নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৪
সুরাইয়া জিয়াসমিন
_ পাপ তো নুবা না আমরা করেছি,,যেই পাপের শাস্তি মেয়েটা পাচ্ছে,,,
হাজেরা উঠে দাঁড়ালো,,,এক রাশ ক্ষোপ নিয়ে কান্না করতে করতে বললো
_ আমার মেয়ের দোষ কি ছিলো,,,আজ যদি আমার মেয়ে দোষ না করে এই অমানুষত্বের স্বীকার হয় তবে আপনারা পারবেন নিজের ছেলেকে শাস্তি দিতে,, পারবেন,, হ্যাঁ,,,
আমিনা বেগমের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,, লজ্জায় কথা বলতে পারছে না সে,,তার ছেলেটা যে কথা বলর মুখ রাখেনি
আমিনা বেগম কে চুপ থাকতে দেখে হাজেরা হেসে উঠলো,,, চোখের পানি মুছে বললো
_ পারবেন না তো,,নিজ ছেলেকে এভাবে আঘাত করতে পারবেন না তো,, আপনার ছেলে,,ছেলে,, আমার মেয়ে,মেয়ে না,,, আমার সন্তানকে কি আমি দশ দিন ১০ মাস পেটে রেখে জন্ম দেয়নি,,,আজ যে বিনা কারনে আমার মেয়ের এই অবস্থা হলো কিছু হলে পারবেন ওকে ফিরিয়ে দিতে,,,নাকি গড়িব বলে আমার সন্তানের দাম নেই,,,
বলেই হাজেরা ডুকরে কেঁদে উঠলো,,,, আমিনা কাতর কন্ঠে কিছু বলতে চাইলো,,
_ হাজেরা,,,এমটা ন,,,
হাজেরা বেগম হাতের ইশারায় আমিনাকে থামিয়ে দিলো,, অতঃপর ফুঁপিয়ে উঠলো,, কান্ত কন্ঠে বললো
_ ফিরিয়ে দিতে পারবেন না তো,,,
কেউ কথা বলছে না দেখে রিহান এগিয়ে এসে বললো
_ আন্টি শান্ত হন,, দেখবেন নুবা সুস্থ হয়ে গেছে,,,
হাজেরা রিহানের দিকে তাকিয়ে ভাঙ্গা কন্ঠে বললো,,
_ তুমিই বলো বাবা,,আজ যদি নুবা তোমার ছোটো বোন হতো,,আর তোমার বোনকে যদি কেই বিনা কারনে এভাবে আঘাত করতো তুমি কি করতে,,,
রিহান দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ অবশ্যই ছেড়ে কথা বলতাম না আন্টি,,
হাজেরা ছলছল চোখে সবার দিকে তাকিয়ে বললো,,
_ তাহলে কি আজ ওর একটা বাপ ভাই নেই দেখে মানুষ এভাবে ওকে আঘাত করার সাহস পেলো,,আজ যদি নুবার বাপ থাকতো তাহলে কি এমন হতো ,,,
সবাই স্তব,,কারো মুখে কথা নেই,,রিহানো চুপ হয়ে গেলো,,হাজেরা সবার দিকে আঙ্গুল তুলে আর্তনাদ করে বললো
_ আ,,আজ আপনাদের জন্য আমার মেয়ের এই অবস্থা,, শুধু আপনাদের জন্য,,আপানাদের জন্য আমার স্বামী মেরেছে,,আর আজ আপনাদের জন্যই আমার মেয়েটার এই অবস্থা,,,
হাজেরা কথায় সবাই থমকে গেলো,,আমিনা বেগম অবাক চোখে তাকালো,, হারুন মির্জার চোখের পাতা ভিজে আপনাআপনি বন্ধ হয়ে গেলো,,,
হাজেরা আবারো চেঁচিয়ে বলে উঠলো
_ আমার জীবনের সব থেকে বড় ভুল সিদ্ধান্ত আপনাদের বাড়িতে উঠা,,,আজ যদি লোকের দোয়ারে ভিক্ষা করেও খেতাম তাও আমার মেয়ে সুস্থ থাকতো,,আজ এই অবস্থা হতো না,,,পুড়া কপাল আমার কেন যে সেদিন এই বাড়িতে পা রাখলাম,,,লোভে পড়ে গেছিলাম মেয়েটা আমার বাপের ছায়া ব্যতিত ভালো থাকবে,,,দুটো ভালো মন্দ খেতে পারবে,,, কিন্তু আমি ভাবিনি এতো বছরের খাওইয়ে পড়িয়ে মানুষ করার উসুল আপনারা একদিনেই তুলে নিবেন,,,আমি পারলে আপনাদের সব ঋন সুধিয়ে দিতাম,,,যদি সুধিয়ে দেই আমার মেয়েটাকে কি সুস্থ করে দিবেন হ্যাঁ,,,
বলেই হাজেরা দুই হাত দিয়ে কপাল চাপড়িয়ে আহাজারি করলো,, ভেঙ্গে পড়লো সে,,, একমাত্র মেয়েই তার সম্বল,,এই পৃথিবীতে তার মেয়ে ব্যতিত কেউ নেই,,,আজ যদি এই মানিকটাও চলে যায় তবে হাজেরা কি নিয়ে বাঁচবে,,,
