ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৪
মেহজাবিন নাদিয়া
আলভি মনে মনে বলল,
“মানুষের কপাল ভালো হইলে লটারি পায়, আর কুত্তার কপাল ভালো হইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলের ডিভোর্স পেপার খায়! আজব দেশ, আজব ওনার রাজনীতি!”
কিন্তু বসের কড়া নির্দেশের সামনে টুঁ শব্দ করার সাধ্য তার কোনো জন্মেই নেই? পুরো রাস্তায় আলভি
গাড়ি চালাচ্ছিল আর আয়নায় পেছনের কুকুরগুলোর দিকে তাকিয়ে নিজের বসকে মনে মনে গালি দিচ্ছিল,
“জিজ্ঞেস করি স্যার, বিয়া করলেন আপনে, বউ সুন্দর আপনার, আর বলির পাঁঠা হইলাম আমি! ফাইভ স্টার রেস্তোরাঁয় মানুষ টেবিলে বইসা খাওয়ার চান্স পায় না, আর আজ আমি কুত্তাদের বিফ স্টেক খাওয়াইতে নিয়া যাইতাছি! খোদা, তুমি আমারে চাকরি থেইকা রিটায়ার্ড করাইয়া দাও!”
অরি দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে সোফায় এসে বসতেই ওর বুকের ভেতর থেকে এক বিশাল, অদৃশ্য বোঝা নেমে গেল। ও নিজের ওপরে আর নিচে তাকিয়ে দেখল,না!ওর গায়ে কোনো শিকল নেই। ও এখন আইনত সম্পূর্ণ স্বাধীন, মুক্ত এক আঠারো বছরের মেয়ে! ওই অহংকারী, বদমেজাজি লোকটার সাথে ওর যে একটা জোরপূর্বক সুতোর টান ছিল, তা আজ এক নিমিষেই ছিঁড়ে গেছে।ডিভোর্স পেপারে সাইন নিয়ে গেছে, তার মানে খেলা শেষ।
ঠিক তখনই আরিশান মৃধা ওনার প্রতিদিনের জগিং শেষ করে ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করলেন। ওনার পরনে ধূসর রঙের ট্র্যাকসুট, কপালে হালকা ঘামের বিন্দু। পঞ্চান্ন বছর বয়সেও ওনার যে সুঠাম চেহারা ঘরের আলোয় এক অন্যরকম ভরসা এনে দেয়। ওনি ঢুকতেই অরির ফুরফুরে ও আনন্দিত মুখটা দেখে ওনার নিজের ক্লান্ত মুখটাতেও এক চিলতে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল।আরিশান মৃধা ওনার গম্ভীর কিন্তু অত্যন্ত নরম গলায় জিজ্ঞেস করলেন।
“কী ব্যাপার, অদ্রিজা মা? তোমাকে তো বেশ খুশি খুশি দেখাচ্ছে। পরীক্ষার আগের সকালে সাধারণত ছেলে মেয়েদের মুখ শুকিয়ে চুন হয়ে থাকে, আর তুমি একদম মেঘমুক্ত আকাশের মতো হাসছ?”
“এমনিই বাবা। আসলে আজ মনটা খুব হালকা লাগছে,” অরি ওনার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসল।
আরিশান মৃধা সোফায় বসলেন এবং ওনার চশমাটা টেবিল থেকে তুলে চোখে দিলেন। ওনার চোখ দুটোতে এক গভীর পিতৃত্বের আশ্বাস। ওনি খুব স্বাভাবিক গলায় বললেন,
“সারিমের পিএ এসেছিল, আমি জানি। ডিভোর্সের ব্যাপারে তোমার মনে কোনো কষ্ট বা দ্বিধা নেই তো মা? একটা কথা সবসময় মনে রাখবে,আরিশান মৃধা যতদিন বেঁচে আছে, এই বাড়ির দরজা আর এই বাবার বুক তোমার জন্য সবসময় খোলা। ওই কাগজের সম্পর্কের চেয়ে আমার দেওয়া পরিচয় অনেক বড়। তুমি কোনোদিন নিজেকে একা ভাববে না। তুমি আমার মেয়ে, আরিশান মৃধার মেয়ে।”
“আমি জানি বাবা। আমার মনে কোনো কষ্ট নেই, সত্যি বলছি। বরং ভালোই হয়েছে, একটা উটকো ঝামেলা থেকে বাঁচলাম,” অরি টেবিলের ওপর রাখা বাংলা বইটা গুছাতে গুছাতে বলল।
মেয়ের এই মানসিক শক্তি আর ফুরফুরে মেজাজ দেখে আরিশান মৃধার ভেতরের সেই কঠিন প্রশাসক মানুষটাও মনে মনে খুব খুশি হলেন। ওনি চাইলেন না পরীক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে অরির মাথায় কোনো বাইরের চিন্তা আসুক। ওনি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন সকাল সোয়া আটটা বাজে।আরিশান মৃধা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন।
“জেবা কোথায়? ও কি এখনো ঘুমাচ্ছে?”
