Home তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪ (২)

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪ (২)

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪ (২)
তানিশা সুলতানা

ইয়াং ইউ এর স্বার্থপর হয়ে উঠতে ইচ্ছে করে। জোর করে ছলনা করে আবরার তাসনিনকে নিজের করে পেতে মন চায়। সারাজীবন একসাথে থাকতে না পারলো একটা রাত এক সাথে থাকুক। এমন সুপুরুষ একবারের জন্য হলেও তাকে ছুঁয়ে দিক। ভালোবাসার দরকার নেই নিজের চাহিদা পূরণ করার জন্য উন্মাদনায় মাতিয়ে তুলুক ইয়াং ইউয়ের দেহ খানা।
ব্যাসস আর কিছুই লাগবে না৷
ভাবনার বুলেট এর আওয়াজ কানে বাজে ইয়াং ইউ এর। কেউ একজন অনবরত গুলি ছুঁড়ে চলেছে৷ বুকটা কেঁপে ওঠে তার। অতিদ্রুত নিজ কক্ষ থেকে বের হয়। দেখতে পায় তাদের বাড়িট গাইডে থাকা গার্ডরা সব ম/রে পড়ে আছে। কেউ একজন গুলি করে মে/রে/ছে তাদের।

আবরার ঠিক আছে তো?
এটা মাথাতে ঢুকতেই পূণরায় দৌড়ে চলে যায় আবরারের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষে। দেখে গোটা কক্ষ খালি পড়ে আছে।
তবে কি আবরার চলে গেলো?
নিজের মিশন কম্পিলিট করে আদ্রিতার খোঁজে ছুটলো?
না না এটা হতে পারে না।
কিছুতেই না।
কোনো মতেই না।
ইয়াং ইউ যেতে দিবে না আবরারকে। আটকে রাখবে তার কাছে।
“আপু আই এম ইন লাভ ইউথ আবরার তাসনিন
নিজের ছোট বোনের কন্ঠস্বর শুনে পেছন ফিরে তাকায় ইয়াং ইউ।
আপন বোন নয়। মায়ের মৃ/ত্যুর পরে বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে সেই ঘরের বোন।
তবে গ্রিলিকে যথেষ্ট ভালোবাসে ইয়াং ইউ।
কিন্তু এই মুহুর্তে ভালোবাসা কোথায় যেনো গায়েব হয়ে গেলো। এক রাশ রাগ ভর করলো মনে।

” গ্রিলি হি ইজ মাই ম্যান
ডোন্ট
ইয়াং ইউকে থামিয়ে গ্রিলি বলে ওঠে
“কম্পিটিশন করবে আমার সাথে?
নিজেকে দেখো আর আমাকে দেখো। হতে পারে তুমি মিস ওয়ার্ল্ড।
বাট আমি বেশি হট।
ইয়াং ইউ হাসলো।
” আবরার কোথায়?
“জানি না।
তবে বাবার সাথে বেরিয়েছে৷
” সব গুলে গার্ডকে মেরে?
“তাদের তো আমি মে/রে/ছি।।
” কেনো?
“আবরার বলেছে ওদের মা/র/তে পারলে আমায় ভালোবাসবে।
হতাশ হলো ইয়াং ইউ। বাবার জন্য চিন্তা হচ্ছে না। তাকে যদি আবরার মে/রে ফেলে তবুও আক্ষেপ হবে না। বাবা কখনোই বাবার দায়িত্ব পালন করে নি।
চিন্তা হচ্ছে আবরারের জন্য

” তুমি ভুল করছো আবরার তাসনিন।
আমাকে মারলে সারাজীবন এর খেসারত দিতে হবে।
গ্রিলব এর কথা শুনে একটু হাসার চেষ্টা করলো আবরার।
এই মুহুর্তে চায়ন এয়ারপোর্ট থেকে এক কিলোমিটার দূরে নাম না জানা একটা নদীর পাড়ে রয়েছে ওরা।
গ্রিলিকে ব্যবহার করে সব গার্ডদের মে/রে গ্রিলবকে নিয়ে আসতে পেরেছে সে।
এই জায়গাটা সব থেকে বেশি নিরব এবং সেভ মনে হয়েছে তাই এখানেই মিশন সাকসেসফুল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইভানের কোলে এ্যানি। বাচ্চাটা বোধহয় বড্ড ক্লান্ত। তাই তো কেমন নিশ্চিন্তে ঘুমুচ্ছে।
গ্রিলব এর কথার জবাবে আবরার বলে
“বাস্টার্ড
আবরার তাসনিন কখনো ভুল করে না। সে যেটা করে সেটাই হান্ড্রেড পারসেন্ট রাইট।
তোর মতো রাসকেল এর বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই।
গ্রিলব দাঁতে দাঁত চেপে বলে

” আমার অপরাধ কি? এই দুনিয়ায় যারা টাকা আছে তার সবই আছে। আমি ওই
বাকিটা শেষ করার আগেই টপাটপ কয়েকটা গুলি করে দেয় আবরার। বালির মধ্যে লুটিয়ে পড়ে গ্রিলব এর দেহ খানা। খানিকক্ষণ ছটফট করতে করতে স্থির হয়ে যায়। লাল র/ক্তে ভেসে যায় জায়গাটা। এ্যানির ঘুম ভেঙে গেলো। সে মিউ মিউ আওয়াজ তুলে এদিক ওদিক তাকাতে থাকে৷
আহাদ শুকনো ঢোক গিলে।
ইভান মুখ গোমড়া করে বলে
“হবু শশুরকে মে/রে দিলি আবরার।।
এখন আমাকে যৌতুক দিবে কে?
ভেবেছিলাম একটা প্রাইভেট হেলিকপ্টার চাইবো যৌতুক হিসেবে।
শালা সব নষ্ট করে দিলে

