Home ভুলভাল অন্তরাল ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ৪

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ৪

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ৪
মুশফিকা রহমান মৈথি

মেজো চাচী অর্থাৎ নিহারিকা পটনভী, পটনভী পরিবারের সবচেয়ে পেটপাতলা নারীদের একজন। তার পেটে সব হজম হলেও কথা হজম হয় না। তিনি একবার কিছু শুনলে তা কাউকে না কাউকে বলবেন-ই,
“তোমাকে একটা কথা বলি, খবরদার কাউকে বলবে না…”
যদিও তিনি সতর্কতা জারি করেন। কিন্তু সেই সতর্কতা টেকসই হয় না। কারণ তিনি-ই আবার অন্য আরেকজনকে বলে ফেলেন। এভাবে কথাটা নিউজ শিরোনামের মতো ছড়িয়ে পড়ে পটনভী মঞ্জিলের কোনায় কোনায়।

বলে রাখি যদিও নিহারিকা পটনভী একপ্রকার কাঞ্চনের দূর সম্পর্কীয় খালা হন। তবুও তাকে চাচী বলা কারণ মেজো চাচার সম্পর্কটা কাছের। যাক গে, মেজো চাচী বিস্ফারিত নয়নে চেয়ে আছেন। তার মুখে একপ্রকার বিস্ময়। স্বাভাবিক। সরফরাজ পটনভী যদিও জুলফিকার পটনভীর মেয়ের ঘরের নাতী। তাও তার স্বভাব জুলফিকার পটনভীর একেবারে কপি পেস্ট। গাম্ভীর্যতা হোক বা নাকউঁচু স্বভাব সবই নানার ডুপ্লিকেট। সেখানেই সেই পটনভীর গর্বের এমন কিছু শোনা একেবারেই তার কাম্য নয়। এদিকে কাঞ্চন এবং সানিয়ার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গিয়েছে। মেজো চাচী শুনে ফেলবে এটাও তো তারা আশা করে নি।
মেজো চাচী থমথমে মুখে এসে দাঁড়ালেন তাদের পাশে। প্লেটে একটা পরোটা নিলেন। একবার কাঞ্চনের দিকে হতাশ চোখে তাকালেন। কিছু একটা বলার ইচ্ছে ছিলো হয়তো। কিন্তু সম্পর্কের দায়রায় ঠিক বলতে পারছেন না। এদিকে কাঞ্চনের ইচ্ছে হলো মাটি ফাঁক করে সেই মাটিতে ঢুকে পড়তে। কি কুফা ধরলো তার? সব চাপাই বুমেরাং এর মতো বাউন্স ব্যাক করছে। এ কি ধরনের দূর্ভাগ্য? আগে তো হত না এমন। এখন যাই বলছে তাতেই একটা গন্ডোগোল বাঁধছেই। মেজো চাচী খাবার নিলেন। যাওয়ার সময় কাঞ্চনকে বললেন,

“তুই চিন্তা করিস না।“
কথাটার অর্থ কাঞ্চন এবং সানিয়া দুজন-ই বুঝলো। সানিয়া প্রায় ক্ষেপে বললো,
“আমার ভাইয়ের মান ইজ্জতের ফালুদা না করলে হত না। তোর মতো বেয়াদব মেয়েকে কেন যে আমার ভাইয়ের গলায় ঝুলালো নানাজান?”
সানিয়ার কথায় মেজাজটা একেবারে ছানা ছানা হয়ে হয়ে গেলো কাঞ্চনের। একেই তার মাথা ভোঁ ভোঁ করছে নবাগত বিপদের ভয়ে উপর থেকে মেয়েটা তাকে খোঁচাতে নামছে না। বলে দাঁত খিঁচিয়ে বলে উঠলো,
“এমনভাব করছিস যেন আমি নাচতে নাচতে বিয়ে করতে গিয়েছিলাম। যা ভাগ এখান থেকে। এই ওটস আর চিয়া সিডের বাটিতে ডুবে মর।“
বলেই প্লেট নিয়ে ডাইনিং হল থেকে বেরিয়ে পড়লো কাঞ্চন। পটনভী পরিবারের মেয়েদের প্রায়শ বিয়ে তাদের পরিবারের মধ্যেই হয়। যদি অনেক দূরের কোনো পটনভীর সাথেও হয় তাও তো পটনভীর সাথেই বিয়ে হচ্ছে। সুতরাং সেই নতুন বউয়ের আচার বিচার মানার তেমন বাধ্যবাধকতা থাকে না। আর কাঞ্চনের বিয়ে তো হয়েছে তার নিজের বাড়িতে। তাই গতরাতের টিশার্ট আর একটা ঢোলা প্লাজো পরে চুল এলোমেলো করে চললেও বলার কিছু নেই।