আমিনা বেগম ফুঁপিয়ে উঠলেন,, কষ্ট তার বুক ফেটে গেলো,,আজ ছেলের একটা ভুলের কারনে তাদের কি না শুনতে হচ্ছে,,,তার ছেলে শুধু নুবাকে না পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দিলো,,আজ যদি নুবার কিছু হয়ে যায় তবে নিজেদের কি করে তারা মাফ করবে,,,
হাজেরা কান্না করতে করতে বিরবির করে বললো
_ আমার সব তো শেষ করে দিলেন আপনারা ,, আমার মেয়ের যদি কিছু হয় দয়া মায়া করে আমাকেও তার সাথে দাফন দিয়ে দিয়েন,,,
আরশি রিহানের ফোনে দুই বার কল করতে রিহান রিসিভ করলো,,অপাশ থেকে আরশি কম্পিত কন্ঠে বললো
_ নুবার কি অবস্থা,,
রিহান ফিসফিস করে বললো
_ এখনো কিছু জানা যায়নি,,
_ সবাই ঠিক আছে তো,,
_ কেউ ঠিক নেই আরশি,, সবাই কান্না কাটি করছে বিশেষ করে হাজেরা আন্টি অনেক ভেঙ্গে পড়েছে,, তোমার কি মনে হয় নুবা এই সব করেছে
আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ জানি না,,, কোনো খবর পেলে কল দিয়েন
_ আচ্ছা,,এখন রাখো,,,আর তোমার পাগল ভাইটা কোথায়,,
_ ঠিক বলতে পারছি না,,আয়রাকে নিয়ে রুমে হয়তোবা,,
রিহান দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তোমার ভাই একটা অমানুষ বুঝলা,,,নুবার আগে ওকে হসপিটালে ভর্তি করা দরকার,,,
আরশি কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ ওকে বাড়িতে আনাই চরম ভুল,,মা যে কেন ডেকে ঘাড়ের উপর বিপদ নিয়ে আসলো,,,ও বিদেশেই ঠিক ছিলো,,,এই অনুষ্ঠানের ভিতরে ওকে না ডাকাই আমার মতে ভালো ছিলো,,,
_ সেটাই তো,, তোমার মারো কাজ ভালো না,,, এদিকে হাজেরা আন্টি তো সাবান ছাড়া তোমার বাপ মাকে ধুয়ে দিচ্ছে,,,
আরশি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ বলবেই তো,,নুবা ছাড়া আন্টির কেউ নেই,,যাক কোনো খবর পেলে কল দিও,,,
Doctor এসে একটু আগে আয়রাকে দেখে গেছে বলেছে নিয়মিত ওষুধ দিলে ঠিক হয়ে যাবে,,,
আরহাম মেয়ের ক্ষত স্থানে বারবার চুমু খাচ্ছে,,,ফু দিচ্ছে,,, এদিকে বাড়ি পুরাই নিস্তব্ধ,,,আবারো যে যার কাজে লেগে গেলে,,আরাফ বাসায় এসে ইশিতার সাথে সময় কাটাচ্ছে,,,
আরাহাম মেয়ের কপালে চুমু খেলো বিরবির করে বললো
_ তোমাকে হার্ড করেছে ওই পঁচা মেয়ে,,ওকে punished করেছে পাপা আর কক্ষনো এমন করবে না ,,,পাপ এখন থেকে তোমাকে কারো কাছে দিবে না সবসময় কাছে রাখবে ওকে আম্মু
আয়রা উত্তর দিলো না তবে আরামের বুক বিচরন করলো,, আরহাম মেয়ের দিকটা বুঝতে পেরে কিছুটা বিচলিত হলো,,এবার মনে হলো এখন আয়ারকে কি খাওয়াবে,,, পরপর doctor নাইমের কথা মনে পড়লো,, আরহাম সময় না নষ্ট করে তাকে কল দিলো,,
অবশ্য আয়রা মুখে ফিডার নিতে চায় না তবে মেয়েকে অভ্যস্ত করবে,,,
অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে জরুরি বিভাগের দরজা খুলে ডাক্তার বাইরে বেরিয়ে এলেন।তাকে দেখেই সবার বুক ধক করে উঠল,,
হাজেরা doctor কে দেখে উঠে দাঁড়ালো এক প্রকার ছুটে তার কাছে গেলো,,,কাঁপা কণ্ঠে বলে উঠলো
_আমার মাইয়া কেমন আছে?ও ঠিক আছে তো,,
করিডোরজুড়ে নেমে এলো এক অদ্ভুত নীরবতা, সবাই উৎকণ্ঠিত চোখে ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে রইল।হাজেরার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে, বুকের ভেতরটা যেন আতঙ্কে কেঁপে উঠছে।
রিহান আর আমিনা বেগমও নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল, যেন পরের কথাগুলোই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।চারপাশের সব শব্দ তখন ম্লান হয়ে গেছে, শুধু অপেক্ষা আর দুশ্চিন্তাই ভর করে আছে হাসপাতালের করিডোরজুড়ে।
