Home নীরব উন্মাদনা নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৫

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৫

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৫
সুরাইয়া জিয়াসমিন

_ মেয়ে মানুষ দেখলে চোখ ঠিক থাকে না নাকি,,,কোথায় কোথায় তাকান আপনি,,,আর,,
ঠাস ঠাস কথা বলে ফেলেন,,মুখে লাগাম নেই,,,সামনের মানুষ টা কতটা বিব্রত হলো লজ্জায় পড়লো তাকি আপনার মাথায় আসে না,,,
আরহাম নুবার নড়তে থাকা ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে ধমক দিয়ে বললো
_ চুপ,, অতিরিক্ত কথা,,,আর ভালো কথা বলেছি,,এতোটা খারাপ ভাবে নিচ্ছেন যেনো আপনাকে আমি নগ্ন হয়ে ঘুরতে বলছি,, আমার চোখে পড়েছে খারাপ লেগেছে তাই বলে দিলাম,, next time থেকে খেয়াল রাখবেন,,তা না তর্ক করছেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে,,,
নুবা আরহামের কথায় বুঝতে পারলো ভালোর জন্য বলেছে কিন্তু সে কথার তর্কে হেরে যাবে কখনোই না তাই কটকট করে বললো,,

_ বাইরের মানুষেরটা দেখার আগে নিজের ঘড় ঠিক করুন,, আমার উপর রোক না জমিয়ে আগে নিজের বোনকে ঠিক করুন,,,নিজের বোন ওরনা ছাড়া জিন্স
পেন্ট পবে ঘুরে সে আসছে আমাকে জ্ঞান দিতে,,,আমি আপনার কিছু হই না যে আমাকে আপনার জ্ঞান দিতে হবে বা শুনতে হবে,
নুবার চোখে রাগ প্রকাশ পেলো,,, আরহাম তিন আঙ্গুল দিয়ে নুবার গাল চেপে ধরলো,,,পরপর একদম নিকটে যেএ বললো
_ তোকে যা বলেছি সেটা করবি তুই,,,কে কি করলো তা তো তোর দেখার বিষয় না,,,ওর জন্য ওর ভবিষ্যত husband আছে ওকে সুধরানোর জন্য,,,তোকে যা___
আরহামের কথা শেষ হওয়ার আগে নুবা চাপা কন্ঠে বলে উঠলো
_ আমারো husband আছে আমাকে বলার জন্য,,আমি কোনো পরপুরুষের থেকে শুনবো না আমি কি করবো,,,আর,,আর,,,,আপনি আমার গাল চেপে ধরেছেন না আমি যেএ চাচার কাছে নালিশ করবো,,,
আরহাম নুবার কথা শুনে মুখ দিয়ে চ উচ্চারণ করলো,,পরপর আশ্চর্য জনক এক কান্ড ঘটালো,,নুবার অনেকটা কাছে এগিয়ে যেএ নুবার চেপে রাখা ঠোঁট দুটো নিজের গালে ছুয়ালো,,,নুবা হঠাৎ এরকম কান্ডে হতভম্ব হয়ে গেলো,, কিছু বলার আগে থেকেই আরহাম নুবাকে ছেড়ে দিয়ে বললো

_ যেএ বিচার দিবে তবে যখন জিজ্ঞেস করবে আমি কেনো গাল চেপে ধরেছি তখন তোমার কাছে দুটো অপশন থাকবে,,১ আমি তোমাকে শালীনতা বজায় রাখে চলতে বলেছি তাই আমার সাথে তর্ক কথায় গাল চেপেছি,,আর ২ তুমি আমাকে চুমু খেয়েছো তাই,,as your wish ,,এখন তুমি কোনটা বলবে,,,
নুবা হয়ে যাওয়া ঘটনা ভেবে হাত ঘষে ঠোঁট মুছে বললো
_ ছি,,আপনি এতো খারাপ আগে জানতাম না,,,
আরহাম পকেট থেকে টিস্যু বেড় করে গাল মুছতে মুছতে বললো,,,
_ তবে তুমি যদি বলো আমি চুমু খেয়েছি তবে সবাই ভাববে আমি তোমাকে like করি,, then আমাদের নিকা পড়িয়ে দিবে,, অতঃপর যদি বলো তুমি আমাকে চুমু খেয়েছো তাও নিকা ফাইনাল,,,তবে তুমি যাই বলো না কেন ফাসবে তুমিই,,, কারণ আমি তোমাকে ভালো কথা বলেছি,,,এখন তোমার সিদ্ধান্ত নিতে হবে তুমি সারাজীবন আমার মতো মানুষের সাথে কাটাতে চাও নাকি সবার চোখে অশালীনতা নিয়ে বিব্রত হতে চাও,,,আর উপরোক্ত বিষয় হচ্ছে চুপ থেকে সব কিছু থেকে বেঁচে ভালো থাকতে চাও,,,৪ টা অপশন আছে তোমার কাছে যা ইচ্ছা তাই করো,,
বলে আয়ার গালে চুমু খেএ বললো

