Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩২

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩২

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩২
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_ তুমি অন্য কারো সঙ্গে বেঁধে ঘর,,
নতুন এক সকালের আলো জানালার ফাঁক গলে ঘরে ঢুকছে। বুকভরা অনিশ্চয়তা নিয়ে শুরু হলো নতুন একটি দিন,,সে জানে না সামনে কী অপেক্ষা করছে, কিংবা সবকিছু আগের মতো ঠিক হবে কি না।
তবুও হার মানতে রাজি নয় সে, ভাঙা স্বপ্নগুলো আবার জোড়া লাগানোর চেষ্টা করতে চায়।
চোখের কোণে জমে থাকা কষ্ট লুকিয়ে নতুন করে বাঁচার সাহস খুঁজছে নুবা।কারণ সে বিশ্বাস করতে চায়, প্রতিটি অন্ধকার রাতের পর একদিন সুন্দর সকাল আসবেই।
সকাল ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই আয়ার দেখা মিললো,,নুবার মুখে মুচকি হাঁসি ফুটে উঠলো,,,নুবা আয়ারকে কোলে নিয়ে তার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে বললো
_ সকাল সকাল চলে এসেছেন,,,একটু ঘুমানো যায় না,,
আয়রা মুখে আঙ্গুল ঢুকিয়ে হাসলো,,নুবা আয়রার হাত মুখ থেকে সরিয়ে হেসে বললো
_ পঁচা মেয়ে,, শুধু হাত মুখে দেয়

বেশির ভাগ মেহমান চলে গেছে,,,তবে যারা ঘনিষ্ঠ তারা অনুষ্ঠান শেষে হওয়া পর্যন্ত থাকবে,,, যেমন মেহেরিমারা,,রিহানরা,,ইমা,,মামা,,চাচা,,,,
সকাল সকাল ডাইনিং টেবিলে জমজমাট খাবার পরিবেশন করা হলো,,এক এক করে সবাই খেএ উঠছে,,নুবা দুটো খেএ ওষুধ খেএ নিলো,,না হলে বাচ্চাটার কষ্ট হবে,,
সকাল সকাল ইশিতা শাওয়ার নিয়ে বেড় হলো,,আরাফ এখনো ঘুমাচ্ছে,,রাতের মিটিং এর পরে সে বেশ ক্লান্ত,,,ইশিতা আরাফকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে ডাক দিলো,,
_ উঠো,,আর কত ঘুমাবে,, ক্ষুধা লাগছে তো
_ আর একটু ঘুমাতে দেও
_ না আগে উঠো তো,,
আমিনা বেগম আরহামের রুমে নাস্তা নিয়ে গেলেন,, আরহাম তখনো শুয়ে আছে,,আমিনা বেগম পাশে নাস্তা রেখে বললেন
_ উঠ,,উঠে খেএ নে,,,
_ হুম,,
_ রাতে কি আর মাথা ব্যথা হয়েছে
_ হুম উহু(না)
অমিনা বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন
_ আচ্ছা উঠ,,,

নুবা আয়ারকে নিয়ে লিভিং রুমে এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে,,,মানে হাঁটাহাঁটি করছে,,, এমন একটা মূহুর্তে তার নজরে পড়লো ইশিতা আর আরাফ সিরি বেয়ে নিচে নামছে,,, দুই জনের মুখেই প্রাপ্তির হাসি,,
নুবা চোখ সরিয়ে নিলো,, তাকিয়ে থালকে নজর লেগে যাবে,,মেয়েটা সুখি হোক,, অভিশাপ না লাগুক,,,
ইশিতা নিচে আসতেই আমিনা বেগম এগিয়ে গেলো,,ইশিতা আমিনা বেগম কে সালাম দিয়ে বললো
_ একটু দেরি হয়ে গেলো আম্মু,,
_ সমস্যা নেই,,খেতে বসো,,
আরাফ নুবাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে গেলো,,যেএ আয়ার গাল টেনে বললো
_ আম্মু কি করছো,,হুম
আয়ারার যেনো আরাফের কথা পছন্দ হলো না তাই আরাফের দিকে ফিরেও তাকালো না,,,
আরাফ আয়ারার দিকে তাকিয়ে মৃদু কন্ঠে শয়তানের মতো বললো
_ রাতে ঘুম হয়েছে নাকি,,
নুবা শান্ত কন্ঠে উত্তর দিলো
_ কেন হবে না,,বেশ হয়েছে,,
আরাফ ভেজা চুল গুলো হাত দিয়ে ঝাড়া দিলো সরু চোখে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ কান্না করেছিস নাকি,,চোখ মুখ ফুলে আছে কেন,
নুবা কুটিল হাসলো, ত্যাচ্ছিল্যো করে বললো

