Home রৌদ্রময় বালুচর রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৯

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৯

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৯
সোহানা ইসলাম

আরমানের কথায় দুই জন আহাম্মকের মতো দাড়িয়ে আছে। কী বলে গেলো এসব..?? ঐ মেয়েকে তারা হঠাৎ ভাবি ডাকতে যাবে কোন সুখে…???ভাব’না থেকে বের হয়ে এসে, রোহান’ কে ধাক্কা দিয়ে জাহেদ বলে…..
—-এই রোহান ভাইয়া,, তুমি শুনতে পেয়েছো আরমান ভাইয়া কী বলে গেছে এসব..??এই একরত্তি মেয়েকে না-কি আমরা ভাবি ডাকবো..?? এটাও শুনার বাকি ছিলো আমাদের..??
রোহানের কোনো হেলদোল নেই।সে এখনো ভাবনায় মগ্ন হয়ে আছে….. তাই জাহেদ এবার রোহানের কাঁধ ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলে—–
“আরে এই রোহান ভাইয়া কথা বলছো না কেনো,,? এমন টাস্কি মেরে দাড়িয়ে আছে কেনো তুমি.?? কিছু তো বলো..??

—জাহেদের দেওয়া ধাক্কা রোহান ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে আসে —-জাহেদের দিকে তাকিয়ে বলে….
“” শুন জাহেদ আমারও কোনো ভাই নাই, “তোর ও আরমান ছাড়া কোনো ভাই নাই..?? তাহলে আমরা ঐ মেয়েকে কেনো ভাবি ডাকতে যাবো..??
“” আমিও তো তাই ভাবছি রোহান ভাইয়া…..
—-রোহান কিছু একটা ভেবে, হটাৎ করে বলে উঠে…..
“তার মানে আরমান নিজের কথা বলে গেছে এতক্ষণ..?? ঐ মেয়ে কে কি-না আরমান পছন্দ করে। আমি তো আরমান কে ভালো ভেবেছিলাম.” এখন কী-না সে এমন —ছিঃ.. ছিঃ…
আমার বন্ধু হয়ে কি-না এইটুকু মেয়ের দিকে চোখ দিলো সে..??
—- তুমি কোন দিক দিয়ে নিজেকে ভালো মনে করো রোহান ভাইয়া..??
— কী বলতে চাইছিস তুই..?? আমার চরিএ খারাপ..?? কেনো আমাকে কী তো ভালো মানুষ মনে হয় না তোর..??

(উমম নিজেকে কতো ভালো মনে করে..??এতো যখন ভালো তাহলে আমার এই’টু’কু’নি বোনের দিকে নজর কেনো দিয়েছে, ” আরো ১ বছর আগে ..?? সাধুপুরুষ মনে করে নিজেকে…!! মনে মনে কথা গুলো বলে,, কিন্তু রোহানের সামনে বলার সাহস করলো না –এমনিতেই তাকে কেউ সম্মান দেয় না। )
—আরে আমি এটা কখন বললাম তোমায়..?? আমি যানি তুমি কতোটা ভালো…!!
রোহান কিছু টা গর্ব করে বলে —-
“হুমম..!! তা তো আমি যানিই ব্রো,, “” কিন্তু কথা হচ্ছে আরমান এই মেয়ের দেখা পেলো কোথায়..???
“” তাই তো…!! এই পিচ্চি মেয়ের দেখা পেলো কোথায় ভাইয়া..??
“” শা*লা’কে ভালো করে চেপে ধরতে হবে —-
এখন চল ভিতরে যাই আবার বিকেলে বেরোতে হবে সবাই ‘কে —–
— হ্যাঁ,, হ্যাঁ, চলো তাড়াতাড়ি..!! যে যখন পারছে এই ছোট কপালে বড়, বড় থ্রেট ঠুকে দিচ্ছে। আর ভাল লাগে না আমার বা*ল–

