রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৪
মহাসিন
সিয়াম জোরে গাড়ি চালাচ্ছে। গাড়ির এসি ফুল চলছে, তবুও তার কপাল গলা বেয়ে ঘাম নামছে। সামনের রাস্তা যেন শেষই হচ্ছে না।
পাশে বসা নিরবের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। ও অস্থিরভাবে বারবার ঘড়ি দেখছে।
সিয়াম নিরবের দিকে না তাকিয়েই বলল, “পুলিশকে খবর দিয়েছিস তো?”
নিরব গম্ভীর গলায় বলল,
”হ্যাঁ। পুলিশ আসছে।”
একটু থেমে আবার বলতে লাগলো ,
”তাড়াতাড়ি গাড়ি চালা। আর কত দূর?”
সিয়াম স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে বলল,
”এই তো, প্রায় চলে এসেছি।”
হঠাৎ সিয়ামের চোখ আটকে গেল। রাস্তার ফুটপাত ধরে শাপলা পাগলের মতো দৌড়াচ্ছে। চুল উড়ছে, জামা ছিঁ_ড়ে_ছে, চোখে আতঙ্ক।
সিয়ামের বুকটা কেঁপে উঠল। ও চিৎকার করে বলল, “শাপলা!”
এক মুহূর্তও দেরি না করে সিয়াম ব্রেক চেপে গাড়ি থামিয়ে দিল। দরজা খুলে দৌড়ে নামল।
শাপলাও সিয়ামকে দেখতে পেল। মুহূর্তেই ওর পা যেন মাটি পেল। দৌড়ে এসে সিয়ামকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল।
নিরবও দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে এলো।
সিয়াম শাপলাকে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরল। কাঁপা গলায় বলল, “তুই ঠিক আছিস তো? কিছু হয়নি তো তোর? কিভাবে পালিয়ে এলি?”
কিছুক্ষণ পর শাপলা নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। চোখ মুছে নিরবের দিকে তাকিয়ে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল,
”ভাইয়া, আমাকে পানি দেন।”
নিরব গাড়ি থেকে পানির বোতল এনে তার হাতে দিল। শাপলা ঢাকনা খুলে ঢকঢক করে পুরো বোতলের পানি শেষ করে ফেলল।
সিয়াম ওর কাঁধে হাত রেখে জিজ্ঞেস করল, “তুই কিভাবে সিরাজের কাছ থেকে পালিয়ে এলি, শাপলা?”
শাপলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “অনেক কষ্ট করে পালিয়ে আসছি ভাইয়া। আর একটু দেরি হলে হয়তো আজ আমি শে_ষ হয়ে যেতাম।”
কথা শেষ না হতেই পেছনে পুলিশের গাড়ির সাইরেন বেজে উঠল। গাড়ি থামলো। সিয়াম দৌড়ে গিয়ে অফিসারকে বলল, “স্যার, তাড়াতাড়ি সিরাজকে অ্যারেস্ট করেন।”
পুলিশের গাড়ি সাইরেন বাজিয়ে ছুটে গেল।
শাপলা দ্রুত গাড়িতে উঠে বসল। সিয়াম আর নিরবও উঠে বসল। শাপলা কাঁপা গলায় বলল, “তাড়াতাড়ি গাড়ি স্টার্ট দিন। আমার খুব খারাপ লাগছে।”
সিয়াম গাড়ি স্টার্ট দিল। স্টিয়ারিং ধরতে ধরতে তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। মনে ফুঁসে উঠল, “সিরাজ, তোকে যদি একবার চোখের সামনে পাই, তোর মৃ__ত্যু আমার হাতেই হবে। কেউ আটকাতে পারবে না।”
আর শাপলা? ও জানালার বাইরে মুখ ঘুরিয়ে তাকিয়ে আছে। ঠোঁটের কোণে খেলে গেল একটা ভয়ংকর, রহস্যময়ী মুচকি হাসি। কেন শাপলা এভাবে ভয়ংকর হাসি দিলো? আর শাপলা কিভাবে সিরাজের হাত থেকে পালিয়ে এলো?
শাপলা কি আদো সত্যি কথা বলছে, নাকি কোনো ভয়ংকর কোনো রহস্য লুকিয়ে রাখছে।
দেখতে দেখতে কেটে গেল দশটা দিন। সিরাজকে পুলিশ কোথাও খুঁজে পায়নি। শহরের আনাচে কানাচে এখনো চলছে তল্লাশি। বিকেলবেলা। ছাদের এক কোণে শাপলা চুপচাপ বসে আছে। আকাশে মেঘের ভেলা ভাসছে। বাতাসে তার এলোমেলো চুলগুলো পাগলের মতো উড়ছে। চোখে একরাশ শূন্যতা।গুটি গুটি পায়ে নিরব এসে ওর পাশে বসল।
”কিরে, এভাবে বসে আছিস যে? মন খারাপ নাকি?”
”না, মন খারাপ না। এমনিই বসে আছি।”
কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর শাপলা হঠাৎ বলল, “তা আপনার ভালোবাসার মানুষটার সঙ্গে কথা হয় কি?”
