Home ম্যারিড লাইফ্ ‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৫

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৫

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৫
‎রঙ্গনা মৈত্র ঊর্মি

দু’দিন কেটে গেছে। কেটে গেছে? উহু কোনরকমে বয়ে গেছে।
‎সময়টা খুব বেশি নয়। মাত্র আটচল্লিশ ঘণ্টা।
‎কিন্তু অপেক্ষা মানুষের জন্য সময়কে অদ্ভুতভাবে বদলে দিতে পারে। কখনো একটা বিকেলকে বছরের মতো দীর্ঘ করে দেয়, কখনো আবার পুরো একটা বছরকে মুহূর্তের মতো ছোট।
‎এই দু’দিন ইখতিয়ারের কেটেছে ব্যস্ততায়।
‎এমন ব্যস্ততা, যেখানে মানুষের নিঃশ্বাস নেওয়ারও সময় থাকে না।
‎সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটার পর একটা মিটিং। ফাইলের স্তূপ। কর্মচারীদের প্রশ্ন। ফোনকল। সাইট ভিজিট। হিসাবনিকাশ। কাজের চাপে মাথা তুলে বড় এই ঘরের ছাদ দেখারও সুযোগ হয়নি তার।
‎তবু কিছু কিছু মানুষ আছে, যাদের থেকে নিজেকে দূরে রাখার জন্য ব্যস্ততা যথেষ্ট নয়। প্রতি মুহুর্তে মস্তিষ্কে তাদের বিচরণ ঘটে। মুগ্ধা সেই মানুষগুলোর একজন হয়তো। নয়ত সারাদিন তাকে নিয়ে ভাববে কেন ইখতিয়ার?
‎দিনের ভেতর যতবারই একটু ফাঁকা সময় এসেছে, ইখতিয়ারের মনে পড়েছে একটা মুখ।গোলগাল রাগী মুখ। কপাল কুঁচকে তাকানো ।কারণে-অকারণে ঝগড়া করা।
‎ খিলখিলিয়ে হেসে ওঠা। সব যেন জীবন্ত হয়ে উঠছে ইখতিয়ারের চোখের সামনে।

‎অফিসের কাঁচঘেরা কেবিনে বসে ছিল ইখতিয়ার।
‎সন্ধ্যা নেমেছে অনেকক্ষণ।
‎জানালার বাইরে শহরের আলো জ্বলে উঠেছে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, অন্ধকারের গায়ে কেউ অসংখ্য জোনাকি আটকে দিয়েছে। টেবিলের ওপর রাখা ফোনটার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল সে।
‎তারপর ড্রয়ারের ভেতর হাত ঢুকিয়ে একটা ছোট্ট প্যাকেট বের করল।
‎নতুন সিম। আজ দুপুরে কিনেছিল। নিজেকেও ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারেনি কেন কিনেছে।
‎হয়তো আশায়। নয়তো শান্তি পেতে। কিংবা হয়তো দুটোই।
‎ধীরে ধীরে সিমটা ফোনে ঢুকাল সে। তারপর অনেকক্ষণ ধরে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।ইখতিয়ার কল দিল। রিং হলো। একবার,দুবার করে কয়েকবার।
‎প্রতিটা রিংয়ের সঙ্গে বুকের ভেতর কোথাও একটা চাপা টান অনুভব করল ইখতিয়ার। যেন অন্ধকার নদীর ওপারে দাঁড়িয়ে কারও নাম ধরে ডাকছে, আর অপেক্ষা করছে প্রতিধ্বনি ফিরে আসার।
‎হঠাৎ কলটা রিসিভ হলো।
‎ইখতিয়ারের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
‎ওপাশে পিনপতন নীরবতা। তারপর—
‎“হ্যালো?”
‎গলাটা খুব পরিচিত ইখতিয়ারের। এতটাই পরিচিত যে চোখ বন্ধ করলেও চিনে নেওয়া যায়।
‎ইখতিয়ারের আঙুল শক্ত হয়ে এলো ফোনের গায়ে।

‎মুগ্ধা আবার বলল,
‎“হ্যালো? কে বলছেন?”
‎ইখতিয়ার যেন কথা বলতে ভুলে গেছে। তার গলা শুকিয়ে এসেছে। আঙুলগুলো অকারণে শক্ত হয়ে আছে। যেন শক্ত থাকার আপ্রাণ চেষ্টা।
‎কয়েক সেকেন্ড পর খুব আস্তে বলল,
‎“মুগ্ধা…”

