রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৭২
সোহানা ইসলাম
সময় কখনো কারও জন্য অপেক্ষা করে না। মানুষের আনন্দ, দুঃখ, প্রাপ্তি–অপ্রাপ্তির ভিড়ে সে নিজের গতিতেই এগিয়ে চলে। দেখতে দেখতে আরও দুই মাস কেটে গেলো। এই তিন মাসেই অনেক কিছু বদলে গেছে, আবার অনেক কিছু আগের মতোই রয়ে গেছে—হয়তো তারুণ্যের সেই উষ্ণতা, পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ, ভালোবাসার নরম ছোঁয়া। ফিহার ওর পরিবারের সাথে এখন রোজ কথা হয়।সব থেকে খুশির খবর মিম দুই মাসের প্র্যাগনেন্ট। এই খবর যখন সবাই জানতে পারে, তখন খান বাড়ির সবাই খুব খুশি হয়। বাড়িতে নতুন অতিথি আসতে চলেছে। রাশেদের তিন কূলে কেউ নেই।আরমানের পরিবারের লোক ছাড়া।বাবা হওয়ার আনন্দ টা তাকে কাঁদিয়ে ছাড়ে। সে তার শশুড় শাশুড়ীর জন্য মিষ্টি নিয়ে ইসলাম পুড় গ্রাম যায়। মিমের বাবা মা এসে এক সপ্তাহের মতো থেকে যায়।
কিন্তু এতো কিছুর মাঝে রোহানের জীবনে এই তিন মাস ছিল সবচেয়ে কঠিন, সবচেয়ে দুঃখের। বাবা চলে যাওয়ার শোক এখনও পুরোপুরি কাটেনি। আজ ঠিক এক মাস হলো রোহানের বাবা মারা গেছেন। পরিবারে শেষ ভরসাটা ছিলেন তিনি। রোহান তাঁর একমাত্র ছেলে—তাই সব দায়িত্ব এখন একাই সামলাতে হয় তাকে। অফিস, সংসার, বাবার রেখে যাওয়া ব্যবসা—সব মিলিয়ে যেন মাথার ওপর পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু রোহান কখনো ভেঙে পড়েনি, কারণ তার পাশে আছে জিনিয়া। আরমানের পরিবার রোহান কে আরও আপন করে নেয়। তার খারাপ সময়ে সবাই ওর পাশে ছিলো। আসিফ খান এর সাথে রোহানের সম্পর্ক আগের থেকে অনেক ভালো। আসিফ খান এখন আর রোহানের সাথে ঝগড়া করে না। ছেলের মতো করে আগলে রাখে। সবটাই রোহানকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা। সে যেনো নিজেকে একা না মনে করে চেষ্টা।
রোহান ভালো করে জানে—তার অন্ধকারের ভেতর আলো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই মেয়েটি। তার চাঁদ সুন্দরী।ওর উপস্থিতি না থাকলে হয়তো সে সবকিছু সামলাতে পারত না। জিনিয়াও পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে রোহানকে সময় দেওয়ার জন্য। রোহানের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই সে যেন নিজের ভেতরের সব শক্তিটুকু দিয়ে রোহানকে আগলে রেখেছে।
আজ সকালে রোহান একটু তাড়াতাড়িই রেডি হয়ে নিচে নেমে আসে। গায়ে হালকা নীল শার্ট, মুখে ক্লান্তির রেখা, দাড়ি–গোঁফও বড় হয়ে একটু অগোছালো দেখাচ্ছে তাকে। কিন্তু তার চোখে কেমন এক গভীর মমতা, যেন ভোরের শিশিরের মতো ঠাণ্ডা।
জিনিয়া রান্নাঘর থেকে নরম গলায় ডাক দেয়,
—“এই শুনছেন, নাশতা রেডি হয়ে গেছে। আসুন।”
টেবিলে বসতেই জিনিয়া গরম ভাত-মুরগি পরিবেশন করে সামনে রাখে। রোহান চেয়ে থাকে কিছুক্ষণ; মনে হয়, এই মেয়েটিকে ছাড়া সত্যিই সে অচল।
জিনিয়া হাত বাড়িয়ে ভাত তুলে রোহানের মুখে দেয়। আগে রোহান বায়না করত,
—”আমাকে খাইয়ে দাও না, একটু!”
কিন্তু জিনিয়া লজ্জায় রাজি হতো না। এখন আর বলতে হয় না—জিনিয়া নিজেই খাইয়ে দেয়। হয়তো ভালোবাসা মানুষকে বদলে দেয়, ভেতর থেকে নরম করে দেয়।
খেতে খেতে রোহান জিজ্ঞেস করে,
—“তোমার শরীরটা ঠিক আছে তো? চোখ-মুখ দেখে তো মোটেও ভালো লাগছে না। কেমন ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে তোমাকে।”
জিনিয়া জোরে মাথা নাড়ে বলে,
—“আমি ঠিক আছি। নিজের দিকে একবার তাকান তো? কী অবস্থা আপনার! দাড়ি–গোঁফ, চুল—সব একদম অগোছালো।”
রোহান হেসে জিনিয়ার কোমর জড়িয়ে ধরে বলে,
—“ আমাকে কি এইভাবে একটুও ভালো লাগে না?”
