দাহশয্যা পর্ব ৯৬ (২)
Raiha Zubair Ripti
এই কন্ঠের মালিক টাকে মেহরিন খুব ভালো করেই চিনে। চিনে বলেই বোঝা মাত্রই দু হাত দিয়ে তার বুক ঠেলে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিলো। তারপর জোরে জোরে হাঁপাতে লাগলো। লম্পট টা দম বন্ধ করে রেখেছিল এতক্ষণ। মেহরিন মুখের উপর নিকাব টা টেনে নিয়ে খুবই কর্কশ গলায় বলল,
“ বলেছিলাম না, না আসতে? তারপরও কেনো আজ আসলেন লম্পটের মতো? ”
সোলেমানের মুখের ভঙ্গিমা কেমন হলো এই কথায় তা দেখতে পেলো না অন্ধকার থাকায় সে। তবে খুবই স্বাভাবিক গলায় শোনা গেল,
“ লম্পট আর পুরোপুরি হতে দিলে কই? শুরু হতে না হতেই তো দূরে সরিয়ে দিলে। ”
মেহরিন সামনে আসতে মানা করেছিল। সোলেমান আসে নি এত দিন। দূর থেকেই খেয়াল রেখেছে। তবে আজ মেহরিন কে একা দেখে আর নিজেকে আটকাতে পারলো না মেহরিনের থেকে নিজেকে দূরে রাখতে। সেজন্য একটু ছুঁয়ে তৃষ্ণা মিটিয়েছে।
মেহরিন হাঁটা ধরলো। সোলেমান ও পেছন পেছন আসতে লাগলো বলে মেহরিন হাঁটা থামিয়ে দিয়ে বলল,
“ কি সমস্যা আপনার? আমার পেছন পেছন আসছেন কেনো?”
“ সামনে বখাটে ছেলেদের আড্ডাখানা আছে। ”
“ তো? ”
সোলেমান বাহু টেনে বলল,
“ তো মিনস তুমি চাও তোমার দিকে তারা এগিয়ে আসুক? তোমার সাথে অভদ্রতামি করুক? ”
মেহরিন হাত সরিয়ে দিয়ে বলল,
“ একদম ছুঁবেন না আমায় কথায় কথায়। আমি কি চাই না চাই,দ্যাটস মাই বিজনেস। নট ইউ্যরস। ”
সোলেমান মেহরিনের সামনে দু হাত বুকে গুঁজে দাঁড়িয়ে বলল,
“ ও হ্যালো মিসেস মেহরিন সুলতান। অ্যাম ইউ্যর হাসবেন্ড। আই,মি,মাই বলতে তোমার ডিকশনারিতে এখন আর কোনো শব্দ নেই। আছে কেবল উই, আওয়ার আর আস। সো কথা বলার আগে ভেবেচিন্তে বলো। দ্যাটস আওয়ার বিজনেস হবে। ”
মেহরিন সোলেমান কে ধাক্কা দিয়ে নিজের সামনে থেকে সরিয়ে দিয়ে হাঁটা ধরলো। সোলেমান দৌড়ে এসে বা হাতের বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে ঠোঁটের এক সাইড টা মুছে বলল,
“ ঠোঁটে কোনো লিপগ্লস ইউজ করেছিলে নাকি আজ? দারুন একটা সুগন্ধ পেলাম তখন টেস্ট করতে গিয়ে। ”
মেহরিন বা হাতে থাকা বসুন্ধরা ট্যিসু দেখিয়ে বলল,
“ ঠান্ডা লেগেছে। নাক দিয়ে পানি পড়ছিলো। সেজন্য এই ট্যিসু দিয়ে নাক মুছেছি একটু পরপর। সেটারই ঘ্রাণ পেয়েছেন। ”
সোলেমান পেট মুখ চেপে ওয়াক ওয়াক করা শুরু করে দিলো কথাটা শুনে।
“ ছি আগে বলবা না! ধূর বাবা পেটে চলে টলে গেলো নাকি আবার তোমার সর্দি ৷ ইয়াক..!! ”
মেহরিন দাঁড়িয়ে গেলো। আবার নাক দিয়ে পানি আসলে সে সোলেমানের দিকে এগিয়ে গিয়ে মাথা ঝুঁকে সোলেমানের শার্টের নিচ প্রান্ত নিয়ে নাক টা মুছে নেয়। তারপর পকেট থেকে সোলেমানের রুমাল বের করে সেটাতেও নাক মুছে পূনরায় তার পকেটে ঢুকিয়ে দিয়ে সোজা হয়ে বলল,
“ এতই যখন ঘৃণা আমাকে দিয়ে,আসেন কেনো? আমি বলেছি আসতে? বলেছি রাত বেরোত চোর দের মতো পেছন থেকে টেনে ধরতে? বলেছি? ”
