Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৪

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৪

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৪
মহাসিন

নদীর বুকে সোনালি আলোর ঝিলিক। মৃদু ঠেউগুলো নরম সুরে তীরে আছড়ে পড়ছে, যেন প্রকৃতি নিজেই একটি লোরি গেয়ে যাচ্ছে। নদীর জলে ছোট ছোট হাঁসের দল সারিবদ্ধভাবে সাঁতরে বেড়াচ্ছে। তাদের সাদা পালকগুলো সূর্যের আলোয় মুক্তোর মতো ঝকঝক করছে। মাঝে মাঝে একটা দুটো হাঁস ডানা ঝাপটিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছে পানির ফোঁটা, যা বাতাসে রামধনুর রং ছড়িয়ে দিচ্ছে।
সিয়াম গাড়িটা একপাশে থামিয়ে দিল। দরজা খুলতেই মৃদু, শীতল বাতাস এসে তাদের গায়ে লাগল। বাতাসে নদীর সোঁদা গন্ধ মিশে আছে, যা মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরে দিল। দুজনে গাড়ি থেকে নেমে ধীরে ধীরে নদীর তীরে অবস্থিত কাঠের বেঞ্চের দিকে এগিয়ে এলো।
শাপলা বেঞ্চে বসে পা দুটো নদীর দিকে ঝুলিয়ে দিল। সিয়াম নিঃশব্দে তার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল। শাপলা কিছু বলল না। তার আঙুলগুলো সিয়ামের চুলের মধ্যে ধীরে ধীরে বুলিয়ে যেতে লাগল। সিয়াম একদৃষ্টিতে শাপলার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে যেন সমস্ত পৃথিবী ভরে গিয়েছে। শুধু শাপলাকে দেখার, তার প্রতিটি রেখা মনে গেঁথে নেওয়ার অপার্থিব তৃষ্ণা।

কিছুক্ষণ নীরবতার পর শাপলা নরম গলায় বলল,
“আমি যদি আপনার জীবন থেকে চলে যাই, তাহলে কী করবেন?”
সিয়াম তার চোখ থেকে চোখ না সরিয়ে উত্তর দিল,
“তোকে আমার জীবন থেকে চলে যেতেই দেব না।”
শাপলা হালকা হেসে বলল, “কথার কথা… যদি চলে যাই?”
“তাহলে তোকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ব। তোর কাছে চলে যাব।”
“আর যদি খুঁজেও না পান?”
সিয়াম একটু চুপ করে থেকে গম্ভীর গলায় বলল,
“তাহলে তোর জন্য সারাজীবন অপেক্ষা করে যাব।”
একটু থেমে সিয়াম আবার জিজ্ঞাসা করল, “আচ্ছা শাপলা, তোর কোনো পছন্দের জায়গা আছে?”
শাপলা দূরের নদীর দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল,
“আমার তেমন কোনো বিশেষ জায়গা নেই। তবে আমার বাড়ির কাছে এক চাচির বাড়ি আছে। তাদের বাড়ির পেছনে একটা বিশাল কাঠগোলাপের গাছ। যখনই মন খারাপ হতো, আমি চুপচাপ সেই গাছের নিচে গিয়ে বসে থাকতাম। পাতার ফাঁক দিয়ে আসা আলো-ছায়ার খেলা, হাওয়ায় দোল খাওয়া ডালপালা… সেখানে বসলেই মনটা কেমন শান্ত হয়ে যেত। ওই জায়গাটাই আমার সবচেয়ে প্রিয়।”
বাতাসে হাঁসের ডাক আর নদীর কলতান মিলেমিশে যেন তাদের এই ছোট্ট মুহূর্তটাকে আরও মধুর করে তুলছে।

