Home অবেলায় ফোঁটা পুষ্প অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১১

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১১

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১১
রুপা

আর্যর গম্ভীর গলার আওয়াজ শোনা মাত্রই পুষ্পর পা মাটিতে আটকে যায়। ভয়ে বুক দুরুদুরু কাঁপতে শুরু করল—সে কি আবার কোনো ভুল করেছে নাকি? কিন্তু তার তো এরকম কিছু মনে পড়ছে না। সে চোখ নামিয়ে ফিরে দাঁড়াল। আর্য এগিয়ে একদম পুষ্পর সামনে দাঁড়াল। চোখ দিয়ে পুষ্পকে পর্যবেক্ষণ করে নিয়ে গম্ভীর গলায় বলল—

– “আমি ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত রুমের বাইরে এক পা-ও যাতে না পড়ে।”
আর্যর কথা শুনে পুষ্প ভীত নয়নে আর্যর দিকে তাকাল। আবার আঁখিজুগল নামিয়ে নিয়ে মিনমিন করে বলল—
– “নিচে আপনার বন্ধু বসে আছে। ওখানে কেউ নেই ওনাকে নাস্তাপানি দেওয়ার জন্য। উনি কিছু মনে করবেন না?”
ব্যাস! আর্যর দমানো অগ্নিকুণ্ডে যেন ঘি পড়ল। দাউদাউ করে জ্বলে উঠল যেন সেই আগুন। সে হিংস্র থাবায় পুষ্পর কাঁধ চেপে ধরে দরজার পাশে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরল। পুষ্প ভয়ে চোখ কিচে বন্ধ করে ফেলল। আর্য চাপা কণ্ঠে গর্জে উঠল—
– “এই মেয়ে, কিসের উনি? ‘উনি’ এই শব্দটা তো শুধু আমার জন্য বের হওয়ার কথা তোমার মুখ থেকে! তাহলে আরেকজনের জন্য তোমার মুখ দিয়ে এই শব্দ বের হলো কেন?”
আর্যর চাপা গর্জনে রমণী বেশ ভীত হলো। পুষ্প বুঝতে পারছে না হঠাৎ আর্যর রেগে যাওয়ার কারণ কী! সে তো রেগে যাওয়ার মতো কিছু বলেনি। পুষ্পকে চুপ করে থাকতে দেখে আর্য আরও হিংস্র হয়ে উঠল। সে এবার পুষ্পর চোয়াল চেপে ধরে, দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বলল—
– “এই মুখ দিয়ে আমি ব্যতীত অন্য কোনো পুরুষের জন্য যদি ‘উনি’ শব্দটা বের হয়েছে, তাহলে আই সোয়্যার, তোমার মুখ সারাজীবনের জন্য বন্ধ করে দেব।”
আর্যর কথার মানে বুঝতে পারল না পুষ্প। সে এমনিতে প্রচুর ভয় পেয়ে আছে, তবুও মুখ ফসকে বলে ফেলল—

– “উনি না বললে তাহলে কী বলব?”
নিজের মুখের কথা শুনে নিজেই হতবিহ্বল হয়ে যায় পুষ্প। সে তো বলতে চায়নি! সে ভয়ে ভয়ে আর্যর দিকে তাকিয়ে দেখল আর্য তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে অবলোকন করছে তাকে। তার হাবভাব দেখে পুষ্প আরও ভয় পেয়ে গেল—যদি মারে! আর্য এর আগে একবারই পুষ্পর গায়ে হাত তুলেছিল, যখন প্রথমবার পুষ্প আলমারিতে হাত দিয়েছিল। তারপর ধমক, অপমান, অবহেলা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলেও আর গায়ে হাত তোলেনি। পুষ্পও কোনোদিন আর্যর কথার বিপরীতে কথা বলেনি। কিন্তু আজকে পুষ্প না চাইতেও জবাব দিয়েছে, তাই হয়তো পুষ্প ভয় পাচ্ছে মার খাওয়ার। কিন্তু পুষ্পকে অবাক করে দিয়ে আর্য ঠোঁট বাঁকিয়ে তাচ্ছিল্য করে হেসে বলল—
– “বাহ! ইভানের জন্য আমার মুখে মুখে তর্ক করাও শুরু করে দিয়েছ?”
– “ইভান ভাইয়া… আমি ওনা…”
কথা শেষ হওয়ার আগেই আর্য আবার হিংস্র হয়ে চোয়াল আরও শক্ত করে চেপে ধরল—
– “বলেছি না, ‘উনি’ শব্দটা আমি ব্যতীত কোনো পুরুষের জন্য বের করবে না মুখ দিয়ে!”
পুষ্পর কাছে এই আর্যকে কেমন যেন অচেনা লাগছে। হঠাৎ নরম, হঠাৎ গরম—কী বলছে হয়তো নিজেও জানে না, বুঝতে পারছে না। পুষ্প এবার কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে জিজ্ঞেস করল—