“না বাবা, ও ওয়াশরুমে গেছে। মাত্রই উঠল,” অরি হেসে বলল।
“আচ্ছা ভালো। তোমরা দুজনে জলদি তৈরি হয়ে নাও।পরীক্ষার প্রথম দিন আমি নিজেই তোমাদের হলে দিয়ে আসব,”
আরিশান মৃধা উঠে দাঁড়ালেন।ততক্ষণে জেবাও ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে ড্রয়িং রুমে এসে দাঁড়িয়েছিল। ও আরিশান মৃধাকে দেখে আবার সেই ভেতরের লাজুক আর ভীতু বিড়ালের মতো মুখ করল। গত রাতের ‘উকুন ধরার কাণ্ড’-এর পর ও ওনার সামনে চোখ তুলে তাকাতেও ভয় পাচ্ছিল।আরিশান মৃধা না তাকিয়েই ওনার গম্ভীর গলায় বললেন,
“জেবা,যাও দ্রুত রেডি হও গিয়ে।
“জি… জি আঙ্কেল,”
জেবা তুতলিয়ে তুতলিয়ে বলে উঠল। আরিশান মৃধা এবার একবার ফিরে তাকালেন জেবার দিকে, তবে মুখে কিছুই বললেন না আর। সেখান থেকে নিজের রুমে চলে আসেন তিনি ফ্রেশ হতে
জেবা ড্রয়িং রুমে বসে থাকা অরির উদ্দেশ্য বলল।
“অরি রেডি হবি, চল উপরে আয়!
অরি চুপচাপ সোফা ছেড়ে উঠে দাড়াল।জেবা আর অরি একসঙ্গে রুমে প্রবেশ করল।দুজনেই কলেজ যাওয়ার জন্য রেডি হতে থাকে।অরি নিজের আকাশী রঙের কলেজ ড্রেসটা পরে নিল। চুলে সুন্দর করে বেণী করা, পায়ে সাদা কেডস, হাতে একটা ছোট চামড়ার ঘড়ি আর চোখে ওপর সেই রিডিং গ্লাস। এই সাধারণ ড্রেসাপ আঠারো বছরের অরিকে দেখতে হুবহু কোনো পরীর মতো লাগছিল। ওর রূপের সেই স্নিগ্ধতা যেন পুরো ঘরের আলোকে একদম ফিকে করে দিচ্ছিল।জেবা নিজেও অরির দেখাদেখি তৈরী হয়ে নিল।জেবা মেয়েটা নিজেও দেখতে অসম্ভব রকমের সুন্দর।প্রথম দেখায় যে কারো নজর কারতে বাধ্য সে।দুজনেই তৈরী হয়ে নিচে নেমে এলো।
সকাল পৌনে নয়টায় আরিশান মৃধার অফিশিয়াল রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী কালো মার্সিডিজ গাড়িটি মৃধা নিবাসের গেট পার হয়ে মূল রাস্তায় বের হলো। গাড়ির সামনে আর পেছনে আট-নয়টা সাইরেন বাজানো পুলিশের সিকিউরিটি কনভয়। পুরো বেইলি রোড আর সিদ্ধেশ্বরীর রাস্তা দিয়ে ওনাদের গাড়ি যাচ্ছিল, ট্রাফিকের প্রতিটি মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা স্যালুট পজিশনে দাঁড়িয়ে পড়ছিল।গাড়ির পেছনের সিটে অরি আর জেবা দুই পাশে বসে ছিল, আর মাঝখানে আরিশান মৃধা গম্ভীর মুখে বসেছিলেন। ওনি অরির হাতটা নিজের শক্ত, ঊষ্ণ হাতের মুঠোয় নিলেন।আরিশান মৃধা অরিকে সাহস দিতে লাগলেন।মেয়েটা ভিতরে ভিতরে নার্ভাস হয়ে যাচ্ছে তা ওনি ঠিকই টের পাচ্ছেন।
“অদ্রিজা, পরীক্ষার হলে গিয়ে একদম মাথা ঠান্ডা রাখবে। প্রশ্ন পাওয়ার পর প্রথমে পুরোটা একবার পড়ে নেবে। যেগুলো সবচেয়ে ভালো পারো, সেগুলো আগে লিখবে। সময়ের দিকে খেয়াল রাখবে। আর একদম ভয় পাবেনা মনে সাহস রাখবে”
“জি বাবা, আমি আমার সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করব”অরি মাথা নাড়িয়ে বলল।
গাড়ি যখন সিদ্ধেশ্বরীর নামী গার্লস কলেজের গেটের সামনে এসে থামল, চারপাশের পরিবেশ পুরো স্তব্ধ হয়ে গেল। পরীক্ষার হলের বাইরে হাজার হাজার অভিভাবক আর ছাত্রীদের ভিড় ছিল। হঠাৎ একসঙ্গে এতগুলো সাইরেন বাজানো পুলিশের গাড়ি আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিশিয়াল ফ্ল্যাগশিপ গাড়ি দেখে সবাই অবাক হয়ে চেয়ে রইল।
