রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৬
মহাসিন
এখন সকাল ঠিক দশটা। ঘড়ির কাঁটা যেন আজ ভারী হয়ে আছে।
সিয়াম সকাল আটার ফ্লাইটে অচেনা এক দেশের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে। বাড়ির সবাই যে যার কাজে বেরিয়ে গেছে। শুধু পড়ে আছে একটা নিস্তব্ধ, নিষ্ঠুর নীরবতা।
আজ মহুয়া অফিসে যাননি। কবিতার ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে সে কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে। চোখ টিভির পর্দায়, অথচ মনটা পড়ে আছে অন্য কোথাও। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে নীলাঞ্জনার হাতের শব্দ।
কফির ধোঁয়ায় চোখ রেখে কবিতা হঠাৎ বলে উঠল, “শাপলা তো এখনো গেল না মা?”
“যাবে। একটু আগেই দেখে এলাম, নিজের জামা কাপড় গুছাচ্ছে।”
কথা শেষ না হতেই সিঁড়িতে শব্দ। গুটি গুটি পায়ে, হাতে একটা পুরোনো লাগেজ নিয়ে শাপলা নেমে এলো। প্রতিটা ধাপে তার বুকের ভেতরটা ভেঙে চুরমার হচ্ছে।
মহুয়া সোজা হয়ে দাঁড়ালেন। গলার স্বরটা পাথরের মতো শক্ত করে বললেন,
“চিরকালের জন্য এই বাড়ি থেকে চলে যা শাপলা। আর কখনো ফিরে আসার চেষ্টাও করবি না।”
শাপলার ঠোঁট কেঁপে উঠল। কাঁপা কাঁপা গলায়, মৃ**ত্যু য*ন্ত্র”ণা*র মতো করে বলল, “একবার… একবার শুধু নীলাঞ্জনা ভাবীর সাথে কথা বলতে চাই।”
কবিতা বিরক্ত হয়ে বলল, “ঠিক আছে। যা। তাড়াতাড়ি কথা বলে এই বাড়ি থেকে বিদায় হ। তোকে আর এক মুহূর্তও সহ্য করতে পারছি না।”
চোখের বাঁধ ভাঙা অশ্রু আর বুকের ভেতর জমে থাকা পাহাড়সম কষ্ট নিয়ে শাপলা দৌড়ে রান্নাঘরে ঢুকল। নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়েই আর্তনাদ করে ডাকল,
“ভাবী!”
পরের মুহূর্তেই সে নীলাঞ্জনাকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠল। নীলাঞ্জনাও পাথর হয়ে থাকতে পারল না। বোনের মতো বুকে টেনে নিল শাপলাকে। দুজনের চোখ দিয়ে এখন শ্রাবণের মেঘ ভেঙে বৃষ্টি নামছে।
নিজেকে শক্ত করে নীলাঞ্জনা ফিসফিস করে বলল, “চলে যা শাপলা। অনেক দূরে… যেখানে তোর চিৎকার কেউ শুনবে না। এই বাড়িতে তুই কখনো শান্তি পাবি না।”
শাপলা নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। কাঁপা হাতে সিয়ামের দেওয়া ফোনটা নীলাঞ্জনার হাতে তুলে দিল।
“ভাবী, সিয়াম ভাইয়া দেশে ফিরলে ওনার ফোনটা ওনাকে দিয়ে দিয়েন। আর… আর বলে দিয়েন আমি ওনাকে কখনো ভালোবাসিনি। সব নাটক ছিল। সে যেন আমাকে আর না খোঁজে।”
কথাটা শেষ করেই শাপলা আর দাঁড়াতে পারল না। দৌড়ে ড্রয়িং রুমে এসে মহুয়ার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ল।
“আন্টি… ,আমাকে একবার মা বলে জড়িয়ে ধরতে দাও। প্লিজ, দয়া করো। শুধু একবার ‘মা’ ডেকে বুকের মধ্যে মিশে যেতে দাও। তারপর আমি হারিয়ে যাব। অনেক দূরে, যেখানে আমাকে কেউ খুঁজে পাবে না।”