‎মুগৃধা থমকালো তবে দমল না। সে তার নিজের প্রতি অন্যায় কখনো করে না। এটা তার আত্যমমর্যাদার প্রশ্ন। জোরে একটা শ্বাস নিয়ে লাইন কেটে দি মুগ্ধা।
‎ইখতিয়ার স্থির হয়ে বসে রইল। ফোনটা এখনও কানের পাশে। তার চোয়াল ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে এলো যেন। কপালের রগ ফুলে উঠল সামান্য।
‎সে কয়েক সেকেন্ড স্থির দৃষ্টিতে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর আবার কল দিল।কিন্তু এবার কল ঢুকলই না।
‎সরাসরি কেটে যাচ্ছে। ইখতিয়ারের চোখ সরু হয়ে এলো। সে আরেকবার চেষ্টা করল। কিন্তু না, ফোন বন্ধ। মুহূর্তের মধ্যেই সব বুঝে গেল সে।
‎মুগ্ধা এই নাম্বারটাও ব্লক করে দিয়েছে।
‎তার আঙুলের গিঁট সাদা হয়ে উঠল ফোনটা শক্ত করে ধরার কারণে।
‎চেয়ার থেকে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল সে।
‎কেবিনের বিশাল কাঁচের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
‎নিচে ব্যস্ত শহর। মানুষ দৌড়াচ্ছে। জীবনের তাগিদে। সবার জীবন স্বাভাবিক গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছে।
‎শুধু তার নিজের ভেতরটাই যেন থমকে গেছে।
‎ইখতিয়ার দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বন্ধ করল।
‎তার ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে। ভীষণভাবে।
‎এই দূরত্ব সহ্য করা তার জন্য দিন দিন অসম্ভব হয়ে উঠছে।
‎ধীরে ধীরে ফোনটা মুঠোর ভেতর চেপে ধরল সে।
‎আর নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে খুব নিচু স্বরে বলল,
‎“আমাকে রাগিয়ে, অপেক্ষা করিয়ে ভালো করছো না মুগ্ধা, নিজের সর্বনাশ নিজে ডাকছো।”

‎রাত তখন ঠিক আটটা।
‎তালুকদার বাড়িটা আজ যেন এক টুকরো উৎসব।
‎রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে একের পর এক সুগন্ধ। গরম ঘিতে ভাজা পেঁয়াজের গন্ধ, মসলায় কষানো গরুর মাংসের ঝাঁঝালো সুবাস, পোলাওয়ের মিষ্টি ঘ্রাণ—সব মিলিয়ে পুরো বাড়িটা যেন অদৃশ্য এক সুগন্ধি চাদরে মোড়ানো। রান্নাঘরের আলো জানালা পেরিয়ে উঠানে পড়ছে, আর সেই আলোয় ধোঁয়াগুলোকে মনে হচ্ছে সাদা তুলোর মতো ভেসে বেড়াচ্ছে।
‎আয়েশা বেগম আজ বিকাল থেকেই ব্যস্ত।
‎আজ যে একজন আসছে। তার খুব আদর আদর কেউ।
‎কলিং বেল বেজে উঠল।
‎আয়েশা বেগম থমকে দাঁড়ালেন। এই সময়ে আবার কে? এক মুহূর্ত পরই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
‎মায়েদের একটা আলাদা অনুভূতি থাকে। অনেক সময় তারা না দেখেও বুঝে যায় দরজার ওপাশে কে দাঁড়িয়ে আছে।
‎তিনি দ্রুত হাত মুছে দরজার দিকে এগিয়ে গেলেন।
‎দরজা খুলতেই তার অনুমান সত্যি হলো। যাকে মনে করে দরজা খুলেছে সে-ই।

‎দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ইখতিয়ার।
‎গাঢ় রঙের শার্ট পরা। দিনের ক্লান্তি স্পষ্ট মুখে। কপালের পাশে ঘামের শুকিয়ে যাওয়া দাগ। চোখের নিচে হালকা ক্লান্তির ছাপ। মনে হচ্ছে অফিস থেকে সোজা এখানে এসেছে।
‎দরজা খোলার সাথে সাথেই ইখতিয়ার মাথা নিচু করে সালাম দিল।
‎”আসসালামু আলাইকুম, আম্মু।”
‎আয়েশা বেগমের মুখ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
‎”ওয়ালাইকুমুস সালাম, বাবা।”
‎কথাটা বলার সময় তার গলায় এমন স্নেহ ছিল, যেন নিজের ছেলেকেই স্বাগত জানাচ্ছেন।
‎”এসো, এসো ভেতরে এসো । বাইরে দাঁড়িয়ে আছো কেন?”