– “তাহলে কী বলব?”
– “যা-ই বলো, ড্যামইট! কিন্তু ‘উনি’ শব্দটা যেন শুধু আমার জন্য বের হয়। এখন চুপচাপ রুমে বসে থাকবে আমি আসা পর্যন্ত, নাহলে পা ভেঙে হাতে ধরিয়ে দেব।”
কথাটা বলে দরজা লক করে গটগট পায়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল আর্য।
এদিকে আর্যর ব্যবহার, কথা—সব যেন পুষ্পর ছোট মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। সে এগিয়ে গিয়ে সোফায় বসে একবার বন্ধ ওয়াশরুমের দরজার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল—
– “আজব! সরকার সাহেবের হয়েছেটা কী আজকে? এরকম আজব ব্যবহার করছে কেন? উনি সবসময় আমি সামনে আসলে দূরে যেতে বলেন, আজকে হঠাৎ আমাকে আটকে রাখছেন কেন?”

পাঁচতলা একটা বিল্ডিং, সেখানেই দোতলার ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকে সারার বোন আর দুলাভাই; তাদের সাথেই থাকে সারা। নিজের রুমের বারান্দায় বিষণ্ন মনে দাঁড়িয়ে আছে সে। ভাবতে লাগল আরও দুই-আড়ায় বছর আগের কথা। সে তখন ছিল গ্রামের বাড়িতে, ওখানকার একটা হাইস্কুলে দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল সে। সারা ছিল খুব ভালো ছাত্রী। সেখানেই নতুন টিচার হিসেবে জয়েন করেছিল স্নিগ্ধ। কিন্তু এর আগে তাকে গ্রামে কোনোদিন দেখা যায়নি। তাকে প্রথম দেখায় মারাত্মকভাবে ক্রাশ খেয়েছিল সারা!
সেটাকে উঠতি বয়সের ভালো লাগা ভেবেছিল সে। কিন্তু দিন যত গেছে, সারার মনে স্নিগ্ধর জন্য ভালো লাগা ছাড়িয়ে প্রখর এক অনুভূতি তৈরি হতে লাগল। সে স্নিগ্ধর আশে পাশে ঘুরঘুর করতে শুরু করলো। স্নিগ্ধ সেটা দেখে ও না দেখার মতো করে এড়িয়ে যেত। একসময় স্নিগ্ধর প্রতি অনুভূতি এতোটাই তীব্র হলো যে তার পড়াশোনার ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। তাই সারা ঠিক করেছিল, এসএসসি শেষ করার আগেই স্নিগ্ধকে তার মনের কথা জানিয়ে দেবে। কিন্তু যেদিন তার মনের কথা জানানোর কথা ছিল, সেদিনই……

ফ্ল্যাশব্যাক…
দিনটা ছিল রবিবার। স্কুল ছুটি হওয়ার পর সারা ব্যাগ থেকে ছোট আয়না বের করে নিজেকে ভালো করে পরিপাটি করে নিল। ব্যাগে রাখা তিনটে গোলাপ, যেগুলো একসাথে তোড়ার মতো করে বেঁধে নিয়েছে সে। গিয়ে দাঁড়াল স্নিগ্ধর বাইকের সামনে। স্নিগ্ধ আসলেই জানাবে নিজের মনের কথা।
কিছুক্ষণ পর ছাত্র-ছাত্রীরা যখন বেশিরভাগ চলে গেল, ভিড় কমলে বেরিয়ে এল স্নিগ্ধ। পরনে সাদা শার্ট, সাথে মানানসই কালো প্যান্ট, কালো বেল্ট আর কালো স্যু; বেশ মানিয়েছে স্নিগ্ধকে। সেই সুদর্শন পুরুষকে দেখে আরও একবার হোঁচট খেল রমণী। স্নিগ্ধ এসে বাইকের সামনে সারাকে দেখে গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল—
– “এখানে কী করছো?”
স্নিগ্ধর গম্ভীর গলা শুনে সারার মুখের কথা জড়িয়ে যায়। এতক্ষণ ধরে জমানো সাহস যেন মুহূর্তেই গায়েব হয়ে যায়! সে আমতা আমতা করে বলল—
– “স..স্যার, আমি আপনাকে কিছু বলতে চাই!”
স্নিগ্ধ সারার হাবভাব অবলোকন করে বলল—