মহুয়া চমকে উঠলো। শাপলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল তাকে কে। ‘মা’ ডাকটা যেন মহুয়ার বুকের ভেতর তীরের মতো বিঁধল। তার চোখের কোণেও পানি চিকচিক করে উঠল। কিন্তু মুহূর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে পাথর গলায় বললেন,
“যা। এবার অনেক দূরে চলে যা। তোর মুখটাও আর দেখতে চাই না।”
শেষ ভরসাটুকুও শেষ। শাপলা ধীর পায়ে কবিতার দিকে এগিয়ে গেল। কবিতা ঘেন্নায় মুখ ঘুরিয়ে উঠে দাঁড়াল।
শাপলা কাঁপা গলায় বলল, “আমি জানি আমার উপর আপনার অনেক রাগ। আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর কখনো আপনাদের জীবনে ফিরে আসব না। চিরকালের জন্য চলে যাচ্ছি।”
লাগেজটা শক্ত করে চেপে ধরে শাপলা সদর দরজার দিকে এগোল। পা দুটো যেন তাকে আটকে রাখতে চাইছে। চোখের পানিতে ঝাপসা হয়ে আসছে চারপাশ।
দরজার কাছে এসে শাপলা একবার পেছন ফিরে তাকাল। এই বাড়ি, এই দেয়াল, … সবকিছুকে মন প্রাণ দিয়ে শেষবারের মতো দেখে নিল। তারপর দরজাটা খুলে, নিজের সমস্ত অতীত, ভালোবাসা আর স্বপ্নকে পেছনে ফেলে চিরকালের জন্য বেরিয়ে গেল।
দরজাটা বন্ধ হওয়ার শব্দটা যেন ওর হৃদপিণ্ডটাকেও বন্ধ করে দিয়ে গেল।
দেখতে দেখতে একটা মাস কেটে গেল। আজ সিয়াম বাড়ি ফিরবে।
এখন গড় দুপুর। রোদের তেজ কম, কিন্তু বাড়ির বাতাসটা ভারী। ড্রয়িং রুমে নীলাঞ্জনা, মহুয়া, কবিতা তিনজন বসে আছে। কারো মুখে কথা নেই। নীলাঞ্জনার কপালে চিন্তার ভাঁজ। চোখের নিচে কালি। ঠোঁট কামড়ে ধরে আছে।
হঠাৎ “ট্রিং টং” কলিং বেলটা বেজে উঠল। শব্দটা বুকের ভেতর কেঁপে উঠল সবার। নীলাঞ্জনা অসহায় চোখে শাশুড়ি মহুয়ার দিকে তাকাল। মহুয়া চোখের ইশারায় হুকুম করলেন।
“যাও, দরজা খোলো।”
নীলাঞ্জনা গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এলো। হাত কাঁপছে। বুকের ভেতর ধড়ফড় করছে। কাঁপা কাঁপা আঙুলে ছিটকিনি খুলতেই দরজার ওপাশে সিয়াম। মুখে হাসি। দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরার আনন্দ। নীলাঞ্জনা নিঃশব্দে দরজা আটকে দিল।
সিয়াম সবার দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলল, “তোমরা সবাই ভালো আছো তো?”
উত্তর নেই। ঘরজুড়ে নীরবতা।
কবিতা মনে বিড়বিড় করল, “আর কিছুক্ষণ… আর কিছুক্ষণ পর এখানে বো**মা ফা*টবে।”
সিয়াম ভ্রু কুঁচকে নীলাঞ্জনার দিকে তাকাল, “ভাবী, ভালো আছেন তো? আপনাকে এমন অদ্ভুত লাগছে কেন?”
নীলাঞ্জনা কিছু বলার আগেই ওপর থেকে “চাচ্চু! চাচ্চু!” বলে সিঁড়ি বেয়ে দৌড়ে নামল ছোট্ট আলো। লাফ দিয়ে সিয়ামের কোলে উঠে গেল।
সিয়াম আলোর নাক টিপে দিল, “তোর জন্য কিন্তু অনেক চকলেট এনেছি।”
আলোর চোখ চকচক করে উঠল, “সত্যি?”
“হুম, সত্যি।”
আলো ফিসফিস করে বলল, “জানো, বাড়িতে কী হয়েছে?”
