তাকদীর পর্ব ২
নিরুর কল্পনারাজ্য
প্রথম বিয়ের ডিভোর্সের দিন-ই দ্বিতীয় বিয়ের আসরে বসছে আয়রা। সে এমনকি তার হবু স্বামীর নাম অব্দি জানেনা। কিছুমুহূর্ত পূর্বের কথোপকথোন তাকে যেনো কঠোর করে তুলেছে। আদলে কোনো অনুভূতির ছিঁটেফোঁটা নেই।
কিছুক্ষণ পূর্বে~
আয়রা মেঝেতে কান্নারত অবস্থায় আল্লাহকে ডাকছে। ভেতরে যেনো পাথরসম কিছু অনুভব হচ্ছে তার। আমিরা..তার সন্তান। তার কাছ থেকে আলাদা করা হবে? ঠিক তখনই তার কাছে হুমায়রা সালাহ আসেন। অর্থাৎ আয়রার আম্মিজান। শেখ পরিবারের একমাত্র উত্তরাধিকার সূত্রে নেওয়াজ শেখ বাংলােদশ অন্তর্গত সকল প্রপার্টির মূল উত্তরসূরি হন। তার আগে-পরে কোনো ভাই বোন না থাকায় বাংলাদেশের গণমান্য ব্যক্তিবর্গের মাঝে তিনি সহজেই জায়গা করে নেন। শেখ পরিবারের দুই মেয়ে এবং এক ছেলে। হুমায়রা সালাহ নিজেও বড়পরিবারের কন্যা। মেয়েকে এভাবে কাঁদতে দেখে হুমায়রা সালাহর মাতৃমন নড়ে উঠলো। নেওয়াজ শেখ কঠিন ধাঁচের একজন পুরুষ মানুষ। নিজের আত্মসম্মানে আঘাত তিনি মোটেই বরদাস্ত করবেন না। রমণীটি নিজের মায়ের ছায়াতলে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টায় রত হলো। তাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে; উন্মদের ন্যায় কাঁদতে আরম্ভ করলো,
— আম্মি, আম্মিজান! আব্বুজানকে বলুন এমন কাজ না করতে। আপনি বোঝান দয়া করে।
হুমায়রা সালাহ আহত চোখে মেয়ের এমন করুন দশার সাক্ষী হন। তার নেত্রকোণে সন্তানের আকুলতার বিরাট নিদর্শন হিসেবে চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে। হুমায়রা সালাহ মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ভগ্নস্বরে আড়ষ্ট কন্ঠে নিজের আর্জি পেশ করেন,
— আম্মি, আব্বুজানের কথা মেনে নেওয়াটাই তোমার জন্য ভালো হবে। তোমার আব্বুকে তুমি চেনো। আমার কিচ্ছু করার নেই। আমার হাত-পা বাধা,আম্মি!
আয়রা যেনো আরও বেশি করে ডুকরে উঠলো। মনে পড়লো সেই ১৫ বছর বয়সের সেই আতঙ্ক। নাবালিকা হওয়ার সত্ত্বেও বিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে অসীম বেত্রাঘাতে আয়রার পিঠময় রক্তাক্ত হয়ে উঠেছিলো। তার কেবল একটা-ই বাণী ছিলো– ইসলামে নারীদের কম বয়সে বিয়ে দেওয়া সওয়াবের কাজ। আয়রার ধারণা ছিলো– নেওয়াজ শেখ নিজের মাঝে কোনো এমন ধারণা পুষে রাখেন। তাই সে চাইলেও কিছু করতে পারতোনা। নেওয়াজ শেখ কঠোর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন পিতা। পরবর্তীতে ফারিশের সাথে আয়রার ভালো সম্পর্ক হয়ে ওঠা দরুণ সে তার সাথে বিয়েতে অমত করেনি।
আর আজ সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। নিষ্ঠুর রকমের অনাচার ঘটতে যাচ্ছে। একজন মা তার সন্তান খুঁইয়ে ফেলার তাড়নায় কুঁড়ে কুঁড়ে মরছে। আয়রা হুমায়রা সালাহ’র কোল ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। পাঁচ বছরের বিবাহিত স্বামীর বিশ্বাসঘাতকতা সে সহ্য করতে পারে তবে সন্তানহীনা সে কিছুতেই থাকতে পারেনা। নেকাব খুলে দৌড়ে সে নেওয়াজ শেখ এর কক্ষে গেলো। নেওয়াজ শেখ তখন তসবিহ গুণছিলেন। মেয়ের আসার আগমন তিনি আগেই টের পেয়ে গেলেন। তবু গম্ভীর মুখে বদ্ধ চোখে তসবিহ পড়া অব্যাহত রাখেন। আয়রা কান্না আটকে রাখা কন্ঠে নিম্নকন্ঠে বললো,
— আব্বুজান, আসতে পারি?
