Home আমি অভিশাপ পৃথ্বীর আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ২৭

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ২৭

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ২৭
ইসরাত জাহান দ্যুতি

শিহাব, তুষার, সবুজ, রাতুল, ওরা সকলে নির্বিকারভাবে পার্টি করার কাজবাজ করে যাচ্ছে৷ রুমানের হয়ে নাওফিলের কাছে একটা শব্দও কেউ উচ্চারণ করল না বলে রুমান আরও বেশি কষ্ট পেল। দীর্ঘ সাত মাস ধরে এরা কেউ-ই ওর সাথে দেখা হলেও কথা বলে না৷ এই মুহূর্তে একমাত্র তাওসিফই ওর দিকে মনোযোগ রেখেছে। ওকে বলে গেল সে, ‘নাওফিল তোকে যতটা কাছের বন্ধু আর ভাই ভাবত, রুমান তুই কিন্তু ওকে অত কাছের ভাবিসইনি কখনও৷ এটা মানা যায় যে সেদিন তুই নাওফিলের বন্ধু হয়ে না, একজন আইনের সৎ পুলিশ অফিসার হয়ে নাওফিলকে শুট করেছিলি। দীপ্তকে আর দীধিতিকে ওর হাত থেকে রক্ষার জন্য। এজন্য অবশ্যই তোকে নিয়ে গর্ব করা যায়৷ কিন্তু শুধু দীধিতি আর দীপ্তর মুখের স্বীকারোক্তি শুনলি। নাওফিলের স্বীকারোক্তি বা ওর কাছে জবাবদিহি চাইতে পারলি না ও কেন দীপ্তকে জিম্মি করে রেখেছিল?

শোনা উচিত ছিল না? ছোটোবেলা থেকে নাওফিলকে চিনিস তোরা সবাই৷ ও কতটা খারাপ, কতটা ভালো, এর ধারণা দীধিতির চেয়েও তোদের বেশি থাকার কথা না? তুই তো নাওফিলের দীধিতিকে নিয়ে করা প্ল্যানিংয়ের শুরু থেকেই সঙ্গ দিয়েছিস, নাওফিলকে সাপোর্ট দিয়েছিস ওকে বাধা না দিয়ে। তখন যদি ওর অন্যায়কে সাপোর্ট দিতে পারলি তাহলে শেষ অবধি কেন থাকলি না? দীধিতির কথাকেই কেন একশো পার্সেন্ট সঠিক মনে করলি সেদিন? তারপর যেটা করলি সেটা হলো, তোর বিয়েতে নাওফিলের দেওয়া উপহারটা ফিরিয়ে দিলি৷ ফ্ল্যাটটা ছেড়ে দিলি। এটা কীভাবে করতে পারলি? তাহলে নাওফিলকে কতটা দূরের ভেবেছিস তুই, যার জন্য ওর ভালোবেসে দেওয়া উপহারটা অনায়াসেই ফিরিয়ে দিতে পারলি! জাস্টিফাই তো করলিই না, উলটে উপহার ফিরিয়ে দিয়ে বন্ধুত্ব চিরতরে খতম করে দিলি। ভালোবেসে দেওয়া উপহার গ্রহণ করার পর কোনো কারণে তা ফিরিয়ে দিতে পারে কারা জানিস? সংকীর্ণ, নিচু মানসিকতার মানুষেরা৷ নাওফিলকে যদি কোনো উপহার দিতি তাহলে তুই বোধ হয় সেদিন সেটাও ওর থেকে ফিরিয়ে নিতি, তাই না?’

-‘ছি ছি ভাই! এভাবে বিচার কোরো না আমাকে। আমি ভুল করেছি সেদিন৷ বিরাট বড়ো ভুল করেছি নাওফিলকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে। দীপ্তর ওই হাল তারপর কলে দীধিতি আর ওর কনভারসেশন শুনে আমি ওই সময় সত্যিই…!’
ফ্রেশ হয়ে নাওফিল ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসে রুমানের কথা শুনতে পায়। তবে কথা সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই ও বলে ওঠে, ‘সত্যিই আমাকে ক্রিমিনাল ভেবে নিয়েছিলি। হ্যাঁ, আমি সেদিন ক্রিমিনালই ছিলাম। একজন মানুষকে জোর করে তিনটি মাস ধরে আটকে রাখা অবশ্যই ক্রাইম। আবার ক’দিনের পরিচয়ের সামান্য একটা মেয়ের জন্য এত বছরের বন্ধুকে প্রতিদ্বন্দী ভেবে তার সঙ্গে গাদ্দাফি করাও আমার চোখে ক্রাইম৷ বিশ্বাসঘাতক মানুষকে আমি দু’চোখে সহ্য করতে পারি না। মুখ ভরে থুথু আসে তার মুখে ছোড়ার জন্য। তবে পিওর ক্রিমিনাল হলে দীপ্তকে ওর বেইমানির জন্য জানেই মেরে দিতাম আটকে না রেখে।’