অবশ্য কাঞ্চনকে কেউ কিছু বলার এমনেও নেই। মা মরা মেয়েদের মধ্যে কোনো শালীনতা থাকে না, আদব কায়দাও তারা জানে না। সুতরাং বলে কি লাভ? আর সালমান পটনভী তো এ বাড়ির সদস্য নয়। সুতরাং তাকে শাসন করার মানুষ সব উটকো।
কাঞ্চন প্লেটটা নিয়ে বসলো লনের দোলনায়। এখানে একটা ফুয়ারা ছিলো আগে। কিন্তু সেটা এখন ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। অনর্থক খরচ বিধায় বড় চাচা সেটা ভেঙ্গে ফেলেছেন। কাঞ্চন খেতেই যাচ্ছিলো অমনি তার মেসেঞ্জারের টুং টাং শব্দ কানে এলো। এগুলো শনিবার সকালেও এতো এনার্জি নিয়ে কাকে ভাঁজছে। কাঞ্চন সেটাকে পাত্তা দিচ্ছিলো না। ঠিক তখন-ই অঞ্জনা একপ্রকার ছুটে এলো কাঞ্চনের দিকে। চশমাটা প্রায় খুলেই পড়ছিলো তার চোখ থেকে। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,

“এ আমি কি শুনছি?”
“কি শুনছিস?”
“একের পর এক ব্রেকিং নিউজ, একদিকে সাকিব খানের খালি বাচ্চার পর বাচ্চা হচ্ছে আর অন্যদিকে আমাদের সাকিব খানের কি না কলিকাতা ঝামেলা?”
কাঞ্চনের গলায় পরোটার অংশটা আঁটকে গেলো। খকখক করে কাশতে লাগলো সে। ভেবেছিলো মেজোচাচী এবার মনে হয় পেটে কথা হজম করবেন। কাঁশতে কাঁশতে বলল,
“তুই জানলি কেমনে?”
“আরে রিদম শুনছে, মেজো চাচী চাচাকে বলতেছিলো। চাচা তো ধপ করে চেয়ার থেকে পড়ে গেছে। কেস এবার জন্ডিস না একেবারে ক্যান্সার।“
“খাইছে।“
এরমধ্যে ম্যাসেঞ্জারের টুং টাং ক্রমাগত ঝড়ের বেগে বাড়ছে। ৯৯+ ম্যাসেজ। কাঞ্চন কাঁপা হাতে ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের হেডটা ট্যাপ করতেই প্রথম যে ম্যাসেজটা ঠাস করে মুখের উপর এসে পড়লো তা হলো,
“স্নিগ্ধ ভাইয়ের নাকি মেশিন খারাপ! কথা কি সত্য কাঞ্চন?”
ম্যাসেজটা করেছে তাশদীদ পটনভী। বড়চাচার ছোট ছেলে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির ফোর্থ ইয়ারে পড়ছে। সেমিস্টার ফাইনাল চলমান বিধায় আসতে পারে নি। ছেলেটা বরাবরই মুখরা। ফলে ছোট ফুপুর বড় মেয়ে তিতিয়া বলে উঠলো,

“বিহেভ তাশদীদ, সম্মানের সাথে কথা বল। আমাদের বড় ভাই সে।“
“আচ্ছা, দেলোয়ার পটনভীর পুত্র সরফরাজ পটনভীর ইয়ে মানে এটারে সম্মান কেমনে দেয় ভাই?”
“আই থিংক কোথাও ঝামেলা হচ্ছে। মে বি ভাইয়া নার্ভাস। উনার মতো ম্যানলি পুরুষের কেমনে ভাই? আই থিংক আমরা ভুল বুঝছি”
একসাথে প্রায় শ খানেক ম্যাসেজ। সবগুলো এক্টিভ। এক কথার পেছনে দশটা রিপ্লাই। আরোও অনেক অসঙ্গতিপূর্ণ কথাবার্তা হচ্ছে যা রীতিমত কান গরম করে তুললো কাঞ্চনের। ঘটনা হাতের বাহিরে যাবার আগেই সে ম্যাসেজ করলো,
“আরে শুন।“
কিন্তু কিসের কি, একটা ম্যাসেজ করলে এতো রিপ্লাই আসছে। রিদম তো রীতিমতো ফটফট করেই যাচ্ছে,
“আমি তো জানতাম ব্যাটার ঝোল আছে। তোরাই তো গলে পড়তি। এখন দেখলি তো, হুদাই হুম্বাতুম্বা।“
“আরে আমার কথা শোন। ভাই যা ভাবতেছোস না। আমাকে একটু কথা বলতে দে।“
কিন্তু সেই কথাটা শোনার কারোর ধৈর্য্য নেই। ফলে কাঞ্চনের মেজাজ খারাপ হলো,

