উন্মাদনা পর্ব ২৬
কায়নাত খান কবিতা
“ আমরা এখানে কেন এসেছি অভী?”
“ তোরে বিক্রি করতে!”
অভীর কথাগুলো কর্ণে পৌঁছাতেই আনন্দীর ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে ওঠে!যেন অচেনা এক আশঙ্কা নীরবে তার বুকের ভেতর জায়গা করে নেয়। মুহূর্তেই চারপাশের সব শব্দ ফিকে হয়ে আসে, শুধু নিজের হৃদস্পন্দনটাই যেন স্পষ্ট শোনা যায়।
বাইক থামার সঙ্গে সঙ্গেই সে তড়িঘড়ি করে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।জ্যাকেটের শক্ত বাঁধন থেকে মুক্তি পেতে চায় মরিয়া হয়ে। তার আঙুলগুলো কাঁপতে থাকে, শ্বাসপ্রশ্বাস ভারী হয়ে ওঠে, তবুও সে থামে না।
কিন্তু বাঁধনটা যেন আজ অস্বাভাবিকভাবে কঠিন।যেন কোনো অদৃশ্য শক্তি তাকে আটকে রেখেছে। বারবার চেষ্টা করেও যখন সে মুক্ত হতে পারে না, তখন এক অদ্ভুত অসহায়তা ধীরে ধীরে তাকে গ্রাস করে। মনে হয়, শুধু শরীর নয়,কোথাও যেন তার ভেতরের অংশটাও আটকে গেছে, নিঃশব্দে।
কিন্তু হঠাৎ করে জ্যাকেটটা খুলে ফেলতেই হালকা একটা শব্দ হয়—যেন বাঁধন ছিঁড়ে যাওয়ার নিঃশব্দ ঘোষণা। অভী বাইক থেকে না নেমেই, পুরো শরীর না ঘুরিয়েই শুধু মুখ আর ঘাড়টা সামান্য কাত করে তাকায় আনন্দীর দিকে।
সে দৃষ্টি সোজা নয়,কিছুটা আড়াল করা, কিছুটা খেলাচ্ছলে ছোড়া। চোখের কোণে একরকম নির্লজ্জ হাসি জমে থাকে, যেন পরিস্থিতির ভেতরে থাকা অস্বস্তিটুকু সে খুব ভালো করেই উপভোগ করছে। ঠোঁটের কোণে টান, দৃষ্টিতে বেপরোয়া আত্মবিশ্বাস।যেন কারও সীমারেখা মানা তার স্বভাবে নেই।
“ রাগ করলা?”
অভীর ঠাট্টাভরা কথাগুলো কানে যেতেই আনন্দীর পুরো শরীর হঠাৎ কেঁপে উঠল। যেন ভয় ধীরে ধীরে তার শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়ছে। বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ এত জোরে হচ্ছিল যে মনে হচ্ছিল পাশের মানুষও শুনতে পাবে। তার শ্বাস ছোট হয়ে আসছিল, গলা শুকিয়ে যাচ্ছিল।
অভী বাইক থেকে নামতেই কোনো কথা না বলে শক্ত হাতে আনন্দীর কবজি চেপে ধরে। তারপর টেনে নিয়ে যেতে শুরু করে। সেই টানে ছিল ভয়ঙ্কর জোর, ছিল এমন এক কঠোরতা, যেটা আনন্দীকে আরও অসহায় করে তুলছিলো। সে বারবার নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু অভীর শক্তির কাছে তার প্রতিরোধ একদমই দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল।
“ আমার হাত ছাড় জানো’য়ার! আমি যাবো না তোর সাথে।”
খুব জোরে জোরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে আনন্দী। আতঙ্কে তার কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছিল প্রায়।
“বাঁচাও! কেউ আছেন? আমাকে ছাড়!”
সে হাত ছাড়ানোর জন্য ছটফট করতে থাকে। শরীর কাঁপছে, শ্বাস এলোমেলো। চারপাশের অন্ধকার গলিতে তার চিৎকার প্রতিধ্বনির মতো ছড়িয়ে পড়ছিল, কিন্তু আশেপাশের মানুষজন যেন অভ্যস্ত নির্লিপ্ততায় তাকিয়েও না দেখার ভান করে আছে।পরক্ষণেই অভী থেমে যায়।
ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে আনন্দীর দিকে তাকায় সে। ঠোঁটের কোণে বিদ্রুপের হাসি ফুটে ওঠে। তারপর ঠাণ্ডা, তাচ্ছিল্যভরা স্বরে বলে,
“চিৎকার করিস না বা’ন্দী! তোরে বেঁচে বাড়ির ছাঁদ ঠিক করতে হইবো আমার।”
“ বাড়ির ছাঁদ ঠিক করার জন্য আপনি আমাকে বেঁচে দিচ্ছেন?”