লন্ডন থাকার সময় দীপ্তর সঙ্গে যখন দীধিতি তাদের ক’দিনের অপ্রেমের সম্পর্কটা ভেঙে দেয় তখনই দীপ্ত খুব রেগে গিয়েছিল। তবে সেই রাগটা ছিল দীধিতির চেয়েও বেশি নাওফিলের জন্য। ক’দিনের মাঝেই শুনেছিল ও, দীধিতি নাওফিলের প্রতি দুর্বল হয়ে গেছে। এ কথা জানার পর দীপ্ত কলেই নাওফিলের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করেছিল, গালাগালও করেছিল দুজন দুজনকে। তবে নাওফিল সেদিন পরিশেষে বলেছিল, ‘দীধিতিকে আমার শুধুই প্রয়োজনের জন্য প্রয়োজন৷ এজন্যই ওর পেছনে সময় ব্যয় করেছি। সেটা কীজন্য তা তুই ভালোই জানিস। নিজেও ক্রিমিনাল হতে চেয়েছি আর ওকেও তৈরি করতে চেয়েছি। ওর পরিচয় জানার পর আরও খারাপ কিছু ভেবেছি ওর জন্য। ওর বাপটা বেঁচে থাকলে তার ভাগ্য খুব খারাপ হত। এমনকি দীধিতি, দীধিতির মা-বোন, তাদের ভালো থাকাও হারাম করে দিতাম এতদিন। কিন্তু আমি সেসব চিন্তা বাদ দিয়েছি৷ ওকে ভালোবেসে ফেলেছি কি না জানি না।

কিন্তু আমি ওর জন্য বিশেষ কিছু অনুভব করি। যেটাকে ভালোবাসা বলে না কি জানা নেই। তাই ওর ক্ষতি করার ভাবনা এখন ভাবতে পারি না। আমি চাই না ও আমার জন্য এখন আর আগ্রহী হোক। আবার এটাও চাই না তোর জন্যও হোক। কারণ, সেটা আমার সহ্য করা মুশকিল হবে৷ আমার অপরিচিত, দূরের কারও সঙ্গে ও সম্পর্কে জড়াক বা বিয়ে করুক। তাতে আমার কষ্ট লাগলেও আপত্তি নেই। কিন্তু তোর পাশে আমি ওকে মানতে পারব না৷ তাই তুই আর কোনোদিনও ওর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করবি না৷ পুরো বিস্তারিত বুঝিয়ে বললাম। আশা করি বুঝতে পেরেছিস আমার সমস্যাটা।’
দীপ্ত সেদিন ভালোই বুঝেছিল৷ সুযোগের অসৎ ব্যবহার কী করে করা যায় সেটাই বুঝেছিল সে। নাওফিলের বলা প্রথম কথাগুলোর ভয়েজ রেকর্ডটা কেটে নিয়ে দেশে ফিরে সরাসরি দীধিতিকে শোনাতে চেয়েছিল৷ এমনকি রেকর্ডটা বড়ো এক পত্রিকার সাংবাদিক অনিকেতের হাতে পৌঁছে অবধি দিয়েছিল৷ সারা দেশকে জানাতে চেয়েছিল এমপি জাকির শেখের পুত্র বা শিল্পমন্ত্রী মাহতাব শেখের নাতি একজন খুবই বড়ো ধরনের অপরাধী।

কিন্তু প্রবাদ আছে না শেয়ালের কাছেই মুরগি বর্গা? দীপ্তর সঙ্গেও একই ঘটনায় ঘটেছে। সাংবাদিক অনিকেতের ক্যারিয়ার সুন্দর হওয়ার পেছনে জাকির শেখের অনেক বড়ো অবদান আছে। সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই অনিকেত এ কাজটি করেনি৷ সরাসরি সে রেকর্ডটা নাওফিলের কাছেই পাঠিয়ে দেয় আর জানিয়ে দেয় দীপ্তর পরিচয়টাও। এ কথা নাওফিলের পাশে থাকা সেদিন বাকি চার বন্ধুরাও জানতে পারে৷ রুমান ব্যস্ত থাকায় তাকে জানানোর সুযোগটা পায়নি ওরা কেউ। রাগের বশে নাওফিল দীপ্তর সঙ্গে মারামারিই করতে চেয়েছিল৷ শেষে ওকে আটকে রেখে জব্দ করার বুদ্ধিটা তুষার, শিহাব, ওরা চার বন্ধুই দেয়৷ পরিকল্পনা করে দীপ্তকে ডেকে এনে বন্দি করে ফেলে নাওফিল। আর সেদিনই জানতে পারে দীপ্ত রেকর্ডিংটা দীধিতিকেও দিতে চেয়েছিল৷

