Home রৌদ্রময় বালুচর রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১৪

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১৪

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১৪
সোহানা ইসলাম

যাকে খারাপ লোক ভেবে তোমার নালিশ করতে এসেছো যার কাছে তারা দু’জনই এক ব্যক্তি।
___ আজ মিম আর ফিহা অবাকের উপর অবাক হচ্ছে। এতো বড় মাপের একজন মানুষের সাথে তার বান্ধবী এতোদিন গাধার মতো আচরণ করেছে না বোঝে,। আর তারাও গাধী’টার কথা শুনে এতো
দিন লোকটাকে ভুল বোঝে এসেছে। কতো খারাপ ভেবেছে লোকটাকে। —

__” মিম :- সরি ভাইয়া!! আমরা আসলে আপনাকে না চিনে এতো খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছি। ”
‘ মিমকে সরি বলতে শুনে ফিহার বিরক্ত লাগে।
_ ফিহা :- এই তুই কেনো সরি বলছিস..? ওরা কেউ তো আর আমাদের তাদের পরিচয় দেয়নি, তাই ভুলবোঝাবুঝি একটা হয়ে গেছে। ”
ফিহার কথায় বাম হাত ঢুকিয়ে দিয়ে জাহেদ বলে , এই __“ কটকটি মেয়ে মানুষ!! তোমরা একবার যানতে চেয়েছো আমরা কে..?? আবার বলছো পরিচয় কেনো দেইনি..?? যতসব,!! ”
জাহেদ তাকে বার বার কটকটি বলছে দেখে তার মাথায় আগুন জ্বেলে যায়। জাহেদের দিকে আঙুল তাক করে বলে,

— ” একদম উল্টা পাল্টা নাম ধরে ডাকবে না আমায়। আমার সুন্দর একটা নাম আছে । ফিহা… ফিহা আমার নাম, বোঝেছেন আপনি..?? ”
জাহেদ :- “ শুনো মেয়ে তোমার সাথে এতো সুন্দর নামটা একেবারেই যায় না। তোমার সাথে ঐ কটকটি নামই পারফেক্ট ভাবে যায়। ”
-ফিহা :- একদম বাঝে কথা বলবেন না আপনি..?? এই আপনার নাম টা যেনো কী..? ”
জাহেদ… জাহেদ খান নাম আমার —”
জাহেদের নাম শুনে ফিহা ফাঁদ করে হেসে উঠে। হাসতে হাসতে বার বার মিমের উপর ঢ’লে ঢ’লে পরছে সে। জাহেদের দিকে তাকিয়ে বলে—
” ঐ… ঐ বাংলাদেশের জাহেদ খা*…. হাসির কারণে কথা বলতে পারছে না ফিহা। ”
ফিহার কথার ধরন বোঝতে পেরে জিনিয়াও হেঁসেই ফেলে ফিহার সঙ্গে তাল মিলিয়ে। —
” নাম শুনে এতো হাসার কী হলো বোঝাতে পারছে না জাহেদ। ভ্রু কুঁচকে তাকায় ফিহা আর জিনিয়ার দিকে।জাহেদ বিরক্তি ভাব নিয়ে জিজ্ঞেস করে,

—- ” এতো হাসার কী আছে এখানে.?? আমার নাম’কে কী তোমাদের কোনো কৌতুক বলে মনে হচ্ছে..?? ”
” কৌতুক বলে মনে হবে কেনো,আপনি তো পুরোটাই একটা কৌতুকের গোডাউন। বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত ডিক****…. হাসির তোপে আর বলতে পারলো না ফিহা।
কিন্তু এবার ফিহার কথা জাহেদ ছাড়া সকলেই বোঝাতে পারে, ফিহা কী বলতে চাচ্ছিলো।তাই সবাই একসাথে হাসতে থাকে হো… হা. হা.. করে।
তাদের এমন হাসি তামাশা দেখেতে বিরক্ত লাগছে আরমানের। এমনিতেই তার হাফ ইঞ্চি মেয়ে অজ্ঞান হয়ে আছে। এক পলক জারার দিকে তাকিয়ে,, সে ওয়াড্রোব থেকে নিজের জামা-প্যান্ট নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।
ফ্রেশ হয়ে এসে রোহানকে বলে তাদের সবার জন্য খাবারের ব্যবস্তা করতে। দুপুর অনেক হয়েছে। সবার নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে..?