_ এক জানোয়ার থেকে মুক্তি পেয়েছি সেই খুশিতে কেঁদেছি,,,
_ তাই নাকি,,, ইস্,,হাত ছাড়া করে ফেললি,,আমি অলরেডি আমার বউ এর হয়ে গেছি,,রাতটা মনে রাখার মতো,,, বিশ্বাস কর আমার বউটা এতো romantic ,,তোর মতো ভেদা না,,,
নুবা মুখ দিয়ে “ছি” উচ্চারণ করলো,,,
_ নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা অন্যের কাছে ফাস করেন লজ্জা লাগে না,,
_ না তো,, তুই আমার পড় কেউ নাকি,,
নুবার শরীর জ্বলে উঠলো রাগে চোখের কোনায় পানি জমলো,,মুখে মুচকি হাঁসি ফুঁটিয়ে বললো
_ একদিন আপনিও বুঝবেন, ধোঁকা দেওয়ার পরিণতি ঠিক কতটা গভীর হয়।প্রকৃতির নিয়ম বড়ই অদ্ভুত,যা দেন, একদিন না একদিন তা ফিরে আসে।
মানুষের চোখ এড়ানো যায়, কিন্তু সময়ের বিচার এড়ানো যায় না।তাই আজ যে কষ্টের কারণ, কাল সে-ই হয়তো সেই কষ্টের অর্থ বুঝবে।
আরাফ নুবার কথায় ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো

_ অভিশাপ দিচ্ছিস,, কিন্তু শকুনের দোয়ায় গরু মরে না রে নুবা,,
নুবা কিছু সময় চুপ থেকে বিষাক্ত কন্ঠে সুধালো,,
_ আল্লাহর কাছে দোয়া করি আপনি একজন মেয়ে সন্তানের বাপ হন,,আর আপনার সেই মেয়ে যাতে আপনার মতো কোনো চরিত্রহীন মানুষের প্রেমে পড়ে,সে দিন আপনি আমার অনুভূতির গভীরতা বুঝতে পরবেন,,যে বিশ্বাস ভেঙে গেলে, তার ব্যথা কতটা তীব্র,সেটা উপলব্ধি করতে পারবেন,,
হয়তো তখন বুঝবেন, অবহেলা আর প্রতারণার ক্ষত কতটা গভীর হয়।কারও চোখের জলকে ছোট করে দেখা যায় না, কারণ সময় একদিন সব অনুভূতির হিসাব মেলায়।সেদিন হয়তো আমার নীরব কষ্টের অর্থটাও আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
আরাফের হাত মুঠো বদ্ধ হয়ে আসে,,আশে পাশে কেউ না থালকে নিশ্চয় নুবাকে ঠাস করে একটা চর মেরে দিতো,,কথাটা বেশ লেগেছে তার গায়ে,,,
এমন সময় আমিনা বেগম ডাইনিং রুম থেকে আরাফকে ডেকে উঠলো
_ আরাফ,,কিরে নাস্তা করবি না নাকি,,
আরাফ নুবাকে চোখ দিয়ে শাশিয়ে বিরবির করে বলে উঠলো

_ তোর এই তেজ তোকে আমার বিছানা পর্যন্ত নিয়ে যাবে,,, mind it,, সেদিন দেখাবো তোর শরীরে কত তেজ,,,
নুবা ঝেড়ে কাশলো,,চোখ মুখে ঘৃনার অবরন ফুঁটিয়ে বললো
_ ছি,,,
আরাফ চলে গেলো,,নুবা বিরবির করে বললো
_ বউটার কপাল পুড়লো ছি,,,
বলেই নুবা আয়ারকে নিয়ে রুমে দিকে চলে গেলো,,,সিরির আড়ালে দুই জন ব্যক্তি নিরবে দাঁড়িয়ে রইলো,,,
আরশি হতভম্ব হয়ে রিহানের দিকে তাকিয়ে বললো
_ এই সব কি হলো,,,
রিহান ভুরু কুঁচকে বললো