” ইয়ো”
“এতো টাকার প্রতি লোভ!”
“ টাকার জন্য আমি নিজেরে ও বিক্রি করতে পারি। আর তুই কোন খেতের মুলা।”
আনন্দীর হাত শক্ত করে ধরে টেনে পুরোনো তিনতলা বাড়িটার ভেতরে ঢুকে অভী। দরজার ভাঙা কাঠ আর স্যাঁতসেঁতে দেয়াল দেখে প্রথম দেখাতেই গা শিউরে ওঠে আনন্দীর। পুরো বাড়িজুড়ে এক অদ্ভুত গন্ধ, পুরোনো ধোঁয়া, সস্তা আতর আর নোংরা ঘামের মিশ্রণ। শ্বাস নিতেও অস্বস্তি হতে থাকে তার।
চারপাশে কয়েকজন মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। কারও চোখে ক্লান্তি, কারও ঠোঁটে জোর করে টেনে রাখা হাসি। তাদের খোলামেলা পোশাক আর অস্বাভাবিক আচরণ দেখে আনন্দীর চোখ বিস্ফারিত হয়ে যায়। বুকের ভেতরটা ধক করে ওঠে।এ কোথায় এসেছে সে?
ভয়ে তার পা কাঁপতে শুরু করে। সে একবার পিছনে তাকানোর চেষ্টা করে, কিন্তু অভীর শক্ত হাত তাকে সামনে টেনে নিয়ে চলে।সিঁড়িগুলো পুরোনো, প্রতিটা ধাপে কটকট শব্দ উঠছিল। অভী কোনো কথা না বলে তাকে সোজা দোতলায় নিয়ে যায়। করিডোরের শেষের একটা আধখোলা দরজার সামনে এসে থামে।
ভেতরে মোটা গড়নের এক মহিলা আরাম করে বসে পান চিবোচ্ছিল। চোখদুটো তীক্ষ্ণ, হিসেবি।
অভী আনন্দীকে ধাক্কা দিয়ে তার সামনে ফেলে দেয় প্রায়। ভারসাম্য হারিয়ে রাজিয়া বিবির গায়ের ওপর গিয়ে পড়ে আনন্দী।রাজিয়া বিবি ধীরে ধীরে আনন্দীর থুতনি তুলে মুখটা ভালো করে দেখে। তারপর ঠোঁট বাঁকিয়ে তৃপ্তির হাসি দিয়ে বলে ওঠে,
“খাসা মাল…”
কথাটা শুনেই আনন্দীর শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসে। যেন মুহূর্তেই বুঝে যায়।সে ভয়ংকর এক ফাঁদের মধ্যে এসে!
“ ওকে বাই রাজিয়া ভুটকি।”
“ কিছু খাইয়া যা চাঁদ বাবা।”
পিছনে ঘাড় ঘুরিয়ে অভী চারপাশে একবার তাকায়, তারপর তাচ্ছিল্যের সুরে বলে,
“ খাওয়া মাল আমি খাই না। টাটা।”
চলে যেতে থাকে অভী।
“অভী… আমাকে নিয়ে যান… প্লিজ… আমি এখানে থাকলে ম’রে যাবো…”
কান্নায় ভেঙে পড়ে অভীর পেছনে ছুটে যায় আনন্দী। তার কণ্ঠে ছিল আতঙ্ক, অসহায়তা আর বাঁচার শেষ আকুতি। সে কাঁপা হাতে অভীর বাহু ধরতে চেয়েছিল, কিন্তু অভী একবারও পিছনে তাকাল না। যেন আনন্দীর কান্না তার কাছে কোনো শব্দই না।
নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় সে।আনন্দীও তার পেছনে দৌড় দিতে গিয়েছিল। কিন্তু দরজার কাছেই দু-জন মেয়ে তাকে শক্ত করে চেপে ধরে। আনন্দী ছটফট করতে থাকে, হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করে, কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে,
“আমাকে ছাড়ুন! প্লিজ… আমাকে যেতে দিন!”
