বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫৩
ইশরাত জাহান
হিজাব পরে শোভা নিচে নেমে এলো।শোভা নামার সাথে সাথে দিজাও দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলে,“আসছি দাদাজান আসছি আমি।”
শোভা ও দিজা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সোফার দিকে তাকালো। দুজনেই অবাক চোখে তাকিয়ে আছে। দিজা অবাক হয়ে সাথে সাথে হেসে দেয় আর শোভা অচেনা কাউকে দেখে অবাকের সাথেই চেয়ে আছে।শুধু তাই না অচেনা এই মেয়েটির পোশাক দেখে শোভা বিরক্ত।দাদাজান ও দিদারের সামনে শোভা মেয়েটাকে দেখে নিজেই যেনো লজ্জা পাচ্ছে।পরনে তার স্লিভলেস কামিজ ও জিন্স।ওড়না নেই শরীরে।চুলগুলো ঘাড় অব্দি।নিচ থেকে লাল রং করা। স্ট্রেট চুল।দেখতে সুন্দরী কিন্তু শোভার মতো প্রাকৃতিকভাবে না।পার্লার থেকে নিজেকে গড়ে নেওয়া সুন্দরী বলা চলে একে।মুখে মেকাপে ভরপুর। দিজা খুশিতে এগিয়ে এসে বলে,“সিনথিয়া আপু।কেমন আছো তুমি?তোমার তো কোনো খোঁজ নেই।সেলিব্রেটি হয়ে আমাদের ভুলেই গেছো।”
সিনথিয়া দর্শনের ফুফাতো বোন।যার স্বপ্ন নায়িকা হওয়া।হয়েছেও।বাংলাদেশের নাটক করে সে।এরপর কয়েকটা আর্ট ফিল্ম করেছে।বর্তমানে ইন্ডিয়ায় দুটো ওয়েব সিরিজ করেছে।যার কারণে তার ডিমান্ড যেনো অনেক বেশি।নিজেকে মহান ভাবতে শুরু করেছে সে। দিজাকে জড়িয়ে ধরে সিনথিয়া বলে,“আমি অনেক ভালো আছি।তুই কেমন আছিস তাই বল?”
“আমিও ভালো।তোমাকে দেখে আরও ভালো লাগছে।কতগুলো বছর পর তোমার দেখে পেলাম।একটা কল তো দিতে পারো।আমরা দিলেও ধরো না।”
“কাজের ব্যস্ততা ছিলো অনেক। মমের সাথে কথা বলে তোদের খোঁজ নেওয়া হয় আমার।নানাভাইকে মিস করছিলাম।দিদার জানালো তোরা ঢাকায় আছিস।তাই দ্রুত চলে এলাম।”
দাদাজান এবার সিনথিয়াকে ডেকে শোভার দিকে ইশারা করে বলে,“ও হলো শোভা।আমার বড় নাতবৌ।”
সিনথিয়া এবার তাকালো শোভার দিকে।মুখ ঢেকে রাখা মেয়েটার।সিনথিয়া চেহারা দেখতে পারল না।শুধু চোখ দেখলো।তাতেই যেনো মেয়েটার হিংসা হলো।কাজের ব্যস্ততায় সিনথিয়ার রাত জাগা পড়ে।মেকআপ না করলে বোঝা যেতো সিনথিয়ার চোখ কালো হয়েগেছে।সেখানে শোভা এক গৃহিণী হয়েও কিনা সুন্দরী।হিংসা তো হবেই।সিনথিয়া ধীর পায়ে এগিয়ে এলো শোভার দিকে।হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক দেখিয়ে বলে, “হাই,আমি সিনথিয়া।”
শোভা হাত মেলাতে যাবে তার আগেই দর্শন হাতা ফোল্ড করতে করতে নিচে নামে আর দাদাজানকে বলে,“কি এমন সারপ্রাইজ দিবে দিদার যে তোমরা খুব ব্যস্ত হয়ে পড়লে?”
সিনথিয়া সিঁড়ির দিকে তাকালো।শোভার দিকে বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা সাথে সাথে নিচে নেমে গেলো।দর্শনের দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে।সিনথিয়ার মনে হলো সে যে কয়জনের সাথে একটিং করেছে তাদের থেকেও বেশি হ্যান্ডসাম এই দর্শন ফরাজি।ছোটবেলা থেকেই ছোটখাটো ক্রাশ আছে দর্শনের উপর কিন্তু খুব বেশি গুরুত্ব দেয়নি।আজকে যেনো দর্শনকে দেখে চোখ ফেরাতে পারছে না মেয়েটা।দর্শন আর এক সিঁড়ি পার করবে তখনই সিনথিয়া নিজের চুলগুলো একটু ঠিক করে নেয়।নিজেকে পরিপাটি লাগছে কি না দেখে দৌড়ে গেলো দর্শনের কাছে।দর্শনের বামহাত ধরে মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে,“কেমন আছো তুমি?”