জারা’র এখনো জ্ঞান ফিরে’নি। এক ঘন্টার উপরে হতে চললো প্রায়। দুপুরের খাওয়ার জন্য জিনিয়া এসে মিম আর ফিহা কে জোর করে নিয়ে যায়। এই টুকু সময়ে মিম আর ফিহার সাথে জিনিয়ার বেশ ভাব জমে উঠেছে। জারা সজ্ঞানে থাকলে তার সাথে ও ভাব জমিয়ে নিতো জিনিয়া। জিনিয়া এমনিতে কম কথা বললেও খুব মিশুক প্রকৃতির মেয়ে। খাওয়া দাওয়া শেষ করে মিম আর ফিহা কে নিয়ে জিনিয়া’দের রুমে নিয়ে আসে। মিম,ফিহা,জেরিন আর জিনিয়া চারজন মিলে গল্প করতে থাকে। —
জাহেদ এখনো মুখ ভার করে বসে আছে। তখন তার নাম নিয়ে এতো হাসাহাসি করতে দেখে মোটেও পছন্দ হয়নি তার। রোহান তার দিকে তাকিয়ে একটু পর পর হাসছে। এতো হাসাহাসি তার কাছে এখন প্রচুর বিরক্ত লাগছে। মনে মনে সবক টাকে গালি দিতে দিতে নিজের রুমে চলে আসে। —”
আরমান বারান্দায় দাঁড়িয়ে সিগারেটের ধোঁয়া উড়াচ্ছিলো। তখন তার পাশে এসে দাঁড়ায় রোহান। রোহানের উপস্থিতি বোঝতে পেরে আরমান মনে মনে বল—” চলে এসেছে ছেছড়া, এখনই বলবে দেহ ভাই একটা টা’ন দেই। আরমানের ভাবনার মাঝেই রোহান একথা বলে ফেলে— ” দোস্ত দেহ না একটা টা’ ন দেই !! ”
রোহানের কথা শুনে আরমান কিছু মনে করে না, কারণ এটা তার সাথে সবসময়ই হয়। রোহান সিগারেট কিনে খায় বলে মনে হয় না আরমানের। তার কাছেই এসে ভাগ বসায়। আর দিতে না চাইলে বলে — ” যে বন্ধু সিগারেটের ভাগ দেয় না, সে কখনো প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে সিগারেটের ভাগ দেওয়া দরকার। ”

আধখাওয়া সিগারেট’টা রোহানের দিকে এগিয়ে দেয় বিনাবাক্যে আরমান। সিগারেট টা শেষ করে পা দিয়ে পিষে আরমানের দিকে তাকায় রোহান।
” দোস্ত একবার গিয়ে ভাবিকে দেখে আয়। দেখ জ্ঞান ফিরেছে না-কি..?? ”
” মানজারা ‘কে নিয়ে তোর এতো না ভাবলেও চলবে। নিজের টা নিয়ে ভাব আগে। আমার টা আমিই বোঝে নিবো। ”
– আরমানের মুখে মেয়ের নাম শুনে ফটাফট জিজ্ঞেস করে রোহান —-” মানজারা কে দোস্ত..??
গম্ভীর কণ্ঠে জবাব দেয় আরমান —
” তোর ভাবি!! যা এখন এখান থেকে আমার মাথা না খেয়ে..!! ”
রোহান দাঁত কেলিয়ে বলে — ” তোর মাথা বোঝি খাওয়ার জিনিস..!! বলে আর একমুহূর্ত সেখানে দাঁড়ায় না রোহান। দাঁড়ালেই সেধে বিপদ ডেকে আনা।

