নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৩
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ নুবাআআআআ,,,,
নিজের নাম এমন কঠোর কন্ঠে শুনে নুবার হাত থেকে গ্যাসলাইটটা পড়ে গেলো,, চম্কে সামনে তাকালো,,,আরহাম যেনো বুকে পাথর নিয়ে ছুটে আসলো,,,
এসেছেই নিজের ছটফট করতে থাকা মেয়ের দিকে তাকিয়ে থমকে গেলো,,, বরাবরের মতো নুবার গাল জ্বলে উঠলো,,, থাপ্পর মারার শব্দে মেহেরিমাও কেঁপে উঠলো,,,
মেয়েকে কোলে নিয়ে তার ডান হাতের অবস্থা দেখে আরহাম প্রায় পাগল বনে গেলো,,, ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ শুয়ো**** বাচ্চা,, তোকে আমি পরে দেখছি,,,
বলেই মেয়েকে নিয়ে বাইরে চলে গেলো,,,আমিনা বেগম কে ডাকতে শুরু করলো,,,
মেহেরিমা তাড়াতাড়ি ফ্রিজ থেকে বরফ এনে দিলো,, আরহাম মেয়ের ক্ষত স্থানে বরফ লাগিয়ে কাতর কন্ঠে বললো
_ কষ্ট হচ্ছে মা,,, তোমাকে কষ্ট দিয়েছে আজ ওকে আমি মেরেই ফেলবো,,পাপা আছে তো তোমাকে কষ্ট হতে দিবে হুম,, কান্না করে না
প্রায় ২ মাসের ছোট্ট জানটা জেনো ছটপটিয়ে উঠলো,,
নুবা গালে হাত দিয়ে বসে রইলো,,,বুঝতে পারলো না কি হলো,,,তবে শরীর কাঁপছে তার,,,
আরহাম কেঁদে দিবে এমন অবস্থা,,মেয়েটা তার জান,,মেয়ের কষ্ট দেখে তার প্রান যেনো বেড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম,,
আমিনা বেগম হারুন মির্জা,,,আরশি,,রিহান যারা আশে পাশে ছিলো সবাই আবারো এগিয়ে আসলো,,,
আমিনা বেগম বিচলিত কন্ঠে বললো
_ আবার কি হলো,,
আরহামের হাত পা কাঁপছে,, কম্পিত হাতে মেয়ের হাতে বরফ ঠেকিয়ে বললো
_ মা,,মা তাড়াতাড়ি মলম নিয়ে আসো,,, আমার মেয়েটার জান বেড় হয়ে যাচ্ছে,,,
আরাহামের কন্ঠ কাঁপছে,,সে কিরবে বুঝে উঠতে পারছে না,,,
আমিনা বেগম এক প্রকার ছুটে যেএ মলম নিয়ে আসলো,, হারুন মির্জা বিচলিত কন্ঠে বললো
_ এতটুকু সময়ের ভিতরে আবার কি হলো,,,
আরহাম মেয়ের হাতে মলম লাগাতে লাগতে বললো
_ ওই শুয়ো*** আমার মেয়ের গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছে আজকে আমি ওকে মেরেই ফেলবো
কেউ কিছুই বুঝতে পারলো না কার কথা বলছে,,আমিনা বেগম কাতর কন্ঠে বললেন
_ কার কথা বলছিস আরহাম
আরহাম হুংকার ছেড়ে উঠে বললো
_ কে আর তোমার ওই নুবা,,যাকে ভরসা করতে বলেছিলে,,,আজ ওর শরীর থেকে সব চামড়া আলাদা করবো,,,আর যে মাঝখানে আসবে তারো,,,
বলেই নিজের মেয়েকে শান্ত করতে ব্যস্ত হলো,,,নুবা কাঁপতে থাকা শরীর নিয়ে এগিয়ে আসলেও আরহামের কথা শুনে থমকে গেলো,,সে কি করেছে,,তার কি দোষ,,,নুবা কিছুই বুঝতে পারছে না,,,
মলম আর সাথে সাথে বরফ দেওয়ার আয়রার কান্না একটু থামলো আরশি আয়ারকে কোলে নিয়ে কেঁদে উঠলো,,,এই মাত্র দেখে গেলো এক হাত এখন দুই হাত,, বাচ্চাটা কার কি ক্ষতি করেছে,,,
আরহাম উঠে দাঁড়িয়ে বাইরে চলে গেলো,,আমিনা বেগম অবিশ্বাস চোখে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা নুবার দিকে তাকিয়ে রইলো,,,আরশি আয়রাকে বুকে চেপে ধরে বললো
_ নুবা তুই,, আমার বিশ্বাস হচ্ছে না,,,
আমিনা বেগম বিচলিত কন্ঠে বললেন
_ না না কোথাও ভুল হচ্ছে,,,নুবা,,না না,,,
নুবা দূর থেকে দাঁড়িয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ আ,,আমি না চাচি,, বিশ্বাস করো,,,