আরমান ‘রা সবাই মিলে বিকেলে গুরতে আসে নদীর পারে। রোদ পড়ে যাওয়ায় এখন অনেক মানুষই এসেছে গুরতে। আরমান রোহান আগে, আগে হাঁটছে। তাদের পিছনে জিনিয়া ও জেরিন।
তাদের দুইজন ‘কে গাইড করতে জাহেদ তাদের পিছনে পিছনে হাঁটছে।
জিনিয়া জেরিনের হাত শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে। জেরিন বার বার হাত ছুটিয়ে চাইছে রোমানদের কাছে যেতে, ” কিন্তু তার বোন তাকে যেতে দিচ্ছে না। তাই মন খারাপ করে বোনের সাথে বাদ্য মেয়ের হয়ে হাঁটতে হচ্ছে তাকে।
সেই কখন থেকে তারা হেঁটেই চলেছে,, থামার কোনো নামই নেই!! তাই বিরক্ত হয়ে জেরিন সবার উদ্দেশ্যে বলে……

” আমি আর হাটঁবো না, ‘ আমার পা ব্যথা করছে। সেই কখন থেকে শুধু হেঁটে চলেছি,, “” থামার কোনো নামই নেই তোমাদের..??
বাচ্চা মেয়েটাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে,, খুব ক্লান্ত হয়ে পরেছে। এতো হাটাহাটির অভ্যাস না থাকায়
অল্পই কাহিল হয়ে গেছে।
— রোহান জেরিনের দিকে এগিয়ে এসে তার সামনে দাঁড়ায় —–
” জেরি, ” তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে হাঁটতে…?? ভাইয়া তোমাকে কাঁধে নিবো…??
রোহানের কথায় বা হাত ঢুকিয়ে জাহেদ বলে —-
—-আর সময় তো মুখে অনেক জোর থাকে,, “” তাহলে আজকে পায়ের জোর কোথায় গেছে তোর..???
জাহেদর প্রশ্ন শুনে জেরিনও সঙ্গে সঙ্গে বলে…
—- তোমার শশুড় বাড়ি গেছে আমার পায়ের জোর—–
—–কী বললি তুই —-???পাজি মেয়ে কোথাকার..??
” আ’হা — চুপ কর তুই জাহেদ। ও বাচ্চা মানুষ আমাদের মতো এতো হাঁটতে পারবে না সে — অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পরবে এটা স্বাভাবিক….বললো আরমান–!!
“রোহান :- জেরি কাম..!! আসো ভাইয়া আজ তোমায় কাঁধে নিয়ে পুরো নদীর পাড় গুরব..।
–জেরিন রোহানের ডাক শুনে এক ছোট্টে চলে আসে রোহানের কাছে। জেরিন কে কাঁধে তুলে হাঁটা ধরে নদীর দিকে রোহান।

” প্রায় অনেক টা সময় ধরে তারা ঘুরাঘুরি করে সন্ধার পর, পর বাড়ি চলে আসার জন্য প্রস্তুত হয়।
– সারা বিকেলে সবাই ঘুরাঘুরি করে যে যার মতো। – আজ তিন দিন হলো রোহান জিনিয়ার সঙ্গে কথা বলে না। আজকে এক সাথে ঘুরলেও কেউ কারো সাথে কথা বলে নি। রোহান এখন যথাসম্ভব নিজেকে জিনিয়ার কাছ থেকে দূরত্ব রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজ একবাও জিনিয়ার দিকে তাকায় ‘নি সে। জিনিয়া কি করছে,, কি পড়ে এসেছে,, কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না এভরিথিং সব ইগনোর করে চলেছে সে।
— রোহানের এমন ইগনোর করার বিষয় টা জিনিয়াকে খুব পিরা দিচ্ছে। তার দিকে কেনো একবারও তাকলো না সে..?? কেনো একবার সেধে কথা বলতে আসলো না..?? নিজের কষ্ট গুলোকে সে নিজেকে মাঝে দমিয়ে রাখে। কাউকে বোঝতে দেয় না তার কষ্টগুলো। — তার অতীত কেনো তাকে বার বার পিছিয়ে নিয়ে আসে তার সুখগুলো থেকে…?? কবে সেই দিন আসবে,” সে রোহানকে জড়িয়ে ধরে বলতে পারবে তাকে ঠিক কতোটা ভালোবাসে সে..?? আধেও এই দিনটা আসবে তার জীবনে…?? ভাগ্য কী তাকে দিবে একটু সুখ..?? পাইয়ে দিবে কী তার ভালোবাসার মানুষকে..??
— দুইজনের মধ্যে চলছে নিরব যুদ্ধ । কেউ কারোর সাথে কথা বলতে না পারলেও,” কষ্ট ঠিক দুটো’ “জন সমানই পাচ্ছে। একজন নিজের ভালোবাসা বোঝাতে দূরে সরে আসছে, ” আরেক জন নিজের অতীত,, আর ভাগ্যের কারণ পিছিয়ে আসছে। দু’জন,” দুজনকে ভালোবাসে ঠিকই, একজন প্রকাশ্যে তো, ” অন্য জন অপ্রকাশিত ভাবে।