এখানে যে সত্যটা সেদিন দীপ্ত দীধিতিকে জানায়নি তা হলো– নাওফিল ওকে একটুও অযত্নে রেখে কষ্ট দিতে চায়নি। সময়ের খাওয়া সময়ে পৌঁছে দেওয়া, তাও আবার দীপ্তর পছন্দসই খাবার। তারপর ঘরে বিনোদনের সকল ব্যবস্থা রাখা৷ যাকে বলে শান্তিতেই গৃহবন্দি করে রাখা৷ কিন্ত দীপ্ত তা কি মেনে নেওয়া ছেলে? রাগে অস্থির হয়ে ঘরে ভাঙচুর করে, জেদে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে, নিজেকে স্বেচ্ছায় অসুস্থ করার পরিকল্পনা করে সে৷ যাতে নাওফিল বাধ্য হয়ে তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে যায় অথবা ডাক্তার ডেকে এনে। এছাড়া নাওফিলের সঙ্গে বহুবার মারামারিও হয়েছে৷ যার ফলে নাওফিল শিকল বন্দি করে রাখে শেষ কিছুদিন।
এরপর আরও একটি সত্য হলো– নাওফিল সেদিন সকালে চেয়েছিল দীধিতি দীপ্তর কাছ অবধি পৌঁছক, দীপ্তর হাল দেখুক। তাই দীধিতি সব জানতে পেরেছিল৷ দীধিতির প্রতি নাওফিলের ভালোবাসাটুকু কতখানি নিঃস্বার্থ তা অজান্তেই প্রমাণ করে দিয়েছিল নাওফিল সেদিনের কাজটিতেই। কেননা, নিজের কদর্য রূপের বহিঃপ্রকাশ করে সে চেয়েছিল ওর প্রতি দীধিতির দুর্বলতা একেবারে বিলীন হোক, প্রেম অনুভূতির বদলে না হয় ঘৃণায় জন্ম নিক। এমনি এমনি দূরে ঠেলে দিলে কি দীধিতি খুব সহজে ওকে ভুলতে পারত? কিন্তু সৌভাগ্য পাশাপাশি দুর্ভাগ্য বোধ হয় একেই বলে।

যার মনকে শুরুতে মিথ্যা ভালোবাসা দেখিয়ে দুর্বল করতে চেয়েছিল, তার মন একটা সময় দুর্বল হলো ঠিকই৷ নাওফিল নিজেও তার সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ল খুব করে। অথচ ওদের এক সঙ্গে হওয়া কখনই সুফল হবে না। দীধিতি স্বাভাবিক আর সুন্দর একটি জীবন পাওয়ার যোগ্য৷ কিন্তু ওর সঙ্গে জড়িয়ে পড়া অর্থ একদিন না একদিন নিজের সঠিক জন্ম পরিচয় সম্পর্কেও অবগত হয়ে যাওয়া দীধিতির। কিন্তু সেটা কেবল দীধিতির অন্তরকে ছিন্নভিন্ন করা ছাড়া যে সুখ বয়ে আনত না। তাই তো আরও চায়নি নাওফিল, দীধিতি ওর সঙ্গে জুড়ে যাক। যদিও নাওফিল সেবার অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে শুধু সন্দিগ্ধই ছিল দীধিতির সঠিক জন্ম পরিচয় নিয়ে। ওর ধারণা সত্য কি না তা সেবার স্পষ্ট জানা ছিল না ওর। তবুও দীধিতিকে কোনো কষ্ট না স্পর্শ করুক, এই বিশুদ্ধ চাওয়া থেকেই নিজের জঘন্য একটি কাজের সম্মুখীন করেছিল তাকে।
এবারও পুরোপুরি নিশ্চিত নয় নাওফিল দীধিতির জন্ম ইতিহাস নিয়ে। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্যই এত জলদি ফিরে আসা। আর দীধিতি স্বেচ্ছায় যেখানে তার ইতিহাস জানতে মরিয়া হয়ে পড়েছে, যেচে পড়ে দুঃখ ডেকে আনছে। সেখানে ও আর বাধা দেওয়ার কে?

