Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৩

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৩

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৩
মহাসিন

শাপলা ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে দরজাটা খুলে দিল। বাইরে দাঁড়িয়ে আছে সিয়াম। হাতে খাবারের থালা।কোনো কথা না বলে সে সোজা ঘরে ঢুকে এলো। গুটি গুটি পায়ে হেঁটে গিয়ে বিছানার এক কোণে বসল। খাবারের থালাটা সযত্নে রাখল পাশে। শাপলা এখনও দরজার কাছে দাঁড়িয়ে।
সিয়াম শাপলার দিকে তাকিয়ে বলল,
“দরজাটা আটকে দিয়ে এদিকে আয়।”
শাপলা মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল,
“পারব না। আপনি এখান থেকে যান।”
সিয়াম হালকা হেসে বলল,
“দরজা না আটকালে নাই। কেউ যদি এখন আমাদের দেখে ফেলে, তাহলেও মন্দ হবে না।”
কথাটা শুনে শাপলা ঢোক গিলল। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। দরজাটা আটকে দিয়ে সিয়ামের দিকে এগিয়ে এলো।
সিয়াম বিছানায় একটু সরে বসে বলল,
“আমার পাশে বস।”

“না, বসব না,” শাপলা মাথা নেড়ে বলল।
“আর আপনি খাবার নিয়ে এসেছেন কেন?”
সিয়াম শান্ত গলায় বলল,
“আমার বউয়ের জন্য এনেছি।”
শাপলা মুখ ফিরিয়ে নিল।
“আমি খাব না। খাওয়ার হলে তখনই খেয়ে আসতাম।”
সিয়াম তার কথা শুনল না। আলতো করে শাপলার হাত ধরে টেনে নিজের পাশে বসাল।
তারপর নিজ হাতে ভাত মেখে শাপলার মুখের কাছে ধরল।
শাপলা মুখ ঘুরিয়ে নিল।
“বলাম তো খাব না।”
সিয়াম তবুও জোর করে মুখে দিয়ে দিলো। কিন্তু শাপলা খাবার না চিবিয়ে বসে আছে মুখ ফুলিয়ে।
সিয়াম একটু কঠিন হলো।
“কী হলো, খাবার চিবা। না খেলে একটা চ*র দেব কিন্তু।”
এর পর শাপলা খাবার খেতে লাগল।

সিয়াম আর কিছু বলল না। শুধু পরম যত্নে শাপলা কে খাবার খাওয়াতে লাগলো।
তার হাতের ছোঁয়ায়, চোখের চাহনিতে এমন এক দায়িত্ববান স্বামীর ছায়া ফুটে উঠল, যা শাপলার মনকে ছুঁয়ে গেল।
রাগ, অভিমান— সব যেন ধীরে ধীরে গলে যেতে লাগল।
খাওয়া শেষ হলে সিয়াম খালি থালাটা একপাশে সরিয়ে রাখল।
শাপলা সিয়ামের দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল,
“আপনার বোন কী বলেছে, মনে আছে তো?”
সিয়াম নির্ভার গলায় জবাব দিল,
“তোকে কেউ এই বাড়ি থেকে বের করতে পারবে না। যে যাই বলুক, কারো কথায় কান দিবি না।”
এরপর দুজনে গল্পে মেতে গেল। ছোট বড় কত কথা, হাসি ঠাট্টা।
কবিতা পানি খেতে বেরিয়েছে। শাপলার ঘরের পাশ দিয়ে যেতেই ভেতর থেকে মৃদু কথার আওয়াজ কানে এল।
কবিতা থমকে দাঁড়াল।
এত রাতে শাপলা কার সঙ্গে কথা বলছে?
কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে সে ধীরে ধীরে দরজার কাছে এগিয়ে গেল। কান পেতে শুনতে লাগল ভেতরের কথা।

