Home আবির ভাই আবির ভাই পর্ব ২৬

আবির ভাই পর্ব ২৬

আবির ভাই পর্ব ২৬
উর্মিলা মজুমদার

বাইরের বারান্দায় বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ হচ্ছে। প্রকৃতি যেন কার ওপর খুব অভিমান করেছে, তাই এলোমেলো হাওয়ায় সব উড়িয়ে নিতে চাইছে। মেঘ নিজের রুমের জানলার পর্দাটা টেনে দিল। পর্দার ওপাশে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। শ্রাবণের এই ধারাপাত বড় বিচিত্র; মানুষের মনের ভেতরকার জমানো কান্নাগুলোকে সে টেনে বের করে আনে।
​মেঘ বিছানায় গা এলিয়ে দিল। অস্থির মনটাকে শান্ত করার এক বিফল চেষ্টা। সে চোখ বন্ধ করে লম্বা লম্বা শ্বাস নিতে লাগল। ঠিক সেই মুহূর্তেই মস্তিষ্কের কোনো এক গোপন কুঠুরি থেকে পুরনো এক স্মৃতি হানা দিল সেই বৃষ্টিতে ভেজার রাত।

​মেঘ বিড়বিড় করে নিজেকে বোঝাতে চাইল, ‘যে লোকটা আমায় অবলীলায় ভুলে গেল, তাকে নিয়ে আমি কেন মাথা ঘামাচ্ছি? সে কি আমায় ভুলে গেছে বলেই আমার এই দহন? মহাপুরুষেরা বলেন, একজন মানুষ যখন অন্য কাউকে নিয়ে তীব্রভাবে ভাবে, সেই ভাবনার তরঙ্গ নাকি অপর প্রান্তের মানুষটির মনেও গিয়ে লাগে। তবে কি আবির ভাইও এখন ঠিক এই মুহূর্তে আমার কথা ভাবছে?’
​মেঘ দুই হাত দিয়ে নিজের মাথাটা চেপে ধরল। আগডুম-বাগডুম হাজারটা চিন্তা মাথায় নিয়ে সে ঘুমানোর চেষ্টা করতে লাগল। অথচ মেঘের অবচেতন মনের সেই আশঙ্কাই যে সত্যি হয়ে ধরা দিয়েছে, তা সে ঘুণাক্ষরেও জানে না।
​শহরের অন্য প্রান্তে, একাকী এক ফ্ল্যাটের বারান্দায় আবির ভাই বসে আছে। তার সামনেও শ্রাবণের অবিরাম ধারা। বৃষ্টির পানি এসে তার গায়ে লাগছে, কিন্তু সেদিকে তার ভ্রুক্ষেপ নেই। তার সমস্ত জগত এখন আটকে আছে হাতের মোবাইল স্ক্রিনটায়। সেখানে শাড়ি পরা এক তরুণীর ছবি—মেঘ।
​ছবিটা সেই দিনের, যেদিন মেঘের কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠান ছিল। আবির গিয়েছিল প্রধান অতিথি হয়ে। সেদিন মেঘের সে কি রাগ! আবির কেন একবারও তার দিকে ফিরে তাকাচ্ছে না, কেন তাকে ভিড়ের মধ্যে আলাদা করে চিনছে না। এই অভিমানে মেঘের চোখ হতে জল আসার জোগাড় হয়েছিল।
​অথচ মেঘ জানে না, সেই ভিড়ের আড়ালে আবিরের চোখজোড়া কেবল তাকেই খুঁজেছে। সেই মুহূর্তটাকে সে নিজের মুঠোফোনে ফ্রেমবন্দী করে রেখেছিল অতি সংগোপনে। পৃথিবী জানত না, মেঘও জানত না। আজ এই নিঃসঙ্গ বর্ষণমুখর রাতে সেই ছবিটাই আবিরের একমাত্র অবলম্বন।
​মানুষের ভালোবাসা বড় বিচিত্র। কেউ প্রকাশ করে হাসিতে, আর কেউ জমিয়ে রাখে হৃদয়ের অতি গোপন কোনো সিন্দুকে, যার চাবি হয়তো ঈশ্বর নিজের হাতে রেখে দিয়েছেন।

