Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ১৩

নীরব উন্মাদনা পর্ব ১৩

নীরব উন্মাদনা পর্ব ১৩
সুরাইয়া জিয়াসমিন

ব্যাগ ভর্তি ওষুধ নিয়ে গাড়িতে প্রবেশ করলো আরহাম,,নুবা ব্যাগ টার দিকে তাকিয়ে গলা শুকিয়ে আসলো,,,
যখন সবাই অর্ধ রাস্তায় তখন নুবা আয়রার দিকে তাকিয়ে ধীরো স্বরে একটা কথাই বললো
_ আমি পারবো তো চাচি,,ভয় হচ্ছে,,,
আমিনা বেগম নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে মাথা ঝুঁকালো অর্থাৎ তুমি পারবে,,
তবু নুবার বেশ ভয় হতে লাগলো,,এই ভয় এর কারন কি তার নিজেরো জানা না,,

বাড়ির বড়ো লোহার গেট গাড়ি পাড় করলো,,আরহাম গাড়ি থামালো,,সবাই আস্তে আস্তে গাড়ি থেকে নামতে শুরু করলো,,,নুবা আয়ারাকে আমিনা বেগমের কোলে দিয়ে দিলো,,
আমিনা বেগম বাচ্চাকে নিয়ে নেমে সামনে এগোতে লাগলো,,,নুবা কোনো মতে গাড়ি থেকে নেমে সোজা হয়ে দাঁড়াতে নিলেই হাই ডোস ইনজেকশনের জন্য তার দুনিয়া অন্ধকার হয়ে আসলো,,,মাথা গুরে মুখ থুবরে পড়ে যাওয়ার আগেই আরশি এসে খপ করে নুবাকে জরিয়ে ধরলো,,, বরাবরই আরশি নুবার থেকে একটু লাম্বা যার ফলস্বরূপ আরশি নুবাকে সামলে নিলো,,,
আরশি মৃদু কন্ঠে বললো

_ মাথা ঘুরছে,,,,
নুবা ক্লান্ত কন্ঠে “হুম” সুধালো
আরশি নুবার পিঠে হাত বুলিয়ে বললো
_ হাঁটতে পারবি,,,
নুবা কিছু সময় ওভাবেই পড়ে রইলো দেখার জন্য হাঁটতে পারে কিনা,,, কিন্তু না সে পারবে না,,,
নুবা বিরবির করে বললো
_ চো,,চোখ খুললেই স,সব গুলিয়ে আসছে,,,
_ doctor কি বললো শুনলি না,,তোর রেস্ট এর প্রয়োজন,,ঘুম হলে সব ঠিক হয়ে যাবে,,
বলেই আরশি সামনে তাকিয়ে দেখলো তার মা আয়ারাকে নিয়ে অলরেডি ভিতরে প্রবেশ করেছে,,একলা তার দাড়া নুবার মতো স্বাস্থ্যবান মেয়েকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না,,,
পরপরই আরশি খেলায় করলো আরহাম গাড়ি পার্ক করে বাড়ির ভিতরে যাচ্ছে,,,আরশির রাগ হলো,,সে কি কানা নাকি কিছুই কি দেখেছে না,,,
আরশি বিরক্তি আরহামকে ডাক দিলো,,,

_ ভাইয়া,,,
আরহাম ফিরে তাকালো,,
আরশি নরম কন্ঠে সুধালো
_ আম্মু না হয় হাজেরা আন্টিকে একটু ডেকে দেও তো,,,নুবা হাঁটতে পারছে না,,,
আরহাম ভিতরে তার মাকে ডাকতে যেএ আবারো ফিরে আসলো,,,আমিনা বেগম আয়ারাকে নিয়ে উপরে চলে গেছে,,হাজেরার সাথে আরাহামের এখনো কথা হয়নি,,,আর সে বলতেও চায় না,,,
তাই আরহামি এগিয়ে আসলো,,,
_ দেখি,,ছাড়,,
আরশি নুবাকে ছেড়ে দিলো,,,আরহাম নুবাকে পাঁজা কোলে তুলে নিলো,,,নুবা ক্লান্ত,,প্রান ছাড়া দেহের মতো ঝুলে রইলো,,,আরহামের গলা যে জরিয়ে ধরবে সেই জ্ঞান টুকু হারিয়ে ফেলেছে সে,,,সাথে তার হুসো নেই সে কার কোলে,,
আরহাম এগিয়ে যেতে যেতে অনুভব করলো নুবা ফুপাচ্ছে,,,আরহাম একবার ভুরু কুঁচকে তার দিকে তাকালো,,,চোখে ভেসে উঠলো নুবার বন্ধ চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে,, চোখের পাপড়ি গুলো ভিজে লুতুপুতু হয়ে আছে,, ঠোঁট গুলো কাঁপছে,,