পুরো বাড়িতে হৈ হুল্লোড় লেগে গেলো,,কেউ কিছু বুঝতে পারলো না কি হচ্ছে,,,
হারুন মির্জা নুবার দিকে তাকিয়ে রইলো,,সবাই নুবার দিকে তাকিয়ে আছে,,কারোই বিশ্বাস হচ্ছে না,,
নুবা বুঝতে পারলো সবাই তাকে দোষী ভাবছে,,এটা ভেবেই তার চোখ দিয়ে দু ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়লো,,নুবা কম্পিত শরীরে এগিয়ে এসে বলতে চাইলো
_আমি—নাআআ,,,
নুবার পুরো বাক্য শেষ হওয়ার আগেই কেউ আগুনে জ্বলতে থাকা ( জলন্ত)চলা অর্থাৎ লাড়কি (কাঠ) দিয়ে নুবাকে বারি মারলো,,নুবা ছিটকে যেএ লিভিং রুমের মাঝ বরাবর পড়লো,,,,
এদিকে চিল্লাচিল্লি শুনে ইশিতা আর আরাফো নিচে আসছিলো কিন্তু সিরির কাছে দাঁড়িয়ে এমন পরিস্থিতি দেখে তারা থমকে গেলো বিশেষ করে আরাফ,,
বারিটা দেওয়ার সাথে সাথে নুবার বুক ফেটে নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো,,পিছন থেকে হাজেরা চিৎকার ভসে আসলো
_ নুবাআআআ,,,
লিভিং রুমে সবাই পিলে চম্কে উঠলো,, পরপর এক হাত দিয়ে নিজেদের মুখ চেপে ধরলো,,,আমিনা হতভম্ব হয়ে গেলেন,, চোখের পলকে সব কিছু হয়ে গেলো,,,
নুবার কাছে মনে হলো শরীরের মাংসো কেউ থতলে দিলো,,,নুবা ফ্লোরে পড়ে রইলো,,হাজেরা দৌড়ে আসলো মেয়ের কাছে,,আমিনা হারুন মির্জা সহ সবাই হতভম্ব,,,আরশি যেনো স্তব হয়ে গেলো কিছু সময়ের জন্য,,,
আরাহাম বাইরের বাবুর্চিরা যেই কাঠ দিয়ে রান্না করছিলো সেই চুলা থেকে জলন্ত কাঠ উঠিয়ে এনেছে,, আরহামকে এভাবে জলন্ত কাঠ আনতে দেখে কেন জানি হাজেরা ভালো লাগছিলো না সে পিছন পিছন আসলো আরহামের তবে এমন কিছু দেখবে সে নিজেও জানতো না,,
আজ নুবাকে পুড়িয়ে মেরে ফেলবে আরহাম
হাজেরা মেয়েকে বুকে টেনে কিছু শব্দ উচ্চারণ করতে যাবে তার আগেই আরহাম হুংকার দিয়ে উঠলো,,, গর্জে উঠা কন্ঠে বললো
_ আজ এই মূহুর্তে,,এখানেই ওকে জ্বালিয়ে মারবো,,মাঝখানে যে আসবে তাঁকেও,,,
আরহাম হাতের জলন্ত আগুনের কাঠ নিয়ে ছিটকে পড়া নুবার দিকে এগিয়ে গেলো,,,আমিনা বেগম পরিস্থিতি বুঝতে পেরে নাকে মুখে পড়তে পড়তে ছুটে আসলেন,,,এসেই ছেলের বুকে দু ধাক্কা দিয়ে বললেন,,
_পাগল হয়েছিস,,,
আরহাম মাকে ঠেলে এগিয়ে গেলো,,আমিনা বেগম হু হুঁ করে কেঁদে উঠলো,,,আজ নুবা শেষ,,,,সেও পারবে না আটকাতে,,,
আমিনা বেগম চিৎকার করে উঠলেন,,
_ আরশির আব্বু,,ছেলেকে ধরো,,,
হারুন মির্জা ছুটে আসলেন,,তবে তিনি একা পারবেন না,,,যা ভাবার তাই হলো,,হারুন মির্জা ছেলেকে আটকাতে পারলেন না,,,
আমিনা চিৎকার করে উঠলেন,,,
_ আরফ,,,ভাইকে ধর,,
পরপর আরফ ছুটে আসলো,,সাথে বাইরে থেকে রিহান,,, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে গেলো,,,
রিহান আরহামের হাত থেকে কাঠ কেড়ে নিতে সক্ষম হলো,,তবে আটকে রাখতে না,,,তিন জন পুরুষ আর একজন মিহিলা মিলে তাকে আটকে রাখতে পারলো না,,,
আরহাম সবাইকে ঠেলে ফেলে এগিয়ে গেলো,,,
আরশি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রিনুকে বিচলিত কন্ঠে বলে উঠলো
_ রিনু তাড়াতাড়ি যা,,বাইরে যাকে পাস,,কাকা চাচা খালু,,সবাইকে ডেকে আন,,,
নুবার দুনিয়া যেনো অন্ধকার হয়ে এসেছে,,,বারিটা তার কাঁধে,,, অর্ধ কাঁধ হাত মিলিয়ে লেগেছে একটুর জন্য মাথায় লাগেনি,,মাথায় লাগছে সে ওখানেই শেষ হয়ে যেতো,,,
