নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪১
সুরাইয়া জিয়াসমিন
তবুও ঝড়ের মাঝেই নতুন ভোরের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই,,,
নুবা আর বসে থাকতে পারলো না,, অনেক হয়েছে,, বাইরে একটু পড়েই বৃষ্টি নামবে তার উপর বজ্রপাত হচ্ছে,, এভাবে বসে থাকা বড়োই কঠিন,,,
নুবা উঠে দাঁড়ালো,,হাজেরা টের পেলো তার নরম মনের মেয়ে ওই হারামজাদার কাছে যাচ্ছে,,,হাজেরা মেয়েকে মাঝ রাস্তায় কথা দিয়ে আটকে দিলো
_ কোথায় যাচ্ছিস,,,
নুবা মায়ের দিকে তাকিয়ে নীরব কন্ঠে বললো
_ বাইরে ঝড় আসছে,,,
হাজের কঠিন কন্ঠে বললো
_ যাওয়ার দরকার নেই,,,
নুবা মায়ের কথায় অবাক হলো তার মা এরকম কবে থেকে হলো
_ এরকম কঠিন মনের কবে থেকে হলে,,,
_ যার মানবিকতা নেই তার জন্য মায়া দেখাবি,,
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ তুমি ভুলে যাচ্ছো সেও কারো সন্তান,,,আমি কখনোই ভাবিনি তারা এভাবে তাদের সন্তানকে আঘাত করবে,,, আমার জন্য যেমন তোমার জ্বলে ঠিক তেমনি তাদেরো কষ্ট হয়,,,তারা যে আমার দিকটা ভেবে এই কাজটা করেছে এতেই আমি কৃতজ্ঞ,,এর থেকে বেশি আশা করলে আমি নির্ঘাত বোকার কাতারে পড়বো,,,
হাজেরা কিছু সময় চুপ থেকে শান্ত কন্ঠে বললো
_ ভুলের শাস্তি পাচ্ছে এতে আফসোস করার কিছু নেই,,
নুবা একটু হেসে বললো
_ একবার বাইরে যেএ মানুষটাকে দেখে আসো মা শরীরে কাটা দিবে,,,মাংশ ফেটে কাঠ গুলো ডুকে গেছে জানো তো,,,দেখে বিশ্বাসি হচ্ছিলো না চাচা এই সব করেছে,,, তুমি তো দেখোনি,,,আমি আগে জানলে চাচাকে আটকাতাম,,,এভাবে আঘাত করা ঠিক হয়নি,,,
নুবা একটু থেমে আবারো বললো,,
_সবকিছু ভুল বোঝাবুঝির মাধ্যমে হয়েছে,,উনি সুস্থ হলে একটা কথা ছিলো,,, তুমি উনার ব্যপারে কিছুই জানো না তাই এই সব বলছো,,,তারো একটা ছোট্ট সন্তান আছে সেটা ভেবেই আমি যাচ্ছি,, অনেক হয়েছে,,এভাবে আর কিছু সময় থাকলে,আজ তার যদি কিছু হয়ে যায় তবে আমিই দাই থাকবো,,, নিজেকে মাফ করবো কি করে,,, যতটুকু তার প্রাপ্তি ছিলো তা সে পেয়ে গেছে,,,
অতঃপর হাজেরা আর কিছু বলতে পারলো না,,,
নুবা ধীরো পায়ে ওরনা মাথায় জরিয়ে বাড়ি থেকে বেড় হয়ে বাগানের দিকে গেলো,,দেখা মিললো আরহামের শরীর মৃদু কাঁপছে,,বাগানে লাগানো হালকা লাইটের আলোতে আরহামকে বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছে,,,,
আরশি এতো সময় বারান্দায় ছিলো,,,আর ভাবছিলো কি করবে,,বাইরে যা শুরু হয়েছে,,,তবে তার ভাবনা চিন্তার ভিতরে নুবাকে আসতে দেখে সে যেনো শান্তি পেলো,,,