দর্শন হাতের দিকে তাকিয়ে সিনথিয়ার দিকে তাকালো।বিরক্তির সাথে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে বলে,“Stay away from me.”
সিনথিয়ার মনটা খারাপ হয়ে এলো।শোভা প্রথমে ক্ষিপ্ত হলেও দর্শনের ইগনরেন্স দেখে মনে মনে খুব আনন্দ পেলো।এদিকে দাদাজান ও বাকিরাও একটু অসন্তুষ্ট হলো ব্যাপারটায়।সিনথিয়ার খোলামেলা ব্যাপারটা দাদাজানের নিজেরও ভালো লাগে না।কিন্তু ওকে কিছু বলাও যায়না।গোপনে হলেও ও ওর ইচ্ছা পূরণ করবেই।এই যেমন নাটকের জন্য চলে এসেছিল ঢাকায়।সুফিয়া বেগম এসবে সিনথিয়াকে সাপোর্ট করেন।যার কারণে সিনথিয়া এত বেশি উচ্ছন্নে গেছে।সিনথিয়া মন খারাপ করে সরে গেলো।দর্শন এগিয়ে এলো দিদারের কাছে।প্রশ্ন করলো,“এটাই তোর সারপ্রাইজ?”
দিদার হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলে,“হ্যাঁ ভাইজান।সিনথিয়াকে আজকে অফিসে দেখতে পেলাম।”
দিদার বাকিটা বলার আগেই দর্শন বলে ওঠে,“ওয়েট!ওই কি আমাদের কোম্পানিতে নতুন মডেল হিসেবে এসেছে?”
সিনথিয়া আবারও এগিয়ে এসে দর্শনের সোজা দাঁড়িয়ে হাসি হাসি মুখ করে বলে,“ইয়া।আমি তোমার কোম্পানির প্রোডাক্টের অ্যাড করবো।এম আই ফিট ফর দেট?”
দর্শনের সামনে দুইহাত মেলে প্রজাপতি আকারে নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে ব্যস্ত সিনথিয়া।দুইহাত মেলে এমনভাবে দুলছে যেনো সিনথিয়ার চুলগুলো উড়ছে আর কোমরটাও ঠিকভাবে পরখ করা যেতে পারে।দর্শন সিনথিয়ার বডির দিকে তাকালো না।বিরক্ত প্রকাশ করে হেঁটে চলে গেলো সোজা সোফার দিকে।দাদাজান খুক খুক করে কেশে উঠলেন। দিজা আর দিদার একটু ঘাবড়ে আছে কিন্তু এর মধ্যেও হেসে দিলো।সিনথিয়া এতক্ষণ চোখ বন্ধ রাখলেও এখন চোখ খুলে সামনে দর্শনকে দেখতে পেলো না।মনে মনে ক্ষোভের সাথে বলে,“এতটাও ইনোসেন্ট কোনো পুরুষ হয়না।আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি তুমি জাস্ট অভিনয় করছো।এরকম এটিটিউডের কত কত প্রডিউসার,এক্টর আমার সংস্পর্শ পেয়ে হার মেনেছে তার ঠিক নেই।”
দিদার ভিত হয়ে দাঁড়ালো দর্শনের সামনে।দিদারের ভিত ভাব দেখে দাদাজান এগিয়ে এসে দিদারের পাশে দাঁড়ালেন।দিদারের কাঁধে হাত রেখে আশ্বস্ত করলো।দিদার ভিত ভিত কণ্ঠে বলে, “আ আসলে সিনথিয়াকে কোম্পানিতে দেখে প্রথমে আমিও অবাক হই।এরপর যখন জানতে পারলাম ওই মডেল তখন আমি খুশি হই।আমাদের বোন তো তাই।”
দর্শন চোখটা সোজা দিদারের দিকে রাখলো।প্রশ্ন করলো,“বাড়িতে আনার কারণটা কি?”
দিদার একবার দাদাজানের দিকে তাকালো।দর্শনের প্রশ্নের উত্তর দিতেও ভয় করছে।দর্শন এবার জোরে ধমক দিয়ে বলে,“আমি প্রশ্ন করেছি দিদার।উত্তর দিতে এত দেরি কেন?”
