Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪০

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪০

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪০
সুরাইয়া জিয়াসমিন

নুবা হাঁটুতে মুখ গুঁজে অনুভূতি শূন্য হয়ে বললো
_ এতে আমার কি করার আপু,,
আরশি ডুকরে কেঁদে উঠলো,, হয়তোবা কখনোই ভাইকে সামনে থেকে দেখেনি সে,, সম্পর্ক তাদের ভালো না তবে রক্ত তো,,তার এতো খারাপ লাগছে যা বুঝাতে পারবে না সে,,,
আরশির কান্না শুনে নুবা চখো তুলে আরশির দিকে তাকালো,,আরশি কাতর কন্ঠে বললো
_বাবাকে তো তুই চিনিস,,আমারা কেউ কিছু বললে আমাদেরো ছেড়ে দিবে না,,ঘটনাটা যেহেতু তোর সাথে ঘটেছে তুই বললে যদি থেমে যায়,,
নুবা আরশির চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো,,আরশি নুবার এক হাত ধরে মিনতি করে বললো
_আমার ভাইটার প্রতি একটু সদয় হ নুবা,,,ও তো কিছু বুঝে না ধরতে গেলে বাচ্চাই ,,,জানিস তো ওর সমস্যা please নুবা,,,
নুবা আরশির কথায় একটু হেসে বললো

_ তোমার ভাই আমার প্রতি সদয় হয়েছিলো,, কিছু না জেনে ____
পরপর থামলো নুবা,,একটু হাস্যোজ্জ্বল কাতর কন্ঠে বললো
_ কিছু বুঝে না তাই এক বাচ্চার বাপ,,সবি বুঝে তবে বিবেক নেই তোমার ভাইয়ের,,, আছে শুধু আলগা রাগ,, তেজ,,জেদ,, এবং টাকা আর শরীরের জোর,,,
আরশি থমকালো নুবার কাঠ কাঠ কন্ঠ শুনে আরো নুইয়ে পড়লো আরশি,,পরপর আয়রার দিকে এ পলক তাকিয়ে কম্পিত কন্ঠে বললো
_ তুই তো জানিস এই ছোট্ট বাচ্চার আমার ভাই ছাড়া কেউ নেই,,ওর যদি কিছু হয়ে যায় আয়রা এতিম হয়ে যাবে,,,আয়ারার কথা ভেবে হলেও ওকে মাফ করে দে,,,না না মাফ করার কথা বলবো না দয়া কর একটু,,,
নুবা আয়ারর কথা শুনে ফিরে তাকালো এতো সময় আরশি নুবার দুর্বল পয়েন্ট ধরতে পেরেছে,,নুবা আয়ারার দিকে তাকালো,,আয়রা নিষ্পাপ ভাবে নুবার দিকে তাকিয়ে আছে,,এক হাত নিচে ঝুলছে,,, এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেনো সে তার বাবার প্রতি নুবাকে সদয় হওয়ার জন্য দোয়া কামনা করছে,,,
নুবা আয়ারার হাত ছুঁয়ে উঠে দাড়াতেই হাজেরা রুমে প্রবেশ করে অর্থাৎ ওয়াশরুম থেকে বেড় হয়ে বললো

_ কোথায় যাচ্ছিস,,
নুবা মৃদু কন্ঠে বললো
_ বাইরে,,
হাজেরা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ যাওয়ার দরকার নেই,, চুপচাপ রুমে বসে থাক,,
নুবা মাথায় ওরনা টেনে বললো
_ আয়রার জন্য যাচ্ছি,,এতোটাও নির্দয় না যতটা তুমি ভাবছো,,, আমার কারনে কোনো ভাবে আয়ারা বাপের ছায়া থেকে বঞ্চিত হলে আমার পাপ লাগবে,,
অতঃপর আর কোনো কথা হলো না,,নুবা রুম থেকে বেড় হয়ে আসলো,,আরশি পিছন পিছন,,