পরদিন সকালটা রোদেলা। অরু মাত্রই ড্রয়িং রুমের সোফায় গা এলিয়ে দিয়েছে, ঠিক তখনই তূর্যর আবির্ভাব। তূর্যকে দেখামাত্র অরুর ভেতরের চঞ্চল মেয়েটা কেমন যেন চুপসে গেল। মনে হলো, এক নিমেষে তার সব তেজ কর্পূরের মতো উড়ে গেছে। অরু খুব মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করল, ‘কী চাই?’
​তূর্য তার চোখের কালো সানগ্লাসটা খুলল। তার গলায় রাজ্যের গাম্ভীর্য। সে খুব নিস্পৃহ কণ্ঠে বলল, ‘আবির কি বাড়িতে আছে?’
​অরু মাথা নাড়ল। ছোট করে জবাব দিল, ‘নাহ, নেই। আবির ভাই এখন বাইরেই থাকে।’
​তূর্য আর কোনো কথা বাড়াল না। মানুষটা বোধহয় বাড়তি কথা বলতে ভুলে গেছে। সে যে পথে এসেছিল, সেই পথেই ফিরে গেল। অরুও তাকে আটকানোর চেষ্টা করল না, এমনকি লৌকিকতার খাতিরে একবার চায়ের কথা পর্যন্ত জিজ্ঞেস করল না। পরে অবশ্য মেঝো আম্মু এই নিয়ে অরুকে একচোট বকেছিলেন। তাঁর কথা হলো। বাড়ির মেহমানকে কেউ এভাবে তাড়িয়ে দেয়?
​অরু মনে মনে হাসল। তাতে তার কী? বাঁদর অরু সারাজীবন এরকমই থাকবে। নিয়মকানুন আর সামাজিকতা যেন তার ধাতে নেই।

​সময় তো আর কারো জন্য বসে থাকে না। সে আপন মনে গড়িয়ে যায়। মেঘের মাথার ক্ষতটা বেশ দ্রুতই সেরে উঠল। ছোটো আব্বু আর আম্মু ক’দিন হলো গ্রামে ফিরে গেছেন। তদ্দিন মেঘ তাদের সঙ্গটুকু খুব উপভোগ করেছে। এখন দিনগুলো কাটছে বাঁধা নিয়মে। সকালে অরুর সাথে কলেজ, বিকেলে কোচিং ব্যাস, এই তো জীবন।
​রাত এখন অনেক। চারপাশ নিঝুম। মেঘ ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে যাবে বলে আলমারিটা খুলল। তখনই কাপড়চোপড়ের আড়ালে লুকিয়ে রাখা সেই পারফিউম বোতলটার ওপর তার নজর পড়ল। জিনিসটা সে দিনদুপুরে আবির ভাইয়ের রুম থেকে চুরি করে এনেছিল। কেউ দেখেনি।
​মেঘ আলতো করে বোতলটা হাতে নিল। তারপর চোখ বন্ধ করে ঘ্রাণ নিল সেই পারফিউমের। কয়েক মুহূর্তের জন্য তার মনে হলো আবির ভাই ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন। তার শরীরের সেই পরিচিত ঘ্রাণটা মেঘকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল।
​কিন্তু মায়া তো বেশিক্ষণ টেকে না। মেঘ চোখ খুলল। রুমে আবির ভাই নেই। মেঘের ভেতরটা হুট করে উথাল-পাতাল করে উঠল। মানুষটা এতোটা পাষাণ কী করে হলো? এতোটা অবহেলা মানুষ মানুষকে কীভাবে করে?

