Home রোমান্টিক ভাইয়া রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৬

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৬

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৬
মহাসিন

অন্য দিকে, ঘরের আবছা আলোয় সিয়াম শুয়ে আছে শাপলার কোলে মাথা রেখে। শাপলার আঙুল গুলোর নরম ছোঁয়ায় তার চুলের ভাঁজে হারিয়ে যাচ্ছে। সিয়াম দুচোখ ভরে শুধু শাপলাকে দেখছে। পৃথিবীর সব সুখ যেন এই মুখটার মধ্যে।
কি অদ্ভুত অনুভূতি।সিয়াম ফিসফিস করে বলল,
“এভাবে শুধু চুল টানলে হবে? কি_স তো করতে পারিস।”
শাপলা মুচকি হাসল। ঠোঁটে দুষ্টুমির ছাপ।
“ঠিক আছে, তাই হবে।”
এই বলে সিয়ামের ঠোঁটে কি_স করার বদলে কা_ম_ড় বসিয়ে দিল। সিয়াম ধড়ফড় করে উঠে বসল। চোখ দুটো রসগোল্লার মতো বড়।

“কা_ম_ড় দিলি কেন রে?”
শাপলা নিরীহ মুখে বলল,
“মন চাইছে। আপনার ওই ঠোঁটে কা_ম_ড় দিতে ইচ্ছা করছিল, তাই দিলাম।”
“মন কেন চাইছে?”
“আমি জানি না।”
“কেন জানিস না?”
“কচু!”
“কি কচু?”
“উফ, এত কেন কথা পেঁচান হ্যাঁ? মন চাইছে, ব্যস।”
সিয়াম কিছু বোঝার আগেই শাপলা আবার ওর ঠোঁটে আলতো করে কা_ম_ড় দিল।
সিয়াম নাক কুঁচকে বলল,

“উফ, ব্য_থা পাইছি তো।”
শাপলা ভেংচি কেটে বলল,
“তাতে আমার কি?”
কথা শেষ হতেই সিয়ামও বদলা নিল। শাপলার ঠোঁটে কা_ম_ড় বসিয়ে দিল।
শাপলা চোখ পাকিয়ে তাকাল।
“একি! আপনি আমার ঠোঁটে কা_ম_ড় দিলেন কেন?”
সিয়াম দুষ্টু হেসে বলল,
“আমার মন চাইছে।”
ব্যস! তারপরই শুরু হয়ে গেল তৃতীয় বিশ্বযু_দ্ধ।
শাপলা হাতের কাছে থাকা বালিশ তুলে সিয়ামের পিঠে মা_র_তে লাগল ধুমধাম। সিয়ামও কম যায় না সেও পাশের বালিশ নিয়ে শাপলাকে দিল এ_ক ঘা।
মা_রা_মা_রি করতে করতে বালিশ ফেটে গেল। সাদা তুলা বেরিয়ে সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ল। মনে হচ্ছে আকাশ থেকে তুষার পড়ছে। দুজনেই হাঁপাতে হাঁপাতে থেমে গেল। একে অপরের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ খিলখিল করে হেসে উঠল।
ঝগড়ার শেষে ভালোবাসাটাই রয়ে গেল… তুলার মতো হালকা, নরম, আর সারা ঘরময় ছড়ানো।

কলি বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। বালিশটা ভিজে একাকার। চোখ বেয়ে নামা অশ্রুধারা বাধা মানছে না। বুকের ভেতরটা মুচড়ে মুচড়ে ছিঁ_ড়ে যাচ্ছে। হঠাৎ বসার ঘর থেকে ভেসে এলো কাশির শব্দ খক খক। কলি চমকে উঠে বসল। এ কাশি ও চেনে। ওর বাবা, আজিজ মিয়া বাড়ি ফিরেছে।
এক মুহূর্ত দেরি না করে বিছানা ছেড়ে দৌড়ে বসার ঘরে চলে এলো। চোখে মুখে জমানো অভিমান, বুকের ভেতর জমে থাকা সব কষ্ট নিয়ে।
মেয়েকে এভাবে দৌড়ে আসতে দেখে আজিজ মিয়া অবাক সুরে শুধালেন,
“এভাবে দৌড়ে এলি কেন?”
কলির গলা ধরে আসছে। কান্না চেপে বাবার চোখে চোখ রেখে। বুক ভরা কষ্ট নিয়ে বলল,
“তা ছাড়া কি করবো? তোমার বউ আমাকে বিয়ে দি_য়ে দে_বে। পড়াশোনা করতে দে_বে না।”
আজিজ মিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