”হয়। মাঝে মধ্যে কথা হয়।”
”তা শুধু কথা বললেই কি হবে? আপনি যে তাকে ভালোবাসেন, তা কবে বলবেন?”
”জানি না।”
”এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে আপনার ভালোবাসার মানুষটাকে হারিয়ে ফেলবেন। তার চেয়ে বরং তাকে সবকিছু বলে দিন।”
”আমি যে ওকে ভালোবাসি, তা জানার পর যদি আমার সাথে আর কথা না বলে তখন?”
”আগে বলে তো দেখেন। এমনও তো হতে পারে, সেও আপনাকে ভালোবাসে। শুধু অপেক্ষা করছে আপনি কখন মনের কথাটা বলবেন।”
”আমার ভয় লাগে বলতে।”
”কোনো ভয় নেই। আপনি শুধু মনের কথাটা বলবেন। পরে যা হবার হবে।”
এরপর দুজনে আরো অনেক কথা বলল। সুখ দুঃখ, ভয় সাহসের কথা। একসময় বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামল। দুজনেই যে যার মতো ঘরে চলে গেল। ছাদে পড়ে রইল শুধু শাপলার একটা দীর্ঘশ্বাস আর নিরবের অজানা দ্বিধা। রাত দশটা বাজে। ঘরের নরম আলোয় নীলাঞ্জনা ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার লম্বা কালো চুলগুলো ধীরে ধীরে আঁচড়াচ্ছে, প্রতিটি চিরুনির টানে যেন তার সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। আয়নায় তার নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে দেখতে সে হালকা হাসল।বিছানায় খালি গায়ে বসে আছে আরিফ। শুধু কালো ট্রাউজার পরা তার শক্তিশালী শরীরটা যেন আলো আঁধারিতে আরও আকর্ষক লাগছে । চোখ দুটো অপলক হয়ে নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে আছে। তার দৃষ্টিতে গভীর আর অসীম ভালোবাসা। হঠাৎ আরিফ উঠে দাঁড়াল। ধীর পায়ে, যেন প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে করতে, সে নীলাঞ্জনার পিছনে এসে দাঁড়াল। তার দুই হাত সাপের মতো নীলাঞ্জনার কোমর জ_ড়ি_য়ে ধরল। নীলাঞ্জনার সারা শরীর এক ঝটকায় কেঁপে উঠল। আরিফ মুখ নামিয়ে তার ঘন চুলের মধ্যে নাক ডুবিয়ে গভীর করে শ্বাস নিল।
“তোমার চুলের এই মাদকতাময় গন্ধ… আমাকে পাগল করে দিচ্ছে। কিছু একটা করো… নয়তো আমি আর সা_ম_লা_তে পারব না,”
ফিসফিস করে বলল আরিফ, তার নিঃশ্বাস নীলাঞ্জনার ঘাড়ে লাগছে।
নীলাঞ্জনা লজ্জায় গাল দুটো টকটকে লাল হয়ে গেল। কাঁপা গলায় বলল, “কী করবো আমি?”
আরিফ তার কানের কাছে ঠোঁট নিয়ে আরও নরম করে বলল, “কেন? তুমি জানো না আমাকে কীভাবে শা_ন্ত করতে হয়? তুমিই তো আমার শান্তি… তুমিই তো আমার ঝড়।”
নীলাঞ্জনা লজ্জায় সরে যাওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু আরিফ তার হাতটা শক্ত করে ধরে টেনে নিল। এক ঝটকায় তাকে বুকের সঙ্গে জ_ড়ি_য়ে ধরল। আরিফের উষ্ণ, পুরুষালি গায়ের গন্ধ নীলাঞ্জনার নাকে গিয়ে পৌঁছাতেই তার মাথা ঘুরে গেল। চোখ বুজে সে আরও জোরে তাকে জ_ড়ি_য়ে ধরল। দুজনের হৃদস্পন্দন একসঙ্গে বাজতে লাগল।
আরিফ তার চিবুকটা তুলে ধরে চোখে চোখ রেখে মৃদু হাসল,
“তো তুমি রেডি তো?”
নীলাঞ্জনা লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফিসফিস করল, “কিসের জন্য?”