রুমান তাওসিফের কাছ থেকে উঠে এসে নাওফিলের সামনে এসে দাঁড়াতেই নাওফিল নাটকীয় ভঙ্গিতে ভ্রু, কপাল, এক সঙ্গে বাঁকা করে বলে, ‘আসলে ওই গিফ্টটা তোর কপালে সয়নি, বুঝলি? কেন বল তো? ওই যে বছর চার আগে রুমকি না চুমকিকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটেই ফূর্তি করেছিলি। কিন্তু ওই বেচারিকে বিয়ে না করে করলি ঐশীকে। তাই বেচারির অভিশাপে তুই বউ নিয়ে ওখানে টিকতে পারলি না। একেই বলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।’
আহত চেহারাটা এবার রুমানের মাত্রাতিরিক্ত বিস্ময়ে অন্যরকম হয়ে গেল, ‘কী সব বলিস! কবে?’
-‘এখন তো ভুলবিই। কাজ শেষ হলে কাজীকে ক’জন আর মনে রাখে?’
রাতুল আহাজারি করে উঠল, ‘আমাদের তো জানাসনি কোনোদিন, নাওফিল? এটা করতে পারলি তোরা দু’জন?’

তুষার, শিহাব, সবুজও ভাবতে বসে গেল বিষয়টা নিয়ে। কিন্তু ভাবার সময়টা বন্ধ হয়ে গেল দরজায় ঐশীকে চণ্ডালী রূপে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। এবার স্পষ্ট হলো সবটা। ওরা মিটিমিটি হাসে। সবুজ রুমানকে ডেকে বলে, ‘ফ্ল্যাটের সঙ্গে এবার তোর বউটাও বিদায় নিলো রে, রুমান!’
রুমান ওদের দিকে ফিরতেই ঐশীকে দেখে আতঙ্কিত গলায় অকস্মাৎ চিৎকার করে বলে ওঠে, ‘ইয়া আল্লাহ নাআআ ঐশী! তুমি কিন্তু বিশ্বাস করে বোসো না এসব কথা।’
বলতে বলতে ঐশীর কাছে এগিয়ে আসতে গেলেই ঐশী দ্বিগুণ চিৎকারে হাত উঠিয়ে ওর কাছে আসতে নিষেধ করে, তারপর চরম নোংরা একটি গালি দিয়ে বলে, ‘ওই হাত দিয়ে তুই আমাকে আর কোনোদিন ছুঁতে আসলে তোকে টয়লেটের ভেতর চু্বিয়ে মারব আমি! বেইমান, দুশ্চরিত্র তুই জাহান্নামে যা!’
হাতে টিফিনবাক্স ভর্তি খাবার নিয়েই ফিরে গেল ঐশী। রুমানের মা খাবারগুলো পাঠিয়েছিলেন নাওফিলের জন্য। যাতে নাওফিলের মনটা রুমানের জন্য নরম হয়। আহা! তার বদলে তার চেয়ে বেশি কিছুই করল নাওফিল ঐশীকে দেখা মাত্রই বানানো মিথ্যাগুলো বলে। রুমান পরাজিত ভঙ্গিতে গা ছেড়ে দাঁড়িয়ে রইল কতক্ষণ। তারপর বেদনা নিয়ে বলে উঠল নাওফিলে, ‘এইভাবে শোধটা নিলি!’
আর দাঁড়াল না তারপর৷ ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে ঐশীর পিছুপিছু গেল। তাওসিফসহ প্রত্যেকে হাসতে হাসতে সোফায় একজন আরেকজনের ওপর পড়ছে। সন্ধ্যার পর ইয়াসিফ ফিরলে রাত বারোটা অবধি ঘরোয়া পার্টি পালন করল ওরা। সে রাতে আর কেউ-ই বাসায় ফিরল না।

কোর্ট ম্যারেজ কোনো বৈধ বিয়ে নয়। পৃথিবীর কোনো ধর্মেই কোর্ট ম্যারেজে আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। আর ইসলাম ধর্মে নিঃসন্দেহেই নেই। এটি লোকমুখে বহুল প্রচলিত একটি শব্দমাত্র। মুসলিম আইনে বিয়ের কাবিননামাই হলো বিয়ের চুক্তিপত্র। মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় আচার রীতিনীতি মেনে একটি বৈধ বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরপর কাজী সাহেব আইন অনুযায়ী এই বিয়ের নিবন্ধন করলেই আইনগতভাবে আর কোনো ত্রুটি থাকে না। আর কোর্ট ম্যারেজ হলো এভিডেভিট বা বিয়ের ঘোষণামাত্র।