জিনিয়া মুখ ঘুরিয়ে নরম স্বরে বলে,
—“আপনাকে আমার সবভাবেই পছন্দ, কিন্তু এত অগোছালো আমি দেখতে পারি না। প্লিজ, আজকেই পরিষ্কার করবেন।”
রোহান হেসে বলে,
—“ঠিক আছে আজকে পরিষ্কার করব এই বা*ল গুলো…!”
জিনিয়া রোহান দিকে কপাল কুঁচকে তাকায়। রোহান হেসে বলে
__“ এই না, চুলের কথা বলছি চাঁদ সুন্দরী।”
জিনিয়া চোখ রাঙায়। রোহান হেসে ফেলে। সেই হেসে ওঠার শব্দ যেন অনেক দিন পর তাদের ছোট্ট সংসারে একটু আনন্দ ফিরিয়ে আনে।জিনিয়া রোহানকে খাইয়ে দিচ্ছে আবার নিজেও খাচ্ছে।
খাওয়া শেষ হলে রোহান বলে,
—“তুমি রেডি হয়ে আসো, তোমাকে ও-বাড়িতে দিয়ে তারপর অফিসে যাব।”
জিনিয়া মাথা নেড়ে সিঁড়ির দিকে চলে যায়। রোহান মোবাইল দেখছে— হঠাৎ উপরে থেকে একটা শব্দ—হালকা দৌড়ের শব্দ, তারপর থেমে যাওয়া। রোহান কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাথরুম থেকে বমির শব্দ আসে।
সে ছুটে যায়। দরজার সামনে গিয়ে দেখে জিনিয়া বেসিন আঁকড়ে ধরে আছে। মুখে পানি ছিটালে সে আরও বেশি বমি করে। তারপর শরীর ঢলে পড়ে—রোহান দৌড়ে তাকে ধরে ফেলে।
—“জিনিয়া! কী হয়েছে তোমার? দাঁড়াও, ডাক্তার ডাকছি…”
জিনিয়া দুর্বল কণ্ঠে বলে—
—“না… ডাক্তার লাগবে না… একটু গা গুলিয়ে উঠেছে। ঠিক হয়ে যাবে।গ্যাস হয়েছে পেটে মনে হয়।”
রোহান শক্ত করে জিনিয়ার মাথা নিজের কাঁধে রেখে বসার ঘরে সোফায় এনে বসায়। পানি খাওয়ায়। জিনিয়ার হাত দুটো ঠাণ্ডা হয়ে আছে। রোহান আতঙ্কে কাঁপতে থাকে—
__“ তুমি এই এক মাস ধরে কত স্ট্রেসে আছো, বাড়ির এত কাজ করো, আবার আমাকে সামলাও… তোমার নিজের দিকে কেন খেয়াল রাখো না?”
জিনিয়া দুর্বল হেসে বলে,
—“সব ঠিক হয়ে যাবে… আপনি বরাবরই বেশি চিন্তা করেন।”
রোহান বিরক্ত হয়ে বলে,
—“বেশি চিন্তা করি? এই যে দাঁড়াতে পারছো না, এটা কি কম কথা? চলো হাসপাতালে যাই—”
জিনিয়া হাত ধরে থামিয়ে দেয়,
—“না, এখন কোথাও যাওয়া লাগবে না। আমি ভালো আছি।”
রোহান গভীর শ্বাস ফেলে। জিনিয়ার কপালে হাত রাখে। তার চোখে আতঙ্ক, কিন্তু মুখে পুরোটা প্রকাশ করছে না। জিনিয়া একটু বিশ্রাম নেওয়ার পর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। রোহান বারবার ধরে।
—“ধীরে… ধীরে হাটো । পড়ে যাবে।”
জিনিয়া মাথা নেড়ে বলে,
—“চলুন, ওবাড়ি যাই। দেরি হয়ে যাবে।”
রোহান কিছু বলতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত আর কিছু বলে না। দুজন গাড়িতে ওঠে। গাড়ির ভেতর নীরবতা। রোহান মাঝে মাঝে তাকিয়ে দেখে—জিনিয়া চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে আছে। মনে হয় শরীর এখনো দুর্বল। এক মাসের টানাপোড়েন, মানসিক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে হয়তো শরীর আর নিতে পারছে না।
রোহান ধীরে বলে,
—“তোমাকে ছাড়া আমি সত্যিই এই এক মাস নিজেকে সামলাতে পারতাম না ? তুমি না থাকলে এই পৃথিবীটা ফাঁকা মনে হতো…”
জিনিয়া চোখ খুলে তাকায়, ক্লান্ত মুখে একটা ছোট্ট হাসি ফুটে ওঠে।
—“আপনি থাকলেই আমার পৃথিবী ঠিক আছে। আর কিছু লাগবে না।”
রোহান আর কিছু বলে না। শুধু বলে
—”ইশ, যদি তুমি একটু নিজের খেয়াল রাখতে…! আমাকে সামলাতে গিয়ে নিজে অসুস্থ হয়ে পরছো!আমার জন্য পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছো!কতো করে বললাম, পড়াশোনা চালিয়ে যাও..কিন্তু কে শুনে কার কথা? ”