আরিশান মৃধা নিজেই গাড়ি থেকে নামলেন। ওনার সেই দীর্ঘ সুঠাম অবয়ব আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে উপস্থিত সাধারণ মানুষ আর কলেজের শিক্ষকরা সসম্ভ্রমে রাস্তা ছেড়ে দিলেন। কলেজের প্রিন্সিপাল নিজে দৌড়ে এলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে।আরিশান মৃধা প্রিন্সিপালকে অত্যন্ত ভদ্রভাবে বললেন।
“আপনারা কোনো আনুষ্ঠানিকতা করবেন না। আমি আজ এখানে কোনো মন্ত্রী হিসেবে আসিনি, স্রেফ একজন বাবা হিসেবে আমার মেয়েদের পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসেছি,”
ওনি অরি আর জেবাকে গেটের ভেতরে নিয়ে গেলেন। দুর্ভাগ্যবশত, জেবা আর অরির সিট দুটো আলাদা আলাদা বিল্ডিংয়ে পড়েছিল।আরিশান মৃধা জেবাকে উদ্দেশ্যে করে বললেন।
“জেবা, তোমার হল ওদিকের বিল্ডিংয়ে। সাবধানে যাও, আর মাথা খাটানো বন্ধ করে খাতায় মন দিবে,”
“জি আঙ্কেল, দোয়া করবেন,” জেবা নিজের হার্ডবোড আর কলমের ব্যাগটা চেপে ধরে ওদিকের করিডোরে দৌড় দিল।
আরিশান মৃধা অরিকে ওর হলের দরজার সামনে পর্যন্ত এগিয়ে দিলেন। ওনি অরির কপালে একটা আলতো ভালোবাসার চুমু খেয়ে বললেন,
“যাও মা, জয়ী হয়ে ফিরে এসো।”
অরি ওনাকে বিদায় জানিয়ে হলের ভেতরে ঢুকে গেল। আরিশান মৃধা ওনার বডিগার্ডদের নিয়ে কলেজের বাইরে এসে নিজের গাড়িতে গিয়ে বসলেন। ওনাকে আবার মন্ত্রণালয়ে ফিরতে হবে, দেশের অনেক জরুরি কাজ ওনার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের তিনতলার ৩০৪ নম্বর হল রুমটা পুরোপুরি নিস্তব্ধ। ঘরের সিলিং ফ্যানগুলো একঘেয়ে শব্দে ঘুরছে, যা হলের ভেতরের ভীতি আর উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছিল। অরি জানালার পাশের চার নম্বর বেঞ্চটাতে বসেছিল।সে নিজের কলম, পেন্সিল আর স্কেলগুলো টেবিলের ওপর খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রাখল। ওর চারপাশের মেয়েরা তখনো শেষ মুহূর্তের জন্য কবি পরিচিতি আর উপন্যাসের চরিত্রগুলোর নাম মুখস্থ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।অরি বুঝতে পারল এখানে থাকা সকলেই নিজেদের জীবনের ভালো কিছু করতে চায়,সেজন্য এতো পরিশ্রম। তাদেরও নিশ্চই কোনো না কোনো লক্ষ আছে। যা তারা পূরন করতে চায়। যেমন অরির লক্ষ সে একজন ডাক্তার হবে বড় হয়ে।
ঠিক সকাল দশটায় হলের প্রধান পরিদর্শক দুজন গম্ভীর চেহারার শিক্ষক খাতার বান্ডিল নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। ওনারা অত্যন্ত কড়া গলায় ঘোষণা করলেন,
“সবাই নিজের ব্যাগ আর মোবাইল ফোনের সুইচ অফ করে সামনে রেখে দাও। পরীক্ষায় কোনো প্রকার অসদুপায় অবলম্বন করলে সরাসরি খাতা কেড়ে নিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়া হবে।”