জারা ফোন দিয়ে তার ফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলছিলো, ‘এমন তার রুমে আসে জোহান। বোনকে ফোনে কথা বলতে দেখে আর কিছু না বলে পড়ার টেবিলের,’ চেয়ার টান দিয়ে বসে পরে।
–জোহান ‘কে ওমন মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখে, কল কেটে দিয়ে এসে জোহানের সামনে দাঁড়ায় জারা।
” কী হয়েছে মীরজাফর ভাই আমার..?? মন খারাপ কেনো তোর…??
” এমনি বনু..?? ভালো লাগছে না আমার…!!
” তা, না ভালো লাগার কারণ কী শুনি..??
জোহান এবার তার মন খারাপ দমিয়ে রাখতে না পেরে পেটের কথা সব বলতে থাকে একটা একটা করে তার বোনের কাছে —–
” যানো বনু..! আজকে আমাদের ক্লাসের একজন মেয়ে আমাকে কালা চান বলেছে…!! তুমি বলো আমি কী দেখতে কালো..?? আমি তো রোজ আয়নায় নিজেকে দেখি, ‘ আমি কতো সুন্দর– কতো কিউট, ‘ আর বিউটিফুল বয়। আর ঐ মেয়ে আমাকে বরা ক্লাসে কালা চান বলে ডেকেছে..??
“জোহানের মুখে এক্সপ্রেশন দেখে জারা মুখ টিপে টিপে হাসে।”
কেউ তাকে কালো বললে জোহান তা মেনে নিতে পারে না। জোহান দেখতে গুলো মুলো,, নাদুস নুদুস দেখতে। গায়ের রঙ ফর্সা,, একটু পর্স্শ করলেই লাল হয়ে যায় তার শরীর।
তারা তিন ভাই বোন তার মায়ের মতো ফর্সা হয়েছে। তাদের মাও অনেক সুন্দরী।লাল টেমেটোর মতো।৪৮ বছর বয়সে এসেও এখনো বয়সের ছাপ বোঝা যায় না।

” আচ্ছা কালা চান বললে কী হয়েছে..?? তোকে কেউ কালা চান বলেই তো আর তুই কালা চান হয়ে যাচ্ছি না “তাই না..??
” আপু তুমি ও আমাকে এখন কালা চান বললে…??এ্যাঁ—এ্যাঁ—-
“আরে বা’ব্বা..! আমি কখন তোকে কালা চান বললাম..??
“” এই’তো–এই’ তো! এখন আবার বললে…!!
“” আচ্ছা তাহলে এখন আমি কি করতে পারি …?
— তুমি আমার সাথে কাল ইস্কুলে যাবে, ” গিয়ে এই মেয়ের চুল ছিঁড়ে ফেলবে..!!
” তুমি কী আমাকে মারামারি করতে নিয়ে যাবি তোর ইস্কুলে..??
“” হুমমমম “”
— মাথা খারাপ তোর..?? যা এখান থেকে মীরজাফর কোথাকার..!! আমাকে ফাঁসানোর ধান্দা হচ্ছে এখানে বসে।