শোভা কেঁপে উঠলো ভয়ে।সাথে বাকিরাও। দিজা দৌড়ে এসে শোভাকে বলে,“তুমি একটু ভাইজানকে থামাও।সিনথিয়া আপু তো মেহমান।আমাদের বোন হয়।ওর সামনে এভাবে সিনক্রিয়েট করাটা কি ঠিক?কাউকে মুখের উপর অপমান করতে নেই তো।”
শোভা কি বলবে বুঝতে পারছে না।সে নিজেও দর্শনের কাজে খুশি।আবার দর্শন যেভাবে ধমকে উঠছে তাতে বাড়াবাড়িই মনে হচ্ছে।দিদারকে ধমক দেওয়ার কি দরকার?দিদারের একটা সম্মান আছে তো।অবশ্য এই লোক রেগে গেলে কারো সম্মানের কথা ভাবে না। দিজা আলতো ধাক্কা দিলো শোভাকে।শোভা মাথা নাড়িয়ে পা বাড়ালো দর্শনের দিকে।দিদার মিনমিন করে বলে,“আমি ভেবেছিলাম সারপ্রাইজ দিবো।তাছাড়া সিনথিয়া কাল রাতে ফ্লাইটে উঠেছিল।আসতে আসতে সকাল।এখনও থাকার জায়গা পায়নি।হঠাৎ দেশে আসা তো।তাই ভাবছিল একটা সপ্তাহ থাকবে এখানে।”
দর্শন সোফার উপর জোরে ঘুষি মারে।শক্ত কণ্ঠে বলে, “হোয়াট?”
দিদার কেঁপে উঠল।দাদাজান এবার মুখ খুললেন।বলে উঠলেন,“এভাবে ধমকে কথা বলার কি আছে?ছেলেটা তো বড় হয়েছে।তাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছো।সেটা ভালোভাবে পূরণ করেছে।সেই নিয়ে এপ্রিশিয়েট করো।তাই না করে উল্টো ছেলেটাকে বকে চলেছো।এভাবে করলে সম্পর্ক থাকবে?”
দর্শন কথাগুলো ইগনোর করে বলে,“একমাত্র তুমি ওকে সব বিষয়ে লাই দিয়ে বিগড়ে দিয়েছো দাদাজান।ওর ভালো কাজের জন্য আমি ওকে এপ্রিশিয়েট অবশ্যই করবো কিন্তু যেটা ঠিক করেনি সেটা নিয়েও আমি ওকে শাসন করবো।”
“কোনটা ঠিক কাজ করেনি শুনি?”
“কাম ওন দাদাজান। দিজা ও শোভা দুজন সামাজিক পরিবেশের মেয়ে।আমি একজন যুবক।এখানে খোলামেলা পরিবেশের মেয়ে হয়ে সিনথিয়া থাকবে।ভাবতে পারছো কি ইফেক্ট পড়বে সবার উপর দিয়ে?সম্পর্ক শুধু ভালোবাসা ও ধমকের কারণে নষ্ট হয়না সম্পর্ক নষ্ট হয় সম্পর্কের মাঝে দেওয়াল খাড়া করলে।”
দাদাজান থমকে গেলেন।শোভা পা থামিয়ে দেয়।দর্শনের কথা শুনে নিজেই সমর্থন করছে।সিনথিয়া রেগে দাঁতে দাঁত মিশিয়ে মনে মনে কুচক্র সাজাচ্ছে।অবশেষে পেলো একটা বুদ্ধি।নিজের ফোন দেখার অভিনয় করে মুখটা দুঃখী দুঃখী করলো।শোভাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে এগিয়ে গেলো দাদাজানের দিকে। দাদাজানের সামনে দাঁড়িয়ে মন খারাপ করে বলে,“ভুলটা আমারই।আমি যদি আসার জন্য দিদারের কাছে আবদার না করতাম তাহলে দিদার নিয়ে আসত না আমাকে।আমি তোমাকে খুব মিস করেছি যখন শুনেছি তুমি ঢাকায় আছো আমি অপেক্ষা করতে পারিনি।দ্রুতই চলে এসেছি।আর আমি একটা ফ্ল্যাট বুকিং করেছিলাম আজকে সকলেই।সেটাও ক্যান্সেল করেছি এই বাড়িতে আসার সময়।কারণ আমিই ভেবেছিলাম কয়টা দিন নাহয় এই বাড়িতে থাকব।সবাই তো আমার আপনজন।সবাই মিলে আনন্দ করবো সাথে কোম্পানির কাজ তো আছেই।দর্শন আর আমি এক টাইমেই তো অফিসে যাওয়া আসা করবো।বর্তমানে অ্যাড নিয়েই তো আমাদের কাজ।প্রজেক্ট কমপ্লিট হলে আমার ছুটি।যশোরে চলে যাব।এটুকু সময়ের জন্য দিদার এভাবে ফেস করবে বুঝতে পারিনি।আমি ওপেন মাইন্ডেড ঠিক আছে তাই বলে এতটাও খারাপ না।আমার কারণে দিদারকে অপমান না করলেও পারতে দর্শন।”
দর্শন রক্তিম চোখে তাকালো সিনথিয়ার দিকে।সিনথিয়া ভয়ে এক পা পিছিয়ে গেলো।দিদার ধীর কন্ঠে বলে,“সরি ভাইজান।এমন ভুল আর হবে না।আপাতত সিনথিয়া বিপদে আছে।ওকে একা বাইরে পাঠানো ঠিক হবে না।ও তো আমাদের পরিবারের।কয়টা দিন ওকে এখানে রাখলে হয় না?”