ডাক্তার ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে এসে সবার দিকে তাকালেন, তারপর মুখ খুললেন কিছু বলার জন্য।সবাই আশা ভরা দৃষ্টিতে doctor এর দিকে তাকিয়ে রইলো,,,
ডাক্তার গম্ভীর মুখে সবার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,,
— ভয়ের কিছু নেই, উনি এখন বিপদমুক্ত আছেন।
ডাক্তারের কথা শুনেই হাজেরা যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। আমিনা বেগম পড়ে যেতে নিলে রিহান সামলে নিলো,, হারুন মির্জার বুক থেকে যেনো অনেক বড় পাথর সরে গেলো,,,আয়শা বেগম মনে মনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলে,,তিনিও বেশ টেনশনে ছিলেন,,
Doctor দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে আবার বললো
— তবে মাথার এক পাশে,,পিঠে এবং পেটে বেশ আঘাত পেয়েছেন। ব্যথাটা কিছুদিন থাকবে, তাই তাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।
করিডোরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা উদ্বেগ কিছুটা কমে এলো।হাজেরার চোখে তখনও পানি, তবে সেই পানির মধ্যে স্বস্তির এক ঝলকও ফুটে উঠেছে।
সে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করতে করতে মেয়ের একবার দেখা পাওয়ার অপেক্ষায় রইল
Doctor সবার স্থির মুখ দেখে গম্ভীর কন্ঠে বললেন
_ দেখুন এতোটাও খুশি হবেন না,, পেশেন্টের পিরিয়ড সময় কালিন এমন গভীর ভাবে পেটে আঘাত খুবি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারতো,,যদি আঘাতটা আর একটু গভীর ভাবে লাগতো তবে উনি কখনোই মাতৃত্বকালীন স্বাদ গ্ৰহন করতে পারতেন না,, জরায়ুতে সমস্যা হতো,,, আল্লাহর রহমত যে এমন কিছুই হয়নি,,,উনাকে পুরো রেস্টে রাখতে হবে,,,
পরপর doctor হারুন মির্জার দিকে এগিয়ে গেলো,,,হারুন মির্জার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো
হারুন মির্জা হ্যান্ডসেক করলো,,, doctor শান্ত কন্ঠে বললো
_ ভাবিনি এভাবে হসপিটালে দেখা হবে,,,তা মেয়েটা আপনার কি হয়,,,
হুরুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ছোটো মেয়ে বলতে পারেন,,
Doctor ঠোঁট প্রসারিত করে বললো,,
_ হুম,, চিন্তার বিষয় নেই,সব ঠিক হয়ে যাবে
_ ইনশাআল্লাহ,সবি আল্লাহর হাতে,,,
_ হ্যাঁ তবে,,মেয়ের শরীরে অনেক ক্ষতো পেয়েছি,,যা স্পট,তাকে টর্চার করা হয়েছে,,,তবে আপনাকে আমি পার্সোনালি চিনি বিধায় ,,এই ব্যপারে বেশি কিছু বল্লাম না,,, অবশ্যই আপনি একজন জ্ঞানী মানুষ,, আপনার সততার সুনামো শুনেছি বেশ,,,তবে আপনার বাড়িতে এমন কিছু হবে অন্ততপক্ষে আমি আশা করিনি,,,এখন যাই হোক আমি জানি আপনি আমার কথার দিক টা বুঝতে পারছেন,,আশা করি নিজের জ্ঞান দিয়ে বিষয় টাকে মনযোগ দিয়ে ভাববেন,,,আর অবশ্যই মেয়েটার খেয়াল রাখবেন,,,
হারুন মির্জা মাথা নাড়লো,,, doctor মুচকি হেসে চলে গেলো,,,
নুবাকে ধীরে ধীরে জরুরি বিভাগ থেকে কেবিনে স্থানান্তর করা হলো।সাদা বিছানায় শুয়ে থাকা মেয়েটার ফ্যাকাশে মুখ জানান দিচ্ছে সে কতটা ক্লান্ত ,তার হাতে একটি ক্যানুলা লাগানো, স্যালাইনের ফোঁটা ধীরে ধীরে শরীরে প্রবেশ করছে।মাথা ও হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা, আঘাতের চিহ্নগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।হাতে, ঠোঁটে,,মুখে,।নুবার একটি নরম হাত থেতে গেছে,, ব্যান্ডেজ করা,,,