ভেতর থেকে সিয়ামের গলা ভেসে এল,
“এত রাতে নিজ হাতে তোকে খাইয়ে দিলাম। এখন তোর উচিত আমাকে কিছু দেওয়া।”
শাপলা একটু বিরক্ত হয়ে বলল,
“আমি কি আপনাকে খাবার আনতে বলেছিলাম? আপনি নিজেই মাতব্বরি করে এনেছেন।”
একটু থেমে আবার বলল,
“আচ্ছা, ঠিক আছে। কী চাই আপনার, বলুন।”
সিয়াম সোজা শাপলার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমার সঙ্গে এখন রো*মা*ন্স করতে হবে।”
“পারব না,” শাপলা স্পষ্ট জবাব দিল।
“নিজের স্বামীর সঙ্গে রো*মা*ন্স করতে সমস্যা কোথায়?” সিয়াম হালকা হেসে বলল।
“আমি এখন আপনার সঙ্গে রো*মা*ন্স করতে আগ্রহী নই,” শাপলা দৃঢ় গলায় বলল।
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কবিতার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।
ওরা বিয়ে করে ফেলেছে!
এতদূর এগিয়ে গেছে— এটা সে কল্পনাও করেনি।

মনে মনে হিসেব কষল,
“ভালোই হয়েছে। এবার তোকে বাড়ি থেকে তাড়ানো আরও সহজ হবে। নিজের ক*ব*র নিজেই খুঁড়েছিস শাপলা। এবার দেখ এই কবিতা কী করে।”
হঠাৎ কবিতার হাত লেগে পাশে রাখা ফুলদানিটা মেঝেতে পড়ে গেল। ভারী শব্দ হলো। কবিতা ভয় পেয়ে দৌড়ে চলে গেল।ভেতরে শাপলা আর সিয়াম দুজনেই আঁতকে উঠল। শাপলা তড়িঘড়ি দরজা খুলে দেখল, মেঝেতে ফুলদানি ভেঙে পড়ে আছে।সিয়ামও বেরিয়ে এল।শাপলা ফিসফিস করে বলল,
“এখানে কেউ একজন ছিল।”
সিয়াম চারপাশে তাকিয়ে বলল,
“হয়তো বিড়াল হবে।”
“আপনি তাড়াতাড়ি যান,” শাপলা ফিসফিস করে বলল।
সিয়াম আর দাঁড়াল না। দ্রুত পায়ে চলে গেল নিজের ঘরের দিকে।
শাপলা দরজা আটকে দিয়ে বিছানায় এসে শুয়ে পরল।
বুকের ভেতর ধুকপুক করছে। বাইরে রাত গভীর, আর ভেতরে জমে উঠছে এক নতুন বিপদের ছায়া।
শাপলা বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে, কিন্তু দু’চোখের পাতা এক করতে পারছে না।
মনের ভেতর শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে
কে ছিল দরজার কাছে? কে শুনছিল তাদের কথা?
যদি কেউ সত্যিই শুনে ফেলে থাকে, যদি সবার সামনে বলে দেয় যে সে আর সিয়াম গোপনে বিয়ে করেছে…
তাহলে সবাই কী ভাববে?
লোভী, চরিত্রহীন— কত নামেই না ডাকবে তাকে।
এ বাড়িতে আর মুখ দেখানোর জায়গা থাকবে না।

