Mad for you 2 part 28
তানিয়া খাতুন
ঘোর কাটতেই সিমরান নিজেকে একটি ছোট্ট কক্ষের মধ্যে আবিষ্কার করল।
চারপাশে একবার দৃষ্টি বুলিয়ে সে ভ্রু কুঁচকে ফেলল। মাথাটা এখনও ভারী লাগছে।
চোখ বন্ধ করে স্মরণ করার চেষ্টা করল, ঠিক কীভাবে সে এখানে এসে পৌঁছেছে।
— ঘুম ভেঙেছে?
পরিচিত কণ্ঠস্বরটি কানে আসতেই সিমরান চমকে উঠে দরজার দিকে তাকাল।
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে রুহি।
তাকে দেখামাত্রই সিমরানের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
সে আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে বিছানা থেকে নেমে এসে রুহিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
রুহি মৃদু হেসে তার পিঠে হাত বুলিয়ে বলল,
— আচ্ছা, আচ্ছা, আর কত আদর দেখাবি?
এত সোহাগের কোনো প্রয়োজন নেই।
তলে তলে যা কাণ্ড ঘটিয়েছিস, তাতে তোকে নির্দোষ ভাবার কোনো কারণই দেখছি না।
সিমরান সঙ্গে সঙ্গে সরে এসে বিস্মিত চোখে তাকাল।
— আমি আবার কী কাণ্ড ঘটালাম?
— কী ঘটিয়েছিস, তা তুইই ভালো জানিস। তা আমান ভাই তোকে জোর করেই এখানে নিয়ে এসেছে।
সিমরান মুখ বাঁকিয়ে বলে,
— যেন আমি তাকে ডেকে এনেছিলাম! সে নিজেই আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে এসেছে।
রুহির ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।
— তাই নাকি? তা তাকে মিথ্যে কথা বলে উত্তেজিত করেছিল কে?
তোর বিয়ে নাকি তোর আব্বু খুব শীঘ্রই দিয়ে দেবেন— এই সংবাদ শোনার পর কেউ একজন ভীষণ অস্থির হয়ে উঠেছিল।
কিন্তু আমি যতদূর জানি আঙ্কেলের একটুও ইচ্ছে নেই এত তারাতারি তোর বিয়ে দেওয়ার।
কথাগুলো শুনে সিমরানের মুখ মুহূর্তেই লাল হয়ে উঠল।
সে দাঁত দিয়ে নিজের জিভ কাটল।
মিথ্যেটা যে এভাবে ধরা পড়ে যাবে, তা সে কল্পনাও করেনি।
— আমি… মানে… আমি সেভাবে বলতে চাইনি…
রুহি এবার তার দুই কাঁধে হাত রেখে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দিল।
— শোন, সিমরান।
আমান ভাইয়া সত্যিই খুব ভালো মানুষ।
তোর মনে যদি তার জন্য কোনো অনুভূতি থেকে থাকে, তবে স্পষ্ট করে বলে দে।
সিমরান বিরক্ত ভঙ্গিতে মুখ ফিরিয়ে নিল।
— কী বলব? সেই মানুষটা কোনোদিন একবারও স্পষ্ট করে বলেছে যে সে আমাকে ভালোবাসে?
শুধু ফোন করে তোতলায়, ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলে, কিন্তু মূল কথাটা আর মুখে আনতে পারে না।
তার কথায় রুহি আর নিজেকে সামলাতে পারল না।
খিলখিল করে হেসে উঠল।
— আচ্ছা, তুই বস। আমি আমান ভাইয়াকে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
অনেকক্ষণ ধরে বেচারা তোর জ্ঞান ফেরার অপেক্ষায় বসে আছে।
রুহি বেরিয়ে যেতে উদ্যত হতেই সিমরান তড়িঘড়ি করে তার হাত চেপে ধরল।
— না, তুইও থাক।
রুহি কিছু বলার আগেই পাশের কক্ষ থেকে একটি গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এল।
— বাটারফ্লাই, তাড়াতাড়ি আসো!
