Home আসবো ফিরে আবারো আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৯

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৯

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৯
সুরভী আক্তার

ঝনঝনিয়ে একটা শব্দ হয় মেঝেতে কিছু পড়ার মতো । শাফাহ্ দ্রুত মেঝের দিকে তাকায় । মেঘার হাত ফসকে মস্টারাইজার টা পড়ে গেছে ‌। কাঁচের ছোট জারটা ভেঙে তিন টুকরো হয়ে পড়ে আছে মেঝেতে । মেঘার পরবর্তী অভিব্যক্তি বোঝার জন্য ঝট করে পুনরায় ওর দিকে তাকালো শাফাহ্ । দু-কদম বাড়িয়ে বাহু টেনে ওকে নিজের দিকে ঘোরালো ।
” মেঘা , কি হলো ?
মেঘা মুখ বিকৃত করে । চোখ নামিয়ে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয় ঝাড়া মেরে । ভাঙ্গা কন্ঠ চড়াও করে বলে আটকে আটকে…

” কি… কিছু না । ছাড় আমায় !
” শুনেছিস আমি কি বললাম ?
” শুনেছি । আর কিছু বলবি ? বলার থাকলে বল । আর না বলার থাকলে চুপ করে থাক । নয়তো এখান থেকে যা । ডিস্টার্ব করিস না আমায় ! আমার ভালো লাগছে না এসব , আমাকে একটু একা থাকতে দিবি প্লিজ ?
” মেঘা, ভাইয়ার এক্সিডেন্ট হয়েছে । ভাইয়া এখন হসপিটালাইজড ।
মেঘা কিছু বললো না । সরে আসলো সামনে থেকে । টাওয়েল দিয়ে মুখ ঢেকে শুকনো মুখ মুছলো আবার । ছটফট করলো । হাঁসফাঁস লাগছে । শ্বাসনালীতে শ্বাস রোধ হয়ে আসছে দলা পাকিয়ে । ওকে শব্দহীন তড়পাতে দেখে শাফাহ্ শুনিয়ে বললো ধীরুজ স্বরে….

” বাড়ির সবাই হসপিটালে গেছে । ভাইয়ার কন্ডিশন মেবি ভালো ন…..
” প্লিজ টুকটুকি । চুপ কর । আমি শুনতে চাই না এসব । ঐ লোকটার বিষয়ে কোনো কথা কর্নপাত করতে চাই না আমি । আই হেইট হিম , শুনে রাখ । আমি ঘৃণা করি তোর ঐ ভাইয়াকে । ওনার কথা বলবি না আমার সামনে । শুনতে চাই না আমি ঐ লোকটার নাম । প্লিজ আমাকে একটু একা ছাড় । আমি একা থাকতে চাই এই মুহূর্তে । ওওও , এটা তো আবার তোর ঘর । পাঁচ বছর থাকার পর, আগামীতে আর কদিনের অতিথি আমি এখানে । সরি , আমি বাইরের লোক হয়ে মাতব্বরি করছি । তুই থাক তোর রুমে । আমি গেস্ট রুমে গেলাম । দম বন্ধ লাগছে আমার এখানে । আমি একটু একা থাকতে চাই ।
আসবি না আমার কাছে ।
কথা শেষ করে ছিন্ন ভিন্ন পায়ে ঘর হতে বেরিয়ে গেলো । গেস্ট রুম সব দখল হয়ে গেছে মেহমান দ্বারা । কম অতিথি নেই বাড়িতে । মুখ গোল করে শ্বাস টানতে টানতে কোনো ঘর ফাঁকা না পেয়ে ছাদের দিকে ছুটলো মেয়েটা । সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে ঝাপসা দেখলো সবটা । এলোমেলো পায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়তে নিলো একবার । তবে নিজেকে সামলে নিলো পরক্ষনেই । কোনো রকমে টাল সামলে উঠতে না উঠতেই দ্বিতীয় বার সিঁড়ির বাঁকে টাল হারিয়ে পড়তে সময় লাগলো না । হুবড়ি খেয়ে পড়লো উঁচু নিচু সিঁড়ির বাঁকে । ব্যাথা পেয়ে মৃদু আর্তনাদ উঠলো রুদ্ধ জবানে । তবুও দমলো না রমনী ।
অবাধ্য মনের উচাটনে হু হু করে উঠলো কোমল হৃদয় । ঘোলাটে চোখ দুটো ডান হাতের পিঠে মুছতে মুছতে হিতাহিত মতি শূন্য হয়ে পা দুটো কে টেনে তুললো খোলা ছাদে ।