শিক্ষকরা প্রথমে ওএমআর শিট আর মূল খাতাগুলো বিতরণ করলেন। অরি অত্যন্ত শান্ত মাথায় নিজের নাম, রোল নম্বর আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর খুব সুন্দর গোল গোল করে বৃত্ত ভরাট করল। পাঁচ বছর ধরে ও এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করেছে। ওর বাবার সেই শেষ ইচ্ছে,ওকে দেশের সবচেয়ে বড় ডাক্তার হতে হবে, সেই স্বপ্নের প্রথম ধাপ আজ শুরু।
দশটা বেজে পনেরো মিনিটে শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র বিতরণ করলেন।প্রশ্নপত্রটি স্টুডেন্টদের হাতে তুলে দিলেন, ছাএ ছাত্রীরা প্রশ্নপত্রটির ওপর চোখ বোলাতেই তাদের মুখগুলো ভয়ে আর বিস্ময়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেল। এবারের প্রশ্নপত্রটি গত কয়েক বছরের তুলনায় এতটাই কঠিন, জটিল আর ঘুরিয়ে করা হয়েছে যে, সাধারণ বা মাঝারি মানের স্টুডেন্টদের পক্ষে এর উত্তর বের করা প্রায় অসম্ভব। উদ্দীপকগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, কোনটা ‘বিলাসী’ আর কোনটা ‘চাষার দুক্ষু’,তা বুঝতেই মগজের কোষগুলো পুড়ে যাওয়ার দশা!
অরির মতো একজন ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট, যে কিনা দিন-রাত এক করে পুরো বই গিলে খেয়েছে,সে নিজেও প্রশ্নটা দেখে প্রথম কয়েক সেকেন্ডের জন্য সম্পূর্ণ চিন্তায় পড়ে গেল। ওর ফর্সা কপালে হালকা চিন্তার ভাঁজ পড়ল। ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ থেকে যে সৃজনশীল প্রশ্নটা এসেছে, তার উদ্দীপকের ভাষা এতটাই কঠিন যে অরিকে নিজের রিডিং গ্লাসটা বারবার ঠিক করতে হচ্ছিল। ও মনে মনে আরিশান মৃধার কথা স্মরণ করল
“ঠান্ডা মাথায় একবার পড়বে।”
ও নিজেকে শান্ত করল এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিজের জানা উত্তরগুলো খাতায় নিখুঁতভাবে নামাতে শুরু করল। প্রথম এক ঘণ্টা ও বাইরের কোনো দুনিয়ার দিকে না তাকিয়ে শুধু নিজের কলম চালিয়ে গেল।
কিন্তু ওর চারপাশের কিছু বেঞ্চগুলোর অবস্থা তখন শোচনীয়। হলের ইনভিজিলেটর স্যার যখন একটু জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে ওদিকের অন্য এক শিক্ষকের সাথে কথা বলতে গেলেন, ঠিক তখনই হলের ভেতরের ছাএ ছাত্রীদের অবদমিত ক্ষোভ আর আর্তনাদ ফিসফিসানি শব্দে ফেটে পড়ল। অরির ঠিক পেছনের বেঞ্চে বসা দুই মেয়ে তো রীতিমতো খাতার আড়ালে ছোট ছোট কাগজের টুকরো বা ‘নকল’ বের করে বেঞ্চের ওপর মেলে ধরেছে। শুধু তাই নয়, ওদের মুখে তখন দেশের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি এক তীব্র ক্ষোভ আর অভিশাপের বন্যা বয়ে যাচ্ছিল।
“ওই শোন না! চার নম্বর প্রশ্নের ক-এর উত্তরটা একটু বল না রে!”ডানদিকের একটা মেয়ে ফিসফিসিয়ে উঠল।
“আরে ধুর! আমি নিজেই তো কিছু পারছি না!”
পেছনের মেয়েটি দাঁতে দাঁত চেপে উত্তর দিল।
“এইবারের শিক্ষামন্ত্রী কুত্তাটা যে কোথা থেকে আইসা আমাদের ঘাড়ে চাপল! নতুন মিনিস্টার হয়েই নিজের পাণ্ডিত্য দেখানোর জন্য এইরকম খবিশ মার্কা কঠিন প্রশ্ন বানাইছে! ওনার কি নিজের কোনো ছেলেমেয়ে নাই রে?”
“আরে ওনি তো বিয়েই করেনি এখনো!”
