বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৬১
ইশরাত জাহান
শার্টের উপরের দুটো বোতাম খুলে শোভার গলায় মুখ ডোবায় দর্শন।শোভার মাঝে মিশে থাকতে তার নেশায় ডুবে যেতে ইচ্ছা জাগছে।শোভাকে চুম্বন দিয়ে যেই শোভার মাথায় হাত রাখতে নেয় ঠিক তখনই বুকের উপর কামড়ের ব্যথা অনুভব করে দর্শন।শোভা অনেক জোরে কামড়ে ধরেছে দর্শনকে।আচমকা এমন ব্যথায় দর্শন থমকে গেলো।চোখ তুলে তাকাতেই শোভা নিজেকে ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়ায়।
শোভা অবশেষে নিজেকে ছাড়াতে পারল।অনেক হয়েছে তার।অনেক ছাড় দিয়েছে দর্শনকে।ধৈর্যের পরীক্ষা অনেক দিয়েছে শোভা।দাদাজানের কথামত দর্শনকে বারবার সুযোগ দেয়।এবার শোভা আগের মতো আবার প্রতিবাদী হবে।এই তো এখন যেমন দর্শনকে কামড়ে দূরে সরে গেলো।দর্শন উঠে দাঁড়ায়।কিছু বলতে নিলে দূর থেকে কিছু একটা আসার আভাস পায়।শোভাও সেদিকে তাকাল।একটু পর সকাল হবে।এখন হালকা হালকা আলোর ঝলকানি দিচ্ছে।কেউ আসলেও দেখা যাবে।এই কারণেই শোভা সাহসও পেলো।
ছাতা হাতে সামনে দাঁড়িয়ে আছে দুজন।সিনথিয়া ও দিজা।দুজনেই একে অপরের দিকে চেয়ে অতঃপর দর্শন ও শোভার দিকে তাকালো। দিজা এগিয়ে এসে শোভাকে জড়িয়ে ধরে বলে,“তুমি ঠিক আছো?”
শোভা শান্তনা দিয়ে বলে,“কিছু হয়নি আমার।”
সিনথিয়া এগিয়ে এসে বলে,“কি করছিলে তোমরা এখানে?”
দর্শন মেজাজ গরম করে বলে,“তোমাকে কৈফিয়ৎ দিতে হবে?”
সিনথিয়া ক্ষেপে গেলেও ঠান্ডা রাখে নিজেকে।এইসব ব্যক্তিকে হ্যান্ডেল করা তার বাঁহাতের ব্যাপার।সুন্দরভাবে বলে, “দিজা তো তোমাদের নিয়ে খুব চিন্তা করছে।দিদারকে পর্যন্ত কল করে এই রাতে বিরক্ত করে।এমন ভাব করছিল যেনো আজকে তুমি শোভাকে খুন করে ফেলতে।”
দর্শন তোয়াক্কা করলো না।শোভা আদূরে হাতে দিজার গাল ধরে বলে,“আমি একদম ঠিক আছি।”
দিজা কাপা কাপা কণ্ঠে বলে,“ভাইয়ের যে মেজাজ!ওই সময় ভাইজানকে দেখে আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম।না জানি কি করে দেয় তোমার।”
মাথার পানি ঝাড়া দিয়ে সরিয়ে দর্শন বলে,“তুই কি আমাকে আটকাতে এসেছিস?হাহ!এটাও মানতে হবে তোর মতো ভীতুর ডিম আমার কাজে বাধা দিতে পারবে।”
দিজা ভয়ে ঢোক গেলে।শোভা ফুঁসে ওঠে।সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজকে যশোর যাবে।এটাই করবে।তবে দর্শনকে বলে যাবে না।দর্শনকে হারে হারে চিনেছে শোভা।এখন যদি যাওয়ার নাম করে তবে আবারও ভুগতে হবে তাকে।দিজার দিকে চেয়ে বলে,“ভিতরে চলো।ভেজা অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলে ঠান্ডা লেগে যাবে।”
সবাই ভিতরে যেতে নিলে দর্শন বলে,“ওয়েট!”