নুবা তাড়াতাড়ি করে এসে বাগান থেকে একটা চেয়ার চেনে আরহামের পায়ের কাছে রাখলো,,প্রায় অনেক ঘন্টা পর পায়ের নিচে কিছুর অস্তিত্ব পেয়ে স্বস্তি পেলো সে,,,কে এই মানব দরদী তা দেখার জন্য আরহাম টিপটিপ করে তাকালো,,,পরপর খেয়াল করলো নুবা হাতে আর একটা চেয়ার নিয়ে এগিয়ে আসছে,,
আরহাম চেয়ে রইলো,,,নুবা বাতাসে উড়তে থাকা ওরনা ঠিক করে চেয়ার নিয়ে এসে আরহামের সামনে দাঁড়ালো,,,কোনো রকম শব্দ ব্যায় না করে দুই হাত উঁচু করে আরহামের হাতে বাঁধা দড়ি খুলতে উদ্যোগ হলো,,,
তবে দড়ি পর্যন্ত হাত পৌঁছানো আগেই আকাশ চম্কে ভয়ংকর এক বজ্রপাত ঘটলো,,,নুবা ভয়ে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আরহামের বুকের সাথে লেগে তিরতির করে কাঁপতে শুরু করলো,,, শব্দ টা এতোটাই মারাত্মক ছিলো যে নুবার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠেছে,,, এমনিতেই এই বজ্রপাত তার কাছে খুবি ভীতিকর,,,
এদিকে বজ্রপাতেও আরহামের নরচড় হলো না তবে নুবার হঠাৎ বুকের সাথে এসে লেগে যাওয়ায় আরহামের শরীরের যখম গুলো আরো তেতে উঠলো,, আরহাম চোখ মুখ খিচে নিলো,,,
কিছু সময় পর স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলেই নুবা অনুভব করলো জাত শত্রুর কাছে আশ্রয় নিয়েছে সে,,,এটা ভেবেই তার নিজের প্রতি ধিক্কার জানাতে ইচ্ছা করলো,,,
পরপর নুবা আস্তে আস্তে সরে আসলো,, আরহাম ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ জানের এতো ভয়,,,যেখানে নির্ধারিত সময়ে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে,,আজ মরলে কাল দুইদিন,,
নুবা শুকনো ঢোক গিলে আরহামের দিকে কিছু সময়ের জন্য তাকিয়ে রইলো, আরহামের মুখে রক্ত গুলো শুকিয়ে আছে,, কেমন ভয়ংকর দেখাচ্ছে,,,আর তাকিয়ে থাকলো না সে,,,পরপর কম্পিত হাত আবারো উঁচু করে দড়ি খুলতে ব্যাস্ত হলো,
আরহাম বিরবির করে বললো
_ দরদ উতলে উতলে পড়ছে দেখছি,,,এই ঝড়ের তান্ডবের ভিতরে কি মনে করে এখানে আসা,,,
নুবা পা দুটো আর একটু উঁচু করে নিলো ঠাঁই পাচ্ছে না,,,পরপর দড়ি খুলতে খুলতে বললো
_ শুধু মাত্র আয়রার জন্য,,না হলে আপনার মতো মানুষত্ব বীহিন মানবের উপর দয়া দেখানোর কোনো মানেই হয় না,,,
এদিকে নুবা আরহামের অতী নিকটে,, কারণ ৫ ফুট ৩ ইন্স নুবা ৬ ফুট মানুষের উঁচু হাতের বাঁধন খোলার চেষ্টা করছে,,,
উঁচু হয়ে থাকার কারনে আরহামের মুখ মন্ডল নুবার বক্ষ স্থল বরাবর স্থির হয়ে আছে,,,এই না স্পর্শকাতর স্থানে আরহামের অপবিত্র ছোঁয়া লেগে যায়,,,তবে আরহাম নিরব,,চোখ দুটো বন্ধ তার,, নিঃশ্বাস ফেলছে না,সামনের রমনীর বিব্রত বোধ হবে তাই,,,