_ নিশ্চয় তোমার ভাই আর নুবার ভিতরে কিছু ছিলো,, কালকে রাতেও আমি নুবাকে একা ছাদে যেতে দেখেছি,,
দুই জন লুকিয়ে লুকিয়ে রোমান্স করছিলো কিন্তু তাদের ভালোবাসাকে আরাফ আর নুবা চিন্তায় পরিনত করে গেলো,,
আরশির বিশ্বাস হচ্ছে না তার ভাই এই মাত্র এখানে দাঁড়িয়ে এরকম জঘন্য কথা বলে গেলো,,,আরশির যেনো কান গড়ম হয়ে গেছে,,
আরশি বিরবির করে বললো
_ আমার বিশ্বাস হচ্ছে না,,ভাইয়া এই সব বলে গেলো,,,, আমার ভাই তো এমন না,,
রিহান এক পলক আরশির দিকে তাকিয়ে বললো
_ যেমনি হোক তোমাকে দেখিয়ে করবে নাকি,,,
আরশি বিচলিত হয়ে রিহানের দিকে তাকিয়ে বললো
_ ভাইয়াকে জিগ্গেস করবো,,
রিহান হতভম্ব হয়ে গেলো,,আরশির মাথায় মৃদু থাপ্পর মেরে বললো
_ পাগল হয়েছো,, তোমার ভাইয়ের বিয়ে হয়ে গেছে,,,সবাই কত খুশি,, অশান্তি কেনো করতে চাইছো,,
_ কিন্তু,,,
_ কোনো কিন্তু না,, অতীতে কিছু থাকলে দুইজনি ভুলে যাবে,,, তোমার বলার দরকার নেই,তারা তাদের মতো থাকুক,, তুমি শুধু আমার কথা ভাবো জান,,,
কিন্তু আরশি কিছুই ভুলতে পারলো না,,তার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না আরাফ এই সব কথা বলতে পারে,,,

পরশুদিন অনুষ্ঠান মানে বউ ভাত,,,এই নিয়েই আবার সব কাজ শুরু হয়েছে,,
মেহেরিমা ঘাপটি মেরে বসে আছে,, অনুষ্ঠানের পর চলে যাবে সে,,, কিন্তু এর ভিতরেই তাকে কিছু একটা করতেই হবে,,,
তখন প্রায় দুপুর,,,আজ বউ দেখতে অনেকেই এসেছিলো,, তবে দেখে চলেও গেছে,, হয়তোবা বিকালে আরো অনেকেই আসবে,,,
আরহামের চোখ দুটো লাল হয়ে আছে,,বুকের ভিতর কেউ মনে হচ্ছে হাতুরি দিয়ে পেটাচ্ছে,,আয়রা ছটফট করছে,, আরহাম বুঝতে পারছে না কি করছে,,
মেয়ের বাম হাত পুড়ে গেছে,, কিন্তু কিভাবে?? আজ সারাদিন তো মেয়ে তার কাছেই ছিলো,,,একটু আগেও তার মেয়ে ঠিক ছিলো,,মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে বারান্দায় যেএ কারো সাথে কিছু জরুরী কথা বলছিলো,,তার ভিতরে হঠাৎ মেয়ের আর্তনাদ ভেসে উঠলো,,, আরহাম প্রথমে খেয়াল করলো না,,,তবে তখন খেলায় করলো তখন রুমে ছুটে আসলো,,,
এসে দেখলো আয়ারা ঝড়ঝড় করে কাঁদছে,,,যেনো ব্যথায় তার বুক ফেটে যাচ্ছে,, পরপর আরহাম যখন মেয়ের সমস্যা খুঁজতে ব্যস্ত তখন চোখে পড়লো মেয়ের হাত পুড়ে আছে,,লাল হয়ে আছে,,দেখেই বোঝা যাচ্ছে এই মাত্র কেউ করেছে
আরহাম ছুটে রুমের বাইরে গেলো কিন্তু কাউকে পেলো না,, আরহাম তাড়াতাড়ি মেয়ের হাতে ফু দিতে দিতে হাতে পানি দিলো বিচলিত কন্ঠে বললো