“এবার কী হবে?”
শাপলার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
নীলাঞ্জনা, ভাবি সেও তো ভুল বুঝবে।
তাকে তো সে কিছুই বলিনি। হঠাৎ শুনলে কষ্ট পাবে, রাগ করবে।
চোখ বুজলেই মনে হয়, সবাই আঙুল তুলে বলছে,
“দেখো, মেয়েটা কেমন!”
রাত গভীর হচ্ছে। বাইরে নিস্তব্ধতা, শুধু দূরে কোথাও ঝিঁঝি পোকার ডাক।
কিন্তু শাপলার মাথার ভেতর হাজারো শব্দের ঝড়।
কে ছিল বাইরে?
সত্যিই কি একটা বিড়াল ছিল?
নাকি… কবিতা?
নাকি অন্য কেউ?
যদি কবিতা হয়, তাহলে তো সব শেষ।
সে মুখ খুললেই শাপলার মান সম্মান ধুলোয় মিশে যাবে।
চিন্তায় অস্থির হয়ে শাপলা বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল।
ধীরে ধীরে গিয়ে জানালা খুলে দিল।
বাইরে আজ চাঁদ নেই।
অমাবস্যার ঘন অন্ধকার।
তবুও শাপলা স্বস্তি পেল না।
জানালার পাশে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসে পড়ল।
চোখ দুটো আটকে রইল অন্ধকারের দিকে,
আর মন পড়ে রইল সেই এক প্রশ্নে—
“কে ছিল দরজার ওপাশে?”
এর পর ধীরে ধীরে শাপলা চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে পরলো ।

অন্ধকার ঘরটায় শুধু একটা পুরনো লাইট মিটমিট করে জ্বলছে। আলো আঁধারির খেলায় দেওয়ালগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে। কাঁপতে কাঁপতে, ফিসফিস করে। চেয়ারের সঙ্গে শক্ত করে বাঁ*ধা আছে বেলি। তার চুল এলোমেলো, র*ক্তা*ক্ত মুখ থেকে গাঢ় লাল ধারা গড়িয়ে পড়ছে চিবুক বেয়ে। চোখের পাতা ভারী হয়ে এসেছে, শ্বাস পড়ছে ক্ষীণ, অনিয়মিত। মাথাটা একপাশে কাত হয়ে ঝুলে পড়েছে, যেন শেষ শক্তিটুকুও নিঃশেষ হয়ে গেছে।
মুখোশ পরা লোকটা ঠিক তার সামনের চেয়ারে আরাম করে বসে আছে—এক পা অন্য পায়ের উপর তুলে। তার নিঃশ্বাস ভারী, গরম। প্রতিটা শ্বাস বেলির মুখের কাছে এসে আছড়ে পড়ছে। মেঝেতে ছড়িয়ে আছে বড় ছোট ধা*রা*লো ছু*রি, কয়েকটা খাওয়া সি*গা*রেটের কিছু অংশ পরে আছে । শুকিয়ে যাওয়া র*ক্তে*র দাগ মেঝেতে গেলে আছে। লোকটা এপর দৃষ্টে বেলির দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে কোনো দয়া নেই, শুধু নি*ষ্ঠুর ক্ষু*ধা।
মুখোশ পরা লোকটা বেলি কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“আমার তোদের মতো মেয়েদের খু*ব*লে খু*ব*লে খে*তে বড় ভালো লাগে। উফ্… তোকে খে*তেও খুব মজা হবে ।”

বেলির ঠোঁট কাঁপছে। কোনোমতে সে ফিসফিস করে বলল,
“এসব করে… কী লাভ পান? কেন… কেন মে*য়েদের সাথে এ*মন করেন? কেউ কি আপনার খারাপ করেছে?”
মুখোশের আড়াল থেকে একটা হাসি ভেসে এল—ঠান্ডা, খরখরে।
“না। কেউ আমার খারাপ করেনি। তবে কী বল তো… পৃথিবীর সব মানুষ তো এক না। সবাই আলাদা। আমিও… খুব আলাদা।”
বেলি কষ্ট করে মাথা তুলল। “কতগুলো মেয়ের সাথে… এমন করেছেন?”
“অনেক। হিসেবও রাখি না আর।” লোকটা হাসল। “এখন তো নে*শা হয়ে গেছে। চাইলেও থামতে পারি না। একটা মেয়েকে ভো*গ করেছিলাম… সেই মেয়েটার মতো আর কাউকে পাইনি।”
বেলির চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ল। “আমাকে ছে*ড়ে দিন… প্লিজ। আমার সাথে এমন জ*ঘন্য, নোং*রা কাজ করবেন না। মু*ক্তি দিন।”
লোকটা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। তার ছায়া পুরো ঘরটাকে গিলে ফেলল।
“তা বললে কী হয়? তোকে তো মুক্তিই দেব। খুব সুন্দর করে। আগে তোকে ভো*গ করি… তারপর তোর ইচ্ছেটা পূরণ করে দেব।” সে একটু থেমে জিজ্ঞেস করল, “তোর নাম কী?”