_ ওকে ফিড করিয়ে রুমে দিয়ে যাবে,,,I repeat ,,রুমে দিয়ে যাবে,,,
বলে আরহাম পকেটে হাত গুজে চলে গেলো,,নুবা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো,,আসলেই কি বলে বিচার দিবে,,,এই সব খুলে বললে আরশি তো রেগে যাবে সাথে নিজেরো মান সম্মান শেষ হবে,,তার থেকে ভালো যা হয়েছে ভুলে যাওয়াই উত্তম,,
পরপর নুবা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ ছি,, এরকম মানুষকে বিয়ে করবো তাও আমি,,,ছ্যে ছ্যে,,,কক্ষনো না,,,
নুবার কথা হয়তো আয়ারর পছন্দ হলো না তাই নুবার বুকে ফাঁকা মারি বসিয়ে চেপে ধরলো,,,নুবা চোখ মুখ খিচে আয়ারর দিকে তাকিয়ে বললো
_ দুষ্ট মেয়ে,,,
নুবা আয়ারকে ঘুম পাড়িয়ে আরশির হাতে আরাহামের রুমে পাঠিয়ে দিলো,,আরশি তো যাবে না কিন্তু নুবা আরো আগে যাবে না,,,

রাতে খাবার টেবিলে বসে আছে সবাই,, এমন সময় আরহাম বলে উঠলো,,,,
_ কাল থেকে অফিসে জয়েন হবো,,,,
আরহামের কথায় হারুন মির্জার প্লেটে থাকা হাত থেমে গেলো,,ছেলের দিকে তাকিয়ে বিষ্ময় নিয়ে বললো
_ হঠাৎ করে কেন,,
আরহাম কাঠ কাঠ উত্তর দিলো
_ আমার ইচ্ছা,,আশা করি বড় পদেই স্থানান্তর করবেন,,,
_ তুমি অসুস্থ,,,আগে সুস্থ হও,,,
আরহাম খাবের প্লেটে চামুর শব্দ করে চেপে ধরে বললো
_ for your kind information ,,আমি জানাচ্ছি না,, আমার জাগা দখল করতে চাইছি,,,কাল থেকে আমি অফিসে যাচ্ছি,,,ঘড়ে বসার অভ্যাস করে নেন,,,
বলেই আরহাম খাবার রেখে উঠে গেলো,,আমিনা বেগম ছেলেকে ডাকলো তবে কাজ হলো না,,
আরাফ বেশ তেতে উঠে বললো
_ CEO কিন্তু আমাকে করবে কথা ছিলো,,,
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন
_ তোমার বড় ভাই থাকতে তোমাকে কেন করবো,,
আরফ রেগে উঠে বললো
_ what,,ও কি বুঝে এই সবের,,এতো দিন এই সব আমি সামাল দিলাম আর আজ তুমি ওকে এই পদে বসাবে,,,

হারুন মির্জা খেতে খেতে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো,,,
_ বদল ভেবো না আমাকে আরাফ,,, তোমাকে নতুন কম্পানিতে বসাবো,,নিজের হাতে গড়ে নিও সবকিছু,,আর হয়তোবা তুমি এটা ভুলে যাচ্ছো এই কম্পানিটা আরহামের নামে,,,ওর সবকিছু,, যেহেতু ও দেশে ফিরেছে সব সমলাতে চাইছে আমি না করার কে,,,
আরাফ রেগে খাবার টেবিলে ছেড়ে উঠে গেলো,,আর আমিনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো
_মা তোমার স্বামীকে দুই চক্ষু পানা করতে না করিও,,সব সামাল দিলাম আমি এখন উড়ে এসে জুড়ে বসেছে,,
বলেই আরাফ চলে গেলো,,ইশিতা একটু বিরক্ত হলো,,,এই কম্পানিতেই থাকতে হবে এমন তো কোনো কথা না,,একটার হলেই হয়,,