নুবার তখনো হুস নেই আসে পাশে কি হচ্ছে,,একটা বারি খেএ সে যেনো শেষ হয়ে যাচ্ছে,,,
আরহাম বাপ ভাইকে টপকে শেষ পর্যন্ত নুবার কাছে চলেই আসলো,,যেনো তার শরীরে অসুরের শক্তি ডুকে গেছে,,কেউ তাকে থামাতে পারছে না,,,মেয়ের কষ্টে এতোটাই ব্যাথিত সে যে আজ স্বয়ং আল্লাহ না চাইলে নুবাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না,,হলোও তাই,,,,
আরহাম এসেই এক হাত দিয়ে নুবার এক হাত ধরলো,,,হাজেরা আর্তনাদ করে উঠলো
_ আমার মেয়েকে ছাড়ো,,,,
তবে আরহাম নুবাকে টেনৈই উঠিয়ে ফেললো,, হাঁপিয়ে যাওয়া হারুন মির্জা ছেলের এক ধাক্কা খেএ ফ্লোরেই বসে পড়লেন,,,রিহান আর আরাফ আরহামের কমড় আর হাত জরিয়ে ধরে রাখলো,,,আমিনা বেগম সবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ ধর ওকে,,না হলে আজ মেরেই ফেলবে,,,
সবাই এগিয়ে আসতেই নিলেই আরহাম গর্জে উঠে বললো
_ আজ সবকয়টা মরবি,, শুধু কাছে এসে দেখ,,,
সর মেয়েরা ভয়ে পিছিয়ে গেলো,,,তারা নুবার মতো চলার বারি খেতে চায় না,,,
আরহাম এক ঝাড়া মেরে মাছির মতো রিহান আর আরফকে ছিটকে ফেলে দিলো,আরহামের কুনুই এর ধাক্কা খেএ রিহানের ১২ টা বেজে গেলো,, আরাফ ছিটকে পড়ে যেনো মশার মতো লুটিয়ে পড়লো,,কমড়ে প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছে সে,,,,আমিনা বেগম ছেলের এক হাত জরিয়ে ধরলো,, চিৎকার করে বললো
_ আরহাম,,,নুবা কিছু করেনি,,থাম,,
তবে হলো না,, আরহাম আমিনা বেগম কেও এক হাত ধরে টেনে ফ্লোরে বসিয়ে দিলো,,পরপর নুবাকে এক হাত ধরে হেচরে তাদের রুমে নিয়ে যেএ ফেললো,,,
এর ভিতরে আরাফের চাচ খালু,,কাজিনরা দৌড়ে আসলো তবে ততখনে নুবাকে রুমের ভিতরে বালিশের মতো ছিটকে মারলো আরহাম,,কারো এগিয়ে আসার আগেই আরহাম দরজা লাগিয়ে দিলো,,,
সবাই এগিয়ে আসলো,,, আরহাম ভিতর থেকে চিৎকার করে বললো
_ যে শু য়ে ***র বাচ্চা দরজা খুলার চেষ্টা করবে বেড় হয়ে আগে ওর কবর খুড়বো,,, প্রতেকটা মাদ**** কে লাইসেন্স করা গ্যান (বন্দুক)দিয়ে ঠুকবো বলে দিলাম,,,
আরহমের হুমকিতে যেনো সবাই চমকে উঠলো,,,
রিহান বুকে হাত দিয়ে বসে রইলো,,আরাফ মাজায়,,দুই জনি প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছে,,,
নুবা এক হাত দিয়ে অন্য হাতের বাহু চেপে ধরে হুহু করে কেঁদে উঠলো,,,ভয়ে তার জান বেড়িয়ে যাচ্ছে,,,
হাজেরা এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে বললো
_ দরজা খুলো বাবা,, আমার মেয়েটা মরে যাবে,,দরজা খুলো,, আমার মেয়ে কিছু করেনি,,,
আমিনা বেগম চেঁচিয়ে উঠে বললেন
_ দাঁড়িয়ে দেখছো কি দরজা ভাঙ্গ ,,না হলে আজ ওকে মেরেই ফেলবে,,,
ব্যাস সবাই মিলে দরজা খোলার চেষ্টা করলো,,,
নুবা ক্লান্ত চোখে আরহামের দিকে তাকিয়ে বললো
_আ,,আমি কিছু ক,করিনি,,,(বলেই নুবা ডুকরে কেঁদে উঠলো)
আরহামের শরীর জ্বলে উঠলো,,, চোখে সমানে মেয়ের গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করতে থাকার দৃশ্যটা ভেসে উঠলো,,,ব্যাস আরহাম নুবার নাতুজান শরীরে ইচ্ছে মতো মারতে লাগলো,,,নুবা আটকাতে চেষ্টা করলো তবে পারলো না,, শুধু আর্তনাদ করে উঠলো,,,
