Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩২

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩২

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩২
মহাসিন

শাপলা ভ্রু কুঁচকে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে অবাক সুরে শুধালো,
“আপনি কে? আর এই বাড়িতে কেন এসেছেন?”
ছেলেটি হালকা হেসে বলল,
“এটা আমারই বাড়ি। আমি না এলে কে আসবে শুনি?”
শাপলা থমকে গেল। কী বলছে ছেলেটা?
সে আর দেরি না করে রান্নাঘরের দিকে ফিরে চেঁচিয়ে উঠল,
“ভাবি! একবার এদিকে আসেন তো। দেখেন কে যেন এসেছে!”
রান্নাঘর থেকে নীলাঞ্জনার ব্যস্ত কণ্ঠ ভেসে এল,
“তুমি তাকে ভেতরে এসে বসতে বলো। আমি এখুনি আসছি।”
শাপলা ইতস্তত করে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলল,
“আচ্ছা… আপনি ভেতরে আসুন।”
ছেলেটি মাথা নেড়ে হাতে ধরা লাগেজটা নিয়ে ঘরের ভেতরে পা রাখল। শাপলা পেছন থেকে দরজাটা সাবধানে বন্ধ করে দিল।

তারপর ধীর পায়ে এগিয়ে এসে বলল,
“আপনি এখানে বসুন।”
ছেলেটি কিছু না বলে সোফায় বসে পড়ল। চোখে মুখে দীর্ঘ পথের ক্লান্তি, তবু ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি লেগে আছে।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে সে শাপলার দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমাকে একটু পানি দেবে? গলাটা একেবারে শুকিয়ে গেছে।”
শাপলা কোনো কথা না বলে টেবিলের ওপর রাখা জগ থেকে এক গ্লাস পানি ঢেলে এগিয়ে দিল।
ছেলেটি গ্লাসটা হাতে নিয়ে ঢকঢক করে পুরোটা পানি শেষ করল। যেন কতদিনের তৃষ্ণা। পানিটুকু শেষ করে সে গ্লাসটা ফিরিয়ে দিল শাপলার হাতে।
শাপলা নিঃশব্দে গ্লাসটা নিয়ে টেবিলে রেখে দিল।
পুরো ঘরে এখন পিনপতন নীরবতা।
শুধু শাপলার বুকের ভেতর বেজে চলেছে একটাই প্রশ্ন
এই ছেলেটা কে?
রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো নীলাঞ্জনা।
ছেলেটিকে দেখামাত্র তার মুখে খেলে গেল এক চিলতে বিস্মিত হাসি।

“বিরাজ! তুমি?”
বিরাজ হেসে বলল,
“সারপ্রাইজ! না বলে চলে এলাম। কেমন আছেন ভাবি?”
নীলাঞ্জনা এগিয়ে এসে বলল,
“ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?”
“আমিও ভালো আছি,” বিরাজ মাথা নাড়ল।
“বাড়ির সবাই কোথায়?”
“সবাই অফিসে গেছে,” নীলাঞ্জনা বলল।
“বাড়িতে এখন শুধু আমি, আলো, শাপলা আর কবিতা।”
বিরাজ একটু কপাল কুঁচকে তাকাল।
“শাপলা? সে আবার কে?”
নীলাঞ্জনা পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শাপলার দিকে চোখের ইশারা করল।
“এই যে, এই হলো শাপলা।”
বিরাজ শাপলার দিকে একবার তাকিয়ে বলল,
“চিনলাম না তো।”
নীলাঞ্জনা হেসে বলল,
“শাপলা হলো মায়ের বোনের মেয়ে। তুমি চিনবে কীভাবে? তুমি তো বিদেশে বড় হয়েছো।”