মেয়ের এই অবস্থা দেখে হাজেরা আর নিজেকে সামলাতে পারল না,,হাজেরার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল,আস্তে আস্তে মেয়ের দিকে এগিয়ে গেলো পিছন পিছন বাকি সবাই আসলো,সে বিছানার পাশে বসে নুবার হাত ধরে অঝোরে কাঁদতে লাগল, চোখের পানি গড়িয়ে পড়ল মেয়ের হাতের উপর।
হাজেরা বেগম কাঁপা কণ্ঠে বলে উঠলো,,
_আল্লাহ, আমার মাইয়াডারে তুমি সুস্থ কইরা দাও।
কেবিনজুড়ে তখন শুধু মায়ের কান্নার শব্দ আর স্যালাইনের ফোঁটা পড়ার নীরব ছন্দ।চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সবাই নিঃশব্দে সেই দৃশ্য দেখছে, আর তাদের চোখেও জমে উঠছে কষ্টের ছায়া।কেবিনের পরিবেশটা ভারী হয়ে উঠল মায়ের কান্নায়।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ গুলো নীরবে চোখ মুছলো।
আর নুবা নিস্তব্ধ হয়ে শুয়ে রইলো যেন তার চারপাশের সব কষ্ট নীরবে অনুভব করছে,,,,,
নুবা চোখ বন্ধ করে আছে তবে সবি অনুভব করছে,,সে যে চোখটা খুলবে সেই শক্তি টুকু তার শরীরে নেই,,,
দুই বার রিং হতেই আরশি কল রিসিভ করলো পরপর চিন্তিত কন্ঠে বললো
_ doctor কিছু বলেছে
রিহান দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ নুবাকে কেবিনে সিপ্ট করা হয়েছে,,,ও ঠিক আছে তবে রেস্ট দরকার,,
_ আলহামদুলিল্লাহ,,,
আমিনা বেগম সহ বাকি সবাই দূরে দাঁড়িয়ে আছে,,নুবার কাছে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না,,তবে হাজেরা মেয়ের পাশে বসে অঝড়ে কাঁদছে,,,তার ইচ্ছা হচ্ছে সব গুলোকে এখান থেকে বেড় করে দিতে,,যদি তার কাছে মেয়েকে সুস্থ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা থাকতো তবে সে আর কাউকে তার মেয়ের ধারের কাছেও ঘেঁষতে দিতো না,,,সবার প্রতি রাগ জমেছে তার,,কেউ ভালো না,,,
আমিনা বেগম কিছু সময় নুবার দিকে তাকিয়ে রইলেন,,এর ভিতরে খেয়াল করলেন হারুন মির্জা বেড় হয়ে যাচ্ছে,,
আমিনা বেগম স্বামীর পিছনে গেলো,,, উত্তেজিত হয়ে বললো
_ কো,,কোথায় যাচ্ছেন,,,
_ যেখানে যাওয়া উচিত,,,
স্বামীর ভাব গতি দেখে বুঝতে পারলেন তার স্বামী কি করতে চাইছে,,,
আমিনা বেগম কেবিনে ফিরে গেলেন,,রিহানকে উদ্দেশ্য করে বললেন
_ রিহান,,
রিহান ফিরে তাকালো,,আমিনা বেগম ব্যস্ত কন্ঠে বললেন
_রিহান,,,আরশি আর তোর মামি কে আসতে বল আমি তোর খালুর সাথে যাচ্ছি,,,
রিহান মাথা ঝুকালো,,এখানে মানুষ থাকা প্রয়োজন হাজেরা একা সামাল দিতে পারবে না,,,
আমিনা বেগম কম্পিত কন্ঠে বলে উঠলো
_ গাড়ি আস্তে চালান,,আর আপনি কোথায় যাচ্ছেন,,
হারুন মির্জা গাড়ির স্পিড বাড়িয়ে দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বললো
_ তোমার ছেলেকে জনমের শিক্ষা দিতে,,,দুদিন জেলের ভাত খেলে সব ঠিক হয়ে যাবে
আমিনা বেগম চম্কে উঠলেন,,তার বুক কেঁপে উঠলো,,তিনি বিচলিত কন্ঠে বললেন
_ পা, পাগল হয়েছেন আপনি,, ছোট্ট একটা বাচ্চা আছে না,,আয়রা না থালকে একটা কথা ছিলো
_ কোনো কথা শুনতে চাইছি না,,,
_ দেখুন,,,যা করার বাড়িতে করেন,, দরকার পড়লে মারেন কাটের,,তাও আয়ারাকে ওর থেকে আলাদা করবেন না,,,আর আপনি তো যানের ছেলেটা মানসিক ভাবে sick,,,আপনি ____