শোভা আতকে উঠল।দর্শন কি এখানে থাকার জন্য এখনও জেদ ধরে আছে?তাহলে শোভা শেষ।এমনিতেই জ্বর জ্বর ভাব আসছে এই ভেজা শরীরে বেশিক্ষণ থাকতে পারবে না আর। দিজা মৃদু হেসে বলে,“জি ভাইজান?”
“আমি তো লক করে এসেছিলাম।যেটার চাবি তোদের কাছে নেই।তাহলে বের হলি কিভাবে?”
দিজা জানায়,“সিনথিয়া আপু অনেকক্ষণ চেষ্টা করে হেয়ারপিন দিয়ে লক খুলেছে।তারপর আমরা তোমাদের খুঁজতে খুঁজতে এতদূর এসেছি।”
দর্শন দাঁত চেপে বলে,“এই মেয়ের সবকিছুতে পাকনামি।”
শোভা এতক্ষণ দর্শনের উপর রেগে থাকলেও এই একটা জায়গায় এসে খুব খুশি হয়।সিনথিয়াকে বকলেই শোভার মন নেচে ওঠে।
ভিতরে এলো সবাই।দিজা মোবাইল নিয়ে দ্রুত কল দেয় দাদাজানের কাছে।কারণ দিদার রাতের বেলা দাদাজানের সাথে ঘুমিয়েছিল।মোবাইলে কথা বলার সময় যে দাদাজান জাগ্রত ছিল এটা দিদার আন্দাজ করেনি।করলে ওসব কথা ভুলেও বলতো না।
ওই সময় দিদার কল কাটতেই দাদাজান ওকে লাথি মেরে বিছানা থেকে ফেলে দেয়।দিদার অবাক হয়ে বলে,“কি হলো!ভুলভাল স্বপ্ন দেখেছো নাকি?”
দাদাজান ধমকে বলেন,“নাহ,স্বপ্ন না বাস্তব।তুমি যে এত বেফাঁস মুখের অধিকারী এটা তো জানতাম না।”
দিদার জিহ্বা কামড়ে বলে,“তোমাকে কি জানানো যায় নাকি?তুমি যে দাদা হও।”
“চুপ!তোমার জন্য ওই বড় ছোকরাই ঠিক।পিটিয়ে পিঠের ছাল চামড়া উঠিয়ে দিবে।সেসব কথা পরে আগে বলো ওটা আবার কি কান্ড ঘটিয়েছে?”
“এই রাতে তার বউকে নিয়ে বাইরে বেরিয়েছে।”
“সাঙ্ঘাতিক ঘটনা তো।ব্যাটা বউ নিয়ে বের হবি তাতে সমস্যা নেই কিন্তু সময় বুঝে তো বের হবি।ঘটনা সুবিধার ঠেকছে না।”
“আরে দাদাজান এত চিন্তার কি আছে?”
“অনেক কিছুই চিন্তার আছে।”
“স্বামী তার বউ নিয়ে বাইরে বের হয়েছে।এটা নিয়ে চিন্তার কি আছে?”
“অন্য কেউ তার বউ নিয়ে বাইরে বের হলে চিন্তা করতাম না।এ হলো দর্শন ফরাজি।গিরায় গিরায় রাগ।একে নিয়ে ভরসা নেই।”
“তুমি একটু বেশিই ভাবছো দাদাজান।”
“তুমি কি আমাকে এখন শেখাবে আমি কি ভাববো না ভাববো?”