অন্য আরেকটি মেয়ে খাতার আড়ালে ছোট চিরকুট ওল্টাতে ওল্টাতে চরম মেজাজে বলল।
“টিনএজ বয়সের স্টুডেন্টদের সাইকোলজি বোঝার মতো মগজ কি ওই ব্যাডার আছে? স্রেফ চেহারা দিয়া হ্যান্ডসাম সায়েন্টিস্ট সাজা ছাড়া ওই আবরার সারিমের আর কোনো যোগ্যতা নাই! খোদার কসম, পরীক্ষার হল থেকে বাইর হইয়া ওই বেডার ফেসবুকে গিয়া এমন গালি দিমু না যে ওর মিনিস্ট্রি ছুটে যাবে! খবিশ একটা!”
পেছনের মেয়েগুলোর মুখে নিজের সেই তথাকথিত অহংকারী স্বামীর প্রতি এইরকম রসালো আর কানফাটানো গালিগুলো শুনে অরির লেখার গতি এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল। ওর রিডিং গ্লাসের আড়ালে থাকা দীর্ঘ চোখের পাপড়িগুলো কেঁপে উঠল। ওর মুখের ভেতর এক অদ্ভুত হাসির রেখা ফুটে ওঠার উপক্রম হলো, আবার একই সাথে সারিমের প্রতি ওর ভেতরের সেই পুরোনো রাগ আর ঘৃণাও চাড়া দিয়ে উঠল। মনে মনে ভাবল,
“ঠিকই তো বলছে মেয়েগুলো! ওই লোকটা একটা অহংকারী, পাষাণ রাক্ষস। রাতে মেয়েদের সাথে নোংরামি করে আর দিনে এসে আমাদের মতো সাধারণ ছাএ ছাত্রীদের ওপর নিজের ক্ষমতার জোর দেখায়। ওর মতো খবিশ মানুষের এইরকম গালি খাওয়াই উচিত!”
ঠিক সেই সময়ে অরি দেখল ওর খাতার দুটো বড় প্রশ্নের উত্তর এখনো বাকি, কিন্তু উদ্দীপকের মূল ভাবটা ওর ঠিক মনে পড়ছে না।অরির ভয়ে আর চিন্তায় যখনি মাথা ফেটে পড়ার জোগাড়।ঠিক তখনই পেছনের সেই গালি দেওয়া মেয়েটি দয়া পরবশ হয়ে অরির বেঞ্চের কোণায় একটি ছোট কাগজের টুকরো ‘নকল’ আলতো করে ঠেলে দিল। অরি এমনিতে কখনো জীবনে এই ধরনের কাজ করেনি, ও সবসময় নিজের মেধায় পরীক্ষা দেয়। কিন্তু আজকের এই কঠিন প্রশ্ন আর সময়ের স্বল্পতার কারণে,অরির আঠারো বছরের মনটা এক মুহূর্তের জন্য বিচ্যুত হলো। ও এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখল স্যাররা ওদিকে ব্যস্ত। অরি আর কোনো উপায় না পেয়ে, নিজের সেই আকাশী রঙের কলেজ ড্রেসের হাতাটা একটু টেনে, খাতার বাম পাশে ওই নকলের কাগজটা রাখল। ও মাথা নিচু করে, অত্যন্ত চোরের মতো চারপাশ দেখতে দেখতে ওই অন্যের লেখা নকলের টুকরো থেকে নিজের খাতায় উত্তরটা কপি করতে শুরু করল। ও ভাবতেও পারেনি যে এই ছোট ভুলের মাশুল ওকে কীভাবে দিতে হবে।
ঠিক একই সময়ে, সেই গার্লস কলেজের মেইন গেটের বাইরে এবং আকাশে এক বিশাল হট্টগোল শুরু হয়ে গেল। হঠাৎ করেই আকাশের বুক চিরে একটি বিলাসবহুল ব্ল্যাক হেলিকপ্টার এসে কলেজের বিশাল খেলার মাঠের মাঝখানে বিকট শব্দে অবতরণ করল। হেলিকপ্টারের পাখার তীব্র বাতাসে চারপাশের ধুলোবালি আর গাছের পাতাগুলো ঘূর্ণিঝড়ের মতো উড়তে লাগল। মাঠের চারপাশ মুহূর্তের মধ্যে খাকি পোশাকের শত শত পুলিশ, স্পেশাল ফোর্স আর বডিগার্ডদের সিকিউরিটি বেষ্টনীতে ঢেকে গেল।