“কী হয়েছে?”
নীলাঞ্জনা চোখ গরম করে মেয়েকে ধমকাল। আলো ভয়ে চুপ করে গেল। সিয়াম বুঝল কিছু একটা লুকানো হচ্ছে। গলার স্বর শক্ত করল,
“কী হলো? চুপ করে গেলি কেন? বল কী হইছে?”
আলো মাথা নিচু করে বলল, “না, বলব না। বলে দিলে মা বকবে।”
সিয়াম আলোর চুলে হাত বুলিয়ে দিল, “আমি আছি তো। কেউ কিছু বলবে না। বল, কী হইছে?”
আলো এক নিশ্বাসে বলে দিল, “শাপলা ফুপ্পিকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।”
কথাটা বলেই আলো সিয়ামের কোল থেকে নেমে গেল। মুহূর্তের মধ্যে সিয়ামের মুখের হাসিটা জমে বরফ হয়ে গেল। চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। চোখ দুটো লাল হয়ে উঠল। সিয়াম বজ্রকণ্ঠে চিৎকার করে উঠল,
“শাপলাকে এই বাড়ি থেকে কে তাড়িয়ে দিছে?!”
কবিতা ভয়ে ঢোক গিলল। নীলাঞ্জনা এক পা পিছিয়ে গেল। মহুয়া সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন।
“কী হলো? সবাই চুপ করে আছো কেন? কেউ কিছু বলছো না কেন?” সিয়ামের গর্জনে দেয়াল কেঁপে উঠল।
চিৎকার শুনে সায়েক আহমেদ, নিরব, আরিফ হন্তদন্ত হয়ে ড্রয়িংরুমে ছুটে এলেন।
সায়েক আহমেদ অবাক হয়ে বললেন, “একি! তুই বাড়িতে এসেই চিৎকার শুরু করলি কেন?”
সিয়াম দাঁতে দাঁত চেপে বলল, “শাপলাকে এই বাড়ি থেকে কে তাড়িয়ে দিয়েছে?”
সায়েক আহমেদ, নিরব, আরিফ তিনজনই হতভম্ব। নিরব বলল, “শাপলাকে তো কেউ তাড়িয়ে দেয়নি। মা বলেছে ওর নাকি এই বাড়িতে থাকতে ভালো লাগছে না, তাই চাচার বাড়ি চলে গেছে।”
সিয়াম আলোর দিকে তাকাল, “তুই মিথ্যা কেন বললি?”
আলো কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, “আমি সত্যি বলছি। শাপলা ফুপ্পিকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।”
সায়েক আহমেদ আলোর দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমাকে আর কিছু বলতে হবে না। তুমি ঘরে যাও।”
আলো দৌড়ে নিজের ঘরে চলে গেল।
সায়েক আহমেদ এরপর মহুয়ার দিকে তাকালেন, “আলো যা বলছে, তা কি সত্যি?”
মহুয়া চুপ। মাথা নিচু।
সায়েক আহমেদ এবার নীলাঞ্জনার দিকে তাকালেন, “আলো যা বলছে, তা সত্যি?”
নীলাঞ্জনা কাঁপা গলায় বলল, “হ্যাঁ, সব সত্যি।”
সায়েক আহমেদের চোখ রক্তবর্ণ ধারণ করল, “শাপলাকে এই বাড়ি থেকে কে তাড়িয়ে দিয়েছে?”
নীলাঞ্জনা ফিসফিস করে বলল, “মা।”
সায়েক আহমেদ মহুয়ার দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন, “কেন এমন করলে? মেয়েটার তো কেউ নেই। তাহলে এমন করলে কেন?”
মহুয়া মাথা উঁচু করে বললেন, “আমি যা করেছি, এই বাড়ির ভালোর জন্য করেছি।”
“বাড়ির ভালো? বাড়ির ভালো আমাকে শেখাতে এসো না। বাড়তি কথা না বলে শুধু বলো কেন শাপলাকে তুমি বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলে?”
মহুয়া একটু থেমে গেলেন। তারপর বললেন, “যদি সত্যি কথাটা বলি, সহ্য করতে পারবেন তো?”
