অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৫
রুপা
শেহনাজ সরকারের দেওয়া সাত দিনের আলটিমেটামের মধ্যে দেখতে দেখতে দুটি দিন কেটে গেছে। তবে আর্যর মধ্যে বাহ্যিক কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না। সে আগের মতোই অফিস আর বাড়ি—এসব নিয়েই আছে। সকালে ঠিক দশটায় অফিস যায়, আবার রাত নয়টা-দশটার দিকে বাড়ি ফেরে। মায়ের দেওয়া ওই সাত দিনের ব্যাপারে সে আদেও কিছু ভেবেছে কি না, তা বোঝা বড় দায়!
পুষ্পর পোড়া হাতটা এখন কিছুটা ভালো হয়েছে, তাই সে আজ থেকে নিয়মিত কলেজে যাবে। যদিও শেহনাজ সরকার হাত পুরোপুরি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত তাকে কলেজ যেতে বারণ করেছিলেন, কিন্তু পুষ্প নিজেই জোর দিয়ে বলেছে কলেজ যাওয়ার কথা। একা একা এই বিশাল বাড়িতে বন্দি থাকার চেয়ে কলেজে যাওয়া অনেক ভালো; এতে তার পড়াশোনার ক্ষতিও হবে না, পড়ার গ্যাপটাও পূরণ হবে। পুষ্পর আগ্রহ দেখে শেহনাজ সরকার আর দ্বিমত করেননি।
পুষ্প তার নীল-সাদা কলেজ ড্রেস পরে রেডি হয়ে ব্যাগে বই-খাতা সব ঠিকঠাক আছে কি না চেক করছে। অন্যদিকে, আর্য ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে। তার পরনে আজ ‘হুগো বস’ (Hugo Boss) ব্র্যান্ডের বাদামী রঙের প্যান্টের সাথে ইন করা নিখুঁত সাদা শার্ট, আর কবজিতে চকচক করছে একই ব্র্যান্ডের রুপালি ঘড়ি। ড্রেসিং টেবিলের ওপর থেকে সে ‘বস’ ব্র্যান্ডেরই লেটেস্ট পারফিউমের বোতলটা হাতে নিল। নিজের কবজিতে আর বডিতে কয়েকবার স্প্রে করে যথাস্থানে রেখে একবার আয়নার দিকে তাকাল। একমাথা ঘন চুল জেল দিয়ে অত্যন্ত স্টাইলিশ ভাবে সেট করে নিল সে।
নিয়মিত জিম আর কঠোর স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে আর্যর বলিষ্ঠ, সুঠাম পেটানো শরীরটা একদম ফিট অ্যান্ড পারফেক্ট। বাদামি প্যান্ট আর সাদা শার্টের এই ক্ল্যাসিক কম্বিনেশন আর্যর ফর্সা গায়ের রঙে বড্ড রাজকীয় মানিয়েছে। তবে বরাবরের মতোই তার মুখটা অসম্ভব গম্ভীর। সিগারেটের ধোঁয়ায় কিছুটা কালচে হওয়া ঠোঁট দুটো সে শক্ত করে চেপে ধরে রেখেছে; যেন নিজের মনে কোনো এক গভীর সংকল্পে ব্যস্ত সে। পুরো রেডি হয়ে আর্য একবার ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনের সোফায় বসে বই গোছানো পুষ্পর দিকে তাকাল।
পুষ্পর পরনে আকাশী রঙের কলেজ ড্রেস, সাদা প্যান্ট, কোমর বেল্ট আর ক্রস বেল্ট। ওড়নাটা ক্রস বেল্টের সাথে কাঁধে আর বুকে সুন্দর করে পিন করা। তার লম্বা, ঘন কালো চুলগুলো সুন্দর করে বিনুনি করা, যা কোমর ছাড়িয়ে নিচে নেমে গেছে। এখন ব্যাগের দিকে একটু ঝুঁকে থাকায় বিনুনির শেষ অংশটা ঘরের সাদা টাইলস ছুঁয়ে গেছে। আর্য সেদিকে তাকানো মাত্রই তার সুবিন্যস্ত ভ্রু দুটো কুঁচকে গেল। সে মনে মনে ভাবল—
– “এই মেয়ে এভাবে চুল এলিয়ে কলেজে যাবে?”