__“পড়াশোনা দিয়ে কি করব? যদি আমার শখের মানুষ আর আমার ছোট সংসারটা ঠিক না থাকে?”
রোহান জিনিয়ার উত্তর শুনে আর কিছু বলে না। ও বাড়িতে রওনা হয়। সবাই সকাল সকাল ব্যস্ততা নিয়ে ঘুরছে। ফিহা, মিম, জেরিন—সবারই যেন আজ হালকা উচ্ছ্বাস… আজ জিনিয়া আসবে সবাই যানে। রোহান গাড়ি থামিয়েই জিনিয়ার দরজা খুলে দেয়। তাকে নামতে সাহায্য করে। জিনিয়া নামার সময় একটু হোঁচট খায়—রোহান তাড়াতাড়ি ধরে।
—“দেখেছো? শরীর এখনো ঠিক হয়নি।”
জিনিয়া বিরক্তিতে বলে,
—“ঠিক হয়ে যাবে। এত বাড়াবাড়ি করবেন না।”
বাহিরে গাড়ির শব্দ পেয়ে ছায়মা, ফিহা আর মিম দৌড়ে আসে। ছায়মা কাল এসেছে এই বাড়িতে। জাহির রা যাওয়ার পর আজ প্রথম আসা এখানে।মিম এসে জিজ্ঞেস করে—
—“জিনিয়া আপু,তোমার শরীর খারাপ নাকি?”
জিনিয়া হেসে মাথা নাড়ে,
—“কিছু না। একটু দুর্বল লাগছে শুধু।আর তুমি এই সময় এমন দৌড় জাপ করছো কেনো।”
ফিহা বলে
__“ ওকে বললেও শুনে না, আম্মু, বড় আম্মু কতো বলে ধীরে চলাফেরা করতে.! ”
ছায়মা এসে জিনিয়া কে দরে বলে
—“তোমার মুখটা কেমন দেখাচ্ছে! ”
রোহান গম্ভীর কণ্ঠে বলে
—“লাগবে না কেনো?আমার একটা কথাও শুনে না তোমাদের আদরের বোন। আজ আম্মুকে বিচার দিয়ে তার পর যাব। ”
জিনিয়া রোহানের দিকে তাকায়। সে বোঝতে পারছে রোহান তাকে নিয়ে খুব চিন্তা করে। তবে জিনিয়া সবাইকে হাসিমুখেই সামলায়।জিনিয়াকে নিয়ে সবাই বাড়ির ভিতরে চলে যায়। রোহান যায় না। বাহিরে দাড়িয়ে থাকে।
জিনিয়া ভেতরে চলে গেলে রোহান একটু আকাশের দিকে তাকায়। আজ অনেক দিন হলো সে সিগাটের ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু এই এক মাস ধরে আবার খাচ্ছে। এক মাস আগের সেই সময়টা মনে পড়ে—বাবা হাসপাতালে। অক্সিজেনের শব্দ। ডাক্তারদের ব্যস্ততা। আর শেষ মুহূর্তে রোহানের হাত ধরে বাবার সেই কথা—
__”তোর দায়িত্ব এখন তুই। জিনিয়া,বাড়ি, ব্যবসা—সব দেখবি। আর জিনিয়াকে কখনো একা হতে দিবি না।সব সময় নিজের সাথে আগলে রাখবি।”
জিনিয়ার সাথে ওর বাবার সম্পর্ক খুব ভালো ছিলো। বাবা, মেয়ে তার থেকে বেশি বন্ধুত্ব। জিনিয়া বাড়িতে ওর শশুড়ের সাথে কথা বলে সময় কাটাতো। শশুড়ের মৃত্যুর পর সে খুব ভেঙে পরে। মেয়েটা সেদিন খুব কেঁদে ছিলো। এখনো কাঁদে মাঝে মাঝে। রোহান তার কষ্ট লুকিয়ে জিনিয়াকে আগলে রাখে।
সেই থেকে রোহান দিন-রাত পরিশ্রম করছে। জিনিয়াও পাশে থেকেছে—দিনের পর দিন। আজ যখন তাকে এত অসুস্থ দেখল, মনে হলো বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। যেন ভয় পাচ্ছে—আবার কোনো অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটে।
তারপরও রোহান নিজের মনে বলল—”জিনিয়া শক্ত মেয়ে। ও আমার থেকেও অনেক শক্ত।”এই ভাবনা তাকে কিছুটা শান্ত করে।