নেওয়াজ শেখ চোখ বুজেই জবাব দেন,
— এসো!
আয়রা গিয়ে তৎক্ষনাৎ-ই নেওয়াজ শেখ এর পায়ের কিনারায় গিয়ে বসে পড়ে। পিতার পদতলে সে লুটিয়ে পড়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। বলে,
— আব্বুজান, আমার আজ সকালেই কোর্ট অনুযায়ী আইন মেনে ডিভোর্স হয়েছে। আর আপনি আজই আমার বিয়ে দিচ্ছেন? অন্তত আমিরার কথাটা ভাবুন….
— শোনো, আয়রা! মেয়ের মানুষের বেশি কথা বলা আমি পছন্দ করিনা। আমি পিতা হয়ে অবশ্য মেয়ের খারাপ চাইবো না। সেহেতু এই অযথা আলাপ বন্ধ করো তুমি।
গম্ভীর এবং রুষ্ঠ চিত্তে নেওয়াজ শেখ আয়রার কথার বিপরীতে বললেন। আয়রা ফের আকুল মিনতিতে গা ভাসালো,
— অন্তত আমিরাকে আমার কাছে রাখতে দিন…
— আহ! বেশি বকবক করছো তুমি আয়রা। নতুন সোহরের ঘরে তুমি প্রথম ঘরের কন্যাসন্তানকে নিয়ে যাবে? ঠিক কতটুকু ভালো দেখায় এটা? তাছাড়া ডিভোর্স তুমি স্ব-ইচ্ছায় করেছিলে। পুরুষ মানুষ দুটো কেনো, চারটা বিয়ে করলেও কিছু যায় আসেনা। সেখানে তুমি নিজের স্বামীর প্রতি তুমি সৎ থাকতে পারোনি।
আয়রা যেনো নির্বাক হয়ে গেলো,
— আমি? আব্বুজান, ফারিশ একজন পতিতালয়ের বাইজিকে নিকাহ করে এনেছে। আমাদের সন্তানের কথা সে একবারও ভাবেনি। এমনকি সে নামাজ পড়ার পরও ওই বাইজির সাথে যোগাযোগ রেখেছিলো। আর কতদিন সহ্য করতাম আমি? আমিরার যখম দু’বছর তখন থেকেই সে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। এখানে আমার দোষ টা কী?
— দেখো আয়রা, এতোকিছু ভাবলে তো সংসার করা যায়না। আমারও তো সম্মান আছে। এক বাচ্চার মা সাথে ডিভোর্সি এক মেয়েকে ঘরে বসিয়ে রাখলে শেখ পরিবারের অসম্মানি হবে। আর আমি বেঁচে থাকতে তা হতে দিতে পারিনা।
— তা বলে আপনি আমিরাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিবেন, আব্বুজান?
নেওয়াজ শেখ যথাযথ গম্ভীরমুখো হয়েই জবাবখানা দিলেন,
— কেড়ে কোথায় নিচ্ছি! আমার কাছেই তো থাকবে। শেখ পরিবারে তো টাকার কমতি নেই যে সে বড়হতে পারবেনা এ পরিবারে।
— আর মায়ের কমতি কে পূরণ করবে আব্বু?
নেওয়াজ শেখ তবু কথা মানতে নারাজ। বলেন,
— গিয়ে নিকাহ’র তৈয়ারি শুরু করো। এসব নিয়ে কথা হবেনা আর।
ফাহমিদা শেখ আয়রার পরিবর্তে এই মুহূর্তে আয়রার শরীরে যেনো ভর করে মাতৃত্ব। সে নেওয়াজ শেখ এর পদস্থল থেকে সরে এসে শেষ বারের মতো কন্ঠে দীপ্ততা ঢেলে বলে,
— আমি এ’বিয়ে করবোনা আব্বুজান। করবোনা। দরকার পড়লে আমি আমিরাকে নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেবো। তবু আমি আমার মেয়েকে ছাড়া থাকবোনা।
আয়রা ভেবেছিলো তার এমন কথায় হয়তোবা নেওয়াজ শেখ নরম হবেন। তবে তিনি উল্টে বললেন,
— যে মেয়ে বাপের সম্মান নষ্টের হেতু হয়ে দাঁড়ায় তার বাঁচারও কোনো অধিকার নেই!