হারুন মির্জা রেগে উঠলেন,,,আর বললেন
_ তুমি শুধু চুপ থাকো না হলে আজ ছেলের সাথে সাথে তোমারো শেষ দিন হবে
পুলিশ স্টেশনে হারুন মির্জাকে দেখে অফিসার ব্যাস খুশি হলো,,,তার সাথে হাত মিলিয়ে বললো
_ আরে আপনি যে,, হঠাৎ,, কেমন আছেন,,কোনো সমস্যা হয়েছে sir,,এই মিন্টু ২ টা চা নিয়ে আয় তো,,
হারুন মির্জা অফিসারকে থামিয়ে দিয়ে বললেন
_ চা খেতে আসেনি,, একজন অপরাধীর নামে মামলা করতে এসেছি,,
_ কি,,,কার সাহস আপনার সাথে ঝামেলা করার,,,
হারুন মির্জা গম্ভীর কন্ঠে বললেন
_ আরহাম শাহারিয়ার মির্জা,,,
অফিসার অবাক হয়ে গেলেন,,,চোখ তুলে হারুন মির্জার দিকে তাকিয়ে বললেন
_ মজা করছেন sir,,উনি তো আপনার বড় ছেলে,,,
_ একটা নিরপরাধ মেয়েকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে,,,আমি চাই এই বিষয় কোর্ট পর্যন্ত যাক ওর কঠিন থেকে কঠিন তমো শাস্তি হোক,,,ওই মেয়েটা আমার ছোটো মেয়ের মতো,,আমি কিছুতেই ছেড়ে দিবো না,,,
অফিসার এক পলক আমিনা মির্জার দিকে তাকালেন যে কিনা মুখে আঁচল গুঁজে নিরবে কাঁদছেন,,,
হারুন মির্জা ব্যস্ত কন্ঠে বললো
_ তাড়াতাড়ি রিপোর্ট লিখুন,,
অফিসার সামনে থাকা সাদা পৃষ্ঠার খাতাটা বন্ধ করে হাতের কলমটা পাশে রেখে বিরবির করে বললো
_ এটা আপনার রিপোর্টেশনের ব্যপার sir,,এই সামান্য বিষয় নিয়ে যদি বারাবারি করেন আপনারি সমস্যা হবে,,আর খবরে দেখালাম আপনার ছোটো ছেলের বিয়ে এখনো মনে হয় অনুষ্ঠানো হয়নি,,এই সময়ে,,
_ আমি যা বলছি তাই করেন,,
তবে অফিসার রিপোর্ট লিখতে নারাজ,, কারণ হারুন মির্জা কে সে চিনে,,,উনার অফিসেই তার বাবা চাকরি করতো,, হারুন মির্জা খুবি ভালো মানুষ,,ছেলের জন্য বাপের গায়ে কলঙ্ক লাগুক অফিসার এটা কিছুতেই চায় না,,,
অফিসার ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলে শান্ত কন্ঠে বললেন
_ শান্ত হন sir,,বাড়ির ব্যপার বাড়িতে মিটান শুধু শুধু কেন ঝামেলা করছেন,,, মিডিয়া এই অল্প খবরকে মশলা লাগিয়ে আপনার ইজ্জতে হাত দিয়ে ফেলবে,,,
আমিনা বেগম পাশ থেকে বলে উঠলেন
_ আমিও সেটাই বলছিলাম,,ছেলে তো আর ছোটো না,,,বাড়ির ব্যপার বাড়িতে থাক,,যা করার বাড়িতে করুক,,, শুধু শুধু কেন মান সম্মান নিয়ে টানাটানি করবো,
হারুন মির্জা আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ সত্যিই এটা চাও তুমি,,,যদি এটায় চাও তবে মনে রেখো আমিনা তোমার ছেলের শাস্তি কঠিন থেকে কঠিন তম হবে,, চোখের সামনে সহ্য করতে পারবে তো,,
_ যা করার করেন তবু দয়া করে এভাবে সবাইকে জানিয়ে তামাশা করবেন না,,,আয়রার দিকটা বুঝুন,,বাপ ছাড়া কে আছে তার,,
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেন,,,নুবা সুস্থ হোক তার পর তার চোখের সামনে সব হবে,,,
হারুন মির্জা বাড়িতে ফিরে চুপচাপ বিছানায় গা হেলিয়ে দিলেন,,ছোটো ছেলের অনুষ্ঠান শেষে হোক,,,নুবা সুস্থ হোক,,তার পর যা করার করবেন তিনি,,,
তখন প্রায় সন্ধ্যা,,নুবা চোখ খুলে সবার দিকে এক পলক তাকিয়ে নিলো,,,হাজেরা মেয়েকে তাকাতে দেখে হু হু করে কেঁদে উঠলেন বিরবির করে বললেন
_ ঠিক আছিস তুই,,,এই অধম মাকে মাফ করে দিসরে নুবা,,, আমার চোখের সামনে সব হলো আমি মা হয়েও তোকে রক্ষা করতে পারলাম না,,
নুবা চোখ গড়িয়ে পানি পড়লো,,কোনো মতে বিরবির করে বলে উঠলো
_ আ,,আমি ঠিক আছি,,