নতুন সকাল নতুন আলো নিয়ে এসেছে,
রাতের সব অন্ধকার ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেছে।
সূর্যের সোনালি কিরণ ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে,
প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।
নতুন দিনের সাথে এসেছে নতুন আশা আর সম্ভাবনা,
হাসিমুখে শুরু হোক আজকের সুন্দর পথচলা
নুবা বই খাতা গুলো গুছিয়ে রাখছে আজ থেকে নতুন teacher আসবে,, হারুন মির্জা ঠিক করে দিয়েছেন,,এবার একটু পড়া লেখায় মনোযোগ দিতে হবে তার,,,
সকাল সকাল আরহাম একদম রেডি,,, সাথে আয়ারকে নিয়ে যাবে,,,মেয়েকে রেখে যাবে না সে,,সে বেশি সময় থাকবে না তাই আয়রাকে আগে থেকেই ফিড করিয়ে নিয়েছে যাতে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা আয়রা ইস্টে করতে পারে,,,
সকালের নাস্তা শেষ হতেই আমিনা বেগম আরহামের কাছে যেএ মিনতি করে বললো
_ এখনো তুই অসুস্থ,,, কাল পরশু এতো ধকল গেলো,,আজ না গেলে হয় না বাবা,,,
আরহাম মুচকি হেসে বললো
_ সময় অপচয় করে লাভ আছে mom,,যেএ হিসাবটা টেনে আসি,,,না হলে তোমার স্বামী হিসাব কি করে দিবে কোথায় কি খরচ করেছে,,,যতোই হোক সব তো আমার,,
তখনি পিছন থেকে হারুন মির্জা সিরি বেয়ে নামতে নামতে বললেন
_ সব কিছু করলাম আমি আর এখন সব তার হয়ে গেলো,, এতো বছরে খবর ছিলো না,,,
_ এখন থেকে রাখবো,,,,

অফিসে এসে জরুরি একটা মিটিং ডেকে সবাইকে একত্রিত করলো,,,যেখানে আরাফো আছে,,
হারুন মির্জা সবার উপস্থিতি দেখে একটু সময় নিয়ে বললো
_সবাইকে এত তাড়াহুড়ো করে ডাকার জন্য দুঃখিত। আজকের এই জরুরি মিটিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে।
ডিরেক্টর ১ :স্যার, কোনো সমস্যা হয়েছে?
_সমস্যা নয়, বরং কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বড় সিদ্ধান্ত।
ডিরেক্টর ২ : আমরা শুনছি, স্যার।
হারুন মির্জা শান্ত কন্ঠে বললেন
_গত কয়েক বছর ধরে আমি একজনকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছি। আমার থেকে সে এই কম্পানিকে ভালো ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে,,,আমি আশা বাদি কয় এক বছরের মধ্যে আমাদের কম্পানি দ্বিতীয় স্থান থেকে প্রথম স্থান দখল করবে,,,
ডিরেক্টর ৩ : আপনি কি নতুন CEO-এর কথা বলছেন?
_ ঠিক তাই।
ডিরেক্টর ১ : কে সেই ব্যক্তি?
হারুন মির্জা আরহামের দিকে উদ্দেশ্য করে বললেন
_আরহাম শাহারিয়ার মির্জা,, আমার বড় ছেলে,,,
মিটিং রুমে হালকা গুঞ্জন শুরু হলো,,আরাফের CEO হওয়ার কথা ছিলো,,, হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন কেনো,,,
একজন উঠে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো,

_ sir দুঃখিত আপনি আপত্তি না করলে একটি কথা বলতাম
_ বলুন,,,
_ sir আমাকে ক্ষমা করবেন তবে আমারা ছোটো sir এর সাথে বেশির ভাগ কাজ গুলো করেছি,, আপনার বড় ছেলের সাথে কাজ করিনি,,না উনি কখনো কম্পানিতে এসেছে,, এত বড় দায়িত্ব হঠাৎ এভাবে উনাকে,,,,,,,
আরহাম সরু চোখে লোকটার দিকে তাকিয়ে টেবিলের উপর শব্দ করে হাত রেখে বললো
_ mr শৈকত তালুকদার, গত ৪ বছর ধরে কাজ করছন এখানে,,, আপনার নামে উপর দিয়ে সুনাম শুনলেও,,,, বর্তমানে প্রজেক্ট নিয়ে যে আপনি mr হেলাল এর সাথে মিলে হেলামি করছেন তা কিন্তু আমার জানা,,, আমাকে বাধ্য করবেন না যাতে আপনার কালা চিট্টা এই টেবিলে খুলে রাখি,,,so sit-down,,,
Mr শৈকত শুকনো ঢোক গিললো,, এদিকে হেলাল মির্জা যেনো হতভম্ব,,আরহাম এই সব কি করে জানলো,,সবি শুনলো হারুন মির্জা তবে কিছু বললো না,,,
আরহাম এক পলক সবার দিকে তাকিয়ে বললো
_ আর কারো কিছু প্রশ্ন আছে,,(সবাই শুকনো ঢোক গিলে বললো,,no sir,, কারণ সবারি একটু আকটু গাবলা আছে)
হারুন মির্জা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো

_তাই আজ আমি বোর্ডের কাছে প্রস্তাব রাখছি, আরহাম মির্জাকে কোম্পানির নতুন CEO হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।
ডিরেক্টর ১ : আমি এই প্রস্তাব সমর্থন করছি।
ডিরেক্টর ২ : আমিও।
ডিরেক্টর ৩ : আমারও পূর্ণ সমর্থন আছে।
_ তাহলে ভোটের প্রয়োজন আছে কি?
সকলেই : নেই, স্যার।
_তাহলে আজ থেকে আরহাম মির্জা এই কোম্পানির নতুন CEO।
(তালি দিয়ে পুরো মিটিং রুম মুখরিত হয়ে উঠলো।)
সবাই উঠে দাঁড়ালো,, একজন এগিয়ে এসে বললো
ডিরেক্টর ২ : অভিনন্দন, CEO সাহেব।
আরহাম ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,,,
_ ধন্যবাদ। আশা করি আপনাদের সবার সহযোগিতা পাবো,, এবং আপনাদের মুখোশ টেনে খুলতে পারবো,,,
সবাই মিটিং রুম থেকে বেড় হতে চাইলে হারুন মির্জা শৈকত আর হেলালকে থামিয়ে দিয়ে বললো
_ তোমরা দুইজন আমার এখনি আমার কেবিনে দেখা করো,,
বলেই হারুন মির্জা মিটিং রুম থেকে বেড় হয়ে গেলেন,,,
আরহাম মেয়ের গালে চুমু খেলো,,সেই সকাল থেকে মেয়েটা কোলের ভিতর ঘাপটি মেরে ঘুমাচ্ছে,,,কোনো খবর নেই,, একদম বিলাই ছানা,,
সর্বশেষ আরাফ চেয়ার ছেড়ে উঠলো,,রাগে তার শরীর ফেটে যাচ্ছে,,আরহাম তা বুঝতে পেরে বলে উঠলো
_ Mr আরাফ শাহারিয়ার মির্জা,,,

আরাফ থমকে গেলো ভাই এ্য দিকে ফিরে তাকালো,,আরহাম উঠে দাঁড়িয়ে কঠোর কন্ঠে বললো
_ আজ যদি তুমি নিজের কাজে মনোযোগী হতে তবে আজ আমাকে এই স্থান দখল করতে হতো না,, তুমি যে সবার সম্পর্কে সব জানো এটা আমার জানা,,,,তবু তুমি কোনো রকম একশন নেওনি কারণ তোমার যায় আসে না এই কম্পানি ডুবলো নাকি বাঁচলো,,,চাচার সাথে মিলে বাপের পিঠে ছুরি ঠুকছো,,,আশা রাখছি সুধরে যাবে না হলে আমাকে যদি সুধরাতে হয় তবে ___
বলেই আরাফের দিকে রাগি চোখে তাকালো,, আরাফ শুকনো ঢোক গিলে বললো
_ আমার এই চেয়ার চাই,,,এটার জন্য অনেক কষ্ট করেছি,,
_ মিথ্যা বলছো,, কষ্ট তুমি করোনি সব dad করেছে,, তুমি তো বসে বসে সবার নাটক দেখেও চুপ ছিলে,,এখন থেকে যদি সুধরে যাও তবে এই চেয়ার তোমার হবে,, আমার কোনো রকম intrastd নেই এখানে বসার,,
বলেই আরহাম মেয়েকে নিয়ে মিটিং রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,আসলেই আরাফ কখনোই কিছুতে খেলায় করেনি তাই আজ এই অবস্থা,,,
হারুন মির্জা নিজ ভাই আর ম্যানেজারের দিকে যাই আছে,, দুই জন মিলে তাকে ডুবানোর প্লান করছে,,
হারুন মির্জা বরাবরই শান্ত তাই শুধু বললেন
_ সুধরে যাও না হলে এই কম্পানি থেকে তোমাদের বেড় করতে আমার ২ সেকেন্ডো লাগবে না,,মনে রেখো এই সব কিছু আমার,,,