বাড়িতে ঢোকার পর জিনিয়ার মাথা আবার ঝিমঝিম করতে থাকে। সোফায় হেলান দিয়ে এসে বসে।নাস্তা খেয়ে ওর বাবা আর বড় আম্মু অফিসে চলে যায়। বাড়িতে আছে এখন ওর ভাইয়েরা।ওরাও রুমে অফিসের জন্য রেডি হচ্ছে।জেসমিন বেগম আর ফারিয়া বেগম এসে জিনিয়ার পাশে বসে। তারা বোঝতে পারে একা সংসার সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে মেয়ে টা। ফারিয়া বেগম জিনিয়ার মাথা হাত ভুলিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করে—
—“ কি হইছে মা, ? মুখটা এমন দেখাচ্ছে কেনো? ”
জিনিয়া হাসে—
—“কিছু না বড় আম্মু। সকাল থেকে একটু বমি বমি লাগছে।”
ফারিয়া বেগম আর কিছু না বলে তাকে আর সুন্দর করে বসিয়ে দেয়।রোহান পাশেই দাঁড়িয়ে সব দেখছে। তার চোখে উদ্বেগ। সে নিচু স্বরে বলে—
—“আম্মু জিনিয়া আমার কোনো কথা শুনে না ।”
জেসমিন বেগম আর ফারিয়া বেগম মেয়েকে সাসিয়ে বলেন
__“জিনিয়া মা!এটা ঠিক না তো। ”
জারা মাএ নিচে নেমে দেখে জিনিয়া চলে এসেছে। দৌড়ে এসে জিনিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলে
__“ কেমন আছো জিনিয়া আপু? ”
জিনিয়া হেসে উত্তর দেয়। আরমান, জাহেদ আর রাশেদ সবাই অফিসের জন্য রেডি হয়ে নিচে নামে। জিনিয়া কে দেখে জাহেদ বলে
__“এই পেত্নী আবার চলে এসেছে? মাএ না গেলো? ”
জিনিয়া সাথে সাথে বলে
__“এসেছি তোমার গার মটকে দিতে..!”
সবাই হাসে তাদের ভাই বোনের কথা শুনে। আরমান জারা’র দিকে তাকায়। জারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। কারণ আরমানের সাথে ওর ঝগড়া হয়েছে। তাই আরমান আগে কথা না বললে সেও বলবে না।
রাশেদ মিমের পাশে গিয়ে বসে। আজ মিমকে ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবে। হাতে তার মিমের মেডিকেল রিপোর্ট। অবশ্য মিমকে নিয়ে যাবে ফারিয়া বেগম। রাশেদ অফিসে চলে যাবে বলে। জাহেদ এসে রোহানের পাশে বসে। তারা টুকটাক কথা বলে। ফিহা আর ছায়মা মিম আর জিনিয়ার জন্য শরবত আর ফল আনতে যায়।
আরমান এসে জিনিয়ার পাশে বসে। জারা ধপ করে উঠে পরে। ফারিয়া বেগম জারা’র দিকে তাকায়। বোঝতে পারে কিছু একটা হয়েছে। তিনি হাসেন। কারণ তাদের ঝগড়া বেশি সময় থাকে না।
জিনিয়া বড় ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে হাসি দেয়।
মুখের ক্লান্তির ছাপ।
__“আমার ছোট পরী, শরীরটা ভালো নেই দেখছি। কী হয়েছে?”
জিনিয়া দ্রুত সামলে নিয়ে বলে,
__“না ভাইয়া, কিছু না। আজকে একটু দুর্বল লাগছে শুধু…।”
আরমান ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
__“এমনভাবে নিজের শরীরকে ফেলতে নেই। তুমি এখন একটা বাড়ির দায়িত্ব সামলাচ্ছো, তার ওপর রোহানের সময়টা খুব কঠিন যাচ্ছে। তোমাকে সুস্থ থাকা লাগবে বুঝলে?”