“বে… বেলি।”
“বেলি…” নামটা উচ্চারণ করে লোকটা চোখ বুজল, যেন গন্ধ শুঁকছে। “নামটা তোর সাথে খুব মানিয়েছে। তুই যেমন সুন্দর, নামটাও তেমন। শুনলেই নাকে বেলি ফুলের গন্ধ ভেসে আসে। বেলি ফুল তোর ভালো লাগে?”
“দুর্ভাগ্যবশত… আমার এলার্জি আছে।”
লোকটা হেসে উঠল। তারপর হঠাৎ বেলির বাঁধন খুলে দিল।
সঙ্গে সঙ্গে বেলি তার পায়ের কাছে আছড়ে পড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল, “দ*য়া করুন… আমার উপর দ*য়া করুন। এমন করবেন না। আমাকে ছে*ড়ে দিন… প্লিজ!”
উত্তরে সে পেল একটা জোরালো লা*থি। বেলি মেঝেতে ছি*টকে পড়ল, ছ*টফট করতে লাগল য*ন্ত্র*ণায়। মুখোশ পরা লোকটা তার উপর ঝাঁ*পিয়ে পড়ল। তারপর শুরু হলো নি*ষ্ঠুর, ভো*গ। বেলির চিৎ*কার চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে গিয়ে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। বাইরে রাতের প্রকৃতিও যেন থমকে গেল বেলির ক*রুণ আ*র্ত*নাদে।
অনেকক্ষণ পর, তার কা*ম*না মিটিয়ে লোকটা উঠে দাঁড়াল। মেঝে থেকে একটা বড় ধা*রা*লো ছু*রি তুলে নিল। বেলি এখনও জীবিত। কিন্তু শেষ শক্তিটুকু দিয়ে কাঁপছে। লোকটা হাঁটু গেড়ে বসে ছু*রির প্রথম আ*ঘা*তটা করল।

একটা… দুটো… তিনটে তীব্র চিৎকার।
তারপর চিরকালের জন্য নীরবতা।
ঘরের মাঝখানে শুধু র*ক্তে*র স্রোত আর ছিন্নভিন্ন দে*হা*বশেষ পড়ে রইল। মুখোশ পরা লোকটা পাগলের মতো জোরে জোরে হাসতে লাগল। তার হাসি ঘরের অন্ধকারকে আরও গভীর করে তুলল।
যেন এই নৃ”শং*সতাই তার একমাত্র সত্তা।
আর বেলির গল্প… এখানেই শেষ হলো।

ঘড়ির কাঁটা এখন সকাল নয়টার ঘরে।
শাপলা বিছানার এক কোণে চুপচাপ বসে আছে। চোখ দুটো ফাঁকা, মনটা ছুটে বেড়াচ্ছে গত রাতের প্রতিটা মুহূর্তে।
যদি সবাই জেনে যায়… তাহলে কী হবে?_
ভাবতেই বুকের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। এই বাড়িতে হয়তো আর এক মুহূর্তও ঠাঁই মিলবে না তার।
ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল শাপলা। পা টিপে টিপে বেরিয়ে এলো নিজের ঘর থেকে, সোজা চলে এলো সিয়ামের ঘরের দিকে। দরজাটা হালকা ফাঁক হয়ে আছে। ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখল এদিক ওদিক চোখ বুলালো। না, সিয়াম নেই।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ব্যালকনির দিকে পা বাড়াল সে।
সিয়াম সেখানেই বসে, ল্যাপটপের স্ক্রিনে ডুবে আছে। আলো এসে পড়েছে তার মুখে, তবুও চোখ দুটো কাজের মাঝেই আটকে।
শাপলা নিঃশব্দে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গিয়ে পাশে বসল। কিছুক্ষণ চুপ। শুধু কিবোর্ডের টুকটাক শব্দ ভাঙছে নীরবতা।
ল্যাপটপ থেকে চোখ না সরিয়েই সিয়াম বলল,
“কিছু বলবি নাকি?”
শাপলা একটু ইতস্তত করে বলল,
“আমার একটা কথা রাখবেন?”
“কী কথা?”