___“আমিও চাই তোর বিয়েটা হয়ে যাক। মেয়ে মানুষের পড়াশোনা করে লাভ কি? তোর মা যা সিদ্ধান্ত নেয়, সায় দে। না হলে ক_পালে দুঃ_খ আছে তোর।”
কলির সারা শরীর কেঁপে উঠল। চিৎকার করে তিক্ত স্বরে আওড়ালো,
____“তোমাকে নিজের বাবা বলতেও ঘে_ন্না লাগে আমার!”
“তো বলিস না।”
“হ্যাঁ, বলবো না। তুমি বাবা নামের ক_ল_ঙ্ক। তোমার বউকে বলে দিয়ো, বিয়ে আমি করবো না। বিয়ে দেওয়ার এত শখ থাকলে একটা মেয়ে জন্ম দিয়ে ওকে বিয়ে দিক। আমার জীবনটা যেন ন_ষ্ট না করে।”
কথাগুলো বলতে বলতে কলির গলা ভেঙে আসছে। চোখ দিয়ে ঝরছে শ্রাবণের বৃষ্টি।
আর এক মুহূর্ত দাঁড়ালো না । কাঁদতে কাঁদতে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল।
বাইরে রাত গভীর। আকাশের তারাগুলোও যেন আজ কলির কান্না দেখে নীরব হয়ে আছে।

সময় গড়িয়ে সকাল হলো। ভোরের নরম আলোয় প্রকৃতি যেন নতুন করে সতেজ হয়ে উঠেছে। সূর্যের সোনালি আভা ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। গাছের ডালে ডালে পাখিরা কিচিরমিচির করে জানান দিচ্ছে নতুন দিনের।
শাপলা গুটি গুটি পায়ে হেঁটে ডাইনিং টেবিলে এসে বসল। চারপাশে তাকিয়ে নীলাঞ্জনাকে জিজ্ঞেস করল,
“সবাই কোথায়? কাউকে তো দেখছি না।”
নীলাঞ্জনা খাবার সাজাতে সাজাতে বলল,
“সবাই অফিসে চলে গেছে। সিয়াম তোমাকে অনেক ডাকছিল। কিন্তু তুমি নাকি গভীর ঘুমে ছিলে। যাই হোক, এখন খাবার খেয়ে নাও।”
এরপর নীলাঞ্জনা শাপলার প্লেটে খাবার বেড়ে দিল এবং নিজেও খেতে বসল।
ঠিক এমন সময় কবিতা ফোনে কথা বলতে বলতে এসে ডাইনিং টেবিলে ধপ করে বসে পড়ল। ওপাশে তার স্বামী আদি। হঠাৎ করেই কবিতা চিৎকার করে উঠল,
“এই কু_ত্তা_র বা_চ্চা, তুই আমার ফোন রিসিভ করিস না কেন? তোর ক_ল্লা খা_ব আমি! এই খা_ন_কি_র পো_লা, তুই খালি দেশে একবার আয়!”
এই বলে রাগে ফোনটা কেটে দিল সে।

শাপলা আর নীলাঞ্জনা হতবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। নীলাঞ্জনা অবাক গলায় বলল,
“কী হলো? এভাবে গা__লি দিলে কেন?”
“তো কী করব?” কবিতা ঝাঁঝিয়ে উঠল। “আমি কল দিলে রিসিভ করে না। কোন বিদেশি মেয়ের প্রেমে পড়েছে কে জানে! আর ভালো লাগে না। সেই কবে বাইরের দেশে গেছে, এখনো আসার নাম নেই।”
নীলাঞ্জনা শান্ত গলায় বলল,
“তোমার শ্বশুর শাশুড়িকে বলতে পারো না?”
“তারা সব জানে,” কবিতা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। “কিন্তু তাদের ছেলেকে কিছুই বলে না।”
” থাক, এসব বাদ দাও। এখন খেয়ে নাও।”
এরপর তিনজন চুপচাপ খেতে লাগল।

ঘড়িতে এখন সকাল দশটা। কলি নিজের রুমের দরজা ভেতর থেকে আটকে বসে আছে। বাইরে থেকে অলেকা বেগম দরজায় ধাক্কা দিয়ে চিৎকার করছেন, “এই খা_ন__কি, দরজা খোল! তোর জন্য যদি দরজা ভাঙতে হয়, তাহলে তোর কপালে শ_নি_র দ_শা আছে বলে দিলাম!”
ভেতর থেকে কলি কাঁদতে কাঁদতে চিৎকার করে বলল, “আমি বি__য়ে করব না! আমার জী_ব_নটা শে_ষ করে দি_ও না, প্লি_জ!”

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৫

“হা_রা_ম_জা_দি, তোর প্লিজের গু_ষ্টি মা_রি!” অলেকা বেগম আরও জোরে ধাক্কা দিলেন। “দরজা খোল। তোকে দেখতে লোকজন এসে পড়বে। তাড়াতাড়ি দরজা খোল। মানুষের সামনে মান সম্মান ন_ষ্ট করিস না।”
কলি কান্নাভেজা গলায় জবাব দিল, “আমি দরজা খুলব না।”
সময়ের অভাবে বড় করে লিখতে পারি নাই।

রোমান্টিক ভাইয়া পর্ব ৪৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here