“তোরা থামবি, আমাকে কথা বলতে দিবি না?”
সাথে সাথে ম্যাসেজ আসলো,
“এই থাম।“
“এই মিসেস সরফরাজ কিছু একটা বলতে চায়।“
“এই থেমে যা।“
এই থামার ম্যাসেজেই ১২০ টা ম্যাসেজ লেখা হয়ে গেল। ফলে বিরক্তিতে মুখ খিঁচলো কাঞ্চন। ধ্যাত। ভাগ্যিস, এটা তাদের প্রাইভেট বিচিং গ্রুপ। এখানে সরফরাজ নেই। নয়তো একটু জন্য বেঁচে গেছে। নয়তো একেবারে ঘচাং ফু। এখনো মনে আছে কাঞ্চনের সেই কথা, তখন তার বয়স ছিলো মাত্র পনেরো। নতুন নতুন ফেসবুকের সাথে পরিচয়। একটা আইডি খুলেছিলো ছদ্য নামে, “অর্থহীন শ্বেতকাঞ্চন”। সেই আইডি দিয়ে সবাইকে উত্যক্ত করতো সে। সেই সাথে স্নিগ্ধের ফেসবুকের প্রোফাইল স্টক করতো। লোকটাকে ফ্রেন্ডরিকুয়েস্ট পাঠানোর পরও সে কিছুতেই এক্সসেপ্ট করেনি। ঝুলিয়ে রেখেছিলো প্রায় তিন মাস। একদিন হুট করে দেখলো লোকটা এক্সসেপ্ট করেছে। কঁচি বয়স, অপরিপক্ক মন। সামনাসামনি তো আর কথা বলতে পারতো না। তাই ফেসবুকেই বারবার পোক করতো। প্রতিদিন পোক করতো। কিন্তু স্নিগ্ধ আর তাকে উত্তর দিতো না। ব্যাপারটা এটুকু হলে হত। কিন্তু যেই এসএসসির টেস্টে ফেইল আসলো অমনি স্নিগ্ধ ফেসবুকের কথাটা বাসায় জানিয়ে দিলো। স্নিগ্ধ এই আইডির রহস্যটা কি করে ধরেছিলো সেটা যদিও অজানা কিন্তু সে একেবারে দাদাজানের কাছে বিচার দিলো কাঞ্চন মোবাইল পেয়ে উচ্ছন্নে গেছে। ইশ! সবার সামনে কানধরে উঠবস করতে হয়েছিলো কাঞ্চনের। কাঞ্চনের এখনো মনে আছে উঠবস করতে করতে তার পা ফুলে গিয়েছিলো। লোকটা এককোনায় দাঁড়িয়ে নির্লিপ্ত ভঙ্গিমায় দেখছিলো সব। নিষ্ঠুর চোখে একবিন্দু মায়া ছিলো না। কাঞ্চনের হৃদয় মুচড়ে উঠলো। ভাগ্যিস সরফরাজ এই গ্রুপে নেই।

পটনভী পরিবারে খবরটা আগুন গতিতে ছড়িয়েছে। কাঞ্চনের সাথে যার দেখা হচ্ছে সেই কেমন আড়চোখে তাকাচ্ছে। তবে বড়ফুপু অবধি এই খবরটা এখনো যায় নি। এটা অবশ্য বড়ফুপুর অন্যমনস্ক ভাবের কারনে। এটাতে কাঞ্চনের একটু ভালো হলো। নয়তো লজ্জায় আর দেখতে হতো না কিছু। বড়ফুপু একদম বিন্দাস। মনের আনন্দে মজে আছেন ছেলের বৌভাতের আয়োজনে। কাঞ্চনকে ডেকে কড়া করে বললেন,
“এই লেহেঙ্গাটাই কালকে তুই পড়বি কেমন?”
“আমি কোনো লেহেঙ্গা পড়তে পারবো না।“
“একটা থাপ্পড় খাবি। জানিস আমার কতদিনের শখ পূরণ হয়েছে। তুই যখন জন্মেছিস আমার তখন থেকেই ইচ্ছে ছিলো তোকে আমার ছেলের বউ করার। কিন্তু তোর কথা বললেই স্নিগ্ধ নাক কুঁচকাতো। যাক আমার দোয়া কবুল হইছে। আয় তোকে একটু ফু দিয়ে দেই। যেন নজর না লাগে।“
কাঞ্চন মুখ ঝুলিয়ে বললো,