দীধিতিকে গতকাল রাতে এই বিষয়টি সৌরভের বাবা খুব ভালোভাবে বোঝান৷ কারণ, তিনি চান দীধিতি তাওসিফের সঙ্গে এই না হওয়া বিয়ে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসুক। তিনি নিজ দায়িত্বে খুব ভালো ছেলের সাথে দীধিতিকে বিয়ে দেবেন, এমন আশ্বাসও দেন। এমনকি সৌরভের মাও খুব বোঝান ওকে। তাওসিফের আশা ছেড়ে দিতে বলেন। ছোটোবোন কিরণও বাদ যায়নি বোঝাতে। শুধু চুপচাপ আছেন ঝুমুর। প্রচণ্ড কষ্টে আর রাগে তিনি কথা বলাই বন্ধ রেখেছেন ওর সঙ্গে। কারণ, সেই শুরু থেকেই তিনি চাইছেন দীধিতি তাওসিফকে ভুলে যাক। অত বড়ো রাজনৈতিক আর ব্যবসায়িক পরিবারের ছেলে কখনই দীধিতিকে স্বীকৃতি দেবে না, তারা মেনেও নেবে না ওকে। এই কথাটা প্রথম থেকে বহুবার বোঝানোর চেষ্টা করেছেন মেয়েকে। কিন্তু মেয়ে তা মানতে নারাজ। তিনি তো আর মেয়ের মনের অভিসন্ধি জানতে পারছেন না। জানলে হয়ত ওকে ঘরবন্দিই করে ফেলতেন। দীধিতিও চুপচাপ সকলের কথা গ্রহণ করেই যাচ্ছে শুধু। তাতে একচুলও নিজের সিদ্ধান্ত হেরফের করেনি সে। বরং সর্বশেষ প্রমাণ নিয়ে সে হাজির হয়েছে আজ সকালে শেখ পরিবারে। কারণ, তাওসিফ যে সত্যিই ওকে অস্বীকৃতি জানাবে এটা সে নিজেও বিশ্বাস করে।

খবরটি তাওসিফের কাছে আসে বেলা এগারোটায়৷ ওর একমাত্র ছোটো বোনই ফোন করে খবরটা জানায়। আর ওকে দ্রুত গাজীপুর ফিরতে বলে। এখন ওদের পুরো পরিবার গাজীপুরের বাড়িতেই অবস্থান করছে।
নাওফিল আর ইয়াসিফ বাদে প্রত্যেকেই ঘুমে কাতর এত বেলাতেও৷ সকাল আটটার মধ্যে জরুরি কল পেয়ে ইয়াসিফ বেরিয়ে গেছে। আর নাওফিল ন’টার সময় উঠে দশটার সময় নাশতা বানাতে রান্নাঘরে প্রবেশ করেছে। ভাতের বোলটা সবে সে রাইস কুকার থেকে তুলতেই তাওসিফ হুড়মুড়িয়ে রান্নাঘরে আসে, ‘ভাই রে ভাই! তুই তো আগে বলিসনি তোর দীধির কলিজা বহুত বড়ো!’ খুব অস্বাভাবিক এক অভিব্যক্তির সঙ্গে বলে তাওসিফ।

-‘বলিনি কারণ ওর সাহসিকতা মুখ বাড়িয়ে বলার মতো না।’ কিঞ্চিৎ চিন্তিত চেহারাতে বলল নাওফিল।
-‘তুই তাহলে ওকে চিনিসইনি৷ তুই জানিস ও এখন কোথায়?’
কয়েক পল তাওসিফের ঘাবড়ানো মুখটা দেখে নাওফিল আন্দাজের বশেই বলল, ‘গাজীপুর? শেখ মেনশনে?’
-‘ইয়েস ইয়েস! আমার পাছায় আছলা বাঁশ দেওয়ার জন্য আগে থেকে তো তোরা দুজন ছিলিই। এখন আরও একজন জুটিয়ে দিলি। এই না হলে ভাই!’
আরও অনেক প্রলাপ বকতে বকতে তাওসিফ বেরিয়ে গেল রান্নাঘর থেকে। নাওফিল খাবার নিয়ে ডাইনিং টেবিলে এসে চেঁচিয়ে তাওসিফকে বলল, ‘যেতে হবে তো, না? এসে খেয়ে নে জলদি। আর নিহাদ ভাইকে ফিরতে বল। এক সঙ্গেই যাব বাড়ি।’

তাওসিফ বাথরুমে ঢুকেই শুনতে পেল কথাগুলো। তুষারদের ঘুমে একটু ব্যাঘাত ঘটল চেঁচামেচিতে। কিন্তু ঘুম উড়ল না। নড়েচড়ে সবাই আবার ঘুমে তলিয়ে গেল। তাওসিস ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে এসে একদম তৈরি হয়ে খেতে এলো। বলল, ‘আমি বোবা আজকের জন্য। একটা কথাও বলতে পারব না৷ বড়ো কাকু ভেবেছিল আমি হয়ত সেদিন আবেগের বশে বিয়ের কথা বলেছিলাম। পুলিশের সঙ্গে ফিরে যে সত্যিই কোর্টে গেছিলাম তা তো আর তার কানে যেতে দিইনি৷ আজ জানার পর আমার গালে জুতো পরবে একের পর এক। বাড়ির পরিস্থিতি কী এখন আল্লাহই জানেন।’