নুবার হুস না থাকলেও তার মনের ভয় তাকে জেকে ধরেছে,,,নুবার একটাই ভয় হচ্ছে,,এতো ওষুধ,, ইনজেকশন,,,ভাবতেই তার শরীরে কাটা দিচ্ছে,,যদি এই সবের উল্টা পাল্টা একশন হয়,,যদি সে মারা যায়,,বা প্যারালাইস হয়ে যায়,,তবে কি হবে??
বরাবরই বাবার মৃত্যুর পর,, হসপিটাল,, ওষুধ,, ইনজেকশন,,, doctor সবকিছুর উপর তার আলাদা ভয় কাজ করে,,, কারণ সে দেখেছে তার বাবার রক্তাক্ত দেহ,,,মাংস ফাটা শরীর,,,ছেচে যাওয়া হাত পায়ের আঙ্গুল,,,এই সব কিছু পর থেকেই সে এই সবে প্রচন্ড ভয় পায়,,, বিষস করে সে হসপিটালকে বেশি ভয় পায়,,
সকল doctor নার্স কে তার রাক্ষস মনে হয়,,,তার মাথায় ছোটো বেলায় একটা কথা ডুকেছিলো
“এই doctor রা নিজেদের ইনকাম বাড়ানোর জন্য রোগীদের সুস্থ করার বদলে ঘুরাতে থাকে,,আরো অসুস্থ করে দেয়,,যাতে তাদের হাত ভরে”
শুনেছিলো সে এই সব তাই এদের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে,,তার এখন ভয় হচ্ছে,,ওই doctor আঙ্কেল যদি টাকার জন্য তাকে অসুস্থ করে দেয়, কারণ মির্জা পরিবার তো অনেক Rich,,তাই যদি লোভে পড়ে doctor বা doctorএর এর অগোচরে কোনো নার্স ষড়যন্ত্র করে,,,তাহলে তো কেউ বুঝবেও না,,,এই ভেবে নুবার মনের ভয় বাড়ছে,,, কারণ সে কাউকে বিশ্বাস করে না,, যতটুকুও করা শিখেছিলো তা আরাফ ভেঙ্গে দিয়েছে,,,

আরহাম নুবাকে এনে রুমে শুইয়ে দিলো,,,হাজেরা টুকটাক কাজ করছিলো এভাবে নুবাকে কোলে আনায় সে ভরকে গেলো,,, দৌড়ে এসে বিচলিত কন্ঠে বললো
_ ,,কি,,কি হয়েছে ওর,,
আরহাম নুবাকে বিছানায় ঠিক করে শুয়াতে শুয়াতে বললো
_ nothing,,,
আরহাম নুবাকে শুইয়ে দিয়ে বেড় হয়ে গেলো,,,হাজেরা বেগম চিন্তিত হলো মেয়ের মাথার কিছে যেএ বসে উত্তেজিত কন্ঠে বললো
_ নুবা,,এই কি হয়েছে,,
হাজেরার ভয় লাগতে শুরু করলো,,মেয়েটাকে নিয়ে যেএ মেরেই ফেললো নাকি এরা,,,ভরসা কি করা যায় যেই দিন কাল,,,
নুবা না তাকিয়ে অস্পষ্ট সুরে বললো
_ ঘু,,ঘুমাবো,,,
গাড়ি থেকেই নুবার মাথা ঘুরছিলো তবে হঠাৎ উঠে দাঁড়ানোতে যেনো তার সব অন্ধকার হয়ে আসছিলো,,
এর ভিতরে আরশি রুমে আসলো,, মৃদু কন্ঠে বললো