“আগে বলুন রাখবেন।”
সিয়াম এবার হালকা হাসল,
“আচ্ছা ঠিক আছে। বল, আমি তোর কথা রাখব।”
শাপলার চোখে ক্ষণিকের জন্য একফালি আলো খেলে গেল।
“আমাকে এখন কোথাও ঘুরতে নিয়ে যাবেন?”
“কোথায় যেতে চাস?”
“জানি না… আপনার ইচ্ছা। যেখানে নিয়ে যাবেন, সেখানেই যাব। শুধু একটু ঘুরতে নিয়ে গেলেই হবে।”
সিয়াম মাথা নেড়ে বলল,
“আচ্ছা ঠিক আছে। তুই গিয়ে তৈরি হয়ে নে।”
শাপলা আর কিছু বলল না। ধীর পায়ে ফিরে চলল নিজের ঘরের দিকে। যেতে যেতে মনে শুধু একটাই কথা আওড়াতে লাগল,
‘আমি জানি না এই বাড়িতে আর কতদিন থাকতে পারব। কিন্তু তার আগে, আমার ভালোবাসার মানুষটার সাথে কিছুটা সময় কাটাতে চাই… শুধু কিছুটা সময়।’

গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সিয়াম। ধীর পায়ে, সাবধানে এগিয়ে আসছে শাপলা। নীল রঙের গাউনটা তার গায়ে যেন ঢেউ খেলছে, কানে ঝুলছে বড় বড় দুল, হাতে কালো রঙের ছোট্ট একটা ব্যাগ। সারা অবয়বে একটা স্নিগ্ধ আভা।
সিয়ামের চোখ সরছে না। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে। মনে হচ্ছে সময় থমকে গেছে। ভেতরটা অস্থির হয়ে উঠছে ইচ্ছে করছে এই মুহূর্তেই শাপলার ঠোঁট ছুঁয়ে দিতে।
শাপলা কাছে এসে মুচকি হেসে সিয়ামের চোখের সামনে হাত নাড়াল।
“এই যে ভাইয়া, কোথায় হারিয়ে গেলেন?”
চমকে নিজের মধ্যে ফিরল সিয়াম। শাপলার চোখে চোখ রেখে আস্তে বলল,
“তোকে দেখে… খুব কি*স করতে ইচ্ছে করছে। একটা… শুধু একটা কি*স।”
শাপলা ভ্রু কুঁচকাল।
“না।”

“শুধু একটা কি*স করবো!”
“বলছি তো না।”
“প্লিজ না করিস না… শুধু একটা। তোকে দেখেই হকচকিয়ে গেছি। রো*মা*ন্স করতে ইচ্ছে করছে।”
শাপলা একটু হেসে মাথা নেড়ে বলল,
“এখন তো রো*মা*ন্সের সময় না।”
“তাহলে শুধু একটা কি*স? এতে তোর মন শরীর দুটোই চাঙ্গা হয়ে যাবে।”
“আমার চাঙ্গা হওয়ার দরকার নেই।”
সিয়াম হালকা হেসে ফিসফিস করে বলল,
“আমি তো তোর স্বামী। তাহলে সমস্যা কোথায়?”
শাপলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“আচ্ছা… ঠিক আছে। কিন্তু শুধু একটা কি*স। এর বেশি কিছু না। মনে থাকে যেন।”
সিয়াম আর দেরি করল না। আলতো করে শাপলার ঠোঁট দুটো দখল করে লিপি কি*স করতে লাগলো। কিন্তু মুহূর্তেই শাপলা তাকে সরিয়ে দিয়ে বড় বড় চোখ করে বলল,
“এই! আপনার সমস্যা কী হ্যাঁ? আমি কি*সের পারমিশন দিয়েছি, ঠোঁট দখল করে রাখতে বলিনি!”
সিয়াম ঠোঁট টিপে হেসে বলল,
“ধ্যাত! শান্তিতে একটু লিপ কি*সও করতে দিলি না।”
“সময় তো পড়ে আছে অনেক। কি*স করার সময়ের অভাব হবে না। এখন চলুন, গাড়িতে উঠুন তো।”