“আরে তা না।বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী মিলে বাইরে ঘুরতে যায়।এটা স্বাভাবিক।এখন রাত না দিন এটা কোনো ব্যাপারই না।ওদের ইচ্ছা।”
“এমনভাবে বলছো যেনো আমি বৈবাহিক জীবন পার করিনি তুমি দুইদিনের ছোকরা বৈবাহিক জীবন নিয়ে পিএইচডি করেছো।”
দিদার কপাল চাপড়ে বলে,“আমি এটাই বুঝলাম না তোমরা ব্যাপারটা পজেটিভ না নিয়ে ওভার চিন্তা কেন করছো?”
“কারণ তোমার ভাবী কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ পায়নি তাই।সে পেয়েছে এক জল্লাদকে।যার ভেতরে স্বাভাবিক আচরণ এখনও তৈরি হয়নি।”
দিদার চুপ থাকলো।দাদাজান আবারও বলেন,“তুমি দিজাকে আবার কল দেও।আমি কথা বলব।”
দিদার কল দেয়।জানতে পারে ওরা তালা খুলতে ব্যাস্ত।দাদাজান জানায় ওদেরকে পেলেই যেনো কল দেওয়া হয়।যতক্ষণ না কল দেওয়া না হবে দাদাজানের চিন্তা আরো বেড়ে যাবে।কারণ দিজা জানিয়েছে এখন বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে খুব জোরে।তাই এখন দাদাজানের কাছে কল দিল।
দাদাজান ধরতেই কোনো খোঁজ খবর না নিয়ে সরাসরি বলে, “হতচ্ছাড়াকে দেও।”
দিজা দিলো দর্শনের কাছে মোবাইল।দর্শন কপাল কুঁচকে ফোন কানে নিতেই দাদাজান বলেন,“সিনেমার খলনায়ক হবার শখ জাগছে?তাহলে ডিপজলের মতো মোটা ভাম হয়ে থেকো।”
“উল্টো পাল্টা বকবে না।”
“ঠিকই বলেছি।তোমার থেকে তো ডিপজল চরিত্র বেশি ভালো।অন্তত সে বউকে ভালোবেসে আগলে রাখতে চায়।তোমার মতো রাত বিরাতে বউকে বৃষ্টিতে নিয়ে শাস্তি দেয়না।”
“আমাদের স্বামী স্ত্রীদের ব্যাপার এটা।”
শোভা মুখ ভেংচি দিলো।দাদাজান বলেন,“তাই নাকি?তোমাদের স্বামী স্ত্রী!এখন দেখি মাখো মাখো প্রেম!এই প্রেম রেখে চারটে বছর তো ঠিকই দূরে ছিলে।এখন আমার মাধ্যমে সংসার করার সুযোগ পেয়ে আমাকেই বানাও তৃতীয় ব্যক্তি!সাহস তো কম না তোমার।”
“আমার সাহসের সাথে পরিচয় নতুন করে হয়েছো নাকি?”
“চুপ থাকো।শোনো আমার কথা।সংসার করতে চাইলে তোমার ওই গরম মাথায় প্রতিদিন সকালবেলা উঠেই বরফ ঢালবে সেই বরফ ঘুমানোর আগ অব্দি মাথায় রেখেই দিবে।অন্তত আমার নাতবউয়ের সামনে সবসময় মাথায় বরফ দিয়ে রাখবে।মেয়েটা তাহলে সুখে থাকবে তোমার সাথে।”
“তোমার নাতবউকে বরফ হতে বলো।তাহলেই তো সমস্যার সমাধান হয়।সেই যদি আগুনের শিখা হয় আমার তো সেই জিনিসটাই মাথায় নিয়ে গরম থাকতে হয়।”
“ওই মেয়ে ঠিকই আছে।একমাত্র ওই মেয়ে আছে বলেই তোমার বিবাহিত জীবন মজবুত আছে।নাহলে অন্য মেয়ে হলে কবেই ভেঙে যেতো।”
“ভাঙবার সুযোগ দিয়েছিলাম।ভাঙেনি তো।যেহেতু সে সম্পর্ক মজবুত রেখেছে এখন সে চাইলেও পারবে না ভাঙতে।”
“তোমার কথায় নাকি?”
