তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৬
তানিশা সুলতানা
“ডোন্ট ডিস্টার্ব পাখি
এ’ম সো হাংরি
হাঙ্কি স্বরে বলে ওঠে আবরার। আদ্রিতা কাঁপছে। ডিস্টার্ব না করে কিভাবে ঠিকঠাক থাকবে?
লোকটা বেপরোয়া হয়ে গিয়েছে। বেসামাল করে তুলছে মেয়েটার ছোট্ট দেহ খানা। টিশার্ট খানা টেনে হিঁচড়ে খুলে ফেলেছে। লজ্জা এবং সংকোচে ম/রে যাচ্ছে আদ্রিতা। অনবরত বলে চলেছে লাইট অফ করতে। তবে লোকটা শুনছেই না। উল্টে কথা বন্ধ করে পূণরায় ওষ্ঠ দখল করে নেয়।
এরই মধ্যে দরজায় কড়া নারে কেউ।
চমকে ওঠে আদ্রিতা। আবরারের থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা মরিয়া হয়ে ওঠে।
আব্দুল রহমান নরম গলায় বলে
” আম্মাজান
জেগে আছো?
মামা খাবার নিয়ে এসেছে দরজা খুলো।
আবরার বিরক্ত হলো। ছেড়ে দিলো আদ্রিতার ওষ্ঠ।
ছাড়া পেতেই জোরে জোরে শ্বাস টানতে থাকে মেয়েটা।
তবে রেহায় পেলো না। জল্লাদ হাতি গলায় মুখ গুঁজে বলে
“ওনাকে ডিস্টার্ব করতে মানা করো পাখি।
আই ক্যান নট কন্ট্রোল মাই সেলফ।
আদ্রিতা আবরারের চুল গুলো মুঠো করে ধরলো। প্রচন্ড শক্তি দিয়ে সরানোর চেষ্টা করলো কিছু মুহুর্ত। যখন অনুভব করতে পারলো লোকটা নিজ থেকে না সরলে তাকে সরানো ইম্পসিবল।
তখন কাঁপা-কাঁপা স্বরে বলে
” প্লিজজ ছাড়ুন।
মামা চলে এসেছে। দেখে ফেললে খুব খারাপ
বাকিটা শেষ করতে পারলো না আদ্রিতা। আবরার ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুচকে বলে
“হু কেয়ার’স?
আদ্রিতার ইচ্ছে করলো বলতে ” শালা হাতি তুইই কেয়ার করিস। সামনাসামনি তো একটা কথাও বলতে পারিস না। থাপ্পড় খেয়ে বেরিয়ে গেলি। এখন আবার হু কেয়ার’স বলছিস”
তবে এসব বললে আধমরা করে তেল মরিচ ছাড়া চিবিয়ে খাবে ওকে।
তাই বললো না।
জিভ দ্বারা ঠোঁট ভিজিয়ে বললো
“প্লিজজজ আবরার।
“জান ডাকো সোনা
বলতে বলতে পূণরায় গলায় মুখ ডোবালো।
আদ্রিতা কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো
” জান
চলে যান প্লিজজ
আবরার সেভাবেই জবাব দেয়
“ডাকতে বলেছি
বলি নি ডাকলেই চলে যাবো।
তারই মধ্যে আবারও আব্দুল রহমান ডাকে। এবং উনি চিন্তায় পড়ে যায় আদ্রিতা অসুস্থ হয়ে পড়লো কি না। এমনিতে তো দরজাটাও বন্ধ করে ঘুমায় না। আজকে কি হলো?