নুবা শেষ পর্যন্ত দড়ি খুলতে সক্ষম হলো ,,, নুবার হাত উঁচু করে রাখতে রাখতে হাতের ডানা ব্যাথা হয়ে গেছে,,আর এই লোকটা এতো সময় কি করে ঝুলছে আল্লাহই জানে
নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে চেয়ারে সাজো হয়ে দাঁড়ালো,,পরপর আরহাম ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেললো,,এতো সময় নিঃশ্বাস আটকে রাখার ফলে আরো ক্লান্ত হয়ে পড়েছে সে,,,
নুবা এক পলক আরহামের দিকে তাকিয়ে চেয়ার থেকে নেমে যেতে লাগলো,,তবে তার আগেই আরহাম বাহু টেনে ধরলো নুবার,,,নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,,
আরহাম নেনো সেকেন্ডের ভিতরে নুবার হাতের নিচ দিয়ে নিজের ডান হাত ঢুকিয়ে দিলো,,পরপর তার পিঠে হাত রাখলো,,,নুবার বদন খানা আরহামের আহত শরীরে এসে মৃদু ধাক্কা খেলো,,,নুবা চোখ বড় বড় করে আরহামের দিকে তাকালো,,
নুবাকে এরকম অবাক হতে দেখে আরহাম মুচকি হেসে নুবার কানের কাছে যেএ ফিসফিস করে বললো
_ আপনার জন্য এতো কিছু হলো,, শেষ পর্যন্ত এই বয়সে এসে বাপের হাতে উদ্দম মাদ্দম খেলাম,,আর আপনাকে এমনি এমনি ছেড়ে দিবো,,,এটা ভাবাও বোকামি,,,
নুবার বদন খানা মৃদু কেঁপে উঠলো,,বিরবির করে বললো
_কি ,,কি করবেন আপনি,,,দয়া দেখাতে গিয়ে আপনাকে খুলতে আসবাই আমার ভুল হয়েছে মনে হয়,,,
আরহাম ডান হাতের সরু দুই আঙ্গুল নুবার পিঠে চেপে ধরলো,,নুবা কিছুটা চম্কে উখলো,,নুবার মনে হলো আরহামের হাতে ধারালো কিছু আছে,,
নুবা পিটপিট করে আরহামের দিকে তাকিয়ে যথাসম্ভব শান্ত কন্ঠে বললো
_ আ,, আপনার হাতে কি,,, কি,,,
আরহাম নুবার কানের কাছে যেএ ফিসফিস করে বললো
_ কোনো এক ধারালো অস্ত্র যা একটু পরেই আপনার পিঠের মাংশ ভেদ করে ঢুকে যাবে,,,আর আপনার প্রান পাখিটা উড়ে যাবে,,,
নুবা হতভম্ব হয়ে গেলো,,,চোখে মুখে ভয়ের রেশ দেখা গেলো,,,আরহাম থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো,,,তবে আরহাম তাকে ছেড়ে দিলো না বরং চেপে ধরে বললো
_ নড়াচড়া করলে এখনি একদম মগজের এপার ওপার করে দিবো,,Don’t make me angry. ,,
নুবা মাথা উঁচু করে আরহামের দিকে তাকিয়ে রইলো,,চোখে মুখে এক বিষ্ময় আর ভয় প্রকাশ পাচ্ছে তার,,,,
এমন সময় আমিনা বেগমের কন্ঠ ভেসে আসলো,,, অনেক কষ্ট করে বুকে পাথর চেপে রুমে বসে ছিলেন তিনি ,,তবে বাইরে ঝড় আসছে ভেবেই ছুটে এসেছে,, ওদিকে আবার হারুন মির্জার অবস্থা কিছুটা খারাপ,,ছেলেকে মেরে নিজেই ভিতর থেকে ভেঙ্গে পড়েছে,,আমিনা বেগম স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে অনুভব করতে পারছিলেন তার ভিতরে কি চলছে,,পরপর বাইরে বজ্রপাতের শব্দ করায় হারুন মির্জা বারবার নিজের স্ত্রীর দিকে তাকাচ্ছিলেন,, হয়তোবা কিছু বুঝাতে চাইছিলেন,,,আমিনা বেগম স্বামীর চেহারা আর ছেলের উপর টান অনুভব করে ছুটে এসেছেন,,, হারুন মির্জাও যে মনে মনে চাচ্ছেন ছেলেটাকে ঘড়ে ফিরাতে তা আমিনা তার মুখ দেখেই অনুমান করে ফেলেছিলেন,,