আদ্রের গাড়িটা এলোপাথাড়ি ছুটে গিয়ে সোজা থামলো হসপিটালের সামনে । কোনো রকমে ব্রেক চেপে গাড়ি থামিয়ে তাড়াহুড়ো করে নামলো সে । কোন দিকে না তাকিয়ে , না ফিরে দিকবিদিক হয়ে ছুটলো ভেতরে । শিশির হতভম্ব । বিষ্মিয়ে পাথর মূর্ত হয়ে গেছে মেয়েটা । আদ্র ওকে এভাবে ফেলে চলে যাওয়ার সময় একবার ডাকলো ক্ষুণ্ন আওয়াজ তুলে….
” স্যার ….
আদ্রের কানে পৌঁছায় নি ডাক ।
সে ছুটে গেছে ভেতরে । এদিকে গাড়িতে রেখে গেছে মেয়েটাকে ।
হসপিটালের তিন তলায় ভিড় জমেছে কাবির পরিবারের সদস্যদের । করিডোর জুড়ে নিস্তব্ধতা । এতক্ষণ থেমে থেমে কান্নার আওয়াজে মুখোরিত ছিলো চারপাশ । এখন স্তব্ধ । যিনি কাঁদছিলেন ‌, তিনি ইতোমধ্যে দু-দুবার জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়েছেন কাঁদতে কাঁদতে । আইসিইউ এর পাশের কেবিনে ঠাই জুটেছে সেই কান্নারত ভদ্র মহিলার । আদ্র হাঁসফাঁস করে উঠলো তিন তলায় । লিফটের অপেক্ষায় না থেকে সিঁড়ি বেয়ে ধড়ফড়িয়ে উঠতে গিয়ে দম ফুরিয়ে যাওয়ার দশা । গলা শুকিয়ে গেছে আপন ভাইয়ের চিন্তায় । ঘন ঘন শ্বাস পড়ছে যুবকের ।
কেবিনের বাইরে বাড়ির সবাই উপস্থিত । হাঁটুতে কনুই ঠেসে দুহাতে মাথা চেপে ধরে বসে আছেন তোফায়েল কাবির । পাশেই তৌসিফ কাবির ।
উদ্বেগাকুল হয়ে কেবিনের দরজার সামনে পায়চারি করছে শুভ্র । আদ্র এক ছুটে যায় । হাঁসফাঁস করে বলে….

” ভাইয়া , ভাইয়া রুডি ? কি হয়েছে রুডির ?
শুভ্র মলিন চোখ মুখে তাকায় । ক্ষুণ্ন আতঙ্ক স্পষ্ট মুখাবয়বে । ধীরে বলে….
” বলতে পারছি না এখনো অবধি । ডক্টর দেখছেন…
আদ্র তড়াক করে পিছু ফেরে । একপাশে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে সৌভিক । আদ্র কে নিজের দিকে তাকাতে দেখা মাত্রই ছ্যাত করে উঠলো । মাথা নুইয়ে কাঁচুমাচু হয়ে সিটিয়ে গেলো আরো । আদ্র ধারালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঝাই ঝাই করে উঠলো ওর উপর….
” এইইই , কি হয়েছে রুডির ? এক্সিডেন্ট হলো কি করে ? বল ? ড্রাইভ তো তুই করছিলি ‌, তাহলে এই এক্সিডেন্ট কি করে হলো ?

” গা.. গাড়ির ব্রেক ফেল হয়েছিলো !
আদ্র চোখ সুক্ষ্ম করে । আগাগোড়া দেখে বলে….
” তোর কিছু হয়নি কেনো তাহলে ? তুই এভাবে ঠিক আছিস কি করে ? রুডির কি হয়েছে ?
ঠোঁট ভেজায় সৌভিক । শেখানো কথা গুলো গুছিয়ে নিয়ে মুখ খোলে…..
” মাঝপথে আমাকে থামিয়ে রুডি ড্রাইভ করছিলো । সিটবেল্ট ছিলো আমার । তাই তেমন কিছু হয় নি । এই দেখ,,,শুধু কপালে আঘাত পেয়েছি একটু ।
বাট , ও নিজেরটা বাঁধে নি । ড্রাইভিং সিটে থাকার দরুন ও সামনের দিকে ছিটকে পড়েছিলো । মাথায় বিভৎস আঘাত পেয়েছে । রাইট দেন , জ্ঞান হারিয়েছে ।
” আর‌ ? আর কি হয়েছে ওর ? ঠিক আছে তো রুডি ?
” সেটা তো ডক্টর বলতে পারবেন ! বেরোন নি এখনো । সাথে সাথেই হসপিটালে নিয়ে এসেছি ওকে । শুভ্র ভাইয়া কেও ঠিক তখনই ফোন করে সবটা জানিয়েছি ।
আদ্র এক হাত কোমরে ঠেসে অন্য হাতে মাথা চেপে ধরে দীর্ঘ শ্বাস ফেললো । উত্তেজিত লাগছে এখনো । ভনভন করছে মাথা ।
এর‌ মধ্যেই ডক্টর বেরোলেন আইসিইউ এর কেবিন থেকে । তোফায়েল কাবির নিচু দৃষ্টিতে ডক্টরের উপস্থিতি ঠাহর করা মাত্রই ছটফটিয়ে উঠে দাঁড়ালেন ।
অগত্যা তেড়ে গিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে শুধালেন…..
” ডক্টর , ডক্টর আমার ছেলে ? রৌদ্র , ওর কন্ডিশন কেমন এখন ? কি হয়েছে ? ঠিক আছে তো ও ? কোনো জটিল কিছু…..