“হ্যাঁ আমার কথায়।”
“মেয়েটাকে যদি আর একবার কিছু বলেছো আমি তোমার এমন হাল করবো,চিরজীবনের জন্য নিজের বাপের নাম ভুলে যাবে।”
“তুমি যদি চাও তোমার ছেলের নাম আমি ভুলে যাই তবে আমার কোনো আপত্তি নেই।তোমার ছেলের হাহাকার তোমাকেই ভুগতে হবে দাদাজান।”
দাদাজান এবার দিজার সাথে কথা বললেন।এমন সময় সিনথিয়া আচমকা তাকালো দর্শনের উন্মুক্ত বুকের দিকে।শার্টের উপরের দুটো বোতাম খোলা থাকায় জিম করা বডি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।পুরোই আকর্ষণীয় লাগছে সিনথিয়ার নজরে।সিক্স প্যাক।ফিটনেস বজায় রেখেছে দর্শন।ছেলেটার চোখে রাগ সবসময় দেখা দিলেও চোখটা কিছুটা ঘোলাটে।সবথেকে আকর্ষণীয় লাগে দর্শনের চাপদারি।মাথাভর্তি চুল এখন ভিজে আছে।সিনথিয়া আবারও দর্শনের উন্মুক্ত বুকের দিকে দেখে মনে মনে বলে,“ঘরের মধ্যে হট একটা বয় থাকতে আমি কি না বাইরে ঘুরে বেড়াই!আমার জ্যাকপট তো আমার কাছেই।রিচ এন্ড হট।এমন ছেলে যদি আমার কাছেই থাকে আমার তো বাইরে খোঁজার প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমার টার্গেট দর্শনকে নিজের করার।”
সিনথিয়ার এমন চাহনি দেখে শোভা ভ্রু কুঁচকে দর্শনের দিকে তাকালো।স্বামীর বুকের দিকে অন্য নারীকে তাকাতে দেখে শোভার রাগ বাড়ল। জ্বর জ্বর ভাব আসলেও শোভা দ্রুত নিজের ভেজা ওড়নাটা দিয়ে দর্শনের বুক ঢেকে দিল।একদম চাদরের মত করে পেচিয়ে।
সবাই বেক্কল বনে গেলো।দর্শন ভ্রুকুটি করে দেখে শোভার কাণ্ড।শোভা রেগে গিয়ে বলে, “পরনারীকে আপনার শরীর না দেখালে হয়না?”
দর্শন নিজের দিকে তাকাতেই বুঝলো তার শার্টের বোতাম খোলা।নিজের দিকে একবার চেয়ে অতঃপর শোভার দিকে চাইল।ঠোঁটে এবার তৃপ্তির হাসি দেখা দিলো।তার বউ জেলাস।এদিকে শোভার ওড়না দর্শনের শরীরে চাদরের মত পেচানোর কারণে শোভার গায়ে ওড়না থাকলো না।
দর্শনের চোখ শোভার দিকে।ভিজে থাকা জামাটা শোভার গায়ের সাথে মিশে আছে।তাকে দেখতে এখনও নেশা ধরে যাচ্ছে দর্শনের কাছে।শোভাকে দ্রুত পাঁজাকোলা করে নেয় দর্শন।এমন দৃশ্য দেখে সিনথিয়ার সাথে দিজাও ভরকে গেলো।শোভা পা লাফিয়ে জিজ্ঞাসা করে,“কি হলো?”