গুটি গুটি পায়ে হেঁটে কবিতা এসে দাঁড়াল শাপলার ঘরের সামনে। একবার ইতস্তত করে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিল ভেতরে শাপলা আছে কি না।
কিন্তু ঘরটা নিস্তব্ধ। বিছানা এলোমেলো, জানালার পর্দা হালকা দুলছে বাতাসে। শাপলার দেখা নেই।
কবিতা ধীরে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। ঘরের এদিক ওদিক চোখ বুলালো, প্রতিটি কোণ খুঁটিয়ে দেখল। না, কোথাও নেই শাপলা।
মনে মনে বিড়বিড় করল সে,
‘কী হলো মেয়েটার? সকাল থেকে একবারও চোখে পড়ল না। এখন আবার কোথায় গেল?’
নিরাশ হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে সোজা চলে এলো ড্রয়িংরুমে।
রান্নাঘরের দিকে মুখ ঘুরিয়ে গলা চড়িয়ে ডাকল,
“ভাবি! ও ভাবি! আমার জন্য এক কাপ কফি বানিয়ে আনেন তো।”
ভেতর থেকে নীলাঞ্জনার গলা ভেসে এলো,
“একটু অপেক্ষা করো, আমি এখুনি নিয়ে আসছি।”
মিনিট পাঁচেক পর নীলাঞ্জনা হাতে কফির মগ নিয়ে ড্রয়িংরুমে এলো। মগটা কবিতার হাতে দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধপ করে সোফায় বসে পড়ল।
ক্লান্ত গলায় বলল,
“উফ্… এই সংসারের কাজ করতে করতে জীবনটাই বোধহয় শে*ষ হয়ে যাবে।”

কবিতা ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কেন, শাপলা তো পারে আপনাকে সাহায্য করতে। তা না করে সারাদিন ঘরে গুরগুর করে। আজকেও তো দেখলাম না। শাপলা কোথায়?”
“হ্যাঁ, আজ তো সত্যিই দেখিনি। হয়তো নিজের ঘরেই আছে।”
কবিতা মাথা নেড়ে বলল,
“না, ঘরে নেই। আমি ওর ঘরে গিয়েছিলাম। কিন্তু শাপলা সেখানে নেই।”
নীলাঞ্জনার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল।
“তাহলে মেয়েটা গেল কোথায়?”
“সিয়াম কোথায়? অফিসে গেছে নাকি?”
“অফিসে গেলে তো বলে যেত। কিন্তু আজ তো ওকে এখনো দেখিনি। কে জানে কোথায় গেছে,” নীলাঞ্জনা অন্যমনস্ক গলায় বলল।
কবিতার চোখ চিকচিক করে উঠল।
“এমন না তো ওরা দুজনে একসঙ্গে কোথাও গেছে?”
নীলাঞ্জনা হালকা হেসে বলল,
“গেলে তো আমাকে বলে যেত। শাপলা তো প্রায় সবকিছুই আমাকে বলে।”
কবিতা একটু ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বলল,
“আপনি শিওর শাপলা আপনাকে সব বলে?”

নীলাঞ্জনা একটু অবাক হয়ে তাকাল।
“মানে?”
কবিতা ধীরে বলল,
“শাপলা আর সিয়াম যে বিয়ে করেছে, তা কি আপনাকে বলেছে?”
কথাটা শুনেই নীলাঞ্জনা চমকে উঠল।
“তোমার মাথা ঠিক আছে তো? শাপলা আর সিয়াম বিয়ে করেছে তুমি কীভাবে জানলে?”
কবিতা দৃঢ় গলায় বলল,
“আমার মাথা ঠিকই আছে। শাপলা আর সিয়াম বিয়ে করেছে। কেন, শাপলা আপনাকে বলেনি?”
নীলাঞ্জনা গম্ভীর হয়ে বলল,
“শাপলা আর সিয়াম যে বিয়ে করেছে, তার কী প্রমাণ আছে তোমার কাছে?”
কবিতা একটু থেমে বলল,
“আমার কাছে এখন প্রমাণ নেই। তবে আমি কাল রাতে নিজের কানে শাপলা আর সিয়ামকে কথা বলতে শুনেছি।”
নীলাঞ্জনা মাথা নেড়ে বলল,
“আমি কখনো বিশ্বাস করব না।”
কবিতার ঠোঁটে বাঁকা হাসি খেলে গেল।
“ঠিক আছে। আমি যদি প্রমাণ করে দিতে পারি?”
“হ্যাঁ, যদি প্রমাণ দাও, তাহলে বিশ্বাস করব,” নীলাঞ্জনা গম্ভীর গলায় বলল।
কবিতা সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। চোখে এক অদ্ভুত দীপ্তি।
“ঠিক আছে। আমি এখনই প্রমাণ আনতে যাব। তারপর দেখবে, ওই শাপলার কী অবস্থা করি।”
নীলাঞ্জনা উদ্বিগ্ন গলায় বলল,
“এমন কিছু কোরো না যাতে তোমার জন্য এই বাড়ির দরজা চিরকালের মতো বন্ধ হয়ে যায়।”