— আব্বুজান!
অস্ফুট স্বর বেরিয়ে আসে আয়রার কন্ঠনালি ভেদ করে। এমন মন্তব্য সে কস্মিনকালে আশা করেনি। দু’পা পিছিয়ে যায় সে।
— আপনার ইচ্ছে পূরণ হোক, আব্বুজান!
আয়রার চোখদুটো টকটকে লাল। সে বেরিয়ে আসার জন্য পা বাড়াতেই নেওয়াজ শেখ তাকে থামান। বলেন,
— একটা শর্তে তুমি তোমার মেয়েকে নিজের কাছে রাখতে পারো!
আয়রা চোখ প্রদীপের আলোর ন্যায় জ্বলজ্বল করে উঠলো মুহূর্তেই। এক চিলতে আশায় সে থেমে থেমে বলে,
— আমি সব শর্ত মানতে প্রস্তুত আব্বুজান!
— এ’বিয়ে তুমি কোনোরকম হাঙ্গামা ছাড়া করবে এবং যার সাথে তোমার বিয়ে হবে তার সাথেই তোমাকে আজীবন থাকতে হবে।
আয়রা কোনো ভাবনা ছাড়া-ই রাজি হয়ে যায়। কোনোরূপ চিন্তা ছাড়া সে বলে দেয়,
— আমি রাজি আব্বু, আমি রাজি!
বর্তমান~
হুমায়রা সালাহ নিজ হাতে মেয়ের গায়ে অলংকার জড়িয়ে দিচ্ছেন। মেয়ের কবর তিনি নিজ হাতে খুঁড়ছেন। আয়রা চাইলেও কোথাও যেতে পারবেনা। দেশের যেকোনো প্রান্ত হতে তার বাবা তাকে খুঁজে বের করবেন। আয়রা নির্বিকার মুখে আয়নার পানে তাকিয়ে নিজেকে দেখছে। একটা সময় এভাবেই সে নিজেকে ফারিশের স্ত্রীরূপে সাজিয়েছিলো। আর আজ!
নামহীন কোনো ব্যক্তির তার তাকদীরে লিখে দেওয়া হচ্ছে। কিছুক্ষন পরই ইমাম সাহেবের ডাক এলো। আয়রাকে নিচে নিয়ে যাওয়া হলো। পর্দার অপর প্রান্তের যে পুরুষটি–তাকে আয়রা জানেনা। ইমাম সাহেব তার ভাবনার মাঝে ছেদন ঘটিয়ে বলেন,
— বলো মা, কবুল!
আয়রার ঠোঁট কাঁপলো। কবুল বলতে তার বুক ভেঙে এলো। নেওয়াজ শেখ গম্ভীর স্বরে তাকে বললেন,
— কবুল বলো, আয়রা!
আয়রা কবুল বলে ফেলে একত্রে,
— কবুল!
পরপরই কিছুমূহুর্ত পর সে এক পৌরুষ কন্ঠ ভেসে এলো। তা ছিলো যথেষ্ট গম্ভীর।
— কবুল!
এরপরই এই নিকাহ সম্পন্ন হয়। আমিরা তখন নিজের কক্ষে ঘুমোচ্ছিলো। এই বিয়েতে কেবল ছেলের মা-বাবা এবং আয়রার পরিবার উপস্থিত ছিলো। আয়রার বড় ভাই বিদেশে পড়তে গিয়েছে বিধায় এখানে নেই। আর আয়রার ছোট বোন সায়েরা বাক-প্রতিবন্ধী। যার দরুণ তার এসব চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো গতি নেই। সে কেবল অশ্রুসজল চোখে এসব দেখে যাচ্ছে। আমিরাকে ঘুম পারিয়ে রাখা হয়েছে যাতে সে এসব কিছু অনুধাবন করতে না পারে। বিদায়ের সময় পাত্রকে খোঁজা হলে দেখা গেলো পাত্র গায়েব। পাত্রের মা রুহানি ভুঁইয়া কিছুটা লজ্জিত হলেন ছেলের এমন কান্ডে। আয়রার বাবা-মায়ের উদ্দেশ্যে বললেন,
— কিছু মনে করবেন না, ছেলেটা একটু এরকমই আরকি!