জিনিয়া হালকা হাসল।
__“আমি ঠিক আছি ভাইয়া। শুধু একটু ঘুম কম হয়েছে..!”
আরমান শান্ত স্বরে বলে,
__“রোহানকে তুমি দারুণভাবে সামলে নিচ্ছো, এটা আমরা সবাই দেখি। কিন্তু তোমার যত্ন নেওয়াটাও আমাদের দায়িত্ব। কিছু লাগলে আগে আমাদের বলবে। চেপে রাখবে না।”
জিনিয়া মাথা তোলে, চোখে কৃতজ্ঞতার ছাপ।
__“জানি ভাইয়া… আর তোমাকে বলতে হয়?তুমি তো সবকিছু আমাকে এনেই দাও।”
আরমান মৃদু হেসে বলে,
__“ আজ আর কোনো কাজ নয়। আগে বিশ্রাম। তোমাকে ভালো থাকতে হবে, তবেই সবাই ঠিক থাকবে। ভাইয়া আবার কল করে জিজ্ঞেস করব।”
জিনিয়া চুপচাপ মাথা নাড়ে,
__“ঠিক আছে ভাইয়া…! ”
জিনিয়ার শরীর খারাপ দেখে আরমান যত্ন করে কথা বলছে—এ দৃশ্য দেখে জাহেদ হঠাৎই গলা খাঁকারি দিয়ে একটু মজা করে বলে উঠল—
__“এতো আদিক ক্ষেতা করতে হবে না। বিয়ে দিয়ে দিয়েছি তারপরও আমাদের বাড়িতে এসে অন্ন্য ধ্বংস করে। ”
তার কথা শেষ হতেই সবাই একই সাথে তাকায় তার দিকে। জেসমিন বেগম চোখ কুঁচকে বলে ওঠেন
—“এই ছেলে, মুখটা সামলে কথা বলিস। সব সময় এত মজা করতে ভালো লাগে নাকি?”
ফিহা পাশে থেকে জাহেদের হাতে ঠুস করে একটা খোঁচা দেয়
—“অন্যের সুখে আগুন ধরাতে কেন এত ভালো লাগে আপনার বলুন তো? আর একটা বাজে কথা বললে আপনাকে ধরে পানিতে ফেলে দেব!”
রাশেদ চায়ের কাপ নামিয়ে চোখ বড় করে বলে
—“বোনদের পুরো অধীকার আছে বড় ভাইদের অন্ন্য ধ্বংস করার। ”
রোহান জানে জাহেদ মজা করছে। জাহেদের কাধে চাপর মারে একটা।তারপর রোহান তখন হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে মুচকি হেসে বলে
—“শা*লার সুমন্ধীর চেংড়া, কয় কি রে? আমার বউরে নিয়ে মুখ খারাপ করস? কত চাল লাগবে বল, আজকেই পাঠাইয়া দিমু—তাও আমার বউরে নিয়ে একটা কথা বলবি না!”
সবাই হেসে ফেলে। জাহেদ মুখ বাঁকা করে বলে
—“এই ঘরে কেউ আমাকে সম্মান দেয় না। আমি একটু মজা করলেই সবাই দল বেঁধে এসে গলা ধরে বসে।”
ছায়মা দূর থেকে বলে ওঠে
—“অপবাদ নিজেই নিজের কাঁধে নিয়েছো। তুমি মানুষকে রাগানোর দায়িত্ব নিয়েছো নিজেই।”
জারা রান্নাঘরের দরজা থেকে সব দেখে হাসছিল।ফারিয়া বেগম এর সাথে চায়ের কাপগুলো রাখতে যায়। তখনই রাশেদ ঘড়ি দেখে বলে
—“চলো এখন, দেরি হয়ে যাচ্ছে। অফিসে না গেলে বড় আম্মু আবার রাগ করবে।”
চারজন—আরমান, রোহান, রাশেদ, জাহেদ—একসাথে বের হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে গেল।
যাওয়ার ঠিক আগে আরমান পিছনে ফিরে তাকাল। তার চোখ সোজা গিয়ে পড়ল জারার চোখে।জারা সঙ্গে সঙ্গে মুখ ভেঙচি কাটল—“নাটক। ”
আরমান কিছু বলল না। শুধু হালকা এক হাসি মুখে রেখে দরজার বাইরে চলে গেল। জারা চোখ সরিয়ে নিলেও গালটা টুক করে লাল হয়ে উঠল।
বিকেল বেলা বাড়িটা এমনিতেই খুব আলো–ঝলমলে থাকে। জানালার পর্দা সরালে সূর্যের শেষ আলো ড্রইংরুমের সাদা দেয়ালে নরম লেগে থাকে। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। তবে আজকের বিকেলটা যেন একটু আলাদা… একটু বেশি হাসিখুশি, একটু বেশি চঞ্চল, আর একটু বেশি জীবনভরা।
ড্রইংরুমের বড় সোফাসেটের চারপাশে গাদাগাদি করে বসে আছে মেয়েরা—মিম, ফিহা, জারা, জিনিয়া আর ছায়মা । এত মানুষ একসাথে হলে যেমন হট্টগোল হয়, তেমনই উষ্ণতাও ছড়িয়ে পড়ে।
জেরিন স্কুল থেকে ফিরেই দৌড়ে এসে বোন জিনিয়াকে জড়িয়ে ধরে বসে আছে। বয়সে ছোট হলেও সবার আদরের। বোনকে পেলে আর ছাড়ে না। জিনিয়াও বাহুডোরে শক্ত করে ধরে রেখেছে তাকে।
রান্নাঘরে তখন কড়াইতে তেল গরমের শব্দ। ফারিয়া বেগম আর জেসমিন বেগম দুইজন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মেয়েদের জন্য বিকেলের নাস্তা বানাতে। মাঝে মাঝে নাস্তার সুগন্ধ ভেসে এসে ড্রইংরুমের হাসি–গল্পের সাথে মিশে যাচ্ছিল।
আজ কারো মনেই কোনো দুশ্চিন্তা নেই। হাসাহাসি, ঠাট্টা, মজা—সব মিলিয়ে পরিবেশটা যেন ঈদের আগের বিকেলের মতো সরগরম।
মিমের পাতলা গোলাপি কামিজটা বারবার মুখে ঠেকছে, কারণ মিম লজ্জা পাচ্ছে। কী হবে, আজ যে সবাই ওকে নিয়েই মজা করছে! কারণ একটাই—মিমের বাচ্চা হবে।
জারা গাল ফুলিয়ে বলল,
— “এই মিম, এমন করে মুখ লুকাছিস কেনো? একটু হাস তো, দেখি!”