সোলেমান নিজের শার্ট টার দিকে তাকালো। গলির সামনের নিয়ন বাতির আলোয় নিচপ্রান্তটা ভিজে দেখাচ্ছে। আজই পরেছিল এই নতুন শার্ট টা। আর তার একমাত্র স্ত্রী তাতে ভালোবাসা ছাপ্পা মেরে বসিয়ে দিলো। কোনো ব্যাপার না।
সোলেমান জবাব দিলো না। মেহরিন কে তার খালার বাড়ির মোড়ের সামনে নিয়ে আসতেই তানভীর চলে আসলো। কোচিং শেষ করে ব্যাগটা কোনো রকমে বাসায় রেখেই সে বেরিয়ে পড়ে মেহরিন কে আনতে। পথিমধ্যেই দেখা হলো তাদের। মেহরিন কে দেখেই তানভীর এগিয়ে এসে বলল,
“ কোনো সমস্যা হয় নি তো তোমার আসতে আপু? ”
মেহরিন মাথা নেড়ে পিছু ফিরে একবার সোলেমান কে দেখার জন্য। তবে পিছু ফিরে চমকে উঠে। সোলেমান নেই। এতক্ষণ তো পিছু পিছুই আসতে লাগলো। তানভীর কে দেখা মাত্রই চলে গেছে তাহলে।
মেহরিন আর সোলেমানের কথা বললো না। তানভীরের সাথে হাঁটতে লাগলো। তানভীর হাঁটতে হাঁটতে জিজ্ঞেস করছে কোচিং কেমন যাচ্ছে তার। মেডিকেল এক্সামের আর বেশি দিন বাকি নেই। মেহরিন জবাব দিচ্ছে, ভালোই লাগছে তার। তানভীর আগে আগে হাঁটছে, আর পেছন পেছন কিছুটা পিছিয়ে মেহরিন।
সারি সারি লম্বা বিল্ডিং গুলোর গলি পাড় হচ্ছে তারা। তানভীর বকবক করেই যাচ্ছে আর মেহরিন অন্য কিছু ভাবছে। তানভীরের কথাগুলো তার কান অব্দি আসছে না। আসলেও তা হযবরল হয়ে গোলপাক খাচ্ছে।
পথের দু’পাশে সন্ধ্যার ব্যস্ততা। তানভীর আর মেহরিন পাশাপাশি হাঁটছিল। ঠিক তখনই সাততলা ভবনের সামনে পৌঁছাতেই ওপর থেকে আচমকা ছপাৎ করে এক বালতি ময়লা পানি এসে সোজা তানভীরের মাথা-ঘাড় বেয়ে পুরো শরীরে পড়ে গেল।
এক মুহূর্তে সে ভিজে একাকার। নাকে তীব্র দুর্গন্ধ এসে লাগতেই তার মুখ বিকৃত হয়ে গেল।
মাথা তুলে ভবনের দিকে তাকাতেই দেখতে পেল, তিনতলার একটি বারান্দা থেকে লাল রঙের পোশাক পরা এক মেয়ে হাতে খালি বালতি নিয়ে তাড়াহুড়ো করে ভেতরে ঢুকে গেল।
রাগে তানভীরের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
এদিকে মেহরিন তখনও পুরো ঘটনা বুঝে উঠতে পারেনি। হাঁটতে হাঁটতেই তানভীরের সামনে এসে থেমে বলল,
“এই, দাঁড়িয়ে পড়লি কেন? আর এমন বিশ্রী গন্ধ আসছে কোথা থেকে?”
তানভীর নিজের ভেজা জামার দিকে আঙুল দেখিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“অন্ধ নাকি? চোখে দেখছো না? কোন আক্কেলহীন মানুষ যেন ওপর থেকে ময়লা পানি ঢেলে দিয়েছে আমার গায়ে! রাস্তা কি ডাস্টবিন নাকি? চলো তো, বিচার করে আসি।”
কথা শেষ করেই সে দ্রুত ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ল। মেহরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার পেছনেই গেল।
তিনতলায় উঠে যে ফ্ল্যাটের বারান্দা থেকে মেয়েটিকে দেখেছিল, সেই দরজার সামনে গিয়ে কলিংবেল চাপল তানভীর।
কিছুক্ষণ পর দরজা খুললেন মধ্যবয়সী এক মহিলা।
দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তানভীরের ভেজা কাপড় থেকে আসা দুর্গন্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ল। মহিলা কপাল কুঁচকে তাকালেন।
“জি, কাকে চাই?”