​মেঘ তার ফোনটা হাতে নিল। কাঁপা কাঁপা আঙুলে ডেটা অন করে দেখল। আবির ভাই অনলাইনে নেই। মানুষটা সম্ভবত নেট দুনিয়ার আড়ালে কোনো এক মেঘবতী রাজ্যে হারিয়ে গেছে। আর মেঘ পড়ে আছে তার চুরিকরা ঘ্রাণটুকু নিয়ে। আবির ভাইয়ের কোনো খোঁজ নেই। গত কয়েকদিন হলো তার সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো স্ট্যাটাস নেই, কোনো নতুন ছবি নেই। যেন মানুষটা হুট করে পৃথিবী থেকে ভোজবাজির মতো উবে গেছে। মেঘ ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলল। তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠছে। ঠিক যেমনটা অমাবস্যার রাতে কোনো নির্জন পুকুরঘাটে বসলে হয়। এক ধরণের অবাধ্য সাহস তার শরীরে ভর করল।
​মেঘ রুম থেকে বেরিয়ে প্রায় ছুটতে ছুটতে সাদিফের রুমে গিয়ে ঢুকল। সাদিফ তখন গভীর মনোযোগে ল্যাপটপে কী যেন টাইপ করছিল। দরজা খোলার শব্দে সে চমকে তাকাল। মেঘের মুখটা ফ্যাকাশে। সাদিফ ল্যাপটপটা বন্ধ করে দিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘মেঘ, কী হয়েছে রে? শরীর খারাপ?’
​মেঘ সাতপাঁচ না ভেবেই সরাসরি কাজের কথায় চলে গেল। ধরা গলায় বলল, ‘সাদিফ ভাই, আমাকে আবির ভাইয়ের কাছে নিয়ে যাবেন?’

​সাদিফ পুরোপুরি হতভম্ব। সে দেয়ালঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে বলল, ‘বলিস কী! এই মাঝরাতে? পাগল হয়েছিস? যা হবার কাল সকালে হবে।’
​‘নাহ সাদিফ ভাই, এখনই যেতে হবে। দয়া করে চলুন। আমার খুব অস্থির লাগছে। মনে হচ্ছে আবির ভাই কোনো বিপদে পড়েছেন।’
​সাদিফ মেঘকে শান্ত করার চেষ্টা করল। মৃদু হেসে বলল, ‘বিপদ আসবে কোত্থেকে? আজ বিকালেও তো আমি আর প্রেমা ওর সাথে কথা বললাম। ও একদম ঠিক আছে। দাঁড়া, তোর সামনেই ওকে ফোন দিচ্ছি।’
​সাদিফ ফোন হাতে নিয়ে আবিরের নাম্বারে কল করল। রিং হচ্ছে, একনাগাড়ে রিং হয়ে যাচ্ছে—কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ ফোন তুলছে না। মেঘের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমতে শুরু করেছে। সে উদগ্রীব করে বলল, ‘দেখলেন তো? ফোন ধরছে না। নিশ্চয়ই বড় কোনো বিপদ হয়েছে।’
​সাদিফ একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেল। তবুও গলার স্বর স্বাভাবিক রেখে বলল, ‘আরে রিলাক্স, মেঘ। হয়তো অফিসের কোনো কাজ করছে কিংবা ঘুমিয়ে পড়েছে। মানুষ কি সব সময় ফোন ধরে বসে থাকে?’
​মেঘের চোখে জল টলমল করছে। সে প্রায় কেঁদেই ফেলল, ‘আমি ওসব বুঝি না। আপনি আমাকে নিয়ে চলুন, প্লিজ!’