নুবা যখনি বাগানে পা রাখলো তখনি তার শরীর কম্পিত হলো,,,ফিলে চম্কে উঠলো সে,,ঠাস করে এক যন্ত্রনা দায়ক বারির শব্দ ভেসে আসলো,,,নুবা সামনে তাকাতেই দেখলো ঝুলন্ত আরহামের মুখ দিয়ে রক্তের বমি হচ্ছে,,,বারিটা বুকে লাগায় ভীতর থেকে বেশ আঘাত পেয়েছে সে,,তাই মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে,,,
নুবার পা ওখানেই স্থির হয়ে গেলো,,ঝুলতে থাকা আরহাম মাথা নিচু করে আছে,,মুখ দিয়ে টুপ টুপ করে রক্ত পড়ছে,,,এর ভিতরে আর একটা বারি পড়তেই আমিনা বেগম চিৎকার করে উঠলেন,
__ আর মারবেন না আরশির আব্বু,,ছেলেটা আমার মরে যাবে,,,
হারুন মির্জা গড়ম চোখে স্ত্রীর দিকে তাকায়,,আমিনা ভয়ে পিছিয়ে যায়,,, কিন্তু দাঁড়াতে পারে না ওখানে,,আর এক মূহুর্ত ওখানে থাকলে সে দম আটকে মরে যাবে,,,

আমিনা বেগম এতো সময় সহ্য করে থাকলেও এবার না পেরে ছুটে বাড়ির ভিতর চলে যায়,,, প্রত্যেকটা বারিতে আরহামকে স্বরন করিয়ে দেওয়া হচ্ছে,,কোনো নারীর দেহে বিনা কারনে আঘাত করতে নেই,,,
নুবা কি করবে কিছু বুঝে উঠলো না,, সকাল থেকে এই পরিকল্পনা হয়েছে,,নুবার সবি জানা,সব তার চোখের সামনেই হতো তবে নুবা সরাসরি না করেছে,,যা ইচ্ছা তাই হোক তার কোনো যায় আসে না,,
নুবা কিছু সময় তাকিয়ে থাকতেই আরহামের চোখে চোখ পড়লো,,, আরহাম নুবাকে স্তব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,পরপর আর একটা বারি খেলো সে,,,
হঠাৎ বারি মারায় আরশির কান্না নুবার কানে ভেসে আসলো,,, হারুন মির্জার হুংকারে আয়রাও কেঁদে উঠলো,,

নুবা এবার ছুটে গেলো,,আর এক দফা বারি দেওয়ার আগেই নুবা সামনে যেএ দাঁড়ালো ,,তার পুরো শরীর তিরতির করে কাঁপছে,,, অনেক হয়েছে,, অনেক শাস্তি পেয়েছে আর না,,,
নুবা হারুন মির্জাকে থামিয়ে দিয়ে কাতর কন্ঠে বললো
_ অ,, অনেক হয়েছে,,আর না,,আমি চাই টা এটা আরো বেশি সময় হোক,, please চাচা,,,এবার থামুন,,,
হারুন মির্জা রাগি সাথে কাতর কন্ঠে বললেন,,
_ আর কয়টা বারি না খেলে বারবার ও ভুলে যাবে কোনো মেয়ে মানুষের গায়ে হাত দেওয়ার পরিনতি কি,,,,
আরহাম হারুন মির্জার কথা শুনে শব্দ করে হেসে ক্লান্ত কন্ঠে বললো ,,
_ যে ব্যক্তি নিজের স্ত্রী সন্তানের গায়ে হাত তুলে সে আবার আমাকে শিক্ষা দিচ্ছে,,,How Radiculous