তখন প্রায় বিকাল,,,নুবাকে নতুন একজন teacher পড়াতে এসেছে,,বয়স বেশি হলে ৩৮+ ,,,তবে কেমন একটা জানি নুবার অদ্ভুত লাগছে,, মনে হচ্ছে লোকটা তার দিকে কেমন করে তাকাচ্ছে,,,
আরহাম মাত্র বাড়ি ফিরেছে,,দুপুরে ফিরতো তবে আজ একটু বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করায় দেরি হয়ে গেলো,, এদিকে আয়রা সারাদিন কান্নাও করেনি তাই আরহাম একটু দেরি করে ফিরেছে,,,আসার সময় গাড়িতে আয়রা ক্ষুত ক্ষুত করছিলো তাই ফিরেই আগে নুবার রুমে গেলো সে তবে রুমের দরজার সমানে আসতেই দেখলো নুবা পড়ার টেবিলের এক পাশে বসে আছে,,আর একটি লোক অন্য পাশে,, অতঃপর কিছু একটা নজরে পড়লো তার,,কপালের রগ ফুলে উঠলো,,,মেয়েকে এক হাতে নিয়ে গটগট পায়ে এগিয়ে গেলো,,,
কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই টেবিলের কাছে যেএ,,টেবিল থেকে কলম উঠিয়ে নিলো,,,নুবা মাথা উঁচু করলো দেখার জন্য কে তখনি সামনে বসা থাকা মানুষের আর্তনাদ ভেসে উঠলো,,,নুবার ছোট্ট মুখে ছিটে গেলো কিছু ফোঁটা রক্ত,,,

নুবা আঁতকে উঠলো,,, দুই হাত মুখের উপর দিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো কি হলো,,পরপর দেখলো তার হাতে রক্ত লেগে আছে,,,,নুবা চোখ বড়বড় করে সামনে তাকাতেই দেখলো ৩০ মিনিট আগে আসা সদ্য নতুন শিক্ষিকের বাম হাতের তালুতে কলম এপাড় ওপাড় হয়ে গেছে,,সেখান থেকে গলগল করে রক্ত বেড় হচ্ছে,,,
নুবার শরীর শিরশির করে উঠলো,,নুবা কিছু বুঝে উঠার আগেই আরহাম লোকটাকে ফ্লোরে ফেলে দিলো লোকটার মুখের উপর নিজের পা দিয়ে আঘাত করলো,,,ঠিক চোখ বরাবর,,,
নুবা শুধু স্তব হয়ে রইলো,, পরিস্থিতি এতো তাড়াতাড়ি পরিবর্তন হয়েছে যে সে আন্দাজ করতে পারলো না কি হয়েছে,,
এদিকে লোকটার আর্তনাদ শুনে বাড়ির সকালে ছুটে আসলো,,আমিনা বেগম এরকম পরিস্থিতি দেখে হতভম্ব হয়ে গেলো,, চিৎকার করে বললো
_ আরহাম,,,কি হচ্ছে টা কি,,,
আরহাম লোকটার বুকে পারা দিয়ে গর্জে উঠে বললো,,
_ শিক্ষক তুই শিক্ষকের মতো থাকবি,,তোর নজর থাকবে ছাত্রীর বই এর দিকে,,নাকি ছাত্রীর বুকের দিকে,,b****