দর্শন শোভার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,“যেটা বাইরে হয়নি ওটাই ঘরের মধ্যে হবে ওয়াইফি।”
শোভা এবার নিজেকে ছাড়ানোর জন্য আরও বেশি জোরে চেষ্টা করে বলে,“আপনার সাথে আমার ফয়সালা আছে।আগে সব হিসাব বুঝে নিবো তারপর বাকি কাজ।”
“হিসাব তো হবেই কিন্তু এখন না পরে।”
“পরে না।আগে হবে হিসাব।আমি আগে হিসাব নিতে চাই।”
দর্শন ধমকে বলে,“বললাম না আগে কাজ পরে হিসাব।”
সিনথিয়া ওদের কথা শুনবার চেষ্টা করছিল।সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে যাওয়া যুগলের পিছনে সিনথিয়া কান পাতার চেষ্টায় সেও উপরে উঠতে নেয়।কিন্তু কিছুই শুনতে পায়না।আরেকটু এগিয়ে যেতে নিলে দিজা দ্রুত এসে হাত ধরে বলে,“ওরা স্বামী স্ত্রী।ওদের মধ্যে না যাওয়াই ভালো।”
সিনথিয়া এবার দিজাকে থাপ্পড় দিতে চাইলো।কিছু ভেবে দিলো না।দাঁত চেপে নিজেকে শান্ত করে বলে,“একটু আগে যখন স্বামী স্ত্রী বাইরে গিয়েছিল তখন তো তুই ওদের মধ্যে ঢোকার জন্য মরিয়া হয়েছিলি।এখন কি হলো?”
“কমনসেন্স বোঝো আপু?একটু আগের ব্যাপার আর এখনকার ব্যাপার পুরো আলাদা।ওই সময় ভাইজানের মাঝে ভয়ানক রূপ দেখে আমি ভাবির জন্য দুশ্চিন্তা করেছি।ভাবী আমাদের পরিবারের আমানত।হুট করে এভাবে ওর বিপদ দেখে আমি ননদ হয়ে সাহায্য করব।তখন স্বামী স্ত্রী ব্যাপারটা ফ্যাক্ট করে না।এখন ভাইজানের মধ্যে আমি কোনো রাগ দেখিনি।বরং ভাইজান এখন স্বাভাবিক আছে।মনে তো হচ্ছে ভাইজান ভাবীকে …
বলতে গিয়েও থেমে গেলো।সিনথিয়া প্রশ্ন করে,“কি?”
দিজা বিরক্তির সাথে বলে,“তুমি না সিনেমা দেখো?সিনেমায় নায়ক কখন নায়িকাকে পাঁজাকোলা করে?”
“রোমান্সের সময়।”
“এবার বুঝে নেও ভাইজানের মাঝে আমি কি দেখলাম।”
“রোমান্স!”
“হুমমম,এই জন্যই বলছি ওদের পার্সোনাল প্রাইভেসির মাঝে আমরা না যাই।”
সিনথিয়ার হিংসা বাড়ছে।শোভার মতো মিডিলক্লাস মেয়ে পেয়ে গেলো এমন হট আর রিচ বয়!এমন যুবক তো সে ডিজার্ভ করে।দর্শনকে নিজের করেই ছাড়বে।যে করেই হোক।
ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে দিলো দর্শন।শোভা চেয়ে দেখল।দর্শনের শরীরে পেচানো ওড়নাটা খুলে মাটিতে ফেলে গায়ের শার্টটাও খুললো।শোভা হুমকি দিয়ে বলে,“কাছে আসবেন না কিন্তু।”
“নাটক কম করো ওয়াইফি।আমি তোমার হাসব্যান্ড।তোমার সবকিছুর দায়িত্ব নেবার সাথে সাথে তোমার কাছে আসাটাও আমার দায়িত্ব।”
“দরকার নেই আপনার দায়িত্ব নেওয়া।”
“ভালোবাসা চাই না তোমার ওয়াইফি?”
শোভা থমকে গেলো।সেই চেয়েছিল ভালোবাসা।এই তার নমুনা!এমন ভালোবাসা তার চাইনা।শোভা তেজ মিশিয়ে বলে,“চাই না আপনার ভালোবাসা।যে পারে না সম্মান করতে সে আবার ভালোবাসবে!আশা করাটাও ভুল।”
দর্শন ভ্রুকুটি করে বলে,“আমি সম্মান করিনা তোমার?”