হারুন মির্জা ক্ষেপে আবারো এগিয়ে যায় মারার জন্য,,,তবে নুবা আটকে নেয়,, হারুন মির্জা রাগে গজগজ করতে করতে বলেন
_ তোর থেকে শিখবো আমি হারামজাদা,,,তোর থেকে,,তোর তো নিজেরি জ্ঞান নেই,,,বাল ছাড়া বেডা মানুষ হয়েছো তুমি,,
এখানে বাল বলতে (জ্ঞান)বুঝিয়েছে হারুন মির্জা তবে,,আরহাম কি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ,,সে এক গাদা রক্তে ভিজা থুথু নিচে ফেলে বললো
_ বাল ছাড়া বেডা মানুষ হলে এক বাচ্চার জন্ম কি করে দিলাম,,,চোখ না চুলা আমার মেয়েকে কি চোখে পড়ে না,,,

নুবা বাপ ছেলের কথা বার্তায় নিজে হতভম্ব হয়ে গেলো,,, হারুন মির্জা কখনোই উত্তেজিত অথবা গালি দেননা তবে পরিবারের সাথে এটা একদমি ব্যক্তিগত,,, কিন্তু আজ দুই বাপ ছেলের কথা শুনে নুবার কান গড়ম হয়ে যাচ্ছে,,, আরহাম আসলেই একটা মুখ কাটা মানুষ,,মুখে যা আসে তাই বলে ফেলে,,,
নুবা তাও সাহস করে হারুন মির্জাকে থামিয়ে বললো
_ আর একটাও আঘাত করবেন না চাচা,, অনেক হয়েছে,, সবকিছু ভুল বুঝাবুঝির মাধ্যমে হয়েছে,,আর তার থেকেও বড় কথা উনি মানুসিক ভাবে অসুস্থ,, আপনার বুঝতে হবে,,,
হারুন মির্জা এক পলক ছেলের দিকে তাকিয়ে হাত থেকে চলা কাঠ ফেলে রাগি কন্ঠে বললো
_ আজ সারা রাত ও এখানেই ঝুলে থাকবে,,যে ওকে নামানোর চেষ্টা করবে সেও সাথে ঝুলবে,,,
বলেই হারুন মির্জা গটগট করে চলে গেলেন,,,
পরপর সবাই চলে গেলো,,রয়ে গেলো আরশি,,আয়রা আর নুবা,,
নুবা এক পলক আরহামের দিকে তাকালো তবে তার অবস্থা দেখে নুবার শরীর কাটা দিয়ে উঠলো,,, আরহাম মুখ তুলে তার দিকে তাকাতেই নুবা আরো ধীরো চোখে আরহামের দিকে তাকালো,,, ঠিক যেভাবে সে আরহাকে দেখতে চেয়েছিলো ,যেই শাস্তি পাওয়ার কথা ছিলো সেটাই সে পেয়েছে তবে নুবার এতো খারাপ লাগছে কেন,,,

হয়তোবা নুবার শরীরের যখন গুলো ভরপুর হয়ে গেছে তাই এমন হচ্ছে,,লোকটার জন্য এতো খারাপ লাগছে কারন আরহাম তো তার কোনো আপন মানুষ না যে মনের খত রয়ে যাবে,,প্রায় অপরিচিত তারা,,,এখানে মনে দাগ লাগার কথাই আসে না,,,,
নুবা চোখ সরিয়ে নিতেই আরহাম বিরবির করে বলে উঠলো,,
_‌ চোখ সরিয়ে নেওয়ার মতো দুঃসাহস করবেন না মিসেস নুবাইরা রহমান (***),,
নুবা ফট করে তাকালো আরহামের দিকে,,, ঠোঁট হেলিয়ে বললো
_ মিস,,,মিস নুবাইরা রহমান,,,
আরহাম ফিকে হেসে বললো
_ বয়স তো আর কম হয়নি,,, কয়দিন পর মিসেস হয়ে যাবেন তাই না,, মিস্ থেকে মিসেস হতে কত সময়,,,
নুবা কিছু সময় চুপ থেকে শান্ত কন্ঠে বললো
_ সেটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার,,
বলেই নুবা সরে যেতে চাইলো ওই স্থান থেকে,,,তবে আরহাম কেমন অদ্ভুত কন্ঠে বলে উঠলো
_ You seem at peace, I presented myself the way you wanted me to be.