কথা টুকু কর্ণপাত হতেই সবাই বুঝে গেলো এখানে কি হয়েছে,,নুবা মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,, মাত্র কিছু নোট করছিলো সে তবে এমন কিছু হবে আশা করেনি,, সত্যি বলতে গত ৩০ মিনিট ধরে নুবা অনেকবার খেয়াল করেছে লোকটা কলম নেওয়ার বাহানায়,,বই নেওয়ার বাহানায়,,,নুবার হাত ছুঁয়ে দিচ্ছে যা নুবার বেশ অদ্ভুত লেগেছিলো তবে সে এতোটা খেলায় করেনি,,
আমিনা বেগম ছুটে এসে ছেলেকে আঁকড়ে ধরে বললেন
_হয়েছে,,আর না,,, গুরুজন হয় তোমার,,
আরহাম মুখ দিয়ে কয় একটা গালি বেড় করলো,,যা খুবি বিচ্ছিরি,,,,
পরপর লোকটার থেকে চোখ সরিয়ে নুবার দিকে তাকালো,,যে কিনা ভয়ে রিতিমত নির্বাক,,,
আরহাম আয়রাকে আমিনা বেগমের কোলে দিয়ে নুবার সামনে এগিয়ে গেলো,,,নুবা কম্পিত চোখে আরহামের দিকে মাথা তুলে তাকালো,,তখনি তার গালে ঠাস করে একটা চড় পড়লো,,,নুবা কিছুটা ঝুকে যেএ ঠোঁটে ঠোঁট চেপে শুকনো ঢোক গিললো,,তার কি দোষ,,
নুবার দ্বিতীয় বার কিছু বুঝে উঠার আগেই আরহাম নুবার ওরনা তার গলায় পেঁচিয়ে ধরে বললো
_ এভাবে পড়তে হয় ওরনা,,,এভাবে,,, শুধু মাথার উপর দিয়ে রেখে শো অফ করার কোনো দরকার নেই,,এর থেকে ভালো এটা ছাড়াই পড়ো,,

বলেই ওরনা টেনে নেওয়ার আগেই আমিনা বেগম এসে ছেলেকে আটকে বললো
_ আরহাম,,, অসভ্যতার সীমা থাকা দরকার,,
আরহাম মায়ের দিকে তাকিয়ে রাগি কন্ঠে বললো
_ অসভ্যতা আমি করছি নাকি ও করছে,,, ঝুঁকে ঝুঁকে অসভ্যের মতো কাজ করছিলো আর এই b**** টা চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিলো,,
বলেই ফ্লোরে পড়ে আর্তনাদ করতে থাকা লোকটাকে আর একটা লাথি মারলো,,,
এদিকে হাজেরার কলিজা যেনো মূহুর্তের মধ্যে ফাঁকা হয়ে গেলো,,,সে দৌড়ে এসে মেয়েকে নিজের সাথে আঁকড়ে ধরলো,,,
আরহাম হাজেরার দিকে তাকিয়ে কঠোর কন্ঠে বললো

_ মেয়েকে ভালো শিক্ষা দিন,,চলা ফেরা ঠিক করতে বলুন,,,আর আরশিকে ___
বলেই আরশির দিকে তাকালো,,আরশি দুটো লাফ দিয়ে উঠলো,,, আরহাম আরশির দিকে এগিয়ে যেএ ওর পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে ঠাস করে একটা নয় দুটো চড় বসিয়ে দিলো,,,
আরশি দুই গালে হাত দিয়ে আরহামের দিকে তাকিয়ে ঠোট উল্টে বললো
_ আ,,আমি আবার কি করলাম,, আম্মু __(বলেই গুনগুন করে কান্না করলো)
আমিনা,, হাজেরা,,ইশিতা,,, এমন কি তানিয়া সবাই অবাক,,এর ভিতরে আরশির কি দোষ,,,
আরহাম সবাইকে অবাক করে দিয়ে আরশির গালে আর একটা চড় মেরে বললো
_এমন ভাবে চলাফেরা করবি যাতে তোর উপর কেউ আঙ্গুল না তুলতে পারে,তোর জন্য আমার কথা শুনতে হয়,,আগে ঘড় ঠিক করতে বলে মানুষ আমাকে,,,তোকে আগে ঠিক করবো তার পর বাইরের মানুষকে,,
বলেই আরহাম গটগট করে রুম থেকে বেড় হয়ে গেলো,,,আরশি গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো কি হলো এটা,,
হাজেরা বেগম মেয়ের গালে হাত রেখে বললো