দর্শন উঠে দাঁড়ালো।দিদারের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে নিবে তার আগে শোভাকে ঠেলা দিয়ে দর্শনের দিকে পাঠালো দিজা।শোভা ভ্রুকুটি করে তাকালো। দিজা ইশারা করতেই শোভা আমতা আমতা করে বলে ওঠে,“বলছি বাসায় মেহমান আসলে এমন ব্যবহার করতে নেই। আপুকে তো আপ্যায়ন করা হয়নি।পরিবারের সবার মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে আপনি যেমন আচরণ করছেন।একটু মানিয়ে নিন আপাতত।”
দর্শন শক্ত কণ্ঠে বলে,“খাল কেটে কুমির আনতে চাও?এসব মেয়েদের আমার এমনিতেই পছন্দ না।তারউপর এরা আমার বাড়িতেই থাকবে!”
দাদাজান বলে ওঠেন,“সিনথিয়া কিন্তু আমার নাতনি হয়।তুমি ওকে বারবার অপমান করতে পারো না।”
“ওর প্রফেশন ওর চরিত্র প্রকাশ করে দাদাজান।মুখের উপর সত্যিটা বলাতে তোমার ইগো হার্ট হচ্ছে কেন?তোমার এই নাতনির জন্য আরেক পুতনি বিগড়ে যেতে পারে।আমার ওয়াইফ যে এখন পর্দা করে ওর মাঝেও ইফেক্ট পড়বে না এটার কি গ্যারান্টি?”
“সব ধরনের মানুষকে মানিয়ে চলতে শিখেছি আমি।এমনি এমনি চুল পাকেনি আমার।কর্মস্থলে থাকতে গিয়ে পরিবারকে মিলেমিশে রাখতে গিয়ে আমিও হরেক ধরণের মানুষের সম্মুখীন হয়েছি।কখনও কাউকে মুখের উপর অপমান করিনি।”
দর্শন কিছু বলতে নিবে শোভা সাথে সাথে দর্শনের হাত ধরে থামিয়ে বলে,“দাদাজানকে আঘাত দিয়ে কথা বলবেন না।দাদাজানের দুর্বলতা একমাত্র আপনি।”
“তাহলে আমার কি করা উচিত!”
“সবাই যেটা চায় আপাতত তাই করা হোক।তাছাড়া আমার আপনার উপর পুরো বিশ্বাস আছে।আপনার কি আমার উপর বিশ্বাস নেই?আমি পরিবর্তন হব না। দিজা নিজেও আপনার শিক্ষদিক্ষার বাইরে যাবে না।ও আপনাকে সবসময় মান্য করে চলেছে।তাই না বলো দিজা?”
দিজা এগিয়ে এসে বলে,“আমি তো দিদারের থেকেও ভাইজানকে বেশি মানি।ভাইজানের কোনো কথা অমান্য করিনি করবোও না।”
শোভা আশ্বস্ত করে বলে,“বিশ্বাস করেই দেখুন না একবার।কয়টা দিনেরই তো ব্যাপার।”
দর্শন সবাইকে পরখ করে।সাথে সিনথিয়াকেও।এই মেয়েকে নিজের মায়ের থেকেও বিষাক্ত লাগছে দেখতে।দর্শন বাইরে থেকেছে।বাইরের পরিবেশ ভালোভাবে জানে।এদেরকে বিষাক্ত লাগে ওর কাছে।তবুও যখন সবাই খাল কেটে কুমির আনতে প্রস্তুত তখন দর্শন ওদেরকে এই খেলা দেখার সুযোগ করে দিলো।রাজি হলো শোভার প্রস্তাবে।সবাইকে বোঝাতে চায় সে যে রাগ করে বা শাসন করে এগুলো কারো ক্ষতির জন্য না বরং ভালোর জন্য।দর্শন হিংস্র হতে পারে কিন্তু মানুষটা জানে কার কিসে ভালো কিসে মন্দ।অবশেষে দর্শন নিজেও মনে মনে কিছু পরিকল্পনা করে সিনথিয়াকে রাখতে সম্মতি দিয়ে বলে,“ওকে ফাইন।তবে আমার একটা শর্ত আছে।”
দাদাজান ভ্রুকুটি করে জিজ্ঞাসা করলেন,“কি শর্ত?”