_ কিছু হয়নি আন্টি,, হাই ডোজের ওষুধ দিয়েছে তো তাই ঘুম পাবে,,doctor বলেই দিয়েছে ২/৩ দিন একটু ঘুমাবে,,ওকে ঘুমাতে দেও,,,
হাজেরা বেগম কেমন কম্পিত কন্ঠে বললো
_ কিছু হবে না তো মা,,
_ আরে না আন্টি,, তুমি চিন্তা করো না,,,
বলেই আরশি চলে গেলো,, হাজেরার মন মানলো না, কেমন চিন্তিত বোধ করলো সে,,, মেয়ের পাশে বসে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো,,

আমিনা বেগম বেশ চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ মেয়েটা নেতিয়ে পড়েছে,, আল্লাহ জানে কি হবে
আরহাম আয়রাকে বিছানায় ঠিক করে শুয়াতে শুয়াতে বলে উঠলো
_Nothing will happen, don’t worry. ,,(চিন্তা করো না,, কিছুই হবে না)
_ পরের মেয়ে বাবা তুই কি বুঝবি,,যেদিন নিজ সন্তান বড় হবে সেদিন বুঝবি,,,

রাতের খাবার টেবিলে সবাই বসে আছে,,তবে আজ নুবা নেই,,হাজেরা সব পরিবেশন করছে,, এদিকে আরাফ খাচ্ছে ঠিকি তবে তার রাগে শরীর কাঁপছে,,,
বাসায় এসে যখন জানতে পেরেছে নুবাকে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো এবং সব process শেষ তখন থেকেই তার মাথা গড়ম হয়ে আছে,,,নুবা কেনো এমন করলো,,নুবার ফিটনেস নষ্ট হয়ে যাবে,,এই নিয়ে আরাফের রাগ হচ্ছে,, কারণ সে তো কখনোই নুবাকে ভালোইবাসেনি,,সে তো নুবার সৌন্দর্য,,নুবার দেহকে প্রাধান্য দিয়েছে,,,আর সেটাই যদি সে ভোগ করার আগেই নষ্ট হয়ে যায় তবে রাগ হবে এটাই তো স্বাভাবিক,,,

নুবা ঘুম ঘুম চোখে সবার দিকে একবার তাকিয়ে নিলো,,ঘুমানোর পর একটু ভালো লাগছে,,হাজেরা বেগম ভাত মাখাচ্ছে নুবার মুখে তুলে দিবে কিন্তু নুবার কোনো আগ্রহ নেই তার তো এখনো ঘুম পুড়েনি,,,
হাজেরা বেগম ভাত মাখিয়ে নুবার মুখে তুলে দিলো,,,নুবা মুখ সরিয়ে নিয়ে বিরক্তি নিয়ে বললো
_ পরে খাবো,,ঘুমাবো
আমিনা বিচলিত হয়ে বললো
_ নুবা,,কি বলছিস doctor কি বললো শুনিসছি,,খালি পেটে থাকা যাবে না,,
_ হ্যাঁ,,, কিন্তু,,,
_ চুপচাপ খেএ নে,,(বলেই নুবার পাশে বসলো,,নুবার আমিনা বেগমের কাঁধে ঠেস দিয়ে চোখ বন্ধ করে মুখে খাবার নিলো,,)
এখন রুমে অবস্থান করছে আমিনা বেগম,,আরশি,,আয়রা আর হাজেরা,,,যারা কিনা ঘুমন্ত নুবাকে নিয়েই ব্যস্ত,,

এদিকে আয়রা বিছানায় শুয়ে চুপটি মেরে আছে,,একটু পর পর এদিকে ওদিকে তাকিয়ে দেখছে,,
কিছু গাল ভাত মুখে নেওয়ার পড়ে নুবা চিবাতে চিবাতে থেমে গেলো,,,গালের ভাত গালেই জমে রয়ে গেলো,,,
আমিনা বেগম আলতো করে নুবার গালে থাপ্পড় মারলো,,বিরবির করে বললো
_ ভাত গিলছিস না কেন,,
নুবা আবারো চিবানো শুরু করলো,,,
খাওয়া শেষে নুবাকে জোর করে এক গ্লাস গড়ম দুধ,,সাথে এক বস্তা ওষুধ খাওয়ানো হলো,,,নুবা প্রায় মনে মনে কান্না করতে করতে ওষুধ খেলো,,,
তবে প্রকাশ করলো না,,, শুধু মনে মনে একটা কথাই বললো
” হে আল্লাহ তোমার ভরসায় এই এক গাধা ওষুধ খাচ্ছি,,, please আমাকে বাঁচিয়ে নিও,,”