তানভীর কোনো ভূমিকা না করেই বলল,
“আপনাদের কি একটুও কমনসেন্স নেই? রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাফেরা করে, সেটা জানেন?”
মহিলা বিস্ময়ে চোখ বড় করে বললেন,
“এই ছেলে, কীভাবে কথা বলছ? কী হয়েছে?”
তানভীর নিজের জামা দেখিয়ে বলল,
“আমি আমার বোনকে নিয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন আপনাদের বারান্দা থেকে এক বালতি ময়লা পানি আমার গায়ে ফেলা হয়েছে। আমি নিজের চোখে দেখেছি, লাল জামা পরা একটা মেয়ে দৌড়ে ভেতরে ঢুকেছে। ডেকে আনুন তাকে। চড়িয়ে ম্যানার্স শিখিয়ে দিয়ে যাই। ”
মহিলা প্রথমে বিরক্ত হলেও ছেলেটার অবস্থা দেখে মুখ নরম হয়ে এল।
“সম্ভবত আমার মেয়েই করেছে। আমি ওকে বকছি। সত্যিই দুঃখিত বাবা।”
তানভীর শান্ত হলো না।
“শুধু বকব বললে হবে না। আমার সামনে ডাকুন। অন্তত বুঝুক, এমন কাজ কত বড় ভুল।”
মহিলা অস্বস্তিতে পড়ে মেয়ের ঘরের সামনে গিয়ে ডাকলেন,
“জোনাকি! দরজা খোল। কী কাণ্ড করেছিস তুই? দরজা না খুললে কিন্তু তোর বাবাকে সব বলে দেব।”
বাবা শব্দটা শুনতেই ভেতর থেকে আস্তে করে দরজা খুলল। জোনাকির মুখটা একেবারে শুকিয়ে গেছে।
দুপুরে সে তাদের আদরের বিড়াল পুচি কে গোসল করিয়েছিল। সেই নোংরা পানি বালতিতে রেখেই ভুলে গিয়েছিল। সন্ধ্যায় হঠাৎ মনে পড়তেই ভেবেছিল মা দেখলে বকবে। তাই না দেখে-শুনেই বারান্দা থেকে ঢেলে দিয়েছিল। নিচে কেউ আছে, সেটা খেয়ালই করেনি।
মেয়েটি ধীরে ধীরে সামনে এসে মাথা নিচু করল। তার মা বললেন,
“আগে ক্ষমা চাও।”
জোনাকি বাধ্য মেয়ের মতো নিচু স্বরে বলল,
“সরি আঙ্কেল। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি সত্যিই খেয়াল করিনি…”
আঙ্কেল শব্দটা শুনেই তানভীরের মুখ আরও কালো হয়ে গেল। সে ভ্রু কুঁচকে বলল,
“এক মিনিট… আমার বয়স দেখে আমাকে আঙ্কেল ডাকলে?”
জোনাকি আরও অপ্রস্তুত হয়ে গেল।
“স-সরি… ভাইয়া…”
তানভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“আচ্ছা, সেটা বাদ দাও। কীসের পানি ছিল ওটা?”
জোনাকি নিষ্পাপ মুখে উত্তর দিল,
“পুচির গোসলের পানি। হাগু করে শরীর মেখে ফেলেছিল, তাই গোসল করিয়েছিলাম…”
কথাটা শেষ হতে না হতেই তানভীরের মুখের রং পাল্টে গেল।
“কী… কী বললে?”
ঠিক তখনই মিউ মিউ করতে করতে তুলোর মতো সাদা একটা বিড়াল এসে জোনাকির পায়ের সঙ্গে গা ঘষতে লাগল। জোনাকি তাকে কোলে তুলে নিয়ে লজ্জিত মুখে বলল,
“এই যে, পুচি। বাবা জানলে খুব রাগ করবেন। উনি বাড়িতে বিড়াল-কুকুর একদম সহ্য করতে পারেন না। তাই ভয় পেয়ে তাড়াহুড়ো করে পানি ফেলেছিলাম। বিশ্বাস করুন, ইচ্ছে করে করিনি। প্লিজ, বাবাকে কিছু বলবেন না।”
তানভীর বিড়ালের দিকে, তারপর নিজের জামার দিকে তাকাল। পরের মুহূর্তেই তার গা গুলিয়ে উঠল।সে মুখ চেপে পাশের সিঁড়ির দিকে ছুটে গিয়ে বমি করতে শুরু করল। মেহরিন তাড়াতাড়ি তার পিঠে হাত বুলিয়ে বলল,
“এই! ঠিক আছিস?”