দর্শন কনফিডেন্সের সাথে বলে,“এই এক সপ্তাহের মধ্যে আমার সংসারে যদি কোনো অশান্তি হয় তাও এই মেয়েটার কারণে তাহলে ওকে আমি যে শাস্তি দিবো তোমাদের মুখ বুজে সহ্য করতে হবে।”
দাদাজান ভ্রু কুঁচকে তাকালেন।দর্শনের মধ্যে এমন ভাবনা আসার কারণ বুঝলেন না।সিনথিয়া তো খারাপ মেয়ে না।এমনকি শোভাকে বিগড়ে দিবেই বা কেন? দিজাকেও বা কেন বিগড়ে দিবে?যার জীবন তার কাছে।দর্শনের মুখের দিকে চেয়ে হতাশার সাথে দাদাজান বলেন,“বেশ,তাই হোক।যদি সত্যিই সিনথিয়ার কারণে তুমি অসুবিধায় পড় যেকোনো শাস্তি তাকে দেওয়া হবে।”
সকল কথা শেষে শোভা চলে যেতে নেয় রান্নাঘরের দিকে।দর্শন পিছন থেকে ডাক দিলো,“এই অসুস্থ শরীরে রান্নাঘরে কি তোমার?”
শোভা সবার দিকে এক পলক দেখে সাথে সাথে বলে,“রান্না করতে হবে না?রাতে কি খাবে সবাই?”
“আমি অর্ডার করে দিচ্ছি।”
“বাসায় রান্না করতে সময় বেশি লাগবে না।”
দর্শন রাগী দৃষ্টিতে তাকালো।শোভা আমতা আমতা করে বলে,“দাদাজান বাইরের খাবার খেতে পারেন না তো।”
দাদাজান অভিমানের সাথে বলেন,“আমি বাইরের খাবার খেয়ে নিবো।”
শোভা এবার দর্শনের উপর ক্ষিপ্ত হলো।দর্শন বলল,“উপরে যাও।তোমার আর দিজার জন্য বই কেনা হয়েছে।ওগুলো ঠিক আছে কি না দেখো।”
দিজা এবার মুখ খুলল,“আমিও যাবো!আমি রান্না করলে হয়না?”
দর্শন হাত ইশারা করে দিজাকেও যেতে বলে। দিজা ও শোভা চলে গেলো উপরে।দাদাজান মন খারাপ করে চলে গেলো নিজ বরাধ্য ঘরটিতে।দর্শন সামনে দাঁড়ালো দিদারের দিকে তাকিয়ে বলে,“আমার সাথে রান্নাঘরে চল।”
দিদার হা হয়ে বলে,“হ্যাঁ!”
“রান্নাঘরে চল আমার সাথে।”
“আমরা রান্না করব?”
“হুম।”
বলেই দর্শন হাটা দিলো।দিদার পিছন পিছন গেলো।সিনথিয়া মনে মনে বলে,“তোমার এই দাপট কতদিন থাকে আমিও দেখব।আমাকে অপমান করা!এর প্রতিশোধ তো আমি নিবো।তোমার এই সাধুগিরি যদি আপনি উপরে না দেই আমার নামও সিনথিয়া না।
দর্শন ফ্রিজ থেকে মুরগির মাংস ও মাছ বের করে।পেঁয়াজ,রসুন,আদা বের করে ছুরি দিয়ে কেটে বলে,“তুই ব্লেন্ড করতে পারবি নাকি ইউটিউবে কিছু রেসিপি দেখবি?”
দিদার আসলেই ব্লেন্ড করতে পারে না তাই বলে, “ইউটিউবে রেসিপি দেখে নিচ্ছি।কি রান্না করবে বলো।”
“মুরগির রোস্ট,ভেটকি মাছের ভুনা আর পোলাও।”
দিদার অবাক হলো।দর্শন কি তেল মশলার খাবার রান্না করতে চাইছে?দিদারের মনে পড়ল রোস্ট খেতে তো সে নিজেই ভালোবাসে।দর্শনের মুখের দিকে তাকালো দিদার।ভেজানো পলিথিনে মুরগির মাংস রোস্টের মত করেই কাটা।দাদাজান বলেছিলো বিকালের দিকে দর্শন লোক দিয়ে বাজার করিয়ে পাঠিয়েছে।ভেটকি মাছ খেতে দাদাজান খুব ভালোবাসেন।দিদার বলে উঠল,“দাদাজানের জন্য ভেটকি মাছ কিনেছো আর আমার জন্য মুরগি?”
“রোস্টের জন্য বিভিন্ন মশলাও কিনেছি।নাহলে তো বাসায় রোস্ট রান্না করতে পারব না।”
“তুমি রান্না করে খাওয়াবে বলে সবাইকে উপরে পাঠালে?”
“বুদ্ধি আছে তাহলে তোর মাথায়?”