‎ইখতিয়ার ভেতরে ঢুকল।জুতো খুলে একপাশে রাখল। তারপর ড্রয়িংরুমে পা রাখতেই অদ্ভুতভাবে চারপাশে চোখ বুলিয়ে নিল।
‎সোফার দিকে যাওয়ার আগে একবার করিডোরে তাকাল। তারপর সিঁড়ির দিকে। ডাইনিংয়ের দিকে।
‎তর কাঙ্ক্ষিত মানুষটা কই?
‎আয়েশা বেগম সবই দেখলেন। কিন্তু কিছু বললেন না। শুধু মুচকি হাসলেন।
‎”বসো বাবা।”

‎আয়েশা বেগম রান্নাঘরে গেলেন দ্রুত নাস্তা বানাতে। রান্নাঘরের দিকে দু’পা গিয়ে আবার ফিরে তাকালেন।
‎সোফায় বসে থাকা ইখতিয়ারের দিকে একবার ভালো করে নজর দিলেন। ছেলেটা বাহ্যিকভাবে যতই স্থির থাকার চেষ্টা করুক, তার চোখদুটো বারবার একই দিকে ঘুরে যাচ্ছে। যেমন চুম্বকের টানে লোহা অজান্তেই টেনে যায়, তেমনই তার দৃষ্টি বারবার বাড়ির ভেতরের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
‎আয়েশা বেগমের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটল। তিনি বুঝলেন এ দৃষ্টির মানে
‎”বাবা, নিচে বসে আছো কেন? উপরে যাও, আমি নাস্তা দিচ্ছি।”
‎ ইখতিয়ার একটু চমকালো।
‎”জি?”
‎”উপরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও, একই পোশাকে কতক্ষন থাকবে। তোমার পোশাক আছে মুগ্ধার আলমারিতে”
‎কয়েক সেকেন্ড ইতস্তত করল সে। তারপর খুব হালকা করে মাথা নাড়ল।
‎—”আচ্ছা।”
‎উঠে দাঁড়াল ইখতিয়ার।
‎সারাদিনের অফিসের পোশাক এখনও গায়ে। এগিয়ে গেল সিঁড়ির দিকে ।
‎সিঁড়ির ধাপগুলো একে একে পেরিয়ে উঠছিল ইখতিয়ার।

‎করিডোরের আলোয় তার ছায়াটা দীর্ঘ হয়ে মেঝেতে পড়েছে। চোখের নিচে ক্লান্তি জমে আছে, কিন্তু সেই ক্লান্তিকে ছাপিয়ে গেছে অন্য কিছু।
‎রাগ! অভিমান!
‎আর এক ধরনের অসহায় ক্ষোভ! হয়তো।
‎সে মুগ্ধার ঘরের সামনে এসে থামল। দরজাটা পুরোপুরি বন্ধ নয়। সামান্য ফাঁক।
‎সেই ফাঁক দিয়ে ভেতরের আলো বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। টেবিল ল্যাম্পের হলদেটে আলো। নরম, মৃদু সে আলো।
‎ইখতিয়ার শান্ত । অস্বাভাবিক শান্ত।
‎সে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল।
‎ঘরের ভেতর মুগ্ধা বসে আছে পড়ার টেবিলে।
‎চুলগুলো আলগোছে খোঁপা করা। সামনে খোলা বই। হাতে কলম। মাথাটা সামান্য নিচু। টেবিল ল্যাম্পের আলো তার গালের একপাশে পড়েছে, অন্যপাশে নরম ছায়া। মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটা সে এখন করছে।
‎পড়াশোনা।
‎কিন্তু ইখতিয়ারের চোখে সেই দৃশ্যটুকু কেমন যেন বিদ্রূপের মতো লাগল। কারণ গত তিনদিন ধরে সে নিজে ঠিকমতো ঘুমায়নি।

‎ঠিকমতো খায়নি। অফিসে বসেও কাজের ফাঁকে ফাঁকে একই নাম মনে পড়েছে।
‎একটু কথা বলার জন্য ছটফট করেছে। বেহায়ার মতো কল দিছে। আর মুগ্ধা?
‎একই জেদি মেয়ে, এখন দিব্যি পড়ছে!
‎যেন কিছুই হয়নি। ইখতিয়ার নামের কেউ তার জীবনে নেই। আর না ছিলো।
‎শব্দ করে দরজা লাগাল ইখতিয়ার। দরজা বন্ধ করার শব্দে মুগ্ধা মাথা তুলল। আর পরের মুহূর্তেই তার শরীর শক্ত হয়ে গেল।
‎চোখদুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে উঠল। এতটাই বড় যে মনে হলো চোখের পলক ফেলতেও ভুলে গেছে।
‎ইখতিয়ার। এখানে? এই ঘরে? এখন?
‎তার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
‎মুহূর্তের জন্য মনে হলো মাটিটা বুঝি সামান্য কেঁপে উঠেছে। স্বপ্ন দেখছে কি সে?
‎মগ্ধা চোখ ঝাপটে তাকাল। অস্পষ্ট স্বরে বলল,
‎“আপনি…?”
‎কথাটা ঠোঁট ছেড়ে বেরোতে গিয়েও যেন আটকে গেল। ইখতিয়ার কোনো উত্তর দিল না।
‎একটাও শব্দ বলল না। আর না কোন ধ্বনি উচ্চারিত হলো তার বাগযন্ত্র থেকে। সে ধীরে ধীরে কাঁধ থেকে ব্যাগটা নামাল।