আমিনা বেগম এগিয়ে এসে নুবাকে দেখে বুঝতে পারলো তার আগেই নুবা চলে এসেছে,,,আমিনা বেগম এগিয়ে আসতে আসতে বললো
_ কি হয়েছে,,,
নুবা আর একটু ভয় পেলো,,,আরহাম নুবাকে ছেড়ে দিয়ে বিরবির করে বললো
_সেদিন থাপ্পর আর আজকে যা হয়েছে সব কিছু উঠিয়ে রাখলাম ,,পরে উসুল করে নিবো,,be careful,,,
আরহাম নুবাকে ছাড়তেই নুবা লাফ দিয়ে চেয়ার থেকে নেমে দাঁড়ালো,,,পরপর এক দৌড়ে বাড়ির ভিতরে চলে গেলো,,
আরহাম চেয়ার থেকে নেমে দাঁড়াতেই মাথা ঘুরে পড়ে যেতে যেতে আবারো সোজা হয়ে দাড়ায়,,,
আমিনা বেগম ছুটে যেএ ছেলের এক বাহু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠে আরহাম কিছুটা অতিষ্ঠ হয়ে বলে
_ please Mom,,don’t cry ,,i can’t,,, can’t tolerate__ please,,,
আমিনা বেগম ছেলের অবস্থা দেখে ঠোঁট চেপে কান্না আটকায়,,,আরহাম হাঁটতে পারছে না,, শরীর কেমন দুলে দুলে পড়ে যাচ্ছে,,,আমিনা বেগম কোনো মতে ধরে আরহামকে নিয়ে আসতে লাগলো,,তখনি ঝুম বৃষ্টি শুরু হলো,,ভারি বর্ষনে মা ছেলে ভিজে একাকার হয়ে গেলো
আরহামের শরীরে পানি পড়তেই শরীর জ্বলে উঠলো,,কোনো মতে পা ফেলে ভিতরে আসলো,,,
নুবা এক কোনায় দাঁড়িয়ে আছে,,মা ছেলেকে দেখে একটু বেশিই প্রচ্ছন্ন হচ্ছে সে,,,যেনো মনে হচ্ছে ছেলের না মায়ের ব্যাথা লেগেছে,,,
এদিকে নুবা একটা কথাই ভাবছে,,তার জন্য আরহামের এই অবস্থা,,,আমিনা বেগম যদি তাকে ভুল বুঝে,,,যদি তার উপর রাগ করে তাই এখানে দাঁড়িয়ে আছে সে,,,
আমিনা বেগম দুর্বল ছেলেকে নিয়ে ভিতরে আসলো,,,নুবা শুকনো ঢোক গিলে তাদের দিকে তাকালো,,তাকে উপেক্ষা করে আমিনা বেগমের ছেলেকে নিয়ে এগিয়ে গেলেন,,,নুবার বুকটা ছ্যাত করে উঠলো,, নিশ্চয় নুবার উপর প্রচন্ড রাগ করেছেন আমিনা বেগম,,,এটা ভাবলে নুবার কেমন অস্থির লাগছে,,নুবা ঝেড়ে কাশলো,, কিছু বলতে যাবে তার আগেই আমিনা বেগম বলে উঠলো,,,
_ কিছু বলতে হবে না,,,বাড়ি ছেড়ে মা মেয়ে যাচ্ছিস চলে যা,,তোকে দুই চোখে আমার সহ্য হচ্ছে না,,আজ তোর জন্য,, শুধু তোর জন্য,,,, আমার মানিকের এই অবস্থা,,তোকে তো সব খুলে বলেছিলাম,,তার পড়েও তুই,, তুই কেন আমার ছেলেটাকে মাফ করলি না নুবা,,,কেন,,,,
_ শুনছিস আমার কথা,,,ধেন্দি,,,
আমিনা বেগমের ভারি শব্দে নুবা লাফিয়ে উঠলো,,আমিনা বেগম মলিন কন্ঠে বললো
