নীরব উন্মাদনা পর্ব ১১
সুরাইয়া জিয়াসমিন
নুবা না চাইতেও মাথা ঝুকালো,,আমিনা বেগম নুবার দুই গালে চুমু খেলো,,নুবা মনে মনে হাসলো,,রাজি না হলে কালকেই হয়তোবা এই চুমু দেওয়া গালে থাপ্পড়ো মারতে দ্বিধাবোধ করবে না
অমিনা বেগম রুমে এসে দেখলো আরহাম রুমেই বসে আছে,,,আমিনা বেগম ধীর কন্ঠে বললো
_ এখানে কি করছিস
আরহাম সরাসরি প্রশ্ন করলো
_নুবা কি বললো
_ ও ভেবে দেখে কালকে বলবে,,
আরহাম বিরক্তি নিয়ে বললো
_ এখানে ভাবার কি আছে,,,ওকে তো আর ফ্রি ফ্রি করতে বলছি না
_ আরহাম enough is enough ,,ও ওর জীবনের এতো বড় একটা সিদ্ধান্ত নিবে ভেবে দেখবে না নাকি,
আরহাম উঠে দাঁড়ালো,,, পরপরই যেতে যেতে বলে উঠলো
_ উত্তর টা যাতে হ্যাঁ হয়,,আর যদি না হয় তবে ওদের ব্যাগ পত্র রেডি রাখবে বলবা,,,এই বাড়িতে অনেক ফ্রি খেয়েছে এবার গতর খাটিয়ে খাক,,,
আমিনা বেগম একটু রেগে উঠলেন আর বললে
_ তুই কে ওদের বেড় করে দেওয়ার,,, তুই এনেছিলি ওদের,,তোর বাপ এনেছিলো যা বরার বা কররা অধিকার শুধু তারি আছে,,আজ পর্যন্ত সে কিছু বললো না আর তুই দুই দিনের জন্য এসে গলা বাজাচ্ছিস,,,
আরহাম রাগি চোখে মায়ের দিকে তাকালো,,রাগে গজগজ করে বললো
_ তোমার আপন মানুষ রেখে পর বেশি আপন হয়ে গেছে
আমিনা কাঠকাঠ উত্তর দিলো
_ নুবা না থালকে কি করতি তুই,,,এতো জোর দেখাচ্ছিস যে,,,এটা কোনো বাধ্যতামূলক কাজ নয়,,,নুবার ইচ্ছে হলে করবে না হলে না,,, তুই জোর দেখানোর কে
আরহাম বেশ রেগে গেলো,,পাশ থেকে কিছু ঘড়ের জিনিস ভেঙ্গে রেখে গেলো,,
আমিনা বেশ হতাশ হলেন,,এই ছেলে আর সুধরাবে না,,,
_ কি হলো কিছু বলছিস না কেন,,
নুবা মলিন কন্ঠে বললো
_ ভেবে দেখি মা
হাজেরা বেগম দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ কি ভেবে দেখবি,,, প্রয়জন নেই,, তোর ঠেকে পড়েনি পরের মেয়ে সমলানোর,,,পরে কিছু ভুল হলে বলবে টুকরো টুকরো করে রেখে দিবো,,তখন শুনবি এসব,,,বুঝিস না তুই জোর জার মুল্লুক তার,,
আসলে তখন হাজেরা আরহমের বলা কথায় বেশ কষ্ট পেয়েছে,,,পাবেই বা না কেন,,তার মেয়ে সারাদিন খেএ না খেয়ে বাচ্চাটার খেয়াল রেখেছে আর শেষ পর্যন্ত তারি দোষ হলো,,রাগ হওয়ারি কথা
এদিকে নুবা বিরক্তি প্রকাশ করে বললো
_ ahh মা চুপ করো তো,,
_ কি চুপ করবো রে,, তাদের বাড়িতে থাকি দেখে কি পেয়ে বসেছে নাকি,,তারা হয়তোবা ভুলে যাচ্ছে তাদের কারনেই আমার স্বামী মারা গেছে,,,
_ মা,,,কেউ কারো কারনে মরে না,,,
_ তা নয় তো কি,,,না সেদিন তোর বাবা ওই লোককে বাঁচানোর চেষ্টা করবো,,আর না মারা যেতো,,আর না আমাদের এরকম নিচু হয়ে কারো বাড়িতে থাকতে হতো,,এখন তারা যা বলবে তাই,,কি বলে গেলো শুনলি না,, উত্তর টা যাতে হ্যাঁ হয়,, আমাদের মতামতের কোনো গুরুত্বই নেই ,,,
নুবা বালিশে মাথা ঠেকিয়ে বললো
_ ভাবতে দেও মা,,
হাজেরা বেশ রাগি কন্ঠে বললো