সকালের প্রথম সূর্যের আলো ধীরে ধীরে শহরের ঘুম ভাঙিয়ে দিল।রাতের সব অন্ধকার যেন নীরবে সরে গিয়ে নতুন দিনের দরজা খুলে দিল।হালকা বাতাসে ভেসে আসছিল অজানা এক শান্তির অনুভূতি।আকাশটা আজ অন্যরকম সুন্দর লাগছিল, যেন নতুন শুরুর আশীর্বাদ নিয়ে এসেছে।
গতকালের কষ্টগুলো পিছনে ফেলে জীবন আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার ইশারা দিচ্ছিল।প্রতিটি আলো ঝলমলে রোদ যেন বলছিল— “এবার সব ঠিক হয়ে যাবে।”আর সেই নতুন সকালের সাথে শুরু হলো তাদের জীবনের এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়।
নুবা আজ একটু দেরি করেই ঘুম ভাংলো,,,এখন বেশ ভালো লাগছে মাথাও ঘুরছে না,,,

বাড়িতে একটা কাজের লোক রাখা হয়েছে,,,হুরুন মির্জা নিয়ে এনেছে,,তাকে আলাদ রুম দেওয়া হয়েছে,,,বাড়িতে যেহেতু লোক বেড়েছে তাই আজ থেকে উনি হাজেরার সাহায্য করবেন,,,নুবা তো কোনো কাজ করতে পারবে না সেই ধরুনোই ওই মহিলা উরফে তানিয়াকে নিয়ে আসা হয়েছে,,
হারুন মির্জার কোনো বন্ধুর বাড়িতে নাকি আগে কাজ করতো তাই বিশ্বাস যোগ্য বলে নিয়ে এসেছে,,
তবে আরশি বড্ড ফাসা ফেসেছে এখন টুকটাক কাজ তাকেই করতে হবে,,

নুবা সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলো,, ইনজেকশন দেওয়া স্থান একটু শক্ত হয়ে হালকা ব্যথা হচ্ছে,,তবে নুবা সেদিকে ধ্যান দিলো না,,,,
লিভিং রুমে আসতেই আমিনা বেগম এগিয়ে আসলো,,নুবার ক্লান্ত মুখ দেখে বললো
_ এখন ভালো লাগছে
নুবা মাথা ঝুকালো,,,
আমিনা বেগম নুবার গাল ছুঁয়ে বললো
_ তুই বড্ড ভুলাক্কার,,তাই ওষুধ গুলো আমার কাছে রেখছি,, প্রতিদিন সময় মতো খোওইয়ে দিবো সমস্যা হবে না তো,,,
নুবা মাথা ঝুঁকিয়ে না বললো
_ সকালে কিছু খাওয়ার আগে ওষুধ আছে,,খেএ নাস্তা করে নে,,,
নুবা আবারো মাথা ঝুকালো,,,
এদিকে আরাফ অফিসে যাওয়ার জন্য নিচে নামলো,,আমিনা ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো
_ কোথায় যাচ্ছিস তুই,,আর ৭/৮ দিনো নেই বিয়ের,,, তোকে না বলেছি এখন থেকে অফিস অফ দিতে
আরাফ এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে বললো

_ তাড়াতাড়ি চলে আসবো,,বাড়িতে বসে থাকতে ভালো লাগে না
_ কাল থেকে সব বন্ধ,,,নিজের বিয়ের কাজ নিজে সামলাবি আমি এতো দিক দেখতে পারবো না,,তোর বাপো সব ফেলে রেখে কম্পানি নিয়ে পড়ে আছে,আর পারি না,,
আরাফ কিছু বললো না,,, শুধু এগিয়ে আসলো তাদের দিকে,,,আমিনা ওষুধ আনতে চলে গেলো,,
আরাফকে আসতে দেখে নুবা সরে যেতে চাইলো তবে আরাফ ডেকে উঠলো
_ কোথাও যাবি না দাঁড়া,,
নুবা সরে যাওয়ার আগে আরাফ এসে সামনে দাঁড়ালো,,নুবা আরাফের দিকে তাকালো না,,আরাফ দাঁতে দাঁত চেপে বললো

