আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩২ (২)
ইসরাত জাহান দ্যুতি
কেবিনেটের ভেতর নাওফিলের জামা কাপড় আগে থেকেই গোছানো ছিল৷ নতুন অ্যপার্টমেন্টে শিফট হওয়ার সময় নাওফিলের সমস্ত কিছুই তখন এখানে সাজিয়ে, গুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীধিতির কাপড়গুলো এখনও তোলা হয়নি সেখানে৷ রাত করে আর কিছু গোছগাছ করার ইচ্ছাও হয়নি দীধিতির। তাই হাতের কাছে ওর কোনো ওড়না পেল না নাওফিল৷ বিছানার শিথানে থাকা নাইটির ওপরের ওই গাউনটাই দীধিতিকে দিয়ে আদেশ সুরে বলল, ‘বেডরুম হোক আর লিভিংরুম, ড্রয়িংরুম হোক। গায়ে ওড়না মেলে রাখার চেষ্টা করবে সর্বক্ষণ। আরও বেশি ভালো হয় মাথায় কাপড় রাখার অভ্যাস করলে।’
ঔৎসক্য নিয়ে দীধিতি তাকায় তখন। মজার ছলে বলে, ‘তোমার অস্বস্তি বা অন্য কোনো সমস্যা হয় না কি আমাকে এভাবে দেখে?’
নাওফিল ওকে আপাদমস্তক দেখতে দেখতে বলে, ‘হওয়াটাই স্বাভাবিক না? আফটার অল, আ’ম আ স্ট্রং ইয়াং ম্যান। অ্যান্ড আ’ম অলরেডি ফিলিং হর্নি।’
দীধিতির এবার খানিকটা লজ্জা অনুভূত হয় নাওফিলের চাহনির ধরন দেখে৷ তবে কথাগুলো শুনে ভালোও লাগে খুব। ও তো চাইছিল ওর প্রতি আকর্ষিত হোক নাওফিল, ওকে কাছে টানুক, খুব সহজ হয়ে যাক ওর সঙ্গে আজই।
-‘কিন্তু শুধু আমি না৷ তোমার আশেপাশের অন্য প্রজাতির পুরুষগুলোও মজা পাচ্ছে তোমাকে দেখে, তারাও উত্তেজিত হয়ে পড়ছে৷ হয়ত তুমি ঘুমিয়ে গেলে চাইবে তোমার খুব কাছে আসতে।’ নির্বিকারভাবে কথাগুলো বলতে বলতে নাওফিল বিছানায় এসে শুয়ে পড়ল সটান।
কয়েক সেকেন্ড পূর্বের দুষ্টু মিষ্টি অনুভূতিগুলো ফানুসের মতো উবে গেল কথাগুলো শুনে। দীধিতি হতবুদ্ধি হয়ে তাকিয়ে থাকে ওর দিকে, ‘কী বলো এসব? কোন প্রজাতির পুরুষ দেখলে আমার আশেপাশে?’