আদ্রিতা অধৈর্য হয়ে বললো
” আজকে চলে যান প্লিজজ।
কালকে আমরা কোথাও চলে যাবোনি।
অফারটা পছন্দ হলো আবরারের। তাই সে ছেড়ে দিলো আদ্রিতা।।
ছাড়া পেতেই মেয়েরা উঠে বসলো।।
চেষ্টা করতে থাকে নিজেকে স্বাভাবিক করার। তারই মধ্যে পেটে প্রচন্ড জোরে কামড়ের অস্তিত্ব টের পায়।
এতোটাই ব্যাথা পেয়েছে যে চোখে পানি চলে এসেছে। তবুও শব্দ করলো না।
দুই হাতে মুখ চেপে ধরলো।
গালে তরল পদার্থের অস্তিত্ব টের পেতেই ছেড়ে দিলো আবরার।
গল গল করে র/ক্ত পড়তে শুরু করে।
তাতে একটুও বিচলিত হলো না।
বরং দাঁতে দাঁত চেপে বললো
“নেক্সট টাই শাড়ি পড়তে দেখলে আগুন জ্বালিয়ে দিবো শরীরে।
মাইন্ড ইট
আদ্রিতা দাঁতে দাঁত চেপে ফোঁসফোঁস করতে থাকে।
কিছু বলবে বলেও ভেবে নেয়। তখনই আব্দুল রহমান পূণরায় ডেকে ওঠে। এবার সাথে যুক্ত হয়েছে আতিয়া বেগম বর্ষা আর আরিফ
এখন তর্ক করার থেকেও বেশি জরুরি হচ্ছে আবরারকে এখান থেকে তাড়ানো। মামা দেখে ফেললে বা বুঝে ফেললে তুলকালাম বাঁধিয়ে দিবে।
তাই আবরারকে চলে যাওয়ার জন্য তাড়া দিতে থাকে।
আবরার আদ্রিতার ভয় বুঝতে পেরে চলে গেলো। বেলকনি থেকে দুই লাফে নেমে গেলো।
এদিকে ভয়ে আদ্রিতার বুক কাঁপছে। পড়ে যাবে কি না?
ব্যাথা পাবে কি না?
কিন্তু ওনাকে সেফলি নামতে দেখে মেয়েটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। এবং টিশার্ট খানা গায়ে গড়িয়ে দরজা খুলে দিলো।
আদ্রিতা সুস্থ সবল দেখে সকলেই চিন্তা মুক্ত হলো।
আব্দুল রহমান নিজে হাতে খাইয়ে দিলো ওকে।
তারপর বিছানায় শুয়ে গায়ে চাদর টেনে দিয়ে লাইট অফ করে চলে গেলো।
আদ্রিতা চোখ বন্ধ করে আবরারের উপস্থিতি অনুভব করতে থাকলো। ওদের ঘনিষ্ঠ মুহুর্তের কথা মনে পড়লেই লজ্জায় লাল হয়ে গেলো মুখটা।
মন বলছে লোকটা এখন আবার চলে আসতো।
বুকের মধ্য খানে জড়িয়ে নিতো ওকে।
লোকটার বুকে মাথা রেখে শান্তির ঘুম ঘুমাতো।
মীরপুর ৭ এ আমানদের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। যেখানে কেউ থাকেনা। ফাঁকাই থাকে সবসময়।
ওরা পাঁচ বন্ধু ঐ বাড়িতে গিয়ে ওঠে। কিছুক্ষণ আগে দুজন লোক এসে বাড়ি পরিষ্কার করে দিয়ে গেছে।
এবং বিশাল সাইজের টিভি খানা ঠিকঠাক করে গিয়েছে।
বিশ্বকাপ খেলা চলছে।
আমান আর ইভান আর্জেন্টিনা দল সাপোর্ট করলেও সিয়াম আর আহাদ ব্রাজিলের সাপোর্টার।
আবরারের কোনো দলের প্রতি ইন্টারেস্ট নেই। তবুও দুই দলের খেলাই দেখে।
আজকে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ। এটা কোনভাবে মিস করবে না ওরা সবাই।
আমান চেয়েছিলো রিলাক্স এ বাড়ি বসে খেলা দেখবে। তবে সিয়াম এর ইচ্ছে সবার সাথে মিলে দেখবে।
এইতো এইবাড়ি থেকে খানিকটা দূরে স্টেডিয়াম বানানো হয়েছে। সেখানে শত শত মানুষ খেলা দেখতে আসবে।