“চলে দেখিয়ে দিচ্ছি…”
এক ঝটকায় আরিফ নীলাঞ্জনাকে কোলে তুলে নিল। তার চোখে অসীম আ_দর আর আ_গু_ন। ধীরে ধীরে তাকে বিছানায় শুইয়ে দিল। তারপর তার উ_প_র ঝুঁ_কে পড়ে নীলাঞ্জনার কপাল, চোখ, নাক, ঠোঁট, গলা, আর সারা শরীরে অগণিত গভীর, আদুরে, জ্বা_লাময় চু_মু বৃষ্টি করতে লাগল। প্রতিটি চু_মু যেন একেকটা প্রতিজ্ঞা তুমি আমার, শুধুই আমার। নীলাঞ্জনা উ_ত্তে_জ_না_য় ঠোঁট কা_মড়ে ধরল। তার শরীরটা যেন আ_গু_নে পু_ড়ছে, কিন্তু এই আ_গু_নেই সে আরও বেশি করে গলে যাচ্ছে আরিফের ভালোবাসায়।
দুটি পরম আত্মা, দুটি শরীর, দুটি হৃদয় এক হয়ে গেল। চারপাশের পৃথিবী যেন থেমে গিয়েছে। শুধু
তাদের নিঃশ্বাস, তাদের স্পর্শ, আর অসীম ভালোবাসার অমৃতময় মিলন।
সকালের প্রথম আলো জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরের ভিতরে মৃদু সোনালি আভা ছড়িয়ে দিয়েছে। শাপলা চোখ মেলতেই বিছানা থেকে উঠতে যাচ্ছিল, কিন্তু তখনই সিয়ামের শক্তিশালী বাহু তাকে জ_ড়ি_য়ে ধরল। উষ্ণ নিঃশ্বাস তার কানের কাছে ফিসফিস করে উঠল,
“এখন কোথাও যাওয়া হবে না, প্রিয়তমা। আগে তোমার মন ভরে আ_দ_র করবো… তারপর যা হয়।”
শাপলার বুকের ভিতরটা দুরুদুরু করে উঠল। কাঁপা গলায় সে জিজ্ঞাসা করল, “কীভাবে… মন ভরে আ_দ_র করবেন?”
সিয়ামের ঠোঁটে একটা বাঁকা, মায়াবি হাসি ফুটে উঠল। চোখে চোখ রেখে সে ফিসফিসিয়ে বলল,
“চলো, করে দেখিয়ে দিই।”
একটু নেমে এসে সে শাপলার না_ভির কাছে মুখ নামিয়ে আনল। আলতো করে, যেন কোনো নাজুক ফুলকে স্পর্শ করছে, এমনভাবে না_ভিতে ঠোঁ_ট ডুবিয়ে দিল। গরম নিঃশ্বাস আর নরম চু_ম্বনের স্পর্শে শাপলার সারা শরীর কেঁপে উঠল। তার ঠোঁট কা_মড়ে ধরল সে, চোখ বন্ধ করে এক অদ্ভুত অনুভূতির ঢেউ সহ্য করতে চাইল। শরীরের প্রতিটি রোমকূপ শিহরিত হয়ে উঠল।
সিয়াম মুখ তুলে, চোখে দুষ্টুমি মেশানো তৃপ্তি নিয়ে বলল, “কী? তুমি তো তৈরি হয়েই গেছো দেখছি।”
শাপলার গাল দুটো লজ্জায় গোলাপি হয়ে উঠল। সে চোখ নামিয়ে ফেলল, কিন্তু তার শরীরের ভাষা সবকিছু বলে দিচ্ছে।
সিয়াম ধীরে ধীরে উপরে উঠে এল। তার ঠোঁ_ট প্রথমে শাপলার কোমল ঠোঁটে, তারপর গলার নরম ত্বকে, গালে, কপালে—একের পর এক চু_ম্বনের বৃষ্টি ঝরিয়ে দিতে লাগল। তার গরম নিঃশ্বাস শাপলার শ*রীরে আ_গু_ন জ্বা_লি_য়ে দিচ্ছিল। শাপলা আর সহ্য করতে না পেরে দু’হাতে তাকে শক্ত করে জ_ড়িয়ে ধরল। দুজনের শরীর এক হয়ে গেল যেন। সময় যেন থেমে গিয়েছে এই মুহূর্তে।
কিন্তু ঠিক তখনই সিয়ামের ফোন বেজে উঠল। বিরক্তিতে তার ভুরু কুঁচকে গেল। শাপলার কাছ থেকে অনিচ্ছায় সরে গিয়ে সে ফোনটা রিসিভ করল। দু’মিনিটের সংক্ষিপ্ত কথোপকথন। কল কেটে দিয়ে সে ফিরে এল শাপলার কাছে।
চোখে অনুতাপ নিয়ে সে বলল, “দুঃখিত, প্রিয়। অফিসে জরুরি সমস্যা হয়েছে। এখনই যেতে হবে। আজ আর কিছু করতে পারব না… কিন্তু রাতে…” তার ঠোঁটে আবার সেই মায়াবি হাসি ফুটে উঠল, “রাতে সব হবে। তোমাকে যা যা দিতে চাই, সব ফিরিয়ে দেব।”
শাপলা কাঁপা গলায়, লজ্জা আর আকাঙ্ক্ষা মিশিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “রাতে… কী হবে?”
সিয়াম ঝুঁকে পড়ে তার কপালে একটা গভীর চু_মু খেয়ে ফিসফিস করে বলল, “সেটা রাতেই দেখতে পাবে, আমার সোনা। অপেক্ষায় থেকো।”
রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৩
এই বলে সে ধীর পায়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল। শাপলা বিছানায় শুয়ে রইল। তার শরীর এখনও কাঁপছে, গালে লজ্জার রং, আর মনে অসীম ঢেউ।
রাতের অপেক্ষায় তার হৃদয় দ্রুত স্পন্দিত হতে লাগল।