_ কিচ্ছু হবে না আম্মু,,পাপা আছে না,,
আরহাম বুঝতে পারছে না তারি রুমে ডুকে তারি কলিজায় হাত দেওয়ার সাহস কে করলো,,তবে বাড়ি ভর্তি মানুষ কাকে ধরবে আরাহাম,,
মেয়ে একটু শান্ত হতেই হতেই হাতে মলম লাগিয়ে দিলো,,আগে আরাকে শান্ত করতে হবে পরে যা করার করবে,,

আরহামের হুংকারে বাড়িতে থাকা প্রত্যেকটা মানুষ একত্রিত হয়ে গেলো,,,,তবে আরাফ আর ইশিতা নেই কারণ তারা রুমে এক সাথে সময় কাটাচ্ছে,,
আমিনা বেগম ছেলের হুংকারে ছুটে আসলো,,, চিন্তিত কন্ঠে বলে উঠলো
_ কি,,কি হয়েছে,,
আরাহাম মায়ের দিকে তাকিয়ে কান্নারত আয়ার এক হাত ধরে তার মাকে দেখিয়ে কেমন ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ mom আমার মানিকটার হাত কে জেনো পুড়িয়ে দিয়েছে,,,একটু আগে কেউ আমার রুমে এসেছিলো,,ওকে বলো সমানে আসতে না হলে আমার খুঁজে বেড় করতে হলে আমি ওকে জেন্ত পুঁতে রাখবো,,,
আমিনা বেগম যেনো ছোটো খাটো হার্ড এট্যাক খেলেন,,, হতভম্ব হয়ে তাড়াতাড়ি নাতনিকে কোলে নিয়ে বললেন

_ কি,,হাত পুড়িয়েছে মানে,,,
সবাই নিশ্চুপ,,কেউ কিছুই বুঝতে পারছে না,,, এদিকে হারুন মির্জাও ছুটে আসলো,,,নাতনির কথা শুনে তার বুকটা মচর দিয়ে উঠলো,,,
মেয়ের এই অবস্থা দেখে আরাহাম যেনো প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছে ,,মনে হচ্ছে এক টুকরো চাঁদে গায়ে একটা কালো দাগ বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে,,,
আমিনা বেগম কম্পিত হাতে নাতনির ছোট্ট হাতখানা ধরে কাতর কন্ঠে বললেন
_ এই সব কে করবে,,আর কেনোই বা করবে,,
আরহাম এক হাত দিয়ে নিজের মাথার চুল খামচে ধরলো,,,মনে হচ্ছে তার ভিতরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে,,সে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে,,,
আরহাম সরু দৃষ্টিতে সবার দিকে তাকালো কিন্তু না,,কারো চোখেই অপরাধের ভীতু ভাব দেখা যাচ্ছে না,,,
আরহাম হঠাৎ গর্জে উঠলো,,,
_ বাড়ির সবাইকে এক করো,,একটা মানুষো যাতে বাড়ি থেকে বেড় হতে না পারে,, প্রত্যেকটা মানুষকে ডাকো,,

হারুন মির্জা এগিয়ে এসে প্রথম বারের মতো নাতনিকে কোলে নিয়ে তার হাত প্ররখ করলেন,,,হারুন মির্জার শরীর জ্বলে উঠলো কে এই অমানুষের মতো কাজ করেছে,,তার কি কলিজা কাপলো না,,,
আমিনা বেগম ছেলেকে শান্ত করার জন্য বললেন
_ শান্ত হ বাবা,,কার সাহস হবে এগুলো করার,,,আর তোর রুমেই বা কে যাবে
আরহাম উত্তেজিত হয়ে বললো,,
_ একটু আগে কেউ আমার রুমে গিয়েছি আমি ১০০% sure,,ওই শুয়োর**** সামনে আসতে বলো না হলে আমি,,আমি সব কিছু জ্বালিয়ে দিবো,,তার পর বুঝবে শরীরের চামড়া পুড়লে কেমন লাগে,,,
চিল্লাচিল্লিতে নুবাও ছুটে আসলো,,মাথায় ওরনা টেনে এগিয়ে এসে বিচলিত কন্ঠে বললো
_ কি হয়েছে চাচি,,,
আমিনা কাতর কন্ঠে সুধালেন
_ আয়রার হাত কে যেনো পুড়িয়ে দিয়েছে,,,
নুবা যেনো আকাশ থেকে পড়লো,,বুকটা ছ্যাত করে উঠলো তার,,হতভম্ব হয়ে বললো
_ কি,,,???
নুবা তাড়াতাড়ি যেএ হারুন মির্জার কাছ থেকে আয়ারকে কোলে নিলো,, আয়রার হাতের দিকে তাকাতেই খেলায় করলো মলম দেওয়া তবু ক্ষত বুঝা যাচ্ছে,,
কান্না করতে করতে আয়ারার মুখ লাল হয়ে গেছে,,নুবা কান্নারত আয়ারাকে বুকে জরিয়ে নিলো,,, বিচলিত হয়ে বললো