মিম লজ্জায় আরেকবার কামিজের উড়না মুখে দিয়ে বলল,
— “তোরাও না!”
ফিহা হেসে উঠল,
— “দেখো তো, খবরটা জানার পর থেকে মিম এমন লজ্জা পাচ্ছে আজ এক মাসের বেশি—যেন আমরা প্রথমবার জানলাম বাচ্চা কিভাবে আসে!”
সবাই হেসে উঠল। জিনিয়া চুল ঠিক করতে করতে বলে উঠল,
— “কথা শোনো, সবচেয়ে মজা তো এখন! আমাদের সবার আগে তো জারার বিয়ে হলো… তাই ভেবে ছিলাম বেবিও জারার আহে হবে। কিন্তু দেখো, আগে হচ্ছে মিমের!”
জারা হেসে হাত তুলে বলল,
— “আরেহ, বেবি এক জনের হলেই হলো। সে তো আমাদের সবার আদরের হবে।”
ফিহা সাথে সাথে বলে উঠল,
— “একদম ঠিক! বাচ্চা হলে তো বাসায় নতুন এনার্জি… নতুন চঞ্চলতা!”
ছায়মা লাফাতে লাফাতে বলে—
— “আর আমি ওর নাম রাখার দায়িত্ব নিলাম!”
আবার সবাই হেসে উঠল।চারদিকে এমন আনন্দ যে, দেয়ালও যেন হাসছে। জেসমিন বেগম রান্নাঘর থেকে মাথা বের করে বললেন—
— “ছায়মা মা! এসে নাস্তার প্লেট টা নিয়ে যা তো।”
ছায়মা বসা থেকে উঠতেই জিনিয়া হালকা উঠে দাঁড়াল।
— “তুই বস! আমি আনছি..!”
তার হাতটা এখনো জেরিনের হাতেই ছিল। তবে জেরিন বুঝে ছেড়ে দিল। জিনিয়া হাঁটতে শুরু করেছে ঠিক তিন–চার পা… হঠাৎই তার শরীরটা দুলে উঠল।
মাথা ঘুরল।চোখে অন্ধকার নেমে আসলো।তারপর—
ধপ!
সে পড়ে যেতে চাইল, কিন্তু যাওয়ার আগেই জারা আর ফিহা দৌড়ে গিয়ে তাকে ধরে নেয়।
জেরিন চিৎকার করে উঠল—
— “আপুউউ! আপু!”
ড্রইংরুমের প্রাণখোলা হাসিগুলো মুহূর্তেই থেমে যায়।
ফারিয়া বেগম আর জেসমিন বেগম কড়াই ছেড়ে ছুটে বেরিয়ে এলেন। জারাও ভয় পেয়ে চিৎকার করতে করতে এগিয়ে আসে—
— “জিনিয়া আপু জিনিয়া আপু! চোখ খোলো!”
সবাই মিলে জিনিয়াকে সোফায় বসালো।তার কপালে পানি ছিটালো।জারা হাত দুটো ধরে রাখল। মিম তার মুখে বাতাস করতে লাগল।
ছায়মা তড়িঘড়ি করে ফোন বের করে ডাক্তারকে কল লাগাল। ড্রইংরুমের পরিবেশ একদম বদলে গেল।
মুহূর্তের মধ্যে হাসির বদলে দুশ্চিন্তার ছায়া নেমে এলো। ফারিয়া বেগম কাঁপা গলায় বললেন—
— “পানি দে, মুখে ।”
জেসমিন বেগম জিনিয়ার নরম হাত দুটো নিজের হাতে নিয়ে চোখ মুছলেন।
— “মা, চোখ খোল… মামণি, কী হলো তোর?”