” আরে মি. কাবির ,,, কুল ডাউন । হাইপার হবেন না এতো । আপনার ছেলে একদম ঠিক আছে । তেমন কিচ্ছু হয় নি ওর । মাথায় আর হাতে চোট পেয়েছিলো , ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছে । আমরা ক্লিন করে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছি । মাথার চোটটা একটু বেশি গভীর । ব্লাড লস হয়েছে এতে । তবে বেশি টেনশনের কিছু নেই ।
” আমরা দেখা করতে পারি ওর সাথে ?
” অবশ্যই । তবে এক এক করে । বেশি ভিড় জমাবেন না ওনার কাছে । চোট পেয়েছে তো , হেইড এ্যাক হচ্ছে । আমরা মেডিসিন সহ ইনজেকশন দিয়েছি । উনি ঘুমিয়ে পড়বেন খানিকের মধ্যে । আপনারা এক এক করে দেখা করে আসুন….
তোফায়েল কাবির দ্রুত মাথা নাড়ান । পিছু ফিরে তৌসিফ কাবির কে ডাকেন…
” ভাইয়া , চলো..
দুই ভাই প্রথমেই ঢুকলেন কেবিনের ভেতর । আদ্র মূক বনে তাকিয়ে । বহুদিন পর ভাইয়ের প্রতি বাপের এতোটা প্রকাশিত উদ্বেগ দেখলো সে । নজর কাড়লো ভীষণ । নতুবা রৌদ্র কে তো উপর উপর উপেক্ষা করেন তোফায়েল কাবির । ছেলের বেপরোয়া পনা সহ্য করতে না পেরে রাগ ঝাড়েন সর্বদা । নিজের প্রতি ছেলের অবহেলিত আচরন , উপেক্ষিত উদাসীনতা দেখে তোফায়েল কাবির ও ছেলের পথ বেছে নিয়েছেন এক পর্যায়ে । ছেলেকে কিছুতেই দমন করতে না পেরে কঠোর হয়েছেন তিনি ও । ছেলের মতো করেই ছেলেকে অনাদর দিয়ে চলেন তিনি । বাপ ছেলে এক । তাদের জেদ , রাগ সব অভিন্ন । উভয়ই নিজেদের দূর্বলতা কে ঢেকে রাখে শক্ত খোলসের আবরনে ।
শুভ্র আর আদ্র একে অপরের দিকে চাওয়া চাওয়ি করে মৃদু ঠোঁট ফাঁক করলো । ধীরে প্রশ্ন করলো আদ্র….

” আম্মু কোথায় ?
” মামনি পাশের কেবিনে আছে । স্ট্রেস গেছে অনেক । জ্ঞান হারিয়েছিলো । কেঁদেছেও খুব । আপু আছে মামনির সাথে ।
এবার আহিয়ান সহ দুই ভাই দরজা ঠেলে ঢুকলো কেবিনের ভিতর । রৌদ্র বাম দিকে মুখ ফিরিয়ে চোখ বুজে শান্ত হয়ে পড়ে আছে বেডের উপর । মাথায় মোটা ব্যান্ডেজ । সাদা ব্যান্ডেজ ভেদে লাল টকটকে তরলের ছাপ খানিকটা দৃশ্যমান । তাগড়া যুবকের শরীর হতে ঝরেছে বহুত রক্ত । বাম হাতের কনুই হতে কব্জি পর্যন্তও ভারী ব্যান্ডেজ । চোখ বুজে ভঙ্গিমা শক্ত করে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে সেই বেপরোয়া ছন্নছাড়া ছেলে ।
তোফায়েল কাবির নিঃশব্দে ছেলের পাশে বসলেন । খানিক চুপ থেকে আধো স্বরে ডাকলেন….