_ কিরে কথা বলছিস না কেন,,,কি ভাবছিস,,,
নুবার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে,,সে সেগুলো মুছে,, মৃদু কন্ঠে বললো
_কি,,কি বলছিলে,,,
আমিনা কাতর কন্ঠে সুধালো,,
_ দুপুর থেকে আয়ারা কিছু মুখে দেয়নি,, একটু খাওইয়ে (খাইয়ে) দে মা,,,
নুবা চেয়েই রইলো উত্তর দিলো না,,আমিনা বেগম নুবার নীরবতা দেখে বললেন
_ তোর যদি ভালো না লাগে জোর করবো না,, অনেক রাত হয়েছে যেএ শুয়ে পর,,
এতো কিছুর পর নুবাকে এই কথা বলতেও আমিনা বেগম নিজের প্রতি লজ্জা হয়,,মেয়েটা এখনো তার নাতনিকে সামলাচ্ছে এটা ভেবে আরো খারাপ লাগে,,,তার পড়েও বাধ্য হয়ে আমিনা বেগম কে নুবার কাছেই ছুটৈ আসতে হয়,,
পরপর আমিনা বেগম আরহামের এক বাহু ধরে সিরি বেয়ে উঠলেন,,,নুবা নিজের হুসে ফিরলো,,,কি কি ভাবছিলো সে,, আমিনা তার উপর রাগ করে আছে,,আসলে এমন কিছুই না সবি নুবার মনের ভুল ধারনা,,কেন জানি এই বাড়ির দুই কর্তা – কর্তি কে নুবার অহংকার মুক্ত,, ন্যায়পরায়ণ মনে হচ্ছে,,,আসলেই তারা তেমন,,আসলেই,,,
নুবা নিজের ভাবনা থেকে বেড় হয়ে তাদের পিছনে এগিয়ে গেলো,,,,
আরহাম রুমে আসতেই শাওয়ার নিতে ওয়াশ রুমে চলে গেলো,,,আরশি ঘুমন্ত আয়ারকে নুবার কোলে ধরিয়ে দিলো,,,আমিনা বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন
_ মা একটু যেএ তোর doctor আঙ্কেল কে কল কর,,আসতে বল,,,(family doctor)
আরশি ক্লান্ত কন্ঠে বললো,,
_ doctor আঙ্কেল কে কি বলবো
আমিনা শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখ মুছে বললো
_ আরহাম হসপিটালে যাবে না,,তোর আঙ্কেল কে সেভাবেই আসতে বলিস,পিটে মাংস ফেটে গেছে দু একটা সেলাই পড়তে পারে,,,উনাকে সব খুলে বলে আসতে বল,,,
আরশি মাথা ঝুঁকিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো,, মোবাইল টা তার রুমেই,,,আমিনা বেগম নুবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ মা তুই একটু বস,,আমি শাড়িটা পালটে আসি,,ভিজে গেছে,,,
“মা” ডাকটা শুনে নুবা নিজে আর ধরে রাখতে পারলো না,,ছুটে যেএ এক হাত দিয়ে আমিনা বেগম কে জরিয়ে ধরে ফুঁপিয়ে উঠলো,,,
আমিনা বেগম অবাক হয়ে গেলেন,,,নুবার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন
_কি ,,কি হয়েছে,, খারাপ লাগছে,, খারাপ লাগছে যেএ শুয়ে থাক
নুবা নাক টেনে বিরবির করে বললো
_ sorry চাচি,, আমার জন্য সব হলো,,, আরহাম ভাইয়ের আমার জন্য এই অবস্থা,,আমি চাইলে চাচাকে এই বিষয়ে না করতে পারতাম,,আমি বুঝতে পারিনি চাচা এমন ভাবে আঘাত করবে,,
আমিনা বেগম গলায় আটকে থাকা কান্না টুকু গিলে বললো