দিদার মৃদু হাসলো।দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে দর্শনকে।দর্শন কাঁধের উপর আলতো চাপড় দিয়ে বলে,“ছোট বাচ্চা নাকি?মৌলিও তো এমন করে না ওর পছন্দের কিছু দিলে।”
দিদার কান্না মিশ্রিত কণ্ঠে বলে,“হয়তো মৌলির থেকে আমার আবেগ বেশি।”
“এত আবেগ থাকা ভালো না। জীবনটা শেষ করে দেয় এই আবেগগুলো।”
“তোমার প্রতি আবেগ থাকা ভালো।”
দর্শন হেসে দিলো।পরিস্থিতি বদলাতে বলে,“রান্না শুরু করা যাক।নাহলে সবাই না খেয়ে ঘুমিয়ে যাবে।”
দুজনে ইউটিউব দেখে মশলা রোস্ট এর তৈরি করে নিলো।মাছ ভুনার জন্য আলাদা মশলা করলো।পোলাও রান্না সহ সব রান্না দেখে দেখে দুই ভাই মিলে করতে থাকলো।
খাবার টেবিলে একেক করে সব সাজানো হলো।সুন্দর করে শসা,টমেটো,গাজর,ধনিয়া পাতা ও লেটুস পাতা দিয়ে সালাত সাজানো হয়েছে।পোলাও,মাছ ভুনা ও রোস্ট টেবিলের মাঝে রেখে চারটা চেয়ারের সামনে প্লেট রাখা হলো।দিদারকে দিয়ে সবাইকে ডেকে আনলো দর্শন।খাবারগুলো দেখে দাদাজান দর্শনের দিকে তাকালো।প্রশ্ন করলেন,“শুনলাম এই সব নাকি তুমি রান্না করেছো?”
“হুমমম।”
দাদাজান মৃদু হাসলেন।হাতে থাকা ট্রে নিয়ে উপরের দিকে যেতে নিলে সিনথিয়া সবাইকে চুপ থাকতে দেখে নিজেই আগ বাড়িয়ে বলে,“আমাদের সাথে খাবে না?”
দর্শন সোজা উত্তর,“না।”
“দাদাজান কাল চলে যাবে।আজকে একসাথে খাও।”
দর্শন রাগী দৃষ্টিতে তাকালো।সিনথিয়া চুপ করে নিজের চেয়ারে বসলো।দর্শন উপরে যেতে নিয়েও আবার থেমে দাদাজানের উদ্দেশে বলে,“একসাথে খেতাম যদি এখানে বাইরের কেউ না থাকত।তুমি খুব ভালো করেই জানো আমি সবার সাথে এডজাস্ট করতে পারিনা।তাই তোমাকে খুশি করতে পারলাম না।আমি স্পষ্টবাদী তাই সোজা কথা সোজা ভাবেই ক্লিয়ার করে গেলাম।”
ঘরের মধ্যে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পায়চারি করছে শোভা।সিনথিয়াকে এই বাড়িতে থাকতে দেওয়ার ইচ্ছা তার নিজেরই নেই।দর্শনের সাথে রাজি হতে চেয়েছিল।মাঝ দিয়ে দিজা তাকে ঠেলে দিলো।দাদাজানের সামনে দাদাজানের কথার বিরোধিতা করতেও শোভার বিবেকে বাঁধছিল।এই দাদাজানের কারণেই তো মেয়েটা ভালো প্রতিষ্ঠানে আছে।সবশেষে শোভার মন বলছে সে ভুল কিছুই করেছে।স্বামীর পাশে থাকাটাই উচিত ছিল।খাবার হাতে ঘরে এসে দর্শন দেখছে শোভা পায়চারি করছে।ঠোঁটে বাকা হাসি দিয়ে বলে,“নিজের সিদ্ধান্তে এখন নিজেই ভুগছো ওয়াইফি?”
শোভা পিছন ফিরে দেখলো দর্শনকে।মুখচোখ বিরক্তিকর করে বলে,“এছাড়া উপায় কি?আপনিও যেটা চাইছিলেন আমিও সেটাই চাই কিন্তু দাদাজান আপনাকে ও আমাকে যতটা ভালোবাসে আমাদের নিয়ে সবসময় ভাবে ঠিক সেভাবে আমাদেরও তো তার দিকটা দেখা উচিত।সিনথিয়া আপু দাদাজানের নাতনি।দাদাজান বৃদ্ধ মানুষ।যখন শুনেছে তার থাকার জন্য ফ্ল্যাট পাচ্ছে না যেটা পেয়েছিল ওটাও তো ক্যান্সেল করেছে তখন থেকেই দাদাজান ঘাবড়ে গেছেন।আমি দেখেছি দাদাজানের আতঙ্ক।আমার গার্জিয়ান ছিলেন দাদাজান।তার সামান্য চাওয়াকে আমি না করি কিভাবে?”
দর্শন খাবারটা টেবিলে রাখতে রাখতে বলে,“ইন্সিকিউরিটি!এই ইন্সিকিউরিটির জন্য মানুষের জীবন ধ্বংস হয়ে যায়।”
“আপনি জীবনে এত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন?”
“সবকিছু আমার জীবনের সাথে না।অন্যদেরও দেখেছি।”
“আপনি তো কারও সাথে মিশেন না।একমাত্র তুহিন ভাই ছাড়া।তাহলে?”