“তোমার ছেলের নজরই যথেষ্ট”
“তোর বড় এখন।“
“মানি না আমি।“
“বললেই হলো?”
তিনি আয়াতুল কুরসী এবং দুরুদ শরীফ পড়ে ফু দিলেন কাঞ্চনের মাথায়। বললেন,
“আল্লাহ আমার মেয়ের মাথাটা ঠান্ডা কর।“
কাঞ্চন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। মনে মনে বললো,
“দোয়া করো যেন তোমার ছেলের কান অবধি কিছুই না যায়। সে গুগলি ফেলেছি, বাউন্স করে আমার নাকে না পড়লেই হয়।“
কাঞ্চন ঘরে আসলো হেলেদুলে। তৃতীয় তালার উত্তর দিকের ছোট্ট ঘরটা তার। নিজের ঘরটায় গতকাল থেকে আসা হয় নি। দরজা ঠেলতেই দেখলো পটনভীর কাজিনমহল সেখানে উপস্থিত। সবার চোখমুখ আতঙ্কিত। পৃথুলা কাঞ্চনকে দেখতেই তার কাছে এসে তার হাত ধরলো। তার চোখ মুখে উৎকুণ্ঠা। কাঞ্চন কিছু বলার আগেই অঞ্জনা কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,

“কেস এখন সত্যি ক্যান্সার হয়ে গেছে রে।“
“মানে?”
“আরে গবেট রিদমটা আমাদের প্রাইভেট গ্রুপের বদলে অরিজিনাল গ্রুপে ম্যাসেজটা দিয়েছিলো। অরিজিনাল নিউ জেনারেশন গ্রুপে। সবাই নিউজের স্পাইসনেসে দেখতেই ভুলে গেছে কোনো গ্রুপে আছে। আমরা এখন বসে বসে ম্যাসেজ ডিলেট করছি। কিন্তু সবাই তো নেইও। কি করবো আমরা? আইডি ডিএকটিভেট করে দিব? স্নিগ্ধভাই যদি দেখে আমাদের কাঁচা খেয়ে ফেলবে। ভাই এতো বড় একটা ভুল কি করে হলো?”
কাঞ্চন ধপাস করে মাটিতে বসে পড়লো। ম্যাসেজের সংখ্যা হাজার খানেক। কি করে এতো ম্যাসেজ ডিলেট হবে। যদি স্নিগ্ধ ফেসবুকের কিছুতেই থাকে না কিন্তু আজকাল যেভাবে ভাগ্যে দুর্ভোগ লেখা হচ্ছে, তাতে যদি স্নিগ্ধ দেখেও ফেলে কোনো আশ্চর্য হবে না কাঞ্চন। হতাশ গলায় বললো,
“কালকে আমার বৌভাত হবে না, মিলাদ হবে। ওই সিমেন্টের বস্তা আমাকে চাপা দিয়ে দেওয়ালে পুতে ফেলবে।“
“ভাই সেই সাথে আমরাও আছি। দেওয়ালের ভেতর একসাথে যাবো। সেলফি তুলবো ওকে?”
কাঞ্চনের হাত পা ছুঁড়ে কাঁদতে ইচ্ছে হলো। মাথা একেবারে শূন হয়ে গেছে।

স্নিগ্ধ ফিরলো সন্ধ্যার ঠিক পর পর। ক্লান্ত শরীরটা চলতে চাইছে না। নিজের ঘরে সিড়ি ভেঙ্গে উঠার থেকে একটু বসার ঘরে জিরিয়ে নেওয়া যাক। হাত টান দিয়ে সোফায় বসলো সে। বুঝতে পারছে না। মামারা এমন আড়চোখে তাকাচ্ছে কেন? এক মামা তো বলে বসলেন,
“ইয়াং বয়সে এসব টেনশনের কিছু না।“
কিছুই বুঝলো না স্নিগ্ধ। মাথার উপরে বিশাল ঝাড়বাতি ঝুলছে। তার আলোতে গরম লাগছে। ঝাড়বাতিটা বন্ধ করা প্রয়োজন। কিন্তু আশেপাশে কেউ নেই। এর মধ্যেই মেজো মামা এসে বসলেন পাশে। গলা খাকাড়ি দিতেই চোখ খুললো স্নিগ্ধ। মেজো মামা সাধারণত তার সাথে কথা বলে না। তাই তাকে এমন উশখুশ করতে দেখে সোজা হয়ে বসলো স্নিগ্ধ। ভারী স্বরে বললো,