_ তো সব শেষ করে এসেছিস,,,
নুবা চুপ রইলো,,আরাফ হিসপিস করে বললো
_ নিজের ভালো বুঝিস না তুই,, শরীর ভেটকাইয়া যাবে,,তখন কেমন দেখাবে তোকে হ্যাঁ,,,কে তোর মতো মেয়ের দিয়ে ফিরে তাকাবে,,,নিজের ভালো কবে বুঝবি,,,
আরাফের এরকম কথায় নুবার হাসি পেলো,, মৃদু কন্ঠে বললো
_ নিজের ভালো বুঝলে আপনাকে ভালোবাসতাম নাকি,,,
আরাফ নুবার এক হাতের কব্জি চেপে ধরলো,, দাঁত কিরমির করে বললো
_ এখনো সময় আছে নুবা,,, শরীরের গঠন নষ্ট হয়ে যাবে,,,এই সব বাদ দে,,
নুবা মুখ তুলে আরাফের দিকে তাকালো,,তার চোখে ছিলো নিদারুণ শূন্যতা,,,সে আরাফের কমনাময়ী দৃষ্টি উপেক্ষা করে বললো
_ ও এই জন্য আমার কাজ আপনার পছন্দ হচ্ছে না,,তাই তো বলি আপনি হঠাৎ আমার ভালো কবে থেকে চাইতে শুরু করলেন,,,

_ মুখে মুখে তর্ক করবি না,,, আমার তোকে ভালো লাগে,,, তোকে কাছে পেতে ইচ্ছে করে ,, কিন্তু তোকে বউ বানানোর ইচ্ছা হয় না,,,আর আমি মনের বিরুদ্ধে কাজ করি না,,,
নুবা ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ আপনার মতো নির্লজ্জ,, কাপুরুষরের আমি দুনিয়ার একটাও দেখিনি,,, আপনি এতোটা নিচু চরিত্রের কেনো বলুন তো,,এতো কিছু কররা পরেও আজ পর্যন্ত আপনার চোখ একটু অনুতপ্ত ভাব দেখলাম না,, আপনি একটা মেয়ের সামনে এতোটা নির্লজ্জ,,জানো””””র কি করে হতে পারেন,,, আপনাকে কিভাবে বুঝাবো আপনি কি,,? আপনি কেমন আমি নিজেও বর্ননা করতে পারবো না,,মাঝে মাঝে আমি আপনাকে দেখে আপনার কথা বার্তা শুনে অবাক হই যে মানুষ এরকম কিভাবে হতে পারে,,এতো নির্লজ্জ,,,আসলে সত্যি বলতে আপনাকে সত্যিকার অর্থে কি বলে আখ্যায়িত করবো তা আমার জানা নেই,, কারণ আপনি আসলে মানুষের কাতারেই পড়েন,,, পুরুষ দেখেছি তবে আপনার মতো অমানুষ দেখিনি,,,
আরাফ রেগে নুবার বাহু চেপে ধরলো,,কিরমির করে বললো
_ আমি কি তা তুই অতী শিঘ্রই সুধে আসলে টের পাবি,,আমি যা চাই তা নিজের করে ছাড়ি,,এটা তোর ভালো মতোই জানা,,আর আমার তোকে লাগবে,,,oh sorry তোর সুন্দর দেহট করে লাগবে,,, mind it,,,