দর্শন দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে,“আমরা ফ্রেন্ড গ্রুপ ছিলাম।চারজন ফ্রেন্ড।এসএসসি লাইফ থেকে তুহিন আর আমি বাকি দুজনের সাথেও বন্ধুত্ব করি।তুহিনের মত বেশি ক্লোজ ওরা আমার সাথে ছিল না শুধু প্রয়োজনের জন্য কথা হতো।তুহিনও প্রয়োজনে কথা বলতো।”
শোভা ভাবুক হয়ে বলে,“এ কেমন বন্ধুত্ব!”
দর্শন হেয় দেখানো হাসি দিয়ে বলে,“নামে বন্ধু কাজে কিছুই না।আমরা ছিলাম প্রয়োজনের সাথী।”
“তাহলে ওরা এখন কোথায়?”
“হারিয়ে গেছে।”
“কিভাবে?”
“আমাদের বাকি দুটো বন্ধুর একজন ছিল স্কুলের হেড স্যারের ছেলে আরেকজন ছিল ডাক্তারের ছেলে।ডাক্তার আঙ্কেলের একটা মেয়েও ছিল।ছেলে ডাক্তার হতে চায়নি বলে মেয়ের দিকে জোর দেখানো হয়েছিল।তাকে ডাক্তারি পড়তে জোর করা হয়।ওইদিকে হেড স্যারের ছেলের সাথেই ডাক্তারের মেয়েটার প্রেম হয়।যেটা আমরা জানতাম না।আমি আর তুহিন এসব ফালতু বিষয়ে মাথা ঘামাইনি কখনও।তো একদিন আমরা জানতে পারলাম ডাক্তারের মেয়েটা সুইসাইড করেছে।কারণ হলো ওই মেয়েটার বিয়ে ঠিক করে আরেক ডাক্তারের সাথে।যেনো মেয়েটা ডাক্তারকে বিয়ে করে ও নিজেও প্রতিষ্ঠিত হয়।হেড স্যারের ছেলের কথা মাথায় থাকবে না।একজন বাবা হিসেবে যেমনটা ভাবে আর কি।মেয়েটা ইন্সিকিউরিটিতে ছিলো।না পারছিল বাবাকে কিছু বলতে না পারছিল প্রেমিককে কিছু বলতে।এসব ঝামেলা ছিল বছর দুই কি তার একটু বেশি সময় ধরে।এরপর ওদের বিয়ে হলো।মেয়েটার ভাইয়ের সাহায্যেই পালিয়ে গেলো।বিয়ের পর আর তেমন যোগাযোগ হয়নি ওদের সাথে আমাদের।আমি আর তুহিন থাকি অন্য উদ্দেশে।আমার ব্যবসা আর তুহিনের ওই ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার কঠোর চেষ্টা।দুজনেই যখন প্রতিষ্ঠিত হই তখনই আবার শুনলাম ডাক্তার আঙ্কেলের ছেলে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে।কারণ তার বোন আবারও আত্মহত্যা করে মারা গেছে।বোনের মৃত্যুর সেই বোঝা নিতে পারেনি ছেলেটা।পরিবারের সবাই ছেলেকে দোষারোপ করে।সে যদি বোনের পাশে না থাকত তাহলে এতকিছু হতো না।
ওই ছেলের পরিবার ভালো না এটা দেখেই বোঝা যায়।তার সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে চায়নি।মেয়ের সুখের জন্যই ভালো জায়গায় সম্বন্ধ দেখেছিল।মেয়েটা তো ভুল করলই সাথে ভাই হয়ে সেও বোনকে ভুলের দিকে ঠেলে দিলো।হেড স্যারের বউ শাশুড়ি হিসেবে ভীষণ বাজে ছিল।যৌতুকের জন্য অত্যাচার করে।ছেলের একাধিক সম্পর্ক বের হয় ধীরে ধীরে।যেগুলো আমরা জানতাম না সেগুলো ওই মুহূর্তে জানতে পারি।মেয়েটা ইন্সিকিউরিটিতে ভুগে বাবা মাকে বলতে পারেনি।দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করে মানসিক রোগী হয়ে পড়ে।যখন সব ধরা পড়ল ওই ছেলের বিরুদ্ধে কেস করা হয়।লাভ হয়নি। হেড স্যারের সাথে নেতাদের চলাফেরা আছে।ছেলের জন্য হেল্প চাওয়ায় উপর থেকেই সাহায্য পায়।উল্টো ডাক্তারের মেয়েকেই হেনস্থা করে।সোসিয়াল মিডিয়া জুড়ে মেয়েটার নামে নোংরা নোংরা কথা থাকে।তুহিন আর আমি দেখতে থাকি শুধু।তুহিন এগিয়ে গিয়েছিল সাহায্য করতে কিন্তু পারেনি।তখনও তো আমাদের এতটা ক্ষমতা ছিল না।