খুব সুন্দর একটা জামদানী শাড়ি পড়ানে হয়েছে অহনাকে। আদ্রিতাও শাড়ি পড়েছে। আব্দুল রহমান দুজনের জন্যই সেম শাড়ি এনেছে।
তবে অহনার ঠোঁটের কোণে হাসি নেই।
এতো সুন্দর করে সাজার পরে একটু না হাসলে কি আর সুন্দর দেখায়?
আদ্রিতা গোটা বাড়ি চক্কর দিলো কয়েকবার। মা আর মামি রান্না করছে। তাদের হেল্প করছে দুজন হেল্পিং হ্যান্ড। হাফিজুর চৌধুরী পরিপাটি হয়ে বসে আছে সোফার রুমে। আব্দুল রহমান গিয়েছে মেহমানদের এগিয়ে আনতে।
আদ্রিতা গল্প করার মতো কাউকে না পেয়ে পূণরায় চলে আসলো অহনার কক্ষে।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ ঘুরে ঘুরে নিজেকে দেখলো।
তারপর অহনাকে বলে
” আপু তোমার মুড অফ কেনো?
অহনা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে
“সিয়ামকে পছন্দ করি।।
ব্যাপারটা আগেই জানতো আদ্রিতা। তবুও না জানার ভান ধরে বলে
” তাহলে চলে আসলে কেনো আপু? তাকে প্রপোজ করলে না কেনো?
কেনোই বা বাড়ির কাউকে জানাচ্ছো না?
অহনা মৃদু হেসে বলে

“বাদ দে।।
দেখ তো চুল ঠিকঠাক আছে কি না?
আদ্রিতা দেখলো একদমই ঠিকঠাক আছে।
তখুনি বাইরে থেকে আওয়াজ শোনা গেলো৷ আব্দুল রহমান মেহমানদের নিয়ে চলে এসেছে। হবু দুলাভাই কেমন দেখতে?
এটা দেখার লোভ সামলাতে না পেরে আদ্রিতা দৌড়ে বাইরে চলে গেলো।
মোটমাট ৫ জন এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল হুদা তার ছেলে নিহান, আসিফ আদনান আর দুজন মহিলা।
আদ্রিতা মহিলা দুজনকে চিনতে পারলো না কিন্তু বাকি সবাইকে চিনলো।
আসিফ আদনান এর কপালে এখনো ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ লাগানো।
আদ্রিতা সবার আড়ালে হাই জানালো আসিফকে।
তারপর দৌড়ে চলে গেলো শরবত আনতে।
খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ হতেই অহনাকে আনা হলো ওদের সামনে। সবাই গোল গোল চোখ ঘুরিয়ে অহনাকে দেখতে থাকে।
আদ্রিতা হাফিজুর চৌধুরীর পাশে বসে আছে।
নুরুল হুদা বলে

” তা আপনাদের বাড়ির ছোট মেয়েকে বিয়ে দেবেন না?
আব্দুল রহমান বলে
“হ্যাঁ দিবো ইনশাআল্লাহ।
অহনার বিয়ের পরেই আদ্রিতার জন্য ছেলে
বাকিটা শেষ করার আগেই হুরমুরিয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়ে আবরার আহাদ ইভান সিয়াম আর আমান।
হাফিজুর চৌধুরী দাঁড়িয়ে পড়ে। কাঁপা-কাঁপা গলায় বলে
” বউ মা আমার নাতি এসেছে।
আতিয়া বেগম দৌড়ে বেরিয়ে আসলো কিচেন থেকে। সিয়াম এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অহনার মুখ পানে। তবে অহনা ভুলেও তাকাচ্ছে না।
আব্দুল রহমান বলে ওঠে
“তোমরা এখানে?
কি চাই?
জবাব দিলো না কেউ।

আদ্রিতা শুকনো ঢোক গিলে আব্দুল রহমানের পেছনে লুকালো। কারণ আবরার রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর মুখ পানে। যেনো এখুনি টপাস করে গিলে খেয়ে ফেলবে। কতো দিন পরে দেখা হলো তার ওপর আদ্রিতা কতো সুন্দর সেজেছে। একটু তো মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে পারতো। তা না হাতির মতো তাকাচ্ছে।
ওদের থেকে জবাব না পেয়ে আরিফ পূণরায় জিজ্ঞেস করে
” বললে না তো?
তোমরা কেনে এসেছো?
এবার আবরার গম্ভীর স্বরে জবাব দেয়

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪

“সিয়াম আর অহনা দুজন দুজনকে পছন্দ করে।
এই বিয়ে হবে না মিস্টার নিহান।
নুরুল হুদা নিহান আসিফ এবং দুজন মহিলা সবাই দাঁড়িয়ে পড়ে।
আব্দুল রহমান বলে
” আবরার তোমার সাহস হয় কি করে আমার বাড়িতে ঢুকে আমার পরিবারের ব্যাপারে কথা বলার?
এখুনি বেড়িয়ে যাও তুমি।

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here