নুবার চোখের পলক বন্ধ হয়ে গেলো,,পরপর আরহামের দিকে ফিরে তাকালো আরহাম ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো
_ চোখের শান্তি মিলছে তো মিস,,,আপনি আমাকে যেভাবে দেখতে চেয়েছিলাম আমি ঠিক সেই ভাবেই আপনার সামনে,,by the way,,আপনার যদি মনের তৃপ্তি না হয় তবে দেখুন “নিচে পড়ে আছে কাঠ উঠিয়ে বারি দিন ঠাস ঠাস”,,,, i don’t mind (ঠাট্টা করে বললো আরহাম,,তার কন্ঠ সুর বঙ্গ যেনো সে এই বিষয় নিচে খুবি মজা পাচ্ছে)
নুবা শুধু চেয়ে রইলো,,,এতো মার খাওয়ার পড়েও পেট ভরেনি,,,এই বয়সে এসে বাপের হাত মার খাচ্ছে তাও লজ্জা হচ্ছে না,,,
আরহাম নুবাকে চুপ থাকতে আবারো বলে উঠলো,,,
_যদি আপনার মনে হয় কম হয়ে গেছে তবে আপনি নিজের মতো তৃপ্তি সহকারে মনের শান্তি পেতে পারেন,, আপনাকে কেউ বাধা দিবে না,,,
নুবা আরফামের কথায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে যেতে বললো
_ আপনার মতো অমানুষ নই আমি,,,

আরহাম বিরবির করে উচ্চারণ করলো “অমানুষ”পরপর কান্না রত আরশির দিকে তাকিয়ে মেয়েকে নিয়ে তার কাছে আসতে বললো
আরশি ভাই এর কাছে এগিয়ে যেএ একটা চেয়ের নিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আয়রাকে এগিয়ে দিলো,, এদিকে আয়রা আরহামের দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে,,,
আরহাম ঠোঁটে ফাঁকা হাসি রেখে মেয়ের গালে চুমু দিয়ে বললো
_ পাপা আজকে সারাদিন কোলে নেয়নি রাগ করে আছেন,,,আপনি তো জানেন পাপা কতটা পঁচা কাজ করেছে সেটারি শাস্তি ভোগ করছে,,, but don’t worry ,,কাল থেকে সারাদিন আপনাকে কোলে রাখবো,,,,এখন যেএ ঘুমিয়ে থাকেন,,,
পরপর আবার মেয়ের গালে চুমু খেলো আরহাম,,তার মুখের রক্ত কিছুটা আয়রার গালে লেগে গেলো,,, এদিকে আরশিকে ফুপাতে দেখে আরহাম শান্ত কন্ঠে বললো
_ Why are you crying?What am I to you that you cry for me?
আরশি আরো ফুঁপিয়ে উঠলো,,,,এই মানুষ টা কেউ হয় না তার,,,আসলেই কেউ হয় না,,তবে বড় ভাই হয় রক্তের,,,কারো মন থাকলে কষ্ট লাগাই স্বাভাবিক,,,

আরহাম আরশির কান্না দেখে মনে মনে হাসলো,,যাক সে মরে গেলে তার মা ব্যতিত আর একটা মানুষ পেলো যে তার জন্য কান্না করব,,ভেবেই আরহামের শান্তি লাগলো,,, আরহাম কান্ত কন্ঠে বললো
_ ওকে (আয়রাকে) নিয়ে যাও,,, তোমার কাছেই রাখবে,,আশা রাখছি আমার মেয়েটার খেলায় রাখবে,,
আরশি শুধু মাথা ঝুকায়,,এর থেকে বেশি কিছু বলার নেই,,,আর না করার,,,,