কিন্তু কারও মুখে কোনো দয়া ছিল না।ঘরের মাঝখানে বসে পান চিবোচ্ছিল রাজিয়া বিবি। ঠোঁটের কোণে বিরক্ত হাসি টেনে সে ধীর স্বরে বলল,
“তৈরি কর এরে।”
একটা কথাতেই আনন্দীর বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।তাকে প্রায় টেনে একটা ছোট ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো। ঘরটায় ভ্যাপসা গন্ধ, স্যাঁতসেঁতে দেয়াল আর হলুদাভ ম্লান আলো। বিছানার ওপর কিছু উগ্র পোশাক ছুঁড়ে ফেলে মেয়েগুলো বলল,
“এইগুলো পড়ে নে।”
তারপর বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিল।
দুমদাম করে দরজায় আঘাত করতে থাকে আনন্দী।
“খুলুন! প্লিজ খুলুন! আমি এখানে থাকব না!”
তার চিৎকার ধীরে ধীরে কান্নায় ভেঙে যায়। বাইরে থেকে কোনো সাড়া আসে না।একসময় ক্লান্ত হয়ে দরজার পাশে বসে পড়ে সে। নিঃশ্বাস কাঁপছে, চোখ ঝাপসা হয়ে আছে কান্নায়। মাথার ভেতর একটাই চিন্তা ঘুরছে।এখান থেকে বের হতে না পারলে সব শেষ।ঠিক তখনই তার চোখ পড়ে কোণায় পড়ে থাকা স্কুল ব্যাগটার দিকে।মুহূর্তের মধ্যে যেন ডুবে যাওয়া মানুষ একটা খড়কুটো পেয়ে যায়।
তাড়াহুড়ো করে ব্যাগ খুলে ফোন বের করে আনন্দী। তার হাত এতটাই কাঁপছিল যে ঠিকমতো স্ক্রিনেও চাপ দিতে পারছিল না।প্রথমেই বাবাকে কল দেয় সে।কয়েকবার রিং হতে থাকে,কিন্তু কেউ ধরে না।
চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে আনন্দীর।
“বাবা… প্লিজ ফোনটা ধরো… একবার ধরো বাবা…”
কয়েকবার চেষ্টা করেও কোনো উত্তর পায় না সে।
তারপর মায়ের নম্বরে কল দেয়।ওপাশে ফোন ধরেন তার মা।
“হ্যালো? আনন্দী?”
মায়ের কণ্ঠ শুনেই আনন্দী হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। কিন্তু নেটওয়ার্কের সমস্যায় তার কথাগুলো ভেঙে ভেঙে যায়।
“মা… আমা… বাঁচা”
লাইন কেটে যায়।মুহূর্তেই যেন পৃথিবীটা থেমে যায় আনন্দীর কাছে।তার হাত থেকে ফোন প্রায় পড়ে যেতে থাকে । পুরো শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসতে থাকে ধীরে ধীরে। মনে হতে থাকে সত্যিই এবার আর কেউ তাকে বাঁচাতে পারবে না।হঠাৎই তার মনে পড়ে রেহমানের কথা।
কাঁপা হাতে দ্রুত রেহমানের হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে দেয় সে। তারপর একের পর এক কল করতে থাকে।
সেই সময় শহরের মূল সড়কে চেকপোস্ট ডিউটিতে ছিল রেহমান। রাতভর গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চলছিল ভরপুর। চারপাশে পুলিশের ওয়াকিটকির শব্দ, গাড়ির হর্ন আর ব্যস্ততা।এই বিশৃঙ্খলার মাঝেই বারবার ফোনটা ভাইব্রেট করছিল তার পকেটে। কিন্তু ডিউটির চাপে প্রথম কয়েকটা কল দেখতে পারেনি সে।
এদিকে প্রতিবার কল কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দীর বুকের ভেতরটা আরও ডুবে যেতে থাকে । তার শ্বাস ছোট হয়ে আসতে থাকে । মনে হয় এই বুঝি দম বন্ধ হয়ে যাবে।
ঠিক তখনই ফোনের স্ক্রিনে রেহমানের কল ব্যাক ভেসে ওঠে।এক সেকেন্ডও দেরি না করে কল রিসিভ করে আনন্দী।
“স্যা… স্যার…”
তার গলা কাঁপছিল ভয় আর কান্নায়।
“আমাকে বাঁচান… অভী… অভী আমাকে নোংরা মেয়েদের মাঝে বেচে দিয়েছে…”
বাকিটুকু আর বলতে পারে না সে। কান্নায় ভেঙে পড়ে।ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নিস্তব্ধতা।তারপর হঠাৎ বিকট শব্দ হয়, যেন কিছু জোরে আঘাত করা হয়েছে। সম্ভবত রেহমান রাগে রাস্তার ব্যারিকেডে ঘুষি মেরেছে।পরক্ষণেই রেহমানের গলা ভেসে আসে।
“কিছু হবে না তোমার! আমি এখনই আসছি। কলে থাকো তুমি… ভয় পেও না!”