_ কি হয়েছিলোরে
নুবা বিরবির করে বললো
_ আসলে মা,,ওরনা মাথায় ঠিকি দিয়েছিলাম কিন্তু সামনে দিয়ে ভালো মতো দেয়নি হয়তোবা তাই ঝুঁকে থাকার ফলে___,,,,,এই জন্য হয়তোবা থাপ্পর টা খেয়াল,,,
বলেই হাজেরাকে জরিয়ে ধরলো নুবা,,, কিছু সময় পার হতেই বাইরে থেকে কিছু পোড়া গন্ধ পাওয়া গেলো,,,সবার নাকে গন্ধ টা যেতেই সবাই ভুরু কুঁচকে বাইরে গেলো,,, কিন্তু এমন কিছু দেখবে তারা আশা করেনি,,
আরশির সকল Western Dress আগুনে জ্বলছে,,,কলিডোর থেকে আরাহাম আরো ড্রেসে এনে আগুনে উপর থেকে ছুরে ফেলছে,,,সবাই হতভম্ব,,আরশি চিৎকার করে উঠলো
_ আম্মু আমার ড্রেস,,,,কি করছে তোমার ছেলে,,,
আরহাম ফালতু ড্রেস গুলো সব আগুনে ফেলে নিচে আসলো,,পরপর সবার দিকে তাকিয়ে দেখলো আরশি আহাজারি করছে তার কত দামি দামি,,fv ড্রেস,,, আরহাম এক পলক নুবার দিকে তাকিয়ে নিজের বোনের দিকে তাকালো অতঃপর গম্ভীর কন্ঠে বললো

_ আজ থেকে এই বাড়িতে মেয়েটা just থ্রিপিস,,,গাউন,,শাড়ি,,এই তিনটা ব্যতিত কেউ পুরুষদের মতো জিন্স পেন্ট,,, শার্ট,, গেঞ্জি,,ছোটো ছোটো টপস্ পড়বে না,,এটা আমি বলছি না আদেশ করছি,,,ওরনা ব্যতিত চলা ফেলা করলে পা ভেঙ্গে দেওয়ার হবে,, বিশেষ করে আরশি তুই,,,তোকে যাতে শালীনতা বজিয়ে রাখে বাইরে বেড় হতে দেখি,,,যদি বেশি ইচ্ছা হয় তবে রুমের ভিতরে পড়ে ২৪ ঘন্টা বসে থাকবি তবে বাইরে ___
বলেই আঙ্গুল দিয়ে আরশিকে শাশালো,,
আরশির মাথা ঘুরে উঠলো,, প্রথমে ৩ টা থাপ্পর তার পর নিজের এতো সুন্দর সুন্দর ড্রেস গুলো পুড়তে দেখে সে মাথায় হাত দিয়ে বললো
_ আম্মু আমাকে ধরো,,
বলেই ওখানেই মাথা ঘুরে পড়ে গেলো,,আসলে সে অজ্ঞান হয়নি শুয়ে শুয়ে একটু কান্না করবে যাতে কেউ না দেখে,,

কথা শেষ করে আরহাম নুবরা দিকে তাকিয়ে বললো
_ আয়রাকে ফিড করিয়ে,,ঘুম পাড়িয়ে রুমে দিয়ে আসবেন,,,আর হ্যাঁ mom ওর জন্য ফিমেল teacherএর ব্যবস্থা করো,,আর ওই আবর্জনাটাকে বাড়ি থেকে বেড় করো,,
আরাহাম চলে যেতেই আরশি উঠে বসলো,মায়ের দিকে তাকিয়ে আহাজারি করে বললো
_ আম্মু তুমি কিছু বলবে না,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললো
_ কি আর বলবো,, আল্লাহর পথ থেকে তো সরেই গেছি,,ছেলেটা আমার একটা ভালো কাজ করেছে,,
বলতে বলতে আমিনা রুমের দিকে গেলোই,, দারোয়ান না হয় গার্ডের ডাকবে ওই লোকটাকে হসপিটালে নিয়ে যেতে,,,

তখন রাত ১১ টা,, আরহাম ল্যাপটপ ঘাটছে,, জরুরি কিছু জোগার করতে চাইছে সে,,,তবে না পেয়ে বারবার বিরক্ত হচ্ছে,,
ইশিতা নাইট ড্রেস ঠিক করতে করতে বললো
_ আচ্ছা আরফ আমরা হানিমুনে কবে যাবো,,
আরাফ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বিরবির করে বললো
_ শিঘ্রই,,তবে অফিসে জরুরি একটা প্রজেক্ট নিয়ে কাজ কাজ চলছে তাই দেরি হচ্ছে,,,
_ উফ্,,কবে এই কাজ শেষ হবে,,
বলতে বলতে আরাফের কাছে এসে বসে নিজ স্বামীর গলা জরিয়ে ধরে ন্যাকামো করলো যা নারীদের অধিকার,,,আরাফ আস্তে আস্তে নিজের কাজে ব্যস্ত হলো,,