_ কি ভাববি,,জানিস একটা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতে হলে কতটা সাফার করতে হয়,,,তাও আবার কৃত্রিম,,,ওগুলো দুধ না তোর শরীরের রক্ত চুষে চুষে খাবে, যতোই বলুক শরীরের ক্ষতি হবে না,, তুই কি বলদ নাকি কোনো ক্ষতি ছাড়াই হয়ে যাবে,,,,শরীরে মাতৃত্বকালীন দাগ পড়বে,,বুক ফাটবে,,,তখন তোকে কার কাছে বিয়ে দিবো হ্যাঁ,,, এরকম টা হয় নাকি,,কে করবে এই সব,,,
নুবা মায়ের কথা মনযোগ দিয়ে শুনলো,,হাজেরা আবারো বলে উঠলো
_ না করে দিবি,,তারা দেখুক গা কি করবে,, আমাদের দেখার বিষয় না,,তোকে মেরে আমি ওদের সাহায্য করবো নাকি,,,আর এমনিতেও আরহামের স্বাভাব ভালো না,,, মানসিক ভাবে অসুস্থ,,,কখন কি করে বসে বলা যায়
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ কেউ ক্ষুধ ছাড়া না মা,, হয়তোবা উনার সমস্যা,,,তাই বলে তুমি এভাবে বলতে পারো না,,
নুবা রুম থেকে বেড় হয়ে হতভম্ব হয়ে গেলো,,, কারণ সবাই লিভিং রুমে বসে আছে,,, এমন কি হারুন মির্জাও ,,,সে বুঝতে পারলো না আজ এতো সকাল সকাল সবাই ঘুম থেকে কেন উঠেছে,,,
নুবা একটু বিচলিত হয়ে আবারো রুমে ডুকতে নিলো,,,তখনি আমিনা বেগম ডেকে উঠলো
_ নুবা,,,
নুবার পা ওখানে থেমে গেলো,,সে শুকনো ঢোক গিললো,,,সে এই ব্যপারে এখনো কিছু ভাবেনি,,
নুবা মাথা নিচু করে আস্তে এগিয়ে আসলো,,পিছন পিছন হাজেরা বেগম ও আসলো,,
আমিনা বেগম নুবাকে নিজের সামনে বসালো,,সবাই সকাল থেকে রাহ দেখছিলো যে নুবা কখন ঘুম থেকে উঠবে,,
আমিনা বেগম নুবার হাত দুটো ধরে মিষ্টি কন্ঠে বললো
_ রাতে ঘুম ভালো হয়েছে
নুভা মাথা ঝুঁকিয়ে হ্যাঁ বললো,,এতো ভালো ব্যবহার যেনো তার হজম হচ্ছে না,, হ্যাঁ অবশ্যই সবাই ভলাও কিন্তু আজ এতো অভার রিয়েক্ট,,
আমিনা বেগম আলতো করে নুবার গাল ছুঁয়ে দিলো,, পরপরই বলে উঠলো
_ কি ভাবলি মা,,,
নুবা কি বলবে বুঝতে উঠতে পারলো না,, পরপরই তার মায়ের দিকে তাকালো,,হাজেরা বেগম চোখের ইশারায় না করলো,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_তুমি জানো তো চাচি আমার হসপিটাল,,,কাটা ছিরা,, ওষুধ কে কত ভয় লাগে,,,আজ পর্যন্ত হসপিটালের গন্ডিতে শুধু একবারি পা রেখেছিলাম,,, বাবার মৃত্যুর পর,,,
বলেই নুবা কিছুটা নিরাশ হলো,,আরাফ নুবার কথায় বেশ খুশি হলো,,সে চায় না এমন কিছু হোক,, এখানে হারুন সাহেব নিরপেক্ষ,সে কিছুই চায় না,,,আমিনা বেগম মলিন কন্ঠে বললো
_ কিছু হবে না নুবাইরা,,আমি আছি না,,
নুবা ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ কয়দিন পর থেকে exam শুরু জানো তো,,তখন তো আমি বাসায় থাকবো না,,,
_ বাসায়ও তো ফিরবি,,তোকে কি একা সামলাতে দিবো,,আমরা আছি না,,
নুবা কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ আমি ভেবে দেখছি চাচি আমি ,,,
_ আমি জানি তুই হ্যাঁ বলবি
নুবা আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে আবারো মাথা নিচু করে নিয়ে বললো