“কিছু বলবে?”
“তুই কি খুব স্ট্রেসড?”
স্নিগ্ধ একটু থেমে বললো,
“কেনো বলতো?”
“কাজের কি খুব চাপ?”
“একটু আছে। তিনটে ভিআইপি কেস এসেছে।“
“ওও, চাপ নিস না। আসলে আমাদের স্ট্রেসটাই আমাদের শত্রু। ঘুমের প্রয়োজন। ঘোরাঘুরির প্রয়োজন। এককাজ কর হানিমুনে যা না হয় তোরা।“
“এখন তো সম্ভব নয় মামা।“
“তা বললে হয়। আচ্ছা শোন, এখানে ডক্টর ইশতিয়াকের নাম্বার আছে। ভালো ডাক্তার। লজ্জা পাবি না। স্ট্রেসের কথাটা খুলে বলবি। ইয়াং বয়স। এখন এমন হলে হবে?”
স্নিগ্ধ বেকুবের মতো তাকিয়ে রইলো। সব মাথার উপর থেকে যাচ্ছে। মেজোমামার দেওয়া কার্ডটা হাতে নিলো। একটা ডাক্তারের নাম লেখা। নাম্বার দেওয়া। কিন্তু কার্ডে তার ডাক্তারির বিষয়টা কেটে দেওয়া হয়েছে। মেজোমামা উঠে দাঁড়ালেন। কাঁধে চাপড় দিয়ে বললেন,
“অল দ্যা বেস্ট।“

স্নিগ্ধ আহাম্মকের মতো চেয়ে রইল। মাথাটা ঝেড়ে মোবাইলটা হাতে নিলো সে। অফিসে নেটটা অফ করা ছিলো। ফলে ওয়াইফাইতে কানেক্ট হবার সাথে সাথে টুং টুং করতেই লাগলো। গ্রুপে ম্যাসেজ। এই গ্রুপে কখনো স্নিগ্ধ প্রবেশ করে না। মরার গ্রুপ। শুধু কালে ভাদ্রে এখানে কোনো জীবন্ত মানুষের দেখা মিলে। আজ কি হল কে জানে। যেই না ট্যাপ করে অন করলো অমনি আলমারির দলাপাকানো কাপড়ের মতো ম্যাসেজগুলো টুং টাং করে স্ক্রিনে ভেসে উঠলো। যদি অধিকাংশ আনসেন্ড করা। তবে একটা ম্যাসেজ ঠিক চোখে আটকালো স্নিগ্ধের। সাথে সাথেই মাথাটা পরিষ্কার হয়ে গেলো। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
“ইউ আর ডেড, মিসেস ফেকুচন্দ্র পটনভী।“
নিজের ঘরে ঘাপটি মেরে বসে রইলো কাঞ্চন। সে আজকে মোটেই সিমেন্টের বস্তার সামনে যাবে না। জানের মায়া আছে তার। ওই লোক গুলি করে খুলি উড়িয়ে দিতে পারে। রিস্ক নেওয়া যাবে না। হঠাৎ ডাক পড়লো বড়চাচীর একপ্রকার টেনে হিচড়ে তাকে বের করলেন মহিলা। হাতে বাদাম দুধ দিয়ে বললেন,

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ৩

“ঘরে যা। স্নিগ্ধের ঘরে।“
“আমি যাব না, তুমি নুড়ির মাকে দিয়ে পাঠাও।“
বড়চাচী চোখ গরম করায় বাধ্য হয়েই যেতে হল কাঞ্চনকে। অনেক দোয়া পড়ে বুকে ফু দিয়ে স্নিগ্ধের ঘরে ঢুকলো সে। ঘর নীরব। ঘরে কেউ নেই। বুকে একটা ফুঁ দিলো। যাক সিমেন্টের বস্তাটা নেই। পা টিপে টিপে দুধটা টেবিলে রাখতেই যাবে অমনি ঘাড়ের উপর ভারী নিঃশ্বাসের আভাস পেলো। ঠিক তার পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে তার শত্রু। ভারী স্বরে বললো,
“আমার পুরুষালি সমস্যার জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘার অনেক কষ্ট, আজ না হয় সত্যিকারে টেস্ট হয়ে যাক।“

ভুলভাল অন্তরাল পর্ব ৫

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here