কণ্ঠস্বরটি শুনেই রুহির মুখে অসহায় হাসি ফুটে উঠল।
— দেখলি তো? আমি যদি এখনই না যাই, তাহলে এই মানুষটা এমন চিৎকার শুরু করবে যে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে ফেলবে।
কথাগুলো বলে সে সিমরানের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিল।
— ভয় পাস না। আমান ভাইয়া তোকে খেয়ে ফেলবে না।
দুষ্টুমিভরা হাসি হেসে রুহি কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেল।
দরজাটি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যেতেই ঘরজুড়ে নেমে এল এক অদ্ভুত নীরবতা।
সিমরান বিছানার কিনারায় এসে বসে পড়ল।
তার বুকের ভেতরটা অকারণে ধুকপুক করতে লাগল।
হাতের আঙুলগুলো অস্থিরভাবে জড়িয়ে ধরল সে।
এখন তাকে আমানের মুখোমুখি হতে হবে।
আর সেই মানুষটির সামনে দাঁড়ালে কেন যেন তার সমস্ত সাহস, সমস্ত যুক্তি, সমস্ত অভিমান একে একে হারিয়ে যায়।
শুধু বুকের গভীরে জন্ম নেয় এক অদ্ভুত আলোড়ন, যার নাম সে আজও উচ্চারণ করতে পারেনি।
ক্ৰিশ একটি ছোট কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছে। আজ তার প্রথম দিন।
রুহি আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে দুটো শার্ট হাতে নিয়ে দেখছে, কোনটা পরলে ক্ৰিশ কে বেশি ভালো লাগবে।
— শার্টটা পরিয়ে দাও, বাটারফ্লাই। দেরি হয়ে যাচ্ছে।
রুহি অবাক হয়ে বলল,
— আমি পরিয়ে দেব?
ক্ৰিশ এগিয়ে এসে রুহির মুখোমুখি দাঁড়াল। তারপর তার দিকে সামান্য ঝুঁকে মৃদু স্বরে বলল,
— আমি তোমার জামা খুলতে পারলে, তুমি কেন আমাকে জামা পরিয়ে দিতে পারবে না?
মুহূর্তেই রুহির মুখ লজ্জায় রক্তিম হয়ে উঠল।
দুই কোমল হাতের সাহায্যে সাদা শার্টটি ক্ৰিশের গায়ে পরিয়ে দিতে দিতে সে বলল,
— আপনার মুখে কি ভালো কথা নেই?
ক্ৰিশ আরও একটু ঝুঁকে এল, যাতে রুহির বোতাম লাগাতে সুবিধা হয়।
তার উষ্ণ নিঃশ্বাস এসে পড়ল রুহির মুখে।
সে ফিসফিস করে বলল,
— তোমার ভাগ্য খুব ভালো, বাটারফ্লাই।
আজ আমার জয়েনিং না থাকলে দুপুর দুটোর আগে তোমাকে ঘর থেকে বেরোতে দিতাম না।
বিশ্বাস করো, ভীষণ মুড আসছে।
ক্ৰিশের নেশাভরা কণ্ঠস্বর শুনে রুহির হাত কেঁপে উঠল।
তবুও সে ক্ৰিশের বুকে মাথা রেখে দুই হাতে তার গলা জড়িয়ে ধরে বলল,
— আমাকে একটা বেবি এনে দেবেন?
রুহির আবদারে ক্ৰিশ কিছুটা অসহায় বোধ করল।
এখনও তাদের থাকার জায়গাটাও ঠিকমতো হয়নি।
এই সময়ে সন্তান এলে রুহির জন্যই কষ্ট বাড়বে।
সে নরম গলায় বলল,
— এনে দেব, বাটারফ্লাই। তবে এখন নয়। আগে সবকিছু ঠিকঠাক হোক।
রুহি ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
— আপনি তো কিছুতেই রাজি নন। আমার আজই চাই।
আচ্ছা, বেবি হয় কী করে?
প্রশ্নটা শুনে ক্ৰিশ যেন একটু থমকে গেল।
সে রুহির চিবুক তুলে ধরে বলল,
— বেবি কি গাছের ফল নাকি? তুমি চাইবে আর আমি টুপ করে পেড়ে তোমার হাতে দিয়ে দেব?
রুহি সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— ধুর! তাহলে বলুন, বেবি হয় কী করে?
ক্ৰিশ বাকি দুটো বোতাম লাগাতে লাগাতে বলল,
— রাতে পরী এসে তোমার পেটে রেখে যাবে।
রুহি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল,
— কে সেই পরী?
ক্ৰিশের হাত থেমে গেল। দাঁত চেপে বলল,
— আমি…
পরক্ষণেই মাথা নেড়ে বলল,
— না না, সরি! পরী তো মেয়েরা হয়।
তাহলে পুরুষকে কী বলে?
— ধুর, থাক! আপনার সঙ্গে কথা বলাই বৃথা।
এই বলে রুহি সরে যেতে চাইলে ক্ৰিশ তার হাত টেনে নিজের বুকের ওপর রেখে ফিসফিস করে বলে,
— হাতে এখনও দশ মিনিট সময় আছে, বাটারফ্লাই… এসো, একটু হাফ বাসর করি।
— তাহলে তুমি আমাকে মিথ্যে বলেছিলে?