– “কী বলবে, তাড়াতাড়ি বলো!”
সারা নিজের মনের সব সাহস একত্রিত করে, চোখ বন্ধ করে বলেই ফেলল—
– “স্যার, আমি আপনাকে ভালোবাসি!”
সারার মুখে ভালোবাসার কথাটা শোনার সাথে সাথেই সারার গালে পড়ল তীব্র চড়! চড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে সারার মুখ অন্য পাশে ঘুরে গেল। তীব্র ব্যথায় সারার গাল টনটন করে উঠল। সাথে ছলছল করে উঠলো রমনীর আঁকি যুগল সে কিছু বলবে, তার আগেই গর্জে উঠল স্নিগ্ধ—
– “এই মেয়ে, বয়স কত তোমার? এইটুকু বয়সে ভালোবাসার কী বোঝো, হ্যাঁ? খবরদার, আর কোনোদিন যদি তোমাকে আমার সামনে দেখেছি, তাহলে স্কুল থেকে রেস্টিকেট করে দেবো!”
ফ্ল্যাশব্যাক এন্ড…
– “সারা, খেতে আয় বোন!”
বড় আপুর ডাকে অতীত থেকে বেরিয়ে আসে সারা। বুক চিরে বেরিয়ে আসে এক দীর্ঘশ্বাস। নিজের চোখের পানি হাতের উল্টো পাশ দিয়ে মুছে, নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে ঠিকঠাক করে খেতে চলে যায় সে।

ইভান ড্রয়িংরুমে বসে আছে আধা ঘণ্টা ধরে। এর মধ্যে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে দেখা যায় আর্য আর পুষ্পকে। পুষ্পর মুখে গোল করে ওড়না জড়ানো, মুখ ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না। পুষ্প বেশ জড়সড় হয়ে নামছে। তার মনে পড়ছে কিছুক্ষণ আগের কথা।
আর্য ওয়াশরুম থেকে মাথা মুছতে মুছতে বের হয়ে দেখল পুষ্প জড়সড় হয়ে বসে আছে সোফায়। পুষ্পকে এখনো রুমে দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসল আর্য—যাক, মেয়েটা তার অবাধ্য হয়নি!
সে এগিয়ে এসে পুষ্পর সামনে দাঁড়িয়ে গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো—
– “কলেজ কয়টায় ছুটি হয়?”
আর্যর এমন প্রশ্নে ভড়কায় পুষ্প। এইটা জানার জন্য তাকে এভাবে রুমে আটকে রেখেছে? সে তবুও কিছু বলল না, ভীত কণ্ঠে মিনমিন করে বলল—

– “দুপুর একটা বাজে!”
– “আগামীকাল থেকে সাড়ে বারোটায় কলেজের গেটে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকবে। আম্মু যদি তোমাকে আনতে যান, আম্মুর সাথে চলে আসবে; আর যদি কেউ তোমাকে নিতে না যায়, তাহলে সেই গাড়ি করে বাড়িতে ফিরবে। অন্য কারো বাইকে চড়ে বাড়িতে আসবে না, গট ইট?”
আর্যর কথা শুনে পুষ্প কিছুই বুঝতে পারছে না—কেন এসব করছে আর্য? তবুও মুখ ফুটে কিছু জিজ্ঞেস করল না, শুধু ওপর-নিচ মাথা নাড়াল। মানে সে বুঝতে পেরেছে!
পুষ্পর মাথা নাড়ানো বোধহয় আর্যর পছন্দ হলো না, সে গম্ভীর কণ্ঠে বলল—
– “মুখে বলো!”
– “বুঝতে পেরেছি!”
– “কী বুঝতে পেরেছ?”
– “কালকে থেকে সাড়ে বারোটায় গাড়ি অপেক্ষা করবে। ফুফুমণি যদি আমাকে নিতে না যান, আমি যেন সেই গাড়ি করে চলে আসি! আর…”

