আবির ভাই পর্ব ২৯
উর্মিলা মজুমদার
পরদিন সকাল। গতরাতের সেই উম্মাদনার কোনো চিহ্ন নেই। প্রকৃতি এক রাতের জন্য পাগল হয়েছিল। এখন সে গম্ভীর মুখে তসবিহ জপছে। আবির ভাই সজ্ঞানে ফিরতেই দুপুরের পরপর বিদায় নিলেন। নেশার ঘোর কাটলে মানুষ সম্ভবত নিজেকে খুব ছোট মনে করে, তিনি সম্ভবত সেই দলেই পড়েছেন। সাদিফ চলে গেল তার ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে, আর প্রেমা উধাও হলো নর্থ সাউথের করিডোরে। খান বাড়ির দুই ‘বাঁদর’ সদস্য অরু আর মেঘ, দুজনেই কলেজের পথে পা বাড়াল।
কলেজ ছুটি হলো দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে। রোদের তেজ তখন বেশ কড়া। মেঘ একটা হাওয়াই মিঠাই কিনল। গোলাপী রঙের সেই মেঘের মতো মিষ্টিটা সে সযত্নে রাখল সাইকেলের ঝুড়িতে। পেছনে বসে আছে অরু।
অরু বলল, “কালকের পার্টিটা কিন্তু জম্পেশ হয়েছে, কী বলিস রে মেঘ?”
মেঘ সাইকেলের প্যাডেল মারতে মারতে নির্লিপ্ত গলায় বলল, “হুম। কিন্তু মেজাজটা খারাপ লাগে যখন ভাবি ফুপু-ফুপা কিংবা আব্বু-আম্মু কেউ ছিল না। সবাই থাকলে মন্দ হতো না।”
অরু একটু হাসল। সে বলল, “হবে হবে, একদিন ঠিকই মহাজাগতিক মিলন হবে। সমস্যা তো তোর ‘আব্বু’কে নিয়ে। ফুপু তো কানাডায় থাকে, চাইলেই উড়াল দিয়ে চলে আসতে পারে। কিন্তু তোর আব্বু তো এক রহস্যময় মানুষ। তিনি কেন যে শহরে আসেন না!”
মেঘ সাইকেলের গতি কমিয়ে দিল। তার মনে এক পুরনো প্রশ্ন উঁকি দিল। সে বলল, “আচ্ছা অরু, আমার আব্বুর সাথে কি কোনো সমস্যা হয়েছে? আমাদের বংশের সবাই তো দেখি হয় এই ব্যস্ত শহরে, না হয় সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে। অথচ আব্বু সেই কবে থেকে গ্রামেই পড়ে আছেন। আমাকেও কখনো শহরে নিয়ে আসলেন না। ব্যাপারটা কেমন অদ্ভুত না? আবার এখন হুট করেই শহরে পাঠিয়ে দিলেন।”
অরু এবার অধর জোড়ার কোণে হাসি ফুটিয়ে তুলল। বলল, “পেছনের কোনো কাহিনী তো অবশ্যই আছে। জগতের সবকিছুর পেছনেই একটা ‘কারণ’ থাকে। ওসব বাপু আমরা জানি না। তুই বরং তোর প্রিয় আবির ভাইয়ের কাছ থেকে জেনে নিস কোনোদিন।”
বলেই অরু একটা মোক্ষম চোখ মারল। মেঘের ফর্সা মুখটা মুহূর্তেই টকটকে লাল হয়ে গেল। সে চেঁচিয়ে উঠল,
“অরুউউউউউ!”
অরু খিলখিল করে হেসে উঠল। ঠিক তখনই মেঘের চোখে পড়ল রাস্তার ধারের এক দৃশ্য। সে কড়া করে ব্রেক কষল।
“অরু, দাঁড়া দাঁড়া! ওই দেখ!”
অরু বিরক্তি নিয়ে বলল, “কী হলো আবার?”
“ওই দেখ সাদিফ ভাই আর তার গার্লফ্রেন্ড!”
অরু খুব স্বাভাবিক চোখে তাকিয়ে বলল, “এতে অবাক হওয়ার কী আছে? সাদিফ ভাই কি রোবট? তার তো প্রেমিকা থাকবেই।”
মেঘ চোখ কপালে তুলে বলল, “আরে গাধী, তুই কি দেখতে পাচ্ছিস না? এই মেয়েটা তো সেই মেয়ে না, যাকে আমরা কিছুদিন আগে সাদিফ ভাইয়ের সাথে দেখেছিলাম। এটা একদম নতুন কেউ!”
