Home ম্যারিড লাইফ্ ‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৬

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৬

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৬
‎রঙ্গনা মৈত্র ঊর্মি

‎ইখতিয়ারের চোখদুটো তখনও মুগ্ধার চোখে স্থির।
‎চোয়াল শক্ত। কপালের রগ হালকা ফুলে আছে।
‎ঘরের বাতাসে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা জমে উঠেছে। যেন সামান্য একটা শব্দ হলেই সবকিছু ভেঙেচুরে পড়বে।
‎ “আমারে মানুষ মনে হচ্ছে না?”
‎প্রশ্নটা আবারও ভঙ্গুর আওয়াজ তুলল তাদের মাঝখানে। মুগ্ধা এবার ঢোঁক গিলল।
‎ভয় এখনও আছে। তবে সেই ভয়ের নিচে ধীরে ধীরে মাথা ঠেলে তুলছে অন্য একটা অনুভূতি।
‎অভিমান। গভীর অভিমান। আত্মমর্যাদা।
‎সে ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
‎তারপর ইখতিয়ারের চোখে চোখ রেখেই বলল,

‎ “আমারে মানুষ মনে হয়নি আপনার এই তিন মাসে?”
‎ইখতিয়ারের ভ্রু কুঁচকে গেল।
‎মুগ্ধা হতাশ চোখে তাকাল। ইখতিয়ার হঠাৎ সোজা হয়ে দাঁড়াল। ইখতিয়ার গম্ভীর গলায় বলল,
‎”আই নো,বাট”
‎ইতিয়ার থামল। কিন্তু মুগ্ধা আর কিছু বলার সুযোগ দিতে চাইলে না। মুগ্ধা ইখতিয়ারের চোখে চোখ রেখে বলল,
‎”কিন্তু কি? তিনটা মাস আমি শুধু আপনার দিকে তাকিয়ে থেকে গেলাম একটা অচেনা পরিবারে, যার জন্য ঐ পরিবারকে আপন করার চেষ্টা করলাম , অথচ এই তিনমাসে সেই মানুষটি ই আমার আপন না এর মর্ম বোঝেন আপনি? ”

‎টেবিলের উপর রাখা দুই হাত সরিয়ে নিল ইখতিয়ার । চোখে তার না বলা ব্যাথা, কষ্ট।
‎তারপর এক পা পিছিয়ে গেল। ইখতিয়ার একটু দূরে সরে গেল। নিজের হয়ে সাফাই গাইল,
‎”আমাদের বিয়ের কথা ওঠে যখন,আমি তোমার কাছে সময় চেয়েছিলাম মুগ্ধা ”
‎মুগ্ধা তাকালো। ঠোঁটে তাঁর ব্যাথাতুর কৌতুক । বলল,
‎”তিনমাস কম সময় মনে হচ্ছে আপনার? নব্বই দিন। দশ এগারো দিন বেশি বৈ কম নয়, এই সময় কি যথেষ্ট নয়?”
‎ইখতিয়ার শক্ত হলো। চোখে গাম্ভীর্য বিদ্যমান। এক পা এগিয়ে বলল,
‎”মানছি আমি অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি, সেই কষ্টের দ্বিগুন আমিও পেয়েছি মুগ্ধা, একটা মেয়েকে আমার করে এনেও আমার করতে পারছি না, এই যন্ত্রনা কুড়ে কুড়ে খায় মুগ্ধা, কত রাত জেগে কাটাই, জেনেছো তুমি?”
‎মুগ্ধার নির্লিপ্ত স্বর ভেসে এলো,

‎”আমি তো জানতে চেয়েছি ইখতিয়ার, আপনিই জানাতে চাননি”
‎ইখতিয়ার আরেকটু সামনে এগোল। ঠিক যতটা পেছনে গেছিল, ততটাই।
‎”তোমায় কষ্ট পেতে দিতে চাইনি আমি, ভেবেছিলাম এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে, কজ আমি জানি তুমি আমার কষ্টে কষ্ট পাও ”
‎”এখন ও তো কষ্ট ই পাচ্ছি পার্থক্য কি দেখতে পারছেন?”
‎”তাই বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা কোন সলিউশন হতে পারে না মুগ্ধা”