তানভীর কাঁপা গলায় বলল,
“ওই… ওই বিড়ালের হাগুর পানি… আমার মুখের ওপর দিয়েও পড়েছে…”
আবারও তার বমি শুরু হয়ে গেল। জোনাকি ভয়ে প্রায় কেঁদে ফেলল। মেহরিন অসহায় মুখে বলল,
“আচ্ছা, হয়েছে। এরপর থেকে একটু দেখে-শুনে কাজ করবেন। চল, তানভীর। এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে তুই আরও অসুস্থ হয়ে যাবি।”
প্রায় টেনেহিঁচড়ে সে তানভীরকে নিচে নিয়ে এল।
পুরো রাস্তা জুড়েই তানভীরের বমি বমি ভাব থামল না। বাসায় ফিরেই সে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।ভেজা জামাকাপড় সব ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে ঝরনার নিচে দাঁড়িয়ে একের পর এক সাবান আর বডিওয়াশ দিয়ে শরীর ঘষতে লাগল। যেন যত ঘষছে, ততই তার মনে হচ্ছে দুর্গন্ধটা শরীর থেকে যাচ্ছে না। বারবার মুখ ধুচ্ছে, কুলি করছে, তবু মনে হচ্ছে নাকে সেই গন্ধই লেগে আছে।প্রায় চার ঘণ্টা পরও সে স্বাভাবিক হতে পারল না। ঘৃণা আর মানসিক ধাক্কায় তার বারবার বমি হচ্ছিল। শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিল, মাথাও ঘুরতে শুরু করল।
তানজিলা বেগম ভয়ে বলে উঠলো,
“ আমার পোলাডা সন্ধ্যার আগেও তো ঠিক ছিলো রে মেহরিন৷ কি এমন হইলো? এমন করে কেন? ”
মেহরিন সবটা বললো। সব শুনে বাতাসির পেট ফেটে যাবে হাসির ঠেলায়। কিন্তু হাসলো না তানজিলা বেগম থাকায়।
তানভীরের এমন অবস্থা হলো যে শেষ পর্যন্ত পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হলো। চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানালেন, শারীরিক কোনো বড় সমস্যা হয়নি,অতিরিক্ত ঘৃণা, মানসিক ধাক্কা এবং বারবার বমির কারণেই তার এই অবস্থা হয়েছে। কয়েক বোতল স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে তানভীরের অবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করলে তানজিলা বেগম জোনাকি দের বাড়ি গিয়ে জোনাকির বাবা ও মা কে অনেক কথা শুনিয়ে এসেছে৷ তানভীর ছেলেটার শরীর ভরা অনেক ঘৃণা। ভাতে সামান্য চুল পেলেই সেই প্লেটে আর ভাত খায় না নতুন করে ভাত রেঁধে অন্য প্লেটে দিতে হয়। কারো গ্লাসে পানি খায় না। তার সব কিছু আলাদা।
জোনাকির বাবা জালাল উদ্দীন মেয়েকে বকে সেই বিড়াল টা বের করে দিয়েছে বাসা থেকে। জোনাকির খুব রাগ হলো ঐ তানভীরের উপর। দাদির রুমে গিয়ে খুব কাঁদল। আর বললো অসভ্য লোক,আপনি আর জীবনেও সুস্থ না হন৷ আমার পুচুউউউ।
বাতাসির টেস্ট পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তাকে এখন প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। আজও এসেছে। ইংরেজি পরীক্ষা শেষ হতেই বাড়ির দিকে আসা যাওয়ার পথে সোলেমান দের ক্লাবঘর টা সামনে পরে। আজ হেঁটে যাওয়ায় সেই ক্লাবঘর টা সামনে পড়ায় তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে হাঁটতে গিয়ে দেখা হলো ইয়াসিন আর বাশার সুলতানের সাথে৷ ইয়াসিন বাতাসি কে দেখে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলো দিনকাল কেমন যাচ্ছে। বাতাসি জবাব দিলো না। এসব কাটা গায়ে নুনের ছিটা ছাড়া আর কিছুই না। আগে তো ইয়াসিন এমন নরম সুরে কখনো তার সাথে কথা বলে নি। এখন বলছে কেনো? বাতাসি সব জেনে গিয়েছে বলে? ব্যাগ থেকে সে টাকার চেক টা বের করে বাশার সুলতানের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“ ত্রিশ হাজার টাকার মতো খরচ করেছিলাম। সেটাও ফিরিয়ে দিব একসময়। আমার ভাইয়ের হত্যাকারী আপনারা। আপনাদের কি না আমি আপজন ভাবতাম। ছিঃ! আপনার চেহারা দেখে কে বলবে আপনি একটা আস্ত মুখোশধারী শয়তান। ”
লাস্টের কথা শুনে বাশার সুলতানের মুখের ভঙ্গিমা পরিবর্তন হয়ে আগ্নেয়গিরি লাভায় পরিনত হলো। এই ফকিন্নি মেয়ে বলে কি? কত বড় সাহস! তাদের টা এতদিন খেয়েছে,পড়েছে এখন এত বড় বড় কথা। ইচ্ছে করলো গাল বরাবর ঠাস ঠাস করে কটা বসিয়ে দিতে। কিন্তু তা না করে শুধু বলল,
“ বিদায় হও চোখের সামনে থেকে বাচ্চা মেয়ে৷ নইলে চড়িয়ে তোমার গাল লাল করবো আমি। ”
বাতাসি আগুন চোখে একবার দুজনের দিকে তাকিয়ে চলে গেলো। তার কয়েক সেকেন্ড পর ক্লাবঘর থেকে বেরিয়ে আসলো সোলেমান। তাকে দেখেই বাশার সুলতান চেক টা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,
“ ঐ দুই টাকার মেয়ে এই চেক ফেরত দিয়ে গেছে। বলে গেছে আমি নাকি মুখোশধারী শয়তান। ইচ্ছে করছিলো জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলতে। কত বড় সাহস! ”
ইয়াসিন ভ্রু কুঁচকে ফেললো। এগিয়ে এসে বলল,
“ মুখ সামলে কথা বলেন চাচা উচিৎ কথা বললেই জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে আপনার? ”
বাশার সুলতান রাগী চোখে ঘুরে তাকালো তার দিকে।
“ তুই এখন আমায় উচিৎ অনুচিত শিখাবি? বিড়াল থেকে বাঘ হতে চাচ্ছিস এখন? ”
“ আপনার মতো যে হায়না হতে চাই নি এটাই কি বড় কথা না? হায়না হলে আমিও আপনার জিভ টেনে নিয়ে আসতাম৷ আমার সামনেই আমার স্ত্রীর জিভ টেনে ছিঁড়ে আনার কথাটা বলার সাথে সাথে। ”
“ স্ত্রী মারাচ্ছিস তুই বান্দির ছেলে? দুদিন আগেও তো ঘৃণায় তাকাতিস না ঐ মেয়ে আলকাতরার মতো কালো বলে। এখন ভালোবাসা উতলায় পরছে? ”
ইয়াসিন জানে না এটা ভালোবাসা কি না। তার পক্ষে সম্ভব না হয় হয়তো বাতাসি কে ভালোবাসা বা ভালোবাসলেও তার পুরুষ স্বত্ত্বা তা হয়তো কখনো স্বীকার ও করবে না। তবে এখন একটু কেমন যেন লাগে বাতাসি কে দেখে। এই কেমন লাগার নাম কি ইয়াসিন সেটা জানে না৷ এটার নাম দিতে হয়তো সে ভয় পায় বা লাজলজ্জার কারনে দিতে চায় না।
“ বউ হয়। আমার বউ তারে যা করার আমি করবো। যা বলার আমি বলবো। আপনি কে তাকে কোনোকিছু বলার? আপনারে সে অধিকার কে দিছে? ”
বাশার সুলতান এ কথা শুনে তেড়ে গেল। এক ছোটলোক এতিম এখন তার মুখের উপর কথা বলা শুরু করছে! তাদের টা খায় তাদের টা পড়ে৷ নতজানু না হয়ে শিরদাঁড়া সোজা করা শুরু করছে! ঠাস করে চড় বসিয়ে দিলো ইয়াসিনের গালে। ইয়াসিনও কম না। পকেট থেকে গান বের করে বাশার সুলতানের কপাল বারবার ধরে বলল,