২/৩ টা থাপ্পর খেএ নুবা চিৎকার করে উঠলো,, বাচ্চাদের মতো হামাগুড়ি দিয়ে দরজার সামনে যেতে চাইলো,,দরজা খুলার জন্য,,,তবে আরহাম পিছন থেকে নুবার চুলের মুঠো ধরে ফ্লোরে এনে ফেললো,,,ঠাস করে নুবার গালে থাপ্পড় দিলো,,পরপর আবার আঘাত করলো,,নুবা হু হু করে কেঁদে উঠলো,,,ব্যথায় কাঁদতে কাঁদতে বললো
_ মা,,মারবেন না,,আমি সহ্য ক,,করতে পারি না,, প্রচন্ড ব্যথা লাগে,,,
আরহাম নুবাকে কঠিন ভাবে আঘাত করে বললো
_ আমার মেয়েরো লেগেছিলো রে জানো**** তোর মায়া হয়েছিলো,, আমার কেন হবে,,
নুবা ছটফট করে উঠলো,,,কাতর কন্ঠে বললো
_ আমি,,আমি,,কি,, কিছু করিনি,,,
আরহাম পেন্ট থেকে বেল্ট খুলতে খুলতে বলে উঠলো
_ আমার নিষ্পাপ মেয়েটা কি দোষ করেছিলো,,হুম,,,
নুবা উঠে বসার চেষ্টা করে কিছু বলতে গেলো কিন্তু তার আগেই আরহাম বেল্ট দিয়ে নুবার শরীর ঝাঁঝড়া করে ফেললো,, প্রত্যেকটা বারি নুবার কলিজা পর্যন্ত কাঁপিয়ে তুললো
নুবা”মা গো ,, আল্লাহ বলে আর্তনাদ করে উঠলো,,,
অনেক গুলো বারি পড়তেই নুবার শরীর ছেড়ে দিলো নুবা কোনো মতে হাত জোর করে বললো
_আ,,আর মা,,মারবেন না,,,খুব লাগছে
আরহাম আর একটা বারি দিয়ে ক্ষিপ্ত কন্ঠে বললো
_লাগার জন্যই তো দিচ্ছি,,,যত তাড়াতাড়ি মরবি তত তাড়াতাড়ি তোরি মঙ্গল,,,
একটার পর একটা আঘাত তার পুরো দুনিয়াকে উল্টা পাল্টা করে দিলো,,, শুধু মুখ দিয়ে আর্তনাদ বেড় হয়ে আসলো,,মনে হলো কি পাপ করেছিলো যে পরপুরুষের হাতে এভাবে আঘাত সহ্য করতে হচ্ছে,,,
বাইরে থেকে হাজেরার আর্তনাদ শুনা গেলো,,সবাই মিলেও দরজা খুলতে পারলো না কারণ এই বাড়ির সবকিছু পাকা পুক্ত ভাবে তৈরি করা,,,
কেউ বুঝতে পারলো না এই দরজা কিভাবে ভাংবে,,,দা বটি হাতুরি কিছু দিয়ে হবে না,,আমিনা কেঁদে উলেন,,কপাল চাপড়ে বললেন
_ কেউ তো কিছু করো মেয়েটাকে মেরে ফেবলে,, আরহামরে,,,
আরহামের চাচা বুদ্ধি দিলো ,,
_ অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার আছে,,,দরজা ভাঙ্গা যাবে না কাটতেই হবে,,,
_ আছে,, কিন্তু ব্যৈদুতিক সংযোগ দিতে হবে তো,,
আরহাম নুবার ভেজা চুলের মুঠি ধরে ঠাস ঠাস করে তার গালে থাপ্পড় মারলো,,নুবার ঠোঁট গাল ফেটে রক্ত বের হলো,,,শরীরের আঘাত প্রাপ্ত স্থান গুলো ফেটে রক্ত পড়ছে,,
নুবার চোখ বেয়ে অঝরে পানি পড়লো,,,মার আঘাত,, ব্যথা সহ্য হয় না তার মনে হয় জান বেড়িয়ে যাবে,,তাহলে তার সাথেই কেন এমন হয়,,,
নুবা আরহামের দুই পা জরিয়ে ধরে বললো
_ আ,, আমি কিছু ___
তার আগেই আরহাম নুবাকে আঘাত করলো,,,নুবা আর্তনাদ করে কেঁদে উঠলো,, মানুষ টা এতো পাষান একটু মায়ায় হচ্ছে না,,আরহাম উঠে দাঁড়িয়ে নুবার হাত শক্ত জুতা পরিহিত পা দাড়া পিষে ফেললো,,, ঠিক যেই স্থানে আয়রার ক্ষত হয়েছে,,পরপর রাগে আরহাম নুবার হাতের আঙ্গুল গুলো পায়ের নিচে চেপে রক্তাক্ত করলো,,,
নুবা মুখ দিয়ে শব্দ বেড় করতে ভুলে গেলো,,, আরহাম হঠাৎ পা উঠিয়ে শব্দ করে নুবার হাতের তালুতে রাখলো,,,,নুবা গলা ফাটিয়ে আর্তনাদ করে উঠলো,,,,
এতেই যেনো থেমে গেলো না আরহাম,,কিছু খুঁজতে লাগলো সে,,নুবাকে মারার জন্য কিন্তু মন মতো ছুরি চাকু ধারালো কিছুই পেলো না,,তবে পাশে চিনে মাটির ফুলের টপ পেলো,,
সেটা তুলেই নুবা মাথায় মারলো,,,নুবার কান ফেটে রক্ত বেড় হয়ে আসলো,,, আরহাম আবার আশে পাশে তাকালো কিছু আছে কিনা,,তবে না নেই,,,