অরু এবার শব্দ করে হাসল। বলল, “মেঘ, তুই তো দেখছি এখনো ছোট রয়ে গেলি। সাদিফ ভাই প্রতিদিন তার জামা বদলানোর মতো গার্লফ্রেন্ড বদলান। একেই বলে বৈচিত্র্যময় জীবন!”
সাদিফ মেয়েটিকে নিয়ে তার গাড়িতে চড়ে শাঁ করে বেরিয়ে গেল। তারা কিছু বলার সুযোগ পেল না। তবে মেঘ আর অরুর গন্তব্যও তো সেই খান বাড়ি। কিছুক্ষণ পরেই তারা বাড়ির গেটে পৌঁছে গেল।
সামনে সাদিফ ভাইকে দেখতেই মেঘের দুষ্টু বুদ্ধি চাগাড় দিয়ে উঠল। মেঘ আর অরু একে অপরের চোখের ভাষা বুঝে নিল। সাদিফকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় তারা এক সুরে, তাল মিলিয়ে গেয়ে উঠল—
”মে কারু তো সালা… ক্যারেক্টার ঢিলা হ্যায়!”
সাদিফ ভাই ঠিক সেখানেই পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে গেলেন। দুই ‘বাঁদরের’ দিকে একবার তাকাতেই তারা আর সেখানে দাঁড়াল না। তড়িৎ গতিতে দৌড়ে খান বাড়ির ভেতরে চলে গেল। সাদিফ ভাই বোধহয় মনে মনে ভাবছেন, এই দুই আপদকে নিয়ে সংসার করা কেউ আর পাগলাগারদে থাকা একই কথা। হঠাৎই তিনজনের পা একসঙ্গে থেমে গেল। সাদিফ, অরু এবং মেঘ। সাদিফ একটু পেছনে ছিল, সে-ও থমকে দাঁড়িয়েছে। খান বাড়ির ড্রয়িং রুমে বেশ গভীর আলোচনা চলছে। আলোচনা হওয়াটা কোনো অপরাধ নয়। মানুষ কথা বলার জন্যই পৃথিবীতে এসেছে। কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু যখন হয় আবির ভাই, তখন বিষয়টি আর স্বাভাবিক থাকে না।
আবির ভাই এখন এই বাড়িতে নেই। অসুস্থতা থেকে সেরে উঠেই তিনি নিজের ফ্ল্যাটে চলে গেছেন। আবির ভাই আসলে পালাতে চেয়েছেন, কিন্তু বন্ধন কি এত সহজে ছেড়ে দেয়?
বড় আম্মুর হাতে একটা সোনালী রঙের কাগজ। কিংবা হয়তো সাদা, দূর থেকে রঙের ঠিক আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছে না। মেজো চাচা, যাঁকে আমরা মেজো আব্বু ডাকি, তিনি হঠাৎ গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন, ‘এতো চিন্তা-ভাবনার তো কিছু নেই। জোয়ান ছেলে, দেখতে শুনতে রাজপুত্রের মতো। বিয়ের সম্বন্ধ তো আসতেই পারে। এতে অবাক হওয়ার কী আছে?’
আশেপাশ থেকে দু-একজন তাল মেলালেন, ‘হ্যাঁ, আসতেই পারে। খুব স্বাভাবিক।’
অরু আড়চোখে মেঘের দিকে তাকালা। মেয়েটার মুখ মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল। মেঘের বুক দুরুদুরু কাঁপছে কি না তা দেখার জন্য কোনো স্টেথোস্কোপের প্রয়োজন নেই। ওর চোখের মণিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ট্র্যাজেডি তখনো বাকি ছিল। বড় আম্মু হঠাৎ তাঁর তুরুপের তাসটি খেললেন। তিনি বেশ শান্ত গলায় বললেন, ‘আমার ছেলের বউ তো ঠিক করাই আছে। সেই ছোটবেলা থেকেই আমরা আবির আর প্রেমার বিয়ে ঠিক করে রেখেছি। আমাদের ঘরের কথা ঘরেই থাকবে।’
ব্যাস! এই এক বাক্যেই আকাশটা ভেঙে মেঘের মাথার ওপর পড়ল। মেঘ আর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। ওর হাঁটু কেঁপে উঠছে। ও খপ করে অরুর হাতটা ওমনভাবে ধরল। অরু বুদ্ধিমান মেয়ে। সে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য মেঘকে কায়দা করে সরিয়ে নিয়ে গেল দোতলার সিঁড়ির দিকে। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। দোতলার রুমে গিয়ে মেঘ স্ট্যাচুর মতো বসে রইল। অরু এক গ্লাস জল এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘মেঘ, এই নে জল খা। শান্ত হ।’
মেঘ সেই গ্লাসটা হাতে নিল না। এক ঝটকায় সেটাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দিল মেঝের ওপর। মেঘ চিৎকার করে উঠল, ‘আমার এসবের কিচ্ছু চাই না! কিচ্ছু না!’