“ একদম ভরে দিব জায়গামতো। ”
দূরে দাঁড়িয়ে থেকে সবটা দেখছে সোলেমান। ইব্রাহিম এগিয়ে এসে থামালো দু’জন কে। সোলেমান চেকটা ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে দিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় ইয়াসিন কে বিরক্ত গলায় বলে গেল,
“ থেমে গেলি কেন? ট্রিগার চেপে একদম হান্দায় দিত বুলেট কপাল বরাবর। আমার চাচা বলেই তো আমি পারি না৷ তোর তো কেউ না৷ তোর বাঁধে কিসে তাহলে? নেক্সট টাইম ছেড়ে দিবি না। একদম জায়গা মতো ভরে দিবি। বাকিটা আমি দেখে নিব। ”
রাতের দিকে সুলতান নিবাসে আসার পর সোলেমান এজওয়ানের ফোন পেলো। এজওয়ান কয়েকদিন ধরেই শুধু ফোন দিচ্ছিলো আর সোলেমান কেটে দিচ্ছিলো। আজ কেটে না দিয়ে রিসিভ করেই খুবই বিরক্তিকর গলায় বলল,
“ কি সমস্যা? এত ফোন কেনো দিচ্ছিস? ”
এজওয়ান ভাইয়ের এমন গলা শুনে বলল,
“ ফোন কেনো ধরছিলে না? কতবার ফোন দেই রোজ হিসেব আছে? আমাকে একটুও কি জানানো যেত না? ”
“ জানালে তুই কি করতে পারতি? আমার সন্তান আমার বুকে ফিরিয়ে দিতে পারতি? দেখ এজওয়ান আমাকে এসব কথা বলে সহানুভূতি দেখাতে আসিস না। তাহলে তোর সহানুভূতির মায় রে বাপ করে দিব আমি। তুই নিজের জীবন নিয়ে থাক৷ ভালো থাক। সুখে থাক। দোয়া করি। ”
এজওয়ানের গলার স্বর নরম হয়ে আসলো। আধোআধো স্বরে বলল,
“ সরি ভাইজান। ”
“ নো নিড। বাই। ”
সোলেমান কেটে দিলো ফোন এজওয়ানের মুখের উপর। বাশার সুলতান দূর থেকে সোলেমান কে এভাবে কথা বলতে দেখে এগিয়ে এসে বলল,
“ ছোট ভাইয়ের সাথে কে এভাবে কথা বলে? ”
“ আমি বলি। ”
“ খুব রুড হচ্ছিস কিন্তু। ”
“ তাতে তোমার কি? তোমার আদরের ছেলেকে বলে দাও আমায় ফোন দিয়ে যেন বিরক্ত না করে। তাহলেই তো রুড হই না৷ ”
“ ও শোনে আমার কথা? তোরই তো নেউটা। ”
“ বকবক করো না তো ওকে নিয়ে। চলো একটু ড্রাইভ করে আসি। মন মেজাজ ভালো না। মোতালেব ভুঁইয়ার মেয়েটা আমার দিনকাল ভালো যেতে দিচ্ছে না৷ সেদিন বলে কি না আমি লম্পট! চাচা বলো আমি কি লম্পট? এজওয়ান কে বললে সে না মানাতো৷ কারন লম্পট তো তোমার ছেলে তাই না? আমি তো গ্রিন ফ্ল্যাগ৷ ”
বাশার সুলতানের মুখটা চুপসে গেলো ছেলের নামে এসব শুনে। বিরক্তিকর গলায় বলল,
“ আচ্ছা চল। মাথা ঠান্ডা করিয়ে আনি তোর । ”
বাশার সুলতান হাঁটা ধরলো। সোলেমান কিছু একটা ভেবে বাঁকা হেঁসে টেবিল থেকে গাড়ির চাবিটা তর্জনী আঙুলে ঘোরাতে ঘোরাতে শিস বাজাতে বাজাতে হাঁটা ধরলো।
ফোনের তীক্ষ্ণ রিংটোন রাতের নিস্তব্ধতাকে ছিন্নভিন্ন করে দিল।
এজওয়ান মাত্রই চেয়ারে হেলান দিয়েছিল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল একটি এনক্রিপ্টেড সামরিক নম্বর। সে কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে দ্রুত, কঠোর কণ্ঠ ভেসে এল।
“Captain Ajwan, this is the Royal Australian Air Force Joint Operations Centre. We have received another direct transmission from the target. Priority One. Report immediately.”