নুবা গলা ফাটিয়ে সাহায্যে জন্য আর্তনাদ করতে লাগলো,,,তবে কেউ আসলো না,,বাইরে থেকে শুরু সবার চিৎকার চেঁচামেচি শুনলো,,
এর ভিতরে দরজা কাটার শব্দ হলো,, আরহাম আরো রেগে উঠলো,, হুংকার ছেড়ে বললো
_ দাঁড়ারে শুয়**** বাচ্চা,,,
আরহাম এসে না পেরে নুবার গলা দুই হাত দিয়ে চেপে ধররো,,,নুবার শরীরে শক্তি পেলো না হাত ছাড়ানোর,,,নুবার চোখ গড়িয়ে পানি পড়লো,,,
আরহাম আরো শক্ত করে চেপে ধরে গজগজ করে বললো
_আজকে তোকে শেষ করবো আমার মেয়ের গায়ে হাত দিস,,
আরহাম যেনো আরহামের ভিতরেই নেই,,এ যেনো তৃতীয় কোনো ব্যক্তি,,যে কিনা নুবার জান নেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে,,,
নুবার চোখ উল্টে আসলো তখনি দরজা খুলার শব্দ হলো,,,সবাই হুরমুড়িয়ে রুমে ডুকলো,,নুবার রক্তাক্ত দেহ আর আরহামের এরকম রুপ দেখে সবাই চম্কে উঠলো,,,
আরহামের চাচা যেএ আরহামকে ধাক্কা দিয়ে নুবার থেকে সরালো,,,নুবা ওখানেই লুটিয়ে পড়লো,,২/৩ জন মিলে আরহামকে টেনে ধরলো,,,তবে নিজের রাগ না কোমায় শেষ বারের মতো আরহাম নিজের পা দাঁড়া নুবার গুজো হয়ে থাকা দেহে পেট বরাবর স্বজরে একটা লাথি মারলো,,
নুবা ঠিক দেওয়ালের সাথে যেএ বারি খেলো,,,মুখ দিয়ে অদ্ভুত শব্দ বেড় হয়ে আসলো তার,,মনে হলো সব শেষ,,ভীতর থেকে দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেড় হয়ে আসলো,,,,মুখ দিয়ে গলগল করে যা দুপুরে খেয়েছিলো সব বেড়িয়ে গেলো,,,
নুবার শরীর ওখানেই ছেড়ে দিলো,,, আরহাম হুংকার ছেড়ে বললো
_ আমকে ছাড় আজকে ওর মরন আমার হাতে লেখা,,,
হাজেরা বেগম ছুটে রুমে এসে মেয়েকে খুঁজতে লাগলেন,,,একটু সামনে তাকাতেই দেখলেন নুবা কুজো হয়ে দেওয়ালের সাথে লেপ্টে আছে,,
হালকা গোলাপি থ্রিপিস টা লাল বর্ন ধারন করেছে,,,ফ্লোরে এক এক জায়গায় রক্ত লেগে আছে,,,
হাজেরা বাচ্চাদের মতো আর্তনাদ করে উঠলো,,,
৩/৪ জন মিলেও আরহামকে রুম থেকে বেড় করতে পারলো না,,আমিনা বেগম ক্লান্ত শরীরে ছুটে নুবার কাছে গেলেন,,,নুবাকে টেনে বুকে জরিয়ে ধরে বললেন
_ নুবা,,উঠ,,,,
হাজেরা উঠে দাঁড়ালো,,, ক্ষিপ্ত আরহামের চোখে চোখ রেখে আহাজারি করে বললো
_ আমার মাইয়াডা তোমার কি ক্ষতি করছিলো বাবা,, তুমি কেন এমনে করলা,,, আমার মাইয়াডা তোমার মাইয়াডার পেট ভরলো আর শেষ পর্যন্ত তুমি আমার বুকটাই খালি করে দিলা,,,
বাচ্চাদের মতো হাজেরা কাঁদতে লাগলো,,সে কি করবে কিছুই বুঝতে পারলো না,,,
তবে আরহামের কোনো দিকে নজর নেই সে শুধু ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে নুবার দিকে তাকিয়ে আছে,,তার আফসোস হচ্ছে আর একটু পরে দরজা টা খুললে নুবা জানে মরে যেনো,,,কেনো একটু আগে গলা টিপে ধরলো না সে,,,কেন???আরহামকে টেনে রুম থেকে বেড় করা হলো,
হাজেরা এক পলক মেয়ের দিকে তাকিয়ে আহাজারি করে বললো
_আমার বুকটা যেমনে আজ ছিঁড়া যাইতাছে, একদিন তুমিও এই ব্যথার স্বাদ পাইবা।আমার মাইয়ার জন্য যেমনে আমার পুড়তাছে,, তোমারোও কারও জন্য এমন কইরা পুড়বো,,মানুষের চোখের পানি বৃথা যায় না, আল্লাহ সব হিসাব রাখেন।আজ যেই কষ্ট তুমি দিছো, কাল সেই কষ্টই তোমার দুয়ারে ফিরা যাইবো ,,,
আরহামের কোনো পাত্তা দিলো না হাজেরাকে,,,সে দেখেও দেখলো না এক অসহায় মায়ের আর্তনাদ যে কিনা নিজের মেয়েকে রক্ষা করতে পেরে ভিতর থেকে ভেঙ্গে পড়েছে,,এই চোখের পানি কি বিথা যাবে কানোই না,,