” রৌদ্র …..
বাপের মুখ থেকে আজ বহু বছর পর নিজের নামটা শুনলো সে । তবে জবাব দিলো না । নিজের শক্ত প্রতিমা ধরে রেখে মুখ ফিরিয়েই রইলো । আবার বললেন তোফায়েল কাবির….
” এখন কেমন লাগছে ? ঠিক আছো ? যন্ত্রণা হচ্ছে খুব ?
উত্তর নেই । ফোঁস করে শ্বাস ফেললেন । এবার বললেন তৌফিক কাবির….
” এক্সিডেন্ট করলে কি করে ?
” বাইরে সৌভিক আছে , গিয়ে জিজ্ঞেস করে নাও ।
শক্ত অবস্থানে থেকে উত্তরে মারপ্যাঁচ ।
শুভ্র এগোলো কাছে । তবে আদ্র পা বাড়ানোর আগেই পকেট হতে বেজে উঠলো মুঠো ফোনটা । ফোনের শব্দ ডিরেক্ট মাথায় গিয়ে চিনচিন করে আঘাত হানলো রৌদ্রের । মুখ খিচে কিড়মিড়িয়ে মুখ ঘোরালো রৌদ্র ।
আদ্র ফোন রিসিভ করেই দ্রুত বেরিয়েছে কেবিন হতে ।
শাফাহ্ ফোন করেছে । ওপাশ থেকে চঞ্চলা রমনীর সুললিত কন্ঠ ভেসে আসলো….
” ভাইয়া , কি হয়েছে ওখানে ? সব ঠিক আছে তো ? রৌদ্র ভাইয়া ঠিক আছে ?
” হুম । ঠিক আছে । চিন্তার কিছু নেই । প্যানিক করিস না । তেমন কিছু হয় নি রৌদ্রের ।
” তোমরা এখনো কি করছো ওখানে ? বাড়ি আসবে না ?
” হুম । মেঘ কোথায় ?
” ভাইয়া মেঘার তো জ্ব….
কিছু একটা বলতে গিয়ে থামলো । কথা ঘোরালো চট করে…

” মেঘা শুয়েছে একটু । তুমি তাড়াতাড়ি এসো প্লিজ ‌। বাড়িতে বাকিরা টেনশন করছে ।
” যাবো একটু পর । রৌদ্র কে মেবি ছাড়বে না আজ । আম্মু কে নিয়ে আমি ফিরছি বাসায় । তুই মেঘের কাছে থাকবি । একসাথে থাকবি দুটোয় ।
” আচ্ছা ।
ফোন কাটতে গেলেই আবার বললো চটপটিয়ে…..
” আ… ভাইয়া ,, শিশির ? ও কোথায় ? ওকে কোথায় নামিয়েছো তুমি ? ফোনে পাচ্ছি না ওকে ? ঠিকঠাক পৌঁছে দিয়েছো তো ?
আদ্র কপালে ভাঁজ ফেললো সহসা । মুহুর্তেই মুখশ্রীতে পরিবর্তন আসে আলাদা । মেয়েটা কে তো তখন ওভাবেই গাড়িতে ফেলে এসেছে । ফোন কানে গুঁজেই কপালে পাশে তর্জনী ঠেকিয়ে মৃদু উচ্চারণ করলো….
” ওও শিটটট….

আর কিছু বললো না । মুখের উপর ফোন কাটলো উত্তর না করে । দ্রুত পদে বাইরের দিকে হন্তদন্ত হয়ে ছুটলো । হসপিটাল থেকে বেরিয়েই এগোলো নিজের গাড়ির দিকে । গাড়িতে কেউ নেই । যাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করে চলে গেছে । মেয়েটার পানে ফিরে চাওয়া হয় নি দ্বিতীয় বার । তাকায়ই নি এ অবধি ।
অস্থিরতায় ডোর লক পর্যন্ত করে নি , এটা ঠিক ঠাহরে আছে । আদ্র গাড়ির ভেতরটা দেখে এদিক ওদিক তাকালো । গাড়িতে নেই মেয়েটা । এতক্ষণ বসে থাকার কথাও নয় । আশপাশেও নেই সেই স্বল্প পরিচিত শ্যামলা মুখাবয়ব । গাড়ির দুটো ডোর সুন্দর মতো লক করা । আদ্রের স্পষ্ট মনে আছে সে ডোর লক করে নি । মেয়েটা রেসপন্সিবলের মতো সুন্দর মতো নেমে গেছে ডোর লক করে । এভাবে এখানে ওকে ছুটিয়ে নিয়ে আসলো আদ্র । পথিমধ্যে তপ্ত ঝাড়ি দিয়ে চুপ করিয়ে রেখেছিলো । মেয়েটাও গুটিয়ে গেছিলো ভয়ে । আদ্র ওর মুখশ্রী টা মনে করার চেষ্টা করলো । অদ্ভুত ভাবে মনে পড়লো না । অথচ রোজ ভুল করে হলেও এক পলকের জন্য সেই মেয়েটাকে ভার্সিটির ক্লাসে দেখে সে । অনেক সময় দীর্ঘ পলকে লক্ষ্য করা হয়েছে । মেয়েটাকে বড্ড ইরেসপন্সিবল হিসেবেই জানে সে । নতুবা কেউ রোজ রোজ ঝাড়ি খাওয়ার পর ও ক্লাসে লেইট করে আসে নাকি ?
এখন আর মুখটা কিছুতেই মনে পড়লো না । শুধু চোখ সম্মুখে ভাসলো মেয়েটার শ্যামলা চেহারার আধো অস্পষ্ট, ঘোলাটে অবয়ব । নিমিষেই সেই অবয়ব বিলিন হতেও সময় লাগলো না । ফোন হাতে তুলে ফের শাফাহ্’র নাম্বারে ডায়াল করলো সে । রিসিভ হতেই নিজে থেকে ভারী গলায় বলল…..