কবিতা পাত্তা না দিয়ে বলল,
“দেখা যাবে, কার জন্য এই বাড়ির দরজা চিরকালের বন্ধ হয়।”
এই বলেই সে সদর দরজা খুলে প্রমাণ খোঁজার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল।
নীলাঞ্জনা ধীরে ধীরে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল। বুকের ভেতরটা কেমন ছটফট করছে।
শাপলা কি সত্যিই সিয়ামকে বিয়ে করেছে? তাহলে তো কিছু তো আমাকে বলত।
নীলাঞ্জনা সিয়ামের ফোনে কল দিলো, কিন্তু রিং হচ্ছে, ধরছে না। অনেকবার কল দিলো, কিন্তু রিসিভ করছে না। নীলাঞ্জনা বিরক্ত হয়ে আবার রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।

নদীর পাড়টা এখন দুপুরের নরম আলোয় ভিজে আছে। বাতাসে হালকা পানির গন্ধ, দূরে কোথাও পাখির ডাক। সিয়াম নীরবে বেঞ্চের এক কোণে বসে আছে। চোখ দুটো নদীর দিকে নয় আটকে আছে শাপলার মুখে।
শাপলা নদীর তীরে বসে দু’হাতে পানি তুলে ছলাৎ ছলাৎ করে ছিটিয়ে খেলছে। ভেজা চুলগুলো কপালে লেপ্টে আছে, ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমি ভরা হাসি। সেই হাসিটা দেখেই সিয়ামের বুকের ভেতরটা কেমন নরম হয়ে আসে।
হঠাৎ শাপলা ঘুরে তাকাল। চোখে চোখ পড়তেই মিষ্টি করে ডাকল,
“ভাইয়া, এদিকে আসেন না!”
সিয়াম একটু হাসল। বেঞ্চ ছেড়ে ধীর পায়ে উঠে এগিয়ে এলো। শাপলার পাশে বসতেই শাপলা দুষ্টুমি করে এক আঁজলা পানি ছিটিয়ে দিল তার মুখে।
সিয়াম চমকে উঠে বলল,
“এটা কী করলি তুই!”
কথাটা শেষ হতেই তার চোখেও খেলে গেল দুষ্টুমির ঝিলিক। পাল্টা আঁজলা ভরে পানি তুলে শাপলার গায়ে ছিটিয়ে দিল।
ব্যস, শুরু হয়ে গেল খেলা।
শাপলা হেসে পালাতে চায়, সিয়াম ধরে ফেলে আবার পানি ছিটিয়ে দেয়। কখনো শাপলা হাত ভিজিয়ে সিয়ামের গাল ছুঁয়ে দেয়, কখনো সিয়াম শাপলার ওড়না টেনে ঠাট্টা করে। নদীর পাড়ের নীরবতা ভেঙে খিলখিল হাসিতে ভরে ওঠে চারপাশ।