_ সত্যি কথা বলতে আমার বলতে খারাপ লাগছে চাচি কিন্তু আমি অনেক ভেবেছি,,তবে আমার মন সাই দেয়নি,,,আমি নিজেকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করছি,, কিন্তু,,,,আমি সত্যিই তোমাদের নিরাশ করতে চাইনি,,,তবে আমি এটা করতে পারবো না,,,আমি নিজেকে অনেক বুঝিয়েছি,,, sorry,,,
আমিনা সাথে সাথে নুবার হাত ছেড়ে দিলো,,মুখে নেমে আসলো কালো অন্ধকার,,,আরহাম এখানেই দাঁড়িয়ে ছিলো,,নুবার উত্তর পছন্দ না হওয়ায় পাশে টি টেবিলে থাকা সব জিনিস এক ধাটকায় ভেঙ্গে দুপধাপ পা ফেলে চলে গেলো
নুবা এরপর বিকট শব্দে ধুপ করে কেঁপে উঠলো,,,চোখ মুখ খিচে নিলো,,
আরাফ নুবার উত্তরে প্রচন্ড খুশি হলো,, হারুন মির্জা উঠে দাঁড়িয়ে বললো
_ চলো আরাফ,,অফিসে কাজ আছে,,
আরাফ বাবার সাথে চলে গেলো,,,আরশি চুপচাপ নুবার দিকে তাকিয়ে রইলো,,সে ভেবেছিলো নুবা হ্যাঁ বলবে,,
আমিনা বেগম কালো মুখ নিয়ে উঠে দাঁড়ালো আর বললো
_ তোর ইচ্ছে জোর করার আমি কে
বলেই আমিনা বেগম চলে গেলো,, হাজেরা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো,,,
হারেজা বেগম বিছানা গুছিয়ে রাখতে রাখতে বললো,,
_ যা বলেছিস ভালো বলেছিস,,
নুবা চুপ রইলো,,নুবার মনটা সায় দিলো না,,আয়রার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকালে এবার থেকে নুবরা খুব খারাপ লাগবে,,,
নুবা বিরবির করে বললো
_ আয়রার জন্য খারাপ লাগছে,, বাচ্চা টা ___
আর বলতে পারলো না নুবা,,হাজেরা বেগম শান্ত কন্ঠে বললো
_ এখন কি তোর নিজের জীবন টা নষ্ট করতে ইচ্ছে হচ্ছে নাকি,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ না,,, কিন্তু কেন জানি বাচ্চা টার জন্য খারাপ লাগছে,,,সবাই অনেক আশা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো,, বিশেষ করে চাচি ভেবেছিলো আমি হ্যাঁ করবো
_ বাদ দে এই সব কথা
_ মা একটা কথা বলি,,,
হাজেরা বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ বল,,
নুবা মলিন কন্ঠে বললো
_ আজ যদি আমার সন্তানের সাথে এমন হতো,,ধরো আমি নেই তোমার নাতি বা নাতনি একটু পেট ভরে খাওয়ার জন্য কাতরাচ্ছে তখন তুমি কি করতে,,,
নুবার কথায় হাজেরা বেগমের কাজ করতে থাকা হাত দুটো থেমে গেলো,,
নুবা আবারো বলে উঠলো,,,
_ তা বাধ্য মা তাই আমাদের দোয়ারে এসেছিলো,,,
হাজেরা বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_তো কি বলতে চাইছিস তুই,, তুই কি রাজি হয়ে যাবি নাকি,,,
_ জানি না,,তবে খারাপ লাগছে,,
_ তোর ইচ্ছে,,তোর যদি শরীরে কুলায় তবে আমার কিছু বলার নেই,,,
_ আরহাম অতিরিক্ত হচ্ছে কিন্তু,,
_ ওর সাহস কি করে হয় সবাইকে ফিরিয়ে দেওয়ার,, হ্যাঁ,,
_ ওর ইচ্ছে,,,ওকে আমরা জোর করতে পারিনা,,
আরহামা রাগে রুমে ভাংচুর করতে শুরু করলো,,, এদিকে ভয়ে ঘুমন্ত আয়রা কান্না করে উঠলো