“ও আচ্ছা,” বিরাজ ছোট্ট করে বলল।
নীলাঞ্জনা বলল,
“তুমি বরং উপরের গেস্টরুমে যাও। তোমার ঘরটা একটু পরিষ্কার করতে হবে।”
“আচ্ছা ঠিক আছে,” বলে বিরাজ নিজের লাগেজ টেনে নিয়ে ধীর পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে গেল।
বিরাজ চলে যেতেই শাপলা কৌতূহলী চোখে নীলাঞ্জনার দিকে তাকাল।
“ভাবি, এই ছেলেটা কে?”
নীলাঞ্জনা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“এ হলো আমার শ্বশুরের বোনের ছেলে। এতদিন বিদেশে ছিল, ওখানেই পড়াশোনা করেছে। বড় কোনো অনুষ্ঠান হলে তবেই আসে। শুনেছি, ওর বাবা ছোটবেলায় ওর মাকে রেখে কোথায় যেন চলে গেছে। আর ওর মা… মা আ*ত্ম*হ*ত্যা করেছিলেন। অনেক কাহিনি আছে, আমি এতটুকুই জানি।”
শাপলা মৃদু গলায় বলল,
“আচ্ছা, সিরাজ আর এই বিরাজ এদের নাম তো প্রায় একই রকম!”
নীলাঞ্জনা মাথা নাড়ল।
“হ্যাঁ, আমি যতটুকু জানি, ওরা নাকি একই দিনে জন্মেছিল। তাই বিরাজের মা নিজের ছেলের নাম আর ভাইয়ের ছেলের নাম মিলিয়ে রেখেছিলেন।”
একটু থেমে তার গলার স্বর নেমে এলো।
“শোনো শাপলা, সিরাজ কিন্তু জেল থেকে জামিন পেয়ে গেছে। ধরার দুদিন পরেই নাকি ওর বাবা জামিন করিয়ে নিয়েছে। তবে একটা কথা সিরাজ আর কোনোদিন এই বাড়িতে পা রাখতে পারবে না।”
কথাটা শুনে শাপলার বুকটা হালকা কেঁপে উঠল।
নীলাঞ্জনা তার হাত ধরে বলল,
“চলো, রান্নায় একটু সাহায্য করবে। একা হাতে সব সামলানো মুশকিল।”
এরপর দুজনে পাশাপাশি রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।

সময় গরিয়ে গেছে এখন রাত দশটা বাজে।
আহমেদ পরিবারের সবাই ডাইনিং টেবিলে একসাথে বসেছে নৈশভোজে। খাবারের গরম ধোঁয়ার সাথে মিশে গেছে ঘরের চেনা নিস্তব্ধতা।
সায়েক আহমেদ খেতে খেতেই ভ্রু কুঁচকে ভ্রাতুষ্পুত্র বিরাজের দিকে তাকালেন।
“আবার কি বিদেশে চলে যাবি নাকি?”
বিরাজ মাথা নেড়ে বলল,
“না মামা, আর যাবো না। ভাবছি এখন থেকে তোমাদের সাথেই থাকব। আর অফিস জয়েন করব।”
নীরব হালকা হেসে বলল, “হ্যাঁ, তাহলে তো ভালোই হবে।”
কবিতা বিরাজের দিকে তাকিয়ে শুধালো,
“তা ভাই, বিয়ে টিয়ে করবি না?”
প্রশ্নটা শুনেই বিরাজের গাল লাল হয়ে এল। সে আমতা আমতা করে বলল,
“এত তাড়াতাড়ি না।”
কবিতা এবার নীরব সিয়াম ও বিরাজ কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“তোদের তিনজনের মধ্যে থেকে কেউ একজন তো বিয়ে কর। কতদিন হয়ে গেল বিয়ে খাই না! তোরা যদি বিয়ে করিস, আমরাও একটু খেয়ে দেয়ে মজা করতে পারব।”
কথাটা শুনে সবাই হালকা হেসে আবার খাবারে মন দিল। মুহূর্তের জন্য ঘরটা হালকা হয়ে উঠল।
কিন্তু সে হাসি বেশিক্ষণ টিকল না।