– “আর ভুলেও যদি গাড়ি না যায় বা দেরিও হয়, তবুও অন্য কারো বাইকে করে বাড়িতে আসবে না, অপেক্ষা করবে। যদি এসেছ, তাহলে সেইদিন থেকে তোমার পা-ও অকেজো হয়ে যাবে!”
পুষ্পর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে বলল আর্য। এদিকে আর্যর স্বাভাবিক গলার খতরনাক হুমকি শুনে ঢোক গিলল পুষ্প। সে বুঝতে পারছে না আর্যর কাজকর্ম—এই তাকে নিজের থেকে দূরে থাকতে বলছে, আবার এখন তার খেয়াল রাখছে! সে আর ভাবতে পারছে না, তার মাথায় ঘুরছে রাতে বলা শেহনাজ সরকারের কথাগুলো, আবার এখন আর্যর এরকম ব্যবহার; কিছুই নিজের ছোট মাথায় মেলাতে পারছে না সে।
আর্যকে আর কিছু বলতে না দেখে পুষ্প মিনমিন করে জিজ্ঞেস করল—
– “এখন আমি যাই?”
– “যাও, তবে ইভানের থেকে দূরে থাকবে!”
আর্যর এরকম নরম ব্যবহার পুষ্পর ঠিক হজম হচ্ছে না। যেই লোকটা তাকে দেখলেই ধমক দিয়ে দূরে থাকতে বলে, সামনে আসতে বারণ করে, সে আজকে এরকম ব্যবহার কেন করছে? আবার কি কোনো নেশা করেছে? কিন্তু নেশা করলেও তো তার সাথে ভালো ব্যবহার করেন না সরকার সাহেব।
পুষ্প ভাবতে ভাবতে রুম থেকে বেরোতে গেলেই আর্য আবারও গম্ভীর গলায় বলল—
– “মুখ ব্যতীত যাতে সবকিছু কভার হয় ওড়নায়।”
কথাটা শুনে পুষ্প ওড়নাটা ভালোভাবে জড়িয়ে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। তার পেছনে আর্যও বেরিয়ে গেল নিচে যাওয়ার জন্য।

ইভান পুষ্পকে কিছু বলবে, তার আগেই আর্য বলে উঠল—
– “তুই আজকে অফিসে যাসনি?”
আর্যর কথায় ইভান আর্যর দিকে তাকিয়ে বলল—
– “অফিসে যাইনি বলেই তো এখানে দেখতে পাচ্ছিস, নাকি?”
– “দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু অফিসে না গিয়ে এখানে কী করছিস?”
– “আরে অফিসে যাইনি, এমনি একটা কাজে গিয়েছিলাম। আসার সময় পুষ্পকে কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে…” এরপর বাকি সব ঘটনা খুলে বলল ইভান।
ইভানের কথা শুনতে শুনতে আর্যর চোখে ভাসছে কিছুক্ষণ আগের সেই দৃশ্যটা—পুষ্প নামছে ইভানের বাইক থেকে! সে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করল। একবার ডাইনিং স্পেস ও রান্নাঘরের দিকে তাকাল, যেখানে পুষ্প আর জেনিফার সরকার দুপুরের খাবার রেডি করছেন। কাজের মেয়েটি সব খাবার টেবিলে এনে রাখছে। এর মধ্যেই শোনা গেল ইভানের চঞ্চল গলা—

– “আচ্ছা আর্য, তোর বউ মানে আমার ভাবী কোথায় রে? কালকেও দেখলাম না, আজকেও দেখছি না!”
ইভানের কথা শুনে আর্য একদৃষ্টে তীক্ষ্ণ চোখে তাকাল তার দিকে। সেই চিল-নজর দেখে থতমত খেয়ে গেল ইভান। বউয়ের কথা জানতে চাওয়ায় এভাবে তাকানোর কী আছে? তবে আর্যর এই রুদ্রদৃষ্টিকে তোয়াক্কা না করে সে আবার জিজ্ঞেস করল—

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১০

– “বলছিলাম, তোর বউ কি তোর এই বোনের মতো কিউট? তবে আমার মনে হয় হবে না! তোর বোনটা একটু বেশিই কিউট রে। ওই গোলাপি রঙের জামায় মেয়েটাকে কী সুন্দর গোলাপের মতোই স্নিগ্ধ লাগছিল! দেখে মনে হচ্ছিল যেন আরেকটা জীবন্ত গোলাপ। নামের সাথে বৈশিষ্ট্যের কী অদ্ভুত মিল, তাই না?”

অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here