দরজা খুলে যিনি নেমে এলেন, ওনাকে দেখে কলেজের প্রিন্সিপাল থেকে শুরু করে সমস্ত স্টাফরা ভয়ে আর সম্মানে এক লাইনে দাঁড়িয়ে গেলেন। ওনি আর কেউ নন-স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী মৃধা আবরার সারিম! ওর পরনে কালো রঙের পাঞ্জাবী, যা তার সুঠাম ও দীর্ঘ অবয়বকে এক রাজকীয় ও মারাত্মক রূপ দিয়েছে। চোখে দামী ব্র্যান্ডের সানগ্লাস, নিখুঁত ট্রিম করা দাড়িতে দুপুরের রোদের আলো পড়ে ওকে যেন এদেশের রাজনীতির ইতিহাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অথচ বিপজ্জনক পুরুষ হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছে। ওর পেছনে ওর সশস্ত্র বডিগার্ডরা দৌড়াচ্ছিল। সারিম মুখের গম্ভীর ভাবটা এতটাই তীব্র ছিল যে, কোনো অফিসারের ওনার সামনে গিয়ে একটি শব্দ উচ্চারণ করার সাহস হচ্ছিল না।
সারিম ওর সানগ্লাসটা এক ঝটকায় খুলে তার পকেটে রাখল। ওর চোখের তীক্ষ্ণ, দূরদর্শী দৃষ্টি চারপাশের করিডোরগুলোকে মেপে নিচ্ছিল।সারিম প্রিন্সিপালের দিকে তাকিয়ে তার সেই গম্ভীর ও বজ্রকঠিন কণ্ঠে বললেন,
“আমি কোনো আনুষ্ঠানিক নাটক দেখতে আসিনি। আমি সরাসরি হলগুলো চেক করব। এই বছর পরীক্ষায় কোনো প্রকার অসদুপায় বা অবহেলা আমি বরখাস্ত করব না। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনি প্রোটোকল অনুযায়ী এক্সপেল করা হবে।”
“জি… জি স্যার, অবশ্যই! আপনি যেভাবে চান…” প্রিন্সিপাল কাঁপতে কাঁপতে ওনাকে গাইড করে দোতলার করিডোরের দিকে নিয়ে গেলেন।
সারিম অত্যন্ত দৃঢ় পদক্ষেপে একে একে কয়েকটা হলে ঢুকলো। ওর সেই আকস্মিক প্রবেশ এবং মুখের চরম ভয়ানক রুদ্ররূপ দেখে হলের ভেতরের ছাত্রীদের কলিজা শুকিয়ে যাওয়ার দশা হলো। সারিম ওর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তিন-চারটা ক্লাসরুমের ভেতর থেকে প্রায় পাঁচ-ছয়জন ছাএ ছাত্রীকে খাতার আড়াল থেকে নকল সহ হাতেনাতে ধরে ফেললো। ওর এক ইশারায় ইনভিজিলেটর শিক্ষকরা তটস্থ হয়ে ওই মেয়েদের খাতা কেড়ে নিলেন এবং ওদের সঙ্গে সঙ্গেই হল থেকে এক্সপেল (বহিষ্কার) করে দেওয়া হলো। সারিমের এই কঠোর রূপ দেখে পুরো কলেজের স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল।
করিডোর পার হয়ে সারিম এবার ওর দীর্ঘ অবয়ব নিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো করিডোরের একদম শেষ প্রান্তের সেই নির্দিষ্ট হলের দিকে ৩০৪ নম্বর কক্ষে।কে জানতো যে এই হলের মাঝখানের বেঞ্চেই বসে আছে ওর জীবনের সেই পরম বিস্ময়, ওর চন্দ্রিমা।সারিম যখন হলের ভারী কাঠের দরজাটা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো, তখন পুরো হলের বাতাসের তাপমাত্রা যেন এক ধাক্কায় মাইনাসে নেমে গেল। ইনভিজিলেটর স্যাররা সোজা হয়ে স্যালুট পজিশনে দাঁড়িয়ে গেলেন।
এদিকে অরির সেসবে কোনো পাত্তা ছিল না! ও তখনো নিজের সেই রিডিং গ্লাসটা নাকের ওপর চেপে ধরে, মাথাটা একদম খাতার ভেতর গুঁজে দিয়ে, বাম পাশের ওই ছোট চিরকুটের নকল দেখে পরম নিশ্চিন্তে নিজের খাতায় উত্তর লিখে যাচ্ছিল। ওর আকাশী রঙের ড্রেসের ওপর ওর সুন্দর বেনুনী করা সিল্কি বাদামী চুলগুলো পিঠের ওপর দুলছিল। দূর থেকে সারিমের তীক্ষ্ণ নজর গিয়ে পড়ল মাঝখানের সারির ওই নির্দিষ্ট মেয়েটির ওপর। মেয়েটার বসার ভঙ্গি আর খাতার বাম পাশের সেই সাদা কাগজের নড়াচড়া দেখে সারিমের মতো অভিজ্ঞ প্রশাসকের বুঝতে এক সেকেন্ডও সময় লাগল না যে,এই মেয়েটি নকল দেখে লিখছে!
