই।এসময় আচমকা দরজার আওয়াজ হয়।এরই মধ্যে পেছন ঘুরতে দেখা যায় আরহামকে।হাফসা কিছুটা অপ্রস্তুত হলো এমন অবস্থায়।মাইমুনা বোধহয় সেটা আন্দাজ করে নিলেন।কিছুটা অভিযোগের সুরে বললেন , ‘নক করে আসবেন না?’
‘আপনাদের কাছে আসতেও আমার নক করা লাগবে?’
সামনের সোফায় বসে বললেন আরহাম।মাইমুনা কেবল উত্তর দিলেন ,’তবুও!’
হাফসার দিকে তাকালেন আরহাম।তার এতো সুন্দর চুল কখনো প্রত্যক্ষ করার সুযোগই হয়নি উনার। কিন্তু তাঁর অস্বস্তির কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না।
হাফসার চুল খোঁপা করতেই উঠে আসলো সে।আরহামের চোখ গেলো তার হাতের পিরিচে।অবাক হয়ে বললেন , ‘এতো ঝাল দিয়ে কি খাচ্ছিলেন আপনারা?’
হাফসা তৎক্ষনাৎ আড়াল করে নিলো।মাইমুনা কথা ঘুরিয়ে নিলেন অন্য প্রসঙ্গে।
‘শাহ।আমার ব্রেসলেটটার হুক খুলে গেছে দেখুন না।এটা কীভাবে ঠিক করা যায়?’
আরহামের মস্তক অবনমিত হয়ে গেলো মুহুর্তেই।আড়চোখে দেখলেন হাফসার দৃষ্টি তাদের থেকে সরে গেছে।তেলের বোতলের ছিপি লাগাতে লাগাতে সে অনুমতি নিয়ে বেরিয়ে গেলো।আরহাম এবার খানিকটা অসন্তোষ হয়ে বললেন, ‘উমায়ের এর সামনে এটা বলে ঠিক করেননি মাইমুনা।’
‘কেন?সে তো জানে এটা আপনি আমাকে উপহার দিয়েছেন মিশর থেকে ফিরে?’
‘মানে?আপনি বলেছেন উনাকে?’
‘কেন?আপনি ওকে দেননি?রেপ্লিকাটা তো ওর জন্যই বলেছিলেন, না?’
আরহাম উত্তর দিলেন না।উমায়ের বিচক্ষণ মেয়ে,উনি নিশ্চয়ই হার্ট হয়েছেন।মাইমুনার থেকে ব্রেসলেটটা নিয়ে তিনি সোজা নিজের রুমে চলে গেলেন।উনার কিছুই ভালো লাগছে না আপাতত।
নাহ,আজেকে অমাবস্যা নয়।বাহিরে পূর্ণচাঁদ না হলেও সরু চাঁদ ভাসছে।মাহেরের এই বাসাটা বেশ নীরব।সড়ক থেকে দূরে বেশ ভেতরে।কোলাহল,আর হইচই থেকে দূরে থাকার তাগিদেই এই চাহিদা।সন্ধ্যে হলেই এখানে ঝিঁঝি পোকা ডাকে।চাঁদের আলো খুব সহজে বেলকনি দখল করে নেয়।বারান্দার ফুলগাছের খুশবুতে পরিবেশ মাতানো।দূর থেকে কোনো নাশিদের মনোরম সুর শোনা যায় মাঝে মাঝে।হয়তো কোনো মসজিদ বা ধর্মীয় কর্মস্থল।
রোযা মাসে মাহেরের শিডিউল একদম উলটপালট।বিবাহিত জীবনের ব্যারাকলে বাঁধা না থাকলে এক কাপড়েই রাতে ফিরতেন।অথচ সারাদিন তাকে একা রেখে ইফতারের মুহুর্তেও একা রাখতে চান না বলেই কষ্টটা একটু বেশীই হয়।
রুমে একটা হিডেন ক্যামেরা আছে যেটা উনার ডিভাইসের সাথে কানেক্টেড।একটু পরপর চেক করেন মাহের।এটা জেনে থাকলে সে বোধহয় এলোমেলো হয়ে দিনভর ঘুমাতো না।আয়নার সামনে এসে বাচ্চামো সব আচরন করতো না।ভেজাচুলে সারা ঘরময় হেঁটে বেড়াতো না।সারাদিনের ইমম্যাচিয়ুর সব বিহ্যাভ সে লুকিয়ে নেয় মাহের ফিরার আগেই।
তারাবীহ শেষে মাত্র ফিরলেন মাহের।এরই মধ্যে সেও জায়নামাজ ছেড়ে উঠলো।কি শুভ্র নির্মল চেহারা তাঁর।কোনো প্রসাধনী ছাড়াই তাঁর ন্যাচারাল বিউটি এত নজরকাড়া হয় যে মাহের আজকাল একটু বেহায়া হয়ে তাকে দেখেন।
‘এত তাড়াতাড়ি ফিরে এলেন?’