নাওফিল তখন মাথার নিচে দু’হাত পেতে শুয়ে ওকে চোখের ইশারায় নিজের পাশে এসে শুতে বলে। দীধিতি ভাবনাগ্রস্ত চেহারায় ঘরের আলো নিভিয়ে বিছানাতে আসলে নাওফিল চটজলদি ওকে চাদরে ঢেকে দিতে দিতে বলে, ‘জিন প্রজাতি আমাদের সাথেই বাস করে, আমাদের আশেপাশে চলাচল করে৷ ওদের সংখ্যা এতটাই বেশি যে, তুমি যদি ওদের দেখতে পেতে তাহলে চুলে বিলি কাটার মতো ওদেরকে বিলি কেটে পথ তৈরি করে হাঁটতে হতো তোমায়। এই যে তুমি যখন ওড়না ছাড়া থাকো তখন কিন্তু এরা তোমাকে দেখে মুগ্ধ হয়, তোমার শরীর দেখতে ওদের মজা লাগে। আর এভাবেই ওদের বদনজরের খপ্পরে পড়ে নারীরা। বাথরুম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। গায়ে, মাথায় ভালোভাবে কাপড় রেখে দোয়া পড়ে প্রবেশ করতে হয়। আবার দোয়া পড়েই বের হতে হয়। প্রবেশের সময় বাঁ পা আগে ফেলতে হবে আর বের হওয়ার সময় ডান পা। বাথরুমে প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা একদম উচিত নয়৷ অধিকাংশ মেয়েদের কান্ননাকাটি করার জায়গাটা বাথরুম৷ কিন্তু এটাও উচিত নয়। গান গাওয়া, কান্নাকাটি করা, আয়নার সামনে ন্যাকেড দাঁড়ানো, সব অনুচিত।’
-‘তুমি কি এত কিছু মানো? না মানে তোমার কথায় মনে হচ্ছে তুমি ইসলাম প্র্যাক্টিস করো কঠোরভাবে।’ কৌতূহল আর বিস্ময়ভাব দীধিতির চেহারায়।
নাওফিল মাথা নেড়ে বলে, ‘কঠোরভাবে করা সম্ভব হয়নি এখনও। তবে চেষ্টা করি অনেক কিছুই মান্য করার। কিন্তু গত এক বছরে সেটাও বাদ দিয়ে ফেলেছিলাম। ইন শা আল্লাহ এখন থেকে আবার চেষ্টা করব। সেই সাথে তুমিও। দীধি, তুমি আগে কেমন ছিলে এটা আমার জানার প্রয়োজন নেই। এখন আমি যেভাবে তোমাকে দেখতে চাই চেষ্টা করবে সেভাবেই নিজেকে তৈরি করার।’
-‘আমাকে কেমন দেখতে চাও তুমি?’
-‘আপাতত প্রতি ওয়াক্তের সালাত আদায় আর পর্দা করার অভ্যাস তৈরি করা।’
পর্দা করার কথাটা শুনেই দীধিতির কপাল কুঁচকে গেল। নাওফিল তা দেখল না। এই ব্যাপারগুলো নিয়ে এখন কথা বলতে মোটেও আগ্রহী না সে৷ আজ সে খুব করে চাইছে নাওফিল ওকে গভীরভাবে ছুঁক, বিয়ের প্রথম রাতে যে প্রেমপূর্ণ গল্পগুলো হয়নি সেগুলো আজ হোক। আজ শরীর, মন, দুই-ই অশান্ত সমুদ্রের মতো। যে সমুদ্রে নাওফিলের প্রণয় আদরের বেপরোয়া ঢেউ চলবে। লাজ ভুলে তাই সে আহ্বান দিচ্ছে নাওফিলকে।
বিপরীতে নাওফিল এমন শান্ত কী করে রয়? ওর কি মন চায় না দীধিতিকে কাছে টানতে? ভালোবাসার কাব্য শোনাতে না পারুক। অন্তত দীধিতিকে ঘিরে ওর সরল অনুভূতিগুলো ব্যক্ত করুক! কিন্তু নির্লিপ্ত মনোভাব যে এখানে বেমানান, অনুচিত। কয়েক মিনিট মৌনতা চলার পর হঠাৎ জিজ্ঞেস করে দীধিতি, ‘তোমার কি খুব ঘুম পাচ্ছে?’
আমি অভিশাপ পৃথ্বীর পর্ব ৩২
-‘না পেলেও পাওয়াচ্ছি, দীধি। যদিও আমি অনেক স্ট্রং, হার্টি ম্যান। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার মন টায়ার্ড। তাই আমার ভাইব্রেশন করা অঙ্গ প্রতঙ্গকে নেতিয়ে পড়া মন দিয়েই শাসনে রাখছি। আর কাইন্ডলি তুমিও তোমার উঁকিঝুঁকি দেওয়া ফকফকা, বেলেহাজ অঙ্গগুলোকে শাসনে রাখো প্লিজ। ওরা খুব বখাটে৷ আমাকে প্রচণ্ড পরিমাণে উত্ত্যক্ত করছে কিন্তু।’