সারিমের ধারালো চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। ওর চোখের মনিতে তীব্র রাগ আর অবজ্ঞা ফুটে উঠল। মনে মনে ভাবলো,ওর নিজের তৈরি করা শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরে বসে, ওর পরিদর্শনের সামনে একটা মেয়ে এত বড় দুঃসাহস দেখায়? নকল করে পরীক্ষা দিচ্ছে? আজ একে সে এমন শাস্তি দেবো যে সারা জীবন মনে রাখবে!
সারিম অত্যন্ত ধীর, ভারী এবং চাবুকের মতো শব্দ তুলে নিজের বুটের আওয়াজ করতে করতে অরির বেঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলো। ওর চওড়া কাঁধের ছায়া এসে পড়ল অরির খাতার ওপর। কিন্তু অরি তখনো এতই মগ্ন ছিল যে ও ভাবল হয়তো কোনো শিক্ষক এসে দাঁড়িয়েছেন। ও নিজের লেখা থামাল না।
ঠিক তখনই, পুরো হল রুমকে স্তব্ধ করে দিয়ে, সারিম ওর নিজের সেই বিশাল, শক্ত হাত বাড়িয়ে এক ঝটকায় অরির খাতার নিচ থেকে ওই ছোট নকলের চিরকুটটা এবং ওর পুরো পরীক্ষার খাতাটা কেড়ে নিলো!ওর সেই গম্ভীর, কর্কশ এবং বজ্রকঠিন গলার আওয়াজে গর্জে উঠলো।
“পরীক্ষায় নকল করার দুঃসাহস কীভাবে হয় আপনার? ইনভিজিলেটর! এই মেয়ের রোল নম্বর…”
সারিমের গর্জনে অরি চরম চমকে উঠে নিজের মুখটা এক ঝটকায় ওপরের দিকে তুলল। ও নিজের রিডিং গ্লাসের আড়াল থেকে বড় বড় নিষ্পাপ চোখ করে ওপারের সেই ক্ষমতাধর পুরুষের দিকে তাকাল।
অরির মুখটা তোলা মাত্রই, সারিমের কণ্ঠের সেই কর্কশ শব্দের শেষ অংশটা ওর কণ্ঠনালীতেই এক মস্ত বড় ধাক্কা খেয়ে আটকে গেল! ওর পুরো সুঠাম শরীরটা যেন এক মুহূর্তের জন্য বৈদ্যুতিক শক খেয়ে সম্পূর্ণ অবশ হয়ে গেল! ওর হাতের মুঠোয় থাকা অরির খাতাটা কাঁপতে লাগল।
সারিম নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ওর চোখের সামনের সানগ্লাসের আড়াল থেকে যে তীব্র রাগ বের হচ্ছিল, তা এক সেকেন্ডের মধ্যে এক পরম বিস্ময়, মোহ আর চরম ভালোবাসার তরঙ্গে রূপ নিল। সকালে দেখা সেই মেয়েটি! ওর নিজের বিবাহিত স্ত্রী, যাকে সে পাঁচ বছর ধরে ঘৃণা করে এসেছিল, যাকে আজ সকালে দেখা মাএই মনে মনে নিজের ‘চন্দ্রিমা’ বলে স্বীকার করেছে!
সারিমের মাথার ভেতর তখন এক তীব্র ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। সে নিজের অবাধ্য মনকে সামলাতে পারছিল না। মনে মনে নিজেকেই সারিম চিৎকার করে বলে উঠল,
“জিও সারিম মৃধা, জিও! তুমি আজ নকল ধরতে এসে, নিজের বউকে নকল করতে হাতেনাতে ধরেছ! তুমি আজ ধন্য!
