Home রাগে অনুরাগে রাগে অনুরাগে পর্ব ৯

রাগে অনুরাগে পর্ব ৯

রাগে অনুরাগে পর্ব ৯
সুহাসিনি ফাতেহা

“আমি কি করবো তো?”
তিতলি ভ্রু বাঁকালো! বিদ্রুপ করে হেসে সাথে সাথেই বললো,
“আপনি কি করবেন বলেই তো রাতে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। ধরবেন তো! আমি কত্ত কিউট না! আপনি কখনো আমাকে শাস্তি দিতে পারবেন? উল্টো বলবেন আসো তিতলি আমার বুকে আসো—-”
বলে সপ্তাদশী লাজুক ভাবে তাকাল ৷ অথচ ফারাজ মেয়েটাকে ভালো ভাবে দেখছে না পর্যন্ত ৷ লোকটা কী কানে শুনে না ? নাহলে তার রোমান্টিক কথা শুনেও কিছু বলছে না কেন?
ফারাজ ভ্রু কুঁচকে তাকায় মুহূর্তেই! তৎক্ষণাৎ লম্বা কদম ফেলে দু সিঁড়ি উপরে উঠে এলো। ট্রাউজারের পকেটে দুহাত গুঁজে রেখেই মেয়েটার মুখোমুখি দাড়িয়ে শক্ত মেজাজে বলল,
“ টিচারদের সামনে এসব বা*জে কথা বলতে লজ্জা করে না? আর যদি দেখি আমার আশেপাশে এসব বলছো চড় দিয়ে দাঁত সবকয়টা ফেলে দিব! বেয়াদব মেয়ে!”

তর্জন-গর্জনে সপ্তাদশীর কিচ্ছু যায় এলো না। বরং তুলতুলে ভালো লাগায় ভরে গেল বুকটা । তুমি বলে ডেকেছে! তিতলির কাছে যেন স্বপ্নের মতো লাগছে। এভাবে যদি সবসময় তুমি করে ডাকতো! সবসময় বললে কি দাঁত ভেঙে যাবে। ভাল্লুক স্যার কোথাকার!
নিজের অযাচিত ভাবনা একপাশে রেখে তিতলি পাল্টা জবাব দিলো,
“আমি জানতাম আপনি অস্বীকার করবেন!
ভুল আমারই! কয়টা পিক তুলে রাখা উচিত ছিলো! ফেসবুকে ও আপলোড দিতে পারতাম—!”
বেয়াদব মেয়েটার কথা শুনে ফারাজ ফোঁস করে শ্বাস ছাড়লো। তিরতির মেজাজে তিতলির মুখের দিকে চেয়ে থাকে কিছুক্ষণ।
আচমকা ফারাজ তিতলির দু হাত চেপে ধরল। ভীষন শক্ত ভাবে ধরলো।
ব্যথায় তিতলি আর্তনাদ করে উঠলো,
– ”এ্যাহ! ছাড়ুন, ছাড়ুন ব্যথা পাই! লাগছে তো!”
”আর কখনো এসব বলবো না ছাড়ুন।”
ফারাজ শুনলো কিনা কে–জানে । সে তৎক্ষণাৎ হাতের বাঁধন আরো দৃঢ় করল।
কঠিন গলায় চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,

”আমাকে টেস্ট করতে এসেছিলেন? শাস্তি না নিয়েই যাবেন? জড়িয়ে ধরার অপবাদ যেহেতু দিয়েছেন? তাহলে প্রমাণ করে দেখাই? আপনি তো এটাই চান তাই না?”
তিতলি আশ্চর্য বনে গেল যেন। মুখায়বে অবিশ্বাস নিয়ে মেয়েটা বলল,
”আপনি কি পাগল হয়ে গেলেন?”
লোকটা তিতলির কথা উপেক্ষা করেই ধীরে ধীরে তিতলির দিকে ঝুঁকে আসতেই তিতলি ভয়ে কেঁপে উঠলো। সপ্তাদশীর হৃদয় কাঁপ*ছে! কেমন যেন সবকিছু অ*স্থির লাগছে।
ওদিকে নিজের হাত যেন ভেঙে যাচ্ছে এমন এক অবস্থা। এত শক্ত করে কেউ ধরে? উপায়ন্তর না পেয়ে তিতলি মাথা নিচু করে ফারাজের শক্তপোক্ত হাতে দাঁত বসিয়ে দেয়। তিতলি কতক্ষণ যে কা*মড়ে ধরে রাখল। অথচ ফারাজের কোনো হেলদোল নেই। এতে তিতলির রাগ হলো। হাত ছেড়ে দিয়েই বিরবির করে বলল,
”এই ব্যাটার কি গন্ডারের চামড়া। এত জোড়ে কা*মড় দিলাম তাও ছাড়ছে না।
তিতলি এখন কি করবে? ভাল্লুকের থাবায় বন্ধি সে?” উপায় না পেয়ে হঠাৎ তিতলি বলে উঠল,
”ওটা কে আসছে দেখেন তো?”