_ কিছু হয়নি তো আম্মু,,
আমিনা বেগম নুবাকে উদ্দেশ্য করে বললো
_ একটু বুকের দুধ দে তো মা,,যদি কান্না থামায়,,
_ চাচি doctor ডাকলে ভালো হবে
_ হ্যাঁ ডাকছি তুই আগে ওকে ঠান্ডা কর,,
নুবা আয়ারকে নিয়ে যেতে নিলেই আরশি ছুটে আসলো,, হাঁপিয়ে উঠে বললো
_ আয়রার হাত পুড়েছে বলে,,
ইতি মধ্যেই পুরো বাড়ি ছড়িয়ে পড়েছে বাড়ির একমাত্র নাতিন হাত পুড়েছে তাও নাকি কে পুড়িয়ে দিয়েছে,,,
আরশি নুবার কাছে এগিয়ে যেএ আয়রার ছোট্ট হাতটা নিজের মুঠোয় নিয়ে বললো
_ কোন জা,,নো,,,য়ার এই কাজ করেছে,,,বাড়িতে এতো মানুষ থাকতে কার সাহস হয়েছে এটা করার,,,
বলেই মায়ের দিকে তাকালো,,,আমিনা বেগম কপালে হাত দিয়ে বললো
_ তোরা সবাই শান্ত হ,,,যে করেছে তার রক্ষে নেই,,,
আরহাম এতো সময় কপালে হাত ঠেকিয়ে চিন্তা করছিলো রুমে কে এসেছিলো,,কে করতে পারে,, পরপরই সে শান্ত কন্ঠে বললো
_ বাড়ির সবাইকে বাগানে উপস্থিত হতে বলো মা,,, আজকে ওই শু,,য়ো,,, কে এখানেই মাটি দিবো,,,

নুবা আয়ারাকে ফিড করাচ্ছে তবে লিভিং রুমে একটু আগে যেনো তুফান গেলো,,আমিনা বেগম সবাইকে লিভিং রুম থেকে সরে যেতে বলেছে,,না হলে দেখা গেলো রাগের মাথায় আরহাম কোনো কান্ড ঘটিয়ে বসলো,,,
আমিনা বেগম ছেলের হাত শক্ত করে চেপে ধরে বললো
_ আরহাম,,,আগে শান্ত হ,,, হুটহাট রেগে গেলেই কালপ্রিট‌ কে ধরতে পারবো না,,,
আরহাম দুই হাত দিয়ে মাথার চুল খামচে ধরে বললো
_ শরীরের ভিতরে রক্ত টকবক করছে আমার,,আর তুমি বলছো শান্ত হতে,,
_ তোর বাবা সবাইকে জিগ্গেস করছে একটু আগে কেউ তোমার রুমে এসেছিলো কিনা শান্ত হও,,
আরহাম কেমন করে হেসে উঠলো,, পরপর দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ চোর নিজে বলবে আমি চুরি করেছি,,
_ না বলবে না কিন্তু কথার ভঙ্গি দেখে বোঝা তো যাবে,,
আরহাম কিছু সময় ভেবে দাঁতে দাঁত পিষে বললো
_ কোন কুত্তার বাচ্চার বুকে এমন সাহস আমার রুমে যেএ আমারি মেয়ের ক্ষতি করতে চায়,,,
আমিনা বেগম চিন্তিত কন্ঠে বললেন

_ কেউ এমন কেন করবে,, নিষ্পাপ একটা বাচ্চার সাথে,,,
_ ভাবলেই আমার শরীর জ্বলে উঠছে mom,, ইচ্ছে করছে বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষ কে পুতে রেখে দি,,
_ আরহাম,, এমন টা হয় না,,, তুমি এখানে বসো,,,আমি আসছি,,দেখে আসি কেউ দেখেছে কিনা যে তখন তোমার রুমে কে গেলো,, কিন্তু তুমি এখানেই থাকবে,,আমি আসছি,,
পরপর আমিনা বেগম রান্না ঘড়ে কাজ করতে থাকা তানিয়াকে বললো
_ কাউকে লিভিং রুমে আসতে দিবি না,,বলবি আমি না করেছি,, আরহাম কিন্তু এখানেই আছে তুইও ভুলেও ওখানে যাস না আচ্ছা,,
_ আচ্ছা খালা,,,
আমিনা বেগম বাড়ির বাইরে চলে গেলো,,,