সিয়াম হেসে গাড়ির দরজা খুলে দিল। শাপলাও চুপচাপ উঠে বসল। ইঞ্জিন স্টার্ট দিতেই গাড়ি ছুটে চলল সামনের পথে। গাড়ির কাঁচ ভেদ করে নরম রোদ এসে পড়ছে শাপলার মুখে। সিয়াম একবার আড়চোখে তাকাল লজ্জায় গাল দুটো এখনো হালকা লাল হয়ে আছে মেয়েটার।
গাড়ি চলছে ধীরে, শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে একটু ফাঁকা রাস্তার দিকে।
নিরবতা ভাঙল সিয়ামই।
“রাগ করছিস?”
শাপলা জানালার বাইরে তাকিয়ে হালকা হাসল।
“রাগ করিনি। শুধু… আপনি সবসময় সুযোগ পেলেই এমন করেন।”
সিয়াম বাঁকা হাসি দিয়ে বলল,
“তোকে দেখলে আমার মাথায় আর কিছু থাকে না শাপলা। সব হিসেব গুলিয়ে যায়।”
কথাটা শুনে শাপলার কান দুটো আবার গরম হয়ে উঠল। সে মুখ ফিরিয়ে নিল, কিন্তু ঠোঁটের কোণে লুকানো হাসিটা ধরা পড়ে গেল সিয়ামের চোখে।
কিছুক্ষণ পর সিয়াম গাড়ির গতি একটু কমিয়ে বলল,
“আচ্ছা, বল তো কোথায় যাবি? আজ পুরো দিনটা তোর। আমি শুধু ড্রাইভার।”
শাপলা একটু ভেবে বলল,
“যেখানে গেলে মনটা হালকা লাগবে… সেখানে নিয়ে চলুন। বেশি মানুষ নেই, শুধু আমরা দুজন থাকব।”
সিয়াম মাথা নাড়ল। তার চোখে খেলে গেল একটা নরম আলো।
“তাহলে চল, শহরের বাইরে নদীর পাড়ে নিয়ে যাই। ওখানে এখন কেউ থাকে না। শুধু বাতাস আর পানি কথা বলবে আমাদের হয়ে।”

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩২

শাপলা কিছু বলল না, শুধু জানালার বাইরে তাকিয়ে একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
হয়তো সিয়ামদের বাড়িতে আর বেশিদিন থাকা হবে না… কিন্তু আজকের দিনটা শুধু ওর হোক।
গাড়ি এখন শহর ছেড়ে ফাঁকা রাস্তায় উঠে পড়েছে। দু’পাশে সবুজ মাঠ, মাথার উপর নীল আকাশ। সিয়াম একবার হাত বাড়িয়ে শাপলার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিল।
শাপলা চমকে তাকাল, কিন্তু হাত ছাড়াল না।
সিয়াম ফিসফিস করে বলল,
“ভয় পাস না। যতদিন আমি আছি, কেউ তোকে ছুঁতেও পারবে না।”
শাপলার চোখের কোণটা একটু চিকচিক করে উঠল। সে শুধু আস্তে বলল,
“শুধু আজকের মতো থাকুন আমার পাশে। বাকিটা আমি সামলে নেব।”
গাড়ি ছুটে চলল। সামনে অপেক্ষা করছে নদীর পাড়, নির্জনতা।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here