কথাটা মনে হয় কাজে লাগলো । ফারাজ তিতলি কে ছেড়ে দিলো সাথে সাথেই। তিতলি সুযোগ বুঝে দৌড়ে সিঁড়ির নিচে নেমে গেলো। নিজের শখের নুপুরের কথা ভুলেই গেলো মেয়েটা। নেমে পেছন ফিরে ফারাজের দিকে চেয়ে মুখ ভেঙচি কাটলো।
ফারাজ সেটা দেখে বিরবির করে বলল,
”ইডিয়ট!”
তিতলি নিচ থেকে বলল,
”কা*মড় টা কি বেশি জোড়ে দিয়েছি? মলম লাগিয়ে দিবো…..”
ফারাজ ফের তেড়ে আসতেই,
তৎক্ষণাৎ তিতলি দৌড়ে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর দেওয়ালে আড়াল হয়ে ফারাজকে উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখতে চাইলো।
অথচ উঁকি দিতেই দেখলো ফারাজ এখনো সেখানে দাড়িয়ে আছে। তিতলি তাকাতেই দুজনের চোখাচোখি হলো। তিতলি আবার সিড়ির নিচে এসে দাড়ালো। একটা কথা তার খুব বলতে ইচ্ছে করছে। না বলতে পারলে মনে হয় মরে যাবে। বলেই মরুক! কোনোমতেই আটকাতে পারলো না৷ হুট করে প্রশ্ন করে বসলো,

– ”আপনি কি প্রেম করেন স্যার ? ”
– ”আপনার ভাইকে ফোন করবো? ”
– ”না না৷ এইতো চলে যাচ্ছি! ভাইয়া কে ফোন করবেন না প্লিজ আর কখনো এমন কথা বলবো না। একদম বলবো না৷ এইযে কান ধরেছি! ”
—- এগুলো যদি তার ভাইকে বলে,তিতলি অনেক কষ্ট পাবে৷ ভাইয়া কী ভাববে তাকে? অভিমানে নাক ফুলিয়ে চলেছে৷ চোখের কোণ লাল হয়ে গেছে
তার ৷ কেঁদে দিবে দিবে ভাব৷ নাক ফুঁলিয়ে বলল,
–”আপনার কি আমার প্রতি একটুও মায়া নেই?’
আপনি আমাকে দেখতেই পারেন না তাই না?”
-”নাথিং”
সপ্তাদশীর হাউমাউ করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। যদি সত্যি প্রেম করে তাহলে তার কি হবে? যার জন্য রিনা খান হলাম, সে যদি অন্য মেয়ের হয়ে যায়? তাহলে কি আবার শাবানা হয়ে যাবো?

সকালে নাস্তার করার পাট চুকিয়ে তড়িগড়ি করে যাওয়ার জন্য তাড়া করলো তুষার। তিতলি ও ভাইয়ের পাশে দাড়িয়ে আছে। এরপর আর ফারাজের সামনে পড়েনি। মূলত সে দেখেই নি।
রুমানা বেগম এসে তিতলির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
”আর কখন যে আসবে। তুমি এসেছ দেখে আমি খুশি হয়েছিলাম তিতলি। ”
”আবার আসবো আন্টি। অয়ন ভাইয়ার বিয়ে হলে তখন আসবো। ”
”দূর পাগলি অয়নের বিয়ে হতে এখনো অনেক দেরি। এখনো অয়নের চাচাতো ভাই ফারাজ আছে ওর আগে অয়ন কে কিভাবে বিয়ে দিবো। ”
ফারাজের বিয়ে হয়ে যাবে শুনে তিতলির মুখখানা অন্ধকার হয়ে গেল। সে আর কিছুই বললো না।
ভাবছিলো ঝিলিকের সাথে দুইটা কথা বলবে তাও পারলো না। মুখ খুললেই তার অভিমানে কান্না আসতে চাই। তিতলি এখন কাঁদবে না।