মানুষ যখন খুব বেশি অসহায় হয়ে পড়ে, তখনই সে চিৎকার করে পৃথিবীকে জানাতে চায় যে সে আর পারছে না। মেঘও পারছে না। অরু কাঁপাকাঁপা গলায় বলল, ‘মেঘ, তুই শান্ত হ।’
শান্ত হওয়ার পরামর্শটি মেঘের কানে বিষের মতো লাগল। সে উন্মাদিনীর মতো হাসল। মানুষের হাসি কত রকমের হয়! মেঘের এই হাসিতে এক বুক দহন চুপসে। সে অরুর দিকে তেড়ে এসে বলল, ‘তুই আমাকে শান্ত হতে বলছিস? সিরিয়াসলি? হ্যাঁ, আমিই তো শান্ত থাকব। শান্ত থাকাই তো আমার কাজ, তাই না?’
মেঘ অরুর খুব কাছে গিয়ে দাঁড়াল। ধারালো অভিমানী স্বরে বলল, ‘আচ্ছা, তুই আমাকে কোনোদিন কেন বলিসনি যে আবির ভাইয়ের সঙ্গে প্রেমা আপুর বিয়ে ঠিক হয়ে আছে? তুই কি খুব আনন্দ পাচ্ছিলি আমার অবস্থা দেখে? তুই ইচ্ছে করে লুকিয়েছিস আমার কাছ থেকে, তাই না অরু?’
অরু বেচারি মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে। সে ধরা গলায় বলল, ‘মেঘ, বিশ্বাস কর, এমনটা নয়। বিয়ে ঠিক হওয়ার বিষয়টা আমিও আজই জানলাম, তোর সাথে।’
মেঘের তখন হিতাহিত জ্ঞান লুপ্ত হয়েছে। সে তিতকুটে গলায় বলল, ‘ঠিক আছে, কারও কিছু জানতে হবে না। আমি এখানে ফালতু লোক, একটা আপদ। আমিই এখান থেকে চলে যাচ্ছি। থার্ড পারসনের কোনো জায়গা এই বাড়িতে নেই।’
মেঘ ঝড়ের বেগে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। অরু পেছনে পেছনে দৌড়াচ্ছে, কিন্তু মেঘের গতি বৈশাখী ঝড়ের মতো। সে সোজা গিয়ে হাজির হলো ড্রয়িং রুমে। সেখানে খান বাড়ির মুরুব্বিরা তখনো আবির ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে গভীর আলোচনায় মগ্ন। মেঘ সোজা গিয়ে মেজো আব্বুর হাত ধরল। তার চোখের জল তখন বাঁধ ভেঙেছে। সে হিক্কা তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘মেজো আব্বু, আমি গ্রামে যাব। এখনই যাব। আব্বুকে দেখার জন্য আমার প্রাণ ছটফট করছে। আমাকে পাঠিয়ে দাও, প্লিজ!’
কেউ কিছুই বুঝতে পারল না। মেঘের কান্নার আসল কারণটা যে প্রেমা আপুর সঙ্গে আবির ভাইয়ের বিয়ে, সেটা বড়রা কল্পনাও করতে পারলেন না। তারা ভাবলেন, মেয়েটা হয়তো তার বাবার জন্য খুব বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছে।
সবাই রাজি হয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে মেঘের ব্যাগ গুছিয়ে দেওয়া হলো। একটা গাড়ি ঠিক করা হলো গ্রামের উদ্দেশ্যে। মেঘ কাউকে কোনো কথা বলার সুযোগ দিল না। অরু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে, মেঘ তার ওপর প্রচণ্ড বিষ উগড়ে দিয়ে গেছে। অভিমানটা এখন পাহাড়ে রূপ নিয়েছে।
গাড়িটা স্টার্ট নিল। মেঘ চলে গেল। অরু একা দাঁড়িয়ে আছে বারান্দায়। সে এক মুহূর্ত দ্বিধা করল, তারপর কলেজ ব্যাগ থেকে মোবাইলটা বের করল। হাত সামান্য কাঁপছে। সে দ্রুত ডায়াল করল আবির ভাইয়ের নম্বর। ওপাশে রিং হচ্ছে। এক বার, দুই বার, তিন বার…
ঠিক চার বারের মাথায় ওপাশ থেকে আবির ভাইয়ের ভীষণ উদগ্রীব গলা ভেসে এল, ‘হ্যালো।’
অরুর বুক কামারশালার হাঁপরের মতো ওঠানামা করছে। মানুষের বুকের ভেতর যখন প্রচণ্ড উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, তখন তার ফুসফুস অক্সিজেন ঠিকমতো সরবরাহ করতে পারে না। অরু কথা বলতে চাইছে, কিন্তু ওর গলা দিয়ে স্বর বেরুচ্ছে না। সে কোনোমতে টেনে টেনে বলল, ‘আবির ভাই, আমি অরু।’
আবির ভাই বোধহয় ওপাশে সোফায় হেলান দিয়ে বসেছিলেন, ঝট করে সোজা হয়ে বসলেন।। গলার স্বরে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। তিনি বললেন, ‘চিনতে পেরেছি। এত হাঁপাচ্ছিস কেন? কী হয়েছে? কোনো বিপদ?’