” ঐ মেয়েটা , খোঁজ পেয়েছিস ? বাড়িতে পৌঁছেছে ?
উত্তর আসলো শাফাহ্’র থেকে…..
” ফোন করেছিলাম একটু আগে । ফোনে পাই নি । কেনো , কি হয়েছে ? তুমি ওকে ঠিকঠাক পৌঁছে দাও নি ? জিজ্ঞেস করছো কেনো ? কোথায় নামিয়েছিলে ওকে ?
” হুঁ , ওর নাম্বার টা আমায় টেক্সট কর , ফাস্ট ।
” কিন্তু কেনো ?
” করতে বলেছি কর । এক্ষুনি দে..
এটুকুনি বলেই ফোন কাটলো ।
আশপাশে নজর বুলিয়ে হাতের ফোনটা ঘোরাতে ঘোরাতে ফের ঢুকলো হসপিটালের ভেতরে । সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময়ই টুং টুং করে মেসেজ আসলো ফোনে ।
শাফাহ্ নাম্বার পাঠিয়েছে । উঠতে উঠতে দ্রুত সেই নাম্বারে ফোন লাগালো আদ্র । প্রথম দুবার রিসিভ হলো না । তৃতীয় বার রিসিভ হতেই ওপাশ থেকে ভেসে আসলো মৃদু চিকন মেয়েলি কন্ঠ….
” হ্যালো , আসসালামুয়ালাইকুম !!
বিপরীতে নিঃশব্দে উত্তর করে আদ্রের নিরেট স্বর সোজাসাপ্টা….

” কোথায় তুমি ?
শিশির মেয়েটা কপাল কুঁচকায় । ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকায় । একেই আননোন নাম্বার , তার উপর একটা ছেলের কন্ঠস্বর । আবার হুট করে তুমি সম্বোধনে অপ্রত্যাশিত প্রশ্ন । মেয়েটা ভারী কন্ঠে বললো…
” সরি , আপনি কে ?
” আমি জিজ্ঞেস করেছি কোথায় তুমি ? অ্যান্সার মি …
” আজব , আপনাকে কেনো বলবো ? হাউ ডেয়ার ইউ ? এভাবে আচমকা রং নাম্বারে ফোন করে তোরজোর দেখাচ্ছেন কাকে ?
আদ্র বিরক্ত হয় । রেগে বলে….
” ইউ ডাম্ব…
ফোন রাখো বেয়াদব ।
বলেই ফোন কাটে ।
আজ রৌদ্র কে ছাড়বে না হসপিটাল হতে । একেই রাত বেড়েছে অনেকটা , ইনজেকশনের তোপে রৌদ্র এখন ঘুমে কাত । রুবিনা কাবির সজাগ হতেই ছেলেকে দেখে থেমেছেন একটু । তেমন কিছু হয় নি তার ছেলের । আর সবচেয়ে বড় কথা , তার ছেলে তাকে ফেলে রেখে কোত্থাও যায় নি এবারের মতো । একটু চোট পেয়েছে তাতে কি ? তার ছেলে তো রয়ে গেছে তার নিকট ।
ছেলেকে একা রেখে হসপিটাল ছাড়বেন না তিনি । কেউ একজন থাকতে হবে এখানে । কাল‌ সকালে পুনরায় নরমাল চেকআপ করে তবেই রৌদ্র কে ছাড়া হবে । তিনিই থাকবেন । আদ্র জোর করেও তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজি করাতে পারলো না । ঘুমিয়েছে রৌদ্র । শাহিনা কাবিরের কাছে ছোট্ট ঘুমন্ত রামিশা কে রেখে হসপিটালে এসেছিলো সিরাত । বাচ্চার জন্য বাড়ির উদ্দেশ্যে আহিয়ানের সাথে বেরিয়েছে অনেক আগেই । তৌসিফ কাবির , তোফায়েল কাবির, শুভ্র আর আদ্র , এরাও বেরিয়ে পড়লো বাড়ির উদ্দেশ্যে । হসপিটালে আপাতত একজন হলেই চলবে । তবে রুবিনা কাবির কে একা ছাড়বে না আদ্র । বাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এই রাতেই আবার আসবে হসপিটালে ।
সেই মোতাবেক বাড়ি ফিরলো সকলে ।
বাড়ির পরিবেশ ভ্যাপসা গুমোট । নিস্তব্ধ পুরো বাড়ি । রাত গড়িয়েছে একটার দোরগোড়ায় । এতক্ষণে রৌদ্রের চিন্তায় চিন্তায় অস্থির ছিলেন সকলে । সিরাত ফিরে এসে আশ্বস্ত করার পর শান্ত হয়েছে সবাই । আদ্র নিজের ঘরে যাওয়ার আগে শাফাহ্ আর মেঘার দরজায় ধীরে নক করলো । এতক্ষণে ও দুটো ঘুমে কাঁদা হওয়ার কথা ।
তবে হিতে বিপরীত । দরজায় টোকা মারার সাথে সাথে খুললো দরজাটা । ধড়ফড়িয়ে বেরোলো শাফাহ্ । হকচকিয়ে যায় আদ্র । ভ্রু গুটিয়ে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলে….
” ঘুমোস নি এখনো ?
শাফাহ্ ঢোক গেলে । ভয়ে ভয়ে বলে….
” মেঘার সাংঘাতিক জ্বর এসেছে ভাইয়া ।
আর‌ শুনলো না কিছু । শাফাহ্ কে টপকে দ্রুত কদমে ঘরে ঢুকলো সে । ডাকলো ভড়কানো গলায়….
” মেঘ…