কথাগুলো শেষ হতেই লাইন কেটে গেল। এজওয়ানের মুখ গম্ভীর হয়ে গেলো। বাগান থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে গেলো।
রুমের ভেতরে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে তখন মাহি ফোনে কথা বলছিল। কিছুটা ভয়ার্ত গলায় জিজ্ঞেস করছিলো,
“ এজওয়ান সুলতান আমার পুরো পরিচয় জানতে পারে নি তো? আমি চাই না এজওয়ান সুলতান আমার আসল পরিচয় জানুক। ও খুব চতুর এক লোক। জানলে আমার আপনার দুজনের জন্যই কিছুটা রিস্কি। আমার এই গোপন পরিচয় গোপনই রাখতে চাই কাজ শেষ না হওয়া অব্দি। ”
ওপাশ থেকে পুরুষালি গলাটা একটু থেকে বলল,
“ নাহ্ এজওয়ান সুলতান তোমার আসল পরিচয় জানে না৷ তোমার আসল পরিচয় জানে কেবল আমি, তুমি আর মিস্টার মির্জা। ”
“ ধন্যবাদ। খেয়াল রাখবেন এই বিষয় টা নিয়ে। ”
আকস্মিক পায়ের শব্দ পেয়ে তড়িঘড়ি করে ফোন কেটে দিলো মাহি। মুখের ভঙ্গিমা স্বাভাবিক করে রুমে আসতেই এজওয়ান টেবিল থেকে গাড়ির চাবিটা তুলে নিয়ে মাহির দিকে তাকাল।
“চলো।”
“ কোথায়? ”
“ RAAF এ। ”
রাতের শহর পেরিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই কালো রঙের সামরিক এসইউভি ছুটে চলল Royal Australian Air Force এর যৌথ অপারেশনস সেন্টারের দিকে।
কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে তারা বিশাল ভবনের ভেতরে প্রবেশ করল। চারদিকে ইউনিফর্ম পরা অফিসারদের ব্যস্ত পদচারণা। দেয়ালজুড়ে অসংখ্য ডিজিটাল ম্যাপ, স্যাটেলাইট ফিড,লাইভ ড্রোন ইমেজ। চারদিকে সারি সারি ওয়ার্কস্টেশন। রাডার ডাটা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ভেসে উঠছে। অপারেশনস রুমের মাঝখানে প্রায় পুরো দেয়ালজুড়ে বিশাল এলইডি স্ক্রিন। ঘরের ভেতর অন্তত পঞ্চাশজন অফিসার উপস্থিত। কেউ কথা বলছে না। সবার চোখ একই স্ক্রিনে। পরিবেশটা এতটাই ভারী যে নিজের শ্বাসের শব্দও অস্বস্তিকর মনে হচ্ছিল। একজন এয়ার ভাইস মার্শাল সামনে এগিয়ে এলেন।
“Captain Ajwan…”
তার গলায় ক্লান্তি, বিরক্তি এবং উদ্বেগ,তিনটিই স্পষ্ট।
“ও আবার যোগাযোগ করেছে।”
এজওয়ানের চোখ সরু হয়ে এল।
“লোকেট করতে পেরেছেন?”
“না।”
“কোথা থেকে পাঠিয়েছে?”
“সেটাও না।”
অফিসারটি হতাশভাবে মাথা নাড়লেন।
“আমাদের সাইবার টিম বলছে, পৃথিবীর অন্তত চল্লিশটিরও বেশি সার্ভার ব্যবহার করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সে নিজের সিগন্যাল ঘুরিয়ে দিয়েছে। ভিডিও শেষ হওয়ার আগেই সে অদৃশ্য।”
মাহি নিচু স্বরে বলল,
“অসম্ভব…”
এয়ার ভাইস মার্শাল তিক্ত হেসে বললেন,
“আজকাল অসম্ভব শব্দটা ওর অভিধানে নেই।”
তিনি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে নির্দেশ দিলেন,
“Play it.”
স্ক্রিনে প্রথমে শুধু কালো অন্ধকার। পাঁচ-দশ সেকেন্ড পর হঠাৎ পুরো কক্ষে ভেসে উঠল ধাতব ঘর্ষণের মতো এক বিভৎস শব্দ। ঘররররর… ঘ্যাঁআআআর… ক্করররর…শব্দটা এমন, যেন মরিচা ধরা কোনো বিশাল যন্ত্র জোর করে চালু করা হয়েছে। মাহির হাতের লোম দাঁড়িয়ে গেল।
এরপর অন্ধকারের বুক চিরে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল একটি অবয়ব। না…একজন মানুষ নয়। দেখে মনে হচ্ছিল অন্ধকার নিজেই দাঁড়িয়ে আছে।মাথা থেকে পা পর্যন্ত সম্পূর্ণ কালো পোশাকে ঢাকা। ম্যাট ব্ল্যাক ট্যাকটিক্যাল আর্মার। তার ওপর ঢিলেঢালা লম্বা কোট, যা হাঁটুরও নিচে নেমে এসেছে। হাতে মোটা কেভলার গ্লাভস। পায়ে ভারী কমব্যাট বুট। মুখ পুরোপুরি ঢাকা একটি বিশেষ মুখোশে। মুখোশের সামনের অংশে ধাতব শ্বাস-ফিল্টার, দু’পাশে ছোট ছোট বায়ুনালী, আর চোখের জায়গায় কালো প্রতিফলকযুক্ত ভিসর। ভিসরের ভেতর থেকে চোখও দেখা যায় না। শরীরের কোথাও একফোঁটা চামড়া দৃশ্যমান নয়। ক্যামেরার সামনে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল সে। তারপর মাথাটা আস্তে করে কাত করল।
মুহূর্তের মধ্যে আবার সেই ঘর্ষণধ্বনির মতো কণ্ঠ ভেসে উঠল।
“Grrr… So… the famous Captain Ajwan…”
মনে হচ্ছিল কণ্ঠটা কোনো মানুষের নয়। ভয়েস মডুলেটর তার আসল স্বরকে সম্পূর্ণ বিকৃত করে দিয়েছে।সে ধীরে ধীরে ক্যামেরার আরও কাছে এল।
হঠাৎ গ্লাভস পরা ডান হাতটা তুলল। তারপর নির্লজ্জ ভঙ্গিতে ক্যামেরার দিকে মিডেল আঙুল দেখাল।কন্ট্রোল রুমের কয়েকজন অফিসার দাঁত চেপে তাকিয়ে রইলেন।মনস্টারের বিকৃত হাসি শোনা গেল।
” Famous Ajwan sultan this is fou you…”
এজওয়ানের কপাল কুঁচকে আসলো। সারাজীবন সে মানুষ কে মিডেল আঙুল দেখিয়ে এসেছে। আজ কি না এক শালার পুত শালা তাকে মিডেল আঙুল দেখাচ্ছে! মনস্টার আবার বলল,
“ The fucking loser Royal Australian Air Force called you in because they think you can stop me. What a bloody joke man! Listen carefully Ajowan Sultan You’re nothing but a bloody beast! You are not hunting me…” সে নিজের বুকের দিকে আঙুল রাখল। “I’m hunting you.”