সিগারেটের গন্ধ একটা সেন্টার ফ্রেশ মুখে দিয়ে আরমান রুমে চলে আসে। রুমে এসে দেখে জারা নরা চরা করছে। নিজের হাত, পা মোচড়ামুচড়ি করে শুয়া থেকে উঠে বসে। মাথাটা ঝিম ধরে আছে তার। তাই মাথায় হাত দিয়ে চেপে ধরে।
আরমানের কাছে এই অবস্থায় কিউট বাচ্চাদের মতো লাগছে তার হাফ ইঞ্চি মেয়ে কে।
” উঠে পরেছেন ম্যাডাম আপনি..?? ”
কারো ডাক শুনে সামনে তাকিয়ে দেখে আরমান দাড়িয়ে আছে তার দিকে দৃষ্টি রেখে। এখনো এখানে এই মানুষ টা কে দেখে হটাৎ করে কান্না করে দেয় জারা। কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলে,
—” আমি বাড়ি যাবো!! আমি আম্মুর কাছে যাবো, এখানে থাকব না আমি। ”
হটাৎ করে জারা’কে কান্না করতে দেখে
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। কপালে বাঁজ ফেলে তাকায় আরমান জারা’র দিকে।
__” এই হাফ ইঞ্চি মেয়ে, তুমি কান্না করছো কেনো..? আমি কী তোমার সাথে খারাপ কিছু করছি না কি..??”
জারা ডানে বামে মাথা ঝাঁকায়। যার মানে না, আরমান তার সাথে খারাপ কিছু করছে না। —
” তাহলে কান্না থামাও মেয়ে। এখন তাহলে মেইন টপিকে আসি আমরা!! ”
আরমানে কথা কিছু বোঝলো না জারা। কী বিষয়ে কথা বলছে লোকটা..?? তাই কিছু টা তুঁতলিয়ে তুঁতলিয়ে বলে,

—- ” মা… মা”নে!! ”
–“ মানে এই যে, জমি আমার, মালিক আমি, আমাকেই ধরে যখন তখন মারছো,গালি দিচ্ছো,আবার বলছো আমাকেই এই মাঠে ডুকতে দিবে না !! সব অপরাধ আমার সাথেই করেছো। আবার এসেছো আমার নামে আমারই কাছে বিচার দিতে। বিষয় টা কেমন হয়ে গেলো না..?? ”
আরমান এর কথা শুনে পুরো ‘ থ ‘ হয়ে যায় জারা। তার যেনো সব কিছুর হিসাব মিলাতে গিয়ে পেঁচ গেলে যাচ্ছে বার বার। আরমানের দিকে বোকার মতো তাকিয়ে আছে জারা। কোথায় যেনো হিসাব মিলছে না তার। তাই বোকার মতো প্রশ্ন করে ফেলে,
— ” আ’ আ..প’ নি কে.??”
জারা’র বোকার মতো প্রশ্ন শুনে প্রাণ খোলা এক হাসি দেয় আরমান। হাসতে হাসতে জারা’র দিকে এগিয়ে এসে বলে,
— ” যার কাছে বিচার দিতে এসেছো আর তার আসল পরিচয়ই জানো না বোকা মেয়ে..?? আমি আরিফ খানের একমাত্র সন্তান আরমান খান। ”

আরমান তাকে কী বললো সে দিকে কোনো খেয়াল নেই তার। সে তো পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরমানের গ্যাজা দাঁতের হাসির দিকে। লোকটাকে হাসলে কী সুন্দর লাগে, আল্লাহ..?? এই বেডার রূপ দেখে মনে হচ্ছে তার আজ মৃত্যু অনিবার্য। বোকা বোকা চাহনি দিয়ে আরমানের দিকে তাকিয়ে বলে,
— ” কাউকে একটু ডেকে দিবেন প্লিজ!! আমি আপনার হাসি দেখে জ্ঞান হারাচ্ছি মনে হচ্ছে। ”
ব্যাস, বলতে ধেরি হলো আবারও জারা বিছানায় নেতিয়ে পরতে ধেরি হলো না। জারা ‘কে আবারও জ্ঞান হারাতে দেখে কিছু টা অবাক হলো বেশ আরমান। মানুষ কারো হাসি দেখেও জ্ঞান হারায় এটা সে আগে জানতো না। কিন্তু জারা’র এ অবস্থা দেখে তাড়াতাড়ি ছুটে এসে তাকে আগলে নেয় আরমান। বালিশে মাথা দিয়ে সুন্দর করে শুয়ে দেয় জারা’কে। আরমান রুম থেকে বেরিয়ে আসে জিনিয়া দের ডেকে নিয়ে যায়।
জিনিয়া :- ভাইয়া ওর আবার কী হয়েছে..?? ”