আমিনা আয়রাকে কোলে তুলে বললো
_ অনেক হয়েছে,, কোনো না কোনো ব্যবস্থা হয়ে যাবে,, শান্ত হ,,,আর একটা ঘড়ের জিনিস ভাংচুর করলে তোর কপালে শনি আছে,,, আমাকে চিৎকার করাস না আরহাম পরে তোরি খারাপ লাগবে,,,
আরহাম রাগে হিসফিস করে বললো
_ ওই মেয়েকে বাড়ি থেকে বেড় করো,, আমার চোখের সামনে যাতে না আসে,,না হলে ওকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বেড় করে দিবো,,,
নুবা চপটি মেরে রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে রইলো,,সে তো অনেক ভেবে চিন্তে বলতে এসেছিলো সে রাজি তবে রুমের ভিতর থেকে এরকম কলাহোল শুনে নুবার মনটাই ভেঙ্গে গেলো
তার মন বলছিল এই ‘না” শব্দ উচ্চারণ কররা কারনে তাদের বাড়ি থেকে বেড় করে দিতে পারে,,,তা যে এতো তাড়াতাড়ি সত্যি হবে তার ভাবনার বাইরে ছিলো
নুবা অনুভব করলো এখন প্রতি কদমে কদমে তার আর তার মায়ের তিল পরিমাণ ভুলও মেপে ধরা হবে,,,নুবা আস্তে করে ওখান থেকে সরে গেলো,,, নিজেকে খুব অসহায় মনে হলো,,,আজ যদি বাবা বেঁচে থাকতো এরকম কিছু হতো না,,কখনোই না,,,আসলে সবাই স্বার্থপর,, সার্থ হাশিল না হলে সবাই ক্ষিপ্ত হায়না হয়ে উঠে,,,
আজ শুধু আরাফের উপর থেকে না এই সব পরিবারের উপর থেকে নুবার ভরসা উঠে গেলো,,,সে বুঝতে পারলো কেউ কারো সার্থ ছাড়া কাজ করে না
আজ যদি তার বাবা হারুন মির্জা কে না বাঁচাতো তালহে হয়তোবা কখনোই তাদের এই বাড়িতে ঠাই দেওয়া হতো না,,আর নুবা কত বোকা ভেবেছিলো সবাই তার ভালো চায়,,,
দুপুর ঠিক ১২ টা,,নুবা রান্না ঘড়ে কাজ করছে,,,আরশি আর আমিনা বেগম মিলে আয়রাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছে,, কিছু আয়রা এতো পাজি মুখে ফিটার তুলতেই চাইছে না,,,
নুবা সবটাই রান্না ঘড় থেকে শুনছে তবে তার কিছু করার নেই,,সে চুপচাপ শুনে যাচ্ছে,,,
মেয়ের কান্নায় আরহমা ছুটে আসলো,,,মেয়েকে কোলে নিয়ে বুকে জড়ালো আদুরি কন্ঠে বললো
_ তুমি যতোই কান্না করো না কেন মা,,, তোমার কান্না কারো চোখে পড়বে না,, তোমাকে এভাবেই বাঁচতে হবে,,I know my little mom is very strong.,,
নুবা কথা টুকু শুনেও কাজে মনযোগ দিলো,, মনে হলো তাঁকেই খোঁচা মারা হলো
আরশির মুখের লাগাম ছুটলো,,একটু রাগি কন্ঠে বললো
_ আয়রার কিছু হলে তুমিই দাই থাকবে ভাইয়া,,একটা বিয়ে করে নিলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়,, কিন্তু তুমি তো তোমার জিদে আটকে থাকবে,,,আর নিজের দোষ টা অন্যের ঘাড়ে চাপাবে,,,
বলেই আরশি গটগট করে চলে গেলো,,,
আরহাম আরশির কথায় পাত্তা না দিয়ে মেয়েকে বেশ কষ্ট করে ফিডার মুখে দিলো,,এক পর্যায়ে আয়রা ক্লান্ত হয়ে কান্না করতে করতে ফিড করতে লাগলো,,
আমিনা বেগম আরশিকে কিছু ছবি দেখাচ্ছে আর জিগ্গেস করছে
_ এই মেয়েটা কেমন,,,
_ সুন্দর আছে ভাইয়ার পছন্দ হবে,,
_ hmm,,দেখি ওকে বলে,,,