তারপর ধীরে ধীরে আঙুল তুলে স্ক্রিনের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা এজওয়ানের দিকেই নির্দেশ করল।
“I’ll find you. I’ll break you. Bit by bit. Till you forget your own bloody name.”
মাহি অনুভব করল, তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধকধক করছে। কিন্তু এজওয়ান একটুও নড়ল না। তার মনের অবস্থা কেমন এতগুলো বকা কথা শুনে তা একটুও বোঝা যাচ্ছে না। হজম করছে কিভাবে কে জানে। শ্বাস আঁটকে আসছে না? যেখানে এজওয়ান সুলতান সবাইকে হাতের ইশারায় নাচায়,মুখের ভাষা দিয়ে ভস্ম করে দেয় সেখানে আজ তাকে কেউ যা নয় তাই বলে যাচ্ছে।
মনস্টার আবার বলল,
“When I’m done with you. You’ll be crying for your dad…”
এজওয়ান এটা শুনে ফিক করে হেঁসে দিলো। তাকে নাকি মনস্টার বাপ ডাকিয়ে ছাড়বো। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জোকস বোধহয় সে মনস্টারের মুখে শুনলো। রুমের ভেতর থাকা সবাই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। এজওয়ান হাসি থামানোর চেষ্টা করে বলল,
“ Sorry. ”
মনস্টার আবার বলল,
“You’ll beg. You’ll pray. and nobody…”সে এক মুহূর্ত থামল। তারপর নিচু, কর্কশ স্বরে উচ্চারণ করল, “Nobody will save you.” তারপর একটি বিকট অট্টহাসি। ঘরররর, ঘ্যাঁআআআআর, হাহাহাহাহা, হাসির শব্দে পুরো কন্ট্রোল রুম কেঁপে উঠল। ঠিক ভিডিও শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে মনস্টার ক্যামেরার খুব কাছে মুখ নিয়ে এল। কালো ভিসরে পুরো স্ক্রিন ঢেকে গেল। সে ফিসফিস করে বলল,
“See you soon… bloody beast fucking Captain.”
পরক্ষণেই পুরো স্ক্রিন সাদা স্ট্যাটিকে ভরে গেল।ঝঝঝঝঝঝ। সংযোগ বিচ্ছিন্ন। কয়েক সেকেন্ড পর এজওয়ান ধীরে ধীরে স্ক্রিনের দিকে এগিয়ে গেল। একবার আড়চোখে মাহির দিকে তাকিয়ে তারপর সে নিভে যাওয়া স্ক্রিনে নিজের অস্পষ্ট প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে ফিসফিস করে বলল,
দাহশয্যা পর্ব ৯৬
“খেলা শুরু করেছ তুমি…” এক মুহূর্ত থেমে ঠোঁটের কোণে ক্ষীণ হাসি ফুটিয়ে যোগ করল, ” আর শেষ করবো আমি এজওয়ান সুলতান। তোমার শ্যা’টা ভেঙ্গে যদি কুকুর দিয়ে না খাইয়েছি বাইন*দ তবে আমার নামও এজওয়ান সুলতান না। মনস্টার । আর মিডেল আঙুল তোমার জায়গা মতো ভরবো আমি। ওয়েট এন্ড ওয়াচ ফাকিং ডার্ক ম্যান। ”