মেয়েটা আশপাশ থেকে অপমানিত হতে হতে না পেরে আত্মহত্যা করে মারাই গেলো।তার আড়াই মাসের মাথায় ভাইটাও গেলো।যতদিন জীবিত ছিল ততদিন বোনের জন্য লড়ে গেলো।কোনো লাভ হয়নি।উল্টো নিজের পরিবারের কাছে ইন্সিকিউরিটিতে ভুগেছে।নিজেকে শক্ত রাখতে পারেনি।বাবার বিরুদ্ধে যাওয়া ছেলেটা শেষে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়।এক বন্ধুর জন্য আরেক বন্ধুর জীবন ধ্বংস হয়েগেলো।ওদের এই দৃশ্য দেখার সময় আমার মাথায় একটাই কথা ঘুরতে থাকে।ভুলেও বন্ধুর সাথে আত্মীয়তা করবো না।আমি আর তুহিন তখন থেকে সিদ্ধান্ত নেই এই বিষয়ে।জীবনে আর কারো সাথে মিশতে যাবো না আর বাইরের কারো সাথে মিশলেও আত্মীয়তা করবো না।বন্ধু তার জায়গায় থাকবে আত্মীয় তার জায়গায়।নাহলে সম্পর্ক এভাবেই নষ্ট হয়ে যাবে।”
শোভা মন খারাপ করে বলে,“এই একটা জীবন কাহিনীতে অনেক কিছু শেখার আছে।কাউকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে নেই।নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে হয়।বাবা মাকে সম্মান দিতে হয়।ভেবে চিন্তে কাজ করতে হয়।নিজেকে সকল পরিস্থিতিতে শক্ত রাখতে হয়।”
দর্শন পিছন ফিরে শোভার মুখের দিকে তাকালো।ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে শোভার দিকে এগিয়ে আসতে নেয়।দর্শনের এভাবে এগিয়ে আসা দেখে শোভা বুঝতে না পেরে বলে,“এভাবে কাছে আসছেন কেন?”
“ভালোবাসা দিতে।”
“ম মানে?”
“ভুলে গেলে!কথা দিয়েছিলাম তো আজ থেকে ভালোবাসা দিবো।তাই কাছে আসছি ওয়াইফি।”
“ভালোবাসতে হলে কাছে আসতে হয় নাকি?”
“বিবাহিত হয়ে এখন দূর থেকে ভালোবাসা সম্ভব নাকি?”
শোভা ঘাবড়ে গেল।এই লোকের কি এখন হুট করে ভালোবাসা আসবে!
শোভা মুখ ফসকে জিজ্ঞাসা করে,“এ আবার কেমন ভালোবাসা!”
দর্শন শোভার নিকটে এসে চোখে চোখ রেখে বলে,“আমার স্পেশাল ভালোবাসা।”
“আপনার ভালোবাসা কি যখন তখন আসে?”
“আসতেই পারে।”
“ধুর!ক্ষুধা লাগছে আমার।রাতে খেতে হবে তো।”
“হুমমম,খাবার এনেছি তো।একসাথে খাবো।”
“নিচে সবাই অপেক্ষা করছে।”
“না,কেউ অপেক্ষা করছে না।”
দর্শনের কথা বলার সময় শোভার অতি নিকটে অবস্থিত হওয়াতে দর্শনের নিশ্বাস শোভার মুখজুড়ে বিচরণ করতে থাকে।শোভা কেঁপে কেঁপে উঠছে।দূরে সরতে নিলে দর্শন জব্দ করে ধরে বলে,“দূরে যাচ্ছো কেন ওয়াইফি?”
“আপনি কাছে আছেন তাই।”
“আমি কাছে থাকলে তোমার দূরে যেতে হবে কেন?”
“আমার কেমন কেমন জানি হচ্ছে।”
“কেমন?”
“জানি না।”
দর্শন মনে মনে দুষ্টু হেসে বলে,“তোমার মুখটা লাল হয়ে আছে ওয়াইফি।আমার ভালোবাসা তো এখনো শুরুই হলো না।জাস্ট কাছে এসেছি।এতেই মুখ লাল।বাকি স্টেপে কি হবে বুঝতে পারছো?”
শোভা লজ্জায় চোখ খিচে বন্ধ করে বলে,“বললাম তো জানি না।”
শোভার গালে দুইহাত দিয়ে আদূরে সুরে বলে,“ওকে ফাইন,তোমাকে জানতে হবে না।আমি আছি তো তোমাকে জানিয়ে দিতে।”
বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৫২
“ম মা মানে?”
দর্শন এবার শোভাকে পাঁজাকোলা করে নিলো।শোভা কাপা কণ্ঠে বলে,“কি হলো?এভাবে কোলে নিলেন কেন?”
“ওই যে বললাম ভালোবাসা দিবো তাই।”
“এই লোকের ভালোবাসা রোগে ধরলো আজ!”
দর্শন ফিচেল হেসে বলে,“দোয়া করো এই রোগ যেনো কখনও না সাড়ে।”