নুবা কথাও বলতে পারছে না,,গলায় মোটা দাগ হয়েছে,,, আরহাম তখন গলা চেপে ধরায় তার মনে হচ্ছিলো গলার হাড় গুড়ো যেনো মাংস ভেদ করে বেরিয়ে আসবে,,,,এখনো টনটন ব্যথা,,,
কেবিনে আরশি,,আয়শা আর আরশির মামি,,সবাই চুপচাপ এক অসহায় মা মেয়ের আহাজারি দেখছে,,,
আমিনা বেগম ছন্নছাড়া হয়ে ছেলের রুমে ঢুকলেন,,,তখন আরহাম আয়রাকে ঘুম পাড়িয়ে সবে মাত্র উঠে দাঁড়ালো,,,তার কাছে কিছু স্বাভাবিক কিছুই অস্বাভাবিক নয়,,,
আমিনা বেগম রুমে ডুকেই আরহামের কিছু বুঝে উঠার আগে ঠাস করে ছেলের একটা থাপ্পর বসিয়ে দিলেন,,, আরহাম চোখ তুলে মায়ের দিকে তাকালো,,,আমিনা বেগম চেঁচিয়ে বলে উঠলেন
_ শান্তি হয়েছে তোর মেয়েটাকে মেরে,,,
মায়ের মুখে এমন কথা শুনে উপর দিয়ে স্বাভাবিক দেখালেও হঠাৎ করে আরহামের বুকটা চিবি মেরে আসলো,,সে নিজেও জানে না কেন,,,
_ কি হলো কথা বলছিস না কেন শান্তি হয়েছে তাই না
আরহাম মাথা ঝুঁকিয়ে বললো
_ হ্যাঁ,,,,
আমিনা বেগম আবারো ঠাস করে ছেলের গালে থাপ্পড় বসালেন রাগে ক্ষোপে ফেটে পড়ে বললেন
_ কেন এমন করলি,,, তুই কি জানতি না নুবা এরকম না,,,আমি এখনো জোর দিয়ে বলবো নুবা এই সব করেনি,,,কেন তুই মেয়েটাকে অমানুষের মতো মারলি,,কেন,,একটু মায়া হলো না,,,
আরহাম রেগে উঠে বললো
_ কারণ আমি নিজে চোখে দেখেছি,,যখন রুমে গেয়েছি তখন দেখেছি আমি ও গ্যাসলাইট করে হাতে নিয়ে আমার কলিজার হাত পুড়ানোর চেষ্টা করছিলো,,আর আমার মেয়েটা গলা কাটা মুরগীর মতো ছটফট করছিলো,,,ওর একটুও মায়া হয়নি আমার কেন হবে,,,
আমিনা বেগম হতভম্ব হয়ে গেলো,,তবু নুবার সাইড নিয়ে বললো
_ সবসময় চোখের দেখা সঠিক হয় না আরহাম,,
_ আমি কিছু জানি না,,,আমি যা দেখেছি তাই সঠিক,,,
আমিনা বেগম উত্তেজিত হয়ে বললেন
_ করলেও করতো,,তাই বলে তুই ওকে এভাবে মারবি
আরহাম ক্ষেপে উঠলো রাগি কন্ঠে বললো
_ করলেও করতো মানে,,ও করবে আর আমি ছেড়ে দিবো
আমিনা বেগম চিৎকার করে বললো
_ আরহাম,,,ওই মেয়ে কিছু হয় না তোর,,কোন অধিকারে গায়ে হাত তুলেছিস,, সেদিন মেহেরিমাকে মেরেছিস তাও মেনে নেওয়ার মতো কারণ ও তোর বোন ছিলো,, কিন্তু নুবা তোর কি হয়,,,কোন অধিকারে মারলি,, একজন পরপুরুষ হয়ে কেন তুই একটা বেগানা নারীর গায়ে হাত দিবো তাও এভাবে,,, তুই হয়তোবা ভুলে যাচ্ছিস ওই মেয়েটা তোর বাচ্চাটাকে আগলে নিয়েছিলো কোনো স্বার্থ ব্যতিত সেটা ভেবেও তো__
আরহামের কপালের রোগ ফুলে উঠলো,,অনেকটা চেঁচিয়ে উঠে বললো
_হ্যা যা করছে ভালো করছে তাই বলে ও দোষ করে ছাড় পাবে,,আর পরের মেয়ের জন্য তুমি আমার উপর চেচাচ্ছো,,,ওকে মারলাম এটা চোখে পড়লো কিন্তু ও যে আমার নিষ্পাপ বাচ্চাটাকে গোপনে আঘাত হানলো সেটা চোখে পড়লো না,,আমার সন্তানের চোখের পানি চোখে পড়লো না,,,
আমিনা বেগম ছেলের শার্টের কলার চেপে ধরে বললো
_ পরের মেয়ে না ও,,এই বাড়ির মেয়ে,,তোর বাবা নিজ দায়িত্বে ওকে এই বাড়িতে এনেছিলো নিজের ছোট মেয়ের পদবি দিয়েছিলো,,আর তুই,,,,এবার তোর বাপ কি করবে আমি নিজেও জানি না,,যদি তোকে মেরেও ফেলে তাও আমি কিছু করতে পারবো না,,
আমিনা বেগমের কথায় আরহাম কিছুটা হেসে উঠে বললো
_ তোমার জামাইকে যা ইচ্ছে তাই করতে বলো,,,দেখি শরীরে কার দম বেশি,,আসতে বলো ওই হারুন মির্জাকে,,,
আমিনা বেগম চিৎকার করে উঠলেন
_ আরহাম,,বাপ হয় তোর,
_ মানি না আমি,,,আর এটা তুমি ভালো মতোই জানো,,,