নাওফিলও খেতে বসে চিন্তা করছে এটাই৷ দীধিতির হাতে কোনো প্রমাণ নেই বিয়ের৷ বাড়ির লোক তো জীবনেও ওর মুখের কথায় বিশ্বাস করবে না৷ আরও যদি জাকির উপস্থিত থাকের বাড়ি তবে দীধিতিকে আজ জেলে যেতে কেউ আটকাতে পারবে না। দ্রুত খাওয়া শেষ করে নাওফিল ইয়াসিফকে কল করে গাড়ি নিয়ে আসতে বলল। তারপর তাওসিফকে বলল, ‘তোকে একবারই কথা বলতে হবে৷ যখন জিজ্ঞেস করবে কোর্টে গিয়ে বিয়েটা সত্যিই করেছিলি না কি? তখন শুধু বলবি হ্যাঁ। এরপর যত কথায় হোক তুই বুক টানটান করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুধু শুনবি৷ বাকিটা আমি আর ছোটো ভাই সামলে নেব।’

-‘না মানে আমি শুধু দীধিতির সাহসের চিন্তা করছি। অবাক হচ্ছি খুব! ওকে দেখে মনেই হয় না এই ধরনের সাহস আর অন্যায় করার মানসিকতা রাখতে পারে ও। অথচ কত ইনোসেন্ট মনে হয় দেখলে!’
-‘সে ইনোসেন্টই ছিল। সাহসটাও খুব বেশি ছিল না৷ কিন্তু এই সাহসটা বাড়িয়ে দিচ্ছে ওর পেছনে আত্মগোপন করে থাকা মানুষটি৷ ওকে পুরো খারাপ করে ফেলছে মহিলাটা! হাতের কাছে থাকলে মহিলাকে শিক্ষা দিয়ে ছাড়তাম। বয়স হিসেব-নিকেশ করতাম না। আর দীধিতি, ওকেও শেখ বাড়ির বউ হওয়ার সাধ জনমের মতো মিটিয়ে দেব! জীবনটাকে বাজিতে লাগানোর পরিণাম কত ইনজয়েবল সেটা প্রত্যেকদিন দেখাব। ভালো থাকতে তো ভালো লাগেনি।’

তাওসিফের এখন আর চিন্তা হচ্ছে না৷ যেহেতু নাওফিল বলেছে ইয়াসিফ আর সে সামলে নেবে বাকি পরিস্থিতি, তবে তার আর চিন্তা করে নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে লাভ কী?
ঘণ্টাখানিকের মাঝে ইয়াসিফ চলে এলে নাওফিল তুষারদের থেকে আপাতত বিদায় নিয়ে রওনা হয় গাজীপুর। বুকের মধ্যে ডামাডোল হচ্ছে নাওফিলের। কতগুলো দিন পর কাছ থেকে দেখতে পাবে দীধিতিকে! ওর মুখোমুখি হওয়ার পর দীধিতিও কতটা জোর দিয়ে নিজেকে তাওসিফের স্ত্রী হিসেবে দাবি করতে পারে, সেটাও দেখার উত্তেজনায় হৃৎস্পন্দনের গতিবেগ বেড়ে চলেছে।

সিঁদুর লাল আর সোনালী রঙা সেলোয়ার-কামিজ পরে, মাথায় লাল ওড়নাটা টেনে, চেহারায় স্নিগ্ধ সাজ রেখে দীধিতি হাজির হয়েছিল শেখ মেনশনের বিশাল বসার ঘরটিতে। পুরোনো সময়ের নকশাতে শেখ মেনশন তৈরি হয়েছিল। তাতে আজও খুব একটা আধুনিকতার বালাই নেই। সিনেমাতে এমন মহল আকৃতির বাড়ি দেখা হলেও স্বচক্ষে আজই প্রথম দেখা দীধিতির৷ শুভ্র রঙে সারা বাড়ির আনাচে কানাচে দামী সব শৌখিন সরঞ্জাম, আসবাব আর মাথার ওপরে বিশাল ঝাড়বাতি। নিচে বসার ঘরের মাঝ দিয়ে দোতলায় ওঠার সিঁড়ি চলে গেছে। করিডর পেরিয়ে পুরো দোতলায় কতগুলো ঘর থাকতে পারে তা নিচে থেকে আন্দাজ করার উপায় নেই। তবে নিচের ঘরগুলোতে অধিকাংশই বাড়ির পরিচিকাদের দখলে বোধ হয়।
দীধিতি এ বাড়ি প্রবেশের সময় মূল ফটকে পাহাড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সিকিউরিটিকে বলেছিল, ‘তাওসিফ শেখের পরম আত্মীয় আমি। তাকে ফোন করে বলুন রেজা হক স্মরণ এসেছে।’