‎ইখতিয়ার মুগ্ধার খুব নিকটে। যতটা কাছাকাছি থাকলে এখকজনের নিঃশ্বাস আরেকজনের উপর আছড়ে পড়ে ততটা। মুগ্ধার ভেতরটা মমের ন্যায় গলতে শুরু করে ছে। কিন্তু বাইরে পাশানস্তুপ কঠরতা। কেউ ই বা পারে প্রিয় মানুষের এত সন্নিকটে এসে স্থির থাকতে।
‎ঘরটার ভেতর তখন এমন এক নীরবতা, যেখানে মানুষের নিঃশ্বাসের শব্দও স্পষ্ট শোনা যায়।
‎ইখতিয়ার স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।তার চোখ এখনও মুগ্ধার মুখে।
‎আর মুগ্ধা? সে চোখ নামিয়ে রেখেছে।
‎ইখতিয়ারের শেষ প্রশ্নটার কোনো উত্তর সে দেয়নি।
‎দিতে পারেনি। কথাগুলো বারবার মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে, অথচ ঠোঁট পর্যন্ত এসে আটকে যাচ্ছে। যতই হোক মেয়ে মানুষ তো প্রিয়জনের কষ্টে তো কষ্ট পেতে হবে। চোখে পানি আসতে হবে। তারা তো আর পাষান না!
‎ঠিক তখনই দরজার বাইরে থেকে স্নিগ্ধার কণ্ঠ ভেসে এলো।
‎ “আপু?”
‎দু’জনেই সামান্য চমকে উঠল। স্নিগ্ধা আবার ডাকল,
‎”ভাইয়া?”
‎তার গলায় স্বাভাবিক চঞ্চলতা।

‎— “আম্মু ডাকছে। ডিনার রেডি। নিচে আসবা তোমরা?”
‎কথাটা বলে আবারও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল সে।
‎ভেতর থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে নিজেই বলল,
‎— “আচ্ছা, আমি নিচে গেলাম। তাড়াতাড়ি আসো।”
‎পায়ের শব্দ ধীরে ধীরে দূরে সরে গেল করিডোরে।
‎আবার নেমে এলো নীরবতা। তবে আগের মতো ভারী নয়।
‎বরং একটু অস্বস্তিকর।
‎মুগ্ধা ধীরে ধীরে গভীর একটা শ্বাস নিল।
‎যেন আচমকা একটা পথ খুঁজে পেয়েছে।
‎এই কথোপকথন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথ।
‎সে আর ইখতিয়ারের দিকে তাকাল না। না কোনো উত্তর দিল। না কোনো ব্যাখ্যা।
‎চুপচাপ হাত বাড়িয়ে ইখতিয়ারের বুকের কাছে আলতো চাপ দিল। খুব জোরে নয়।
‎শুধু পথ ছেড়ে দেওয়ার মতো। ইখতিয়ার এক মুহূর্ত তার দিকে তাকিয়ে রইল।
‎তারপর এক পা সরে দাঁড়াল। চোখদুটো সরাল না অবশ্য। মুগ্ধা কোনো কথা না বলে আলমারির দিকে এগিয়ে গেল।

‎আলমারির দরজা খুলতেই হালকা একটা শব্দ হলো।ভেতরে সুন্দর করে গুছিয়ে রাখা জামাকাপড়। এক পাশে মুগ্ধার। আরেক পাশে অল্পকিছু ইখতিয়ারের। যদিও মানুষটা একবারের বেশি এখানে আসেনি, তবুও তার জামাকাপড়গুলো ঠিক মতোই যত্ন করে ভাঁজ করে রাখা। মুগ্ধা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল সেদিকে।
‎তারপর একটা ধূসর রঙের টি-শার্ট আর কালো ট্রাউজার বের করল।
‎আঙুলগুলো অদ্ভুত ধীর হয়ে গেছে। যেন সময় নিয়ে প্রতিটা কাজ করছে। পেছনে দাঁড়িয়ে ইখতিয়ার সব দেখছে নিঃশব্দে।
‎মেয়েটার মাথার পেছনের আলগা খোঁপা।
‎ঘাড়ের কাছে বেরিয়ে থাকা কয়েক গোছা চুল।