হঠাৎ কবিতার চোখ গিয়ে পড়ল শাপলার ওপর। সে মৃদু টিপুনি কেটে মায়ের দিকে ফিরে বলল,
“মা, এবার শাপলার তো একটা ব্যবস্থা করার দরকার।”
মহুয়া ভ্রু তুলে বললেন, “তুই কি বলতে চাস, সরাসরি বল।”
কবিতা গলার স্বরটা একটু চড়িয়ে বলল,
“শাপলার মা বাবা তো সবাই ম*রে গেছে। এখন ও একা। ওর দায়িত্ব তো তোমরা সারাজীবন নিতে পারবে না। ওকে বরং ওর চাচার কাছে পাঠিয়ে দাও। শুধু শুধু অন্যের ঝামেলা ঘাড়ে রাখার তো দরকার নেই।”
কথাটা শেষ হতে না হতেই সিয়ামের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। চোখ দুটো বড় বড় করে সে বলল,
“এসব নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। শাপলা এই বাড়িতেই থাকবে।”
“তুই এত দরদ দেখাচ্ছিস কেন?” কবিতা পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল।
মহুয়া ধমকের সুরে বললেন, “উফ! তোরা এবার চুপ কর। আমার বোনঝি কোথায় থাকবে, না থাকবে এ নিয়ে তোদের চিন্তা করতে হবে না।”
আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না শাপলা।
সে নীলাঞ্জনার দিকে একবার তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল, “আমার খিদে নেই,”
বলে প্লেট ফেলে রেখেই দ্রুত চলে গেল।
সিয়াম পেছন থেকে কয়েকবার ডাকল,
“শাপলা! শাপলা!”
কিন্তু মেয়েটা একবারও পেছন ফিরে তাকাল না।
সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করে যে যার রুমে চলে গিয়েছে। শুধু নীলাঞ্জনা এখনো টেবিল গোছাচ্ছে। আলো আঁধারি রান্নাঘরে তার সরু আঙুলগুলো নিপুণভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আরিফ দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখে অধৈর্য আর আ*কা*ঙ্ক্ষা*র মিশ্রণ। নরম গলায় তাড়া দিল,
“উফ্, এসব পরে গুছিয়ে নিও। এখন চলো ঘরে।”
নীলাঞ্জনা মুখ না ঘুরিয়েই বলল, “আপনি এখানে দাঁড়িয়ে গ্যানগ্যান না করে রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ুন।”
কথা শেষ হতে না হতেই আরিফ এক পা এগিয়ে এল। আচমকা নীলাঞ্জনাকে কোলে তুলে নিল। তার শরীরটা যেন পালকের মতো হালকা লাগছে আরিফের বাহুতে।
নীলাঞ্জনা চমকে উঠে বলল,
“ধ্যাত! ভাল্লাগে না। নামান, বলছি!”
আরিফ তার কানের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“চুপ। একদম কোনো কথা না।”
এই বলে সে নীলাঞ্জনাকে কোলে নিয়েই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগল। নীলাঞ্জনা নিঃশব্দে তার উ*ত্তে*জি*ত মুখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। আরিফের উষ্ণ নিঃশ্বাস তার কপালে, চোখে, ঠোঁটের কাছে এসে পড়ছে। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তার বুকের ভিতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠছে। বেশ ভালো লাগছে তার।
ঘরের দরজায় পৌঁছে আরিফ এক হাত দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। তারপর ধীরে ধীরে বিছানার কাছে গিয়ে অত্যন্ত আলতো করে নীলাঞ্জনাকে শুইয়ে দিল।
নীলাঞ্জনার কানের খুব কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“আজ সারারাত শুধু আমরা দুজন… রো*মা*ন্স করব। তুমি প্রস্তুত তো?”
নীলাঞ্জনা লজ্জায় দু’হাতে মুখ ঢেকে ফেলল।
আরিফ হেসে তার হাত সরিয়ে দিয়ে বলল, “এত লজ্জা পাচ্ছ কেন? আজকে কিন্তু চেটে চেটে খেতে হবে। যদি না খাও, তাহলে আমিই চেটে চেটে খাবো।”
নীলাঞ্জনা ঢোঁক গিলে জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল,
“কী চেটে চেটে খেতে হবে?”