আরশির মন খারাপ,,শরীরে গাউন জড়ানো,,সাথে ওরনা,,,
এদিকে ভিডিও কলে আরশিকে এতো উদাস দেখে রিহান বিরবির করে বললো
_ কি হয়েছে জান,,এতো মন খারাপ কেন,,
আরশি মুখটা পেঁচার মতো করে বললো
_ আজ বড় ভাইয়া আমার সব ড্রেস পুড়িয়ে ফেলেছে,,বলেছে Western Dress পড়তে না,,
রিহান অনেকটা খুশি হয়ে বললো
_ ভালোই তো হয়েছে,,এটা আমারো পছন্দ না,,আমি তো ভেবেছিলাম তোমাকে উঠিয়ে আনার পর এই ব্যাপারে সতর্ক করবো তবে যাক আমার শালাই কাজটা করে দিয়েছে,,
আরশি ভুরু কুঁচকে বললো
_ আমার Western Dress ভালো লাগে,,
_ হ্যাঁ তো,, আমার সামনে সারাদিন পড়ে ঘুরবে আমি কি না করেছি,,
আরশি নক খুঁটে বললো
_ আপনার কথা মনে পড়ছে,,, কালকে দেখা করবেন,,
_ ওকে,,, সি রোডের কফি শপে চলে এসো,, অতঃপর ওখান থেকে আমাদের নতুন ফ্লাটটা তোমাকে দেখিয়ে নিয়ে আনবো ,,আর একটু আকটু,,হুম উহু,,,
আরশি লজ্জায় লাল টমেটো হয়ে গেলো,,এই লোকটাকে চাকরি ছাড়িয়ে মনে হয় ভুল করেছে

আমিনা বেগম আয়ারার পাশে বসলেন,,, আরহাম মৃদু কন্ঠে বললো
_ এতো রাতে এখানে যে Mom,,
_ ঘুম আসছিলো না তাই ভালাম নাতনিটা কি করছে দেখে আসি,,
আরহাম মুচকি হাসলো,,আয়ার এখনো ঘুমায়নি,, ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে,,
আমিনা বেগম নাতনিকে কোলে নিয়ে এক গাল হেসে বললেন
_ তা প্রথম দিন আফিসের কেমন গেলো,,,
_ ভালোই,,,
আমিনা বেড় দীর্ঘ সময় ফেলে বললো
_ এবার থেকে সারাদিন মেয়েটাকে নিয়ে অফিসে থাকবি,,তোর কি মনে হয় না অন্ততপক্ষে আয়রার জন্য হলেও তোর একটা বিয়ে করা উচিত,,,
আরহাম শব্দ করে ল্যাপটপ বন্ধ করে বললো
_তুমি যদি এই রাত করে এই ফালতু কথা বলতে আসো তবে রুম থেকে যেতে পারো,,,
আমিনা বেগম দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন

_ সমস্যা কি তোর,,, অন্ততপক্ষে আয়র___
_ Mom please,, তোমার ঘুমের প্রয়োজন,,go
আমিনা বেগম মুখটা বিকৃত করে ছেলের দিকে সাপের ন্যায় রাগি চোখে তাকিয়ে বললো
_ তাহলে বিয়ে না করার কারন কি আয়ারার আম্মু ফিরে আসবে,,,
মায়ের কথায় আরহাম পিলে হেসে দিলো,,, ত্যাচ্ছিল্যো করে বললো
_ কখনোই না,, আর আসলেও আমি ওকে একসেপ্ট করবো না,, সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস আমার পছন্দ না,,,
আমিনা বেগম ছেলের দিকে সুরু চোখে তাকিয়ে বললো

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৪

_ ওর আম্মু কোথায়,, অন্ততপক্ষে এটা বল
_ আমি জানলে এখনো ও বেঁচে থাকতো,,,ব্যাস অনেক হয়েছে,,এই সব ফালতু চিন্তা বাদ দিয়ে রুমে যাও,,,
আমিনা এবার বেশ রাগি কন্ঠে বললো
_ আমি সবটা জানতে চাইছি আরহাম,,
আরহাম মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে সবটা জানার আগ্রহ পেলো কিছু সময় চুপ থেকে বলে উঠলো
_ ইলোরার সাথে আমার গত ৩ বছর আগে দেখা হয়েছিলো _

নীরব উন্মাদনা পর্ব ৪৬

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here