আমিনা বেগমের চোখ ভরে উঠলো কাতর কন্ঠে বললো
_ আজ যদি তোর মেয়ে বড় হয়ে এই কথা বলে তোর কেমন লাগবে বল তো,,
আরহাম জিভ দিয়ে গাল ঠেলে ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বললো
_ সেই সুযোগ আমি রাখবো না mom,, আমার মেয়ে আমার রাজ্যের রাজকন্যা হবে,,ও যা চাইবে তা পাবে,,আমি তোমার জামাইকে দেখিয়ে দিবো একজন best পাপা কি করে হতে হয়,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো বিরবির করে বললো
_ মেয়ের চোখে best হতে যেএ বাকি সবার চোখে নিচে নেমে যাস না,,মনে রাখিস যাকে আজ তুই আঘাত করলি সেও কারো মেয়ে,,তার মায়ের চোখের পানি গুলো কিন্তু বিথা যাবে না,,,কখন কার অভিশাপ লেগে যায় বলা যায় না রে বাবা,,,,আর কি পেলি ওকে আহত করে,,,তোর অসুস্থ মেয়ে কি সুস্থ হয়ে গেছে,, হ্যাঁ বল,, সুস্থ হয়েছে,,আয়রার পুরা হাত ঠিক হয়ে গেছে,,মেয়েটাকে মেরে সব ঠিক হয়ে গেছে
আরহাম কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো
_ কিছু ঠিক না হলেও,,বেশ হয়েছে,, দ্বিতীয় বার এই কাজ কররা সাহস পাবে না
_ তাই বলে মেয়েটাকে মেরেই ফেলবি,,,এতোটা,,,এতোটা আরহাম,, তুই নিজের কাছে জিজ্ঞেস করতো,, তুই এটা ঠিক করেছিস কিনা,,তোর বিবেক বলতে কিছু আছেরে,,,
আরহাম চুপ রইলো,,আমিনা বেগম চোখের পানি মুছে বললেন
_ অনুষ্ঠান শেষে হলেই তুই তোর মেয়েকে নিয়ে চলে যাবি,,আজ বলতে হচ্ছে তোকে ডেকে আমি ভুল করেছি,,, অনেক বড় ভুল,,, অনেক বড়,,এতো দিন তোর সাথে সাই দিলেও আজ তোকে নিজের ছেলে বলতে লজ্জা হচ্ছে,,, সত্যিই লজ্জা হচ্ছে,,,
বলেই আমিনা বেগম রুম থেকে বেড় হয়ে গেলেন,, আরহাম দাঁতে দাঁত চেপে তার মায়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো,,,,বুকটা চিনচিন করছে তার শেষ পর্যন্ত তার মা এই কথা বলে গেলো,,, কিন্তু আরহাম কি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ,,
আরহাম রুম থেকে বেড় হয়ে তার মায়ের যাওয়ার পানে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো
_ mom তুমি ভুলে যাচ্ছো এই বাড়ি আমার নামে লেখা,,, সবকিছু আমার,,,আমি কোথাও যাচ্ছি না,,
বলেই আরহাম রুমে চলে আসলো,,আমিনা বেগম পিছন ফিরে তাকালেন,,ছেলের কন্ঠ শুনে বুঝতে পারলেন ছেলে তার কষ্ট পেয়েছে,,
নুবা টিপটিপ করে আশে পাশে তাকিয়ে দেখছে,,,তার পুরো শরীর অবাশ হয়ে আছে,,,তার সব থেকে বড় দুঃখ একজন পরপুরুষের হাতে এভাবে মার খেলো সে,,যেখানে তার কোনো দোষি ছিলো না,,
আমিনা বেগমের মাথা ঠিক নেই,,,পরশু অনুষ্ঠান আর আজ এই অবস্থা কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না,,একটু আগেই বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে এসেছে সে,,,
আমিনা বেগম কেবিনে ডুকে মৃদু কন্ঠে বললেন
_ আরশি,,চাচি আর মামিকে নিয়ে বাসায় যা,,আমি রাতে থাকবো,,,
_ কিন্তু মা,, তুমি কি একা পারবে
_ এতো মানুষ থাকতে হবে না,,সবাই এখানে থাকলে বাড়িতে সামলাবে কে,,, নতুন বউ বাড়িতে কি ভাববে,,
ওরা কিছু সময় বসে চলে গেলো,,আমিনা বেগম ক্লান্ত হাজেরার দিকে তাকালেন,,আমিনা বেগম বাটি থেকে খাবার খুলে প্লেটে বাড়ালেন,,,