জিনিয়ার নিঃশ্বাস ঠিক আছে, কিন্তু মাথা ঘুরছে।
সে চোখ মেলে তাকাতে চেষ্টা করে, গলা শুকনো।
— “আমি… ঠিক আছি… শুধু মাথা ঘুরতেছে একটু।”
__“ঠিক নেই!”—জারা গলা কাঁপিয়ে বলল
—“তুমি পড়ে যাচ্ছো, আবার ঠিক আছো কীভাবে?”
এখানে–ওখানে দৌড়াদৌড়ি, পানি আনা–নেওয়া…
জেরিন বোনকে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলছে—
— “আপু, তোমাকে কিছু হতে দিব না। তুমি উঠো।”
১০–১২ মিনিট পর ডাক্তার এসে পৌঁছালেন।
একদম সিরিয়াস মুখে তিনি বললেন—
— “সরে যান সবাই। আমি আগে দেখে নিই।”
সবাই দূরে দাঁড়িয়ে দোয়া করতে লাগল।ডাক্তারের স্টেথোস্কোপ, রক্তচাপ মাপা, নাড়ি দেখা—সব করতে প্রায় সাত–আট মিনিট গেল। ড্রইংরুমে এমন নীরবতা যে ব্রেসলেট দুলে চাপা শব্দও শোনা যায়।
তারপর ডাক্তার হাঁসি দিয়ে বললেন—
— “চিন্তা করবেন না। কোনো বিপদ হয়নি।”
সবাই যেন একসাথে শ্বাস ফেলল। ডাক্তার বসে বললেন,
— “ওকে একটু মিষ্টি খাওয়ান। শরীরে গ্লুকোজ কমে গেছে। আর হ্যাঁ…”
ডাক্তার থেমে চারদিকে তাকালেন।সবার চোখ ডাক্তারর মুখে। ডাক্তার মুচকি হেসে বললেন—
— “আপনাদের ঘরে নতুন মেহমান আসছে।”
এক মুহূর্ত নীরবতা। তারপর সবাই একসাথে বলে উঠে
__“কিকক..!”
ড্রইংরুম একসাথে চিৎকার করে উঠল।জেসমিন বেগম ফারিয়া বেগম এক সাথে আলহামদুলিল্লাহ বলেন। সবাই তো মহা খুশি। তাদের ঘরে আরও একটা অতিথি আসচ্ছে। মিম হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরল—
— “ও মা! জিনিয়া আপুও!”
ফিহা ছুটে এসে জিনিয়াকে জড়িয়ে ধরল—
— “আহ শুনেছো আপু?! তুমিও মা হবে!বেবি হবে!”
জারা তো লাফাতে লাফাতে বলছে—
— “আমাদের বাসায় টুকটুক, পুটি–পাটি, ডুগডুগ শব্দ করার মতো আরেক জন আমাদের বাড়িতে আসচ্ছে ! ব্যাস, আজ থেকে আমি মামি হলাম, কাকিয়া হলাম, আলহামদুলিল্লাহ.. আলহামদুলিল্লাহ..! ”
ছায়মা ফোনটা হাত থেকে পড়ে যাওয়ার মতো করল
— “ও আমি রোহান ভাইয়া কে বললে তো সে শুনলে পাগল হয়ে যাবে খুশিতে!”
জেসমিন বেগমের চোখ পানিতে ভিজে উঠল।তিনি মেয়ের মাথা বুকে চেপে ধরে বললেন—
— “মা, সুখে থাকিস। আল্লাহর রহমত তোর ঘরে নেমেছে।”
ফারিয়া বেগম তো কাঁদছেনই, সাথে সাথে জিনিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন—
— “আমার মেয়ে মা হবে! আলহামদুলিল্লাহ!”
জিনিয়া ধীরে ধীরে মায়ের কাছে গিয়ে দু’হাত দিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরল। জেসমিন বেগম প্রথমে কিছু বুঝতে পারলেন না, তারপর জিনিয়ার কাঁপা কণ্ঠ শুনেই থমকে গেলেন।জিনিয়া এতক্ষণে পুরোটা বুঝল।তার চোখে পানি এসে গেল।জিনিয়া চোখ ভিজে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,
__ “আ.আম্মু..আ আমি… মা হচ্ছি?”
জিনিয়া মায়ের হাতটা ধরে চোখ ভিজে গিয়ে আস্তে বলল
—“আম্মু… আমি মা হতে চলেছি… সত্যি বলছি, বিশ্বাসই হচ্ছে না। আমার মনে হচ্ছে আমার ভেতর একটা নতুন পৃথিবী তৈরি হচ্ছে। আমি খুব খুশি আম্মু। আজ আমার আনন্দে মনটা ভরে গেছে, আম্মু… আমি মা হতে যাচ্ছি—এই কথাটা বলতেই বুক কাঁপছে। আল্লাহ্ আমাকে শক্তি দিন…।”
জেসমিন বেগম মুহূর্তেই মেয়েকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন।চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে নামল দু’জনেরই।জেসমিন বেগম বললেন—“আলহামদুলিল্লাহ…আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া। আমার মেয়েও মা হবে! এটা তো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ।”
জিনিয়া হেসে–কেঁদে মাথা মায়ের বুকে রেখে বলল
—“আম্মু..ও বড় আম্মু… আ আমি খুব খুশি…”
কাঁদে কাঁদে সে তাদের জড়িয়ে ধরে।
জারা কাছে এসে তার হাত ধরে বলল—
— “হ্যাঁ, তুমি ও এখন একজন মা। তুমি কত সুন্দর একটা বেবির মা হবে জানো?”