তবে মুখে সে কিছু বলল না। বলবেই বা কী করে! পুষ্প গত দুদিন ধরে আর্যর সাথে কোনো রকম কথা বলা তো দূর, আর্য রুমে ঢুকলে সে ভুলেও সেদিকে আসে না। রাত অনেক গভীর হওয়ার পর, আর্য যখন ঘুমানোর ভান করে বিছানায় শুয়ে থাকে, তখন পুষ্প নিঃশব্দে রুমে এসে সোফাটায় শুয়ে পড়ে। আর আর্য তখন সারারাত বারান্দায় বসে নিকোটিনের ধোঁয়া উড়ায়।
পুষ্প রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়ার পরেই কেবল আর্য সোফার পাশে এসে দাঁড়ায়। একদৃষ্টে পুষ্পর নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবে—সে আসলে কী সিদ্ধান্ত নেবে? নিজের মনের সাথেই নিজের এক তীব্র যুদ্ধ চলছে তার। নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে একপ্রকার হীনম্মন্যতায় ভুগছে সে। পুষ্পর মায়াবী চেহারার দিকে তাকিয়েই তার অর্ধেক রাত পার হয়ে যায়। শেষ রাতে কোনোমতে একটু চোখ বুজে, সকাল সাতটায় উঠে জিম আর ওয়ার্কআউট সেরে রেডি হয়ে আবার রোবটের মতো অফিসে চলে যায় সে।
হঠাৎ পুষ্প ব্যাগ থেকে মাথা তুলে তাকাল। সাথে সাথেই চার চোখ এক হয়ে গেল আর্যর সাথে। আর্য অন্যমনস্ক হয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিল তার দিকে। ধরা পড়ে যাওয়ায় পুষ্প দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল। কোনো কথা না বলে ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে সে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে নিলেই আর্য গম্ভীর কণ্ঠে হঠাৎ জিজ্ঞেস করল—
– “এভাবে কলেজে যাবে?”
আর্যর আকস্মিক প্রশ্নে পুষ্প নিজের পোশাকের দিকে একবার তাকিয়ে অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে বলল—
– “আমি কলেজে রোজ এভাবেই যাই।”
আজকে পুষ্পর কণ্ঠে কোনো রকম জড়তা নেই, কোনো ভীত কম্পন কিংবা আগের সেই উষ্ণতাও নেই; আছে শুধু একপ্রকার বুক ভাঙা উদাসীনতা!
যেটা কোনোভাবেই সহ্য হয় না আর্যর। সে গত দুদিন ধরে হাজার চেষ্টা করেও পুষ্পর কাছে নিজের অন্যায়ের জন্য ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ পায়নি, পুষ্প তার সামনে পর্যন্ত আসে না। পুষ্পর এই শীতল উদাসীনতা মানতে নারাজ অহংকারী আর্য সরকার! সে এবার নিজের কণ্ঠস্বর আরও কয়েক পর্দা গম্ভীর করে বলল—
– “যেতে আগে, আজকের পর থেকে আর যাবে না।”
আর্যর এমন হুকুমের মতো কথা শুনে পুষ্পর বুকটা কেঁপে উঠল। বরাবরের মতো সে ভাবল, সরকার সাহেব কি এখন তার কলেজ যাওয়াও চিরতরে বন্ধ করে দিতে চাইছেন? তাই কি যেতে বারণ করছেন? পুষ্পর পড়াশোনা আবার বন্ধ হয়ে যাবে—এই দুঃসহ ভাবনাটা মাথায় আসতেই চোখ ফেটে উপচে পড়ল তার। অবাধ্য চোখের পানি টলটল করে গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল।
হঠাৎ পুষ্পর চোখের কোণে পানি দেখে আর্যর ভেতরের অস্থিরতা যেন দপ করে আবার জ্বলে উঠল। সে বড় বড় পা ফেলে এগিয়ে এল একদম পুষ্পর গায়ের ঘেঁষে। আর্য পুষ্পর কান্নারত মুখটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অবলোকন করে কিছুটা চড়া সুরে বলল—
– “কাঁদছো কেন? আমি কি তোমাকে মেরেছি নাকি বকা দিয়েছি?”
– “আপনি… আপনি কি আমাকে আর কলেজে যেতে দেবেন না?” পুষ্পর কণ্ঠ জড়িয়ে এল কান্নায়।
– “কলেজে যেতে দেব না—এ কথা আমি কখন বললাম?”