এর ভিতরে উপস্থিত হলো রিহান,, হারুন মির্জা আসতে চেয়েছিলো কিন্তু রিহানা আসতে দেয়নি,,, হারুন মির্জা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এই অবস্থায় এখানে থাকা উচিত হবে না তাই রিহান নিজ ইচ্ছায় এসেছে,, বিশেষ করে আরশি তাকে সবার খেলায় রাখার জন্য পাঠিয়েছে,,, একজন পুরুষ ছেলে পাশে থাকলে ভালো,,কখন কি লাগে বলা তো যায় না,,
রিহান এসে প্রবেশ করতেই আমিনা বেগম বলে উঠলো
_ তুই আসতে গেলি কেন,,,
রিহান মৃদু কন্ঠে বললো
_খালু আসতে চাইছিলো,, কিন্তু অন্ততপক্ষে একজন বাড়ির কর্তা বাড়িতে থাকলে ভালো হয় তাই খালুকে আসতে দেয়নি,,আমি আসলাম,,,
_খেয়েছিস,,,
_ না,,,
_ খাবার নিয়ে এসেছি খেএ নে,,,
_না খালা মনি,,,আমি খাবো না,,পেট ভরা,,,
আমিনা ভাত বেড়ে রিহানের সামনে দিয়ে বললো
_ খেএ নে,,মাথা ঠিক নেই তর্ক করতে ইচ্ছে হচ্ছে না,,,
পরপর আমিনা বেগম আর এক প্লেটে ভার বেড়ে হাজেরার দিকে কম্পিত হাতে এগিয়ে দিলো,,, কিছু খন সময় নিয়ে বললো
_ দুপুরে হয়তোবা কিছু খাওনি খেএ নেও,,,
হাজেরা উত্তর দিলো না,,,আমিনার দিকে ফিরেও তাকালো না,,আমিনা বেগম বুঝতে পারলো,হাজেরা অনেক ক্ষেপে আছে তাদের উপর,,,
আমিনা বেগম এবার ভাঙ্গা কন্ঠে বললেন
_ খাবারের উপর রাগ করতে নেই হাজেরা,,
(বরাবরই হাজেরা আমিনা বেগম থেমে অনেকটাই ছোটো,, যেমন ছোটো বোনের মতো)
হাজেরা ভাতের থাল সরিয়ে দিলো বিরবির করে গম্ভীর কন্ঠে বললো
_ আপনার সন্তানের এই অবস্থা থাকলে আপনার মুখে ভাতের দানা তুলতে ইচ্ছে হতো আপা,,,গলা দিয়ে খাবার নামতো,,,
বলেই আমিনার দিকে তাকালো,,,আমিনা বেগম কম্পিত কন্ঠে বললেন
_সেটা না হয় পড়েই দেখো,,সময় তো পার হয়ে যাচ্ছে না,,আরশির আব্বু বলেছে আরহামকে তার ন্যায্য শাস্তি দিবে,,,
হাজেরা বেগম কুটিল হাসলো,, ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
_ তাই নাকি,,তা শাস্তি দিয়ে আমার মেয়েকে সুস্থ করতে পারবেন,,,
আমিনা বেগম চুপ রইলো,,পরপর তার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো,,বিরবির করে বললো
_ তা হয়তোবা না,, কিন্তু ভবিষ্যতে এমন যাতে না হয় সেটা তো দেখতে হবে
_ আপনি কি ভাবছেন,,এতো কিছুর পরেও আমি আমার মেয়েকে ওই বাড়িতে রাখবো,, দরকার পড়লে ভিক্ষে করে খাবো,,তাও আমার মেয়েকে ওই বাড়িতে রাখবো না,,,
আমিনা বেগম ফট করে হাজেরার দিকে তাকালেন,,হাজেরার মুখে রাগের ছাপ,,
আমিনা বেগম চোখের পানি মুছে বললেন
_ সবি কপাল জানো তো হাজেরা,,,সবার কাথে স্বার্থপর আমি,, শুধু ছেলের কথা ভাবি,, কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি ছেলেকে সুধরানোর কম চেষ্টা করিনি,,প্রথম সন্তান তো তাই একটু বেশি মায়া হয়,,তবে এবার থেকে ছাড় দিবো না,,, হয়তোবা অনুষ্ঠান শেষে হলে আরহাম চলে যাবে,,তখন তো আর সমস্যা হবে না তাই না,,
হাজেরা মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললো
_ আমার মেয়েটার দোষ কি ছিলো আপা,,,আর বাড়ি ছেড়ে গেলেই কি সব ঠিক হয়ে যাবে,,,সব না হয় ঠিকি হলো তবে আয়রা,,, পারবেন ওকে ছাড়া থাকতে,,, আফসোস হয় আমার কেন যে মেয়েটা সেদিন আমার কথা শুনলো না,,,
আমিনা বেগম আর পারলো না,,,একটা অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করে বসলো,,,যা হাজেরা ধারনা করতে পারলো না,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৩
আমিনা বেগম যেএ হাজেরার পায়ের কাছে বসে পড়লো,,হু হু করে কেঁদে উঠে বললো
_ জানি আমাদের উপর খুব
ননফলোয়ার রা ফলো করলে লেখিকা ভীষণ খুশি হবে