ওরাও সেখানে যাবে।
আবরার প্রথমে যেতে চাইনি।
মিডিয়া সব সময় ওঁত পেতে থাকে কখন কাকে পাবে। কোনভাবে আবরার কে দেখে ফেললে তাদের প্রশ্নের তোপে পড়তে হবে। সেই সঙ্গে ভুলভাল নিউজ তো আছেই।
কিন্তু বন্ধুদের খুশি মাটি করতে চায় না বলে এ্যানি কে কোলে নিয়ে ওদের সঙ্গে যায়।
সবার পড়ে গিয়েছে ওরা। তাই পেছনে বসার জায়গা পেয়েছে।
খেলা অল রেডি শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্রাজিল একটা গোল খেয়েছে।
এমন মুহূর্তে আমানের মাথায় একটা কবিতা আসে। অবশ্য কবিতাটা সিয়ামের লেখা।
সে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই বলেছিল
“ব্রাজিল সেরা টিম
আর্জেন্টিনা পাবে বড় একটা ডিম।
মেসি ভাই হালকা পাতলা ছাই
ডিমারিয়া বল খুঁজতে গিয়ে দেখবে বিশ্বকাপ নাই
এখন সেই কবিতাকেই একটু ঘুরিয়ে বলে ওঠে
“আর্জেন্টিনা সেরা টিম
ব্রাজিল পাবে বড় একটা ডিম
মেসি হচ্ছে জ্বলতে থাকা ছাই
নেইমার ইনজুরি কাটিয়ে উঠে দেখবে
বিশ্ব কাপ নাই
সবাই হেসে ওঠে আমানের কবিতা শুনে। সিয়াম রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে বলে
“খেলা তো সবে শুরু।
ব্রাজিল যদি দশটা গোল দিতে না পারে
তো প্যান্ট খুলে বাড়ি যাবো।
সবাই মনে রাখলো সিয়ামের কথা।
আবরার এ্যানিকে নিয়ে এদিক-ওদিক হাঁটতে থাকে। ভোর চারটে বেজে ৪০ মিনিট।
সূর্যি মামা আরও কিছুক্ষণ পরেই উঠে যাবে। এখন ফুরফুরে হাওয়া বইছে।
রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের আলো জ্বলছে।
সেই আলোতে একাকীত্তে হাঁটতে মন্দ লাগছে না।
তারই মধ্যে কোথা থেকে যেন একদল সাংবাদিক এসে ঘিরে ধরলো আবরারকে।
তাদের চোখে মুখে খুশির ঝিলিক। যেনো আকাশে চাঁদ পেয়ে গেছে।
এ্যানি একটুখানি ঘাবড়ে গেল। সে মিউ মিউ আওয়াজ তুলে আবরারের মুখপানে তাকালো। আবরার ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।
একজন সাংবাদিক বলে ওঠে
“আবরার তাসনিন
বাইক বা কার রেসে শতাধিক বার চ্যাম্পিয়ান হয়েছেন।
এমনও নিউজ রয়েছে যে গোটা বিশ্বে আবরার তাসনিন এর থেকে বেস্ট আর কেউ নেই।
আবরার কিছু বললো না।।
সাংবাদিকরা বুঝে গেল প্রশংসা করে লাভ হবে না। তাকে মেইন পয়েন্ট ধরে প্রশ্ন করতে হবে।
তো একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করল
” আবরার তাসনিন সিঙ্গেল ওর মিঙ্গেল।
আবরার সহজ ভাষায় জবাব দিলো
তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ৩৫
“ম্যারিড
আরেকজন প্রশ্ন করলো
” কে সেই লাকী গার্ল?
এবার জবাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না।
আরেকজন বললো
“আপনার সঙ্গে সব সময় এই বিড়ালটা দেখা যায়। এর কারণ কি?
বিড়ালটা
সাংবাদিককে থামিয়ে আবরার জবাব দেয়
” হি ইজ নট জাস্ট এ ক্যাট।
হি ইজ মাই চাইল্ড।