তখন প্রায় সন্ধ্যা,,,হাজেরা তানিয়ার হাতে হাতে কাজ করে দিচ্ছে,, এমন সময় আমিনা বেগম রান্না ঘড়ে প্রবেশ করলেন,,,হাজেরা আমিনাকে দেখে মৃদু কন্ঠে বললেন
_ কিছু লাগবে আপা ,,
আমিনা বেগম কিছু সময় চুপ থেকে বললো
_ আজ বিকালে কোথাও গেছিলি হাজেরা,, তোমাকে যে দেখলাম না,,
হাজেরা কাজ করতে করতে বললো
_ হো আপা,,,কাজ খুঁজতে গেছিলাম,,
আমিনার বুকটা ছ্যাত করে উঠলো তাও নিজেকে সামলিয়ে বললো
_ তার মানে যাওয়ার পায়েতারা তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করছো
_ যা ভাববেন আপা,,,তাই সঠিক,,,
আমিনা কি বলবে বুঝে পেলো না তাই নিরব কন্ঠে বললো
_ সামনে নুবার HSC এই সময়ে_____
_ সমস্যা নেই আপা,,যেখানেই থাকি না কেন মেয়েটার পরিক্ষা দিয়াবো,,
আমিনা আর কি বলবে তাই দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চাপা কন্ঠে বললো
_ বাড়িতে এতোও কাজ না হাজেরা,, তুমি রাখো তানিয়া করে নিবেনে,,
হাজেরা হাতের কাজ টুকু সারতে সারতে বললো
_ যতদিন এই বাড়িতে আছি করতে তো হবেই,,,বসে বসে খেলে কি হবে,,,
আমিনা নিরব হলো তবে অসহায় কন্ঠে বললো
_ কখনো কি তোমাকে কিছু করতে বলেছি,,তুমিই তো,,,(একটু থামলো আমিনা অতঃপর আবারো বললো) তুমি আস্থা দিয়েছো বলেই বাড়িতে কাউকে রাখিনি,,,তবে কখনো কি তোমাকে জোর করেছি,,
হাজেরা চুপ রইলো,,কোনো উত্তর দিলো না,, কিছু বলার নেই তার কাছে,,,আসলেই সেই এই সব দায়িত্ব নিয়েছে,,এই বাড়ির কেউ তার উপর চাপিয়ে দেয়নি,,

আরহাম এখনো ঝুলছে,, ব্যথায় তার শরীর টনটন করছে,,,চোখ দুটো বন্ধ হয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে যাচ্ছে,,মনে হচ্ছে পেশিবহুল হাতের ডানা গুলো এখনি ছিরে ভারি দেহটা নিচে পরে যাবে,,
আরশি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আরহামের দিকে নিষ্পাপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে,,, বারান্দা থেকে স্পষ্ট তার ভাইকে সে দেখতে পারছে,,,
আমিনা বেগম চুপচাপ বসে আছে,,এখন ছেলেকে একবার দেখলেই তার ইচ্ছা হবে মানিক টাকে বুকে টেনে নিতে,,, হারুন মির্জা সেই এসে রুমে ঢুকেছেন আর বেড় হননি,,,
এদিকে আরফ আর ইশিতা এই সব কিছু থেকে দূরে চুপচাপ নিজেদের ব্যক্তিগত সময় কাটাচ্ছে,,,
সবাই সবার মতো,,তবে সবার মনি ক্ষুত ক্ষুত করছে,,কারো মন কোনো কাজে বসছে না,,,
হঠাৎ করেই আম গাছের পাতা গুলো বাতাসে নড়ে উঠলো,,আকাশ ধীরে ধীরে কালো মেঘে ঢেকে গেল।
চারপাশে এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো, যেন প্রকৃতি কোনো অশনি সংকেত দিচ্ছে।দূরে কোথাও মৃদু গর্জন করে উঠল মেঘ।গাছের পাতাগুলো বাতাসের তীব্র ঝাপটায় কাঁপতে শুরু করল।
মুহূর্তেই চারদিক অন্ধকার হয়ে এলো, মনে হলো প্রবল ঝড় নেমে আসতে আর বেশি দেরি নেই।
প্রকৃতি যেন তার সমস্ত শক্তি নিয়ে এক ভয়ংকর রূপ ধারণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ,,,