বিছানায় কম্বল মুড়ি দিয়ে একেবারে গুটিয়ে শুয়ে আছে মেয়েটা । হুশে আছে বলে মনে হয় না । এই ভ্যাপসা গরমের সাথে সাথে মেয়েটার জ্বরের তোপ , পুরো ঘরকে উষ্ণ করে তুলেছে । সারা শিয়রের কাছে বসে । ভেজা পট্টি দিয়ে তাপমাত্রা ছ্যাঁকার চেষ্টায় রত ।
আদ্র অপর পাশে বসে । আলগোছে মেয়েটার কপালে হাত ছোঁয়ার । জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে গা । ভড়কায় আদ্র….
” এতোটা জ্বর আসলো কখন ? টুকটুকি , আমায় বলিস নি কেনো আগে ?
” তুমি তো হসপিটালে ছিলে , তাই বলি নি । বললে আবার আলাদা করে টেনশন করতে ।
মিনমিনে স্বরের বিপরীতে ধমকায় আদ্র…
” তাই বলে বলবি না আমায় ? গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে । থার্মোমিটার কোথায় ? মেপেছিস জ্বর ?
শাফাহ্ গাল ফুলিয়ে জবাব দেয়…..
” সিরাত আপু হসপিটাল থেকে ফিরেই মেপেছে । ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা । মেডিসিন খাইয়ে রুমে গেছে আপু । জ্বর না কমলে আমরা কি করবো ? সেই তখন থেকে আমি আর সারা জ্বর পট্টি দিয়েই যাচ্ছি । আম্মু ও কতক্ষন বসে ছিলো এখানে । ভেজা টাওয়েল দিয়ে শরীর মুছিয়ে দেওয়া হয়েছে । তবুও জ্বর কমছে না ।
আদ্র কথা গুলো শুনলো….
ধীরে ডাকলো….

” মেঘ ???
” …….
” মেঘ…..
এবার উত্তর আসে ক্ষিণ আওয়াজে…..
” হুঁ ,
” কি হয়েছে আমার মেঘ বুড়ির ? হঠাৎ এতোটা জ্বর আসলো কি করে ? মাথা যন্ত্রণা করছে ?
মেয়েটার তরফ থেকে উত্তর নেই আর । কাঁপছে ঠান্ডায় । আদ্র ফের তাপমাত্রা মাপলো । তখনকার থেকে কমেছে দুই ডিগ্রি । ধীরে ধীরে কাঁপুনি কমছে । মিইয়ে আসছে শরীর । আদ্র কে ফ্রেশ হয়ে হসপিটালে ফিরতে হবে আবার । উঠে দাঁড়িয়ে শাফাহ্’র মুখোমুখি হয়ে বললো…
” রৌদ্রের এক্সিডেন্টের পর মেঘ কোথায় ছিলো ?
” ছাদে !
” তুই ?
” রুমে !
” ওর সাথে থাকতে বলেছিলাম তোকে !
” আমি কি করবো , ও বললো ও একা থাকতে চায় । আমি যেনো ডিস্টার্ব না করি ।
আদ্র তাকিয়ে থেকে বুক চিরে শ্বাস ফেললো ।
নরম কন্ঠে বললো…..
” এখন ওর কাছে থাক । জ্বর কমছে ধীরে ধীরে । আবার যদি বাড়ে , তাহলে আপু কে খবর দিবি । একা একা মাতব্বরি করবি না । আমায় আবার হসপিটালে ফিরতে হবে । দুটো বাজতে চললো । আমি আসি ?
শাফাহ্ ঘাড় কাত করে ।
বেরিয়ে যায় আদ্র ।