‎মুগ্ধা জামাকাপড়গুলো নিয়ে তার সামনে এসে দাঁড়াল।
‎তবুও চোখ তুলে তাকাল না। শুধু কাপড়গুলো এগিয়ে দিল।
‎”ফ্রেশ হয়ে নিচে আসেন।”
‎গলাটা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছে সে। তবু ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট।
‎ইখতিয়ার কাপড়গুলোর দিকে তাকাল। তারপর মুগ্ধার দিকে।
‎মেয়েটা এখনও চোখ তুলছে না।
‎যেন চোখে চোখ পড়ে গেলে আবার সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাবে। কয়েক সেকেন্ড পর ইখতিয়ার নীরবে জামাকাপড়গুলো হাতে নিল।
‎তার আঙুল ছুঁয়ে গেল মুগ্ধার আঙুল। তবু দু’জনেই সেটা অনুভব করল।
‎মুগ্ধা দ্রুত হাত সরিয়ে নিল।
‎তারপর আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না সেখানে।
‎ঘুরে দরজার দিকে হাঁটল। টেবিল ল্যাম্পের হলদেটে আলোয় তার ছায়াটা দীর্ঘ হয়ে মেঝেতে পড়েছে।
‎দরজার কাছে গিয়ে একবারও পেছনে তাকাল না।
‎দরজা খুলল বেরিয়ে গেল।
‎আর দরজাটা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেল তার পেছনে।

‎রাত তখন ধীরে ধীরে গভীরতার দিকে ঝুঁকছে।
‎শহরের ব্যস্ততা অনেকটাই থেমে এসেছে। রাস্তায় গাড়ির শব্দ কমে গেছে, বাতাসেও নেমে এসেছে এক ধরনের প্রশান্ত নিস্তব্ধতা। ঠিক সেই সময় ইশতিয়াক বাড়ির গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকল।
‎মুখে তার চিরচেনা হাসি।
‎দিনভর যত কাজই থাকুক, বাসায় ফিরলেই ছেলেটার ভেতরের দুষ্টুমিগুলো যেন জেগে ওঠে।
‎বারান্দায় পা রাখতেই চোখে পড়ল রহিমা বেগমকে।
‎বয়স্কা মহিলা দোলনাচেয়ারে বসে আছেন। নাকে চশমা। হাতে তসবিহ। ঠোঁট নড়ছে ধীরে ধীরে। মনে হচ্ছে কোনো গভীর চিন্তায় ডুবে আছেন।
‎ইশতিয়াকের ঠোঁটের কোণে সঙ্গে সঙ্গে দুষ্টু হাসি ফুটল।
‎সে নিঃশব্দে এগিয়ে গেল।
‎তারপর একেবারে রহিমা বেগমের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,

‎— “কিগো বুড়ি, কী করো?”
‎রহিমা বেগম এমনভাবে চমকে উঠলেন যেন হঠাৎ বজ্রপাত হয়েছে।
‎— “হায় আল্লাহ!”
‎তসবিহ প্রায় হাত থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম।
‎মুহূর্তের মধ্যেই তিনি ঘুরে তাকালেন।
‎আর ইশতিয়াকের দাঁত বের করা হাসিমুখ দেখে তার মুখটা কুঁচকে গেল।
‎ “জ্বালাস না, দূর হ?”
‎ইশতিয়াক হেসে কুটিকুটি।
‎”তুমি বুড়ি কুটনিগিরি ছেড়ে দিচ্ছ কেন? মজা আইতেছে না তো”
‎রহিমা বেগম হাতের তসবিহ দিয়ে মারার ভান করলেন। ইশতিয়াক দ্রুত দুই পা পিছিয়ে গেল।
‎তার হাসি আরও বেড়ে গেল।
‎ “আহা! সত্য কথা কইলেই রাগ!”
‎”ইন্তিয়া তোমার ছেলেরে এখান যাইতে কও, মেরে ফেলব বলো।”