“হ্যাঁ, বলো।”
মহুয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “শাপলাকে এই বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছি, তার কারণ হলো—” বলে চুপ করে গেলেন।
আরিফ অস্থির হয়ে বলল, “কী হলো মা? চুপ করে আছো কেন? বলো, কেন এমন করলে?”
মহুয়া আহমেদ সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করে উঠলেন, “শাপলা আর সিয়াম বিয়ে করেছে!”
কথাটা সায়েক আহমেদের কানে যেতেই মাথার রক্ত টগবগ করে ফুটে উঠল। ক্রোধে কাঁপতে কাঁপতে সিয়ামের গালে সজোরে একটা থা*প্প*ড় বসিয়ে দিলেন থা*প্পড়ের শব্দটা পুরো বাড়িতে প্রতিধ্বনিত হলো।
সায়েক আহমেদের কণ্ঠে আ*গুন ঝরছে। তিনি চিৎকার করে বললেন,
“তোর এত বড় সাহস হয় কীভাবে? আমাদের না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলেছিস তুই!
মহুয়া একদম ঠিক কাজ করেছে শাপলাকে তাড়িয়ে দিয়ে।”
সিয়ামও পাল্টা চিৎকার করে উঠল। তার চোখে মুখে জেদ,
“আমি শাপলাকে ভালোবাসি। ওর জন্য সব করতে পারব। আমি ওকে ফিরিয়ে আনবই।”
সায়েক আহমেদের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। গম্ভীর স্বরে হুমকি দিলেন,
“ঐ মেয়েকে যদি এই বাড়িতে ফিরিয়ে আনিস, তবে তোর জন্য এই বাড়ির দরজা চিরকালের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।”
আরিফ অসহায়ের মতো বলে উঠল,
“বাবা, তুমি এসব কী বলছ?”
“চুপ!” সায়েক আহমেদ ধমকে উঠলেন। “আমার মুখের উপর কেউ কথা বলবে না। আমি কিছু বলি না বলেই সবাই পার পেয়ে যাচ্ছ।”
নীরব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“সিয়াম, তুই কাজটা ঠিক করিসনি। তোরা দুজন যখন দুজনকে ভালোবাসিস, আমাদের বলতি। তা না করে কাউকে কিছু না জানিয়ে বিয়েটা করে ফেললি।”
সিয়ামের গলা কাঁপল না। সে স্পষ্ট করে বলল,
“আমি শাপলাকে ভালোবাসি। তাই বিয়ে করেছি। আর আমি ওকে এই বাড়িতে ফিরিয়ে আনবই।”
সায়েক আহমেদ আর এক মুহূর্তও সহ্য করলেন না। আঙুল তুলে বললেন,
“তাহলে তুই এই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যা। তোর জন্য এই বাড়ির দরজা চিরতরে বন্ধ।”
মহুয়া আঁতকে উঠলেন, “আপনি এসব কী বলছেন? সিয়াম কোথায় যাবে?”
সিয়াম একবার সবার দিকে তাকাল। তারপর ধীর অথচ দৃঢ় গলায় বলল,
“ঠিক আছে। তাই হবে। আমি চলে যাচ্ছি। আর কখনো এই বাড়িতে ফিরব না।”
কথাটা শেষ করেই সে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে গেল।
মহুয়া পেছন থেকে ডাকলেন, “সিয়াম! সিয়াম!” কিন্তু ছেলের সাড়া মিলল না।
একটু পর বাড়িটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। যে যার ঘরে চলে গেল।
নীলাঞ্জনা থপ করে সোফায় বসে পড়ল। চোখে পানি, বুকের ভেতর ঝড়।
এমন সময় বিরাজ ঘরে প্রবেশ করল। নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
“কী হয়েছে? সিয়াম এভাবে দৌড়ে কোথায় গেল?”