এক রাত্রি পেরোলো ।
হলো নব্য সকালের সূচনা ।
কাবির ম্যানসনে জনসংখ্যা বেড়েছে আত্মীয় স্বজন মিলে । কাল যে রেহানা শিকদার এসেছেন , পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ফিরতে পারেন নি আর । রৌদ্র কে দেখলেন সেই তোড়জোড়ের মধ্যে । রৌদ্র তাদের লক্ষ্য করেছে কিনা তা বেপাত্তা । এর মধ্যেই সেই ছেলের চলে যাওয়া , এক্সিডেন্ট ঘটা , বাড়ির সবার উপর এতো সব ধাক্কা , কান্নাকাটি, এসবেই কালকের দিনটা গত হয়েছে ।
আজ সকালটা ভিন্ন । রোজকার মতো ঘটছে না কোনো কিছুই । রৌদ্র কে নিয়ে ফেরার কথা এগারোটা হতে হতে । শাহিনা কাবির ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন কিচেনে । এতো এতো মানুষের রান্না , সকাল থেকে ব্রেকফাস্ট তৈরি , সার্ভ করা , সব দেখতে গেলে একা হাতেই করতে হচ্ছে রুবিনা কাবিরের অনুপস্থিতিতে । মেহের কে কোনো কিছুতে এ অবধি হাত লাগাতে দিচ্ছেন না তিনি । আনতারা বেগম আর রেহানা কাবির শেষে টুকটাক হাত লাগাতে গেলেন ।
ঘড়ির কাঁটা সাড়ে দশটার কোঠায় । কাল সারা রাত ঘুম হয় নি রিতিমত । জ্বরের ঘোরে বেহুঁশ অবস্থা ছিলো মেঘার । রাত্রি যাপন করেছে অবচেতন থেকেই । শান্তি মেলে নি । শেষ রাতের দিকে শরীরের উত্তাপ কমে এসেছে । তবেই না একটু স্বস্তি পেয়েছে শাফাহ্ আর সারা । নতুবা সেই শেষ রাত অবধি মেঘার শিয়রে জেগে ছিলো ও দুটো ।
ঘুম হয় নি সারারাত ‌। রাতের ঘুম টুকু পুষিয়ে নিচ্ছে বেলা জুড়ে । মেঘা উঠে পড়েছে সেই কবেই । শরীর, মাথা এখনো ভার । দুচোখ জ্বলছে । চোখ মুখ ফুলে গেছে এক রাতের জ্বরে ।
ঘুম ভাঙলেও ঘর ছাড়ে নি মেঘা । সেই থেকে ফ্রেশ হয়ে এক মনে , এক ধ্যানে , ভঙ্গুর হয়ে ঝিমিয়ে বসে ছিলো বারান্দায় । রোদের ঝলকানিতে গা ঝিমঝিম করছে । একেই শরীর উষ্ণ , তার উপর বেলা গড়ানো রোদের তীর্যক তাপে বারান্দায় টেকা গেলো না আর ।

ঘরে এসে আয়নায় নিজেকে দেখলো একবার । কি অবস্থা ওর ? চোখ মুখের হাল নাজেহাল ! শুধু কি জ্বরের দরুন ? জ্বর তো এসেছে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করার জন্য । নিজের উপর চরম বিব্রত হলো মেঘা । নিজেকে আলাদা করে বিষন্ন সময় দিতে গিয়ে অবাধ্য চোখ দুটো অশ্রু ঝরিয়েছে অনেক । কেনো , তার দিশা খুঁজে পায় না জেদি কোমল হৃদয় । রক্ত ঝরেছে একজনের শরীর হতে , তাকে না দেখেই অশ্রু ঝরেছে অন্য জনের আঁখি হতে । এই অশ্রু ঝরানোর মাশুল কি সেইজন দিলো ? নাকি জানলো ? সে কভু জানতেও পারবে না । তার চলে যাওয়ায় বিরহে দুটো নয়ন কতটা বিষাদের অশ্রু বিসর্জন দিয়েছে ।
সে নয়ন জোড়ার মালকিন কভু প্রকাশ ও করবে না তা । কেনো করবে ? সে নয়ন জোড়ায় তো শুধু ঘৃণা প্রকাশিত হয় উক্ত জনের জন্য । ঘৃণার বিপরীতে আকস্মিক দূর্বলতা প্রকাশ করা যে বেমানান ।
মেঘা ফুঁসলো নিজের এমন অবস্থা দেখে । শক্ত হাতে ডললো চোখ মুখ । কি অদ্ভুত, অবাধ্য হচ্ছে আজকাল ও ! আগে তো এমন ছিলো না । ঐ লোকটার উপর ঘৃণা জমাতে জমাতে ঘৃণার পাহাড় তৈরি হয়েছে হৃদকোঠরে । সেই কোঠরের কোন কোণে লুকিয়ে আছে দূর্বলতা ? মেঘা হোদিশ করবে তার । ঠেলবে সেই দূর্বলতা ।
সারা আর শাফাহ্ এখনো ঘুমে তলিয়ে । মেঘা ওদের এক পলক করে দেখে ঘর ছাড়লো । ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নামলো নিচে । ঝাঁজালো গন্ধ আসছে কিচেন হতে । ড্রইং রুম ফাঁকা । এসময় কেউ নেই । মেঘা ধীরে কিচেনের দিকে এগোলো । ডাকলো মৃদু স্বরে….