নেওয়াজ শেখ হেসে জবাবে বললেন,
— সমস্যা নেই, এই বয়সের ছেলেরা তো এমনই…
আয়রার বুক ধক করে ওঠে। সে কী আবারও কোনো জাহান্নামে গিয়ে পতিত হতে চলেছে? আমিরার কোনো ক্ষতির কারণ কী সে নিজেই হবে? কে সেই পুরুষ যে তাকে বাচ্চা সমেত বিয়ে করতে রাজি হয়েছে? তখনই ভেসে এলো এক নাম,
— জুনায়েদ আসলে একটু বদমেজাজী ধরণের!
আয়রা এই নামটি নিজের মুখে উচ্চারিত করলো,
— জুনায়েদ!
তাহলে এই নামই এখন তার ভাগ্যের লিখন। বিদায়ের সময়ে আয়রা নেওয়াজ শিকদারের কাছে যায়। সালাম করে ক্ষীণ হেসে বলে,
— আপনাকে শত অসম্মানের হাত থেকে নাজাত [মুক্তি] দিলাম, আব্বুজান। ভালো থাকবেন!
অতঃপর সকলের সাথে এক এক করে কথা বলে বিদায় নেয় আয়রা ঘুমন্ত আমিরাকে কোলে নিয়ে। নিজের ভাগ্যের ওপর তার কোনো রাগ হয়না। কেবল আওড়ায়,
— আল্লাহতায়ালা যা করেন ভালোর জন্য করেন। আমি আমার সৃষ্টিকর্তার ওপর পূর্ণাঙ্গ বিশ্বাস রাখি। তিনি আমার দোয়ার এমন প্রতিদা দিবেন না যা আমার আর আমার মেয়ের জীবনে ক্ষতি বহন করে নিয়ে আসবে!
কিছুক্ষণের মাঝেই তারা পৌঁছে যায় শাহরিয়ার পরিবারে। বৃহৎ এক বাড়ি; ঠিক শেখ পরিবারের মতোই। নেইম-প্লেট এ লিখা ‘শাহরিয়ার কুঞ্জ।’ আয়রা খানিকটা ইতস্তত হয়ে চারিপাশ নজর বোলাচ্ছে। গাড়িতে সে একা এসেছে। জুনায়েদ নামক লোকটি না থাকায়। এতে অবশ্য আয়রা খোদার কাছে শুকরিয়া আদায় করেছে। আয়রা গাড়ি থেকে নামতেই পেছনের গাড়িতে আসা রুহানি সৈয়দ এবং এহমাদ শাহরিয়ার নামলেন। রুহানি সৈয়দ আয়রার অনুসন্ধানী চোখের দিকে তাকিয়ে তার পানে চেয়ে হাসলেন। আয়রা নির্বিকার মুখে চেয়ে রইলো। তিনি বললেন আয়রাকে,
— আম্মু, এখানে নিজের মেয়ের মতো থাকবে কেমন? মনে রেখো, এটা তোমার নিজেরই ঘর।
আয়রা অবাক হয়। এতে অমায়িক ব্যবহার। এমনকি এহমাদ শাহরিয়ার নিজেও আয়রার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
— আমি তোমার শ্বশুর। কিন্তু আমাকে আব্বুর নজরে দেখতে হবে কিন্তু আম্মাজান, আমার কোনো মেয়ে নেই। একটা মেয়ের বহু শখ ছিলো। আল্লাহতায়ালার অসীম কুদরতে এই ইচ্ছেও আমার পূরণ হলো।
তিনি ভীষণ মিষ্টভাষায় অবলীলায় বলে চললেন কথাগুলো। অথচ ওদিকে আয়রা অবাক হয়ে তাদের কথা শুনে যাচ্ছে। শ্বশুর-শ্বাশুরি ও যে এতোটা অমায়িক হয় তা সে বোধহয় আজ জানলো। ফারিশের ঘর যেদিন ছেড়েছিলো সে–সেদিন ভেবেছিলো ফারিশের আব্বু-আম্মু অন্তত তার পাশে থাকবে। অথচ তাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করে তাকে উল্টো অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছিলো।