নীলাঞ্জনা ফুঁপিয়ে উঠে বিরাজকে সব খুলে বলল…
কিছুটা সময় পেরিয়ে গেল। এখন বিকেল। আকাশে হালকা রোদের আভা।
বিরাজ গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছে। পাশে আলো বসে আছে, মুখে দুষ্টু হাসি। বিরাজ ড্রাইভ করছে মনোযোগ দিয়ে।
হঠাৎ কোথা থেকে যেন কলি এসে পড়ল গাড়ির সামনে। বিরাজ চোখের পলকে ব্রেক কষল। চাকা ঘষে যাওয়ার শব্দ হলো তবুও শেষ রক্ষা হলো না। কলি টাল সামলাতে না পেরে ধপাস করে পড়ে গেল।
বিরাজ এক মুহূর্তও দেরি করল না। দরজা খুলে ছুটে এসে কলিকে খুব আলতো করে টেনে তুলল।
কলির মুখটা চোখে পড়তেই বিরাজের পৃথিবী থমকে গেল। রাগে লাল হয়ে থাকা মুখ, ছড়িয়ে থাকা চুল, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। বিরাজ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। সময় যেন থেমে গেছে।
কলি বিরক্ত হয়ে ঝাঁঝিয়ে উঠল,
“এই, আপনি কি পাগল? গাড়ি চালাতে পারেন না তবুও রাস্তায় নামেন কেন? ফালতু লোক একটা!”
বিরাজের কানে একটা শব্দও এলো না। সে শুধু মুগ্ধ চোখে কলিকে দেখছে আর মনে ভাবছে,
‘উফ্… এ মেয়ে তো পুরাই আগুন। এই মেয়ে আমার লাগবেই। একে আমার বউ বানিয়ে ছাড়বো !’
কলি আবার চেঁচিয়ে উঠল, “এই যে ফোকরা মশাই, কানে কালা নাকি? চুপ করে আছেন কেন? কিছু বলেন!”
বিরাজ বাস্তবে ফিরে এলো। আমতা আমতা করে বলল,
“হ্যাঁ? কী যেন বলছিলেন… সরি, সরি। আমি বুঝতে পারিনি। আপনি হঠাৎ সামনে চলে এলেন তো…”
“চুপ করুন তো!” কলি ধমকে উঠল। “গাড়ি চালাতে পারেন না, আবার বড় বড় কথা!”
বিরাজ গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, “আরে না, আমি গাড়ি ভালোই চালাই।”
“হয়েছে, আর ঢং করতে হবে না।” কলি হাত বাড়িয়ে দিল। “তাড়াতাড়ি টাকা দেন। পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছি, ঔষধ কিনতে হবে।”
বিরাজের ঠোঁটে দুষ্টু হাসি খেলে গেল। মনে বলল, ‘এই তো সুযোগ। নাম্বারটা নিতেই হবে।’
সে গম্ভীর মুখ করে বলল, “হ্যাঁ অবশ্যই দেব। কিন্তু এখন তো কাছে টাকা নেই। আপনার নাম্বারটা দিন, পরে পাঠিয়ে দেব।”
কলি সন্দেহের চোখে তাকাল, “সত্যি দেবেন তো?”
“একদম সত্যি।” বিরাজ হাসি চেপে রাখল। “নাম্বার দিন।”
কলি অনিচ্ছা সত্ত্বেও নাম্বার দিয়ে বলল, “যদি টাকা না দেন, অভিশাপ দেব। আপনার হাত ভেঙে যাবে। আর কখনো গাড়ি চালাতে পারবেন না।”
কথাটা বলেই মুখ ভেংচি কেটে কলি হনহন করে চলে গেল।
বিরাজ পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল। এক দৃষ্টিতে কলির যাওয়ার পথে তাকিয়ে আছে। পকেটে রাখা ফোনের স্ক্রিনে এখন একটা নতুন নাম্বার সেভ হচ্ছে – “আগুন সুন্দরী”।
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৩৫
গাড়ির ভেতর থেকে আলোর ডাক ভেসে এল,
“চাচ্চু, কী হলো? গাড়িতে ওঠো। এভাবে দাঁড়িয়ে আছো কেন?”
বিরাজের ঘোর কাটল। ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি নিয়ে সে গাড়িতে উঠে স্টার্ট দিল…
কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। শাপলা আর সিয়াম খুব তাড়াতাড়ি এক হয়ে যাবে। আজকের পর্ব কেমন হয়েছে, তা জানাতে ভুলবেন না।