‎ “এইতো কুটনিগিরি স্ট্রাট, এইরকম থাকবা নয়তো তোমারে কুটনি রহিমা মনে হয়না।”
‎রহিমা বেগম এবার সত্যিই রেগে গেলেন। আর ইশতিয়াক প্রাণখোলা হাসিতে ফেটে পড়ল।
‎বাড়ির সবাই জানে, এই দুজনের খুনসুটি বহু বছরের পুরোনো।
‎রহিমা বেগম যতই রাগ দেখান না কেন, নাতিটার জন্য তার বুকভরা স্নেহ নদীর মতোই গভীর।
‎ইশতিয়াক জুতো খুলে ভেতরে ঢুকতেই ডাইনিং স্পেস থেকে ইন্তিয়া বেরিয়ে এলেন। ছেলেকে দেখে মুখে মৃদু হাসি ফুটল।
‎ “এসেছিস?”
‎ “জি, মাতাশ্রী।”
‎ “নাটক কম কর।”
‎ইশতিয়াক বুকের ওপর হাত রেখে বলল,
‎ “আপনার আদেশই আমার ধর্ম।”

‎ইন্তিয়া চোখ উল্টালেন। এমন সময় রান্নাঘর থেকে রাফেয়াও বেরিয়ে এলো। তার হাতে পানির জগ।
‎ইশতিয়াক হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন,
‎ “ভাইয়া আসেনি?”
‎প্রশ্নটা শুনেই রহিমা ভ্রু নাচাল।
‎রাফেয়া ঠোঁটের কোণে চাপা হাসি টেনে বলল,
‎ “না। আজ আসবে না।”
‎ “কেন?”
‎ “মুগ্ধাদের বাসায় গেছে।”
‎কথাটা বলেই সে পানির গ্লাস টেবিলে রাখল।
‎এক মুহূর্তের জন্য চারপাশে নীরবতা নেমে এলো।
‎ইশতিয়াক হো হো করে হেসে উঠল।
‎সুর টেনে বলল,
‎”সবই মায়া”
‎রাফেয়া হেসে ফেলল।
‎ইন্তিয়াও ঠোঁট চেপে হাসি লুকানোর চেষ্টা করলেন।
‎আর ইশতিয়াক?
‎সে মাথা দুলিয়ে দুলিয়ে ভাবুক গলায় বলল,

‎— “মানুষ চাঁদে যাইতে পারে, সমুদ্রের তলায় যাইতে পারে, কিন্তু বউয়ের রাগ থেইকা বাঁচতে পারে না, ভাগ্যিস আমার বৌ নাই।”
‎কথাটা বলেই নিজেই আবার হেসে উঠল।
‎তার হাসির শব্দে বাড়িটার নীরবতা ভেঙে গেল।
‎যেন দীর্ঘ দিনের পরিচিত কোনো আনন্দ ফিরে এসেছে ঘরে।
‎আর দূরে দোলনাচেয়ারে বসে থাকা রহিমা বেগম বিড়বিড় করে বললেন,
‎ “আল্লাহ, এই পোলাডারে একটু বুদ্ধি দাও!”
‎কিন্তু তার ঠোঁটের কোণেও তখন অদৃশ্য এক স্নেহমাখা হাসি খেলা করছে। ইশতিয়াক সিঁড়ি বেয়ে উপরে যেতে লাগল। মুখে হাসি। তর্জনি আঙুলে বাইকের চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে তার চিরচেনা বুলি আওড়ালো,
‎”মনজগতে মনের মানুষ মন দিয়ে মন কাড়ে,
‎সেই তো অধম মনের মানুষ মন পেয়ে যে মান করে”

‎গ্রীষ্মের সকাল।
‎সূর্যটা আজ যেন খুব ভোর থেকেই নিজের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করেছে। আকাশের পূর্বদিকটা গলিত সোনার মতো উজ্জ্বল হয়ে আছে। জানালার ফাঁক গলে আসা রোদের সরু রেখাগুলো ঘরের মেঝেতে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেন কেউ নিপুণ হাতে হলুদ রেশমের ফিতা বিছিয়ে দিয়েছে।
‎বাইরে আমগাছের পাতাগুলোয় হালকা বাতাস লেগে মৃদু শব্দ উঠছে। দূরে কোথাও একটানা কোকিল ডাকছে। সেই ডাকের মধ্যে অদ্ভুত এক অলসতা আছে, ঠিক গ্রীষ্মের সকালের মতো। উঠোনে ভেজা মাটির গন্ধ নেই, বরং বাতাসে মিশে আছে রোদে গরম হয়ে ওঠা দিনের আগমনী বার্তা।