আমিনা তো জানে তার মেয়ে কেমন,,বিনা কারনে তার মেয়ে এই শাস্তি দেওয়া হলো,,তার চোখের পানি অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে,,,
নুবার রক্তাক্ত দেখে আরহামের শান্তি মিললো,, আরহাম ঝাড়া দিয়ে সবাইকে নিজ থেকে ছাড়িয়ে ফেললো,,
অতঃপর আশে পাশে না তাকিয়ে রান্না ঘড়ে যেএ ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি নিয়ে এক নিঃশ্বাসে এক বতল পানি শেষ করলো,,,
লিভিং রুম থেকে হাজেরার আহাজারি শুনা গেলো,,,
নুবার জ্ঞান নেই,,, হারুন মির্জার বুক কাঁপছে,, চোখের সমানে নুবার দেহটা তার অন্তর আত্মা কাঁপিয়ে তুলছে,,,যাকে নিজ হাতে এই বাড়িতে এনেছিলো আজ মনে হয় এই হাত দিয়েই দাফন দিতে হবে,,, হারুন মির্জা নীরব হয়ে চেয়ে রইলো,,
আমিনা বেগম চিৎকার করে বলে উঠলো
_ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কি দেখছো তোমরা,,ওকে ধরো হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে,,,
আরাফের মেঝো চাচা এগিয়ে আসলেও তার দাঁড়া নুবাকে উঠানো সম্ভব হলো না,,বয়স হয়েছে সে কি পারবে,,পেটের ব্যথা নিয়ে রিহান এগিয়ে আসলো নুবার ছোট্ট শরীর টাকে আগলে নিলো,,,
হাত পা ছেড়ে দিয়েছে তার,,,রিহান এগোলে সবাই তার পিছন পিছন আসলো,,নুবার লালচে ফর্সা পা গড়িয়ে রক্তের বন্যা বয়ে গেলো,,পায়ের চিকুন নুপুর গুলো রক্তে ভিজে উঠলো,,
এই নুপুর টা তার বাবা তাকে দিয়েছিলো,, অনেক গর্জিয়াস ডিজাইন দিয়ে নুপুরটা ছোটো বেলায় বানিয়ে দিয়েছিলো,,সেই নুপুর নুবা হালকা ডিজাইন দিয়ে বানিয়েছিলো যাতে তার পায়ে হয়,,বাবার শেষ স্মৃতি টুকু রক্তে ভিজে একাকার হয়ে গেলো,,
নুবার পা গড়িয়ে রক্ত পড়া দেখে আমিনা বেগমের অস্বাভাবিক লাগলো,,,লাথি দেওয়ার কারনে কিছু হয়ে গেলো না তো,,আমিনা বেগমের হাত পা কাঁপতে লাগলো
অন্য দিক হাজেরা হুস নেই বাচ্চাদের মতো মেয়ের পিছনে যাচ্ছে,,,বুক থাবড়ে আহাজারি করছে,,, আনন্দে ভরা বিয়ে বারিটা হঠাৎ করেই যেনো মরা বাড়িতে পরিনত হলো,,,
আরহাম রান্না ঘড় থেকে বেড় হয়ে নুবাকে নিয়ে যেতে দেখে ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বলে উঠলো
_ বাঁচবে না ,,লাভ নেই,,,
সবাই আরহামের দিকে ফিরে তাকালো,,,আমিনা বেগম ছেলের দিকে ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তাকালো তবে কিছু বললো না,,আগে মেয়েটাকে নিয়ে হসপিটালে যেতে হবে তার পর বাড়িতে এসে আজ এই ছেলেকে কবর দিবে,,,
একটা ঝড় এসে যেন নুবার জীবনের সব আলো নিভিয়ে দিল।হাজেরা কখনো কল্পনাও করেনি, তার মেয়ের গায়ে কেউ হাত তুলবে। তাও এচো জঘন্য ভাবে,,মেয়ের আহত মুখটা দেখেই বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল তার।রাগ, কষ্ট আর অসহায়ত্ব একসাথে চেপে বসল হৃদয়ে।
বারবার মনে হতে লাগল, কী এমন অপরাধ ছিল তার মেয়ের, যার জন্য এত বড় শাস্তি পেতে হলো?মেয়ের চোখের জল যেন প্রতিটি মুহূর্তে হাজেরার বুক চিরে দিচ্ছিল।নীরবে সে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু ভাবছিল, এই ক্ষত হয়তো শরীরে সেরে যাবে, কিন্তু মনের ক্ষত কি কোনোদিন মুছে যাবে?