‎তারপর কোনো সতর্কতা ছাড়াই টেবিলের ওপর রাখল। শব্দটা খুব জোরে ছিল না।
‎কিন্তু সেই মুহূর্তে মুগ্ধার কাছে মনে হলো যেন ঘরের নিস্তব্ধতার বুক চিরে একটা পাথর ছুড়ে মারা হয়েছে। সে কেঁপে উঠল,অজান্তেই। ইখতিয়ার তখনও তার দিকে তাকিয়ে আছে সরাসরি। চোখ দুটো ছোট হয়ে আছে তার। ঠোঁট দুটো পরস্পর মিলিত। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইখতিয়ার।
‎সেই দৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন।
‎কারণ সেখানে রাগের চেয়েও বেশি কিছু ছিল। কষ্ট ছিল,অপেক্ষা ছিল আর ছিল না পাওয়ার যন্ত্রণা তীব্র যন্ত্রণা।
‎ধীরে ধীরে সে শার্টের হাতা গোটাতে শুরু করল।তার কবজির শিরাগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠল।
‎মুগ্ধা গিলল। তার চোখ দুটো ধীরে ধীরে ছোট হয়ে এলো।
‎এই মানুষটাকে সে চেনে না মুগ্ধা।
‎তার এই তিনমাসের বিবাহিত জীবনে ইখতিয়ার কখনই তাকায় নি এমন ভাবে। অন্তত তার খেয়াল করা সময় গুলোতে তো না-ই।
‎ইখতিয়ারকে এখন বিপজ্জনক লাগছে মুগ্ধার কাছে। এই বুঝি বাঘের মতো থাবা বসাল।

‎চুপচাপ থাকা মানুষগুলোর রাগ স্বাভাবিক মতো না। বরং জমে থাকা লাভার মতো।
‎বাইরে থেকে দেখতে শান্ত লাগলেও ভেতরে ভেতরে দাউদাউ করে জ্বলছে। ইখতিয়ার টেবিলের দিকে এগিয়ে এলো।
‎মগ্ধার বুকের ধুকপুক শব্দ বাড়ল। এখন ও কোন শব্দ করতে পারছে না সে।
‎প্রতিবারের মতো এবার ইখতিয়ারকে দেখে মুগ্ধার মনে প্রজাপতি উড়ল না, উল্টে কালো ভোমরা ঘিরে ধরছে যেন। ভয়ে একাকার। ইখতিয়ার টেবিলের সামনে এসে থামল। মুগ্ধা শুদ্ধ চেয়ার টা উঁচু করে তার দিকে ফেরাল। মুগ্ধা ভয়ে ইখতিয়ার বুকের কাছের শার্ট চেপে ধরল।
‎দু’হাত টেবিলের উপর রাখল। তারপর বেশ ঝুঁকে এলো। তাদের মাঝখানের দূরত্ব এখন মাত্র কয়েক ইঞ্চি।
‎মুগ্ধা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে তার চোখ। ইখতিয়ারের গরম নিঃশ্বাস আছড়ে পড়ছে মুগ্ধার ওপর। মুগ্ধার
‎এত কাছে ইখতিয়ার কখনো আসেনি।
‎ ইখতিয়ারের ভ্রুক্ষেপ নেই কোন। তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। এতটাই শক্ত যে গালের হাড় স্পষ্ট হয়ে উঠল। ইখতিয়ারের এডামস্ আ্যাপেল উঠা-বসা করছে।
‎ইখতিয়ার দাঁতে দাঁত পিষে ধীরে ধীরে বলল,

‎— “সমস্যা কী তোমার?”
‎মুগ্ধা ঢোঁক গিলল।
‎ইখতিয়ার চোখ না সরিয়েই আবার বলল,
‎”আ্যান্সার মি, মুখের ব্লক করছো,এত সাহস হয় কি করে তোমার?”

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৪

‎মুগ্ধা কিছু বলতে চাইল। নিজের হয়ে সাফাই দিতে চাইল। কিন্তু ইখতিয়ারের নতুন রূপ দেখে সামর্থ হলো না মুগ্ধার। বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইল শুধু। ঠোঁট কেঁপে উঠছে ক্ষনে ক্ষনে।
‎ইখতিয়ার? সে তো তার দাঁতে দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে। বুকের হৃদপিন্ড নামক যন্ত্রটা অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে। বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা করছে যেন। মুগ্ধার চোখে চোখ রেখে শুধাল,
‎ ” গিভ মি আ্যান্সার, সমস্যা কি তোমার? আমারে মানুষ মনে হচ্ছে না?”

‎ম্যারিড লাইফ্ পর্ব ১৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here