বলেই আরাফ চলে গেলো,,নুবা তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো,,এতো দিন তাও মিথ্যা আশ্বাস দিতো যে,,’আমি তোকে ভালোবাসি ” এখন সেই মিথ্যা বাক্যটুকুও হারিয়ে গেলো,,,নুবা ঘৃনা করতেও ভুলে গেলো আরাফকে কারণ সে ঘৃনার যোগ্য না,,
সে এমন একজন মানুষ যে ঘৃণাও তাকে দেখে ঘৃণিত হবে,,,
এর ভিতরে আমিনা বেগম ওষুধ নিয়ে নিচে আসলো,,গ্লাসে পানি ঢালতে ঢালতে বললো
_ আরাফ কি বলছিলো রে,,যে তুই এতো মনযোগ দিয়ে শুনছিলি,,,
নুবা এক গলা হেসে বললো
_ তোমার ছোটো ছেলে আমার শিখাচ্ছিলো মানুষ কে কিভাবে শক্ত হতে হয়,,কোনো খারাপ পরিস্থিতিতে কিভাবে টিকে থাকতে হয়,,, নিজেকে কিভাবে সামলাতে হয়,,সব কিছুর বিমুখে কিভাবে রুখে দাঁড়াতে হয়,,,আর বাচ্চাদের কিভাবে খেলায় রাখতে হয়,,
আমিনা বেগম হেসে বললো
_ জানিস,,আরাফকে দেখলে আমার আফসোস হয় যে আমার বড় ছেলেটা কেন আরাফের মতো হলো না,, তবে আমার সংসার টা শান্তি পূর্ণ থাকতো
নুবা মাত্র মুখে পানি নিয়েছিলো,আমিনা বেগমের কথা শুনে তার বিষুম উঠে গেলো,,,আসলেই কি এরকম হলে ভালো হতো

সকাল সকাল এক গাদা ওষুধ খেএ নুবার গাল তিতু হয়ে আসলো তার পর আবার কত রকম,,কত পদের নাস্তা,,,তার পর আবার ওষুধ,,এতো কিছু খেএ নুবার শরীর ছেড়ে দিলো সে চুপচাপ যেএ সোফায় গুটি মেরে বসলো,,,
আরশি হাজেরা,,সবাই নুবাকে নতুন বউ এর মতো আপ্যায়ন করে গেলো,কত কিছু বলে গেলো,,,
নুবার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে আরাহাম আয়রাকে নিয়ে এসে তার পাশে বসলো,,,নুবা সরে বসলো,,,
আরহাম আয়রাকে দুই হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে পিছন ফিরে মায়ের দিকে তাকালো, শান্ত কিন্তু কাঠ কাঠ কন্ঠে তার মাকে বললো
_mom ,, doctor বলেছিলো,,Breast pump করতে,, করবে না,,নাকি আয়ারাকে দিয়ে sucking করাবো,,,
আরহামের এরপর লাগাম ছাড়া কথা শুনে নুবার বুক ধুক করে উঠললো,,,সামনে তাকিয়ে দেখলো আরশি,,কাজের মহিলা এমনকি তার মা সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে,,,
নুবা শুকনো ঢোক গিললো,,,আমিনা বেগম কি বলবে বুঝতে পারলো না,,তাও জোরপূর্বক হেঁসে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ এই বিষয় আমি দেখে নিবো তোর এতো মাথা ঘামাতে হবে না,,
আরহাম বিরক্তি নিয়ে বললো

_ If she doesn’t pump her breasts, milk won’t come. Mom,You didn’t listen when the doctor said this,(বুকে pump না দিলে দুধ তাড়াতাড়ি আসবে না,, doctor যখন বললো তখন তুমি কি এই কথা শুনোনি)
নুবার কান গড়ম হয়ে আসলো,,সে উঠে দাঁড়ালো,,রুমে যেয়ে নিয়েও দুটো উষ্টা খেলো,,আমিনা বেগম ছেলেকে ধমকে বললো
_ বল্লাম না এই বিষয় আমি দেখে নিবো,, তোমার এতো চিন্তা করতে হবে না,, তোমার মেয়ে দুধ পেলেই তো হলো,,,
আরহাম বিরক্তি প্রকাশ করে বললো
_ আমার মেয়ের বিষয়ে আমি কেন বলতে পারবো না,,আয়রা অনেক সেনসিটিভ,,আমি কনো মতেই এই বিষয়কে হালকা ভাবে নিতে পারি না,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ১২

আমিনা বেগম ছেলের দিকে এগিয়ে আসলো,,,, ছেলেকে শাসিয়ে বললো
_ আরহাম চুপ করো,, অনেক হয়েছে,,এই বিষয়ে তুমি interfere করবে না মানে করবে না,,,একটু লাজ লজ্জা রাখো এটা তো বিদেশের মাটি না এটা দেশের মাটি,,যেখানে তুমি বসবাস করছো,,,এখানে তোমার খোলা মেলা ভাব চলবে না,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ১৪

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here