আর যদি আজ তার মেয়ে ফিরে না আসে তবে তার কি হবে,,সে এতোটাই অসহায় একজন মা যে ওই বাড়ির ছেলেকে শাস্তি দেওয়া তো দূরে থাক তার দিকে তাকাতেও পারবে না,,হাজেরা আহাজারি করে উঠলো,,,মেয়েটা তার শেষ,,,জীবনে কি পাপ করেছিলো যে এই সবের মুখোমুখি তাদেরি হতে হলো,,মা হয়েও রক্ষা করতে পারলো না মেয়েকে এই পিঁড়া তাকে আরো শেষ করে দিচ্ছে,,, মির্জা বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষের উপর তার রাগ ক্ষোপ জমে বিশাল আকার ধারন করছে,,,
হাসপাতালের করিডোরজুড়ে হঠাৎ হৈচৈ পড়ে গেছে
স্ট্রেচারে করে নুবাকে দ্রুত ইমার্জেন্সি বিভাগের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, চারপাশে উদ্বিগ্ন মানুষের ভিড়।
হাজেরা বুক চাপড়ে আর্তনাদ করতে করতে মেয়ের নাম ধরে ডাকছে, তার চোখের জল যেন থামতেই চাইছে না।
হারুন মির্জা চিৎকার করে উঠলেন,, doctor নার্স সবাইকে ডাকতে লাগলেন,,,রিহান খালুকে ধরে শান্ত করতে লাগলো,,,
পরিস্থিতির গুরুতর অবস্থা দেখে কয়েকজন নার্স তড়িঘড়ি করে ছুটে আসলো,,কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন ইমার্জেন্সি ডাক্তার দ্রুত পায়ে সেখানে এসে রোগীর অবস্থা পরীক্ষা করলেন
হাজেরা বেগম আহাজারি করে doctor এর কাছে মিনতি করে বললেন
_ আমার মেয়েরটা বাঁচবো তো,,একটু তাড়াতাড়ি দেখন,,ওর অনেক কষ্ট হচ্ছে,,, আমার মেয়েটা না আঘাত সহ্য করতে পারে না,,একটুতেই নুইয়ে পড়ে,,
Doctor হাজেরাকে শান্তনা দিয়ে বললো
_ চিন্তা করবেন না আমরা আছি,,,
হারুন মির্জা বিচলিত কন্ঠে বলে উঠলো
_ যা করার তাড়াতাড়ি করুন,,মেয়ের যাতে কিছু না হয়,,,
_ নার্স,, তাড়াতাড়ি উনাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে চলো,,,
শেষ বারের মতো হাজেরা বেগম মেয়ের গাল ছুঁয়ে বললেন
_ কিচ্ছু হবে না নুবা,,মা আছে না,,,
হাজেরা নুবার থেতলে যাওয়া হাতটা আঁকড়ে ধরলো,,,নুবার রক্তাক্ত শরীর করিডোরের বাতাসে উৎকণ্ঠা আর আতঙ্ক যেন আরও ঘন হয়ে উঠল।
এরপর চিকিৎসকরা এক মুহূর্ত দেরি না করে নুবাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য ভেতরে নিয়ে গেলেন,,, হাজেরার হাত থেকে তার মেয়ের হাতটা ছুটে গেলো,,হাজেরা নিজ হাতের দিকে তাকিয়ে আর্তনাদ করে উঠলেন,,,তার মেয়ের বদনের রক্তে তার হাত মেখে একাকার,,, একজন মা কিরে এটা সহ্য করবে,,,
হসপিটালে রিহান,,আমিনা আর হারুন মির্জা এসেছে,,তারা তড়িঘড়ি এখানে এসছে সাথে কাকে আনবে,না আনবে বুঝে পায়নি,,,
হাজেরা করিডোরেই ধপ করে বসে পড়লো,, দেওয়ালের সাথে শরীর ঠেকে গেলো তার,,হাজেরা চোখের পানি ফেলে বললো
_ আমার সন্তানদের এটাই দোষ ছিলো সে ভালো মানুষিকতা দেখিয়েছে হ্যাঁ,,,
রিহান হারুন মির্জাকে পাশের বেঞ্চ এ বসালেন,,,পরপর শান্ত কন্ঠে বললেন
_ সব ঠিক হয়ে যাবে খালু ,,নুবা ঠিক হয়ে যাবে,,
হারুন মির্জা কম্পিত কন্ঠে বললেন
_ নিজে হাতেই মনে হয় মেয়েটাকে মেরে ফেললাম রে রিহান,,