দুজনের গা ভিজে চুপচুপে, চুল থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে, তবুও থামার নাম নেই। মনে হচ্ছে সারা পৃথিবী থেমে গেছে, শুধু তাদের হাসি আর নদীর ঢেউ বয়ে চলেছে একসাথে।
এই মুহূর্তে কোনো দুশ্চিন্তা নেই, কোনো ভয় নেই। আছে শুধু দুটো মন, দুটো চোখ, আর একটা নির্ভার আনন্দ— যেখানে শাপলা শুধু শাপলা, আর সিয়াম শুধু সিয়াম।
বাতাস এসে তাদের ভেজা চুল উড়িয়ে দিচ্ছে, আর দূরের নদী যেন ফিসফিস করে বলছে— এমন সময়গুলোই তো ভালোবাসা হয়ে থাকে সারাজীবনের স্মৃতি।
নদীর পাড়ের ভেজা স্মৃতি পায়ে মেখে দুজনে ফিরে এলো গাড়ির কাছে। দুজনের শরীর থেকে এখনও টপটপ করে পানি ঝরছে, চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে লেপ্টে আছে। ভেজা পোশাক শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে একাকার হয়ে গেছে।
শাপলা গাড়ির দরজায় হাত রেখে মুখ বাঁকিয়ে বলল,
“ধ্যাত! আপনার জন্য পুরোপুরি ভিজে গেছি।”
সিয়াম হেসে কাঁধ ঝাঁকাল।
“সব তোর জন্যই হয়েছে। তুই তো আগে আমার গায়ে পানি দিলি।”
শাপলা চোখ টিপে বলল,
“আমার ইচ্ছা, আমি আমার স্বামীর গায়ে পানি দেব। তাতে আপনার কী?”
সিয়াম হালকা হেসে বলল,
“ও! এখন তাহলে স্ত্রীর অধিকার দেখানো হচ্ছে? তাহলে দেখ, আমি কেমন করে স্বামীর অধিকার দেখাই।”

কথা শেষ করেই সে গাড়ির দরজা খুলে দিল। শাপলা কিছু বোঝার আগেই আলতো ধাক্কায় তাকে গাড়ির সিটে শুয়ে দিলো। ভেজা শরীরের শীতল ছোঁয়া আর সিয়ামের গরম নিশ্বাস মিলে শাপলার বুকের ধুকপুকানি বেড়ে গেল।
সিয়াম নিজের ভেজা শার্টটা ধীরে খু**লে ফেলল। পানিতে ভেজা বুকের রেখা বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। তারপর দরজা ভেজিয়ে দিয়ে শাপলার দিকে ঝুঁ*কে পড়ল।
কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল,
“তোর এই ভেজা শ*রীর দে*খে পুরো পা*গল হয়ে গেছি শাপলা। এবার আমাকে একটু শা*ন্ত কর।”
শাপলার হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়ে গেল। গাল দুটো লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল। সে কিছু বলতে চাইল, কিন্তু গলা দিয়ে শব্দ বের হলো না।
সিয়াম একটু হেসে বলল,
“কী হলো? চুপ করে আছিস কেন? তোর স্বামীকে এবার একটু শা*ন্ত কর।”
শাপলা লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিল। সেই সুযোগে সিয়াম বাঁকা হেসে বলল,
“ঠিক আছে, তুই না পারলে আমি নিজেই তোকে আ*দ*রে ভি*জিয়ে শা*ন্ত করি।”
বলেই সে শাপলার ঠোঁ*ট ছুঁ*য়ে নিল। নরম, উষ্ণ সেই স্প*র্শে শাপলার শরীর কেঁপে উঠল। সব লজ্জা গলে গেল মুহূর্তে। সে দু’হাতে সিয়ামকে জ*ড়ি*য়ে ধরল।
সিয়ামের গায়ের পুরুষালী গন্ধ, ভেজা শরীরের উষ্ণতা সব মিলে শাপলাকে এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে নিয়ে গেল। উ*ত্তে*জ*নায় সে সিয়ামের পিঠে আলতো আঁ*চড় কাট*ল।
কিন্তু পরমুহূর্তেই শাপলা নিজেকে সামলে নিয়ে ধীরে ধাক্কা দিয়ে সিয়াম কে সরিয়ে দিল। চোখে মুখে লজ্জা আর একরাশ অস্থিরতা।