আমানের কণ্ঠস্বর ভেসে আসতেই নিজের ভাবনার জগৎ থেকে চমকে উঠল সিমরান।
সে তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়াল। আর ঠিক তখনই আমান ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল।
সিমরান অস্বস্তিতে আরও কয়েক পা পিছিয়ে গিয়ে বলে,
— দেখুন, আসলে আমি ওটা মজা করেই বলেছিলাম।
আমান সামান্য ঝুঁকে মৃদু হেসে বলে,
— আসলে তুমি আমাকে উসকে দিচ্ছিলে। আমার মনের কথা জানতে চাইছিলে, তাই না?
সিমরান সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারল, সে নিজের পাতানো ফাঁদে নিজেই পড়ে গেছে।
এখন এখান থেকে বের হওয়া সহজ হবে না।
নিজেকে যতটা সম্ভব গম্ভীর দেখিয়ে সে বলে,
— দেখুন, আপনার মনের কথা জানার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।
আর আপনার সঙ্গে কথা বলারও ইচ্ছে নেই। সরে দাঁড়ান, আমি বাড়ি যাব।
কথা শেষ করেই পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইল সে।
কিন্তু তার সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলো।
আমান হাত বাড়িয়ে তাকে থামিয়ে দিল। চোখে-মুখে দুষ্টুমি মিশ্রিত হাসি নিয়ে বলল,
— নিজেকে খুব চালাক ভাবো, তাই না? এখন আমাকে উসকে দিয়ে মজা নেওয়া হচ্ছে?
সিমরান ভয়ে মুখ ফিরিয়ে নিল।
— শোনো, এই আমান তোমাকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছে। তাই ভাবছি, আজকেই তোমাকে বিয়ে করে ফেলি। কেমন?
কথাটা শুনে সিমরানের পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল।
বিয়ে!
এভাবে কেউ হঠাৎ করে বিয়ের কথা বলে নাকি?
ভয় আর বিস্ময়ে তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
সে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,
— এরকম করবেন না, প্লিজ। আমার আব্বু-আম্মু জানতে পারলে খুব কষ্ট পাবেন।
সিমরানের ভীত মুখটা দেখে আমানের ভীষণ হাসি পেল।
তবে সে মুখে কিছু প্রকাশ করল না। বরং গম্ভীর সুরেই বলল,
— বেশ, তাহলে আমার আম্মুকে নিয়ে তোমাদের বাড়িতে যাই? চলবে?
সিমরান এক মুহূর্তও দেরি না করে দ্রুত মাথা নাড়ল।
— হ্যাঁ, যাবেন… অবশ্যই যাবেন। কিন্তু আজকে নয়। তিন_ চার দিন পরে।
এবার আর আমান নিজের হাসি চেপে রাখতে পারল না।
সে হো হো করে হেসে উঠল।
সিমরান তখন বুঝতে পারল, তাকে নিয়ে মজা করা হয়েছে।
রাগে গাল ফুলিয়ে সে আমানের বুকে কিল মারতে মারতে বলে,
— ফালতু মানুষ একটা! আমাকে বোকা বানাচ্ছিলেন?
আমান তার দুই হাত আলতো করে ধরে হাসতে হাসতে বলে,
— তাহলে কী চাও? তোমাকে আমার ভবিষ্যৎ সন্তানের মা বানাই?
কথাটা শুনে সিমরান যেন ভাষা হারিয়ে ফেলল।
এত নির্লজ্জ মানুষও পৃথিবীতে আছে, তা তার জানা ছিল না।
তবু হৃদয়ের গভীরে সে স্বীকার করল, অদ্ভুত, দুষ্টু আর অসম্ভব এই মানুষটার প্রেমেই সে কবে যেন নীরবে পড়ে গেছে। তার নিজেই সে টের হয়নি।
বিকেল হয়ে এসেছে।
ঘড়ির কাঁটা চারটার ঘর ছুঁইছুঁই। শহরের এক নিরিবিলি ক্যাফের ভেতর মুখোমুখি বসে আছে এস.এ.পি. ইন্সপেক্টর মিরাজ হোসেন আর ক্ৰিশ।
দুজনের মাঝখানে রাখা কফির কাপ অনেক আগেই ঠান্ডা হয়ে গেছে।
অথচ কেউ তাতে হাত দেয়নি।
চারপাশে মানুষের কথাবার্তার ক্ষীণ শব্দ শোনা গেলেও তাদের টেবিলটাকে ঘিরে যেন এক অদৃশ্য নীরবতা জমে আছে।
প্রায় অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর অবশেষে মিরাজ হোসেন মুখ খুললেন।
— দেখো ক্ৰিশ, আমি অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তোমার আম্মুর কেসটা আবার রি-ওপেন করব।
তবে ব্যাপারটা এত সহজ নয়। অনেক বছর কেটে গেছে। প্রমাণ জোগাড় করা খুব কঠিন হবে। হয়তো অনেক কিছুই আর প্রমাণ করা সম্ভব হবে না।
ক্ৰিশ নিশ্চুপ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
মিরাজ আবার বললেন,
— তুমি একটা কাজ করো। আমার মেয়েটাকে এবার ছেড়ে দাও।
ওকে আর আটকে রেখো না। আমি আমার দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
কথাটা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ৰিশ হঠাৎ পাগলের মতো হেসে উঠল।
সেই হাসিতে আনন্দের চেয়ে ভয় অনেক বেশি ছিল।
মিরাজ হোসেনের বুকের ভেতর কেমন যেন অস্বস্তি জন্ম নিল।
পরের মুহূর্তেই ক্ৰিশ টেবিলের ওপর সজোরে মুষ্টাঘাত করে উঠে বলে,
— ফাক আপনার প্রমাণ! আর ফাক আপনার আইন!