তাওসিফ বাড়িতে নেই। তাই সিকিউরিটি কল করে জাকির শেখকে। দীধিতির দেওয়া পরিচয় বললে জাকির রেজা হক স্মরণ নামটি শুনেই ওকে ভেতরে পাঠিয়ে দিতে বলেন। প্রচণ্ড নার্ভাস হয়ে তিনি নিচে এসে অপেক্ষা করতে থাকে স্মরণ নামের মেয়েটিকে দেখার জন্য। এতগুলো বছর পর পেছনে ফেলে আসা সেই বিপজ্জনক মানুষগুলো আবার কেন এখন প্রবেশ করছে তার জীবনে?
দীধিতি ভেতরে আসার পর জাকির ওকে দেখে প্রথমে খুব ক্রুদ্ধ হলেও পরবর্তীতে বুঝতে পারেন, এই মেয়েটিই তবে রেজার পালিত মেয়ে! যার জন্য রেজা জায়িনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, নিজের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছিল, শেষে তো মৃত্যুও হলো।
বাড়িতে হঠাৎ নতুন মুখ দেখে একে একে সবাই-ই হাজির হয়। জাকির তখনও কথা বলা শুরু করেননি দীধিতির সাথে। ওর দিকে নিষ্পলক শুধু চেয়েই থাকেন। মাহতাব শেখ ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছেন শুধু। তার স্ত্রী জান্নাতি বেগম ওকে শুধান, ‘কে গো তুমি, মেয়ে? কার কাছে আসছ?’
দীধিতি জাকিরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মিষ্টি করে হেসে বলে, ‘তাওসিফ শেখের কাছে এসেছি। গত চার মাস আগে আমরা বিয়ে করেছিলাম কোর্টে গিয়ে। সেটার কাগজ ওর কাছেই৷ আপনাদের জানায়নি?’
বলা শেষেই কারও বিস্ফোরিত চেহারা দেখার অপেক্ষা না করে শেষ দিন তাওসিফের সাথে বলা কথার রেকোর্ডিং চালু করে দেয়।

-‘ওকে ডাকুন। আমাকে রোজ বলে আপনাদেরকে জানিয়েছে আমার কথা। কিন্তু আপনারা আমাকে মানছেন না৷ তাই আমি আপনাদের সাথে কথা বলতে চলে এলাম৷ আপনারা অনেক সম্মাননীয় আর উদারমনা মানুষ বলেই জেনে এসেছি৷ তাহলে আমাকে না মানবার কারণ কী? আমি আপনাদের ক্লাসে বিলং করি না বলে?’
তাওসিফের মা রত্না চেঁচিয়ে ওঠেন হঠাৎই, ‘ও আমাদের এ বিয়ে নিয়ে কিছুই জানায়ইনি। ও আমাদের না জানিয়ে কীভাবে বিয়ে করে নিতে পারে? যেখানে ওর অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক! আর ওর মতও ছিল সে বিয়েতে! এই তুমি কে? তুমি মিথ্যা বলছ। ইয়াসিফ এমন কাজ করলেও বিশ্বাস করতে পারতাম। তাওসিফ এমন জীবনেও করবে না৷’

বাড়ির সব থেকে ছোটো সদস্য ফিহা। তাওসিফ আর ইয়াসিফের ছোটো বোন। বয়স একুশ চলছে তার৷ দীধিতিকে আগাগোড়া দেখে সে বলল, ‘এই তুমি জানো কোথায় এসেছ? অবশ্য জেনেশুনেই তো টোপ দিতে এসেছ। কিন্তু এটা জানো তোমার সাথে কী ঘটতে পারে মিথ্যা বলার জন্য?’
-‘আমি মিথ্যা বলিনি। চাইলে আমার ফোনের ইনবক্স, সমস্ত কল রেকর্ডিংস চেক করে দেখতে পারো সবাই।’ অসম্ভব ঠান্ডা গলায় বলল দীধিতি। চোখে মুখে ওর একটুও ভীতি নেই।
তা দেখেই জান্নাতি বেগম লাঠি ভর দিয়ে গুটিগুটি পায়ে হেঁটে এগিয়ে আসলেন ওর কাছে, জিজ্ঞেস করলেন, ‘মিহাদ লুকিয়ে কেন বিয়ে করল তোমাকে?’
কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা জাকির তখন মুখ খুললেন, ‘তাহলে সেদিন তোমরা সত্যিই বিয়ে করে নিয়েছিলে?’