আরিফ তার কানের লতিতে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলল, “আমার ঠোঁট।”
নীলাঞ্জনা লজ্জায় আরও গাঢ় হয়ে উঠলো। কাঁপা গলায় বলল, “আর যদি না খাই?”
আরিফ নীলাঞ্জনার গালে আলতো করে আঙুল বুলিয়ে দিয়ে বলল, “তাহলে আমি তোমার তা খাব। চেটে চেটে।”
নীলাঞ্জনা চোখ বড় বড় করে বলল, “আমার কী খাবেন?”
আরিফ তার চোখে চোখ রেখে গভীর গলায় বলল, “কী মনে হয় তোমার? আমি তোমার কী চেটে চেটে খেতে পারি?”
নীলাঞ্জনা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। তার গলা কাঁপছে, “জানি না…”
আরিফ হেসে বলল, “এখনো বুঝতে পারছ না? যে আমি তোমার কী খেতে চাই।”
নীলাঞ্জনা মাথা নেড়ে না বলতেই আরিফ বলল, “চেটে চেটে খেয়ে দেখিয়ে দেব?”
“ধ্যাত! কী সব বলছেন!” নীলাঞ্জনা লজ্জায় মুখ ফিরিয়ে নিল, “আমার খুব লজ্জা লাগছে।”
আরিফ তার চিবুক ধরে মুখটা নিজের দিকে ফেরাল, “এমন অভিনয় করছ যেন এর আগে আমার কিছুই করিনি নাকি।”
এই বলে সে নীলাঞ্জনার গলায় চু*মু খেতে যাচ্ছিল, কিন্তু নীলাঞ্জনা তাকে আলতো করে সরিয়ে দিয়ে বিছানা থেকে উঠে গেল। জানালার কাছে গিয়ে জানালা খুলে দিল।
বাইরে অমাবস্যার গাঢ় অন্ধকার। চাঁদ নেই। শুধু কালো আকাশ আর দূরের তারার মৃদু আলো। নীলাঞ্জনার শ্বাস ঘন হয়ে আসছে। তার ঠোঁট কাঁপছে, গাল দুটো লাল কাঠগোলাপের মতো হয়ে উঠেছে।

আরিফ গুটিগুটি পায়ে তার পিছনে এসে দাঁড়াল। পিছন থেকে দু’হাত দিয়ে তার কোমর জ*ড়িয়ে ধরল।
নীলাঞ্জনা শিউরে উঠল। এক অজানা, মধুর শিহরণ তার শরীরের প্রতিটি কো*ষে খেলে গেল।
আরিফ নীলাঞ্জনার খোলা পিঠে গভীর আবেগে চু*মু খে*তে লাগল। নীলাঞ্জনা নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরল, চোখ বন্ধ করল।
আরিফ ধীরে ধীরে নীলাঞ্জনার ঘাড়ে উষ্ণ অধর ছোঁ*য়াল। প্রতিটি স্প*র্শে যেন জমে থাকা ক্লান্তি সব গলে যেতে লাগল।
নীলাঞ্জনা চোখ বুজে রইল। বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে যাচ্ছে, শ্বাস পড়ছে ঘন ঘন।
আরিফ নিঃশব্দে নীলাঞ্জনার উন্মু*ক্ত না*ভিতে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়াল।
নীলাঞ্জনা কেঁপে উঠল। ঠোঁট কামড়ে ধরে রাখল বেরিয়ে আসতে চাওয়া দীর্ঘশ্বাস।
ঘরের বাতাস ভারী হয়ে এলো। শুধু দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দ ভেসে বেড়াচ্ছে চারদিকে।
আরিফ ধীরে ধীরে নীলাঞ্জনাকে কোলে তুলে নিল। যেন এক টুকরো চাঁদকে নিজের বুকের কাছে আগলে নিচ্ছে।
বিছানার উপর তাকে শুইয়ে দিয়ে নিজেও ঝুঁকে পড়ল।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩১

তারপর নীলাঞ্জনার কপালে, চোখে, গালে একে একে ছড়িয়ে দিল কোমল চুম্বনের পরশ।
শেষে ঠোঁটে ঠোঁট রেখে যেন হারিয়ে গেল দুজনেই।
নীলাঞ্জনা দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল আরিফকে।
সেই আলিঙ্গনে ছিল দিনের ক্লান্তির শেষ, রাতের শুরু, আর দুটি মনের নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি—
“তুমি ছাড়া আর কিছু চাই না।”
বাইরে অমাবস্যার কালো রাত।
আর ঘরের ভেতর, শুধু দুটি হৃদয়ের গভীর গোপন গল্প।
শাপলা শুয়ে আছে ‌। কবিতার কথা গুলো তার মাথায় গুর পাক খাচ্ছে। সে মোটেও ঘুমতে পারছে না।
এমন সময় দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ এলো।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here