গাছের পাতা নড়ার শব্দে আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হাসলো,,পরপর গুনগুন করে গানের সুর ধরলো,,
_ওরে নীল দরিয়া আমায় দেরে দে ছাড়িয়া বন্দী হইয়া মনোয়া পাখি, হায়রে কান্দে রইয়া রইয়া।
কাছের মানুষ দুরে থুইয়া, মরি আমি ধড়-ফড়াইয়া, রে দারুণ জ্বালা দিবানিশি অন্তরে অন্তরে আমার এত সাধের মন বধূয়া হায়রে কি জানি কি করে
ওরে সাম্পানের নাইয়া, আমায় দেরে দে ভিড়াইয়া বন্দী হইয়া মনোয়া পাখি, হায়রে কান্দে রইয়া রইয়া ওরে সাম্পানের নাইয়া
হইয়া আমি দেশান্তরী দেশ-বিদেশে ভিড়াই তরী, রে নোঙর ফেলি ঘাঁটে ঘাঁটে বন্দরে বন্দরে আমার মনের নোঙর পইড়া রইছে হায়রে সারেঙ বাড়ির ঘরে
এই না পথ ধইরা আমি কত যে গেছি চইলা একলা ঘরে মন বধূয়া আমার আমার রইছে পন্থ চাইয়া,,
ভাই এর গুন গুন কন্ঠ আরশি বারান্দা থেকে শুনে, কন্ঠ তত খারাপ না ভালোই লাগছে,,,তবে গানের প্রতিটা শব্দ আরশির বুকে যেএ লাগে,,,জানে না কেন এই পরিস্থিতি,,কেনো তার ভাই এতোটা উগ্র,,তবে সে অনুভব করে সব কিছুর পিছনে অনেক বড় একখানা কাহিনি আছে,,,

তখন রাত ১১ টা নাগাত,,,কারো চোখে ঘুম নেই,,,এই রাত করে বাড়ির একজন সদস্য বাইরে পড়ে আছে কারো চোখে কি ঘুম আসে তবে যাদের আসার তারা ঠিক ঘুমাচ্ছে,,,
নুবা জানালার কাছে দাঁড়িয়ে নিরবে আরহামের ঝুলন্ত দেহের দিকে তাকিয়ে আছে,, প্রচন্ড মায়া হচ্ছে তার,, অনেক বেশি,, এমন মূহুর্তে হাজেরা বলে উঠলো
_ এবার এসে একটু ঘুমা,,,
হাজেরা বলতে বলতে শুয়ে পড়লো,, কিন্তু নুবার মনে শান্তি নেই,,আয়রা আজ দুপুর থেকে কিছু খায়নি,,সেও সেদে যায়নি,,, হয়তোবা বাপের সোখে তারো ক্ষুধা মিটে গেছে,,,তবে একটু আগে নুবা আরশির কাছে যেএ জানতে পারে আয়ারা ঘুমাচ্ছে,,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো তবে জানালা থেকে সরে গেলো না,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৩৯

বাইরে ঝড়ের তাণ্ডব চলছে।কালো মেঘে ঢেকে গেছে পুরো আকাশটা।দমকা হাওয়ায় গাছের ডালপালা কেঁপে উঠছে বারবার।বিদ্যুতের ঝলকানি মাঝে মাঝে চারপাশ আলোকিত করে দিচ্ছে।ছাদে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ যেন এক অস্থির সুর তুলেছে।দূরে কোথাও বজ্রপাতের গর্জনে কেঁপে উঠছে চারদিক।প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ দেখে মানুষের মনেও নেমে এসেছে অজানা শঙ্কা।তবু ঝড়ের মধ্যে নতুন ভরের অপেক্ষায় আছে সবাই,,,
নুবা আর বসে থাকতে পারলো না,, অনেক হয়েছে,, বাইরে একটু পড়েই বৃষ্টি নামবে তার উপর বজ্রপাত হচ্ছে,, এভাবে বসে থাকা বড়োই কঠিন,,,সে এতোটা পাষান না,,,

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪১

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here