অরু এবার আর নিজেকে সামলাতে পারল না। কান্নাভেজা গলায় বলল, ‘বিপদ তো হয়েই গেছে। মেঘ চলে গেছে আবির ভাই।’
আবির ভাই মুহূর্তেই স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। তিনি অস্ফুট স্বরে বললেন, ‘কোথায় গেছে?’
’গ্রামে। মেজো আব্বুর হাত ধরে কেঁদে কেঁদে একাকার করে ফেলল। বলল ওর নাকি ছোট কাকার কথা খুব মনে পড়ছে। এখনই যেতে হবে। আজরাতের ভেতরেই ওকে পৌঁছে দিতে হবে।’
আবির ভাইয়ের গলা এবার বদলে গেল। একে বলে ‘কাঠ গলা’। খুব শুকনো কোনো কাঠে করাত চালালে যে কর্কশ শব্দ হয়, গলাটা তেমনই শোনাল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘হঠাৎ কেন? ছোট আব্বুর শরীর কি খারাপ? মেঘ তো হুটহাট এমন পাগলামি করার মেয়ে নয়।’
অরু এবার আর চেপে রাখতে পারল না। তার ভেতরের বাঁধ ভেঙে গেছে। ঝরঝর করে সে সব বলে দিল ‘বড় আম্মু সবার সামনে বলে দিয়েছেন যে আপনার সঙ্গে প্রেমা আপুর বিয়ে ছোটবেলা থেকেই ঠিক হয়ে আছে। মেঘ সব শুনে ফেলেছে। ও ভেবেছে আমি আর আপনি মিলে ওর কাছ থেকে সব লুকিয়েছি। নিজেকে ওর খুব আপদ মনে হচ্ছে। আমাকে একগাদা কথা শুনিয়ে দিয়ে চলে গেল।’
টেলিফোনের ওপাশ থেকে একটা বিকট শব্দ পাওয়া গেল। আবির ভাই সজোরে একটা লাথি মারলেন ফুলদানিতে। তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, ‘ড্যাম ইট!’
বেশ কিছুক্ষণ ওপাশ থেকে আর কোনো শব্দ নেই। অনেকক্ষণ পর আবির ভাই আবার বললেন, ‘প্রেমা? বিয়ের কথা?’
অরু নিচু গলায় বলল, ‘হ্যাঁ আবির ভাই। বড় আম্মু নিজের মুখে সবার সামনে বললেন।’
অরু অবাক হয়ে ভাবছে, আবির ভাই এরপর কী করবেন। সে মিনমিন করে বলল, ‘আপনি কিচ্ছু করবেন না আবির ভাই? মেঘ যে আপনার ওপর প্রচণ্ড রাগ করে আছে! ও তো ভুল বুঝে শেষ হয়ে যাচ্ছে।’
আবির ভাই কোনো উত্তর দিলেন না। হঠাৎ করেই ফোনটা কেটে গেল।
আবির ভাই পর্ব ২৮
আবির ভাই এর মেজাজ আজ চূড়ান্ত রকমের খারাপ। গাড়ির ভেতর এসি চলছে পুরোদমে, কিন্তু তাঁর অস্বস্তি কমছে না। বারবার গলার টাইটা আলগা করছেন তিনি। তিনি বারবার নিজের বাম হাতের ব্যান্ডেজের দিকে তাকাচ্ছেন। আজ দুপুরে ডাক্তার সাহেব বেশ কড়া করে ব্যান্ডেজটা বেঁধে দিয়েছেন। জখমটা খুব গভীর নয়, কিন্তু চিনচিন করে একটা ব্যথা হচ্ছে। ডাক্তার বলে দিয়েছেন সেখানে যেন পানি না লাগে। মানুষের মনের জখম যদি এভাবে ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে রাখা যেত, তবে পৃথিবীটা কতই না সহজ হতো!
গাড়ি চলছে পদ্মাপাড় গ্রামের দিকে। মেঘকে ফেরাতে হবে। মেয়েটাকে না মানালে তাঁর জীবনের সমীকরণগুলো মিলছে না।