” মনি !! কিছু খেতে দেবে ? খিদে পেয়েছে ভীষণ !
শাহিনা কাবির ধক্ করে তাকান….
” মেঘা , উঠেছিস মা ? জ্বর কমেছে তোর ? দেখি দেখি ,,
গায়ে হাত ছোঁয়ালেন তড়িতে এগিয়ে । জ্বর নেই ।
” কাল‌ রাতে কি অবস্থা হয়েছিলো তোর ! আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম । যাক বাবা , সেরেছে অসুখ । আচমকা অমন গা ভরা জ্বর আসলো কি করে ?
কি খাবি এখন বল ? খিদে পেয়েছে খুব , তুই গিয়ে বস । আমি নিয়ে আসছি খাবার ।
মেঘা কথা বাড়ালো না । বসলো চেয়ার টেনে ।
শুভ্র সেই সকালে উঠেই বেরিয়ে গেছে হসপিটালে । মেহের নিচে নামলো ছটফট করে । হাতে ফোন । শুভ্র ফোন করেছিলো । এসে পড়েছে ওরা । মেহের উদ্বিগ্ন হয়ে নেমেই তড়তড়ে স্বরে বলল গলা খানিক উঁচু করে…..

” মা , রৌদ্র ভাইয়া কে নিয়ে এসে গেছে সবাই । কোথায় তুমি ?
শাহিনা কাবির মেঘার খাবার নিয়ে সাথ সাথ বেরোলেন । ততক্ষণে সদর মাড়িয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছে কাঙ্ক্ষিত সকলে । শুভ্র,আদ্র, রুবিনা কাবির আর সাথে তার ছন্নছাড়া ছেলে রৌদ্র ।
মেঘা ছলকে ওঠে । পায়ের শব্দে কম্পিত হয় একবিংশীর বক্ষস্থল । ঝট করে সদরের দিকে তাকায় ও । চারজনের মধ্য থেকে ক্ষুধার্ত নয়ন জোড়া ঠিক খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ সেই কাঙ্ক্ষিত জনকে ।
স্বভাব সুলভ মুখভঙ্গিমা শক্ত করে দাম্ভিক পায়ে বাড়িতে ঢুকলো রৌদ্র । মাথায় সেই কালকের ন্যায় মোটা ব্যান্ডেজ । হাতেও তাই । শাহিনা কাবির মেঘার সম্মুখে ব্রেকফাস্টের ট্রে রেখে এগিয়ে গেলেন ওদিকে । মেঘা সেই লোকটার পানে তাকিয়েই মূর্তির ন্যায় শক্তিহীন উঠে দাঁড়ালো ।
রুবিনা কাবির তড়িঘড়ি করে সোফা হতে কুশন সরিয়ে ছেলের বসার জায়গা করলেন…..

” রৌদ্র , বস এখানে !
রৌদ্রের নিরেট কন্ঠ…..
” রুমে যাবো !
মাথা তুললো না সে । চাইলো না কোনো দিকে । দম্ভভরে পা চালিয়ে সেভাবেই সিঁড়ির দিকে উঠলো । থামালো না ওকে কেউ ! সিঁড়ির শেষ প্রান্তে উঠতে গিয়ে রৌদ্রের পথের সামনে বাঁধা হয়ে কোথা থেকে ছুটে আসে একটা ছোট্ট পিচ্চি ছানা । মুখ বিকৃত করে সহসা থমকায় রৌদ্র । বাচ্চাটা ছোট্ট ছোট্ট থপথপে পায়ে ছুটে এসে রৌদ্রের সামনে থামে ওকে দেখেই ।

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৮

পেছন পেছন ছুটে আসে আরেক রমনী । সাবধানী হয়ে বাচ্চা কে থামাতে চায় । রৌদ্র চকিতে তাকায় সেই রমনীর পানে ‌। অমনি দপ করে মস্তিষ্কে আগুন জ্বলে ওঠে ওর । জেঁকে ওঠে পুরনো ক্ষুব্ধতা । চক্ষু দ্বয় রক্তিম হয় তাৎক্ষণিক । ফেঁপে ওঠে টাটানো শিরা উপশিরা । চোখ রাঙিয়ে বিভৎস করে সে । দন্ত পিষে হুংকার ছাড়ে গগন কাঁপিয়ে…
” ইউ রাস্কেল ! তোর সাহস কি করে হলো আমার বাড়িতে পা রাখার ?

আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here