‎মুগ্ধার ঘুম ভাঙল ধীরে ধীরে। চোখের পাতাগুলো খুলতেই কিছুক্ষণ স্থির হয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল সে। ঘুম আর জাগরণের মাঝামাঝি সেই অস্পষ্ট মুহূর্তটায় মানুষ অনেক সময় ভুলে যায় সে কোথায় আছে, কী ভাবছিল, কী নিয়ে ঘুমিয়েছিল।
‎মুগ্ধারও তাই হলো।কয়েক সেকেন্ড পর তার দৃষ্টি গিয়ে থামল দেয়ালে ঝোলানো ঘড়িটার দিকে।
‎কাঁটা ঠিক আটটার ঘরে।
‎মুহূর্তের মধ্যেই গত রাতের কথা মনে পড়ে গেল তার। কাল রাতে ডিনারের পর আর কোনো ঝগড়া হয়নি। কোনো কথা ই হয়নি।
‎বরং সেটাই যেন আরও অস্বস্তিকর ছিল। কারণ কিছু কিছু নীরবতা ঝড়ের চেয়েও বেশি ভারী হয়।
‎ঘুমানোর আগে ইখতিয়ার শুধু একবার বলেছিল,
‎ “তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।”
‎খুব সাধারণ একটা বাক্য। তবু সেই কথার ভেতরে লুকিয়ে ছিল অনেক অজানা ইঙ্গিত। মুগ্ধা কোনো উত্তর দেয়নি। না সম্মতি। না অস্বীকৃতি। শুধু চুপচাপ শুয়ে ছিল। ইখতিয়ারও আর কিছু বলেনি।
‎কিছুক্ষণ পর ঘরের বাতি নিভে গিয়েছিল।

‎তারপর দুই অশান্ত মনের মানুষ একই বিছানায়, একই ছাদের নিচে, অথচ নিজেদের চিন্তার ভিন্ন ভিন্ন গোলকধাঁধায় হারিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। মুগ্ধা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর পাশে তাকাল।
‎বিছানার অন্য পাশটা খালি। চাদরটা সামান্য কুঁচকে আছে। বালিশেও এখনও মাথা রাখার চিহ্ন স্পষ্ট। অর্থাৎ ইখতিয়ার এখানেই ছিল। ঠিক এখানেই।

‎মুগ্ধা ভ্রু কুঁচকাল। ইখতিয়ার ? কোথায় গেল? মুগ্ধা ধীরে ধীরে উঠে বসল। খোলা চুলগুলো কাঁধ বেয়ে নেমে এলো।
‎ঘরটা আশ্চর্যরকম শান্ত। যেন ইখতিয়ারের প্রতিনিধি। ঠিক তখনই পাশে রাখা ফোনটা হালকা কম্পন তুলল। টুন করে কয়েকটা শব্দ হলো।
‎মুগ্ধা ফোনটা হাতে নিল। স্ক্রিন জ্বলে উঠতেই তার চোখ থেমে গেল প্রেরকের নামের ওপর।
‎ইখতিয়ার।
‎তার বুকের ভেতরটা অকারণে ধক করে উঠল।
‎এক মুহূর্ত ইতস্তত করে মেসেজটা খুলল সে।
‎স্ক্রিনে ভেসে উঠল কয়েকটি লাইন—

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৫

‎”আনব্লক করে গেলাম, আর ব্লক যেন না পড়ে, নয়তো ফোন থাকবে না, আই রিপিট ফোন থাকবে না, কল দিলে কল ধরবা, পাঁচ সেকেন্ড ও লাগে না যেন”
‎তর ঠিক নিচে আবার একটা ম্যাসেজ আসল। সেখানে লেখা—-
‎”অলওয়েজ বি মাই গুড ওয়াইফ, নট লাইক এ স্ট্রোম”

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here