_ যা হয়েছে ভালো হয়েছে,,,তোরোতো কষ্ট হয়েছিলো,,একটু সহ্য করুক,,
নুবা মুখ তুলে আমিনার দিকে তাকিয়ে কাতর কন্ঠে বললো
_ তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না,,
আমিনা চোখে পানি নিয়ে হেসে বললো
_ হ্যাঁ,,,একটু হচ্ছে,,তবে আফসোস নেই,,না আছে কারো উপর কোনো রাগ,,যা হয়েছে সঠিক হয়েছে ,,
নুবা ছলছল চোখে বললো
_ তোমারা এতো ভালো কেন বলো তো,,,কেন পরের মেয়ের কথা ভেবে নিজের সন্তানকে কষ্ট দিলে,,,
আমিনা বেগম নুবার থুতনি দুই আঙ্গুল দিয়ে ধরে বললো
_ তুমি কি পরের সন্তান,,, তুই এই বাড়ির ছোটো মেয়ে,,তোর বাবা আমার ছোটো ভাই এর মতো,, তুই আমাদের মেয়ের মতো,,,তার সাথে অন্যায় হলে নিশ্চয় নৈয্য বিচার হবে,,,,এবার অনেক হয়েছে আমি যেএ শাড়ি বদলে আসি,, তুই একটু বস,,,
বলেই আমিনা বেগম ব্যস্ত পায়ে চলে গেলেন,,,নুবা অনুভব করলো আমিনা বেগমের বুক ফেটে যাচ্ছে,, তবু সে চুপ করে আছে,,, সহ্য করছে,,সব কিছুর জন্য নিজেকে দাই লাগছে নুবার,,,ভুল বোঝাবুঝির মাধ্যমে তার কপালে অন্ধকার নেমেছিলো কিন্তু বুঝে শুনে কাউকে এভাবে আঘাত করা কতটুকু নৈয্য যা তার জানা নেই,,,
সোফার এক কোনায় বসে আছে নুবা,,কেন জানি রুমটা থেকে বেড় হতে ইচ্ছা হচ্ছে না,,আরহাম কে দেখতে ইচ্ছা করছে,,তবে তাকে না তার আঘাত গুলোকে,,, অনুভব করতে ইচ্ছা করছে কতটুকু গভীর সেই আঘাত,,,তার থেকে বেশি না কম,,,
নুবা আয়ারার ছোট্ট ছোট্ট হাত ধরে চুমু খেলো,,বিরবির করে বললো,,
_ আমার আম্মা,, আমার লক্ষী মা,,আরু বাবু,,গোল আলু,,,তাই না,,,
আয়রা ঘুম ঘুম চোখে ফিড করতে করতে রেসপন্স করলো,,
নুবা ঠোঁট হেলিয়ে হেসে বললো
_ আজ সারাদিন আন্টির কথা মনে পড়েনি হুম,,নাকি পাপার দুঃখে দুঃখীতো হয়েছেন,, আমার উপর রাগ করে আছেন,,,
নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪০
আয়রা ছোট্ট ছোট্ট হাত দিয়ে নুবার বক্ষ স্থলের নরম মাংস আঁকড়ে ধরে,,,নুবা সেই হাত ছাড়িয়ে চুমু খায়,,,
এমন সময় আরহাম ওয়াশ রুম থেকে বেড় হয়ে আসলো,,পড়নে সাদা তাওয়াল,,,সকল রক্ত ধুয়ে মুছে গেছে,,,যেই সব সথান ফেটে গেছে সেগুলো হা হয়ে ভিতরের সাদা মাংশ দেখা যাচ্ছে,, বিষয়ে করে ডান কাঁধের পেশিবহুল মাংশের উপর,,যেই স্থান কেটে সাদা মাংশ দেখা যাচ্ছে,,,পেট আর বুকের মাংশোও ফেটেছে,,,আরহামের ফর্সা শরীর আঘাতের চোটে লাল কালো বর্ন ধারান করেছে,,
নুবা শুধু এতোটুকু ভাবছে এই লোকটা এতো কিছুর পর সোজা হয়ে কি করে দাড়িয়ে আছে,,নুবা আর দেখতে পারলো না মাথা নিচু করে নিলো,,,
ভাবনা চিন্তা শেষ হওয়ার আগেই আরহাম এগিয়ে আসলো,,,