​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সাদিফ আর না করতে পারল না। সে উঠে দাঁড়িয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘আচ্ছা চল। কিন্তু বড়ো আব্বু জানলে নির্ঘাত আমার পিঠের চামড়া রাখবে না।’
​বাড়ির সবাইকে ফাঁকি দিয়ে, চোরের মতো নিঃশব্দে মেঘ আর সাদিফ বেরিয়ে পড়ল। সাদিফের গাড়িটা রাতের জনমানবহীন ঢাকা শহরের বুক চিরে আবিরের ফ্ল্যাটের দিকে ছুটছে। আধঘণ্টার পথ, কিন্তু মেঘের কাছে মনে হচ্ছে অনন্তকাল। সে অস্থির হয়ে নখ কামড়াচ্ছে। সাদিফ বারবার স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে বলছে, ‘রিলাক্স মেঘ, কিছুই হয়নি। তুই বৃথা চিন্তা করছিস।’
​মেঘ উত্তর দিল না। তার বারবার মনে হচ্ছে। আবির ভাই ঠিক নেই। কোথাও একটা বড় ভুল হয়ে যাচ্ছে।
বসুন্ধরা সিটির সামনে যখন গাড়িটা থামল। চারপাশ জনশূন্য। আবির ভাইয়ের ফ্ল্যাটটা এখানেই। সাদিফ গাড়ি থেকে নামার সুযোগ পাওয়ার আগেই মেঘ ঝাপ দিয়ে নামল। দারোয়ানকে কিছু একটা বলে সে সোজা ভেতরে ঢুকে গেল, কিন্তু সাদিফ নড়ল না। সে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল গাড়ির পাশে।
​মেঘ পেছন ফিরে ডাকল, ‘সাদিফ ভাই, চলুন?’

​সাদিফ মাথা নাড়ল। তার গলায় জড়তা। সে উশখুশ মেজাজে বলল, ‘নাহ, আমি যাব না। আবির আমাকে দেখলে হিতাহিত জ্ঞান হারাবে। বকাঝকা করবে। তুই যা, আমি নিচে দাঁড়িয়ে আছি। ১০ তলা, এ-২ ফ্ল্যাট।’
​মেঘ আর কথা বাড়াল না। লিফটটা ১০ তলায় গিয়ে থামল। মেঘের মনে হচ্ছো তার বুকের ভেতর কেউ একজন অবিরাম ড্রাম বাজাচ্ছে। করিডোরটা বড় বেশি নিস্তব্ধ। এ-২ ফ্ল্যাটের দরজায় ছোট একটা নেমপ্লেট— ‘খান’স হাউজ’। মেঘ বুঝল, এটাই সেই জায়গা।
​সে কয়েকবার কলিং বেল টিপল। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেল না। মেঘের অস্থিরতা বাড়তে থাকে। হাত দিয়ে দরজায় সামান্য ধাক্কা দিতেই ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ করে দরজাটা খুলে গেল। দরজা খোলা রেখে কেউ এভাবে ঘুমায় নাকি?

​মেঘ মৃদু স্বরে ডাকল, ‘আবির ভাই?’
​ভেতরটা থমথমে। রাত দেড়টা বাজে, অথচ ড্রয়িং রুমের সবকটি বাতি জ্বলছে। অদ্ভুত একটা ব্যাপার। মেঘ পা টিপে টিপে ভেতরে ঢুকল। সোফা, সেন্টার টেবিল সব ঠিকঠাক, কিন্তু মানুষটা নেই। মেঘ লিভিং রুমের দরজাটা ঠেলে ভেতরে পা রাখতেই থমকে গেল।
​বিছানার অবস্থা শোচনীয়। চাদর কুঁচকে আছে, বালিশ মেঝেতে। আবির ভাই উপুড় হয়ে শুয়ে আছেন। স্থির, নিশ্চল। মেঘের ভেতরটা হাহাকার করে উঠল। সে দৌড়ে গিয়ে আবির ভাইয়ের কাঁধ ধরে ঝাঁকাতে শুরু করল, ‘আবির ভাই! ও আবির ভাই!’
​আবিরের গায়ে হাত দিতেই মেঘ চমকে উঠল। আগুনের হলকা যেন তাকে স্পর্শ করল। প্রচণ্ড জ্বর। শরীরের উত্তাপ যেন চামড়া ভেদ করে মেঘের আঙুলে এসে বিঁধছে। ঠিক এই মুহূর্তে মেঘের মনে হলো, তার দীর্ঘদিনের জমা করা সব অভিমান, সব নালিশ এক নিমেষে কর্পূরের মতো উড়ে গেল। এখন সে কোনো বিচারপ্রার্থী নারী নয়, সে কেবল একজন উন্মাদ প্রেমিকের বাধ্য প্রেমিকা।