পুষ্প এবার পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে গেল। সে আর্যর কথার কোনো মাথামুণ্ডু বুঝতে পারল না। এই মানুষটা নিজেই তো একটু আগে বলল—‘আজকের পর আর যাবে না’, তাহলে তার মানে কী দাঁড়ায়? পুষ্পর এই কিংকর্তব্যবিমূঢ় ভাবনার মাঝেই আর্য তার কানের কাছে ঝুঁকে নিচু অথচ তীব্র স্বরে বলল—
– “আমি বলেছি—আগে যেভাবে যেতে, আজকের পর থেকে সেভাবে যাবে না। আজকের পর থেকে হিজাব ছাড়া এই বাড়ির বাইরে এক পা-ও বাড়াবে না তুমি!”
আর্যর কথা শুনে পুষ্পর চোখ দুটো খুশিতে জলজল করে উঠল; তার মানে সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে! পুষ্পর চোখের এই আকস্মিক উজ্জ্বল জ্যোতি দেখে আর্যর মনের কোথাও যেন একটা খুব সূক্ষ্ম উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ল। আর্য নিজে সেটা স্পষ্ট বুঝতে পারল, তবে মুখে সে বিষয়ে কোনো নরম ভাব প্রকাশ না করে আগের মতোই গম্ভীর গলায় হুকুম জারি করল—
– “যাও, গিয়ে হিজাব পরে নাও!”
কথাটা শুনে পুষ্পর কিছু একটা মনে পড়তেই তার মুখে আবারও কালো মেঘ জমে গেল, যা তীক্ষ্ণ চোখ সম্পন্ন আর্যর নজর এড়াল না। সে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল—
– “কী হয়েছে?”
– “আমার কাছে সাদা হিজাব নেই! আমাদের কলেজের ড্রেস কোড সাদা।” পুষ্প মাথা নিচু করে আমতা আমতা করে বলল।
আর্য মুহূর্তকাল কিছু একটা ভেবে নিয়ে বলল—
– “এখন যে কালারের হিজাব আছে ওটাই পরে আমার সাথে আসো!”
পুষ্প কী করবে বুঝতে পারল না। তাকে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আর্য আবার তাড়া দিল—
– “কী হলো? যাও, গেট রেডি ফাস্ট!”
পুষ্প আর আর্যর কথার ওপর কোনো কথা না বাড়িয়ে আলমারি থেকে অন্য কালারের একটা হিজাব পরে ব্যাগ গুছিয়ে আর্যর সামনে এসে দাঁড়াল। আর্য একপলক দেখে নিল হিজাবে আবৃত পুষ্পর সেই মায়াবী মুখখানা। তারপর সে গিয়ে খাটের ওপর থেকে তার ‘হুগো বস’ (Hugo Boss) ব্র্যান্ডের ব্লেজারটা তুলে গায়ে জড়িয়ে নিল। একই ব্র্যান্ডের ওয়ালেটটা হাতে নিয়ে কিছু ক্যাশ আর ক্রেডিট কার্ড সব ঠিকঠাক আছে কি না দেখে পকেটে পুরল। সবশেষে পায়ে গলিয়ে নিল মানানসই লোফার জুতো, ওটাও হুগো বস ব্র্যান্ডেরই। এরপর সে পুষ্পর কিছু বোঝার আগেই তার কাঁধ থেকে কলেজ ব্যাগটা নিজের হাতে নিয়ে নিচে নামার জন্য হাঁটা ধরল। পুষ্পও বাধ্য মেয়ের মতো আর্যর পেছন পেছন চলতে লাগল।
নিচে সোফায় বসে শেহনাজ সরকার নিজের কোর্টের জরুরি ফাইলগুলো সব ঠিকঠাক আছে কি না গুছিয়ে দেখছিলেন। জেনিফার সরকার কাজের লোকের সাথে রান্নাঘর থেকে সবার নাস্তা এনে টেবিলে সাজিয়ে রাখছিলেন। এর মধ্যেই শেহনাজ সরকারের নজর গেল সিঁড়ির দিকে, যেখান থেকে আর্য ফুল ফরমাল ড্রেসআপে নেমে আসছে। কিন্তু আর্যর হাতে পুষ্পর কলেজ ব্যাগ দেখে ওনার সুবিন্যস্ত ভ্রু দুটো কুঁচকে গেল। এই ছেলের হাতে পুষ্পর ব্যাগ কেন? তার পেছন পেছন পুষ্পকেও আসতে দেখে তিনি অবাক হলেন। তবুও মনে মনে ভাবলেন—হয়তো পুষ্পর হাতের ব্যথার কারণে আর্য নিজে থেকেই ব্যাগটা নিয়েছে।