ক্যাফের ভেতরে কয়েকজন চমকে তাদের দিকে তাকালেও ক্ৰিশ সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করল না।
তার চোখ দুটো রক্তবর্ণ হয়ে উঠেছে।
— আমার আম্মুর সঙ্গে যারা অন্যায় করেছে, তাদের প্রত্যেকের নাম আপনার কাছে আছে।
তারা নিজেরাই প্রমাণ। তাদের স্বীকারোক্তিই হবে প্রমাণ।
আর সবথেকে বড় প্রমাণ হলেন আপনি, মিস্টার মিরাজ হোসেন।
সে সামান্য ঝুঁকে এল।
— আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। অনেক বছর লেগেছে ওই জানোয়ারগুলোর খোঁজ বের করতে।
মৃত্যুর আগে আমি ওদের প্রত্যেককে শাস্তি দিয়ে যাব।
আর আপনার মেয়ে ভালো আছে। তার কোনো অসুবিধা হবে না। কথা দিলাম।
এই বলে ক্ৰিশ উঠে চলে যেতে উদ্যত হলো।
ঠিক তখনই মিরাজ হোসেন শান্ত গলায় বললেন,
— আসল ক্ৰিশ খান কোথায়, ক্ৰুশ?
ক্ৰিশের পদক্ষেপ থেমে গেল।
ধীরে ধীরে সে ঘুরে দাঁড়াল।
তার চোখে মুহূর্তের জন্য এক ঝলক বিপদের আভাস দেখা দিল।
— সেটা আপনাকে বলতে আমি বাধ্য নই।
মিরাজ হোসেন চেয়ারে হেলান দিয়ে বললেন,
— তুমি খুব বড় ভুল করেছো সমীরের মেয়ে কে বিয়ে করে।
ক্ৰিশের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
মিরাজঃ তুমি কি জানো, তার কাছে খবর পৌঁছে গেছে? আর তার মেয়ে কি এসব জানে?
মুহূর্তের মধ্যে ক্ৰিশের চোখ রক্তবর্ণ হয়ে উঠল।
দাঁতে দাঁত চেপে সে বলে,
— আপনি কিন্তু নিজের সীমা অতিক্রম করছেন।
মিরাজ নির্বিকার রইলেন।
— শান্ত হও। এত উত্তেজিত হয়ে লাভ নেই। আমার কথাটা শোনো।
সমীর চুপ করে বসে থাকার মানুষ নয়। তার কানে যখন খবর পৌঁছেছে, তখন সে নিশ্চয়ই কিছু একটা করবে।
তিনি একটু থামলেন।
তারপর গভীর দৃষ্টিতে ক্ৰিশের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— তুমি তোমার স্ত্রীকে সব সত্যি বলে দাও। এটাকে উপদেশ হিসেবেই নাও।
কারন সমীর যেমন মানুষ ও সবকিছু করতে পারে।
ক্ৰিশ কিছু বলল না।
তার মুঠো শক্ত হয়ে আছে, চোখে জমে উঠছে অদ্ভুত এক অস্থিরতা।
মিরাজ হোসেন ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন।
ক্ৰিশের কাঁধে হাত রেখে মৃদু হেসে বললেন,
Mad for you 2 part 27
— আচ্ছা, আমি চলি। আমার আদরের মেয়েটা তোমার কাছে আছে। বিশ্বাস করো, শেষ পর্যন্ত আমি লড়ব।
কথাটা বলে তিনি চলে গেলেন।
আর ক্ৰিশ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
ক্যাফের কাঁচের বাইরে অস্তগামী সূর্যের আলো ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসছিল, আর তার মনে ক্রোধের ঝড় বয়ে যাচ্ছিল।