“না,আপনি তো শুধু আমাকে অপমান করেন।”
“কখন করেছি অপমান?”
“সবসময়।একটু আগেও।আমাকে বাইরে নিয়ে ভয় দেখিয়ে।”
“ওটাকে অপমান ছিল?”
“ছিলো না?”
“উহু।”
“তাহলে কি ছিল?”
“আমি তোমাকে অপমান করিনি তো।জাস্ট তোমার চাওয়াটা পূরণ করেছি।”
“আপনি আসলেই পাগল।”
দর্শন ফিচেল হেসে বলে,“তোমার চাওয়া স্বাধীনতা তোমাকে দিয়েছি।এতেও আমি পাগল?আসলে তোমরা মেয়েরা কিসে সন্তুষ্টি বলো তো ওয়াইফি?ঠিক কতটা স্বাধীনতা চাই তোমার?এতটাই যে স্বাধীনতা নিতে গিয়ে এক সময় আমাকে ছাড়া বাঁচতে শিখবে আর সেই মুহূর্তে আমাকে তোমার জীবনে ফিকে মনে হবে।”
শোভা চুপ করে দর্শনের কথা শুনল।বুঝতে পারছে না এসব কথার মানে।দর্শন বলে,“আসলে এই একমাসে আমি ভুলটাই ভেবেছি তোমাকে নিয়ে।তুমি আসলে সম্পর্কে স্থির না।তুমিও অন্য মেয়েদের মতোই।স্বাধীনতার নামে সম্পর্কের বাঁধন ছিঁড়ে যেতে চাও।তবে একটা ভুল তুমি করেছো।সুযোগ থাকতে নিজের মুক্ত জীবন খোজোনি।আমাদের প্রথম রাতেই তুমি বলেছিলে আমাদের সম্পর্কের অধিকার নিয়ে।মনে পড়ে?তোমাকে আমার বিছানায় আসতে বারণ করেছিলাম।সেদিন তুমি কিছু না বললেও পরদিন প্রতিবাদ করে নিজের অধিকার নিতে এসেছিলে।যেভাবেই হোক আমার বউ তুমি এটা বারবার মনে করিয়ে দেও।যদিও আমার মনে সবসময় থাকলেও কাজে দেখানোর ইচ্ছা ছিল না শুধু মেয়েদের এই নাটক দেখার জন্যই।আমি কয়েকবার তোমাকে দূরে ঠেলে দেই।তুমি স্থির ছিলে আমাকে ছেড়ে না যাওয়ার।কিন্তু এখন তো মনে হচ্ছে তুমি শুধু আমার কাছে স্বার্থে এসেছো।একটা আশ্রয় পেতে।যেটা পেয়েছো বলেই নিজেকে মুক্ত করতে চাইছো?”
শোভার চোখ জালা করে।তার সম্পর্কে আবারও ভুল ধারণা!শোভা ছোট্ট করে বলে,“আশ্রয়?”
“হুমমম,আশ্রয়।মেয়েদের কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকলে তো স্বামীর কাছে আশ্রয় খোজে।সেল্ফ ডিফেন্ডেট থাকে না যে।আশ্রয় পেলে নিজেকে ধাপে ধাপে উপরে ওঠায়।একবার প্রতিষ্ঠিত হলেই সম্পর্ক শেষ।স্বামীকে পর করতে দুই মিনিট সময়ও ব্যয় করে না।”
“এসব বলতে কি আপনার একবারও বিবেকে বাঁধছে না?”