সিয়াম একটু দম নিয়ে বলল,
“কী হলো? এমন করলি কেন?”
শাপলা মাথা নিচু করে বলল,
“এসবের জন্য আমি এখনো তৈরি না।”
সিয়াম ঠোঁট টিপে হাসল।
“তাহলে আমাকে এভাবে পাগল করলি কেন?”
শাপলা চোখ তুলে তাকাল। ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমির হাসি।
“আমার স্বামীকে, আমি পাগল করেছি। তাতে কার কী?”
নদীর পাড়ের বাতাস এখনও ভিজে আছে ওদের স্পর্শের স্মৃতিতে। গাড়ির ভেতরটা নিস্তব্ধ, শুধু দুটো হৃদয়ের ধুকপুকানি ।

রাত এখন এগারোটা। চারদিক নিস্তব্ধ, শুধু দেয়াল ঘড়ির টিকটিক শব্দ ভেসে আসছে।
গুটি গুটি পায়ে কবিতা এসে দাঁড়াল নীলাঞ্জনার ঘরের সামনে। একটু থেমে ধীরে দরজায় টোকা দিল।
কিছুক্ষণ পর দরজা খুলল নীলাঞ্জনা। চোখে মুখে ঘুমের ঘোর, চুলগুলো এলোমেলো। ঠোঁট দুটো ফ্যাকাশে হয়ে আছে।
“এত রাতে দরজায় টোকা দিচ্ছ কেন? অনেক রাত হয়েছে, গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে, একটু ঘুমাব।”
কবিতা রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল,
“এখন আর ঘুমাতে হবে না। আমি এমন কিছু দেখাব, যা দেখলে তোমার ঘুম হারাম হয়ে যাবে।”
এই বলেই সে নীলাঞ্জনার হাত ধরে টানতে টানতে নিজের ঘরে নিয়ে এলো।
নীলাঞ্জনা বিরক্ত হয়ে বলল,
“উফ্! এমন করছ কেন? আমি ঘুমাব।”
কবিতা কোনো কথা না শুনে এক ছিটা পানি ছুড়ে দিল নীলাঞ্জনার চোখে মুখে। ঘুমের ঘোর কেটে গেল নিমেষে।
চোখ রগড়ে তাকাতেই নীলাঞ্জনার চোখ আটকে গেল সামনের দৃশ্যে ঘরের এক কোণে তার শাশুড়ি মহুয়াও বসে আছেন।
বিস্ময়ে বলে উঠল সে,
“মা! তুমি এত রাতে এখানে কেন? আর তোমার মেয়ে কী শুরু করেছে! একটু শান্তিতে ঘুমাব, তাও ঘুমাতে দিচ্ছে না।”
মহুয়া ভ্রু কুঁচকে কবিতার দিকে তাকালেন। গম্ভীর গলায় বললেন,
“এই কবিতা, তোর সমস্যা কী হ্যাঁ? এত রাতে আমাকে আর নীলাঞ্জনাকে এখানে ডেকে আনলি কেন?”

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৩

কবিতা অধৈর্য হয়ে হাত নেড়ে বলল,
“ধ্যাত! আমাকে কিছু বলতে তো দাও। আগে চুপ করে শান্ত হয়ে বসো তো।”
একটু থেমে, চোখে চোখ রেখে ধীরে বলল,
“এমন কিছু দেখাব, যা দেখলে তোমাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়বে।”
ঘরের বাতাস হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল। নীলাঞ্জনার বুক ধড়ফড় করছে, মহুয়ার মুখে চিন্তার ছায়া।
রাতের নিস্তব্ধতা যেন কবিতার কথার ভার বইতে পারছে না সবার মনে একটাই প্রশ্ন, _কী এমন দেখাবে সে?

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here