নুবা আয়রার ছোট্ট ছোট্ট আঙ্গুলে চুমু খেএ বললো
_ কোন অমানুষ চাঁদের গায়ে দাগ লাগাতে চাইলো রে মা,,, তুই বলতেই পারবি না কে ব্যথা দিয়েছে হুঁ,,,
আয়রা ফিড করতে করতে ফুঁপিয়ে উঠলো,,নুবার বুকটা চিনচিন করে উঠলো মানুষ এমন মায়া দয়া ব্যতিত কি করে হতে পারে,,
এমন সময় হাজেরা বেগম রুমে প্রবেশ করলো বিচলিত কন্ঠে বললো
_ বাবুর নাকি হাত পুড়ে গেছে,,,
নুবা ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ হ্যাঁ,,মা,,কে যেনো এই অমানুষের মতো কাজটা করেছে,,,
হাজেরা এগিয়ে এসে আয়রার হাত ধরে কাতর কন্ঠে বললো
_ কোন অমানুষ এরকম মায়া দয়া ছাড়া,, ইস্ কত খানি পুড়ে গেছে,, doctor ডাকেনি
_ চাচি বললো ডাকছে,,আসতে সময় লাগবে তো,,,
হাজেরা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_ ঘুমিয়ে গেছে,,
_ হুম,, কান্না করতে করতে ঘুমালো,,,হাতটা কতখানি পুড়েছে আমার দেখে খারাপ লাগছে,,,
_ ওর বাপ যা,,,মনে হয় না অমানুষ টা বেঁচে যাবে
নুবা শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ মেহেরিমাকে তো ঝাড়ু দিয়ে দিয়েছে,, আল্লাহ জানে মেয়ের হাত পুড়ানোর অপরাধে কি করবে,,আমি sure মেরেই ফেবলে,,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ বাদ দে,,,ও ঘুমালে ওকে রেখে গোসল টা সেরে আয়,,বিকাল করলে তোরো ঠান্ডা লাগবে সাথে বাচ্চাটারো,,,
নুবা মাথা ঝুকালো আসলেই সে গোসলে অবহেলা করলে আয়রার সমস্যা হবে,,
নুবার গোসল প্রায় শেষ পর্যায়ে,,ড্রেস চেঞ্জ করছে,,তবে এমন সময় হঠাৎ __

_ ভাইয়া,,,
(বিচলিত কন্ঠে ডেকে উঠলো মেহেরিমা)
আরহাম চোখ তুলে মেহেরিমার দিকে তাকিয়ে বললো
_ চোখের সামনে থেকে দূর হ
মেহেরিমা কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো
_ দেখে আসো নুবা তোমার মেয়ের সাথে কি করছে,,,সেদিন তো গাল চেপে ধরেছিলাম বলে তেতে উঠলে আজ ওকে কি করবে,,
আরহাম ফট করে চোখ তুলে মেহেরিমার দিকে তাকিয়ে বললো
_ মানে,,,
মেহেরিমা ছলছল চোখে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো
_ আয়ার হাত আর কেউ না ওই ছোটো লোকটা পুড়িয়েছে বিশ্বাস না হলে আমার সাথে আসো,,,
আরহাম যেনো হতভম্ব হয়ে গেলো,,, কিছু সময়ের জন্য সে স্তব,,নুবা নামটা বিশ্বাসযোগ্য মোটেও না তবে যদি সত্যি আয় আর নুবার শেষ দিন

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩১

আরহাম রুমে প্রবেশ করলো,,,আরাহামের চোখে ভেসে উঠলো নুবা এক হাত দিয়ে তার মানিকের হাত ধরে রেখেছে অন্য হাতে গ্যাসলাইট,,যা স্পট বোঝিয়ে দেয় কালপ্রিট কে,,,
আরহাম হুংকার ছেড়ে বললো
_ নুবাআআআআ,,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৩

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here