রুহানি সৈয়দ এবং এহমাদ শাহরিয়ার তাকে নিয়ে জুনায়েদের ঘরের সম্মুখে এলো। আয়রা আমিরাকে কোলে করে রেখেছে তখনও। অবশ্য রুহানি সৈয়দ বলেছিলেন তার কাছে রাখার জন্য। তবু, আয়রার মাতৃমন মেয়েকে হাতছাড়া করতে নারাজ। আয়রা ধীরকদমে আমিরাকে কোলে নিয়ে জুনায়েদের ঘরে প্রবেশ করলো। ভয়ে ভয়ে প্রবেশ করলেও সেখানে কেও না থাকায় তার ভীষণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ হলো। বিছানায় কোনোরকমের ফুল নেই। কোনো সাজ নেই। আয়রা কক্ষটিকে পরখ করে নিতে নিতে হুট করে একজায়গায় চোখ আটকালো। জুনায়েদের বড় একটি ছবি। যে ছবিতে সে হাসছে। এই চেহারা কোথাও দেখেছে আয়রা। ভ্রু কুঁচকে মনে করার চেষ্টা করলো সে। মুহূর্তেই স্মরণে এলো– আজ সকালে একটা মেয়েকে বাইকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ছেলেটার মুখচিত্র। আয়রা অবাক হলো। মনে মনে শঙ্কা ঢুকলো। আবারও কী কোনো অপবিত্র সত্ত্বার সঙ্গে তাকে জীবন কাটাতে হবে? চোখ বোলাতে বোলাতে সে দেখতে পেলো–এক স্থানে পড়ে থাকা একগুচ্ছ কাপড়। দলা করে রাখা। আয়রার বিচক্ষণ মস্তিষ্ক মুহূর্তেই বুঝে গেলো এই পুরুষ নির্ঘাত বড়লোকের বিগড়ে যাওয়া একটা বখাটে।
— কিরে ইয়াং ম্যান! বাড়ি যাবিনা? বাসর রাতে তুই নাইট ক্লাবে কী করছিস?
— আরে, বেচারা গার্লফ্রেন্ডের সাথে কট খেয়েছে বলে ওর শিল্পপতি বাপ ওকে এক বাচ্চার মায়ের সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। বেচারা! খাওয়া মালে কী আর মাছি বসে?
সকলেই হেসে উঠলো। যায়নাব জুনায়েদ শাহরিয়ার মদ্যপ পান করতে করতে নেশাক্ত চোখে তাদের সেসব কথা শুনছে। দাঁত পিষে সেসব কথার প্রত্যুত্তরে বললো,
— বিয়ে মাই ফুট! এই বিয়ে মানার প্রশ্নই উঠেনা। আমার মতো সকলের ক্রাশবয় কিনা এক বাচ্চার মায়ের সাথে সংসার করবে? নেভার এভার। ওই মেয়ের জীবন আমি জাহান্নাম বানিয়ে তুলবো।
জুনায়েদ এর বন্ধু রায়হান একটি মেয়ের দিকে ইশারা করে বললো,
— মাম্মাহ! দেখ, কড়াক টাইপের মেয়ে। আমি লাইন মেরে আসি। তোরা থাক।
জুনায়েদ সেদিক পানে তাকিয়ে বক্র হাসলো। ওয়াইনের গ্লাসের সম্পূর্ণ ওয়াইন খেয়ে নিজের স্থান ত্যাগ করতে করতে বললো,
— থাক তোরা! আমি উঠছি। লং ড্রাইভ দিয়ে আসি একটা।
— ওওও, লং ড্রাইভ নাকি বউয়ের কাছে যাচ্ছিস?
— শাট আপ, বুলশিট!
অতঃপর সেখান থেকে প্রস্থান করলো সে।
তাকদীর পর্ব ১
[যারা ইদ্দতের সময় নিয়ে প্রশ্ন করছেন তাদের জন্য–ইদ্দতের সময় মূলত শুরু হয় তালাক বলার পর থেকে। এবং আমি ওই স্থান ঠিক করেছি যেখানে ফারিশ আয়রাকে তালাক দিয়েছে। তালাকের সময়সীমা তিনমাস এবং ফারিশ আর আয়রার ডিভোর্স হয় প্রায় সারে তিনমাস পর।
আয়রার বাবা নেওয়াজ শেখ ইসলামিক হলেও তিনি বাংলাদেশের প্রক্ষাপটের সেই ধরণের পরিবারবর্গের মাঝে পরেন যাদের মতে নারীদের উচ্চবাচ্য সমীচীন নয়। এবং সমাজের তালে তাল মিলিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারণা মনে পুষেন।
সুতরাং, এই গল্পে যদি মনে হয় ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কোরূপ অবমাননার চিহ্ন পেশ করা হয়েছে সাথে সাথে আমাকে জানাবেন আমি গল্পটা বন্ধ করে দিবো। আমার উদ্দেশ্য কেবল একটাই–দ্বীনের পথ কতটা শক্তিশালী তা দেখানো।
হ্যাপি রিডিং❤️]