এর ভিতরে নুবা হাতের কাজ শেষ করে বাইরে এসে বললো
_ চাচি,,,মা জিগ্গেস করলো আজ ডাল রান্না করবে কিনা,,
আমিনা বেগম কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো
_ আপনারা কি জানেন না এ বাড়িতে ডাল ছাড়া কেউ খেতে পারে না,,
নুবার কেমন অদ্ভুত লাগলো,,এর আগে আমিনা বেগম কোনো সময় নুবার সাথে এভাবে কথা বলেনি,,,
নুবা চলে যেতে লাগলেই আমিনা বলে উঠলো
_ ইদানিং রান্নায় মশলা বেশি পড়ছে তোমার মাকে বলবে ঠিক মতো রান্না করতে
নুবা ওখানেই থমকে গেলো,,,বুকটা ধপদপ করছে তার,,আমিনা বেগম তার সাথে তুমি তুমি করে কথা বলছে কেন,,আগে কখনো বলেনি,,নুবা অনুভব করলো এই যে আস্তে আস্তে শুরু হচ্ছে,,,
আমিনা বেগম বিরবরি করে বললো
_ আজকাল কুকুর পেলেও লাভ আছে,, অন্ততপক্ষে মালিকের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে না,,সদয় সবসময় সাথে থাকে,,তাই ভাবছি তোর বাপকে বলে একটা কুকুর পালা শুরু করবো,,
নুবার পা ওখানেই থমকে গেলো,,,চোখ দিয়ে টুপ করে পানি গড়িয়ে পড়লো,, প্রথম বারের মতো আমিনা বেগমের কথায় নুবা বেশ কষ্ট পেলো,,, পরপরই মনে হলো এই বাড়িতে এখন থেকে টিকে থাকা খুব মুশকিল হবে,,নুবা নিজের আর নিজের মায়ের জিবন টাকে কঠিন করতে চাইলো না,,তাই আমিনা বেগমের সামনে আবার ফিরে এসে বললো
_ চাচি আমি সকালে মায়ের সাথে কথা বলেছিলি,,মনে হলো সাময়িক ভাবে আয়রাকে সামাল দিলে আমার তেমন কোনো ক্ষতি হবে না,,আর তোমরা আমাদের জন্য এতো কিছু করেছো আমি তো এতটুকু করতেই পারি,,,তাই ভাবলাম ____
আমিনা বেগম নবাকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_ এখন আর প্রয়োজন নেই,,কারো মনের বিরুদ্ধে কিছুই করতে হবে না,,আর আরহামের জন্য মেয়ে দেখেছি,,দুই দিনের ভিতরে ছেলেকে বিয়ে করিয়ে সব সমস্যার সমাধান করবো,,,
নুবা কথা টুকু শুনে ছোট্ট করে বললো
_ oh,,
_ তোর বাবা এই মেয়ে গুলোর ছবি পাঠিয়েছে দেখ কেমন,,,তোর কাউকে ভলাও লাগলে আজ কালের ভিতরে বিয়ে সেরে ফেলবো
আরহাম বিরক্তি নিয়ে বললো,,
_ আর কতবার বলবো আমি বিয়ে করবো না,,
আমিনা বেশ রেগে বললো
_ করবি না মানে কি,,তালহে কি মেয়েটাকে মারবি,,
_ দুনিয়ায় এরকম মেয়ের অভাব পড়েছে নাকি,, দরকার পড়লে পতিতা ধরে আনো,,ওরা তো আর না করবে না,,,টাকা দিলে সব করবে,,,
আরহামের কথায় আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে বললো
নীরব উন্মাদনা পর্ব ১০
_ আরহাম বুদ্ধি লোপ পেয়েছে তোর,,,,,ওদের কোনো মায়া অনুভূতি হয় না আরহাম,,ওরা রাখবে তোর মেয়েকে,,,ভাবতে ঘৃন হয় না
_ না হয় না,,মেয়েটাকে তো বাঁচাতে হবে,, কিন্তু একটা কথা শুনে রাখো আমি বিয়ে করবো না,,
আমিনা হতাশ হলো,,ছেলে টার মুখে কিছু আটকায় না,,যা আসে তাই বলে দেয়,,,আমিনা বেশ সময় নিয়ে বললো
_ নুবা বলছিলো ও রাজি,,তবে রাগের বশে আমি না করে দিয়েছি