আরমান গম্ভীর কণ্ঠে বলে –” যানি না আমি!! আমাকে দেখার পর আবারও জ্ঞান হারিয়েছে। ”
জিনিয়া আর কথা না বাড়িয়ে জারা’র চোখে মুখে পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করছে। মিম আর ফিহা জারা’র মাথার কাছে বসে আছে।
কিছুক্ষন পর জারা’র জ্ঞান ফিরে আসলে সবাই সুস্থির একটা শ্বাস ফেলে। জারা’র চারপাশে এতো মানুষের বি-র দেখে ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু তার চেনা দুইজন কাছে মানুষ কে দেখে ভয়টা দূর হয়ে যায়। শুয়া থেকে উঠে বসে জারা। সবার দিকে চোখ ঘুরিয়ে দেখতে লাগে,, সবার মুখই তার চেনা কিন্তু শুধু একজনের ছাড়া। জিনিয়া, সবার সাথে একবার করে দেখা হলেও জিনিয়ার দিকে দেখা হয়নি তার। তাই জিনিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে

–” তুমি… তুমি কে..?? আগে তো দেখি ‘নি কখনো..?
জারার কথায় ফিহা উত্তর দেয়,
— ” এই হচ্ছে জিনিয়া আপু। তোর জ্ঞান ফিরাতে আমাদের অনেক হেল্প করছে আপু। ”
এবার জেরিন জারা’র কাছে এগিয়ে এসে বলে
— ” এটা হলো আমার বড় আপু, জিনিয়া। আমার আপু অনেক ভালো , তোমার হেল্প করেছে। ”
জারা:- ধন্যবাদ আপি। ”
__“ ধন্যবাদ দিতে হবে না বোকা। তুমি তো আমার বোনেরই মতো। খুব মিষ্টি এক টা মেয়ে। ”
জিনিয়ার কথায় আরমান ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলে
–” পছন্দ হয়েছে তোর..?? ”
বড় ভাইয়ের কথায় ঝটপট উত্তর দেয় জিনিয়া
–” হ্যা, খুব পছন্দ হয়েছে আমার জারা’কে।
জিনিয়ার সাথে তাল মিলিয়ে জেরিন ও বলে
–” আমারও সাদা পরীকে খুব পছন্দ হয়েছে। “রোহান আর জাহেদ ও বোকার মতো বলে
–” আর আমাদেরও ”
আরমান গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
__” তোদের জিজ্ঞেস করছি আমি, গরু কোথাকার। চুপ করে দারিয়ে থাক নয়তো রুম থেকে বের করে দিবো। ”

মুখের উপর অপমান করে দিলো দু’জনকে। তারা তো সরল মনে বলেছে শুধু পছন্দ হয়েছে। তাই বলে তাদের কথায় কথায় গরু বলতে হবে। বন্ধু হিসেবে একটু যদি সম্মান দিতো তাকে এই ছেলেটা।
আরমান এবার জারা’র দিকে তাকায়, জারা আরমানের দিকে তাকিয়ে থাকায় দু’জন চোখাচোখি হয়।লজ্জায় পরে যায় জারা, তাই সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে মাথা নিচু করে ফেলে।জারা’কে লজ্জা পেতে দেখে ঠোঁট কামড়ে হাসে আরমান। মিম আর ফিহার দিকে তাকিয়ে বলে — ” ওকে ফ্রেশ করিয়ে, বাড়িতে নিয়ে যাও তোমরা। অনেক লেট হয়ে গেছে তোমাদের আজ। বাড়ির লোকেরা হয়তো তোমাদের জন্য সবাই চিন্তা করছে। ” বলে আরও একবার জারা’র দিকে তাকিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে আসে আরমান।

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১৩

জারা নিজেই ফ্রেশ হয়ে নেয়। খোলা চুল গুলো হাতে সাহায্যে বেদে নেয়। গলায় ঝুলিয়ে থাকা হিজাব টা সুন্দর করে পরে নেয়। মাক্স আর পরে না জারা। ফিহা আর মিম জারা’কে নিয়ে রুম থেকে বের হয় চলে আসার জন্যে। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির বাইরে পা রাখতে যাবে, এমন সময় পিছন থেকে তাদের ডাক পরে।
” তোমাদের একা যেতে হবে না। রোহান আর জাহেদ তোমাদের পৌঁছে দিয়ে আসবে। ”

রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ১৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here