‘তোমার আলো পছন্দ না অন্ধকার?’
আইরা খানিক ভাবলো।নাহ এর সঠিক উত্তর মিলাতে পারছে না সে।ব্যর্থ হয়ে বলল, ‘আপনার যেটা পছন্দ আমারও সেটা পছন্দ।’
‘অন্ধকার।’
‘আমারও।’
মাহের হালকা হাসলেন।
‘আমাকে কতটুকু পছন্দ করো?’
এবারও তাঁর কাছে উত্তর নেই।এর পরিমাণ কি বুঝানো যায়।সারা ঘরে চোখ রেখে আন্দাজ করে বলল, ‘ওই যে ড্রেসিং থেকে এই দরজা পর্যন্ত,এতটুক।’
‘মাত্র?’
‘কম হয়ে গেলো?’
‘রেডি হোও।’
‘বাসায় যাব?’-আইরার চোখমুখ চকচক করে উঠলো।
অথচ পরমুহূর্তেই নিভে গেলো মাহেরের না বোধক উত্তরে।
‘তাহলে কোথায় যাব?হাসপাতালে?’
বাবার অসুস্থতার পর থেকেই কেমন যেনো ভয় হয় ইমানের।এই পরিবারটাই উনার প্রিয় জিনিসের শীর্ষে।হৃদয় যা চায়,সবসময় তা হয়না নিশ্চয়ই।কতোদিন হলো উনার ফুলকে দেখা হয় না।হৃদয়ের বাগানে যে ফুল চাষ করেন,সে বাগানের প্রথম ফোঁটা গোলাপ সে।যার কাঁটা একেবারে শক্ত হয়ে গেঁথে আছে।যেটা তুলতে গেলে ব্যথা দেয়,আর ফেলতে গেলে আরও চেপে বসে।তাকে রোজ রোজ না দেখা হলেও আঙ্কেলের থেকে খোঁজ নেওয়া হয়।ইমান যতবারই শুনেন,সেই ভদ্রলোকের জন্য এখনও তার পাগলামির সীমা নেই,ততবারই যেন মৃত্যু হয় উনার।আফসোস হয় সেই সময়টার ,যখন ভুল বুঝে তাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন।আচ্ছা,হৃদয়ের জায়গাটা খুব বেশীদিন খালি থাকলেই বোধহয় বুকড হয়ে যায়।উনার তো হলো না।কোনো অদৃশ্য ক্ষমতায় কি সেই বীভৎস কয়েকটা বছর জীবনপট থেকে মুছে ফেলা যাবে না।ইমান ভাই’ এই মধুর ডাকটা আর শোনা হবে না ভাবতেই ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে।সন্ধ্যের সূর্যোদয়ের নিয়মিত সাক্ষী তিনি।বসন্তের আনাগোনা কেবল প্রকৃতিতেই।উনার হৃদয় তো গ্রীষ্মের দাবদাহ আগুনে পুড়ছে।আদওয়া হচ্ছে সেই বর্ষা,যা কেবল উত্তপ্ত আগুন ঠান্ডা করতে পারে!
রুমে টিমটিমে আলোয় বাতি জ্বলছে।বাহিরের বাতাসে হালকা দুলছে পর্দাগুলো।দূর থেকে কোনো অদ্ভুত প্রাণীর আওয়াজ ভেসে আসছে।চোখবুঁজে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে আছে সে।অথচ ঘুমের কোনো অস্বিত্বই নেই চোখেমুখে।চোখ আর কপালের এক সরু ব্যথায় কাঁদতে ইচ্ছে করছে তার।কিছুক্ষণ আগের ঘটনা সে ভুলতে যেয়েও আরো বেশি মনে পড়ছে।তার একটুও রাগ লাগছে না কিন্তু এটা না জানা ভালো ছিল।তাহলে তার মস্তিষ্ক উলটপালট চিন্তা করে মাথা ধরিয়ে দিতো না।
অপেক্ষা সিজন ২ পর্ব ৬৪
বেশ কিছুক্ষণ পেরিয়েছে।কিছুটা চোখ লেগে আসছিলো হাফসার।অমনি কোনো কন্ঠে ঘুম ভাঙ্গলো তাঁর।
‘আই এম সরী,উমায়ের।কিছুটা পরে হলেও বুঝতে পারবেন ,আমি উনাকে আর আপনাকে ভালোবাসার মধ্যে জেনেশুনে কোনো পার্থক্য করিনি।’