“স্যার…!”
আনন্দী আর কিছু বলার আগেই।হুট করে দরজাটা খুলে যায়।দরজা খুলেই ভেতরে ঢুকে পড়ে আগের সেই দু-জন মেয়ে। আনন্দী কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের একজন ঝাঁপিয়ে পড়ে তার হাতের ফোনটা কেড়ে নিতে চায়।
“না! না, ফোনটা দিব না!” আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠে আনন্দী।
সে মরিয়া হয়ে ফোনটা বুকের সঙ্গে চেপে ধরে। কিন্তু দু-জনের শক্তির সামনে একা আনন্দীর লড়াই বেশিক্ষণ টেকে না। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। একজন তার হাত চেপে ধরে, আরেকজন ফোনটা ছিনিয়ে নেয় জোর করে।
“স্যার! স্যার!”
ফোনটা হাতছাড়া হওয়ার আগ মুহূর্তেও চিৎকার করে ওঠে আনন্দী। কিন্তু কল কেটে যায়।মুহূর্তেই যেন শেষ আশাটুকুও নিভে যায় তার।
সে ছটফট করতে থাকে, কাঁদতে থাকে, কিন্তু মেয়েগুলো কোনো কথা না বলে তাকে টেনে বাইরে নিয়ে যায়। করিডোরটা আরও অন্ধকার, আরও ভয়ংকর লাগতে শুরু করে এবার। আনন্দীর বুক ধড়ফড় করতে থাকে ভয়ানকভাবে। তার মাথার ভেতর তখন একটাই চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে ,এবার তার সাথে কী হতে যাচ্ছে?
“প্লিজ… আমাকে ছেড়ে দিন…” কাঁপা গলায় বলে ওঠে সে।
কেউ উত্তর দেয় না।হঠাৎ করেই একটা আধো-আলো ঘরের সামনে এনে তাকে ভেতরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় তারা।আনন্দী হোঁচট খেয়ে মেঝেতে পড়ে যায় প্রায়।
ঘরটার ভেতরে ভ্যাপসা, নোংরা একটা গন্ধ। সস্তা সিগারেট, মদের ঝাঁঝ আর পুরোনো ঘামের গন্ধে গা গুলিয়ে ওঠে তার। দেয়ালের রং উঠে গেছে, বিছানার চাদর এলোমেলো, পুরো ঘরটাই যেন একটা দমবন্ধ করা অন্ধকারে ডুবে আছে।
কাঁপতে কাঁপতে মাথা তুলে তাকায় আনন্দী।ঘরের এক কোণে বিছানার ওপর একজন আধশোয়া হয়ে বসে রয়েছে । হাতে গাজরা পেঁচানো। আধো আলোয় মুখটা ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না।আনন্দীর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল ধীরে ধীরে।লোকটা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়।তারপর এক পা, দুই পা করে সামনে এগোতে থাকে।ম্লান আলোয় আস্তে আস্তে মুখটা স্পষ্ট হতে থাকে।অভী এখানে?
তাকে দেখেই আনন্দীর চোখ মুহূর্তে পানিতে ভরে ওঠে
অভীর ঠোঁটে ধীরে ধীরে একটা অদ্ভুত হাসি ফুটে ওঠে। সে এগিয়ে আসতে থাকে খুব ধীর গতিতে , যেন আনন্দীর ভয়টা উপভোগ করছে সে।
উন্মাদনা পর্ব ২৫
আর আনন্দী পিছিয়ে যেতে যেতে দেয়ালে ঠেকে যায়। তার চোখের পানি তখন ও ভরপুর। অভী ধীরে ধীরে তার সামনে এসে থামে।তারপর আচমকাই আনন্দীর হাতটা ধরে টেনে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নেয় অভী। আনন্দী বুকের সাথে পিষে অভী বলে,
“ আমার খাওয়া মা’ল, আমি অন্য কাউরে খাইতে দেই না বোকাচন্দ্র।”