তুষার সোফায় বসে থাকা ঝিলিকের দিকে চাইলো। মেয়েটা বসে বসে মোবাইল স্ক্রল করছে। তুষার বিরক্ত হলেন কেন যেন। এত কি দেখছে মোবাইলের মধ্যে? দৃষ্টি ফিরিয়ে রুমানা বেগমের উদ্দেশ্য বললেন,
”আন্টি তাহলে আসি। ভালো থাকবেন।”
ভদ্রমহিলা হেসে সম্মতি জানালেন।
অয়ন ওদের পিছু পিছু আসলো।
তিতলি কে বলল,
”তোমার পড়াশোনা কেমন চলছে তিতলি?”
মনমেজাজ ভালো না হলে তিতলির কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। পরক্ষনেই দেখলো ফারাজ বাড়ির গেইট দিয়ে ডুকছে। মুখখানা সে কি গম্ভীর তার। একটু হাসলে কি পাপ হয়ে যাবে? তিতলি অভিমানে মুখ ফুঁলিয়ে ফেলল। তাকাবে না একদম আর কখনো বিরক্ত করবে না। সে অয়ন কে হেসে বলল,
”পড়াশোনা ভালো চলছে। তোমাকে অনেক মিস করবো ভাইয়া। আমাদের বাড়ি আসবা কিন্তু!
অয়ন তাকালো মেয়েটার মুখের দিকে। কলেজে পড়লেও মেয়েটা বাচ্চা স্বভাবের। তাতে কি? অয়নের খুব ভালো লাগে।

ও হেসে বলল,
”অবশ্যই যাবো! ”——–অয়নের কথার মাঝেই হঠাৎ গম্ভীর কণ্ঠে ভেসে এলো,
”অয়ন এদিকে আয় তো? ”
”ফারাজ ভাই যে? কই গিয়েছিলেন? ”
”আমার বাইক টা একটু সুন্দর করে মুছে দে!”
অয়ন ফারাজ কে ভীষন সম্মান করে। কখনো কোনো কথা ফেলতে পারে না। তাই বলল,
”জ্বি ভাই!”
তিতলি মুখ ভেঙচি কাটলো। বিরবির করে আওড়ালো,
” নিজের হাত নেই মনে হয়। অন্যকে পরমাইশ দিতে লজ্জা করে না এখন? ভাল্লুক স্যার কোথাকার। ”

বিকেল তিনটা বাজে দশ মিনিট। কয়দিন পর থেকে তিতলির কলেজের পরিক্ষা হবে। তিতলি কখনো পড়াশোনায় টালবাহানা করে না। যতই যা করুক পড়াশোনা সবার উপরে। তৌসিফ শেখ,, তুষার কখনো তিতলিকে পড়াশোনার প্রতি ছাড় দেন না। এ জন্য তিতলিও পড়াশোনায় ভীষন মনেযোগী।

রাগে অনুরাগে পর্ব ৮ (২)

এখনই টিউটর এসে পড়বেন। তাই তিতলি আগে থেকেই পড়ার টেবিলে বসে বসে পড়া বাদ দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত ডাইরিতে হাবিজিবি কি যেন আঁকছে —- মানুষের মতো করে কিছু একটা আঁকলো— সাথে লিখলো–
এটা হচ্ছে ভাল্লুক ফারাজ স্যার– মনে মনে ভেবেই নিলো— কাল কলেজে সকাল সকাল গিয়ে এটা ক্লাসে টাঙিয়ে দিবে। তিতলি কে ধমক দেওয়া? সেও একদম ছাড়বে না। ”

রাগে অনুরাগে পর্ব ১০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here