​সে ফিসফিস করে বলল, ‘আবির ভাই, আমি এসে গেছি তো। কথা বলুন।’
​আবির কথা বলল না। মেঘের কান্নার শব্দটা সম্ভবত আবির ভাইয়ের অবচেতন মনে গিয়ে ধাক্কা দিল। তিনি বিড়বিড় করে কিছু একটা বললেন, তারপর খুব ধীরে কাত হয়ে ফিরলেন। আবির ভাইয়ের চোখ দুটো আধবোজা। অস্পষ্ট নজরে তিনি মেঘের দিকে তাকালেন।
​মেঘ চমকে উঠল। মাত্র কয়েকটা দিন, অথচ মানুষটা যেন অন্য কোনো গ্রহ থেকে ফিরে এসেছে। গাল ভেঙে বসে গেছে, চোখের নিচে গাঢ় কালি। আবির ভাই সম্ভবত বুঝতে পারছেন না তিনি কোথায় আছেন। তাঁর কাছে বাস্তবের মেঘ আর স্বপ্নের মেঘের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। তিনি হয়তো ভাবছেন, বরাবরের মতো আজও এক টুকরো মেঘ তার শিয়রে এসে বসেছে।
​তপ্ত একটা হাত বাড়িয়ে তিনি মেঘের চিবুক স্পর্শ করলেন। আঙুলের ডগাগুলো আগুনের মতো গরম। মেঘ কাঁপছে, কিন্তু সেই স্পর্শ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সাধ্য তার নেই। আবির ভাই আলতো করে মেঘের মাথাটা টেনে নিলেন নিজের বুকের ওপর।

​মেঘ বাধা দিল না। সে শুনতে পেল সেই হৃদপিণ্ডের শব্দ এক উন্মাদ প্রেমিকের বুকের ধুকপুকানি। মেঘ ঢোক গিলল। তার কপালের পাশে অবাধ্য কয়েকটা চুল আবির ভাইয়ের শার্টের বোতামে আটকে গেল। এই সামান্য আটকে যাওয়াটাই যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সত্য হয়ে ধরা দিল সিনেমাটিক।
​কিছুক্ষণ পর মেঘ নিজেকে একটু সরিয়ে নিতেই তার নজর পড়ল আবির ভাইয়ের বাম হাতের দিকে। হাতের নিচের দিকে কালচে হয়ে যাওয়া একটা জখম। মেঘের স্পষ্ট মনে আছে, কদিন আগে বাস্কেটবল ক্লাবে যখন শেষবার দেখা হয়েছিল, তখন এই হাতটা একদম পরিষ্কার ছিল। ক্ষতটা খুব পুরনো নয়, আবার টাটকাও নয়। দেখে মনে হচ্ছে, কেউ একজন খুব সচেতনভাবে, অনেকটা ইচ্ছে করে জায়গাটা থেঁতলে দিয়েছে। ​মেঘের ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে গেল। জগতের সব রহস্যময়তা তখন তার কাছে তুচ্ছ। সে দ্রুত ফোনটা বের করে সাদিফকে কল করল। ওপাশ থেকে সাদিফের কণ্ঠ শোনা গেল, ‘কী হয়েছে রে?’

আবির ভাই পর্ব ২৫

​মেঘ ভাঙা গলায় শুধু বলল, ‘উপরে আসেন সাদিফ ভাই। এখনই আসেন।’
​সাদিফ এক মুহূর্ত দেরি করল না। সে হয়তো নিচেই পায়চারি করছিল। ঝড়ের বেগে সে রুমে ঢুকল। আবিরের অবস্থা দেখে তার ফর্সা মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। কোনো কথা না বাড়িয়ে সে পকেট থেকে ফোন বের করে ডাক্তারকে কল লাগাল।

আবির ভাই পর্ব ২৭

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here