” বনু প্লিজ, আমার কষ্ট টা একটু বোঝার চেষ্টা করো..?? এই শয়’তা’ন আমাকে কালা চান বলেছে…!!
“” এই তুই যাবি এখান থেকে — নাহ’লে কিন্তু আমি মাকে ডাক দিতে বাদ্য হবে…!!
“” বনু প্লিজ… চলো না!! আমার খুব ইগোতে হার্ট হয়ে।
” এই তুই সুন্দর আর কালো’র কী বোঝিস হে..!! আবার বলছে ইগোতে হার্ট করছে.??
” অনেক বুঝি..!! তুমি কাল আমার সাথে যাবে ব্যাস..!! ”
” কাল আমার কলেজে কী তুই যাবি, গাধা..!!
“একদিন না গেলে কিছু হবে না “” চলো না — বেশি কিছু না শুধু দুইটা দাঁত ভেঙে দিবা তাহলে হবে..!!
” পাগল হয়ে গেছিস.!! যা এখান থেকে মীরজাফর কোথাকার —
— জোহান বোনের সাথে আর পেরে না,উঠে চলে আসে মায়ের কাছে —–
“” ওও — আম্মু — তুমি চলো তাহলে আমার সাথে
। বনু যাবে না বলে দিছে —
“” মারজিয়া বেগম :- এই তুই যাবি এখান থেকে,, বাড়িতে এসে থেকে মাথা নষ্ট করে দিচ্ছে, ছাগল ‘টায়—
সবার মুখে না, না শুনে রাগ উঠে যায় জোহানের.
“” হ্যাঁ একজন গাধা বলবে আরেক জন ছাগল বলবে,” সব পশু আমাকেই বানিয়ে দিচ্ছো তোমরা দুজন মিলে!! তাহলে বাড়ির সামনে একটা চিরিয়াখানার সাইনবোর্ড লাগিয়ে দাও,, “সবাই এসে আমাকে দেখে যাবে…!! কেউ আমার কষ্ট বোঝে না…!! কাউকে যেতে হবে না, আমিই কাল গিয়ে ঐমেয়ের সব চুল ছিঁড়ে ফেলবো..!!
“বাচাল ছেলে! যা এখন গিয়ে পড়তে বস। পড়ে তো না’ই, শুধু আজেবাজে কাজের বেলায় উস্তাকার..!
” ধমকি-ধামকি করে ঘরে পাঠয়ে দেয় জোহানকে। তা নালে বসে বসে মাথা নষ্ট করে ফেলবে আজগুবি কথা বলে..!!

রাতে পেড়িয়ে ভোরের আলো ছড়িয়ে পরছে ধরণীতে অনেক আগে । সকাল ৭ টা বাজে। জারা এখনো বিছানায় সুয়ে আছে। মারজিয়া বেগম একটু পর পর এসে ডেকে যাচ্ছে। কিন্তু তার উঠার কোনো নাম গন্ধই নেই। সেই কখন থেকে ডাকছেন তিনি কিন্তু তার মেয়ে উ’হ’হ’ — উ’হ’হ করে আবার ঘুমিয়ে পরছে,,। এবার তিনি বেজায় বিরক্ত হয়ে জারাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বলেন….
” এই জমিদারের বাচ্চা.! সকাল ৭ টা বাজে এখনো ঘুমচ্ছিস। উঠ তাড়াতাড়ি কলেজে যেতে লেট হয়ে যাবে আবার “”

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৮

” আম্মু জমিদার’রাই তো বেশি ভেলা করে ঘুমায়। তুমি যখন জমিদার বলেইছো তাহলে আর কতক্ষণ ঘুমায় ” যাও তো এখন এখান থেকে,” আমার সাধরে ঘুমের সাথে মীরজাফর”গিরি না করে ।
” মারজিয়া বেগম :- কী ” আমি মীরজাফর..?? আজকে ইচ্ছে মতো দিব তোকে পাঁজি মেয়ে কোথাকার ..!! এই জোহান আমার ঐ স্পেশাল রিমান্ড-থিওরি জাটা ‘টা কোথায় রে..??? যেটা দিয়ে তোদের দুইটা-কে মাঝে মাজে থেরাপি দেই আমি .?? তাড়াতাড়ি নিয়ে আয়, ” একজনের জমিদার ‘গিরি ছোটাতে হবে…!!

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here