খুশি স্বামীর এ প্রশ্ন শুনে খুব বিস্ময় নিয়ে বললেন, ‘আপনি দেখি আগেই জানতেন। তাহলে আটকাননি কেন মিহাদকে? ওর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে কিছুদিন আগেই। ও-ও তো তখন কিছু বলল না।’
জাকির সেদিনের ঘটনা সব খুলে বললেন সবাইকে৷ রত্না মাথায় হাত দিয়ে তখন বসে পড়লেন সোফায়। জাহিদ শেখ কেবল বাড়িতে নেই৷ অফিসে গিয়েছেন তিনি। জাকির তাকে কল করে এমারজেন্সি বাসায় আসতে বলে বাবার কাছে চলে গেলেন ঘটনা জানাতে। আর ফিহাকে বললেন তাওসিফকে কল করে জানাতে।
এরপর দু’ঘণ্টা যাবৎ দীধিতিকে বসার ঘরেই বসিয়ে রাখা হয়েছে। জাহিদ আসার পর দীধিতিকে দেখে সব কিছু জানার পর তাওসিফকে লাগাতার কল করতে থাকেন। রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছিল তার৷ তা দেখে জাকির ভাইয়কে নিয়ে বাবার ঘরে চলে আসেন। শুধু তারা তিনজন ছাড়া দীধিতির মুখোমুখি হয়ে কেউ বসে ওকে দেখে চলেছে সেই তখন থেকেই, ফিহা পায়চারি করছে ঘনঘন। আর রত্না গুনগুন করে কাঁদছেন। নিজের বান্ধবীকে কী করে ফেস করবেন সেই চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়ছেন তিনি। ফাঁকে ফাঁকে তিনি আর ফিহা দীধিতিকে নানানরকম কথাও শুনিয়ে যাচ্ছেন, যা অপমানজনক। ওড়নার আঁচল মুঠোয় চেপে ধরে আর দাঁতে দাঁত চেপে সেসব কথা মুখ বুজে হজম করে যাচ্ছে দীধিতি। শুধু তাওসিফের আসার অপেক্ষা।

বেলা দেড়টায় এসে পৌঁছয় শেখ মেনশনে ইয়াসিফের স্পোর্টস গাড়িটা। ভদ্রতা রক্ষার্থে জান্নাতি বেগমের আদেশে ঘণ্টা তিন পর তখনই কিছু নাশতা দীধিতির সামনে দেওয়া হয়েছে। তা দীধিতি তাচ্ছিল্যের চোখে একবার দেখে মেকি হেসে জানায়, কিছুই খেতে পারবে না সে। এ কথা শোনার পর খুশি একবার গম্ভীর করে বললেন, ‘অনেকক্ষণ হলো এসেছ৷ না খেয়ে বসে থাকতে দিই কী করে? কিছু হলেও মুখে দাও।’
-‘আহা আম্মু এভাবে প্রথম দিনেই শ্বশুরবাড়িতে এসে লাজলজ্জা ভুলে নতুন বউ সকলের সামনে বসে খেতে পারে!’ বলতে বলতেই নাওফিল এগিয়ে আসে৷ হাস্যজ্জ্বল মুখখানি, শুধু কঠিন ওর চোখদু’টোর চাহনি।
বাড়ির সকল পরিচারিকা মেয়েগুলোর চোখ একটুখানি ধাঁধিয়ে গেল এক সঙ্গে এই প্রথম এ বাড়ির তিনজন সুপুরুষকে পাশাপাশি হেঁটে আসতে দেখে। ইয়াসিফ কালকেরই ক্যাজুয়াল পোশাকে, তাওসিফ সাদা-কালো ফর্মাল শার্ট প্যান্টে আর নাওফিল স্বচ্ছ সাদা পাজামা পাঞ্জাবিতে। শেখ পরিবারের গর্ব বোধ হয় এদেরই বলে। যে তিন পুরুষের মাঝে আল্লাহ খুঁত হয়ত কমই রেখেছেন।

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ২৬ (২)

কিন্তু দীধিতি! তার যে বুকের মাঝে রক্ত ছলকে উঠল নাওফিলকে এতদিন বাদে দেখে, চোখজোড়া জ্বালা করে হঠাৎ আর্দ্র হয়ে এলো। ওকে দেখা মাত্রই করুণ এক সুর হৃদয়ে বেজে উঠল দীধিতির, সে সুরের কথাগুলো, ‘তোমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সুন্দর এ পুরুষ। যে পুরুষের স্নেহপূর্ণ মুখে ঝলমল করে ঐশ্বরীক নূরের ঝলকানি। সে পুরুষ অথচ তোমার নয়, হবেও না কখনও তোমার। দেখো না তাকে তুমি, আর দুর্বল হইয়ো না তাকে দেখে। যত দেখবে ততই নিজেকে হারাবে তার মাঝে।’

আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ২৭ (২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here