সারিম ওর বত্রিশ বছরের জীবনে কোনোদিন কোনো পরিস্থিতির সামনে ওকে এভাবে নার্ভাস বা অপ্রস্তুত হতে হয়নি, কিন্তু আজ নিজের বউয়ের সামনে ওর সমস্ত মিনিস্ট্রির পাওয়ার এক সেকেন্ডে জিরো হয়ে গেল। ওর ফর্সা গাল দুটোতে আবার সেই হালকা লালচে আভা ফুটে ওঠার উপক্রম হলো।
অরি ততক্ষণে বুঝতে পেরেছে ও কী ভয়াবহ ঐতিহাসিক বিপদে পড়েছে। এই লোকটা দেশের শিক্ষামন্ত্রী, ওর এক ইশারায় ওর পুরো জীবন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আর ও কিনা ওনারই সামনে নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েছে! অরি নিজের সুন্দর মুখটা অপরাধীর মতো সম্পূর্ণ নিচু করে, দুই হাত জড়ো করে বেঞ্চের সামনে একদম বোকার মতো কাঠের পুতুল হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ওর ফর্সা গাল দুটো লজ্জায় আর ভয়ে টকটকে লাল হয়ে গেছে, চোখের পাতা গুলো সামান্য ভিজে উঠছে।মনে মনে ভাবছিল আজ হয়তো ওর বাবা ওকে বাঁচাতে পারবেন না, ও আজ নির্ঘাত এক্সপেল হবে।ওর ডাক্তার হওয়ার সপ্ন এক নিমিষেই ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।
পুরো হলের শিক্ষকরা আর ছাত্রীরা তখন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় শিক্ষামন্ত্রীর চূড়ান্ত আদেশের অপেক্ষা করছিল। সবাই ভাবছিল এই মেয়েটার খাতা এখনই ছিঁড়ে ফেলা হবে।
কিন্তু সবাইকে এক চরম ধাক্কা দিয়ে, সারিম ওর সেই তীব্র গাম্ভীর্য ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে, নিজের হাতের অরির পরীক্ষার খাতাটা অত্যন্ত যত্নে আবার অরির বেঞ্চের ওপর সুন্দর করে রেখে দিল!আবার তা খুব সুন্দর ভাবে হার্ডবোডে আটকে দিল।এরপর অরির দিকে আর একবার পলকহীন, মায়াবী ও গভীর দৃষ্টিতে তাকালো, যেন ওর চোখ দিয়ে সমস্ত ভালোবাসা উগরে দিচ্ছে। এরপর সারিম অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিজের হাত ঘুরিয়ে, অরির পাশের বেঞ্চে বসা সেই গালি দেওয়া মেয়েটির খাতা এবং নকলের টুকরোটা এক টানে কেড়ে নিলো!
“ইনভিজিলেটর!”
সারিম ওর গলার স্বরকে যতটা সম্ভব কঠোর করে বললেন, তবে ওর চোখ তখনো অরির দিকেই নিবদ্ধ ছিল।
“এই পাশের মেয়েটিকে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে এখনই হল থেকে এক্সপেল করুন। আর এই আকাশী ড্রেস পরা মেয়েটির খাতা একদম পরিষ্কার, ও নিজের মেধায় লিখছে। ওকে ডিস্টার্ব করবেন না কেউ।”
কথাটা শেষ করেই সারিম আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়ালো না। ওর নিজের ভেতরের সেই ব্লাশিং আর নার্ভাসনেস লুকাতে সে অত্যন্ত দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপে, নিজের পাঞ্জাবীর হাতাটা ঠিক করতে করতে হল রুম থেকে গটগট পায়ে বেরিয়ে গেলো। ওর পেছনে ওর বডিগার্ডরাও বোকার মতো দৌড়াতে লাগল, কেউ বুঝতেই পারল না স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী কেন একটা মেয়ের নকল দেখেও তাকে ছেড়ে দিলেন আর অন্যজনকে ধরলেন!
হল থেকে বের হয়ে করিডোর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় সারিমের ঠোঁটের কোণে এক অবিশ্বাস্য, তীব্র ও তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। ও নিজের মনেই বিড়বিড় করে বলে উঠল,
ইশকে দে ফানিয়ার পর্ব ৩
“আমার চন্দ্রিমা… তুমি অন্যের থেকে নকল করলেও তুমি শুধু আমার খাতার প্রথম পাতাই থাকবে। এই সারিম মৃধা তোমাকে আর নিজের হাত থেকে কোনোদিন ছেড়ে দেবে না।”
সারিমের সেই দীর্ঘ পাঁচ বছরের ক্ষোভ আর ক্ষমতার লড়াই যেন অরির ওই একটি নিষ্পাপ চোখের চাহনির সামনে এসে চিরতরে জয়ী হয়ে গেল। আজ থেকে শুরু হলো মন্ত্রীর এক নতুন প্রেম, আর এক নতুন ইশকের ফানিয়ার।