“না,কারণ আমার সাথে বারবার এমনটাই ঘটছে।জন্ম থেকে দেখে আসছি।”
শোভার চোখ বেয়ে পানি পড়ল।মেয়েটা চোখের পানি মুছে বলে,“কথা ঘোড়াতে আপনি খুব পটু।আমাকে একটা চক্রের মধ্যে রাখাটা আপনার স্বভাব।সে যেভাবেই হোক।”
দর্শন হেঁয়ালি হেসে বলে,“এই চক্রের মধ্যে না রাখলে তোমরা মেয়েরা স্বামী সংসার ছেড়ে কবেই নির্দ্বিধায় চলে যেতে।ওই যে বললাম না তোমাদের চাহিদার শেষ নেই।একটা কিছু পূরণ হলেই সম্পর্ক থেকে পালাতে চাও আবার পুরোপুরি না পেলেও হার মেনে পালাতে চাও।ওভারঅল পালাতে তো হবেই।”
শোভা এতটাই রেগে গেলো যে এই প্রথম দর্শনের গালে ঠাস করে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।দর্শন শোভাকে চেপে ধরে দেয়ালের সাথে মিশিয়ে নেয়।শোভা ঘাবড়ে গেলো না।ওর চোখে রাগ ফুটে আছে।মেয়েটা সংসার করতে চেয়েছিল বলেই তো এখানে অপমান সহ্য করেও আছে।কে জানতো এই টক্সিক ব্যক্তির সাথে সংসার করা খুব কঠিন।
শোভার চুলের মুঠি চেপে ধরে দর্শন বলে,“খুব তেজ দেখাতে শিখেছো তাই না?উচিত কথা বলাতে গায়ে লেগে গেলো!”
শোভা ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে।বলে,“ছাড়ুন।”
“না ছাড়ব না।”
“ধরে রাখতেও জানেন না আপনি।”
“কে বলেছে আমি ধরে রাখতে জানি না।এতদিন তোমার ইচ্ছায় চলতে দিয়েছি সবকিছু।এখন থেকে আর হবে না।এবার তুমি বুঝবে এই দর্শন ফরাজি আসলে কে?”
শোভাও বলে,“বোঝাতে দিচ্ছি আপনাকে।”
বলেই দিলো দর্শনের হাতে কামড়।একেতো বুকে কামড়ে দিয়েছিল এখন আবার হাতে!মেয়েটার দাঁতে যেনো ধার বেড়েছে।বুকের মত হাতেও দাঁতের ক্ষয় চিহ্ন ফুটে ওঠে।ছোপ ছোপ রক্ত দেখা যাচ্ছে চামড়া ছিলে।দর্শন সেদিকে চেয়ে আবারও শোভার দিকে চাইল।শোভাকে কিছু বলতে না দিয়ে এবার শোভার দুইহাত এক হাতের মাঝে নিয়ে মাথাও চেপে ধরে শোভার ওষ্ঠ দখলে নেয়।ওষ্ঠ দখলে থাকলেও সেখানে ভালোবাসা ছিল না।শোভার ওষ্ঠে কামড়ে দাগ বসিয়ে দিচ্ছে।শোভা প্রথম দুটো কামড় সহ্য করলেও এখন নিজেকে ছাড়াতে চায়।অসহ্য যন্ত্রণা বাড়ছে।
বাবুই পাখির সুখী নীড় পর্ব ৬০
কিছুক্ষণ ধরে নিজেকে ছাড়াতে ব্যর্থ হলে পরে সেও দর্শনের ওষ্ঠে ইচ্ছা করে কামড়ে দেয়।যে ব্যাথা দর্শন তাকে দিচ্ছে সেই ব্যাথা সেও ফিরিয়ে দিচ্ছে।দুজনের ওষ্ঠের মধ্যে যুদ্ধ চলছে।তলোয়ার হিসেবে দাঁত কাজ করছে।দর্শনের ওষ্ঠে এখন রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে।দুজনেই পাল্লা দিয়ে ওষ্ঠ কামড়াকামড়ি শুরু করে দিল।দুজনের রাগ নিবারণ করতে ব্যস্ত বর্তমানে।ব্যথার কথা ভুলেই গেছে শুধু প্রতিযোগিতা চলছে একজনের সাথে আরেকজনের ওষ্ঠে কামড় দেওয়া নিয়ে।