তিনি মুখ ফুটে কিছু জিজ্ঞাসা করবেন, তার আগেই আর্য পাশ কেটে যাওয়ার সময় স্বাভাবিক গলায় বলল—
– “এই মেয়েকে আজকে আমি কলেজে ড্রপ করে দেবো।”
ব্যাস, আর একটা কথাও না বলে সে গটগট করে বাইরে বেরিয়ে গেল। আর্যর কথার মর্মার্থ বুঝতে পেরে শেহনাজ সরকারের মনে মনে খুশির হাওয়া বয়ে গেল। যাক, ছেলে তাহলে ধীরে ধীরে লাইনে আসছে! তিনি পুষ্পকে উদ্দেশ্য করে মায়াবী গলায় বললেন— “সাবধানে যাস মা।” পুষ্প মৃদু হেসে ‘ঠিক আছে’ বলে আর্যর পিছু পিছু বেরিয়ে গেল।
আর্য পুষ্পকে নিয়ে শহরের একটা বড় শপিং মলে এল। সেখানে গিয়ে সে একবারে ৪৮ পিসের একটা হিজাবের বড় বক্স, সাথে হিজাব পিন, বিভিন্ন ডিজাইনের ব্রোচ, ইনার ক্যাপ, একটা চমৎকার স্টাইলিশ ঘড়ি, চুল বাঁধার জন্য রাবার ব্যান্ড, কিউট বিড়াল ক্লিপ এবং হেয়ার বান কিনে নিল। শুধু তা-ই নয়, কলেজে পরে যাওয়ার জন্য টপ কোয়ালিটির সাদা রঙের ছয় জোড়া স্নিকার্সও কিনে দিল। সব জিনিস গাড়ির ব্যাক সিটে রেখে, বক্স থেকে একটা সাদা হিজাব বের করে সে পুষ্পর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল ওটা পরে নিতে। তারপর পুষ্পকে গাড়িতে বসে থাকতে বলে সে নিজে আবার শপিং মল থেকে বের হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর সে একটা নামকরা রেস্টুরেন্ট থেকে দুটো স্যান্ডউইচ, দুটো সেদ্ধ ডিম আর এক বোতল খাঁটি দুধ নিয়ে ফিরে এল। ড্রাইভিং সিটে বসে খাবারগুলো পুষ্পর হাতে দিয়ে গম্ভীর গলায় খেয়ে নিতে বলল। পুষ্প অনেক কষ্টে একটা স্যান্ডউইচ খেল, কিন্তু এরপর আর তার গলা দিয়ে নামছিল না। আর্য তাকে দুধটা খেতে বললে সে মুখ ফুটে বলতে পারল না যে তার দুধ খেতে একদম ভালো লাগে না। ফুফুমিণিকে এসব অনায়াসে বলতে পারলেও, আর্যর গম্ভীর মুখের দিকে তাকিয়ে সে প্রচণ্ড ভয় পাচ্ছিল। তাই সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এক ঢোক গিলে আর খেতে পারল না।
আর্য লক্ষ্য করল—পুষ্প তার ভয়ে, নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে দুধটা গলার নিচে নামানোর চেষ্টা করছে। এটা দেখামাত্রই আর্যর ভেতরের রাগটা দপ করে চড়ে বসল। তাকে ভয় পেয়ে খেতে হবে কেন? সে কি বাঘ নাকি ভাল্লুক যে তাকে এভাবে ভয় পেতে হবে? খেতে ইচ্ছে করছে না, সেটা তাকে মুখ ফুটে বললেই তো হয়! আমাকে না বলে জোর করে কেন খাচ্ছে ও? হোয়াই? আর্য এবার হঠাৎ ধমকে উঠল—
– “ইচ্ছে করছে না তো খাচ্ছ কেন, স্টুপিড?”
অবেলায় ফোঁটা পুষ্প পর্ব ১৪
হঠাৎ আর্যর এমন কর্কশ ধমকে ভড়কে গেল ভীতু রমণী। সে তার টলটলে মায়াবী চোখ দুটো তুলে আর্যর দিকে তাকাল। পুষ্পর সেই নিষ্পাপ, হরিণীর মতো ভীত চাহনি দেখে আর্যর রাগটা নিমেষেই জল হয়ে গেল। সে নিজের কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক করে অত্যন্ত গম্ভীর অথচ শান্ত কণ্ঠে বলল—
– “আজকের পর থেকে মনে রাখবে—অন্যের খুশির জন্য কিংবা অন্যকে ভয় পেয়ে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোনো কাজ কখনো করবে না। মাইন্ড ইট!”