কিছু সময়ের ব্যবধানে ছুটে আসলো আরাফ,,,আরফের মেঝো চাচা,,,আরো কয় একজন পুরুষ,,সাথে আরাফের খালা আর চাচি,,
আরফ এসেই বিচলিত কন্ঠে বললো
_ কি অবস্থা,,,
সবাই চুপ কারো মুখে কোনো কথা নেই,,,রিহান উঠে দাঁড়িয়ে মৃদু কন্ঠে বললো
_ সব ঠিক আছে,,,,নুবাকে ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে,,আর এতো মানুষ নিয়ে আসতে গেলি কেন,,,সবার সমস্যা হতে পারেতো,,,
আরাফ চুপ রইলো,,,আমিনা বেগম এতো সময় চুপ ছিলেন,,এবার দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বলে উঠলেন ,,
_ আরফ সবাইকে নিয়ে বাসায় যা,,আর তুই কেন আসছিস,,,
_ মা আমি,,,,,
_ কিছু বলতে হবে না,, সবাইকে নিয়ে বাসায় যা কারো প্রয়োজন হলে ডেকে নিবো,,,
আরফ মাথা ঝুকালো,,,,,পরপর আমিনা বেগম স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন
_ তোর বাপকেও নিয়ে যা,,,,মনে হচ্ছে হাই প্রেশার বেড়েছে,,
হারুন মির্জা ক্লান্ত কন্ঠে বললেন
_ না থাক,,এখানেই থাকি,,মেয়েটার কি অবস্থা দেখে যাবো,,,
হাসপাতালের করিডোরে নিঃশব্দ উদ্বেগ নিয়ে রয়ে গেল আমিনা বেগম, রিহান, হারুন মির্জা আর আমিনা বেগমের বড় বোন আয়শা।
চারপাশে অদ্ভুত এক ভারী নীরবতা, যেন সবাই কোনো অনিশ্চিত খবরের অপেক্ষায় আছে।এক কোণে বসে হাজেরা অবিরাম কান্না করে চলেছে, চোখের জল যেন থামার নামই নিচ্ছে না।মেয়ের কথা মনে পড়লেই তার বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠছে।
হাসপাতালের কাঁচের জানালার ওপারে আকাশ ধীরে ধীরে কালো মেঘে ঢেকে যাচ্ছে।মাঝে মাঝে ঠান্ডা বাতাস এসে করিডোরের নিস্তব্ধতাকে আরও বিষণ্ণ করে তুলছে।প্রকৃতিও যেন সেদিন তাদের দুঃখের সাক্ষী হয়ে নীরবে কাঁদছে,,,
এতো সময় বসে থাকলেও আমিনা বেগম এবার কান্না রত হাজেরার দিকে এগিয়ে গেলো,,,কথা বলতেও অস্থির লাগছে তার,,কোন মুখ নিয়ে কথা বলবে সে নিজেও জানে না,তবে বলতে হবে,,তার ছেলে যে অন্যায় করেছে তার শাস্তি পেতে হবে কারণ আমিনা তো জানে নুবা কখনোই আয়রার ক্ষতি করবে না,,কোনো এক ভুল বোঝাবুঝির ভিতরে এই সব হয়েছে,,
আমিনা বেগম হাজেরা দিকে এগিয়ে গেলো,, কম্পিত কন্ঠে বললো
_ হাজেরা,,,এখানে এসে বসো,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩২
হাজেরা চুপ রইলো,,,
আমিনা বেগম শুকনো ঢোক গিলে কম্পিত কন্ঠে শান্তনা দিয়ে বললো
_ সব ঠিক হয়ে যাবে হাজেরা,,নুবার কিছু হবে না,,,আমরা হতে দিব না,,,
আমিনার কথায় হাজেরা শরীর জ্বলে উঠলো,,হাজেরা রাগি কন্ঠে সুধালো
_ কি ঠিক হয়ে যাবে আপা,,কি ঠিক হবে,,আজ যদি আমার মেয়েটা ফিরে না আসে,, পারবেন ওকে ফিরিয়ে দিতে হ্যাঁ,,আর কি বললেন আপনারা কিছু হতে দিবেন না,,,আটকাতেও তো পারলেন না আপা,,যখন আমার মেয়েটাকে কুকুরের মতো মারলো আটককাতে পেরেছিলেন আপনারা,,,,কি দোষ ছিলো ওর হ্যাঁ,,, আমার মেয়েটা কি পাপ করেছিলো আপা,,,
আমিনা কি বলবে মুখ নেই তার,,তবু আমিনা সাহাস করে ভাঙ্গা কন্ঠে বললো
_ পাপ তো নুবা না আমরা করেছি,,যেই পাপে_