ফিহা ফোনে জাহেদকে কল দিল। পাল্টা দিক থেকে জাহেদ একটু হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
— “কি হয়েছে? বাড়িতে কিছু হয়েছে ?”
ফিহা হেসে বলল—
— “আপনি মামা হবেন!”
জাহেদ শব্দটা শুনে প্রথমে থমকে যায়,তারপর চিৎকার করে ওঠে—
— “কি! সত্যি! সত্যি? জিনিয়া?আ আমি মা..মামা হবো..?”
ফিহা হেসে বলল—
— “হ্যাঁ, ডাক্তার বলেছে। সবাই কে বলুন। আর এখনই আসুন , অনেক গুলো মিষ্টি আনবেন।”
জাহেদ উত্তেজিত কণ্ঠে বলল—
— “ফিহা, আমি সবাই কে নিয়ে এক্ষুনি আসচ্ছি !”
ড্রইংরুমের পরিবেশ পুরো বদলে গেছে।সকলের মুখে আনন্দের উজ্জ্বলতা।সবাই একে–অপরকে জড়িয়ে ধরছে, হাসছে।হাসাহাসি আর কান্না মিলে যেন নতুন এক আনন্দের বন্যা বইছে ঘরে।মিম হাত রেখে বলল,
— “আমরা দুইজন একসাথে মা হবো! ও আমার গার্লস গ্যাং এখন পুরোপুরি কমপ্লিট!”
জারা দুষ্টুমি করে বলল,
— “আগে ভাবছিলাম বাসায় কেবল আমি সিনিয়র হবো—এখন দেখি বেবিদের সিনিয়রিটি নিয়ে যাবে তোমরা দুইজন!”
বড় আম্মু চোখ মুছতে মুছতে বললেন—
— “আমার নাতনিরা কিংবা নাতিরা একসাথে বড় হবে। আল্লাহর রহমত।”
রান্নাঘর থেকে নাস্তার গন্ধ আসছে, কিন্তু নাস্তায় কারো মন নেই। আজ নাস্তা, খাবার—সবকিছু ভুলে সবাই নতুন সুখবর নিয়ে ব্যস্ত।জিনিয়া এখনো সোফায় বসে, কিন্তু মুখে হাসি থামছে না।সে রোহানের কথা ভাবছে, রোহান খবর টা পেলে কি ভাবে রিয়েক্ট করবে?হয়তো খুশি পাগল হয়ে যাবে।
জারা তাকে পাশে বসিয়ে বলল—
— “শুনো, তুমি ভয় পেও না। আমরা সবাই তোমার পাশে আছি। তোমাকে কোনো কাজ করতে দেব না।আর ও বাড়িতে যেতে হবে না ।”
জিনিয়া মাথা তুলে বলল—
— “তোমরা আছো বলেই তো সাহস পাই…”
ফারিয়া বেগম হাসিমুখে বললেন—
— “চলো এবার নাস্তা করো সবাই। আনন্দে কাউকে দুর্বল হওয়া চলবে না।আর আমাদের দুই মা, আমাদের নাতি, নাতনি দের না খাইয়ে রাখবেন না !”
মিম বলল—
— “বড় আম্মু , আজ থেকে জিনিয়া আপুর জন্য আলাদা লিস্ট করতে হবে।যেমন টা তুমি আর ছোট আম্মু আমার জন্য করেছো। বেবির জন্য যা যা দরকার—সব কিনে ফেলতে হবে!”
জারা বলল—
— “ঠিক বলেছিস জানু তুই !”
ছায়মা চিৎকার দিয়ে উঠল—
— “আমি এক সাথে দুই বার খালা মনি হবো?কী আনন্দ ?”
ফিহা গম্ভীর মুখে বলল—
রৌদ্রময় বালুচর পর্ব ৭১
— “তুমি একা নও ছায়মা আপু? আমিও আছি?আর তোমার থেকে বেশি। মামি + কাকিয়া.!”
সবাই আবার হেসে ফেলল।ড্রইংরুম ভরে উঠল হাসির শব্দে, ভালবাসার উষ্ণতায়, আর নতুন আগমনী–বার্তার আনন্দে। জারার মুখে তখন এমন হাসি—যেটা দেখে বোঝা যায়, অন্যের সুখেই তার সুখ সবচেয়ে বড়।
